যুক্তরাষ্ট্রে দুই হামলায় নানা মিল, যোগসূত্র খুঁজছে এফবিআই

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বছরটা শুরু হলো রক্তপাত দিয়ে। ঘড়ির কাঁটার হিসাবে ২০২৫ সালের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে তিনটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় নিহত হয়েছেন ১৬ জন। আহত হয়েছেন অনেকে। বছরের শুরুতেই হওয়া এ হামলাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসাজশ আছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) তদন্তকারীদের। এ সন্দেহের সত্যতা যাচাইয়ে এরই মধ্যে কাজও শুরু করেছেন তাঁরা। এফবিআইয়ের পাশাপাশি এ ঘটনা তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ।

প্রথম হামলাটি ঘটে স্থানীয় সময় গত বুধবার লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নিউ অরলিয়েন্স শহরে। সেখানে বর্ষবরণের উৎসবে যোগ দেওয়া লোকজনের ওপর গাড়ি উঠিয়ে দেন এক ব্যক্তি। তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাবেক সদস্য ছিলেন। তাঁর ব্যবহার করা গাড়িতে সন্ত্রাসী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) পতাকা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় হামলাকারীসহ ১৫ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হন।




বিসিএসে নিয়োগ: পুরোনো ধারায় ২২৭ জন বাদ

আওয়ামী মতাদর্শী না হওয়ার কারণে ২৮তম বিসিএস থেকে ৪২তম বিসিএস পর্যন্ত পিএসসির সুপারিশ করা অনেক প্রার্থী নিয়োগবঞ্চিত হয়েছিলেন। এই বঞ্চিতদের মধ্য থেকে ২৫৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত সোমবার ৪৩তম বিসিএস থেকে ১ হাজার ৮৯৬ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এই নিয়োগে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশ পাওয়া ২৬৭ জনকে বাদ দেওয়া হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলছে, এর মধ্যে ২২৭ জন প্রার্থীর বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। এ কারণে তাঁদের সাময়িকভাবে নিয়োগের অনুপযুক্ত বিবেচনা করা হয়েছে। বাকি ৪০ জন স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নেননি।

জনপ্রশাসনবিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ নিয়ম হলো, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ, দাগি অপরাধী বা এ–জাতীয় কোনো অপরাধ থাকলে নিয়োগের জন্য অনুপযুক্ত বিবেচনা করার কথা। কিন্তু বাস্তবে বছরের পর বছর ধরে প্রার্থী বা তাঁদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা খোঁজা হয়। চাকরিতে কোটাবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু হয়ে ২০২৪ সালে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, তাতে এ ধরনের ব্যবস্থা বন্ধ হবে বলে অনেকের আশা ছিল। কিন্তু বাস্তবে এখনো তা বন্ধ হয়নি।

এবার ৪৩তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে ২২৭ জনকে বাদ দিয়ে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর নানা আলোচনা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও অনেকে নানা মন্তব্য করছেন। বাদ পড়া প্রার্থীরা এ নিয়ে সরব হয়েছেন। বিষয়টিকে আমলে নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলেছে, নিয়োগের জন্য অনুপযুক্ত ২২৭ জনের মধ্যে যে কেউ পুনর্বিবেচনার আবেদন করলে তা গ্রহণ করা হচ্ছে। পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত।

কী কারণে এসব প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৪৩তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের জন্য পিএসসি সাময়িকভাবে ২ হাজার ১৬৩ জনকে মনোনীত করে গত বছরের ২৫ জানুয়ারি সুপারিশ করে। এরপর বিধি অনুযায়ী পুলিশের বিশেষ শাখা এবং জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রার্থীর প্রাক্‌–চরিত্র যাচাই-বাছাই করে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অনুপস্থিত ৪০ জন এবং এজেন্সির প্রতিবেদন বিবেচনায় ৫৯ জন মিলিয়ে মোট ৯৯ জনকে বাদ দিয়ে বাকি ২ হাজার ৬৪ জনকে নিয়োগ দিয়ে গত ১৫ অক্টোবর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর পর থেকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে এই নিয়োগের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বচ্ছ প্রার্থী নির্ধারণ এবং সরকারি নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে ৪৩তম বিসিএসের সুপারিশপ্রাপ্ত ২ হাজার ১৬৩ জনের বিষয়ে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের মাধ্যমে প্রাক্‌-চরিত্র পুনরায় অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়। এনএসআই ও ডিজিএফআই থেকে ২ হাজার ১৬৩ জন প্রার্থীর উপযুক্ততা বা অনুপযুক্ততা বিষয়ে প্রতিবেদন পাওয়া যায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২২৭ জন প্রার্থীর প্রাক্‌–চরিত্র বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য পাওয়া যায়। ২২৭ জন প্রার্থীর বিষয়ে বিরূপ মন্তব্যের কারণে সাময়িকভাবে নিয়োগের অনুপযুক্ত বিবেচনা করা হয় এবং তাঁদের বিষয়ে অধিকতর যাচাই ও খোঁজখবর নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অনুপস্থিত ৪০ জনকে নিয়োগের জন্য অনুপযুক্ত বিবেচনা করা হয়। এ অবস্থায় গত ৩০ ডিসেম্বর ১ হাজার ৮৯৬ জনের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

চাকরিবিশেষজ্ঞ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকলে, জেল খাটলে বা দাগি সন্ত্রাসী হলে পুলিশ রেকর্ড উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেবে। প্রতারণা করে চাকরি নিলে সেটাও এই বিবেচনায় নিতে হবে। কিন্তু এ–জাতীয় অপরাধ ছাড়া অন্য কোনো বিবেচনায় বা রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে বাদ দেওয়া যায় না। কিন্তু এটি অতীতেও হয়েছে, বর্তমানেও হয়েছে। এটা কোনোভাবেই উচিত না, এটা বন্ধ হওয়া উচিত।




আরও তিন অতিরিক্ত আইজিপিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকার

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজি) পদমর্যাদার আরও তিন কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশের অন্তত ১৭ জন অতিরিক্ত আইজিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলো।

আজ বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে পুলিশের ঊর্ধ্বতন তিন কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এঁরা হলেন পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর মল্লিক ফখরুল ইসলাম, পুলিশ টেলিকমের প্রধান ওয়াই এম বেলালুর রহমান এবং পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি সেলিম মো. জাহাঙ্গীর।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এসব প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি। এতে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ (২০১৮ সালের ৫৭ নং আইন) এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হলো। তারা বিধি অনুযায়ী জনস্বার্থে অবসরজনিত সুবিধা প্রাপ্য হবেন। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে সর্বশেষ গত ২ ডিসেম্বর ৯ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় সরকার। তারা হলেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. সেলিম হোসেন, বরিশাল মহানগর পুলিশের (বিএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার এম আর শওকত আনোয়ার ইসলাম, র‍্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার মো. নাসির উদ্দিন ভূঁঞা, সহকারী পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ও সহকারী পুলিশ সুপার মো. জামাল উদ্দিন, এপিবিএনের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মতিউর রহমান ও সহকারী পুলিশ সুপার জোবাইরুল হক, এসএএফের সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনায়েত হোসেন এবং শিল্পাঞ্চল পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (র‍্যাবে বদলির আদেশাধীন) মো. মোশাররফ হোসেন।

তার আগে গত ৮ অক্টোবর র‌্যাবের সদ্য সাবেক মহাপরিচালক ও পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি মো. হারুন অর রশিদ, হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি শাহাবুদ্দিন খান এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার (বর্তমানে ট্যুরিস্ট পুলিশে কর্মরত) সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত আইজি খন্দকার মহিদ উদ্দিনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।

২২ সেপ্টেম্বর রেলওয়ে পুলিশে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল আইজি) দেবদাস ভট্টাচার্য, সংখ্যাতিরিক্ত অতিরিক্ত আইজি হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ঢাকায় সংযুক্ত শিল্পাঞ্চল পুলিশের উপপুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এ কে এম হাফিজ আক্তার, ঢাকায় পুলিশ টেলিকমে কর্মরত উপপুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বশির আহম্মদ, ঢাকায় সংযুক্তির আদেশপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, এপিবিএন সদর দপ্তরে কর্মরত সহকারী পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার দাদন ফকিরকে অবসরে পাঠানো হয়।

এর আগে ২ সেপ্টেম্বর পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খন্দকার লুৎফুল কবির, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মীর রেজাউল আলম, নোয়াখালী পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) উপমহাপরিদর্শক (চলতি দায়িত্বে) ইমাম হোসেনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।

২৭ আগস্ট পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক কৃষ্ণপদ রায়, খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার (উপমহাপরিদর্শক পদমর্যাদা) মো. মোজাম্মেল হক ও কেএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক) সরদার রকিবুল ইসলামকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। ২২ আগস্ট পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ আলী মিয়া, শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. মাহাবুবর রহমান ও পুলিশ সদর দপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) জয়দেব কুমার ভদ্রকে অবসরে পাঠানো হয়। উল্লেখ্য, ১৩ আগস্ট সিআইডি থেকে মোহাম্মদ আলী মিয়াকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছিল।

২১ আগস্ট পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. আতিকুল ইসলাম, সদর দপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক-সুপারনিউমারারি) মো. আনোয়ার হোসেন এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামানকে (উপমহাপরিদর্শক পদমর্যাদার) অবসরে পাঠানো হয়।

এর আগে ১৩ আগস্ট পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এসবি-বিশেষ শাখা) মনিরুল ইসলাম ও ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানকে চাকরি থেকে অবসরে পাঠানো হয়। একই দিন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান ও পুলিশের রংপুর রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক মো. আবদুল বাতেনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।




হামাস-হিজবুল্লাহর মতো হুতিদের পরিণতি হবে: হুঁশিয়ারি ইসরায়েলের

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে লড়াই চলছে ইসরায়েলের। এরই মধ্যে লেবাননের হিজবুল্লাহ ও গাজা উপত্যকার হামাসের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়েছে দেশটি। এতে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে গোষ্ঠী দুটি। প্রাণ হারিয়েছেন তাদের বেশ কয়েকজন নেতা। এমন পরিস্থিতি ইসরায়েল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের ভূখণ্ডে হামলা হলে হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো একই পরিণতি হবে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের। যদিও ইসরায়েলের এ হুঁশিয়ারির পরও দেশটিতে হামলা অব্যাহত রেখেছে হুতিরা।

হুতিদের প্রতি এ হুঁশিয়ারি দেন জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন। নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া এক ভাষণে গতকাল সোমবার তিনি বলেন, হুতিদের ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ করতে হবে। তারা যদি এই হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে হিজবুল্লাহ, হামাস ও সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদের মতো একই ধরনের ‘শোচনীয় পরিণতি’ হবে তাদের। তেহরানের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো স্থানে হামলা চালানো সক্ষমতা রয়েছে ইসরায়েলের। ইরান–সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলা সহ্য করবেন না তাঁরা।

সোমবার ড্যানি ড্যাননের এমন হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টা পরই ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ঘোষণা দেয়, ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকিয়ে দিয়েছে তারা। ওই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে সাইরেন বাজতে শোনা যায়। পরে আজ মঙ্গলবার হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, তেল আবিবের কাছে বেন গুরিওন বিমানবন্দর এবং জেরুজালেমের দক্ষিণে একটি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র লক্ষ্য করে একটি হাইপারসনিক ও একটি ‘জুলফিকার’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে হুতিদের সুপ্রিম রেভল্যুশনারি কামিটির প্রধান মোহামেদ আলী আল–হুতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, তাঁরা ইসরায়েলে হামলা বন্ধ করবেন না। দেশটির ওপর হামলা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে গাজার প্রতি সমর্থন জারি রাখবেন তাঁরা।

‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে’

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। সেদিন থেকেই গাজায় হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। উপত্যকাটিতে চলমান এই সংঘাতে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন দিয়ে আসছে হুতি ও হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে প্রায়ই হামলা চালাচ্ছি তারা। পাল্টা জবাব দিচ্ছিল ইসরায়েলও। এরই মধ্যে সেপ্টেম্বর থেকে লেবাননে ব্যাপক হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে হিজবুল্লাহপ্রধান হাসান নাসরুল্লাহসহ গোষ্ঠীটির কয়েকজন নেতা নিহত হন।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে ইসরায়েলের হামলার মুখে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে হামাস ও হিজবুল্লাহ। এ ছাড়া গত ৮ ডিসেম্বর বিদ্রোহীদের অভিযানের মুখে পতন হয়েছে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের। দেশটির গদিতে তাঁকে টিকিয়ে রেখেছিল রাশিয়া ও ইরান। বাশারের পতনের কৃতিত্বও দাবি করেছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

হুতিদের ওপর ব্যাপক আকারে হামলা এখনো শুরু করেনি ইসরায়েল। গত সপ্তাহে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ইয়েমেনে হুতি–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ‘হামলা শুরু করেছে’ ইসরায়েল। এ সময় ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বিমানবন্দর, দেশটির পশ্চিম উপকূলে বিভিন্ন বন্দর ও দুটি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল তারা।

গত ২৬ ডিসেম্বর সানা বিমানবন্দরে ইসরায়েলের হামলার সময় সেখানে ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস। পরে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বিমানবন্দরে উড়োজাহাজে ওঠার সময় বোমা হামলা শুরু হয়। এতে উড়োজাহাজের এক ক্রু সদস্য আহত হন।

এদিকে সোমবারে নিরাপত্তা পরিষদে ইসরায়েল–হুতি পাল্টাপাল্টি হামলা নিয়ে কথা বলেছেন জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারি। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সামরিক সংঘাত আরও বাড়লে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে। এর ফলাফল বইতে হবে ইয়েমেন, ইসরায়েলসহ এ অঞ্চলে লাখ লাখ মানুষকে, যার কোনো শেষ থাকবে না। পাল্টাপাল্টি হামলার জন্য ইসরায়েল ও হুতি—দুই পক্ষেরই সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘের রুশ রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়াও।




হানিফ উড়ালসড়কে কামরুল হত্যাকাণ্ডে দুই কিশোর গ্রেপ্তার

রাজধানীর সায়েদাবাদে হানিফ উড়ালসড়কে কামরুল হাসান (২৩) হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে যাত্রাবাড়ীর করাতিটোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের একজনের বয়স ১৭, অন্যজনের ১৬ বছর বয়স।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত বুধবার কামরুল হাসান রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে সায়েদাবাদ এলাকায় হানিফ উড়ালসড়ক দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। তখন কয়েকজন ছিনতাইকারী তাঁর গতিরোধ করেন। এ সময় ছিনতাইকারীরা দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছে থাকা নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে চায়। তাতে বাধা দিলে একজন ছিনতাইকারী ধারালো চাকু দিয়ে কামরুলের বুকে আঘাত করে। এরপর তারা তাঁর কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন ও সাত হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে কামরুলকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় কামরুলের বাবা ইমাম হোসেন বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, গ্রেপ্তার দুজন পেশাদার ছিনতাইকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা যাত্রাবাড়ীতে হানিফ উড়ালসড়কসহ আশপাশের এলাকায় পথচারীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনতাই করত। মূলত মাদক সেবনের টাকা জোগাড়ের জন্য ছিনতাই করত।




সাভারে চলন্ত বাসে যাত্রীদের জিম্মি করে টাকা, মুঠোফোন, স্বর্ণালংকার ছিনতাই, আহত ১

ঢাকার অদূরে সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলন্ত বাসে যাত্রীদের জিম্মি করে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। একদল ছিনতাইকারী বাসে উঠে ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করে টাকা, মুঠোফোন ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ছিনতাইকারীদের বাধা দিতে গিয়ে এক যাত্রী ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সাভারের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) সামনে থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলসংলগ্ন ফটক এলাকা পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীদের ছুরির আঘাতে আহত মো. শামীম হোসাইনকে (৩০) সাভারের বেসরকারি এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনি আশুলিয়ার শ্রীপুর নতুননগর এলাকার বাসিন্দা।

বাসের যাত্রী ও বাসের মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলের দিকে ওয়েলকাম ব্যানারের যাত্রীবাহী একটি বাস ঢাকার মতিঝিল থেকে চন্দ্রার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাসটি সাভারে বিপিএটিসির সামনে পৌঁছালে ৩-৪ জনের ছিনতাইকারী দল বাসে ওঠে। তারা ধারালো দেশীয় অস্ত্র ঠেকিয়ে কয়েকজনকে জিম্মি করে। পরে বাসে থাকা ১৫-২০ জন যাত্রীর কাছ থেকে টাকা, মুঠোফোন ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। কয়েকজন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের মারধরসহ একজনকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে ছিনতাইকারী দলটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলসংলগ্ন ফটকের সামনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে গতিরোধকে (স্পিড ব্রেকার) নেমে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে পৌঁছানোর পর কয়েকজন শিক্ষার্থী বাসটি থামিয়ে চালক ও চালকের সহকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে বাসটি বিশমাইল এলাকায় নিয়ে যান তাঁরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসসহ বাসের চালক ও চালকের সহকারীকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
এদিকে ছুরিকাঘাতে আহত বাসযাত্রী মো. শামীম হোসাইনকে প্রথমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাঁকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ওই হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসান মাহবুব বলেন, শামীম নামে ছুরিকাঘাতে আহত একজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাঁর শরীরে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

বাসটিতে থাকা হারুন অর রশিদ নামের এক যাত্রী বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাসটি সাভার রেডিও কলোনি এলাকা পার হওয়ার পর তিন যুবক ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে বাসের যাত্রীদের জিম্মি করে। প্রথমে তারা বাসের সামনের দিকের সিটে বসে থাকা এক যাত্রীকে ছুরিকাঘাত করে। পরে সব যাত্রীর কাছ থেকে টাকাপয়সা ও মালামাল লুট করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওয়েলকাম পরিবহনের এক প্রতিনিধি বলেন, সাভারের বিপিএটিসির সামনে থেকে ৩-৪ জন ছোট আকারের চাকু নিয়ে বাসে ওঠে। এরপর তারা বাসের এক শিশুর গলায় চাকু ধরে। তাদের বয়স ২৫-৩০ বছরের মধ্যে।

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক অলোক কুমার দে বলেন, যাত্রীরা জানিয়েছেন, বিপিএটিসি এলাকা থেকে কয়েকজন ছিনতাইকারী বাসে উঠে কয়েকজনকে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ছিনতাই শেষে দ্রুত বাস থেকে নেমে যায়। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাসসহ চালককে আটক করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর বেশ কয়েকজন যাত্রী ঘটনার বর্ণনা দেন। ঘটনাটি সাভার মডেল থানা এলাকায় হওয়ায় ভুক্তভোগীদের সাভার মডেল থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া বলেন, তাঁদের একটি দল বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।




সাকিব-ম্যাথুস এবার সতীর্থ: ‘টাইমড আউট’-এর স্মৃতি এবং নিয়তির খেয়াল

কারণ, সরাসরি চুক্তিতে দুজনকে আগেই দলে ভিড়িয়েছে চিটাগং কিংস। তখনই হয়তো কারও কারও মনে গত বছর নভেম্বরে দিল্লির সেই ঘটনা উঁকি দিয়েছে। গতকাল প্লেয়ার্স ড্রাফটের পর চট্টগ্রাম কিংসের ২০ সদস্যের খেলোয়াড় তালিকা দেখেও কেউ কেউ হয়তো ফিরে গিয়েছেন দিল্লির সেই বিকেলে। সাকিব আল হাসান, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস…ব্যস, আর কিছু লাগে!

পরে এ নিয়ে কত বিতর্ক হলো, কত কথা হলো! নিয়মের বইপত্রও খুলে দেখা হলো। জানা গেল, সাকিব নিয়মের ভেতরে থেকেই ম্যাথুসকে ‘কাঁটা’ ফুটিয়েছেন। লঙ্কানদের মধ্যে সাক্ষরতার হার প্রায় শতভাগ। তবে কোনো জাতি কতটা প্রতিশোধপরায়ণ তা নির্ণয়ের কোনো যন্ত্রপাতি এখনো আবিষ্কার হয়নি। তাই লঙ্কানদের মধ্যে এই ধারা কতটা, তা বলা না গেলেও চিত্র দেখে আন্দাজ তো করে নেওয়া যায়। এ বছর মার্চেই বাংলাদেশ সফরে এসে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের পর
সেই চিত্র যে খুব একটা দৃষ্টিসুখকর ছিল না, তা বোঝেন লঙ্কানরাও। কিংসকে তাই লঙ্কানরা ধন্যবাদ জানাতেই পারেন। কারণ, ম্যাথুসের পথে সাকিবকে যে এখন ‘ফুল’ বিছিয়ে রাখতে হবে!
ব্যাপারটা পুরোপুরি এমন না হলেও খুব দূরবর্তী ভাবনাও নয়। কিংস দুজনকেই দলে টেনেছে। অর্থাৎ ৩০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া বিপিএলে সতীর্থ হিসেবে খেলবেন সাকিব ও ম্যাথুস। যেহেতু সতীর্থ, তাই বিপিএলে অন্তত ম্যাথুসকে ‘টাইমড আউট’ করার সুযোগটা সাকিব পাচ্ছেন না। উল্টো, ম্যাথুস এমন কিছুর শিকার হলে সাকিবকে তাঁর হয়ে গলা ফাটাতে হবে। শুধু তা–ই নয়, সাকিব চাইলে কিছু বিষয় আগে থেকে ভেবেও রাখতে পারেন।
সাকিব ও ম্যাথুস—দুজনেই অলরাউন্ডার। ব্যাটিং পজিশনও তাই কাছাকাছি হবে। অর্থাৎ দুজনের একসঙ্গে ব্যাটিং করার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তো, সাকিব তাঁর আগে নামলে পকেটে করে হেলমেটের অতিরিক্ত একটি স্ট্র্যাপ নিয়ে যেতে পারেন। কারণ, ম্যাথুস যেহেতু পরে নামবেন, তাঁর এটা লাগতে পারে। কিংবা সাকিব ক্রিজে থাকতে অন্য প্রান্তের ব্যাটসম্যান আউট হওয়ার পর তিনি দৌড়ে একটু এগিয়ে গিয়ে (অবশ্যই মাঠের সীমানার ভেতরে থাকতে হবে) ম্যাথুসকে ডাকতে পারেন, ‘ম্যাথুস, ম্যাথুস ডাক পাড়ি, টাইমড আউটের নেই বেশি (সময়) বাকি!’

২০২৩ সালের ৬ নভেম্বর ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেই ম্যাচে আগে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল শ্রীলঙ্কা। অধিনায়ক সাকিবের করা ২৪.২ ওভারে সাদিরা সামারাবিক্রমা আউট হওয়ার পর নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে এসেছিলেন ম্যাথুস। ক্রিজে দাঁড়িয়ে টের পেলেন, তাঁর হেলমেটের স্ট্র্যাপে (ফিতা) কোনো একটা সমস্যা, সম্ভবত ছেঁড়া ছিল। ড্রেসিংরুমে ইশারা করলেন নতুন হেলমেটের জন্য। অতিরিক্ত খেলোয়াড়ের মাধ্যমে নতুন হেলমেট আনতে কিছুটা দেরি হলো। তখন ম্যাথুসকে ‘টাইমড আউট’–এর আবেদন করেছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব। আইনসিদ্ধ হওয়ায় মাঠের আম্পায়ার আবেদন মেনে নিয়ে ম্যাথুসকে আউট ঘোষণা করেন। জন্ম হয় নতুন ইতিহাস ও বিতর্কের।

ম্যাথুস হলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ‘টাইমড আউট’ হওয়া ব্যাটসম্যান, আর ক্রিকেট–বিশ্বে বিভক্ত হলো ‘স্পিরিট অব দ্য গেম’ নিয়ে। অর্থাৎ সাকিবের আচরণ খেলোয়াড়সুলভ ছিল কি না, এই প্রশ্নে বিভক্তি দেখা গিয়েছিল।

কিন্তু এখন বিভক্তি নয়, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিপক্ষকে ‘টাইমড আউট’ করার সময়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ম্যাথুস যেহেতু প্রথম ‘টাইমড আউট’ হওয়া ব্যাটসম্যান, আর সাকিবও এই আউটের আবেদন করে সফল হওয়া প্রথম অধিনায়ক (ক্রিকেটার)—তাই ‘টাইমড আউট’ কীভাবে হয় কিংবা কখন এই আউটের আবেদন করতে হবে, তা সাকিব-ম্যাথুসের চেয়ে ভালো জানবেন কে! অর্থাৎ বিপিএলে এই দুই ক্রিকেটারকে মিলেমিশে প্রতিপক্ষকে টাইমড আউট করতে দেখলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। লঙ্কানরাও এমন কিছু দেখলে নিশ্চয়ই শান্তি পাবেন।




ভিনিসিয়ুসকে নয়, বর্ষসেরা ফুটবলার হিসেবে বেবেতো–বুনোচ্চি–লামরা সেই রদ্রিকেই বেছে নিলেন

এবারের ব্যালন ডি’অরে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়ে রীতিমতো তুলকালাম হয়ে গেছে। পুরস্কার ঘোষণার মাসখানেক আগে থেকেই ইউরোপিয়ান সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রই হচ্ছেন বর্ষসেরা ফুটবলার।

রিয়াল মাদ্রিদও নিজেদের খেলোয়াড়ের ব্যালন ডি’অর জয় উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলেছিল। কিন্তু পুরস্কার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে থেকে বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট।

রদ্রির ব্যালন ডি’অর জয়ের খবর সামনে আসার পর রিয়াল কর্তৃপক্ষ নিজেদের প্যারিস সফরও বাতিল করে দেয়।

তবে এর মধ্যেই রিয়ালকে আরেকবার হতাশাজনক খবর দিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। ব্যালন ডি’অরের মতো তারাও বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচন করেছে রদ্রিকেই।

গার্ডিয়ানের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন দেশের ২৩ সাবেক ফুটবলার। যে তালিকায় ইতালির কিংবদন্তি ডিফেন্ডার লিওনার্দো বোনুচ্চি, জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ফিলিপ লাম এবং ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী তারকা বেবেতোও আছেন।

কোচদের মধ্যে নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় ছিলেন গ্যালাতাসারাইয়ের কোচ ওকান বুরুক, আইসল্যান্ডের আফতুরেল্ডিং ক্লাবের কোচ মাগনাস মার এইনারসন এবং ব্রাজিলের ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের সহকারী কোচ ক্লেবের জাভিয়ার। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের শতাধিক সাংবাদিকও নিজেদের মত দিয়েছেন খেলোয়াড় নির্বাচনে।

খেলোয়াড় নির্বাচনে প্রত্যেক বিচারকের পছন্দের ক্রমের এক নম্বর খেলোয়াড় পেয়েছেন ৪০ পয়েন্ট করে এবং দ্বিতীয় পছন্দের খেলোয়াড় ৩৯ পয়েন্ট। এভাবে ৪০ নম্বর খেলোয়াড়টি পেয়েছেন ১ পয়েন্ট। এরপর সব ভোট এক করে একটি স্কোর নির্ধারণ করা হয়।

এবারের ভোটিংয়ে রদ্রি পেয়েছেন ৭৪৯৫ পয়েন্ট, আর রদ্রি পেয়েছেন ৭৪২৭ পয়েন্ট। অর্থাৎ রদ্রি শেষ পর্যন্ত জিতেছেন ৬৮ পয়েন্টের ব্যবধানে। যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ৯২ জন সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বেছে নিয়েছেন রদ্রিকে। আর ৭২ জনের প্রথম পছন্দ ছিলেন ভিনিসিয়ুস।

ব্যালন ডি’অরের সঙ্গে শীর্ষ দুইয়ে মিল থাকলেও পরবর্তী স্থানগুলোয় কিছু অদল–বদল এসেছে। ব্যালন ডি’অরে তৃতীয় হয়েছেন জুড বেলিংহাম। যিনি গার্ডিয়ানের তালিকায় নেমে গেছেন পাঁচ নম্বরে। আর ব্যালন ডি’অরে পাঁচে থাকা হলান্ড গার্ডিয়ানে আছেন তিন নম্বরে।

 




অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও ব্র্যাড পিটের বিচ্ছেদ নিয়ে সমঝোতা

আট বছরের আইনি লড়াইয়ের পর সমঝোতায় এসেছেন হলিউড তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও ব্র্যাড পিট। জোলির আইনজীবী বলছেন, এর মধ্য হলিউডের আলোচিত এই বিচ্ছেদ নিয়ে জটিলতার অবসান ঘটেছে।

২০১৬ সালে আদালতে বিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন জোলি। তবে বিচ্ছেদপরবর্তী সন্তানের অভিভাবকত্ব, সম্পত্তির ভাগাভাগিসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ লেগে ছিল।

ফলে বিচ্ছেদপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়েছে। অবশেষে আট বছর পর এসে মতৈক্যে পৌঁছেছেন জোলি ও পিট। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বিচ্ছেদ এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা।

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি আর ব্র্যাড পিটের প্রথম পরিচয় ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস স্মিথ’ সিনেমার সেটে।

৯ বছর একসঙ্গে থাকার পর ২০১৪ সালে বিয়ে করেন ব্র্যাড-জোলি। এর দুই বছর পর ২০১৬ সালে বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন তাঁরা। এই দম্পতির সংসারে ৬ সন্তান। ২১ বছরের ম্যাডক্স, ১৯ বছরের প্যাক্স, ১৮ বছরের জাহারা, ১৭ বছরের শিলো এবং ১৪ বছরের যমজ ভিভিয়েন ও নক্স।




ভিন্ন পরিচয়ে রিচি

অভিনয়ে থাকলেও ঠিক আগের সেই ব্যস্ততা নেই রিচির। এই অভিনয়শিল্পী আগের মতো অভিনয়ে ব্যস্ত হতেও চান না। তাই তো খুব ভেবেচিন্তে এখন নতুন কাজে যুক্ত হন। বেশির ভাগ সময় তাঁর ব্যস্ততা সংসার ও সন্তান নিয়ে। এর মধ্যে জানা গেল, ভিন্ন এক পরিচয়ে সবার সামনে এলেন তিনি। সেই পরিচয় প্রতিষ্ঠিত করতে সেখানেই বেশি সময় দিতে চান রিচি। জানালেন, সময় যদি না দেন, তাহলে উদ্যোক্তা হতে পারবেন না।

ঢাকার উত্তরায় রিচি সোলায়মান চালু করেছেন একটি বিউটি স্যালুন। উত্তরার রবীন্দ্র সরণিতে ‘ইটারনাল বিউটি লাউঞ্জ’ নামের প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা ছিল তাঁর অনেক দিনের। এখানেই এখন সময় বেশি দেবেন বলে জানালেন এই অভিনয়শিল্পী ও মডেল। এমন একটি প্রতিষ্ঠান চালু করতে পেরে ভালো লাগছে বলেও জানালেন রিচি।

রিচি বললেন, ‘ভালো তো লাগছেই। এই ভালো লাগা কথা বা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। কারণ, আমার জীবনে আমি যখনই যে কাজটা করেছি, তা ভালোবেসেই করেছি। খুবই নিবেদিত থেকে করেছি। যখন আমি অভিনয় করেছি; আন্তরিক ও নিবেদিত থেকেই করেছি। যখন আমি মা হয়েছি, তখন বাচ্চাদের লালন–পালন ছাড়া বাকি সবকিছুই বন্ধ করে দিয়েছি। কারণ, তখন আমি খুব ভালো একজন মা হতে চেয়েছি। এখন যেহেতু অভিনয় কম করছি, ভাবলাম নতুন কিছু করি, যেটাতে আমি ব্যস্ত থাকব। একই সঙ্গে যা কিছুটা আমার কাজের সঙ্গে সম্পর্কিতও। সে জায়গা থেকে মনে হলো, আমি যদি বিউটি স্যালুনজাতীয় কিছু একটা করি, সেখানে আমি উদ্যোক্তা তো হবই, সামাজিকভাবে সমাজে কিছুটা হলেও অবদান রাখতে পারব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানে ১০ থেকে ২০ জন নারী কাজ করবেন। এই নারীরা তাঁদের পরিবারকে সাপোর্ট করবেন। এটা যত বড় হবে, ততই সবারই সুবিধা হবে। আরও বেশি কর্মসংস্থান হবে। তত বেশি পরিবারও এই প্রতিষ্ঠান দ্বারা উপকৃত হবে।’

কথায় কথায় রিচি জানালেন, অভিনয়টা যেহেতু এখন একেবারে কমিয়ে দিয়েছেন, তাই সময়টা এখানেই বেশি দিতে চান। যুক্তি হিসেবে বললেন, ‘আমার নাম যেহেতু চলে আসছে, সময় না দিলে চলবে কী করে। এখন আমি যদি অভিনয়ে সময় না দিই, তাহলে তো ভালো অভিনয় করতে পারব না। আমি যদি বাচ্চাদের সময় না দিই, ভালো মা হতে পারব না। ঠিক সেভাবে, আমি যদি এই স্যালুনে সময় না দিই, তাহলে ভালো উদ্যোক্তা হতে পারব না।’