গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা যারা নষ্ট করতে চায় তাদের বিপক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: নাছিম

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ চাই। উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের দেশকে সাম্প্রদায়িক শক্তির হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। যারা গণতান্ত্রিক চর্চা ও ধারাবাহিকতাকে নষ্ট করতে চায় তাদের বিপক্ষে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই অশুভ শক্তির হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হবে।’

বুধবার (৬ মার্চ) সকালে রাজধানীর মতিঝিল ‘সাউথ পয়েন্ট নগর ব্যায়ামাগার’ উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাকে এগিয়ে নিয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, জাগ্রত বাংলাদেশ এবং বীরের জাতি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলব। যে সোনার বাংলাদেশ হবে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, সে সোনার বাংলাদেশ হবে ধনী-গরিবের বৈষম্যহীন একটি দেশ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি আধুনিক আত্মমর্যাদাশীল এবং সুন্দর শান্তিময় বাংলাদেশ আমরা প্রতিষ্ঠা করব, এই হলো আমাদের লক্ষ্য।’

নাছিম বলেন, ‘আমাদের দেশকে এগিয়ে নিতে হলে মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হবে। মাদক নির্মূল করা গেলে তরুণ প্রজন্ম সুস্থভাবে বেড়ে উঠবে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজের হাত থেকে বাংলাদেশ মুক্তি পাবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার অন্যতম লক্ষ্য হলো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়া।’

তিনি বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে তা অব্যাহত থাকবে। এর পাশাপাশি আমাদেরকেও মাদকের বিরুদ্ধে তৈরি থাকতে হবে। আমাদের তরুণ প্রজন্মকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সফল হতে এই ব্যায়ামাগারগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ব্যায়াম করলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে। তাদেরকে মাদক কখনোই আসক্ত করতে পারে না। মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়া প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় অঙ্গীকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘এক সময় সুঠাম দেহের অধিকারী বডি বিল্ডারদের প্রাণকেন্দ্র ছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পুরান ঢাকা। ঢাকাকে সেই পুরোনো ধারায় সারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরার জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন উদ্যোগ নিয়েছে। তারা আগামী দিনে এমন আরও ব্যায়ামাগার নির্মাণ করে ঢাকা শহরকে মাদকমুক্ত করতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফিসহ স্থানীয় কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।




সরে দাঁড়ালেন হ্যালি, রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন নিশ্চিত হলো ডোনাল্ড ট্রাম্পের। সাউথ ক্যারোলাইনার সাবেক গভর্নর নিকি হ্যালি ছিলেন ট্রাম্পের সবশেষ প্রতিদ্বন্দ্বী।

স্থানীয় সময় আজ বুধবার সকালে সাউথ ক্যারোলাইনার চার্লসটনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন হ্যালি। এতে রিপাবলিকান পার্টি থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রার্থিতা নিশ্চিত হচ্ছে। আর ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে থাকছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। খবর সিএনএনর

‘সুপার টুয়েসডেতে’ অনুষ্ঠিত ১৫টি অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান পার্টির প্রাইমারিতে (দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের) ১৪টিতে জয় পান সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একমাত্র ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যে জয় পেয়েছিলেন তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যালি।

ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকার সময় হ্যালিকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের দূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন দৌড়ে থাকা এক ডজন প্রার্থীর মধ্যে হ্যালি ট্রাম্পের সবশেষ প্রতিদ্বন্দ্বী, যিনি সরে দাঁড়ালেন। সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেছেন, যারা ট্রাম্পকে সমর্থন করেননি, তাদের ভোট তাকে অর্জন করে নিতে হবে।

হ্যালির একজন উপদেষ্টা বলেন, যদিও সুপার টুয়েসডেতে হ্যালির টিম ভারমন্টে জয় পেয়েছে এবং ভার্জিনিয়ার শহরতলিতে শক্ত সমর্থন দেখাতে পেরেছে। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকতে যে পরিমাণ ভোট পাওয়া দরকার, তা পাওয়া যায়নি।

এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে সুপার টুয়েসডেতে ১৪টি অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারিও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর সব কটিতে জয়ী হয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে আমেরিকান সামোয়া অঞ্চলে অনুষ্ঠিত ককাসে হেরে গেছেন তিনি।

আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী বাইডেন যাঁর কাছে হেরেছেন, তিনি খুব স্বল্প পরিচিত একজন ব্যবসায়ী। তাঁর নাম জ্যাসন পামার।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ছোট অঞ্চল আমেরিকান সামোয়ায় ডেমোক্র্যাটদলীয় ককাসে ভোট পড়েছে ৯১টি। এর মধ্যে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী পদে বাইডেনের প্রতিদ্বন্দ্বী জ্যাসন পামার পেয়েছেন ৫১টি ভোট। আর বাইডেন পেয়েছেন ৪০টি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে পামার লিখেছেন, ‘আমেরিকান সামোয়ায় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী পদের প্রাথমিক বাছাইয়ে আমার বিজয়ের খবর ঘোষণা করতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি।’ তাঁকে সমর্থন দেওয়ায় স্থানীয় ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

আমেরিকান সামোয়ায় জয়লাভের মধ্য দিয়ে জ্যাসন পামার শুধু চারজন প্রতিনিধির সমর্থন নিশ্চিত করেছেন। সেদিক থেকে প্রার্থী মনোনয়নের দৌড়ে তাঁর অবস্থান বাইডেনের ধারেকাছে নেই। সামোয়ায় হারলেও বাইডেনের প্রার্থিতা পাওয়ার ক্ষেত্রে এর কোনো প্রভাব পড়বে না বললেই চলে।

এর আগে ২০২০ সালে আমেরিকান সামোয়া অঞ্চলে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক বাছাইয়ে জয়ী হয়েছিলেন ধনকুবের মাইকেল ব্লুমবার্গ। যদিও তিনি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাননি।

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে মিশিগান অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে লক্ষাধিক নিবন্ধিত ভোটার ‘আনকমিটেড’ (ইচ্ছুক নই) ভোট দেন। ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে বাইডেনের নিরঙ্কুশ সমর্থনের প্রতিবাদে এমন অবস্থান নেন এই ভোটাররা।




নিখোঁজের ২ দিন পর কালিগঙ্গা নদীতে মিলল স্কুলছাত্রীর লাশ

মানিকগঞ্জে নিখোঁজের দুই দিন পর স্কুলছাত্রীর মরদেহ কালিগঙ্গা নদী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার সকাল ১১টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম সামিয়া ইসলাম। সে মানিকগঞ্জ সুরেন্দ্র কুমার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে কোচিং সেন্টারে যাওয়ার জন্য বের হয় সামিয়া। বিকেলে তার মা কোচিং সেন্টারে মেয়েকে আনতে গিয়ে জানতে পারেন সামিয়া সেখানে যায়নি। পরে বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজ করা হলেও পাওয়া যায়নি। সন্ধ্যার দিকে তার পরিবার জানতে পারে, পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডের চরবেউথা এলাকায় সামিয়ার স্কুল ব্যাগ পড়ে রয়েছে। পরে পরিবারের লোকজন স্কুল ব্যাগটি নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় সদর থানায় নিখোঁজের বিষয়ে জিডি কর হয়।

মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিল হোসেন জানান, সোমবার সকালে কুশেরচর এলাকায় নদীতে সামিয়ার মরদেহটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ সকাল ১১টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।




জামিন পেলেন মানববন্ধনে দাঁড়ানো সেই ২ শিশুর মা

ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় যুবদল নেতার কারাবন্দি স্ত্রী হাফসা আক্তার পুতুলকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি একেএম রবিউল হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে জামিনের এ আদেশ দেন।

এর আগে মায়ের মুক্তির জন্য মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছিল হাফসার ৭ ও ৪ বছরের দুই মেয়ে। আজ জামিন শুনানিতেও তারা আদালতে এসেছিল দাদির সঙ্গে। মায়ের জামিন হওয়ার কথা শুনে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে শিশু দুটি।

হাফসার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, আদেশের আগে পুলিশের কাছে থাকা হাফসার ককটেল বিস্ফোরণে জড়িত থাকার অভিযোগ সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছেন আদালত। হাফসার বিরুদ্ধে আর কোনো অভিযোগ না থাকায় তাঁর মুক্তিতে বাধা নেই।

গত ২০ নভেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জামিন শুনানির দিন ঢাকা মহানগর আদালতের সামনে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। ওই দিনই নাশকতার অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মামলা করে পুলিশ। এ মামলায় গ্রেপ্তারের পর ২৭ নভেম্বর থেকে কারাগারে আছেন হাফসা। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর আদালতে জামিন চাইলে তা নাকচ করেন বিচারক। এর পর জামিন চেয়ে গত রোববার হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি।

শিশু দুটির বাবা আবদুল হামিদ ভুঁইয়া বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বাবা আবদুল হাই ভুঁইয়া এক মানববন্ধনে অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর বড় ছেলে আবদুল হামিদকে পুলিশ খুঁজছে। না পেয়ে ছেলের স্ত্রী হাফসাকে তুলে নিয়ে যায়। অথচ হাফসা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন।




স্পেনে এমবাপ্পের দাপট, কোয়ার্টারে পিএসজি

সর্বশেষ ম্যাচে মোনাকোর বিপক্ষে গোল শূন্য সমতা করে পিএসজি। ওই লিগ ম্যাচে প্রথমার্ধ শেষেই কিলিয়ান এমবাপ্পেকে বেঞ্চে বসিয়ে দেন কোচ লুইস এনরিকে। এমবাপ্পে ডাগ আউটে না বসে স্যুট-বুট পরে লাউঞ্জে গিয়ে বসেন। বিষয়টি নিয়ে জলও ঘোলা হয়েছে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে পিএসজির শুরুর একাদশে থাকবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় ছিল। কিন্তু এমবাপ্পে শুধু একাদশে থাকলেও না, স্পেনে গিয়ে শুরুতেই লিখে দিলেন ম্যাচের ভাগ্য।

রিয়াল সোসিয়েদাদের মাঠ এনোয়েতায় ম্যাচের ১৫ মিনিটে গোল করেন রিয়াল মাদ্রিদে আসার জোর গুঞ্জন ওঠা ফ্রান্সম্যান। কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে দলকে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-০ গোলের লিড এনে দেন। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৬ মিনিটে আবার গোল করেন তিনি। তবে শেষ সময়ে অর্থাৎ ৮৯ মিনিটে গোল খেয়ে ম্যাচটি ২-১ গোলে জেতে প্যারিসিয়ানরা।

দুই লেগ মিলিয়ে প্যারিসের দলটি ৪-১ গোলের জয় তুলে নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে পা দিয়েছে। অথচ লুইস এনরিকের দলের গ্রুপ পর্ব পার হওয়া নিয়েই শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। শেষ ষোলোর এই লড়াইয়ে দুই লেগে তিন গোল করলেন পিএসজির নাম্বার সেভেন।




৮ উইকেটের জয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কাকে ৮ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৬৫ রানের সংগ্রহ গড়ে লঙ্কানরা। জবাবে শান্তর ছক্কায় ১১ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিক শিবির। আর অধিনায়ক পেলেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ পঞ্চাশের দেখা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পরে ব্যাটিং করে এটিই সবচেয়ে বড় জয়। আগামী শনিবার সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে লড়বে দুই দল।

বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ মানেই উত্তাপ, সেই রেশ দেখলো এবার সিলেটের মাঠ। লঙ্কানদের দেওয়া লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত শুরু করে বাংলাদেশের দুই ওপেনার লিটন ও সৌম্য। ভালো শুরুর পর চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে ভাঙতে বসেছিল বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি। বিনুরা ফার্নান্ডোর শর্ট লেংথের বলে পুল করেন সৌম্য। লঙ্কান বোলারের আবেদনে সাড়া দিয়ে সৌম্যকে আউট দেন আম্পায়ার গাজী সোহেল। আউটের বিপক্ষে রিভিউ করেছিলেন সৌম্য। আল্ট্রা এজে স্পাইক দেখা গেলেও হালকা ফাঁকা দেখা গেছে। যেটির কারণে টেলিভিশন আম্পায়ার মাসুদুর রহমান ‘নট আউট’ ঘোষণা দেন। আউট ভেবে প্রায় বাউন্ডারির কাছে পৌঁছে যাওয়া সৌম্য ফিরে আসেন আবার।




ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় এক দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার তৎকালীন রমনা রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসভায় ঐতিহাসিক ভাষণে জাতিকে স্বাধীনতার প্রশ্নে উদ্দীপ্ত করেছিলেন। ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’– এ দৃপ্ত উচ্চারণে বঙ্গবন্ধু সেদিন পাকিস্তানের নিষ্পেষণ থেকে বাঙালির মুক্তির মূলমন্ত্র ঘোষণা করেছিলেন তাঁর ভাষণে।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সে ভাষণ পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজমন্ত্র হয়ে পড়ে। মূলত বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণে উদাত্ত আহ্বানেই মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করে বাঙালি। পরে ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংস গণহত্যার পর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

দিনটিকে বাঙালির ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেন তারা। ৭ মার্চ উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও বেতার বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। সংবাদপত্রগুলোতে প্রকাশ করা হবে বিশেষ নিবন্ধ।

দিনটি স্মরণে আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে রয়েছে– ভোর সাড়ে ৬টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন; সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ এবং বিকেল ৪টায় তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ ভবনে রয়েছে আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ ছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগ, তাঁতী লীগ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, জয় বাংলা সাংস্কৃতিক ঐক্যজোটসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান দিবসটি উপলক্ষে পতাকা উত্তোলন, জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে ৭ মার্চ উপলক্ষে কেন্দ্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালনের জন্য দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী-সমর্থক এবং সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।




ভবন-রেস্টুরেন্ট মালিকের দোষ কর্মচারীর ওপর

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের পপাইস কফি অ্যান্ড ফাস্টফুডে আট কর্মচারী কাজ করেন নিয়মিত। যা বেতন পান তাতে সংসার খরচের পর কিছুই থাকে না। রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে গ্রেপ্তার আতঙ্কে তিন দিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ। দোকানটি বেশি দিন বন্ধ থাকলে বেকার হয়ে যেতে পারেন– এমন আশঙ্কা তাদের।

রাজধানীর প্রায় প্রতিটি রেস্তোরাঁর কর্মচারীদের মধ্যেই এ ভীতি ভর করেছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের অভিযোগে গ্রেপ্তারও হতে হচ্ছে কর্মচারীদের। তাদের ভাষ্য, রাজধানীর প্রায় সব রেস্তোরাঁ ভবন মালিকের কাছ থেকে ফ্লোর ভাড়া নিয়ে গড়ে উঠেছে। সে পটভূমিতে নিয়ম-অনিয়মের জন্য দায়ী হওয়ার কথা ভবন মালিক ও রেস্তোরাঁ মালিকদের। তবে হয়রানির মুখে পড়ছেন কর্মচারীরা। পুলিশ কর্মচারীদেরই ধরে নিয়ে যাচ্ছে।

বছরের পর বছর রাজধানীর রেস্তোরাঁর বিষয়ে নজরদারি ছিল না সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার। গত ২৯ ফেব্রুয়ারি রাতে বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের প্রাণ হারানোর পর যেন চেতনা ফিরেছে তাদের। নড়েচড়ে বসে সেবা সংস্থাগুলো। বেইলি রোডের ওই ট্র্যাজেডির পর ৩ মার্চ থেকে রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে পুলিশ, রাজউক ও সিটি করপোরেশন। প্রশ্ন উঠেছে, এতদিন ছিল কোথায় সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্তরা? গ্রিন কোজি কটেজে যখন আটটি রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছিল, তখন কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? এতে কি দায়িত্বপ্রাপ্তদের কোনো দায় নেই? আর দুর্ঘটনার পর ঢালাওভাবে রেস্তোরাঁয় অভিযান চালানো হচ্ছে। হয়রানি করা হচ্ছে নিরীহ কর্মচারীদের।

গতকাল বুধবার দুপুর পর্যন্ত তিন দিনে রাজধানীতে ১ হাজার ১৩২ রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।

এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার রাখায় ২০৭ দোকানে এবং আটটি রাসায়নিক গুদামে অভিযান চালায় পুলিশ। তিন দিনে ৮৭২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বেশির ভাগের বিরুদ্ধে আদালতে প্রসিকিউশন দেওয়া হয়। প্রসিকিউশন সংখ্যা ৮৮৭টি। প্রসিকিউশনে অভিযুক্তরা আদালতে অর্থদণ্ড দিয়ে ছাড়া পান। অবশ্য ২০ মামলা হয়েছে এই তিন দিনে।

এর মধ্যে মঙ্গলবার ৪০২ রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২২৮ জনকে। আর আদালতে প্রসিকিউশন দেওয়া হয়েছে ১৯২টি। মামলা হয়েছে ১০টি। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার রাখার অভিযোগে ১০৩ দোকান ও পাঁচটি রাসায়নিক গুদামে অভিযান চালানো হয়।

এ ছাড়া রাজউক ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ২৩ প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ৯ লাখ ৬৭ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।

গতকাল বিকেলে মেরাদিয়া ভূঁইয়াপাড়ার লাল মিয়ার হোটেলের সামনে রাস্তার ওপর গ্যাসের চুলা লাগিয়ে রান্না চলছিল। এ সময় খিলগাঁও পুলিশ হোটেলের ব্যবস্থাপক আশরাফুলকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে আদালতে প্রসিকিউশন দেওয়ার কথা রয়েছে।

গতকাল খিলগাঁওয়ের ২৫/বি ভবনে অভিযান চালিয়ে কেএফসি, ডোমিনোজ পিৎজা, সিক্রেট রেসিপিসহ চার প্রতিষ্ঠানকে ৭ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন রাজউকের ভ্রাম্যমাণ আদালত। যখন ওই ভবনে অভিযান চালানো হয়, তখন আল কায়েদা পার্টি সেন্টার ও ক্রিমসন কাপ নামে দুটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ পাওয়া যায়।

রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল ইসলাম বলেন, কেএফসি ও ডোমিনোজ পিৎজায় ফায়ার সেফটি ও বিকল্প সিঁড়ি পাওয়া যায়নি। আবাসিক ভবনে এই রেস্তোরাঁ করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। অনিয়মের জন্য দুটি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া সিক্রেট রেসিপিকে ২ লাখ ও চায়না ল্যান্ড রেস্টুরেন্টকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি বলেন, তাদের সব নিয়মকানুন মেনে প্রতিষ্ঠান চালাতে বলা হয়েছে। রেস্তোরাঁ মালিকের পাশাপাশি ভবন মালিককেও আইনের আওতায় আনা হবে।




কিশোর গ্যাংয়ে জড়াচ্ছে ধনীর দুলাল, দু’বছরে নিহত ৩৪

রাজধানীতে কিশোর গ্যাং-বিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত দু’দিনে তেজগাঁও, গুলশান, উত্তরা ও মতিঝিল এলাকা থেকে ৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবি জানিয়েছে, কিশোর গ্যাংয়ে বর্তমানে ধনীর সন্তানরা জড়িয়ে যাচ্ছে। তারা মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, মারামারিসহ হত্যার মতো ঘটনাও ঘটাচ্ছে। কিশোর গ্যাং সদস্যদের হামলায় গত দুই বছরে ৩৪ কিশোর নিহত হয়েছে। কিশোর গ্যাং কালচার দমনে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের এগিয়ে আসা জরুরি।

বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ের নিজকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং-বিরোধী ধারাবাহিক অভিযান চলবে। তাদের পক্ষে কেউ সুপারিশ নিয়ে এলেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিবির প্রধান বলেন, রাজধানীর উত্তরা এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের ইয়ংস্টার, বিগবস, ডিস্কো বয়েজ, বন্ধু মহল, শীল বিষু গ্যাং, পারভেজ গ্রুপ, রুস্তম গ্রুপ, নাইনএমএম গ্রুপ, নাইন স্টার গ্রুপ সক্রিয়। তাছাড়া রামপুরা এলাকায় রয়েছে উজ্জ্বল গ্রুপ। এই গ্রুপটির সদস্যদের অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছে।

হারুন অর রশীদ বলেন, ধারণা ছিল ভাসমান ও নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তানরা কিশোর গ্যাং চক্রে জড়িত হচ্ছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে উচ্চ মধ্যবিত্ত, আলালের ঘরে দুলালরাও এ চক্রে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের পোশাক, চুলের কাটিং ও চলাফেরা সবই ভীতিকর। এসব ধনীর সন্তানরা প্রথমে মাদক সেবন, পরে মাদক বিক্রিতেও জড়িয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া তারা এলাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক বড় ভাই ও কাউন্সিলরদের নিয়ন্ত্রণে থেকে হত্যার মতো ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে। বর্তমান ও সাবেক কাউন্সিলরদের ছত্রছায়ার অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। সবাই কিশোর গ্যাং চক্রে জড়িত থাকার কথা স্বীকারও করেছে।

অতিরিক্ত কমিশনার ডিবিপ্রধান বলেন, কিশোররা পড়ালেখা বাদ দিয়ে মাদক সেবনের মতো উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করছে। গোয়েন্দা পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। অভিভাবকদের উচিত তার সন্তান কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে তার খোঁজ রাখা। পাশাপাশি নিজ সন্তানদের সময় দেওয়া দরকার। গ্রেপ্তার করে কিশোর গ্যাং দমন করা যাবে না। সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সন্তানদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে।

কিশোর গ্যাংয়ের আশ্রয় দেওয়া বড় ভাইদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে কিনা জানতে চাইলে হারুন অর রশীদ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে অনেকের নাম-পরিচয় পেয়েছি। তদন্ত করে দেখব কারা কিশোর গ্যাং সদস্যদের আশ্রয় দিচ্ছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে তারা একত্র হয়। পরে গ্রুপের সদস্যরা রাজনৈতিক নেতাদের পরিচয় দিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি করে। কেউ প্রতিবাদ করারও সাহস পায় না।




হকির মিটিংয়ে ‘তুলে’ নেওয়ার হুমকি

ক্লাব কাপ হকির সফলতার পর বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে প্রিমিয়ার হকি লিগ। কিন্তু এই সূচি প্রকাশ নিয়ে জলঘোলা কম হয়নি। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আজই মাঠে গড়ানোর কথা ছিল এই লিগের। কিন্তু একটি ক্লাবকে (মেরিনার্স) সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে লিগ বয়কটের হুমকি দেয় ঊষা ক্রীড়া চক্র। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় আবাহনী লিমিটেড ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।

এই তিন ক্লাবের দাবি ছিল, ৬ মার্চই লিগ শুরু করতে হবে। বিষয়টি সুরাহার জন্য ক্লাবগুলোর কর্মকর্তাদের নিয়ে সোমবার রাতে জরুরি সভা ডাকে হকির কার্যনির্বাহী কমিটি। সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হওয়া মিটিং শেষ হয় রাত সাড়ে ৯টায়। আড়াই ঘণ্টার বৈঠকে ক্লাব কর্মকর্তাদের মধ্যে চলে তুমুল বাগ্বিতণ্ডা আর হট্টগোল। যেখানে একে অন্যকে ‘তুলে’ নেওয়া, এমনকি হত্যার হুমকিও দিয়েছেন কেউ কেউ। টেবিল চাপড়ে একে অপরকে গালাগাল করাসহ অপ্রীতিকর অনেক কিছু ঘটেছে বলে মঙ্গলবার সমকালকে জানান মিটিংয়ে উপস্থিত একাধিক সূত্র।

কয়েক দিন আগে শেষ হয়েছে ক্লাব কাপ হকি। দুই বছরেরও বেশি সময় পর নীল টার্ফে খেলা গড়ানোয় হকি অঙ্গনে উন্মাদনা বইছে। কিন্তু লিগ শুরুর আগে চিরাচরিত টেবিলের উত্তাপটা নতুন করে দেখা মিলল। কর্মকর্তাদের মধ্যে আন্তরিকতার ঘাটতি, হকির স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থই যেন বড় হয়ে উঠেছে সবার মধ্যে। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামের বোর্ডরুমে গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে লিগের সূচিকে কেন্দ্র করে মারপিটের পর্যায়ে চলে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, রুমের মধ্যেই চেয়ার ছেড়ে উঠে চিৎকার চেচামেচি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে ক্লাব কর্তাদের কেউ কেউ বারান্দায় গিয়েও হৈহুল্লোড় করতে থাকেন। পাশে গুলিস্তানের রাস্তায় পথচারিরা দাঁড়িয়ে পড়েন। কেউ কেউ গাড়ি থামিয়ে বোঝার চেষ্ট করেন, ঠিক কী হচ্ছিল সেখানে। বৈঠকে উপস্থিত এক ক্লাব কর্তা হতাশ হয়ে বলেন, ‘একটা সূচি নিয়ে এক কথা, দুই কথায় লেগে গেল। সে এক ভয়ানক অবস্থা। এ এরে খুন করতে চায়। সে তারে উঠায়ে নিতে চায়। এত বাজে ভাষা সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে, যা বলার মতো না।’

মূলত ঝামেলাটা হচ্ছে মেরিনার্সের সঙ্গে আবাহনী, মোহামেডান ও ঊষার। মেরিনার্সের দাবি ছিল, তাদের ম্যাচে যদি বিদেশি আম্পায়ার না থাকেন, তাহলে লিগের পুরো সময় দেশি আম্পায়ার দিয়েই খেলা চালাতে হবে। কিন্তু ফেডারেশনের কর্তাদের ভাষ্য হলো, লিগ শুরুর দু-এক দিন পর বিদেশি আম্পায়ার আসবেন। তাতে সায় ছিল ঊষা ক্রীড়া চক্রের। এই আম্পায়ার ইস্যুতেই মিটিং হয়ে ওঠে আরও উত্তপ্ত। আর মিটিংয়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে মেরিনার্স ও আবাহনীর কর্তাদের মধ্যেই।

একে অপরকে তুলে নেওয়ার হুমকি এবং খুন করার হুমকি দেন। পুরো ঘটনার চিত্রটা ফোনে আবাহনীর ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের অবহিত করেন মিটিংয়ে উপস্থিত এক কর্মকর্তা। এই অবস্থায় ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক একেএম মমিনুল হক সাঈদ চুপ ছিলেন।

এমন ঘটনার জন্য ফেডারেশনের কিছু ভুল সিদ্ধান্তকে সামনে এনেছেন মিটিংয়ে উপস্থিত অন্য এক সদস্য, ‘আসলে এই মিটিংগুলো হয় এজেন্ডা ছাড়াই। কাগজপত্র ছাড়াই। পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, একেক ক্লাব একেকটা দাবি তোলে। এত বড় একটা ফেডারেশন, তারা কথা বলবে এজেন্ডার ওপরে। আগের মিটিংয়ের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। এর বাইরে তো কথা হতে পারে না। এখানে ব্যক্তিগত আক্রমণ হয় বেশি। আমি দেখে অবাক হয়ে গেছি।

একেকজনের মুখ থেকে যে ভাষাগুলো বের হয়। কালকে একেকজনের আচরণ এবং শারীরিক ভাষা দেখে মনে হয়েছে, হকির কোনো ভবিষ্যৎই নেই। কেউ কাউকে মানছে না। কোনো প্রটোকল নেই। কেউ কাউকে দেখতে পারে না। এটা তো আসলে বোর্ড মিটিং। কোনো ক্লাবের মিটিং না। আর কোনো পাড়ার ক্লাবে এ রকম গালাগাল হতে পারে কিনা, তা নিয়ে আমার সন্দেহ। এটা সরকারি একটা প্রতিষ্ঠান। বোর্ড মিটিংয়ে ভদ্র পরিবেশ এবং অফিসিয়াল সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা। কিন্তু তা ছিল না।’