বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সংলাপ শুরু

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা জোরদারে ১২তম বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা সংলাপ শুরু হয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) শুরু হওয়া সংলাপ আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে চলবে।

বুধবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই তথ্য জানানো হয়। ২০১২ সাল থেকে দুই দেশের মধ্যে এই প্রতিরক্ষা সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় চলমান বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রতিনিধিদল অংশ নিচ্ছে।

আইএসপিআর জানিয়েছে, ওই প্রতিরক্ষা সংলাপ দুই দেশের পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়াও এই সংলাপে উভয় দেশের সামরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় আলোচিত হবে। উল্লিখিত সংলাপ বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, দুর্যোগ মোকাবিলা, শান্তি রক্ষা কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ, পরিদর্শন, যৌথ অনুশীলন ও মহড়া, কর্মশালা ইত্যাদি ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে।

এই প্রতিরক্ষা সংলাপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, অপারেশনস ও পরিকল্পনা পরিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ আলী হায়দার সিদ্দিকী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সারাহ রুস।

এ ছাড়া সংলাপে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন।

দুই দিনের এই প্রতিরক্ষা সংলাপের মাধ্যমে দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক আরও উন্নত হবে এবং পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্ব আরও গভীর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।




একটি অর্থবহ নির্বাচন এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: রিজওয়ানা

রাজনৈতিক সহিংসতার শিকারদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘একটি অর্থবহ নির্বাচন এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে। আমরা বিশ্বাস করি সমাজের সব স্তরের মানুষ এতে অংশ নেবে।’
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সাভারের ব্র্যাক সিডিএমে অনুষ্ঠিত ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ ইন্টারন্যাশনালের দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
১১ দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ৬২ দেশের ৮৫ জন প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও আইনগত কাঠামোতে সংস্কার চলছে। তবে বাস্তব পরিবর্তন আনতে সময়, ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।
উপদেষ্টা বলেন, আমরা প্রশাসন ও আইনি কাঠামো দুটোকেই পরিবর্তনের আওতায় আনছি। কিন্তু যে দেশ পরিবেশ সূচকে ১৮০ দেশের মধ্যে ১৭৯তম স্থানে থাকে, সেটি এক বছরে ৫০তম স্থানে পৌঁছে যেতে পারে না—এটি রাতারাতি সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ যদি ৫ থেকে ৭ বছর ধারাবাহিকভাবে কাজ করে এবং অবস্থান ৭৩-এর কাছাকাছি যায়, তবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার সেই ভিত্তির ওপর কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারবে।
উপদেষ্টা জানান, বর্তমান সরকার একটি প্রায় ভেঙে পড়া ব্যবস্থা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। প্রথম কাজ ছিল এটিকে ন্যূনতমভাবে কার্যকর করা এবং তারপর পরিবর্তনের সূচনা। আমরা যাত্রা শুরু করেছি; লক্ষ্য অনেক দূরে। তবে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এগুলো রাজনৈতিক সরকারের অধীনে অব্যাহত থাকতে হবে।
সাম্প্রতিক আইনগত অগ্রগতির বিষয়ে তিনি জানান, বন সংরক্ষণে দুটি যুগান্তকারী আইন ইতোমধ্যে পাশ হয়েছে। প্রাকৃতিক বনে নতুন করে হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ করেছে এসব আইন। এছাড়া বননির্ভর জনগোষ্ঠীকে স্বীকৃতিও দিয়েছে। শিগগিরই জলাভূমি সংরক্ষণ আইনও পাশ হবে।
বর্তমান পরিবেশ বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করে উপদেষ্টা বলেন, সভাস্থল সাভারকে ইতোমধ্যে পরিবেশগতভাবে অক্ষয়িত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ বহু বছর ধরে বায়ুদূষণে বৈশ্বিক সূচকে শীর্ষে রয়েছে। এটি এক বছরে বদলানো সম্ভব নয়। তবে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।
এ ধরনের অবনমিত অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করে পুনর্বাসনের কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
শ্রমিকরা কর্মহীন হবেন না; তারা নতুন নির্ধারিত স্থানে কৃষি-সম্পৃক্ত কাজে যুক্ত হবেন উল্লেখ করে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, এলাকায় দূষণকারী ইটভাটা ও অন্যান্য ইউনিট আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্থানান্তর করা হচ্ছে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, নগর পরিবেশের উন্নতি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ আর পরিবেশ সূচকের একেবারে নিম্নস্থানে নেই। সরকার ও নাগরিকের মধ্যে যোগাযোগ বেড়েছে, তথ্যপ্রাপ্তি সহজ হয়েছে এবং মত-প্রকাশ ও অংশগ্রহণের ক্ষেত্র প্রসারিত হয়েছে।



হজ ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি করলে আইনের আওতায় নিয়ে আসব: ধর্ম উপদেষ্টা

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, আমরা হজকে এবাদত হিসেবে গ্রহণ করেছি। এখানে কেউ দুর্নীতি করলে আমরা তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসব। হজ ব্যবস্থাপনাকে সহজীকরণ করার জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। কোনো সিন্ডিকেট কাজ করতে পারবে না।

বুধবার সকালে নাটোরে জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র  উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রকল্পের পরিচালক শহিদুল আলমের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন- নাটোর জেলা প্রশাসক আসমা শাহিন, পুলিশ সুপার এমএ ওয়াহাব, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবুল হায়াত, নাটোর সিভিল সার্জন ডা. মুক্তাদির আরেফিনসহ সরকারি কর্মকর্তারা।

উপদেষ্টা আরও বলেন, আমরা সবাই সচেতনতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি ফলে কোনো সিন্ডিকেট তৈরি করে হাজিদের জিম্মি করতে পারছে না। গত বছর আমরা আট কোটি টাকা হাজিদের ফেরত দিয়েছি। এবারো পারব ইনশাআল্লাহ।

নাটোরে জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং নাটোর সদর ও গুরুদাসপুর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ তলাবিশিষ্ট নাটোর জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, ৩ তলা বিশিষ্ট উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মধ্যে নাটোর সদর উপজেলার জন্য ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং গুরুদাসপুর উপজেলার জন্য ব্যয় হয়েছে ১৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

এসব মডেল মসজিদে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক নামাজের জায়গা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নামাজের জায়গা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয়, ইমাম প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, বই বিক্রয় কেন্দ্র, লাইব্রেরি, কনফারেন্স রুম, গেস্ট রুম, ইমাম মুয়াজ্জিন ও খাদেমের জন্য আবাসিক ব্যবস্থা পার্কিং প্লেস ইত্যাদি সুযোগ সুবিধা রয়েছে।




ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমানের বৈশিষ্ট্য কী?

ইতালি থেকে ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ইতালির প্রতিষ্ঠান লিওনার্দো এসপিএর সঙ্গে একটি সম্মতিপত্র সই করেছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, টাইফুন যুদ্ধবিমান কেনার এই প্রক্রিয়া বিমানবাহিনীর সম্মুখসারির সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ। আধুনিক মাল্টি–রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট হিসেবে টাইফুন যুক্ত হলে আকাশ প্রতিরক্ষায় নতুন শক্তি যোগ হবে।

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বহরে যুক্ত হতে যাওয়া নতুন এই যুদ্ধবিমান সম্পর্কে ইউরোফাইটারের ওয়েবসাইটে বলা হচ্ছে- এটি বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক সুইং-রোল কমব্যাট বিমান।

তারা বলছে, ইউরোফাইটার টাইফুন একইসঙ্গে এয়ার-টু-এয়ার এবং এয়ার-টু-সারফেস সক্ষমতা প্রদান করে এবং একযোগে ব্যবহারযোগ্য।

বিশ্বের ৯টি দেশের বিমানবাহিনীর কাছে এ যুদ্ধবিমান আছে। দেশগুলো হলো- যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, অস্ট্রিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান ও কাতার।

ইউরোপের চার শক্তিশালী দেশ যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি ও স্পেনের সহযোগিতায় ইউরোফাইটার টাইফুন কনসোর্টিয়াম গঠিত হয়েছে। তাদের শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা ও অ্যারোস্পেস কোম্পানি এয়ারবাস, বিএই সিস্টেমস ও লিওনার্দো এই যুদ্ধবিমান প্রকল্পের মূল অংশীদার।

ইউরোফাইটার টাইফুন

এটি একটি টুইন-ইঞ্জিন, ক্যানার্ড-ডেল্টা উইং, মাল্টিরোল ফাইটার। ইউরোফাইটারের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এটি পুরোপুরি সুইং-রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট।

এয়ার-টু-এয়ার দক্ষতা

শত্রু বিমানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে টাইফুন তার তীক্ষ্ণ সেন্সর, অসাধারণ গতিবেগ এবং উচ্চমানের ডগফাইটিং ক্ষমতার জন্য সুপরিচিত। উন্নত রাডার, মিসাইল ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম এর ক্ষিপ্রতা আরও বাড়িয়ে দেয়।

এয়ার-টু-গ্রাউন্ড আক্রমণ

এটি স্থলভাগে আঘাত হানতেও সমানভাবে সক্ষম। গাইডেড বোমা, প্রিসিশন স্ট্রাইক অস্ত্র এবং রিয়েল-টাইম ব্যাটেলফিল্ড ডেটা প্রক্রিয়াকরণ, সব মিলিয়ে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এটি ভয়ংকর।

ইন্টেলিজেন্স ও নজরদারি

টাইফুন শুধু যুদ্ধই করে না, এটি তথ্য সংগ্রহ, শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, আর আকাশ প্রতিরক্ষার সামগ্রিক ছবি তৈরিতেও সহায়তা করে।

স্টেলথ বৈশিষ্ট্য

যুদ্ধবিমানটির মোট পৃষ্ঠের মাত্র ১৫ শতাংশ ধাতব, যার ফলে রাডার-নির্ভর সিস্টেমের কাছ থেকে এটি অনেকটাই আড়ালে থাকে। এই নকশা সাবসনিক গতিতে উচ্চমানের ম্যানুভারিং এবং সুপারসনিক গতিতে কার্যকর যুদ্ধক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।




১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর চালুর সিদ্ধান্তে অনড় সরকার

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টেলিযোগাযোগ খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অনিবন্ধিত মোবাইল ফোনের ব্যবহার রোধ করতে আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর ব্যবস্থা চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে নিবন্ধনবিহীন, চুরি হওয়া বা অনুমোদনহীন আমদানি করা মোবাইল ফোনের ব্যবহার বন্ধ হয়ে যাবে।

এদিকে অনিবন্ধিত ডিভাইসের দাম বাড়ার আশঙ্কায় পছন্দের ফোন কিনতে দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রচলিত শুল্ক ও ভ্যাটের কারণে অফিসিয়াল ফোন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

তাদের দাবি, ২০ হাজার টাকার একটি ফোনে ৫৭ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হয়ে দাম হয়ে যাবে ৫০ হাজারেরও বেশি-যা ছাত্র-যুবকদের বাজেটের বাইরে।

নির্বাচনের আগে অবৈধ ডিভাইসকেন্দ্রিক অপরাধ দমন, সুলভ দামে মোবাইল সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি এই লক্ষ্য নিয়েই ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর কার্যকর করার সিদ্ধান্ত সরকার নেয়।

রোববার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবন ঘেরাওয়ের পর ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সংস্কারে সম্মত হয়েছে সংস্থাটি। এতে চলমান অবরোধ সোমবার পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা।

রোববার রাত পৌনে ৯টার দিকে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারীর আশ্বাসের ভিত্তিতে এ ঘোষণা দেয় মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)।




ঘরের কোথায় রাউটার লাগালে ওয়াই-ফাইয়ের স্পিড ভালো পাবেন

নতুন বাসায় ওঠার পর বা নতুন ইন্টারনেট সংযোগ নেওয়ার সময় আমরা সাধারণত রাউটারটিকে টেকনিশিয়ানের রেখে দেওয়া জায়গাতেই রেখে দিই। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই টেকনিশিয়ানরা রাউটার ঠিক জায়গায় বসান না। রাউটার ভুল জায়গায় থাকলে ওয়াই-ফাইয়ের গতি কমে যায়, ভিডিও কলে ল্যাগ হয় এবং ঘরের বিভিন্ন অংশে সিগন্যাল পৌঁছায় না। এমনকি ভালো মানের রাউটার থাকলেও সঠিক অবস্থানে না থাকলে তার পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলেন, রাউটার কোথায় রাখা হচ্ছে—এটাই দ্রুত ওয়াই-ফাইয়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ঘরের কোন স্থানে রাউটার রাখলে ভালো নেট পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করে কয়েকটি মূল বিষয়ের উপর:

১. রাউটার রাখুন ঘরের কেন্দ্রস্থলে

রাউটার চারদিকে সিগন্যাল ছড়ায়। তাই এক কোণে রাখলে সিগন্যালের বড় অংশ দেয়াল বা বাইরে নষ্ট হয়ে যায়। মাঝখানে রাখলে কাভারেজ বাড়ে। কোণে রাখলে পাশের বাসায়ও সিগন্যাল পৌঁছে গিয়ে নিরাপত্তাজনিত সমস্যা তৈরি করতে পারে। মাঝখানে আনতে হলে মোডেম থেকে দূরত্ব বাড়তে পারে—সেক্ষেত্রে লম্বা ইথারনেট কেবল বা পাওয়ারলাইন অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করতে হবে।

২. রাউটার যত উঁচুতে, তত ভালো সিগন্যাল

রাউটার সাধারণত নিচের দিকে বেশি সিগন্যাল পাঠায়, তাই মেঝে বা নিচু স্থানে রাখলে সিগন্যাল বাধাপ্রাপ্ত হয়। এজন্য রাউটারকে বুকশেলফের ওপর বা দেয়ালে মাউন্ট করে উঁচুতে রাখা ভালো। অনলাইনে সহজেই বিভিন্ন ধরনের রাউটার মাউন্ট পাওয়া যায়।

৩. ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি থেকে দূরে রাখুন

কিছু ডিভাইস রাউটারের সিগন্যাল নষ্ট করে, যেমন—

মাইক্রোওয়েভ: ২.৪ গিগাহার্টজে সিগন্যাল পাঠায়, যা রাউটারের সিগন্যালের সঙ্গে ইন্টারফিয়ারেন্স তৈরি করে।

বড় টিভি: সিগন্যাল বাধা দেয়।

ধাতব বস্তু: সিগন্যাল শোষে বা প্রতিফলিত করে।

অ্যাকুরিয়াম: পানি সিগন্যাল ঠেকিয়ে দেয়, ফলে রাউটার ও ডিভাইসের মাঝে থাকলে গতি কমে যায়।




ফোনের অ্যাপ ভাইরাস মুক্ত কি না বুঝবেন যেভাবে

স্মার্টফোনের যুগে বিভিন্ন অ্যাপ ডাউনলোড করতে হয়। আবার সুরক্ষার জন্য অ্যান্টি ভাইরাস সফটওয়্যার ডাউনলোড করেন অনেকে। ফোনে ডাউনলোড করার সময়ে ভুয়া, থার্ড পার্টি অ্যাপ এবং অ্যান্টি ভাইরাস সফটওয়্যার আছে কি না টা যাচাই করে নিন।

নতুন অ্যাপ ইনস্টল করার আগে এবং ব্যবহার করার সময় নিচে দেওয়া কৌশলগুলো অনুসরণ করলে ম্যালওয়্যার থেকে সুরক্ষিত থাকা সম্ভব। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেসব-

১. অ্যাপের উৎস যাচাই করুন

অফিসিয়াল স্টোর ব্যবহার: গুগল প্লে স্টোর (অ্যান্ড্রয়েড) বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর (আইওএস) ছাড়া অন্য কোনো অজানা উৎস (যেমন এপিকে ফাইল) থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করবেন না। এই অফিসিয়াল স্টোরগুলোতে অ্যাপ আপলোড করার আগে সাধারণত নিরাপত্তা যাচাই করা হয়।

গুগল প্লে প্রোটেক্ট চালু রাখুন: অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা প্লে স্টোর এর প্লে প্রোটেক্ট অপশনটি চালু আছে কি না তা নিশ্চিত করুন, যা ক্ষতিকারক অ্যাপ স্ক্যান করতে সাহায্য করে।

২. অ্যাপের তথ্য পরীক্ষা করুন

ডেভেলপারের বিশ্বাসযোগ্যতা: অ্যাপের বিবরণ অংশে বা স্টোরে ডেভেলপারের নাম এবং তাদের অন্য অ্যাপগুলো দেখুন। পরিচিত বা স্বনামধন্য ডেভেলপারদের অ্যাপ ব্যবহার করুন।

ব্যবহারকারীর রিভিউ ও রেটিং: অ্যাপটির রিভিউ ও রেটিং মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। যদি দেখেন অনেকেই অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন, ফেইক অফার বা ম্যালওয়্যারের অভিযোগ করেছে, তবে অ্যাপটি ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকুন।

ডাউনলোড সংখ্যা: একটি অ্যাপের ডাউনলোড সংখ্যা যদি খুব কম হয় (বিশেষত নতুন অ্যাপ না হলে), তবে সতর্ক হোন।

৩. অ্যাপের পারমিশন বুঝেশুনে দিন

অ্যাপ ইনস্টল করার পর সেটি আপনার ডিভাইসের বিভিন্ন অংশে অ্যাক্সেস চায়, যাকে পারমিশন বলে। যেমন, একটি ফটো এডিটিং অ্যাপকে গ্যালারি বা স্টোরেজের পারমিশন দিতেই হবে, কিন্তু কেন সেটি কন্ট্যাক্ট বা মাইক্রোফোনের পারমিশন চাইছে তা ভেবে দেখুন। শুধু প্রয়োজনীয় পারমিশনগুলোই অনুমোদন করুন।

৪. নিয়মিত আপডেট ও অ্যান্টিভাইরাস

অপারেটিং সিস্টেম আপডেট: আপনার ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এবং সিকিউরিটি প্যাচ সর্বদা আপডেটেড রাখুন।

অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার: আপনি যদি অতিরিক্ত সুরক্ষা চান, তবে ভালো রেটিংযুক্ত একটি বিশ্বাসযোগ্য অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপ ইনস্টল করে মাঝে মাঝে পুরো ফোন স্ক্যান করতে পারেন। (যেমন: অ্যাভাস্ট, ক্যাসপারস্কি, বিটডিফেবন্ডার ইত্যাদি)।

এই সতর্কতাগুলো মেনে চললে আপনার ডিভাইস ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার থেকে সুরক্ষিত থাকবে।




৪.৮ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজার দখলের পথে এআই

বিশ্ব প্রযুক্তি এখন এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এখন আর কেবল তথ্য বিশ্লেষণ বা সরল কাজ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন স্বাধীন এবং স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম ‘এআই এজেন্ট’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। এই উত্থানের ফলে ২০৩৩ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী এআই বাজারের আকার ৪.৮ ট্রিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৫৮৭ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্বয়ংক্রিয় ‘এআই এজেন্ট’: কাজের পদ্ধতিতে বিপ্লব

প্রযুক্তির সবচেয়ে আলোচিত ধারাগুলোর মধ্যে একটি হলো ‘এআই এজেন্ট’। এই বুদ্ধিমান সিস্টেমগুলো মানুষের ক্রমাগত তত্ত্বাবধান ছাড়াই কাজ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। তারা এখন নিজে থেকে পরিকল্পনা তৈরি করতে পারে, সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং একাধিক সফটওয়্যার টুল ব্যবহার করে জটিল কাজ সমাধান করতে পারে।

এআই এজেন্টরা এখন একটি সম্পূর্ণ মার্কেটিং ক্যাম্পেইন তৈরি করা বা একটি সফ্টওয়্যার প্রকল্পের জটিল অংশগুলো লেখার মতো কাজগুলো নিজে থেকেই শুরু করতে ও শেষ করতে সক্ষম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কর্মক্ষেত্র থেকে মানুষকে প্রতিস্থাপন করবে না, বরং মানুষ ও মেশিনের মধ্যে একটি নতুন এবং আরও উৎপাদনশীল সহযোগিতার মডেল তৈরি করবে।




চীনে এনভিডিয়ার চিপ রপ্তানির অনুমতি দিচ্ছেন ট্রাম্প

গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছেন। যার ফলে মার্কিন চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া চীনে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ রপ্তানি করতে পারবে।

এমন সময়ে এই ঘোষণাটি এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। দুই দেশই এআই প্রযুক্তিতে আধিপত্য বিস্তারে প্রতিযোগিতা করছে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ এনভিডিয়ার উন্নত চিপ রপ্তানি নীতিতে বড় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে, যা পূর্বে জো বাইডেন প্রশাসন কঠোরভাবে সীমিত করেছিল। কারণ, বাইডেন প্রশাসন জাতীয় নিরাপত্তা এবং চীনের সামরিক ব্যবহারের সম্ভাবনার কারণে চিপ রপ্তানির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিল।

কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে গুরুতর ভুল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা মনে করেন, এই পদক্ষেপ চীনের সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি বাড়াতে সাহায্য করবে।

ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, তিনি শি জিনপিংকে জানিয়েছেন যে, এনভিডিয়াকে তাদের এইচ২০০ চিপ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হবে, তবে এটি ‘শক্তিশালী জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখার শর্তে’ হবে। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেছেন, চীনে বিক্রিত চিপ থেকে ২৫% অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়া হবে, তবে এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেননি।

ট্রাম্প তার পূর্বসূরির নীতি সমালোচনা করে বলেছেন, বাইডেন প্রশাসন মার্কিন কোম্পানিগুলোকে কম ক্ষমতাসম্পন্ন চিপ তৈরি করতে বাধ্য করেছিল, যা উদ্ভাবনকে ধীর করে দিয়েছে এবং কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।




এমবাপ্পের আরেক রেকর্ড ভেঙে দিলেন জার্মান বিস্ময়বালক

বয়স তার মোটে ১৭। তবে লেনার্ট কার এর মধ্যেই আলোচনায় চলে এসেছেন। বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেবেন কি না, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। কেন প্রশ্নগুলো উঠছে, তার জবাবটা লেনার্ট কার্ল দিয়েছেন গত রাতে। গোল করেছেন, তাতে কিলিয়ান এমবাপ্পের আরও এক রেকর্ড ভেঙে গেছে গত রাতে। তার নৈপুণ্যে ভর করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে স্পোর্টিং লিসবনের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-১ গোলে জিতেছে বায়ার্ন মিউনিখ।

ম্যাচের শুরুতেই গোল পেয়েছিল বায়ার্ন। কার্ল বল নিয়ন্ত্রণ করে সুন্দর শটে জাল খুঁজে পান। কিন্তু সেই গোল বাতিল হয়। কারণ গেনাব্রি সামান্য অফসাইডে ছিলেন। প্রথমার্ধে আরও কিছু সুযোগ তৈরি করে বায়ার্ন। হ্যারি কেইনের শট পোস্টে লাগে। কার্লও বিরতির ঠিক আগে গোল পেতে পারতেন। কিন্তু রুই সিলভা তার শট ঠেকান।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই চমকে দেয় স্পোর্টিং। বাম দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে জোয়াও সিমোয়েস ক্রস পাঠান। কিমিখ ব্লক করতে গিয়ে ভুল করে নিজ জালেই বল জড়িয়ে দেন। এতে পিছিয়ে পড়ে বায়ার্ন।

কিন্তু দশ মিনিটের মধ্যেই সমতায় ফেরে বায়ার্ন। মাইকেল অলিসের কর্নার থেকে গেনাব্রি সহজ শটে গোল করেন। চার মিনিট পর আবারও গোল। এবার নায়ক কিশোর কার্ল। বক্সে বল পেয়ে প্রথমে বাম পায়ে নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে ডান পায়ে জোরালো শটে জাল খুঁজে পান। এতে এগিয়ে যায় বায়ার্ন।

এরপর স্পোর্টিং আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। কিমিখ দূর থেকে দারুণ পাস দেন। সেই বল থেকে ওলিস মাথা ছুঁইয়ে বিপজ্জনক এলাকায় পাঠান। সেখানে ফাঁকায় ছিলেন টা। তিনি সহজেই বল জালে পাঠান।

এই ম্যাচে কার্লই ছিলেন বায়ার্নের বড় ভরসা। হ্যারি কেইন থাকলেও গোলের সবচেয়ে বড় হুমকি ছিলেন এই কিশোর ফরোয়ার্ড। তার গোলেই ম্যাচে প্রথমবার এগিয়ে যায় বায়ার্ন। এই গোলের মাধ্যমে ইতিহাসও গড়েছেন তিনি। ১৭ বছর ২৯০ দিনে তিনি হয়েছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে টানা তিন ম্যাচে গোল করা খেলোয়াড়। এই রেকর্ডটা আগে ছিল কিলিয়ান এমবাপ্পের। ১৮ বছর ১১৩ দিন বয়সে এই রেকর্ড গড়েছিলেন তৎকালীন মোনাকো সেনসেশন। তবে তার সেই রেকর্ড এবার কেড়ে নিয়েছেন কার্ল।