নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে রাশিয়া, অভিযোগ মার্কিন গোয়েন্দাদের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়াসহ ‘প্রতিপক্ষ’ দেশগুলো হস্তক্ষেপের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন গোয়েন্দারা। মঙ্গলবার তারা বলেছে, ওই দেশগুলো নির্বাচন নিয়ে জনগণের আস্থা নষ্ট করতে চায়। খবর বিবিসির।

মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি, প্রতিপক্ষ দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানাভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রতিপক্ষ দেশগুলো আমেরিকানদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতে চায়।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালকের কার্যালয় ওডিএনআই এবং সাইবার ও অবকাঠামো নিরাপত্তা সংস্থা যৌথ বিবৃতিতে এই দাবি করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উস্কে দিতে নানা তৎপরতা চালাচ্ছে রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠী। ভোট কারচুপির মিথ্যা দাবি তুলে সেসব প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোট গ্রহণ শুরুর ঠিক আগে এমন অভিযোগ তুলল দেশটির অভ্যন্তরীণ এই তিন গোয়েন্দা সংস্থা।




আমি খুব আত্মবিশ্বাসী, ভোট দিয়ে বললেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন রিপাবলিকান মনোনীত প্রার্থী এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভোট দিয়ে তিনি বলেন, জয়ের ব্যাপারে আমি খুব আত্মবিশ্বাসী।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পাম বিচে ম্যান্ডেল রিক্রিয়েশন সেন্টারে ভোট দেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। খবর বিবিসির।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে  আমি খুব আত্মবিশ্বাসী। তার দাবি, এমনকি তার কাছাকাছি ভোটও কেউ পাবে না।

ট্রাম্প বলেন, আমি খুব আত্মবিশ্বাসী বোধ করছি। আমি শুনেছি, আমরা সব জায়গায় খুব ভালো করছি।

তিনি বলেন, তিনটি প্রচারণার মধ্যে এটি ছিল সেরা।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। ২৪ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন রিপাবলিকান দলীয় প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প আর ডেমোক্র্যাট দলীয় কমালা হ্যারিসের মাঝে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কানেকটিকাট, নিউ জার্সি, নিউইয়র্ক, নিউ হ্যাম্পশায়ার এবং ভার্জিনিয়াসহ আট রাজ্যের ভোটকেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সময় সকাল ৬টায়। এছাড়া দেশটির ইনডিয়ানা ও কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যেও সকাল ৬টায় ভোটকেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে। দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় কিছু রাজ্যে সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের ছোট্ট শহর ডিক্সভিল নচের একটি ভোটকেন্দ্রে মধ্যরাতে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থী কমালা হ্যারিস ও রিপাবলিকান দলীয় ডোনাল্ড ট্রাম্প সমসংখ্যক ভোট পেয়েছেন।




ট্রাম্প ১৬২ ও কমলা পেয়েছেন ৬২ ইলেকটোরাল কলেজ ভোট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পর ধীরে ধীরে ফলাফল আসতে শুরু করছে। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলো অঙ্গরাজ্য-ভিত্তিক ফলাফল ঘোষণা করছে। ফলাফলের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডায় এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমালা হ্যারিস ম্যাসাচুসেটসে জয়ী হয়েছেন।

বুধবার এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও ভয়েস অব আমেরিকা। ফলে ১৬২টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন ট্রাম্প। আর কমালা হ্যারিস পেয়েছেন ৬২টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট।

মূলত এখন পর্যন্ত ফলাফলে কোনো অঘটন ঘটেনি। দেশটির অঙ্গরাজ্যেগুলোতে যা ফলাফল দেখা যাচ্ছে, ফল সেরকম হবে বলে আগেই ধারণা করা হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিসট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ায় মোট ৫৩৮ ইলেকটোরাল কলেজ ভোট আছে এবং এর মধ্যে যে প্রার্থী ২৭০টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পাবেন তিনি নির্বাচিত বলে গণ্য হবেন। তবে গত এক বছরের জনমত জরিপ এবং অতীত নির্বাচনের আলোকে ৪৩টি অঙ্গরাজ্যের ফলাফল কী হবে তা মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে আছে।

আর সাতটি অঙ্গরাজ্যে— জর্জিয়া, উইসকনসিন, মিশিগান, পেন্সিলভানিয়া, অ্যারিজনা, নেভাদা আর নর্থ ক্যারলাইনায় কে জিতবে, তা নিশ্চিত ছিল না। এই রাজ্যেগুলোকে ‘সুইং স্টেট’ বলা হয় এবং সেখানে মোট ৯৩টি ইলেক্টরাল ভোট আছে।

অর্থাৎ, নির্বাচনে জয়ের জন্য একজন প্রার্থীকে এই সাতটি সুইং স্টেটের অন্তত চারটিতে জয়লাভ করতে হবে।




নিউজিল্যান্ড: হিসাবে রাখতেই হবে

বিশ্ব আসরে ‘ডার্ক হর্স’ তকমা নিউজিল্যান্ডের জন্য অপরিচিত নয়। কিন্তু দিন শেষে সবচেয়ে ধারাবাহিক দলগুলোর ছোট তালিকাতেই থাকে তারা। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপও ব্যতিক্রম নয়। শুধু ট্রফিটাই ছুঁয়ে দেখা হয়নি তাদের। সর্বশেষ তিনটি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলা একমাত্র দল নিউজিল্যান্ড। এর মধ্যে ২০২১ সালে ফিরতে হয়েছে রানার্সআপ হয়ে। সেটাই এখন পর্যন্ত দলটির সেরা অর্জন।

এবারও ফেবারিট তকমা হয়তো সেভাবে নেই, তবে ভারসাম্যপূর্ণ দলটিকে কেউ হিসাবের বাইরে রাখতে চাইবেন না। নিউজিল্যান্ডের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে চারটি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন উইলিয়ামসন। চোট, বিশ্রাম আর পিতৃত্বকালীন ছুটি মিলিয়ে অবশ্য দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টি থেকে দূরে ছিলেন। ২০২২ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর নিউজিল্যান্ডের প্রথম ৩৫টি টি–টোয়েন্টির মধ্যে মাত্র দুটিতে খেলেছিলেন উইলিয়ামসন।

দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিউই নির্বাচকেরা যে অভিজ্ঞতাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন, সেটা সর্বশেষ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সঙ্গে এবারের দলটিকে মেলালেই বোঝা যায়। গত আসরের দল থেকে বাদ পড়েছেন মাত্র দুজন—মার্টিন গাপটিল আর অ্যাডাম মি। তাঁদের জায়গায় সুযোগ পাওয়া রাচিন রবীন্দ্র ও ম্যাট হেনরির এটাই হতে চলেছে প্রথম টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।

১৫ সদস্যের দলে সবচেয়ে অভিজ্ঞ টিম সাউদি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক সাউদি খেলবেন সপ্তম টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। অন্যদিকে সাউদির দীর্ঘদিনের বোলিং সঙ্গী ট্রেন্ট বোল্টের এটি হবে পঞ্চম টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সাউদি–বোল্ট জুটির সঙ্গে লকি ফার্গুসন ও ম্যাট হেনরিকে নিয়ে গড়া পেস আক্রমণ যেকোনো দলকে ঝামেলায় ফেলতে পারে। দুই পেস বোলিং অলরাউন্ডার জিমি নিশাম ও ড্যারিল মিচেলও ক্যারিবীয় কন্ডিশনে কার্যকরী হতে পারেন।

স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার মিচেল স্যান্টনার ও গ্লেন ফিলিপসও বেশ ধারাবাহিক। ছন্দে আছেন লেগ স্পিনার ইশ সোধিও। চোটের কারণে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ মিস করা আরেক স্পিন অলরাউন্ডার মাইকেল ব্রেসওয়েলও দলে ফিরেছেন। শীর্ষ সারির ক্রিকেটাররা আইপিএলে ব্যস্ত থাকায় গত এপ্রিলে পাকিস্তান সফরে যায় দ্বিতীয় সারির দল, তাতে নেতৃত্ব দেন ব্রেসওয়েলই। পূর্ণ শক্তির পাকিস্তানের বিপক্ষে সে সিরিজ ড্র করে নিউজিল্যান্ড।

ব্যাটিং লাইনআপও বেশ শক্তিশালী। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে উড়ন্ত শুরু এনে দিতে পারেন ফিন অ্যালেন। রবীন্দ্রও পাওয়ারপ্লের সুবিধা কাজে লাগিয়ে দ্রুত রান তুলতে পারেন। চোটের কারণে আইপিএল মিস করা ডেভন কনওয়ে ফিরবেন বিশ্বকাপ দিয়ে। দলের প্রথম পছন্দের উইকেটকিপারও কনওয়ে। টপ অর্ডার ব্যর্থ হলে মিডল অর্ডারে দলের হাল ধরতে আছেন উইলিয়ামসন ও মিচেল। শেষ দিকে মার্ক চ্যাপম্যান, ফিলিপস, নিশামরা বদলে দিতে পারেন ম্যাচের গতিপথ। সাম্প্রতিক সময়ে ফিনিশারের ভূমিকায় দারুণ করেছেন চ্যাপম্যান, যা নিউজিল্যান্ডের জন্য বাড়তি পাওনা।




লিফটের দরজা খুলে পা বাড়াতেই সব ফাঁকা

লিফটে উঠতে গিয়ে সাততলা থেকে নিচে পড়ে আব্দুল্লাহ সাগর (৫৫) নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি চারুকলা অনুষদের ডিন অফিসের জ্যেষ্ঠ সহকারী হিসাব পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শুক্রবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোকারম ভবনে এ ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হলে দুপুরে তিনি মারা যান।

আব্দুল্লাহর বাড়ি গাজীপুরের গাছা থানার কলেমশ্বর গ্রামের। স্ত্রী ও তিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে গাজীপুরেই থাকতেন তিনি। সেখান থেকে নিয়মিত কর্মস্থলে আসা-যাওয়া করতেন।

চারুকলা বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার আলম ফারুক জানান, শুক্রবার কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ছিল। ছাত্রছাত্রীদের সিট পড়েছিল মোকারম ভবনে। সেখানে কাজে গিয়েছিলেন আব্দুল্লাহ। ওই ভবনের লিফট অনেক পুরোনো, যা হাত দিয়ে টেনে খুলতে হয়। তিনি সাততলায় লিফটের দরজা হাত দিয়ে টেনে খুলে ভেতরে ঢোকেন, কিন্তু সে সময় লিফটের ফ্লোর না আসায় নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, আব্দুল্লাহ সাততলায় ছিলেন। লিফট আসার আগেই দরজা খুলে ঢুকে পড়ায় নিচে পড়ে যান। ঢাকার শাহবাগ থানার ওসি মোহাম্মদ খালিদ মুনসুর বলেন, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।




শ্যামপুরে বাসায় জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৩

রাজধানীর শ্যামপুরে একটি বাসায় জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণে ৩ জন দগ্ধ হয়েছেন। তাদেরকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে বিস্ফোরণের এ ঘটনা ঘটে। পরে ভোর ৫টার দিকে তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

দগ্ধরা হলেন- মো. জামাল উদ্দিন (৫০), মো. জামিল হোসেন (২৫) ও মোহাম্মদ তুষার (৩৫)।

জামিলের বাবা ইকবাল জানান, সাততলা ভবনের উপরের তলায় তারা তিনজন একটি রুমে কথা বলছিল। জামাল সিগারেট ধরানোর জন্য লাইটার জ্বালালে হঠাৎ রুমে বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ধরে যায়। পরে তাদের উদ্ধার করে শেখ হাসিনা বার্নে নিয়ে আসা হয়।

তিনজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক জানিয়ে বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. তরিকুল ইসলাম জানান, জামালের শরীরে ৭৫ শতাংশ, জামিলের ৫৫ শতাংশ ও তুষারের ১০০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।




সাবেক মন্ত্রী সাধন চন্দ্র গ্রেপ্তার

সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও নওগাঁ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাধন চন্দ্র মজুমদারকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাধন চন্দ্র মজুমদারের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। সেসব মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।




৬৯ বছর বয়সে এফ–১৬ যুদ্ধবিমান চালিয়ে রতন টাটা বলেছিলেন, ‘দারুণ’

তিনি একজন লাইসেন্সধারী পাইলট। ২০০৭ সালে লকহেড মার্টিনের এফ–১৬ যুদ্ধবিমান চালান তিনি। এর মধ্য দিয়ে তিনি অনন্য কীর্তি গড়েন। কেননা তখন তাঁর বয়স ৬৯ বছর। প্রথম বেসামরিক ভারতীয় হিসেবে এফ–১৬ চালানোর অভিজ্ঞতা হয় তাঁর। নেমে আসার পর অনুভূতি জানাতে গিয়ে রতন টাটা বলেছিলেন, ‘এটা দারুণ ছিল।’

বলছি রতন টাটার কথা। ভারতের বিশ্ববিখ্যাত শিল্পপতিদের একজন রতন টাটা। দেশটির অন্যতম বৃহত্তম শিল্পপ্রতিষ্ঠান টাটা গ্রুপের ইমেরিটাস চেয়ারম্যান। ভারতের মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বুধবার তিনি মারা যান। বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

টাটা শিল্পগোষ্ঠী ১৫৫ বছরের পুরোনো। দুই দশকের বেশি সময় ধরে এই শিল্পগোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিয়েছেন রতন টাটা। টাটা গ্রুপের রয়েছে শতাধিক কোম্পানি। কর্মী ৬ লাখ ৬০ হাজারের বেশি। কাজ চলে শতাধিক দেশে। শিল্পগোষ্ঠীটির বার্ষিক রাজস্ব আয় ১০ হাজার কোটি (১০০ বিলিয়ন) ডলারের বেশি।

২০০৭ সালে বেঙ্গালুরুতে ফ্যালকন মডেলের এফ–১৬ যুদ্ধবিমানের ককপিটে বসেন ৬৯ বছরের রতন টাটা। তিনি ছিলেন সহপাইলটের আসনে। যুদ্ধবিমানটি পরিচালনার মূল ভার ছিল পাইলট পল হ্যাটেনড্রফের হাতে। এফ–১৬ যুদ্ধবিমানের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি।

ভারতীয় এই শিল্পপতি এফ–১৬ যুদ্ধবিমান নিয়ে আকাশে প্রায় ৪০ মিনিট অবস্থান করেন। মধ্য আকাশে যুদ্ধবিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন। তিনি সবচেয়ে বয়স্ক ভারতীয়, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের নির্মিত কোনো যুদ্ধবিমান পরিচালনা করেন।

এ ঘটনার বছর দশেক পর টাটা গ্রুপ এফ–১৬ যুদ্ধবিমানের প্রস্তুতকারী মার্কিন প্রতিষ্ঠান লকহেড মার্টিনের সঙ্গে একটি মাইলফলক চুক্তি করে। চুক্তির আওতায় ভারতে এফ–১৬ যুদ্ধবিমান নির্মাণের পথ উন্মুক্ত করেন রতন টাটা।

 




যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ‘সেভেন সিস্টার্স’

‘সেভেন সিস্টার্স’ শব্দযুগলের উপস্থিতি পাওয়া যায় গ্রিক মিথলজিতে, ব্যবহৃত হয় টাইটান আটলাস আর ওশেনিড প্লিওনের সাত মেয়েকে বোঝাতে।

‘সেভেন সিস্টার্স’ শব্দযুগলের সঙ্গে পাঠকদের পরিচয় মূলত ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের রাজ্যগুলোকে কেন্দ্র করে।

এসব রাষ্ট্রের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও জনমিতি বিবেচনায় প্রথম ‘সেভেন সিস্টার্স’ শব্দযুগল ব্যবহার করেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সেভেন সিস্টার্স হিসেবে বোঝানো হয় সাতটি কলেজকে। বার্নাড কলেজ, স্মিথ কলেজ, ব্রায়ান মওর কলেজ, র‍্যাডক্লিফ কলেজ, ভাসার কলেজ, ওয়েসলি কলেজ ও মাউন্ট হলৌক কলেজকে একত্রে বলা হয় ‘সেভেন সিস্টার্স’।

নারীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে উচ্চশিক্ষার পথ খুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এসব কলেজ। আজকের লেখায় ‘সেভেন সিস্টার্স’ বলতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের সাতটি ‘সুইং স্টেট’ নিয়েই আলোচনা হবে।




রিসেট বাটন’ চাপার ব্যাখ্যা দিল প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

সম্প্রতি ভয়েস অব আমেরিকাকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেওয়া সাক্ষাৎকার ঘিরে কেউ কেউ ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। ‘রিসেট বাটন’ চাপার কথা বলে তিনি কখনোই বাংলাদেশের গর্বিত ইতিহাস মুছে ফেলার কথা বলেননি। আজ বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ড. ইউনূস ‘রিসেট বাটন’ চাপার কথাটি উল্লেখ করে দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতি, যা বাংলাদেশের সব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে, অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে এবং কোটি মানুষের ভোটাধিকার ও নাগরিক অধিকার হরণ করেছে, সেটি থেকে বের হয়ে এসে নতুনভাবে শুরু করার কথা বুঝিয়েছেন। তিনি কখনোই বাংলাদেশের গর্বিত ইতিহাস মুছে ফেলার কথা বলেননি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এখানে উল্লেখ্য, কেউ যখন কোনো ডিভাইসে রিসেট বোতাম চাপেন, তখন তিনি নতুন করে ডিভাইসটি চালু করতে সফটওয়্যার সেট করেন। এতে হার্ডওয়্যার পরিবর্তন হয় না। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের হার্ডওয়্যার।

বিবৃতিতে বলা হয়, ড. ইউনূস গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিতে ঢাকায় আসার পর হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে জনগণ নেতৃত্ব দিয়েছে। এটি আমাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতা। প্রথম স্বাধীনতা ১৯৭১ সালে দেশের গৌরবময় স্বাধীনতাযুদ্ধ।

বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭১ সালে অধ্যাপক ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের মিডল টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই তিনি বাংলাদেশ সিটিজেনস কমিটি গঠন করেন। বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে মার্কিন সরকারকে রাজি করানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী প্রচার শুরু করেন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যা সম্পর্কে বিশ্বকে অবহিত করার জন্য তিনি বাংলাদেশ নিউজলেটার প্রকাশ করেছিলেন।