বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হলে সন্তান কার কাছে থাকবে?

ইসলাম ধর্মে তালাককে অপছন্দনীয় বলা হলেও তাকে ধর্মীয়ভাবে বৈধ বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। যখন স্বামী-স্ত্রীর পক্ষে আর কোনোভাবেই একত্রে থাকা সম্ভব নয় তখন তালাকের মাধ্যমে বিচ্ছেদের সুযোগ রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশে মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী স্বামী বা স্ত্রী উভয়ে তালাক দিতে পারেন। যদিও স্ত্রীর তালাক দেওয়ার ক্ষমতাকে শর্তযুক্ত রাখা হয়েছে। এই তালাক বা বিয়ে বিচ্ছেদের ফলে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয় ওই দম্পতির ঘরে কোনো সন্তান থাকলে সে। বিশেষ করে সন্তানের হেফাজত বা রক্ষণাবেক্ষণ, খরপোষ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে দেখা দেয় জটিলতা। এসব জটিলতা নিয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতে দ্বারস্থ হতে হয় অনেককে।

অভিভাবকত্ব কার:

অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন ১৮৯০ অনুযায়ী বাবা হচ্ছে সন্তানের প্রকৃত আইনগত অভিভাবক। তবে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হলে শিশুর লালন-পালনের স্বার্থে মা একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শিশু সন্তানকে জিম্মায় রাখার আইনগত অধিকারী। যদিও ওই সময়েও ভরণপোষণ বাবাকেই দিতে হবে।

সন্তানের স্বাভাবিক জিম্মাদার কে:

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ হলে স্বাভাবিকভাবে ছেলে সন্তানের ক্ষেত্রে সাত বছর এবং মেয়ে সন্তানের ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধিকাল পর্যন্ত সন্তান মায়ের জিম্মায় বা রক্ষণাবেক্ষণে থাকবে। এক্ষেত্রে বাবা আইনগত অভিভাবক হলেও মা হচ্ছে সন্তানের হেফাজতকারী বা জিম্মাদার। তবে এ সময়েও সন্তানের সঙ্গে দেখা সাক্ষাতের অধিকার বাবার থাকবে। এই সময়ের পর সন্তানদের তার বাবা চাইলে নিয়ে যেতে পারে। নির্দিষ্ট এই সময়ের পরও যদি মা সন্তানকে নিজের জিম্মায় রাখতে চান, তখন আদালতের অনুমতি নিতে হবে।

কোনো আদালতে যাবেন:

পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩ এর ৫ ধারার বিধান মোতাবেক শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান সম্পর্কিত যেকোনো মোকদ্দমা গ্রহণ, বিচার এবং নিষ্পত্তির এখতিয়ার পারিবারিক আদালতের। এ ধরনের মামলায় আদালত সন্তানের কল্যাণের জন্য যেটা সবচেয়ে ভালো, সেই বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। এক্ষত্রে আর্থিক স্বচ্ছলতা, সন্তান লালন-পালনের জন্য বাবার পরিবারে কেউ আছে কি না, মাদকাসক্ত কি না এসব বিষয়ও বিবেচনা করে থাকেন। এক্ষেত্রে অনেক সময় সম্মত হলে দুইজনের মধ্যে ভাগ করে হেফাজত দেওয়া হয়ে থাকে। হয়তো সপ্তাহে দুইদিন বাবার কাছে এবং বাকি পাঁচদিন মায়ের কাছে থাকলো, এভাবেও দেওয়া হয়। তবে যার হেফাজতেই থাকুক না কেন অপরপক্ষের সন্তানকে দেখার সময় কাটানোর সুযোগ আদালত দিয়ে থাকে। সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হলেও আইনের আশ্রয় নেওয়া যায়।

সন্তানের মতামত কি গ্রহণ করা হয়: 

হেফাজত বা জিম্মাদারি দেওয়ার ক্ষেত্রে সন্তানের মতামতের গুরুত্ব সবসময়ই থাকে। এক্ষেত্রে আদালত শিশুর মতামতও গ্রহণ করে থাকে। তবে অনেক সময় দেখা যায়, যার হেফাজতে আছে সে সন্তানকে প্রভাবিত করে বা ভয় দেখিয়ে মতামত নিতে পারে। তাই সন্তানের মতামত নেওয়ার পরও আদালত সেটি পর্যবেক্ষণ করেন। তাই মতামত বিবেচনার বিষয় হলেও শুধু শিশু সন্তানের মতামতের ওপর ভিত্তি করেই জিম্মাদারি দেওয়া হয় না। এক্ষেত্রে শিশু কার হেফাজতে থাকলে প্রকৃতপক্ষে তার অধিক কল্যাণ হবে আদালত সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেন। যেমন ভরণপোষণ বা লালন-পালনের সুবিধা-অসুবিধার বিষয়গুলোও এক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়।




দুর্নীতি, আলাদীনের চেরাগ ও প্যান্ডোরার বাক্স

আরব্য রজনীর আলাদীনের চেরাগের আধুনিক সংস্করণের নাম ক্ষমতা, যে চেরাগ জ্বালিয়ে কোনো দৈত্যের সাহায্য ছাড়াই বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক হওয়া যায়। আর যে কৌশলে এই সম্পদের মালিক হওয়া যায় তার নাম দুর্নীতি।

অর্থাৎ ক্ষমতা, দুর্নীতি ও সম্পদ এখন একে অপরের পরিপূরক।

গল্পের আলাদীন তার চেরাগে ঘষা দিলে দৈত্য এসে তাকে বলত, ‘হুকুম করুন মালিক। ’

কিন্তু বাস্তবে আলাদীনের দৈত্যের চেহারাটা ভিন্ন। এই দৈত্য কখনো প্রশাসনিক ক্ষমতা, কখনো অস্ত্রের ভয়, কখনো মামলার আসামি করে কোর্টে চালান কিংবা ক্রসফায়ারের ভয় এবং কখনো বড় কোনো সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভনরূপে আবির্ভূত হয়।

সবশেষ যার ‘আলাদীনের চেরাগ’ নিয়ে সারা দেশে তোলপাড়, তিনি সাবেক পুলিশপ্রধান ও র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। যিনি রাষ্ট্রীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারও পেয়েছেন।

২০১৩ সালে মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেওয়াসহ নানা ঘটনায় আলোচিত এই পুলিশ কর্মকর্তার যে চেহারা বা স্বরূপ দেশবাসী দেখেছে, তাতে তাঁকে বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা’ বললেও বোধ হয় ভুল হবে না। প্রশ্ন হলো, কালের কণ্ঠ গত ৩১ মার্চ ‘বেনজীরের ঘরে আলাদীনের চেরাগ’ শিরোনামে একটি দীর্ঘ অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনে এ রকম একজন দোর্দণ্ড প্রতাপশালী ব্যক্তির অঢেল সম্পদ অর্জনের যে প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দিল, সেটি কী বার্তা দিচ্ছে?

দুটি প্রশ্ন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।

১. বাংলাদেশে একটি ‘স্বাধীন’ দুর্নীতি দমন কমিশন আছে এবং তারা অনেক বড় ও মাঝারি দুর্নীতিবাজকে আইনের জালে বন্দি করেছে। অনেকের বিরুদ্ধে তদন্ত করেছে। অনেকের তদন্ত চলমান। বেনজীর আহমেদের মতো একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি, যিনি অনেক বড় ঘটনার সময় রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁর সম্পদের ব্যাপারে দুদক কোনো খোঁজখবর জানল না?

২. প্রতিবেদনে তার যে সম্পদের বিবরণ দেওয়া হয়েছে, সেটি টাকার অঙ্কে অনেক। যেমন, গোপালগঞ্জে সাভানা ইকো রিসোর্ট নামে বিলাসবহুল পর্যটনকেন্দ্র; স্ত্রী ও দুই মেয়ের নামে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ছয়টি কম্পানিতে ৫০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ; রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোয় দামি ফ্ল্যাট, বাড়ি আর ঢাকার কাছেই দামি এলাকায় বিঘার পর বিঘা জমি; দুই মেয়ের নামে বেস্ট হোল্ডিংস ও পাঁচতারা হোটেল লা মেরিডিয়ানে দুই লাখ শেয়ার; পূর্বাচলে ৪০ কাঠার সুবিশাল জায়গাজুড়ে ডুপ্লেক্স বাড়ি এবং ২২ কোটি টাকা মূল্যের আরো ১০ বিঘা জমি ইত্যাদি। প্রশ্ন হলো, বেনজীর আহমেদ এই সম্পদ কোন প্রক্রিয়ায় অর্জন করেছেন?

প্রশ্নটা এ কারণে যে একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে তাঁর সারা জীবনের যে বেতন, বোনাস ও অন্যান্য আর্থিক সুযোগ-সুবিধা এবং অবসরের পরে তিনি যে টাকা পেয়েছেন তা দিয়ে জীবনধারণের পরে যে টাকা উদ্বৃত্ত থাকার কথা, সেই টাকা দিয়ে ঢাকা শহরে একটি ছোটখাটো বাড়ি কেনাও অসম্ভব। অথচ গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে তাঁর যে সম্পদের বিবরণ পাওয়া যাচ্ছে, তা তাঁর সারা জীবনের আয়ের কয়েক শ বা কয়েক হাজার গুণ বেশি।

এই টাকা তিনি কোথায় পেলেন বা কোন প্রক্রিয়ায় অর্জন করলেন?

মোটা দাগে তিনটি উপায়ে ধনী হওয়া যায়।

১. পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত বিপুল সম্পদ।

২. বড় ব্যবসা।

৩. দুর্নীতি।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় যত বড় এবং যত উচ্চ বেতনের সরকারি চাকরিই হোক না কেন, তাতে কারো পক্ষে ঢাকা শহরে দুই-তিন কোটি টাকা দিয়ে একটি ফ্ল্যাটের মালিক হওয়াও কঠিন, যদি মোটা অঙ্কের ব্যাংক লোন না থাকে। শুধু বেতনের পয়সায় জীবন ধারণের পরে একজন সরকারি চাকরিজীবীর অনেক বেশি টাকা সঞ্চয় করার কোনো সুযোগ নেই। অথচ তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির অনেক কর্মচারী ঢাকা শহরে একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, গাড়ি, ঢাকার কাছেই রিসোর্ট, গ্রামের বাড়িতে সুরম্য দালান, বিঘার পর বিঘা ফসলের জমির মালিক হয়েছেন—এ রকম অনেক খবর গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে। অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। কারাগারে আছেন। আবার অনেকে খবরের পাতা থেকেও হারিয়ে গেছেন। এর বাইরে আরো অসংখ্য লোক এখনো আলাদীনের চেরাগ অর্থাৎ ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতি করে বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক হচ্ছেন।

সুতরাং বেনজীর আহমেদের এই ঘটনাটি খুব নতুন কিংবা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই। এটি দুর্নীতিগ্রস্ত অর্থনীতির একটি ছোট্ট কেস স্টাডি মাত্র। তবে আর ১০টি ঘটনার সঙ্গে এর মৌলিক পার্থক্য হলো, বেনজীর আহমেদ যে পরিমাণ প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং এই সময়ের সাংবাদিকতায় যেখানে ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের দুর্নীতি ও অপরাধ পারতপক্ষে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়, সেখানে কালের কণ্ঠ যে প্যান্ডোরার বাক্সটি খুলে দিল কিংবা দিতে পারল, এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

‘দেশে সাংবাদিকতা নেই’ বা ‘অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা হয় না’ বলে যাদের মন খারাপ, তাদের জন্য এ ধরনের প্রতিবেদন আশার সঞ্চার করে। সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে যখন ঘরে ঘরে সাংবাদিক, যখন ইউটিউবের কনটেন্ট ক্রিয়েটররাও নিজেদের সাংবাদিক দাবি করেন এবং যখন সোশ্যাল মিডিয়ার কাছে মূল ধারার গণমাধ্যম হেরে যাচ্ছে বলে মনে হয়, তখন এ ধরনের সাংবাদিকতা শুধু একটি-দুটি পত্রিকা বা টেলিভিশন চ্যানেল নয়, বরং পুরো গণমাধ্যম সম্পর্কেই জনপরিসরে বিদ্যমান নেতিবাচক ধারণায় কিছুটা হলেও আঘাত করে। এ ধরনের সাংবাদিকতায় ঝুঁকি অনেক বেশি। কিন্তু এর প্রয়োজনীয়তা আরো বেশি।

প্রতিবেদনের দুর্বল জায়গা হলো অভিযুক্তের বক্তব্য নেই। যদিও এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে বেনজীর আহমেদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। খুদে বার্তায়ও সাড়া দেননি। এসব ক্ষেত্রে সাধারণত দুটি ঘটনা ঘটে। ১. অভিযুক্ত ব্যক্তি সাংবাদিকের ফোনে সাড়া দেন না অথবা ২. কোনো কোনো খবরে লেখা হয়, অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা অস্বীকার করেন অথবা অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি মিথ্যা ও অপপ্রচার বলে দাবি করেন। অতএব, এ ধরনের দায়সারা বক্তব্য আখেরে খুব বেশি কার্যকর না হলেও সাংবাদিকতার নীতিমালা ও কাঠামোর প্রয়োজনে অভিযুক্তের বক্তব্য প্রয়োজন হয়।

এই ধরনের দুর্নীতির খবর দুটি বিষয়কে সামনে আনে।

১. দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের যে জিরো টলারেন্স বা শূন্য সহনশীল নীতি, সেটির বাস্তবায়ন কোথায়? পুলিশ বাহিনীসহ রাষ্ট্রীয় সেবাদানকারী কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের নামও কি সরকার জোর গলায় বলতে পারবে যেটি পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত হয়েছে কিংবা যেখানে দুর্নীতি কমেছে? সরকারি সেবাদানকারী অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ইন্টারনেটভিত্তিক তথা ডিজিটাল করার পরও কি ওই সব প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি কমেছে?

২. যেকোনো বাহিনীর যেকোনো পর্যায়ের সদস্যের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ উঠলে কিংবা প্রমাণিত হলে সঙ্গে সঙ্গে বাহিনীর তরফে বলে দেওয়া হয়, ব্যক্তির অপরাধের দায় বাহিনী বা সরকার নেবে না। প্রশ্ন হলো, কোনো একটি বাহিনী বা প্রতিষ্ঠানে যদি কাঠামোগত সমস্যা থাকে; যদি সেখানের সিস্টেমটাই হয় এমন যে প্রশাসনিক ক্ষমতার ভয় দেখিয়ে কিংবা দ্রুত কাজ করে দেওয়া অথবা কাউকে অবৈধ সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া যায় এবং দুর্নীতি করে সহজে পার পেয়ে যাওয়া যায়, তাহলে ওই বাহিনী বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় কেন সংশ্লিষ্ট বাহিনী বা প্রতিষ্ঠান এবং সরকার নেবে না?

লেখক : সাংবাদিক ও লেখক (কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এডিটর ও সঞ্চালক, নেক্সাস টেলিভিশন)




কিশোর গ্যাং: সন্তান মিশছে কার সঙ্গে?

বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও গ্যাং সদস্যরা ঘটাচ্ছে নানা অঘটন।

খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অপহরণসহ এমন কোনো অপকর্ম নেই যা তারা করছে না।

 

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নানামুখী তৎপরতার পরও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না কিশোর অপরাধীদের। তাদের ভয়ে সাধারণ মানুষ তটস্থ। কারণ কিশোর গ্যাং সদস্যদের এসব অপকর্মের মূলে থাকে তাদের কথিত ‘বড়ভাই’। শুধু দেশের শহরগুলোতেই নয়, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এখন বিভিন্ন উপজেলায়ও তৎপর।

গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, সারাদেশেই ‘কিশোর গ্যাং’ সক্রিয়। ঢাকা শহরে কিশোর গ্যাং আছে ৭০টির বেশি। ২০২৩-এর জুলাই থেকে চলতি বছরের এখন পর্যন্ত এলাকাভিত্তিক কিশোর গ্যাংয়ের প্রধানসহ ২০০ জনের বেশি গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-পুলিশ। বর্তমানে বিচারাধীন দুই হাজার ২৩২টি মামলার বেশিরভাগ কিশোর গ্যাং সংক্রান্ত। ২০২৩ সালে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে শুধু ঢাকাতেই ২৫ জন খুন হয়েছেন। ২০২২-২৩ দুই বছরে তাদের হাতে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে (সূত্র: ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগ) ।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ১৬টি থানার তথ্যমতে, চট্টগ্রাম নগরে এখন সক্রিয় রয়েছে দুই শতাধিক কিশোর গ্যাং। একেক দলে রয়েছে ৫ থেকে ১৫ জন। নগরজুড়ে এদের সদস্যসংখ্যা প্রায় দুই হাজার। কিশোর গ্যাংকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন ৬৪ ‘বড় ভাই’। নগরের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে তারা। বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, সরকারি দপ্তরগুলোতে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, গার্মেন্ট ব্যবসা, জমি দখল, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল কিংবা কোণঠাসা করাসহ বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে গ্রুপিং, সংঘর্ষ ও খুনের ঘটনায় জড়িত কিশোর গ্যাং লিডাররা। আর গ্রুপ ভারী করতে কথিত বড়ভাইরা কিশোর-তরুণদের বিপথগামী করে তুলছে। এদের বেশিরভাগই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের। নামে কিশোর গ্যাং হলেও দলে ২০ থেকে ৩২ বছর বয়সীরাও রয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, মাদক ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করছে নগরের মানুষ।

কিশোর অপরাধের মামলাও বেড়েছে চট্টগ্রাম আদালতে। বর্তমানে দুই হাজার ২৩২টি মামলা বিচারাধীন। এসব মামলার বেশিরভাগ কিশোর গ্যাংসংক্রান্ত বলে সরকারি কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন। দ্রুত নগরায়ণ কিশোরদের অবসর সময় কাটানোর পরিবেশ ও প্রতিবেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে। পরিবার ও সমাজ-কাঠামোর পরিবর্তন এবং খেলাধুলা ও অন্যান্য বিনোদন মাধ্যমের অনুপস্থিতি ও সংকুচিত হওয়ার কারণে অবসর বিনোদনের ঘাটতি পূরণ হচ্ছে কৃত্রিম পরিবেশ ও আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে।

অভিভাবকদেরও অনেকটা ব্যস্ততার কারণে ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে সময় কাটানো ও সঙ্গ দেওয়ার সময় নেই কিংবা কেউ কেউ প্রয়োজনও বোধ করছে না। এখন প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপ তৈরি হচ্ছে। গ্রুপের ভালো-মন্দ বোঝার মতো ক্ষমতা কিশোরদের মধ্যে নাও থাকতে পারে। উঠতি বয়সের কিশোরদের মধ্যে এক ধরনের উন্মাদনা কাজ করে। তারা অন্য কারো দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। কোনো প্রকার ভৌত অবকাঠামো ছাড়াই তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে এক জায়গায় একত্র হয়ে অপরাধমূলক কাজের পরিকল্পনা, খুন ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ তারা করছে।

বিপরীতে সমাজে এমন গ্রুপও রয়েছে, যারা বয়সে তাদের মতোই কিশোর, পড়াশোনা করছে কোনো না কোনো কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে, এমনকি পড়াশোনাও হয়তো করছে না; কিন্তু নিজেদের টাকা খরচ করে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজের জন্য গ্রুপ গঠন করছে। তারা শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে, রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশ রক্ষায় কাজ করছে, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো কিংবা স্বেচ্ছায় রক্ত দিয়ে মানুষের জীবন বাঁচাচ্ছে। এমন কিশোর-কিশোরীরাও আমাদের সমাজেরই মানুষ। তাদের বেড়ে ওঠা ও বড় হওয়ার ভিন্নতার জন্য, পরিবার ও সমাজের ভিন্নতার জন্য এবং খারাপ কোনো কিছুর সঙ্গে যুক্ত হওয়া কিংবা সুযোগ গ্রহণ না করার জন্য তারা প্রশংসিত।

সমাজে যখন আমরা ভালো-মন্দ উভয় দিক খেয়াল করি, তখন খারাপ গ্রুপকে ভালো করার কাজটি আমাদেরই করতে হবে। এমন সব কাজ করতে হবে, যেখানে খারাপ হওয়ার সুযোগ তৈরি না হয়। কিশোরদের মাঝে বড় বিষয় হলো অল্প বয়স ও পরিপক্বতার অভাব, যার কারণে কোনটি সঠিক আর কোনটি সঠিক নয়, তা বুঝতে না পারা। ফলে অনেক সময়ই গ্যাং কালচারকে বড় বিষয় মনে হয়। শারীরিক পরিবর্তন এবং এর সঙ্গে মানসিক অবস্থার পরিবর্তনের পাশাপাশি পরিবার ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ তাদের সংঘবদ্ধ হতে এবং গ্রুপ গঠন করতে সহায়তা করে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলা প্রশাসক সম্মেলন উদ্বোধন উপলক্ষে ভাষণ দানকালে সমাজে কিশোর গ্যাং সমস্যার প্রসঙ্গ টেনে সন্তান-সন্ততিদের প্রতি নজরদারি বাড়াতে প্রতিটি পরিবারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কারও ছেলেমেয়ে যেন কিশোর গ্যাং, জঙ্গি, সন্ত্রাস ও মাদকাসক্তিতে জড়িয়ে পড়তে না পারে। শুধু গ্রেপ্তার করে লাভ নেই, সচেতন হতে হবে। তাই গোড়া থেকে ধরতে হবে। কোভিড-১৯ চলাকালে এর বিস্তার ঘটেছে এবং এই সময়ে এটি সবচেয়ে বেশি সামনে এসেছে। এই গ্যাং কালচারের লাগাম টানার কাজটা পরিবার থেকে শুরু করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের পর সারাদেশে সর্বস্তরে এই সমস্যা নিরোধের জন্য ব্যাপক সচেতনতা তৈরি হয়েছে।

আমাদের দরকার শিশু-কিশোরদের ঘরে বন্দি না রেখে তাদের পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং উদ্বুদ্ধ করা। মা-বাবাকেই এমন উদ্যোগ নিতে হবে। এতে কিশোরদের মধ্যে মানবতাবাদী, সহমর্মিতাবোধ ও সহানুভূতির বীজ রোপিত হবে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কাউট কাব, গার্লস গাইড, বিএনসিসি, রোভার স্কাউটসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি প্রদানের ক্ষেত্রে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকাও বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। আর কারও ক্ষেত্রে অসংযত আচরণ পরিলক্ষিত হলে ব্যবস্থা নিতে হবে, শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নয়।

পুলিশের একার পক্ষে এটি রোধ করা সম্ভব নয়। আমাদের সন্তান কার সঙ্গে মিশছে, পরিবারকে অবশ্যই তা খেয়াল রাখতে হবে।




যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক না থাকলে বিপদে পড়বে ক্ষুদ্র ব্যবসা

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

গত বুধবার (২৪ এপ্রিল) মার্কিন সিনেটে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ টিকটক নিষিদ্ধ করার জন্য বিল পাস হয়েছে। কয়েক ঘণ্টা পরে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বিলটিতে স্বাক্ষর করেন, ফলে এটি আইনে পরিণত হয়। এই আইনের কারণে টিকটকের মূল সংস্থা বাইটড্যান্সকে চীনের বাইরের অর্থাৎ অন্য কোনো দেশের কোনো সংস্থা বা ব্যক্তির কাছে অ্যাপটি বিক্রি করতে হবে। নতুবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক বন্ধ করতে হবে। টিকটক অবশ্য এই আইনটিকে চ্যালেঞ্জ করে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে।

আগামী বছর নাগাদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মের অনেক ভক্ত অনুরাগী তাদের প্রিয় অবসর কাটানোর একটি মাধ্যমকে হারাতে পারেন। তবে টিকটক না থাকলে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে টিকটকের কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এবং এই মাধ্যমটি ব্যবহার করে আয় করা ছোট ছোট ব্যবসাগুলো।

২০২৪ সালের মার্চের তথ্য অনুযায়ী, ৭০ লাখের বেশি মার্কিন ক্ষুদ্র ব্যবসা টিকটক ব্যবহার করে। টিকটক জানিয়েছে, ২০২৩ সালে এই ব্যবসায় উদ্যোগগুলোর জন্য তারা ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে।

টিকটক বর্তমানে একটি অন্যতম বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তি হয়ে উঠেছে। টিকটকের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই প্লাটফর্ম ব্যবহার করে গড়ে উঠা ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের উদ্যোগ জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস এবং বেলজিয়ামের জিডিপিতে ৪.৮ বিলিয়ন ইউরো বা ৫.১৪ মার্কিন ডলার অবদান রাখছে।

টিকটক বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় মার্কিন উদ্যোক্তারা তাদের আয় হ্রাসের আশঙ্কা করছেন। একইভাবে বিশ্বব্যাপী ব্যবসাগুলোও পণ্যের মার্কেটিংয়ে মার্কিন ক্রেতাদের টার্গেট করে থাকে। কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদেরও শীর্ষ টার্গেট মার্কিন অডিয়েন্স। তাই বিশ্বব্যাপী সামাজিক যোগাযোগ প্লাটফর্ম নির্ভর করে গড়ে উঠা ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটররাও চিন্তিত। তাদের জন্য এখন টিকটকের বিকল্প খোঁজা বড় চ্যালেঞ্জ।

ক্রমবর্ধমান অডিয়েন্স ও ভোক্তার সন্ধান

২৭ বছর বয়সী শিরা টিকটকে একজন ফুলটাইম কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। টিকটকে তার ফলোয়ার পাঁচ লাখের বেশি। অস্ট্রেলিয়া থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরে ২০২১ সালে টিকটকে একাউন্ট খুলেছিলেন তিনি। শুরুর দিকে তিনি অন্যান্য কন্টেন্টের উপর প্রতিক্রিয়া ভিডিও তৈরি করতেন। সেইসঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অভিজ্ঞতা নিয়েও কন্টেন্ট বানাতেন তিনি। নয় মাসের মধ্যে তার ফলোয়ার সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়।

আয়ের জন্য শিরা টিকটকের পার্টনারশিপের উপর নির্ভর করেন। স্ন্যাপচ্যাট ও ইউটিউবেও অ্যাকাউন্ট রয়েছে তার, কিন্তু তার মতে, ধারাবাহিকভাবে সবচেয়ে বেশি আয়ের প্লাটফর্ম হলো টিকটক। তিনি বিবিসিকে বলেন, টিকটকে সত্যিকারের নিবেদিতপ্রাণ অডিয়েন্স বাড়াতে আমি কয়েক বছর সময় দিয়েছি। অনেক লাইভ স্ট্রিম করেছি, বহু কন্টেন্ট দিয়েছি। টিকটক থেকে অর্থ উপার্জনের যাত্রা ছিল কঠিন। কিন্তু এখন আমি যে জায়গায় পৌঁছেছি তাতে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।

শিরা এই নিষেধাজ্ঞাকে বিধ্বংসী বলে বর্ণনা করেছেন। তার নিজের ব্যবসার বাইরেও তিনি বলেছেন, সম্ভাব্য কয়েক হাজার চাকরি যাবে এই নিষেধাজ্ঞার কারণে। এর আগে গত মার্চে টিকটক জানিয়েছিল, অ্যাপটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কমপক্ষে দুই লাখ ২৪ হাজার চাকরি তৈরি করেছে। শিরা বলেন, টিকটক নিষিদ্ধ হলে এই লোকরা কী করবে তা আমি নিশ্চিত নই।

৩০ বছর বয়সী ইলিয়ানা জাস্টিনের টিকটক অ্যাকাউন্টে ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় দুই লাখ। তিনিও শিরার মতো একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ২০২১ সালে তিনি এবং তার স্বামী করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে তাদের আসন্ন বিয়েতে অতিথিদের মাস্ক পরার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে টিকটকে পোস্ট করেন। এর মাধ্যমে তিনি তার টিকটক অ্যাকাউন্টে কন্টেন্ট প্রকাশ শুরু করেন। এর পর থেকেই তিনি বিতর্কিত বিষয়বস্তুর কন্টেন্ট নির্মাতাদের জগতে প্রবেশ করেন। তিনি মূলত লাইফস্টাইল, রাজনৈতিক বিষয়াবলী নিয়ে কন্টেন্ট তৈরি করেন। তার কন্টেন্টের বিষয়ের মধ্যে রয়েছে সবেতন পারিবারিক ছুটি, গর্ভপাত এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়।

তবে শিরার মতো ফুলটাইম কন্টেন্ট ক্রিয়েটর নন ইলিয়ানা। কিন্তু প্লাটফর্মটিতে অনেক সময় দেন তিনি। তার নিজের অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশের বাইরেও তিনি অন্যদের জন্য উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে যারা টাকা আয়ের জন্য পুরোপুরি টিকটকে তাদের সাফল্যের উপর নির্ভরশীল তাদের নিয়ে চিন্তিত তিনি। ইলিয়ানা বলেন, প্লাটফর্মটি ছোট ব্যবসায়ীদের পণ্য মার্কেটিং এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বড় করার সুযোগ দেয়। টিকটক ব্যবহার করে ব্যবসাকে সম্পূর্ণভাবে রূপান্তরিত করা যায়। আমার অনেক বন্ধু আছে যারা তাদের ব্যবসাকে টিকটকের কারণে ফুলটাইমে চাকরিতে পরিণত করতে পেরেছে।

বিকল্পের সন্ধান

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকটক নিষিদ্ধ হলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য খুব বেশি ক্ষতিকর নাও হতে পারে। কিন্তু তাদের অবশ্যই কোনো বিকল্প খুঁজে পাওয়া ও তার সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাধ্য করবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারডু ইউনিভার্সিটি ড্যানিয়েলস স্কুল অব বিজনেসের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ রহমান বলেন, আমরা একটি ডিজিটাল অর্থনীতিতে বাস করছি। আমরা মূলত সব ধরনের যোগাযোগ এবং তথ্যের জন্য প্রযুক্তির উপর নির্ভর করছি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আসার আগে কিভাবে ব্যবসা হতো সেদিকে ফিরে যাওয়ার ধারণাটি সম্ভবত আর কাজ করবে না। কারণ আমরা কিভাবে তথ্য সংগ্রহ করব, কিভাবে আমরা কী কিনব সে বিষয়ে ভোক্তারা বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে প্রভাবিত হয়।

যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক নিষিদ্ধ করা হয়, তাহলে ফেসবুকের মতো বিকল্প রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও আসতে পারে। ব্যবসার জন্য তাদের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো বের করার জন্য হাতে রয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট বাইডেন টিকটক নিষিদ্ধ বা বিক্রির আইনটিতে স্বাক্ষরের পর বাইটড্যান্সের হাতে ২৭০ দিন সময় আছে। তবে বাইটড্যান্স আইনি লড়াই করলে এই সময় আরও বাড়তে পারে।

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির মার্শাল বিজনেস স্কুলের ক্লিনিকাল বিপণনের সহযোগী অধ্যাপক ক্রিস্টেন শিয়েলি মনে করেন, টিকটক বন্ধ হলে ব্যবহারকারীরা কোনো প্লাটফর্মে স্থানান্তরিত হবে তা এখনই বলা কঠিন। আসলে জেন জেডরা টিকটকে সবচেয়ে বেশি টাকা খরচ করে। অন্য প্লাটফর্মগুলোর লক্ষ্য হচ্ছে জেন জেডের কাছে পৌঁছান।

আমেরিকান টিকটক ব্যবহারকারীরা শুধু দেশীয় ব্যবসায়িক শক্তিই নন, বরং বিশ্বব্যাপী তাদের প্রভাব রয়েছে। অন্যান্য দেশের উদ্যোক্তারা টিকটকে মার্কিন অডিয়েন্স হারাবেন। যুক্তরাজ্য ও কানাডার কেউ কেউ ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত মার্চে কানাডায় টিকটকের মুখপাত্র গ্লোবাল নিউজকে ইমেইলের মাধ্যমে বলেছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক নিষিদ্ধ হলে কানাডিয়ান কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোর জন্য তা ধ্বংসাত্মক ব্যাপার হবে। কানাডার ক্ষুদ্র ব্যবসা ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের বড় অংশের মূল লক্ষ্যই থাকে আমেরিকানদের কাছে পৌঁছানো।

শিয়েলি বলেন, কোরিয়া ও চীন থেকে প্রচুর কসমেটিক ও ত্বকের যত্নের ব্র্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রে আসছে। কোরিয়া ও চীনের সৌন্দর্যবর্ধন ও ত্বকের যত্নের পণ্যগুলোর মান দুর্দান্ত। এই মুহূর্তে টিকটকে এগুলোর ব্যবসা অনেক বড়। তাদেরও টিকটক ছাড়া মার্কিন গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর পক্ষেও মার্কিন গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানো কঠিন হবে। শিয়েলির আশা, অনেকেই মানিয়ে নিতে পারবে, কিন্তু তার উদ্বেগের যায়গাটি হলো, বড় কোম্পানি ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের দাপটে ছোট অনেক উদ্যোগ হারিয়ে যাবে।




আইসিটি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে কর অব্যাহতির ঘোষণা এখনই দেওয়া উচিত

দেশের আইসিটি খাতের যাত্রা শুরু গত শতকের আশির দশকের শেষ ভাগে। পরে নব্বইয়ের দশকে আমরা সফটওয়্যার নিয়ে কাজ শুরু করি। বেসিসের শুরুটাও তখনই, ২৭ বছর আগে। এই সময়ে আমরা অনেক কিছুতে এগিয়েছি। আবার হওয়ার মতো এমন অনেক কিছু ছিল, যা হয়নি। আমরা এখন দেড় বিলিয়ন ডলারের মতো রফতানি করছি। স্থানীয় বাজারও প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারের মতো, যদিও অনেক বিদেশি সফটওয়্যার আসছে। রফতানি বা দেশীয় বাজার আরও বড় হওয়ার কথা ছিল। কয়েকটি কারণে হয়নি। এর প্রধান কারণ, দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি। আমাদের প্রযুক্তি জ্ঞানসমৃদ্ধ লোকজন হয়তো নেতৃত্বে নেই। সত্যিকার অর্থে প্রযুক্তি জেনেবুঝে কাজ করেন, এমন মানুষ হয়তো নেতৃত্বে আসছে না। ফলে আমরা যে গতিতে এগুতে চাইছি, সেটি পারছি না।

এর আরেকটি কারণ, আমাদের দক্ষ জনবল নেই। এটি তৈরির জন্য যে আমরা পদক্ষেপ নেব, সেটিও কিন্তু আমরা করিনি। শুধু আইসিটির ক্ষেত্রে যে এমন, তা নয়। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই একই অবস্থা। জাতীয় পর্যায়েও দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে আমরা পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিইনি। এটি আরও ২০ বছর আগে করা উচিত ছিল। ২০ বছর আগে যদি আমরা করতাম, তার সুফল এখন আমরা নিতে পারতাম। ভারত সেটা করেছে। ষাটের দশকে তারা আইআইটি করেছে। তার সুফল তারা ২০০০ সালে নিয়েছে। এই কাজগুলো আমরা করতে পারিনি। কোনো সময় নষ্ট না করে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে সেই পদক্ষেপ যদি এখনো নিতে না পারি, তাহলে কিন্তু আমরা কিছুই করতে পারব না।

ফটোশুট ও ডিজিটাল মার্কেটিং হচ্ছে, নানা রকম প্রমোশনাল ভিডিও হচ্ছে। যেহেতু প্রযুক্তি এখন খুব সুলভ, এগুলো করাটা সহজ হয়ে গেছে। ১০/১৫ বছর আগে আমরা যখন নির্বাচন করেছি, তখন আমরা ফটোশুট করেছি। কিন্তু এত ডিজিটাল মার্কেটিং করতে পারিনি। প্রযুক্তি এত হাতে হাতে ছিল না। এখন প্রযুক্তি সুলভ বলেই সেগুলো হচ্ছে।

তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্যানেল। ব্যক্তিগতভাবে আমি প্যানেল পদ্ধতির বিপক্ষে। আমি এটা পছন্দ করি না। তার প্রধান কারণ, যখনই প্যানেল হয়ে যায়, দেখা যায় দুটি বা তিনটি প্যানেল— যে ভেদাভেদ বা রেষারেষি হয়, সেটা নির্বাচনের পরেও রয়ে যায়। মুখে যতই বলি না কেন নির্বাচনের পরে সবাই এক, প্রকৃতপক্ষে সেটি হয় না। মনের মধ্যে দলাদলির ব্যাপারটা রয়ে যায়। এ কারণে প্যানেল পদ্ধতির বিপক্ষে আমি।

এমন যদি হতো, সভাপতি, সহসভাপতি ও পরিচালক পদে আলাদা আলাদা নির্বাচন, তাহলে হয়তো প্যানেল হতো না। আবার প্যানেলের পক্ষেও কিন্তু যুক্তি আছে। আমি যদি একই রকম মানুষদের সঙ্গে বোর্ড গঠন করতে না পারি, তাহলে সেই বোর্ড রান করবে না। কারণ আমার চিন্তাধারা একরকম, আরেকজনের চিন্তাধারা আরেকরকম। তারপরও আমার মনে হয়, এই যে দলাদলি-রেষারেষি, প্যানেল পদ্ধতিতে এটি আরও বেড়ে যায়।

যে বা যারা নেতৃত্বে থাকবে, তাদের কিন্তু এই খাতের লোক হতে হবে। এই শিল্পে প্রত্যক্ষ সংযোগ থঅকতে হবে। না হলে কিন্তু তিনি সমস্যাগুলো বুঝতে পারবেন না, অনুভব করতে পারবেন না। সমস্যা যাদের হচ্ছে, তাদের যে কষ্ট হচ্ছে, কষ্টটা অনুভব করতে পারবেন না। তাই সেই নেতৃত্ব প্রয়োজন, যে নেতৃত্ব এই খাতকে ভেতর থেকে জানে। আমাদের প্রযুক্তি জানা মানুষ যেমন প্রয়োজন, তেমনি ভালো ব্যবস্থাপনা বুঝে নেতৃত্ব দিতে পারে, তেমন মানুষও প্রয়োজন। বেসিসে সামনে যারা আসবে, ভবিষ্যতে যারা আসবে তারা এভাবেই চিন্তাভাবনা করবে, এটাই প্রত্যাশা। ভোটাররাও যাদের ভোট দেবেন, তারা নেতৃত্বের গুণাবলি চিন্তাভাবনা করে যেন ভোট দেন।




নীরব ঘাতক স্মার্টফোন!

রাবিশ্ব মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৯ সালের মধ্যেই সারা বিশ্বে প্রায় ২শ ৭০ কোটি মানুষ স্মার্টফোন ডিভাইস ব্যবহার করবে। একই সঙ্গে মোবাইল ফোনের ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়াবে ৪শত ৬৮ কোটি মানুষ, যা বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় ৬৭ শতাংশ।

জিএসএমএ ইন্টেলিজেন্স প্রকাশিত বৈশ্বিক তথ্যানুযায়ী, সারাবিশ্বে মোবাইল ব্যবহারকারীদের মোট পরিসংখ্যান ইতোমধ্যে পাঁচ বিলিয়নের মাইলফলকে পৌঁছে গেছে। বাংলাদেশে ২০১৯ সালে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৫ কোটি ৮৪ লাখ ৩৮ হাজার মোবাইল নম্বর নিবন্ধিত হয়েছে, যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৯৭.২৩ শতাংশ।

অবশ্যই মোবাইল ফোন, বিশেষত স্মার্টফোনগুলোতে পরিবার ও কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে তাত্ক্ষণিক যোগাযোগ, নেটওয়ার্ক তৈরি, বিনোদন, ক্যামেরা, জিপিএস, শিক্ষা, ডাটা সংরক্ষণ, গোপনীয়তা, বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ইত্যাদির অবিশ্বাস্য সুবিধা রয়েছে। তবে মানুষজন নানা ধরনের অ্যাপনির্ভর স্মার্টফোনগুলোতে দিন দিন প্রচণ্ড পরিমাণে আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা তাদের স্বাস্থ্যের ওপর বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।
আসুন, জেনে নেই কিভাবে আপনার স্মার্টফোন আপনাকে নীরবে ঘাতকের ভূমিকায় রয়েছে-

• চোখের ওপর চাপ

টাইপ অথবা কিছু পড়ার সময় লোকজন প্রায়ই স্মার্টফোনের ছোট পর্দার ফন্টের দিকে দীর্ঘসময় ধরে তাকিয়ে থাকে, যা চোখের জন্য ক্ষতিকারক। যদি এরকম নিয়মিতভাবে করতে থাকে, তবে এর কারণে চোখে ঝাপসা দেখা, চোখের পানি শুকিয়ে যাওয়া, চোখের ওপর চাপ, মাথা ঘোরানো ইত্যাদি হতে পারে।

চোখের ওপর ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে মুখ থেকে ন্যূনতম ১৬ ইঞ্চি দূরত্বে মোবাইল ফোনের স্ক্রিন রাখার পরামর্শ দেয়া হয়। এছাড়া আপনি মোবাইল ফোন ব্যবহারের সময় প্রতি ২০ মিনিটের পর কিছুটা বিরতি নেয়ার চেষ্টা করুন এবং মোবাইলস্ক্রিন থেকে আপনার দৃষ্টি কোনো দূরের স্থানে স্থানান্তর করুন। চোখে কোনো ধরনের চাপ অনুভব করলে, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

• ব্রেইন ক্যান্সারের ঝুঁকি

আপনি হয়তো জানেন যে, মোবাইল ফোনে ক্ষতিকর ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন রয়েছে। ক্যান্সার বিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মাইক্রো ওয়েভ রেডিয়েশনের প্রভাবের অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের ব্রেইন টিউমার বা ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এজন্য ব্রেইন টিউমার বা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে দীর্ঘসময় ধরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা উচিৎ নয়।

• ঘাড় ও পিঠে ব্যথা

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা তাদের স্ক্রিনে টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে ইন্টারনেট বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্রাউজ করতে থাকে। এসময় দীর্ঘক্ষণ একইরকমভাবে বসে বা শুয়ে থাকার কারণে ঘাড় ও পিঠের পেশীতে টান পড়তে পারে। ঘাড় ও পিঠে ব্যথার ঝুঁকি থেকে মুক্তি পেতে স্মার্টফোন ব্যবহার করার সময় আপনার শরীর ও মেরুদণ্ড সঠিকভাবে রাখুন।

• ঘুমের ব্যাঘাত

অতিরিক্ত মোবাইল ফোনের প্রভাবে আরেকটি নেতিবাচক প্রভাব হচ্ছে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটা। লোকজন প্রায়শই বিছানায় শুয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্রাউজ করতে ব্যস্ত থাকে, যার ফলে দেরিতে ঘুমায়। আবার ঘুমানোর পর মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ, ইমেইলসহ বিভিন্ন নোটিফিকেশনের শব্দও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।

এই বদভ্যাস ঘুমের ব্যাঘাত ঘটনার সাথে সাথে অনিদ্রা বা ইনসোমোনিয়োর মতো ঝুঁকির দিকেও মানুষকে নিয়ে যায়। অনেকে আবার অ্যালার্ম সেট করে রাতে ফোনটি মাথার কাছে রাখে। ফোনের মাইক্রো-ওয়েভ রেডিয়েশনের মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত করে ক্যান্সার বা টিউমার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়াও নিয়মিত ঘুমের ব্যাঘাত, মাথা ঘোরা, হতাশা, মেজাজ খারাপ হওয়া, উদ্বেগ এবং আরও অনেক শারীরিক ও মানসিক সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

পর্যাপ্ত ঘুম ভালো শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য অন্যতম প্রধান প্রয়োজন। তাই বিছানায় যাওয়ার পর আপনার স্মার্টফোনে ওয়েব ব্রাউজিং বা ভিডিও এবং সিনেমা দেখা বন্ধ করা উচিৎ। ঘুমের সময় মোবাইল ফোনটি শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থেকে দূরে রাখতে ভুলবেন না।

• পুরুষের বন্ধ্যাত্ব

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, স্মার্টফোন পকেটে রাখলে পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পায়। মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন শুক্রাণুর পরিমাণ, সংখ্যা ও ঘনত্ব হ্রাস করতে পারে। তবে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নারীদের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাসের বিষয়ে কোনো শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায় নি। সুতরাং পুরুষদের সারাক্ষণ পকেটে স্মার্টফোন রাখার বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিৎ।

• জীবাণু আক্রমণের ঝুঁকি

একটি মোবাইল ফোনের স্ক্রিন টয়লেটের চেয়েও বেশি জীবাণু ধারণ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে ই. কোলির মতো ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া রয়েছে, যার কারণে ডায়রিয়া, জ্বর, সংক্রমণ, বমি ইত্যাদি হতে পারে। বিশেষ করে শিশুরা মুখ স্মার্টফোনের স্ক্রিন চুষতে থাকে, যার মাধ্যমে তাদের শরীরে জীবাণু প্রবেম করতে পারে। বিভিন্ন রোগও ছড়াতে পারে। সুতরাং, আপনার বাচ্চাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন থেকে দূরে রাখা উচিৎ। নিয়মিত মোবাইল ফোনের স্ক্রিনটি পরিষ্কার করতে ভুলবেন না।

সর্বোপরি বলা হয়, বিশ্বব্যাপী মানুষ খুব দ্রুত গতিতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা চালিয়ে গেলে শিগগিরই মানুষের চেয়ে মোবাইল ফোনের সংখ্যা বেড় যাবে। এটাও সত্য যে, বর্তমান বিশ্বে মোবাইল ফোনের বিভিন্ন সুবিধার কথা আমরা অস্বীকার করতে পারি না। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে কাজ, পড়াশোনা, বিনোদন বা সামাজিকীকরণের চেয়েও স্বাস্থ্য অত্যন্ত মূল্যবান। সুস্থ শরীর ও মন বজায় রাখার জন্য ভালো ঘুমের বিকল্প নেই। এজন্য মোবাইল ফোনের ব্যবহার কমানোর জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। এর পরিবর্তে আমরা পর্যাপ্ত ঘুমাতে পারি এবং পরিবার ও বন্ধুদের সাথে ভালো সময় কাটাতে পারি।- ইউএনবি




আইসিটি বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হোক

 শিক্ষাক্রমে ২০০ নম্বরের ঐচ্ছিক কম্পিউটার শিক্ষার পরিবর্তে ১০০ নম্বরের আবশ্যিক ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ ছয়টি শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য

সরকারের এ উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেছিলেন তৎকালীন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট একাধিক বিশেষজ্ঞ। এতে করে শিক্ষার্থীরা কর্মক্ষেত্রে আরো বেশি স্বাবলম্বী হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার মূল যে হাতিয়ার তা হচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। আর এই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করার জন্য দরকার দক্ষ আইসিটি জ্ঞানসম্পন্ন মানবসম্পদ। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্য দরকার ব্যবহারিকসহ উপযুক্ত কম্পিউটার শিক্ষা। কিন্তু কম্পিউটার শিক্ষায় ব্যবহারিক বাদ দিয়ে আইসিটির প্রয়োগ সম্ভব নয়। শুরু থেকে আবশ্যিক হওয়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে ব্যবহারিক এবং নম্বর বণ্টন বিষয়ে কোনো দিক নির্দেশনা না থাকলেও এনসিটিবিতে লেখকদের নিয়ে দফায় দফায় মিটিংয়ে এ বিষয়ে অবশ্যই প্র্যাকটিক্যাল থাকবে এবং এর জন্য নম্বর বরাদ্দ হলো ২৫, যা মৌখিকভাবে জানানো হলে লেখকরা তাঁদের বইয়ের পাণ্ডুলিপি তৈরি করে এনসিটিবি থেকে অনুমোদন নিয়ে প্রকাশ করেছেন। প্রায় দুই ডজন বই অনুমোদন, পরিপত্র, অফিস নোটিশ ইত্যাদি আরো কত কিছু।

২০১৬ সাল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় আইসিটি বিষয়টি সৃজনশীল পরীক্ষার আওতায় আসে। গত বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় আইসিটি বিষয় থেকে প্রশ্ন হয়েছে, শুধু তাই নয় যে কোনো চাকরির ইন্টারভিউ, বিসিএস পরীক্ষায় আইসিটি বিষয় থেকে প্রশ্ন আসে এবং এই ধারা অব্যাহত। চলমান এই বিষয়টি যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গেই চলছিল, হঠাৎ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে আইসিটি বিষয়ের পরীক্ষা হবে না বা বাতিল করা হয়েছে—ফলাও করে প্রচার হচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও হাল ছেড়ে দিয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যে বিষয়ে পরীক্ষা হয় না সেই বিষয়ে ক্লাসও করতে চায় না; ফলে আইসিটির মতো বিশাল জ্ঞান থেকে পিছিয়ে পড়বে তারা।

অধিকাংশ স্কুল-কলেজে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যা আইসিটি শিক্ষা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে আইসিটি প্রয়োগের জন্য অন্যতম সহায়ক ভূমিকা রাখবে। কিন্তু আইসিটি পরীক্ষা না হলে আগ্রহ হারাবে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা। সরকারি টাকা ব্যয়ে প্রতিষ্ঠিত ল্যাবে ল্যাপটপ ও যন্ত্রপাতি অবহেলায় অযত্নে নষ্ট হবে।

২০২০ সালে মুজিব শতবর্ষ পালন উপলক্ষে এনসিটিবি কর্তৃক উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির আইসিটি বিষয়ে বই প্রকাশিত হয়। যা মুজিববর্ষের একটি উপহার। এই বছর শিক্ষার্থীরা ঐ বই পড়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ করে প্রচার করা হচ্ছে আইসিটি বিষয়ে পরীক্ষা হবে না। তাহলে কি মুজিব শতবর্ষে প্রকাশিত আইসিটির বোর্ড বইয়ের আলোকে প্রথমবারের মতো আইসিটি পরীক্ষা হবে না? বিষয়টি গভীরভাবে ভেবে দেখতে হবে সংশ্লিষ্টদের।

আইসিটি বিষয়ে পাশ পাওয়া অত্যন্ত সহজ এবং জিপিএ উন্নয়নের সহায়ক। সেখানে প্রচার করা হচ্ছে আইসিটি বিষয়টি ছাত্রছাত্রীদের জন্য কঠিন। ব্যবহারিক নম্বর ২৫ থাকায় এ+ নম্বর পাওয়া অত্যন্ত সহজ। কিন্তু মিথ্যা প্রচারণার কারণে এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আজ হুমকির মুখে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন ‘এসএসসি ও এইচএসসি-তে আইসিটি বিষয়ে পরীক্ষা হবে না’ এমনটা এখনো প্রস্তাবিত আকারে আছে। যদি তাই হয় তবে প্রস্তাবনা বাতিল করে, পরীক্ষা বাতিল না করে, আইসিটির সংক্ষিপ্ত সিলেবাসকে আরো সংক্ষিপ্ত করে হলেও, মুজিব শতবর্ষের উপহার এনসিটিবির আইসিটি বইয়ের আলোকে প্রথমবারের পরীক্ষাটি, সব বিষয়ের মতো করেই অনুষ্ঠিত হবে—এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।




বরিশালের বাকেরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিন জনের মৃত্যু

বরিশালের বাকেরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৭ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ঢালমারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, সোনিয়া আক্তার (৩২), তার মেয়ে সাবরিনা (৯) ও ছেলে সালমান। তার বয়স সাড়ে চার বছর। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আবজাল হোসেন।
ওসি জানান, খেলার সময় শিশু সালমান বাড়ির পাশেই একটি লেবু গাছে হাত দেয়। ওই লেবু গাছের ওপর বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়েছিল। সালমান হাত দেয়ার পর তাকে উদ্ধার করতে যায় বোন সাবরিনা। এসময় সেও বিদ্যুতায়িত হয়। পরে দুই সন্তানকে উদ্ধার করতে গিয়ে উদ্ধার করতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যায় মা সোনিয়া আক্তারও।



গাজীপুরে বাংলাদেশ স্কাউটস এর উদ্যোগে তিন দিনব্যপী স্কিল ডেভেলপমেন্টে কোর্স শুরু

গাজীপুরে বাংলাদেশ স্কাউটস এর উদ্যোগে লিডার ট্রেনার ও সহকারী লিডার ট্রেনারদের জন্য ৩দিনব্যপী স্কিল ডেভেলপমেন্টে কোর্স শুরু হয়েছে।
জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মৌচাকে এ উপলক্ষে প্রধান অতিথী হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ স্কাউটসের জাতীয় কমিশনার(সংগঠন)ইউসুফ হারুন। বাংলাদেশ স্কাউটসের জাতীয় কমিশনার(এ্যাডাল্টস ইন স্কাউটিংভেল)ফেরদৌস আহমেদের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য ও বাংলাদেশ স্কাউটসের জাতীয় কমিশনার(জনসংযোগ ও মার্কেটিং)এম এম ফজলুল হক।
প্রধান অতিথীর বক্তব্যে ইউসুফ হারুন বলেন বাংলাদেশ স্কাউটস এখন ২৪ লাখ শিশু-কিশোর-যুবকদের বিশাল সংগঠন। এই বিশাল সংখ্যক সদস্যদের স্কিল ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে দেশ গঠনে নিয়োজিত করতে হবে।
ওয়ার্কশপে সারাদেশ থেকে বাছাইকৃত ৮০জন স্কাউট কর্মকর্তা যোগদান করেন।



কেরানীগঞ্জে কোনাখোলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের

ঢাকার কেরানীগঞ্জে কোনাখোলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর  মোঃ ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
রবিবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে কেরানীগঞ্জ  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবু রিয়াদের অফিসে এই অভিযোগ দায়ের করেন কোনাখোলা সিএনজি অটোরিকশার ড্রাইভারগন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,প্রতিদিন কোনা খোলা সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড থেকে সিএনজি অটো রক্সা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ব্যক্তিগত কাজে ঘোরাফেরা করেন। তার কাছে সিএনজির গ্যাস এবং ভাড়া চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সিএনজি ড্রাইভারকে মারধর করেন এবং তার সিএনজিটিও ভাঙচুর করেন। এভাবে তিনি ৮থেকে ১০ জন ড্রাইভারকে মারধর করেছেন এবং একাধিক সিএনজি অটোরিকশা ভাঙচুর করেছেন। সিএনজি অটো রিক্সার ড্রাইভারগন  ইন্সপেক্টর ফজলুর রহমানের  এসব কাজের প্রতিবাদ করলে তিনি তাদেরকে মামলার ভয় দেখান।
সিএনজি অটো রিক্সার ড্রাইভার মোঃ সেলিম সেলিম জানান, কোনাখোলা স্ট্যান্ড থেকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আটি বাজার, আব্দুল্লাহপুর ও কদমতলী গোলচত্তর এলাকায় প্রতিদিন প্রায় অর্ধশত সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করে থাকে। এই সিএনজি অটো রিক্সা চালিয়ে তারা কোন রকমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কিন্তু প্রতিদিন এই সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে ইন্সপেক্টর ফজলুর রহমান নানা অজুহাতে ২/৩টি সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে তিনি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন। ভাড়া বাবদ  কোন টাকা পয়সা দেন না এমনকি গাড়ির গ্যাস পর্যন্ত তিনি দেন না। প্রতিবাদ করলে তিনি মারধর করেন গাড়ি ভাঙচুর করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। গাড়ি নিয়ে তিনি এই অবস্থা করলে আমরা তাহলে কি করে খাব।
মোঃ শওকত আলী নামে অপর এক সিএনজি অটো রিক্সার ড্রাইভার জানান, সরকারি কাজে প্রতিদিন আমরা একটি করে সিএনজি তার অফিসে দিয়ে থাকি। এতে আমাদের কোন অভিযোগ নেই। কিন্তু তিনি  ব্যক্তিগত কাজে আমাদের কাছ থেকে জোর করে সিএনজি অটো রিক্সা নিয়ে ভাড়া না দিয়ে সারাদিন খাটায়। আমরা তার এই নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে চাই।
এ ব্যাপারে কোনাখোলা পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোঃ  ফজলুর রহমান জানান, আমি কোন ব্যক্তিগত কাজে সিএনজি অটো রিক্সা  নেইনি। শুধু সরকারি কাজের জন্যই তাদের কাছ থেকে রিকুজেশন করে সিএনজি অটোরিকশা নেয়া হয়। তার বিরুদ্ধে সিএনজি অটো রিক্সা ড্রাইভার দের করা অভিযোগ সঠিক নয়।