আপনি আমাদের দিলারা আপা, আপনিই নায়িকা’

লালগালিচায় একটু মন খারাপ করেই পা রাখলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী দিলারা জামান। ছবি তোলার কথা বলতেই কিছুটা নিচু স্বরে বললেন, ‘আর কি আসা হবে তোমাদের অনুষ্ঠানে। আমার বয়স এখন ৮৩ বছর। বয়স তো কম হলো না।’ সঙ্গে সঙ্গে পাশ থেকে বেশ কয়েকজন বলে উঠলেন, ‘আপনি আমাদের মাঝে সব সময় আছেন। আপনি আমাদের দিলারা আপা, আপনিই নায়িকা।’

লালগালিচায় পা রাখতেই বিদ্যা সিনহা মিমকে ঘিরে ধরলেন আলোকচিত্রীরা। একের পর এক ছবির জন্য পোজ দিতে দিতে কাকে যেন খুঁজছিলেন মিম। পাশ থেকে একজনকে ডেকে নিয়ে ফটোসাংবাদিকদের উদ্দেশে বললেন, ‘এবার মায়ের সঙ্গে একটা।’ পরে মাকে নিয়েই লালগালিচায় হাঁটলেন এই অভিনেত্রী।

লালগালিচার এক পাশে একাই দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রযোজক সারা আফরীন। লালগালিচায় হাঁটার অনুরোধ আসতেই হেসে সারা বলেন, ‘আমি একা যাব না। আপনাদের “ড্রাইভার ভাই” আসুক, তার পর যাব।’ পরিচালক কামার আহমাদ সাইমন গিয়েছিলেন গাড়ি পার্ক করতে। তিনি আসার পরই তাঁরা একসঙ্গে লালগালিচায় পা রাখেন।

‘ভাই, আপনাদের ভাবি

চিত্রনায়ক মামনুন ইমন যখন লালগালিচায় হাঁটছিলেন, তখন পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন এক নারী। পরে তাঁকে ডেকে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন, ‘এটা আপনাদের ভাবি। আমাদের একসঙ্গে ছবি তোলেন।’ সবশেষে বললেন, ‘ভাই, বউয়ের সঙ্গে ছবিগুলো দিয়েন।




হতে চেয়েছিলেন ফুটবলার, হয়ে গেলেন জেমস বন্ড

‘বন্ড, জেমস বন্ড।’

ইয়ান ফ্লেমিংয়ের কালজয়ী চরিত্রের কালজয়ী সংলাপ। সিনেমার পর্দায় বেশ কয়েকজন অভিনেতাকে দেখা গেছে ব্রিটিশ সিক্রেট সার্ভিসের এই বিশ্বখ্যাত এজেন্টের চরিত্রে। কিন্তু আজ আমরা যে ভদ্রলোকের কথা বলব, তিনি বাকি সবার চেয়ে একটু আলাদা।

সিনেমার ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে জনপ্রিয় এই সংলাপ প্রথম শোনা গিয়েছিল তাঁর মুখে। লম্বায় ৬ ফুট ২, জাতে স্কটিশ। জেমস বন্ড সিনেমার যাঁরা ভক্ত, তাঁরা এরই মধ্যে চিনে ফেলেছেন ভদ্রলোককে

যাঁরা চেনেননি আরও একটু জেনে নিন, দ্য আনটাচেবলস ছবিতে অভিনয়ের জন্য ইনি চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার অস্কার জিতেছিলেন ১৯৮৭ সালে। পিপল ম্যাগাজিনের জরিপে ৬৯ বছর বয়সেও হয়েছিলেন শতাব্দীর সবচেয়ে আবেদনময়ী পুরুষ!

৯০ বছর বয়সে ২০২০ সালে পরপারে চলে যাওয়ার আগেই জেমস বন্ডের সাতটা সিনেমা ছাড়াও তিনি উপহার দিয়েছেন দ্য হান্ট ফর রেড অক্টোবর (১৯৯০), দ্য রাশা হাউস (১৯৯০), দ্য রক (১৯৯৬) ও এনট্রাপমেন্ট (১৯৯৯)-এর মতো বক্স অফিস কাঁপানো অনেক ছবি। এতক্ষণে নিশ্চয়ই ভদ্রলোকের চেহারাটা ভেসে উঠেছে চোখের সামনে? শন কনারি।

অস্কারজয়ী পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ একবার বলেছিলেন, ‘পৃথিবীর ইতিহাসে শুধু সাতজন সুপারস্টার অভিনেতা আছেন। শন কনারি তাঁদের একজন।’ এই কথার পর কনারিকে নিয়ে আর কিছু বলার থাকে না। কিন্তু তাহলে আর হঠাৎ তাঁকে নিয়ে গল্প ফাঁদা কেন! তার মানে কিছু কথা আছে।

ধরুন যদি বলি, অভিনেতা নয়; আসলে কনারির হওয়ার কথা ছিল দুর্দান্ত ফুটবলার! বিশ্বাস করবেন না জানি। তাহলে বাসবিকে সাক্ষী আনতে হবে। বাসবিকে চিনেছেন তো? ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ইউরোপিয়ান কাপ (এখনকার চ্যাম্পিয়নস লিগ) জেতানো কিংবদন্তি কোচ স্যার ম্যাট বাসবি। ইনিও স্কটিশ।

যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে, কনারির বয়স তখন ২২–২৩। ‘বনিরিগ রোজ’ নামে স্কটল্যান্ডের স্থানীয় ক্লাবে রাইট উইঙ্গার হিসেবে খেলেন। কিন্তু শখ অভিনয় করা। একটা ব্রেক খুঁজছেন সিনেমায়।

বাসবি ইউনাইটেডে বেশ কয়েকটা মৌসুম কাটিয়েছেন। তাঁর দলটা প্রথমবার ইংলিশ প্রথম বিভাগ লিগ (এখনকার প্রিমিয়ার লিগ) জেতে ১৯৫১-৫২ মৌসুমে। ১৯৫৩-৫৪ মৌসুম শুরুর আগে দলবল নিয়ে বাসবি প্রাক্‌মৌসুম সফরে গেলেন স্কটল্যান্ডে। সেই সফরেই মাঝেমধ্যে বাসবি বিকেলে বের হতেন স্থানীয় বিভিন্ন ক্লাবের খেলা দেখতে। উদ্দেশ্য, যদি হঠাৎ কাউকে চোখে লেগে যায়।




সর্বকালের সেরা ১০ ফুটবলার: কারা আছেন আইএফএফএইচএসের তালিকায়

ফুটবলে সর্বকালের সেরা কে—এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর নেই। এ নিয়ে বিতর্কও চলে আসছে যুগের পর যুগ। পেলে, ম্যারাডোনা, মেসি নাকি রোনালদো? যুক্তি, তর্ক ও বিশ্লেষণের পর বিশ্লেষণ করেও শেষ পর্যন্ত এই প্রশ্নের উত্তরে সর্বসম্মতিক্রমে কাউকে বেছে নেওয়ার উপায় নেই। পাল্টা যুক্তি ওঠেই।




অভিষেক শর্মার এক ছক্কার দাম যেভাবে ৫ লাখ রুপি

দাগ থেকে যদি ভালো কিছু হয়, তবে দাগই ভালো!

এমন মনোভাব থেকেই আইপিএলে প্রতিটি ম্যাচে মাঠের পাশে একটি গাড়ি রেখে দেয় টুর্নামেন্টের অন্যতম এক স্পনসর প্রতিষ্ঠান। ‘ছক্কা হয়ে উড়ে আসা বলের আঘাতে ভেঙে যাক গাড়ির কাচ’—মনেপ্রাণে এই চাওয়াই ছিল তাদের, সেই চাওয়া পূরণ হয়েছে। গতকাল এক ছক্কায় ভেঙেছে গাড়ির কাচ। লক্ষ্ণৌর একানায় সেই ‘দুর্ঘটনা’য় নিশ্চিত হয়েছে, স্পনসর প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে ৫ লাখ টাকা। ভারতের অনগ্রসর কোনো গ্রামে ৫ লাখ রুপির ক্রিকেট সরঞ্জাম দেবে প্রতিষ্ঠানটি।

পরশু অটল বিহারি বাজপেয়ি স্টেডিয়ামে ৫ লাখ রুপি দামের সেই ছক্কা মেরেছেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ওপেনার অভিষেক শর্মা। হায়দরাবাদ ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের ঘটনা। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু পেসার ভুবনেশ্বর কুমারের করা একটু শর্ট লেংথের বলটিকে পুল করে ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে সীমানাছাড়া করেন ভারতীয় ওপেনার। বলটি আছড়ে পড়ে গ্যালারির ঠিক পাশেই সাজানো মঞ্চে রাখা গাড়িটির উইন্ডশিল্ডে, মুহূর্তেই চুরমার সেটি।

ভারতীয় ক্রিকেটে গাড়ির কাচ ভাঙার ঘটনা নতুন কিছু নয়। গত বছর মেয়েদের প্রিমিয়ার লিগে বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ইউপি ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর অস্ট্রেলীয় তারকা এলিস পেরি ভেঙেছিলেন স্পনসর প্রতিষ্ঠানের গাড়ির কাচ।

পেরি আর অভিষেক ছক্কা মেরে গাড়ির কাচ ভেঙে নিজেরা জরিমানা দেননি। তবে আসিফ আলী ও কেভিন ও’ব্রায়েনকে ছক্কা মেরে কাচ ভেঙে আক্কেলসেলামি দিতে হয়েছিল। ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের স্থানীয় ক্রিকেটে ছক্কা মেরে আসিফ ও ও’ব্রায়েন ভেঙে ফেলেছিলেন মাঠের পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা নিজেদের গাড়ির কাচই!




সালাহর হাতে আরেকটি স্বীকৃতি, আসছে আরও

কদিন আগেই জিতেছিলেন ফুটবল রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার। এবার মোহাম্মদ সালাহ পেলেন প্রিমিয়ার লিগের বর্ষসেরার খেতাবও। আজ প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ ২০২৪-২৫ মৌসুমের জন্য সালাহকে সেরা খেলোয়াড় ঘোষণা করেছে।

প্রিমিয়ার লিগ ক্যারিয়ারে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার বর্ষসেরা হলেন সালাহ। এর আগে ২০১৭-১৮ মৌসুমে সেরার স্বীকৃতি পেয়েছিলেন তিনি। দ্বিতীয় বর্ষসেরা হয়ে ম্যানচেস্টার সিটির দাপটও ভেঙেছেন সালাহ। ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ মৌসুম বর্ষসেরা ছিলেন সিটির খেলোয়াড়েরা।

প্রিমিয়ার লিগের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ভোটাভুটিতে বর্ষসেরা হয়েছেন সালাহ। সাধারণ ফুটবল ভক্তদের পাশাপাশি একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল সেরা খেলোয়াড়ের ভোট দিয়েছেন। সালাহর সঙ্গে বর্ষসেরা হওয়ার লড়াইয়ে ছিলেন ভার্জিল ফন ডাইক, রায়ান গ্রাভেনবার্চ, মরগান গিবস-হোয়াইট, আলেক্সান্দার ইসাক, ব্রায়ান এমবুয়েমো, ডেকলান রাইস ও ক্রিস উড।

কে কত ভোট পেয়েছেন জানানো না হলেও অন্যদের  তুলনায় বড় ব্যবধানেই এগিয়ে থাকার কথা সালাহর। ৩২ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড শেষ হতে চলা মৌসুমে লিভারপুলের হয়ে গোল করেছেন ২৮টি, করিয়েছেন আরও ১৮টি। ৩৮ ম্যাচের লিগে ৪৬টি গোলে অবদান এর আগে কেউ রাখেননি।

আগামীকাল ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে মৌসুমের শেষ ম্যাচ খেলবে লিভারপুল। এই ম্যাচে সালাহ দুটি গোলে অবদান রাখতে পারলে ভেঙে দেবেন প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল-অবদানের রেকর্ড। প্রিমিয়ার লিগ ৪২ ম্যাচের থাকতে মৌসুমে ৪৭টি করে গোলে ভূমিকা রেখেছিলেন অ্যালান শিয়ারার ও অ্যান্ড্রু কোল।

এবারের প্রিমিয়ার লিগে গোল্ডেন বুট আর বর্ষসেরা প্লেমেকার জেতার পথেও আছেন সালাহ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল করা নিউক্যাসল স্ট্রাইকার আলেক্সান্দার ইসাকের চেয়ে ৫ গোলে এগিয়ে তিনি। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট করা জন মারফির চেয়ে এগিয়ে ৬ ব্যবধানে।

মৌসুমের শেষ ম্যাচে ইসাক ও মারফি ৫ ও ৬ গোলের ব্যবধান কমাতে না পারলে সালাহ হবেন প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড়, যিনি একই মৌসুমে গোল্ডেন বুট, বর্ষসেরা প্লেমেকার এবং বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতবেন।

দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটানো সালাহ এরই মধ্যে এরই মধ্যে একাধিক রেকর্ড গড়ে ফেলেছেন। ২৪৪ গোল নিয়ে তিনি এখন লিভারপুলের সর্বকালের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। প্রিমিয়ার লিগের ১১তম সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে মৌসুম শুরু করে এখন তিনি ১৮৫ গোলে পঞ্চম-সর্বোচ্চ গোলের মালিক। সামনে শুধু অ্যালান শিয়ারার (২৬০), হ্যারি কেইন (২১৩), ওয়েইন রুনি (২০৮) ও অ্যান্ড্রু কোল (১৮৭)।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিকও এখন সালাহ। পেছনে ফেলেছেন ১৮৪ গোল করা আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার সের্হিও আগুয়েরোকে। আর প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসে থিয়েরি অঁরি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, নিমাঞ্জা ভিদিচ ও কেভিন ডি ব্রুইনার মতো তাঁরও বর্ষসেরা পুরস্কার এখন দুটি। এপ্রিলে লিভারপুলের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি নবায়ন করায় সবাইকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগও থাকছে।

 




মাওবাদীদের বিরুদ্ধে বিজেপি সরকারের এই ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ কেন

ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে মাওবাদী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে দেশটির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার যে সামরিক অভিযান শুরু করেছে, তা কার্যত এক রণাঙ্গনে পরিণত হয়েছে। রাজ্যের করিগাট্টা পাহাড়ি জঙ্গলে মোতায়েন করা হয়েছে ১০ হাজারের বেশি সেনা। হেলিকপ্টারসহ তল্লাশি চলছে গভীর বনাঞ্চলে। ‘অপারেশন জিরো’ বা ‘অপারেশন কাগার’ নামে পরিচিত এই অভিযানকে মাওবাদী দমনের সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এ অভিযান সরাসরি পরিচালনা করছে ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার। তারা ছত্তিশগড়ের রাজ্য সরকার ও কেন্দ্র—উভয় স্তরেই ক্ষমতায় রয়েছে। এ বছরের শুরু থেকেই সরকার মাওবাদীদের ওপর দমন–পীড়ন জোরদার করেছে। নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০১ জন বিদ্রোহী। নিহত ব্যক্তিদের অনেকেই আদিবাসী। শুধু গত বুধবারেই মারা গেছেন ২৭ জন, যাঁদের মধ্যে মাওবাদী সংগঠনের সর্বশেষ সাধারণ সম্পাদক নম্বালা কেশবা রাও রয়েছেন।

তবে মানবাধিকার সংগঠন ও বিরোধী দলগুলো এই অভিযানে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের অভিযোগ, ‘মাওবাদী’ আখ্যায় অনেক নিরীহ আদিবাসীকেও হত্যা করা হচ্ছে। তারা সরকারের কাছে যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুসারে, ২০০০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মাওবাদী সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ১১ হাজারের বেশি মানুষ, যাঁদের মধ্যে রয়েছে সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও। এর মধ্যে নিহত বিদ্রোহীর সংখ্যা অন্তত ৬ হাজার ১৬০ জন।

মাওবাদীরা কারা, কী চায় তারা

ভারতে সশস্ত্র মাওবাদী আন্দোলনের সূচনা হয় ১৯৬৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের নকশালবাড়িতে কৃষকদের এক বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে। এই ‘নকশাল’ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন চারু মজুমদার, কানু সান্যাল প্রমুখ। তাঁদের দাবি ছিল—ভূমিহীন কৃষকদের জমি দিতে হবে এবং জমিদারদের শোষণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

এই আন্দোলন থেকেই জন্ম নেয় ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী), যারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে সশস্ত্র বিদ্রোহে বিশ্বাস করত। চীনা নেতা মাও সে–তুংয়ের বিপ্লবী দর্শন ছিল তাদের মূল অনুপ্রেরণা। তবে সময়ের সঙ্গে এই দল ভেঙে যায় বহু অংশে। মূল সিপিআই (এমএল) এখন একটি নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। তারা নির্বাচনে অংশ নেয়।

বিজেপির আগ্রাসী রণকৌশল

ছত্তিশগড়ে কংগ্রেস সরকার থাকাকালীন (২০২০-২০২৩) ১৪১ জন বিদ্রোহী নিহত হন। কিন্তু বিজেপি সরকার আসার পর ২০২৪ সালেই নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২৩ জনে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেব সাই বলছেন, ‘এখন চূড়ান্ত পর্ব চলছে, আমরা দ্রুত নকশালমুক্ত ভারতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।’

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও এই অভিযান ঘিরে নিয়মিত মাঠে যাচ্ছেন, সেনা শিবিরে রাত কাটাচ্ছেন। তাঁর ঘোষণা—২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে ভারতকে ‘নকশালমুক্ত’ করে তোলা হবে।

বর্তমানে শুধু বস্তার অঞ্চলেই রয়েছে সরকারের ৩২০টি নিরাপত্তা শিবির। শিবিরগুলোতে সব মিলিয়ে আছে প্রায় ৩০ লাখ নিরাপত্তাকর্মী। গোটা ছত্তিশগড়ে মোতায়েন রয়েছে ৬৬ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী। ড্রোন, থার্মাল ইমেজিং, উপগ্রহ-নিরীক্ষণসহ নানা আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি চলছে ঘন জঙ্গলে।

অভিযোগ: আদিবাসীদের ভুয়া এনকাউন্টারে হত্যা

তবে এ অভিযান নিয়ে সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে। ‘পিপলস ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিজ’-এর মতে, গত দেড় বছরে অন্তত ১১টি ভুয়া এনকাউন্টারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। যেমন মার্চে বিজাপুর জেলার বর্ডগা গ্রামে তিনজন বিদ্রোহীকে গুলি করে হত্যার দাবি করে পুলিশ। কিন্তু স্থানীয় লোকজন বলেন, ওই তিনজনকে রাতে তুলে নিয়ে গিয়ে পরে গুলি করে ‘মাওবাদী’ তকমা দেওয়া হয়।

২০১২ সালে সাড়েকে গুডা গ্রামে ১৭ আদিবাসী এবং ২০১৩ সালে ৮ জন আদিবাসী নিহত হন নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে। পরবর্তী তদন্তে উচ্চ আদালতের বিচারকেরা জানান, নিহত সবাই নিরপরাধ ছিলেন। অথচ আজও কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়নি।

মাওবাদীদের সক্ষমতা কি কমে আসছে

২০১১ সালে ছত্তিশগড়ের তৎকালীন পুলিশ মহাপরিদর্শক বিশ্বরঞ্জন অনুমান করেছিলেন যে বস্তার অঞ্চলে প্রায় ১০ হাজার সশস্ত্র মাওবাদী এবং ৪০ হাজার জন মিলিশিয়া সদস্য সক্রিয় ছিল। যদিও এই সংখ্যাগুলো নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা বেশ কঠিন। সেই সময় মাওবাদীরা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ভয়াবহ হামলা চালাতে সক্ষম ছিল। ২০১০ সালে তারা ছত্তিশগড়ের এক বনাঞ্চলে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ৭৬ জন আধাসামরিক সদস্যকে হত্যা করে। তিন বছর পর আরেকটি হামলায় বহু মানুষ নিহত হন, যাঁদের মধ্যে কংগ্রেস নেতাও ছিলেন।

বর্তমানে বস্তারের আইজিপি সুন্দররাজ পি জানাচ্ছেন, এখন প্রায় এক হাজার সশস্ত্র মাওবাদী এবং তাদের সঙ্গে জড়িত আরও ১৫ হাজার ব্যক্তি সক্রিয় আছেন।

মাওবাদীদের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে স্বীকার করা হয়েছে যে তাদের সদস্য সংগ্রহ কমে গেছে। ইউনিটগুলো ছোট হয়ে গেছে এবং গোলাবারুদের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। একসময় যে কেন্দ্রীয় কমিটি ও পলিটব্যুরোতে ৪০ জন সদস্য ছিল, এখন তার মধ্যে কেবল ১৮ জন মুক্ত আছেন। বাকি সবাই গ্রেপ্তার হয়েছেন বা নিহত।

ছত্তিশগড়ে মাওবাদীরা দুর্বল হয়ে পড়েছে ঠিকই, কিন্তু তারা পাশের রাজ্য মধ্যপ্রদেশে আবার প্রভাব বিস্তার করছে। মাওবাদ হচ্ছে একটি আদর্শ—একে কেবল শক্তি দিয়ে শেষ করা যাবে না। যত দিন না অর্থনৈতিক বৈষম্যহীন সমাজ গড়া যায়, তত দিন এই আদর্শ নতুনরূপে ফিরে আসতে পারে




গাজায় নৃশংসতার পর ইউরোপ কি ইসরায়েলকে পরিত্যাগ করছে

ইসরায়েলের উদারপন্থী দৈনিক হারেৎজ চলতি সপ্তাহে এক শিরোনামে স্পষ্টভাবে বলেছে: ‘কূটনৈতিক সুনামি আসছে’। এই শিরোনামে সংবাদমাধ্যমটি মূলত সতর্ক করেছে। কারণ, গাজায় ইসরায়েলের ‘চূড়ান্ত উন্মত্ততা’র বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে ইউরোপ।

চলতি সপ্তাহে নানা রূপে কূটনৈতিক আক্রমণ এসেছে, যার সবগুলো সম্পর্কে আগাম অনুমানও করা যায়নি।

গাজায় ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলের নিন্দা থেকে শুরু করে ওয়াশিংটনে দুই তরুণ ইসরায়েলি দূতাবাসকর্মীর হত্যাকাণ্ড—সব মিলিয়ে দেশটি একটি উত্তাল সপ্তাহ পার করেছে।

গত সোমবার সন্ধ্যায় যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা গাজায় ইসরায়েলের ‘ভয়াবহ’ কার্যকলাপের নিন্দা জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দেওয়ার পর থেকেই এই আক্রমণের ঢেউ ইসরায়েলের উপকূলে আছড়ে পড়তে শুরু করে।

ওই তিন দেশ সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েল যদি সামরিক অভিযান চালিয়ে যায় এবং মানবিক সহায়তার ওপর বিধিনিষেধ তুলে না নেয়, তাহলে তারা ‘আরও কঠোর পদক্ষেপ’ নিতে পারে। এ ছাড়া অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় ‘নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা’ দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে দেশগুলো।

এরপর ২৪টি দাতাদেশের একটি বিবৃতি আসে। এতে গাজার জন্য ইসরায়েল-সমর্থিত নতুন ত্রাণ সরবরাহ ব্যবস্থার নিন্দা জানানো হয়।
কিন্তু এটি ছিল কেবল শুরু।

পরদিন মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করে এবং জানায়, ২০২৩ সালের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার পথনকশা পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
এর মধ্যেই ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পশ্চিম তীরের সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব ড্যানিয়েলা ওয়েইসও ওই নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন। তিনি লুই থেরুর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র দ্য সেটলার্স-এ স্থান পেয়েছিলেন।

লন্ডনে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত তসিপি হোটোভেলিকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরে তলব করা হয়েছে—এ ধরনের পদক্ষেপ সাধারণত রাশিয়া বা ইরানের মতো দেশের প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রেই নেওয়া হয়ে থাকে।

ইসরায়েলের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তোলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কাল্লাসের বক্তব্য। তিনি বলেন, ইইউর সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদেশ ইসরায়েলের সঙ্গে ২৫ বছরের পুরোনো সহযোগিতা চুক্তি পর্যালোচনা করার পক্ষে।

 




বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মৌখিক পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেডের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (ট্রেইনি জেনারেল) পদের লিখিত পরীক্ষার ফল ও মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (ট্রেইনি জেনারেল) পদে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মধ্য থেকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন ২০০ জন।




রাজউকের ১১৮ পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিল, কারণ অনিবার্য

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) রাজস্ব খাতভুক্ত ১১৮ পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিল করা হয়েছে। গত ১২ মে প্রকাশিত রাজউকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অনিবার্য কারণবশত এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিল করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১১৮ পদে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগের লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। ওই  বছরের ১৯ অক্টোবর আবেদন শুরু হয়ে চলে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত। দেশের যেকোনো জেলার প্রার্থীরা এ নিয়োগে আবেদনের সুযোগ পেয়েছিলেন।




জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের লিখিত পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের বিভিন্ন পদের লিখিত পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। এ পরীক্ষা আগামী ৮ মার্চ ও ১৫ মার্চে অনুষ্ঠিত থেকে।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ৮ মার্চ সকাল ১০টায় ‘প্রশিক্ষক, গ্রেড-৩’ পদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বৈধ মর্মে অনুমোদিত ৮ জন প্রার্থীর বর্তমান ঠিকানায় প্রবেশপত্র পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি যাঁদের মোবাইল নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁদের কাছে এসএমএস ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী ১৫ মার্চ সকাল ১০টায় ইনস্ট্রাক্টর ও ইনস্ট্রাক্টসে পদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ইনস্ট্রাক্টর পদে ২৭ ও ইনস্ট্রাক্টসে পদে ৪ জন প্রার্থীর বর্তমান ঠিকানায় প্রবেশপত্র পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি যাঁদের মোবাইল নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁদের কাছে এসএমএস ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা প্রদান করা হয়েছে।