‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ নিয়ে ফেসবুকে যা লিখলেন তাসনীম জারা

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিজয়ী হওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। জাতীয় সংসদ ভবনে নির্বাচিত এমপি ও মন্ত্রীদের শপথ পাঠের মাধ্যমে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হবে। এদিকে প্রস্তুতি চলছে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের প্রস্তুতিও। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির শীর্ষ নেতারা এ প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

 

রোববার থেকে এ আলোচনার মধ্যেই সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছায়া মন্ত্রিসভা কি, সেটি নিয়ে পোস্ট দিয়েছেন ঢাকা-৯ (খিলগাঁও, সবুজবাগ, মুগদা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করা ডা. তাসনিম জারা।

বাংলানিউজের পাঠকের জন্য তার পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

‘ছায়া মন্ত্রিসভা (shadow cabinet) আসলে কী? ছায়া মন্ত্রীরা কি সরকারি বেতন পান? তাদের কাজ কী?

আমাদের দেশে রাজনীতি মানেই মিছিল-মিটিং, অবরোধ আর আর নির্বাচন। নির্বাচনের পর বিজয়ী দল ক্ষমতায় যায়, আর পরাজিত দল চলে যায় রাজপথে। কিন্তু ছায়া মন্ত্রিসভা যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয়, তবে এই ‘রাস্তা অচল করার’ রাজনীতি বদলে দেওয়া সম্ভব।

 

ছায়া মন্ত্রিসভা আসলে কী?
সরকারে যেমন প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য একজন করে মন্ত্রী থাকবেন (যেমন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী), বিরোধী দলও ঠিক তেমনি প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে একজন করে ছায়া মন্ত্রী নিয়োগ দিবেন। সরকার যদি কোনো ভুল করে বা ব্যর্থ হয়, ছায়া মন্ত্রী তার প্রতিবাদ করবেন এবং বিকল্প সমাধান পেশ করবেন।

ছায়া মন্ত্রীরা কি সরকারি বেতন বা সুবিধা পান?
না। ছায়া মন্ত্রিসভার সদস্যরা সরকার থেকে কোনো বেতন, গাড়ি বা সরকারি সুবিধা পান না।




রাজনীতির সংস্কৃতিতে দৃষ্টান্ত গড়ে ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছেন তারেক রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে শিষ্টাচার ও সৌজন্যের এক ব্যতিক্রমী নজির স্থাপন করেছেন তারেক রহমান। বিজয়ের পরপরই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শুরু করে বিএনপির চেয়ারম্যান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন— সংঘাত নয়, সংলাপই হবে আগামী দিনের রাজনীতির ভিত্তি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে তিনি অংশগ্রহণমূলক ও সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করেই রাষ্ট্রক্ষমতায় বসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত তিনি পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

 

জামায়াত আমিরের বাসভবনে তারেক রহমান
এদিন সন্ধ্যায় জামায়াত আমিরের বাসভবনে যান তারেক রহমান। সেখানে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। এ সময় তাকে বাংলাদেশের ‘ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানান তিনি।

বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের বলেন, এটি রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের সূচনা।

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে একসঙ্গে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে রাষ্ট্রগঠনের পথেও সহায়ক হবে। 

তিনি স্পষ্ট করেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো জাতীয় সরকারে অংশ নেবে না; বরং সংসদে আদর্শিক ও শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকবে। তবে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সরকারকে সহযোগিতা করা হবে।

বৈঠকে তারেক রহমান নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে দৃঢ় আশ্বাস দেন বলে জানা গেছে।

 

এনসিপি নেতাদের সঙ্গে সংলাপের বার্তা
জামায়াত আমিরের বাসভবন থেকে বের হয়ে রাত ৮টার দিকে ৫ সার্কিট হাউস রোডে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসভবনে যান তারেক রহমান। সেখানে এনসিপি নেতাদের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন তিনি।

বৈঠক শেষে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, মতভিন্নতা থাকলেও সংলাপের মধ্য দিয়েই সমস্যার সমাধান সম্ভব। তারেক রহমানের এই সৌজন্য সাক্ষাৎকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

বৈঠকে ‘২৪’র গণঅভ্যুত্থানে’ শহীদদের পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসন প্রসঙ্গ উঠে আসে।

এনসিপির পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে আন্দোলনের প্রতীক ‘শাপলা কলি’র প্রতিচ্ছবি এবং এক শহীদের হাতে লেখা চিঠি উপহার দেওয়া হয়। এ সময় বিএনপির পক্ষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও নজরুল ইসলাম খান এবং এনসিপির পক্ষে সারজিস আলমসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর সাধারণত বিজয়ী দল ক্ষমতা সংহত করতেই বেশি মনোযোগী থাকে। কিন্তু তারেক রহমান শুরুতেই বিরোধী পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে অংশগ্রহণমূলক শাসনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এটি প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে জাতীয় ঐক্যের পথে অগ্রযাত্রার বার্তা বহন করে। এই ধারাবাহিক সংলাপ কেবল সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত
তারেক রহমানের এই উদ্যোগকে দেশের গণতন্ত্রের জন্য নতুন এক মাইলফলক হিসেবে দেখছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারী বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন সংস্কৃতির সূচনা হলো। বিজয়ী হয়েই বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রতি সম্মান জানানো এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে বসা গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় দীর্ঘদিন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

এক টেবিলে শীর্ষ নেতৃত্ব
এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও সংলাপে তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষে উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর বিজয়ী দলের প্রধানের পক্ষ থেকে এমন অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিহিংসা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধারাকে পেছনে ফেলে সহনশীলতার পথে এগিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি কেবল সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং জাতীয় ঐক্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থার দিকে তারেক রহমানের একটি দূরদর্শী রাজনৈতিক পদক্ষেপ।




নতুন কূপ খনন শুরু, দিনে মিলবে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাস ফিল্ডে নতুন একটি কূপের খনন কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)। সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুরে তিতাস গ্যাস ফিল্ডের ‘সি’ লোকেশনে  ২৮ নম্বর কূপের খনন কাজ উদ্বোধন করেন পেট্রোবাংলার পরিচালক প্রকৌশলী  মো. শোয়েব। এই কূপ খনন শেষে প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

খনন প্রকল্প উদ্বোধন শেষে পেট্রোবাংলার পরিচালক মো. শোয়েব বলেন, ইতোমধ্যে বিজিএফসিএল পরিচালনায় গ্যাস ফিল্ডগুলোর উৎপাদন বেড়েছে। নতুন কূপ খনন এবং ওয়ার্কওভারে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশের জ্বালানি সংকট অনেকটাই কেটে যাবে। এ ছাড়া তিতাসের ৩১ এবং বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ডের ১১ নম্বর গভীর কূপ খনন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি চাহিদা পূরণে পেট্রোবাংলা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১২ সালে গ্যাসে অনুসন্ধানে তিতাস গ্যাস ফিল্ডের ‘সি’ লোকেশনে জরিপ চালানো হয়। এর পর ২০২০ সালে জরিপের প্রতিবেদন রিভিউ করে তিতাস গ্যাস ফিল্ডে নতুন তিনটি কূপ খননের পরিকল্পনা হাতে নেয় বিজিএফসিএল। এই প্রকপের আওতায় গাজীপুরে অবস্থিত কামতা গ্যাস ফিল্ডে একটি কূপ খনন করা হবে। তিতাস ও কামতা ফিল্ডে চারটি কূপ খননে খরচ হবে এক হাজার ২৫০ কোটি টাকা। কূপগুলোর খনন শেষে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তিতাসের ২৮ নম্বর কূপটির খনন কাজ করছে একটি চীনা প্রতিষ্ঠান। খনন শেষ করতে সময় লাগবে প্রায় দুই মাস। খনন শেষে কূপটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. ফারুক হোসেন, কোম্পানি সচিব মোজাহার আলী, তিতাস ও মেঘনা ফিল্ডে চারটি কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক এ কে এম জসিম উদ্দিন প্রমুখ।




নারী আন্দোলন শক্তিশালী হলেই রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন সম্ভব

নারী আন্দোলন গড়ে তোলা এবং তা আরও শক্তিশালী করার মধ্য দিয়েই নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। নারীপক্ষের অবহিতকরণ সভায় তারা বলেন, স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায়; জনজীবনের প্রতিটি স্তরে নারীর অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

সোমবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ‘জনজীবনে নারীর নেতৃত্ব বিকাশ’ প্রকল্পের আওতায় এই অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তারা বলেন, পুরুষতান্ত্রিক ও পিতৃতান্ত্রিক কাঠামো নারীদের ঘরের ভেতর সীমাবদ্ধ রাখতে চায় এবং জনজীবন ও নাগরিক নেতৃত্বে আসার পথে বাধা সৃষ্টি করে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব মানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সর্বস্তরে নারীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা। নারী যে রাজনৈতিক দলেই যুক্ত থাকুন না কেন; পুরুষতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে আওয়াজ তোলার আহ্বান জানান তারা।

এ সময় ইউএন উইমেনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার তপতী সাহা বলেন, ক্ষমতা বা আধিপত্য দিয়ে নয়; সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করাই নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের পথ। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে প্রান্তিক পর্যায়ের তরুণীদের সম্পৃক্ত করতে হবে এবং তাদের সিডও, বেইজিং প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশের সংবিধান ও জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা সম্পর্কে জানাতে হবে। এসব না জানলে নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব নয়।

সভাপতির বক্তব্যে নারীপক্ষের সভানেত্রী গীতা দাস বলেন, নারীবান্ধব রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তুলতে নারী ও কিশোরীদের একটি সক্ষম দল তৈরি করা জরুরি। তারা দক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও জনজীবনে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নারীপক্ষ ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ইউএন উইমেনের সহযোগিতায় ‘জনজীবনে নারীর নেতৃত্ব বিকাশ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য তরুণ নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও মেন্টরিংয়ের মাধ্যমে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক নারী নেতৃত্ব গড়ে তোলা।

নারীপক্ষের সদস্য কামরুন নাহারের সঞ্চালনায় সভায় প্রকল্পের পটভূমি, লক্ষ্য ও পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক নাসিমা আক্তার। প্রকল্প বাস্তবায়নে অংশীজনদের ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করেন সদস্য সাদাফ সায় সিদ্দিকি। সভায় আরও বক্তব্য দেন উবিনীগের পরিচালক সীমা দাস সীমু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নারী বিষয়ক সম্পাদক জাকিয়া শিশির, দুর্বার কেন্দ্রীয় কমিটির সভানেত্রী মাহমুদা বেগম, ফেমজেনের সুষ্ণো বিশ্বাসসহ নারীপক্ষের সদস্য মাহীন সুলতান, রওশন আরা, সামিয়া আফরীন, জাহানারা খাতুন ও সাংবাদিক শাহনাজ পলি।




মনোনয়ন ফরম কিনে ফেরার পথে যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসন থেকে মনোনয়ন ফরম কিনে ফেরার পথে ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুতুবুল্লাহ হোসেন কুটি মিয়া।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে মাগুরা জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক আব্দুল আল মাহমুদের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তিনি।

দুপুর দেড়টার দিকে মাগুরা-শ্রীপুর সড়কের নতুন বাজার এলাকায় পৌঁছালে ডিবি পুলিশ তার গাড়ি থামায়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে।

ডিবি জানিয়েছে, কুতুবুল্লাহ হোসেন কুটি মিয়ার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় নাশকতা সৃষ্টি করার অভিযোগে মামলা রয়েছে। এছাড়া, তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে। সেসব বিষয়সহ অন্যান্য বিষয়ে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশিকুর রহমান জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে কুতুবুল্লাহ হোসেন কুটি মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার মাগুরা-২ আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নিতাই রায় চৌধুরী এবং জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী এমবি বাকের।




বিদেশে থাকা দুই অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টের প্ররোচনায় আমি গ্রেপ্তার: আনিস আলমগীর

বিদেশে থাকা দুজন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টের প্ররোচনায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে রিমান্ড শুনানিকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এদিন তাকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক মুনিরুজ্জামান।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকার মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। আসামিপক্ষে আইনজীবী কামরুন্নাহার দীপুসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিলসহ জামিন আবেদনের শুনানি করেন।

শুনানির একপর্যায়ে সাংবাদিক আনিস আলমগীর আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি একজন সাংবাদিক। আমি আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধে সেই দেশে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করেছি। তালেবানরা আমাকে অ্যারেস্ট করে। আমি সেখান থেকে বেঁচে এসেছি। আমি মৃত্যুকে কাছে থেকে দেখে এসেছি, মৃত্যুকে আর ভয় করি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি একজন সাংবাদিক। আমি বিগত দুই দশক ক্ষমতাকে প্রশ্ন করেছি। আমি খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার সমালোচনা করেছি। আমি ইউনূস সরকারেরও সমালোচনা করি এবং ভবিষ্যতে যারা সরকারে আসবে তাদেরও সমালোচনা করব। আমার জীবনে নতজানু হওয়ার ইতিহাস নাই। আমি কোনো সুবিধা গ্রহণ করিনি। তারা আমাকে সরকারের গোলাম বানাতে চায়। আমি টকশোগুলোয় যা বলেছি, প্রকাশ্যেই বলেছি। এখানে অপ্রকাশিত কিছু নেই।’

গ্রামীণ ব্যাংক ও জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে হামলা হতে পারে এমন বক্তব্যের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমি একটা প্রেক্ষাপটে একথা বলেছি, যখন ৩২ নম্বর ভেঙে দেওয়া হয়। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে চলে গেছি। আমি জুলাইয়ে শেখ হাসিনার পদত্যাগ চেয়েছিলাম। এখন আমার জুলাইয়ের চেতনা শুনতে হয়। গত ১৩ নভেম্বর অবরোধে আওয়ামী লীগের জ্বালাও পোড়াওয়ের পরিপ্রেক্ষিতে এসব কথা বলেছি। তারা এটা করতে পারলে পরে আরও কত কি করতে পারে! তারা পলাতক নেতাদের কথায় করেছে। তারা তো পলাতক হিসেবে করেছে। আমার এসব বক্তব্যের সাথে কারও যোগসূত্র নাই। আসামিদের মধ্যে শাওন ছাড়া কাউকে চিনি না। এখন ড. ইউনূস যদি দেশকে কারাগার বা দোজখ বানাতে চান, বানাতে পারেন।’

গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে আনিস আলমগীর বলেন, ‘এসব বক্তব্য আসলে কিছু না। দেশের বাইরে থেকে দুজন ইউটিউবার বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল ও নির্বাচনকে বানচালের জন্য কাজ করছে। আমি একমাত্র ব্যক্তি যে টকশোয় এসব বলেছি। আসল বিষয় হলো, এই দুই ব্যক্তি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে প্রভাবিত করেছে, আর সেই দল প্রধান উপদেষ্টাকে প্রভাবিত করেছে। তাদের প্ররোচনায় আজ আমি গ্রেপ্তার হয়েছি।’

এরপর আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

এর আগে রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডির ২ নম্বরের একটি জিম থেকে বের হওয়ার পর আনিস আলমগীরকে হেফাজতে নেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবির কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

রাতেই আনিস আলমগীর, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ চারজনের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করেন জুলাই রেভ্যুলেশনারি অ্যালায়েন্সের কেন্দ্রীয় সংগঠক আরিয়ান আহমেদ। মামলার অপর আসামিরা হলেন- মডেল মারিয়া কিসপট্টা (ফ্যাশন মডেল) ও ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজ (উপস্থাপক)।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাবেক  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও তার অনুসারীরা বিভিন্ন কৌশলে ঘাপটি মেরে দেশে অবস্থান করে দেশকে অস্থিতিশীল ও অবকাঠামোকে ধ্বংস করার লক্ষে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র করে আসছে।

আসামিরা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন টেলিভিশনের টকশোগুলোয় বসে নিষিদ্ধ সংগঠনকে ফিরিয়ে আনার গুজব (প্রোপাগান্ডা) চালিয়ে আসছে। এর মাধ্যমে তারা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের পাঁয়তারা করছে।

এসব বিভিন্ন পোস্টের ফলে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা অনুপ্রাণিত হয়ে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও অবকাঠামোকে ধ্বংস করার লক্ষে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছেন।




সুপ্রিম কোর্টের ক্যান্টিনে আগুন

রাজধানীর রমনায় সুপ্রিম কোর্টের ক্যান্টিনে আগুন লেগেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। পরে রাত ১১টা ৫৬ মিনিটের দিকে আগুন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাকিবুল হাসান জানান, সুপ্রিম কোর্টের ক্যান্টিনে থাকা একটি ফটোকপির মেশিনে আগুনের সূত্রপাত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।

তিনি আরও জানান, আগুনে কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা সে বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।




ওসমান হাদিকে নিয়ে সিঙ্গাপুরে যাত্রা করল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স

দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার দিকে তাকে বহনকারী গালফস্ট্রিম জি-১০০ সিরিজের একটি প্রাইভেট জেট (এয়ার অ্যাম্বুলেন্স) হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়ে গেছে।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানায়, সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি বিভাগে হাদির চিকিৎসার সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তার উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যে সরকার টানা দুদিন ধরে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

এর আগে রোববার এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের পরামর্শ এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার পর বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করা হয়। পরবর্তীতে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়–বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জাফর এবং হাদির ভাই ওমর বিন হাদির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।




মহান বিজয় দিবস আজ

আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। এ বিজয় দিবস বাঙালি জাতির আত্মগৌরবের একটি দিন। এ বছর এ দিনটিতে বাঙালি জাতির বিজয়ের ৫৪ বছর পূর্ণ হলো।

১৯৭১ সালের এদিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব-মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন ও সার্বভৌম হানাদার মুক্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্রের। ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম ও ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং কোটি বাঙালির আত্মনিবেদন ও গৌরবগাঁথা গণবীরত্বে পরাধীনতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পায় বাঙালি জাতি।

বাঙালি জাতি তার অধিকার আদায়ে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় উজ্জীবিত হয়ে উঠে। ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্য দিয়েই স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের পথে এগিয়ে নিয়ে যায় জাতি। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ স্বাধীনতা লাভ করলেও ভ্রান্ত দ্বিজাতির তত্ত্বের ভিত্তিতে যে অসম পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয় তার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয় বাঙালি জাতিকে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের শুরু থেকে বাঙালি জাতির ওপর শুরু হয় বৈষম্য, শোষণ, অত্যাচার নির্যাতন। অর্থনৈতিক, সরকারি চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য সব দিক থেকে বঞ্চিত হতে থাকে বাঙালি তথা এ ভূখণ্ডের মানুষ।

পাকিস্তানের এই শোষণ বঞ্চনা আর অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাঙালি সোচ্চার হতে থাকে এবং ধাপে ধাপে পাকিস্তানের অত্যাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে উঠতে থাকে। বাঙালির এই আন্দোলনের এক পর্যায়ে নেতৃত্বে আসেন শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালির এই আন্দোলনকে তিনি নেতৃত্ব দিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে পরিণত করেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চ লাইট নামে বাঙালিদের হত্যা যজ্ঞে মেতে উঠে। এরপর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন শেখ মুজিবুর রহমান। ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতার ঘোষণায় সারা দিয়ে সর্বস্তরের বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। কৃষক, শ্রমিক, চাকরিজীবী ছাত্র, শিক্ষক, যুবক, নারী, সাংস্কৃতিক কর্মী, পেশাজীবী মানুষ অস্ত্র হাতে তুলে নেয়। আধুনিক অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে নামে এবং জীবন দেয়। জীবনের নিশ্চিত ঝুঁকি নিয়ে বাংলার দামাল ছেলে, মুক্তিযোদ্ধারা অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের পাশে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে এগিয়ে আসে প্রতিবেশী দেশ ভারত। সরাসরি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ এবং কোটি বাঙালিকে আশ্রয় দিয়ে ভারত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। ওই সময় পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়নও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থন দিয়ে সরাসরি বাংলাদেশের পক্ষ নেয়। বিশ্ব জনমতও গড়ে উঠতে থাকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে।

দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বাঙালির সাহসিকতার কাছে পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া যৌথবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। এর মধ্য দিয়ে পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামে নতুন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। ১৬ ডিসেম্বর বীর বাঙালির বিজয় দিবস হিসেবে ঘোষিত হয়। প্রতি বছর বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে বিজয় দিবস উদযাপন করেন।




রাজধানীর দক্ষিণখানে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা

রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় শাজাহান (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয় জানার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে দক্ষিণখানের নর্দ্দাপাড়ার তালতলায় এ ঘটনা ঘটে।

দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, শাজাহান নামে ওই ব্যক্তিকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। নিহতের বিস্তারিত পরিচয় জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে তিনি ফোর্স নিয়ে অবস্থান করছেন।

তিনি আরও বলেন, নিহত শাজাহান স্থানীয় ডিস ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ী, প্রকাশ্যে সড়কে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ হত্যাকাণ্ডে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা বিষয়টি এখনো জানা যায়নি। এ ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।