নেপাল-তিব্বতে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,৩০১, নিখোঁজ ৫,৩৩৯

নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার নয় দিন পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩০১ জনে। একই সময়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৩৩৯ জন। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৩৪টি দেশের শত শত বিদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

সর্বশেষ হিসাবে, নেপালে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ২৮০ জনে পৌঁছেছে। দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে এখনো ৪ হাজার ৭৯৮ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে তিব্বতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান। তিব্বতে এখনো ৫৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

ফলে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে ভয়াবহ এই বন্যায় মোট ১ হাজার ৩০১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং ৫ হাজার ৩৩৯ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

বন্যায় নিখোঁজদের মধ্যে শত শত বিদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্তত ৩৪টি দেশের নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। ফলে নিখোঁজদের সন্ধানে স্থানীয় উদ্ধারকারী দলের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।

এদিকে নেপালে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। দেশটির প্রায় অর্ধডজন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে উদ্ধারকাজ চলছে। এসব টানেলের ভেতরে ১৫০ জনের বেশি মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উদ্ধারকারীরা টানেলগুলোতে আটকে পড়া ব্যক্তিদের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছেন। তবে ভয়াবহ বন্যার পর দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

নয় দিন আগে নেপাল ও তিব্বতের বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হলে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়। বন্যার পানির প্রবল স্রোতে বহু ঘরবাড়ি, সড়ক ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখনো নিখোঁজ বিপুলসংখ্যক মানুষের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




গণমাধ্যমকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ বললেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ সপ্তম মাসে গড়ানোর মধ্যে মার্কিন অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়ার খবর আবারও প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশকারী গণমাধ্যমগুলোকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ট্রাম্প। কাতারভিত্তিক বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী নজিরবিহীন মাত্রায় গোলাবারুদ উৎপাদন করছে এবং তাদের কাছে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি অস্ত্র রয়েছে।

তিনি বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী গোলাবারুদ তৈরি করছে ‘আগে কখনো দেখা যায়নি এমন মাত্রায়’ এবং তাদের কাছে ‘আমরা যতটা ব্যবহার করতে পারি, তার চেয়েও অনেক বেশি’ অস্ত্র রয়েছে।

এদিকে মার্কিন অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশকারী গণমাধ্যমগুলোরও তীব্র সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। এসব সংবাদমাধ্যমকে তিনি ‘রাষ্ট্রদ্রোহী আবর্জনা’ হিসেবে অভিহিত করে অভিযোগ করেন, তারা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পরিস্থিতি সঠিকভাবে তুলে ধরতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।

এর আগেও আগস্টে মার্কিন অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার খবর নিয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। তখন ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, অস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ওপর ট্রাম্প অসন্তুষ্ট ছিলেন।

ওই সময় সংবাদমাধ্যমে তথ্য ফাঁসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, এসব তথ্য ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা হবে এবং তাদের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের চেষ্টা করা হবে।

তবে মার্কিন অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার খবর শুধু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন সামরিক ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।

ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) জুলাইয়ের এক বিশ্লেষণে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মাত্র এক-তৃতীয়াংশের কিছু বেশি অবশিষ্ট রয়েছে। একই সঙ্গে টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স বা থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রায় অর্ধেক মজুত ব্যবহার হয়ে গেছে।

সিএসআইএস আরও জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুলসংখ্যক আক্রমণাত্মক অস্ত্রও ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, জয়েন্ট এয়ার-টু-সারফেস স্ট্যান্ড-অফ মিসাইল (জেএএসএসএম) এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল (পিএসআরএম) রয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের সঙ্গে নতুন চুক্তি করে অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে।

সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের কেউ কেউ সতর্ক করে বলেছেন, স্বল্পমেয়াদে অস্ত্রের ঘাটতি ইরানের চেয়ে আরও উন্নত অস্ত্র প্রযুক্তির অধিকারী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরোধক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে মার্কিন গণমাধ্যমের সম্পর্ক নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন বলছে, ২০২৫ সালে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সমালোচনামূলক গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ট্রাম্প একাধিক উদ্বেগজনক পদক্ষেপ নিয়েছেন।

গণমাধ্যমের সংবাদে অসন্তুষ্ট হয়ে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিলের জন্য কেন্দ্রীয় সম্প্রচার নিয়ন্ত্রকদের ওপর চাপ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে।




সোনিয়া গান্ধীর আত্মকথা ছাপা হবে ভারতে

কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর আত্মকথা ভারতে ছাপবে আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা হারপার কলিন্স। শুক্রবার এই প্রকাশনা সংস্থা এক বিবৃতিতে এ খবর জানিয়েছে। ভারতে তা প্রকাশিত হবে আগামী ১০ নভেম্বর।

সোনিয়া গান্ধীর আত্মকথা ‘বিলংগিং : আ জার্নি অব লাভ’ প্রকাশ করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশনা সংস্থা আলফ্রেড এ ক্নপ্ফ। ভারতে তা প্রকাশ করার জন্য চুক্তি হয়েছিল পেঙ্গুইন র‌্যানডম হাউস ইন্ডিয়ার সঙ্গে। কিন্তু পেঙ্গুইন পিছিয়ে আসে। বইটির কোনো কোনো অধ্যায়ের ‘তথ্য’ নিয়ে প্রকাশনা সংস্থা আপত্তি জানায়। লেখককে ওই অংশগুলো নতুনভাবে সম্পাদনার অনুরোধ করে। কিন্তু সোনিয়া তাতে রাজি হননি।

ফলে গত ২৮ আগস্ট পেঙ্গুইন র‌্যানডম হাউস জানিয়ে দেয় তারা বইটি প্রকাশ করছে না। পেঙ্গুইনের ওই সিদ্ধান্তের পরই আসরে নামে হারপার কলিন্স। শুক্রবার প্রকাশনা সংস্থার পক্ষ থেকে ‘এক্স’ হ্যান্ডলে জানানো হয়, আগামী ১০ নভেম্বর ভারতে তারা সোনিয়া গান্ধীর আত্মকথা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবে।

‘বিলংগিং : আ জার্নি অব লাভ’কে ‘এ সময়ের অন্যতম সবচেয়ে প্রতীক্ষিত রাজনৈতিক স্মৃতিকথা’ আখ্যা দিয়ে তারা বলেছে, ‘এটি ভালোবাসা, আত্মপরিচয়, কর্তব্য ও একাত্মতাবোধের এক নাটকীয় ও গভীর ব্যক্তিগত আখ্যান, ভারতীয় প্রবাহকে খুব কাছ থেকে নিরীক্ষণ করা এক দলিল।’




বিয়ের পাত্রী না পেয়ে প্রাণ দিলেন ২৯ জন

ভারতের মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৩৮৩ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছেন। মহারাষ্ট্র পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে ২৯ জনের আত্মহত্যার কারণ হিসেবে বিয়ের জন্য পাত্রী না পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। আজ শনিবার বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদন থেকে এতথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আত্মহত্যার এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে মাদকাসক্তি, হতাশা, পারিবারিক সমস্যা ও ঋণের মতো নানা কারণও উঠে এসেছে। তবে ২৯ জনের আত্মহত্যার ঘটনায় বিয়ের জন্য পাত্রী না পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর জলগাঁওয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, সত্যিই কি শুধু পাত্রী না পাওয়ার কারণেই এসব আত্মহত্যা? নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও জটিল সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা?

জলগাঁওয়ের গ্রামগুলো ঘুরে তরুণ, তাদের পরিবার, নারী এবং এ বিষয়ে গবেষণা করা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে একটি জটিল চিত্র পাওয়া যায়। সেখানে বিয়ে এখন শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। চাকরি, জমির মালিকানা, জাতি, পারিবারিক দায়িত্ব, অভিবাসন, নারীদের বদলে যাওয়া প্রত্যাশা এবং পুরুষদের ওপর সামাজিক চাপ—সবকিছু মিলিয়ে বিয়ের বিষয়টি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠেছে।

‘ঠিক বয়সে বিয়ে হওয়া দরকার’

জলগাঁওয়ে বছর তিরিশের বিশাল পাতিলের সঙ্গে কথা হয়। তিনি পেশায় অধ্যাপক। বিয়ে নিয়ে তার কথায় জলগাঁওয়ের অনেক তরুণের চিন্তা ও অভিজ্ঞতার প্রতিফলন পাওয়া যায়। বিশাল পাতিল বলেন, তার বাবা-মাও চান তিনি বিয়ে করুন। তবে তিনি বিষয়টি কিছুটা পিছিয়ে দিচ্ছেন। কারণ, তিনি এখন ক্যারিয়ারে মনোযোগ দিতে চান এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে চান।

তিনি বলেন, এমন একজন নারীকে খুঁজে পাওয়ার পরই তিনি বিয়ে করতে চান, যিনি তাঁকে বুঝবেন এবং তার জন্য উপযুক্ত হবেন।

বিশাল পাতিলের মতে, ভারতীয় সমাজে বিয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট বয়সের ধারণা রয়েছে। সাধারণভাবে ২৪ থেকে ২৬ বছরের মধ্যে, অথবা সর্বোচ্চ ২৮-২৯ বছরের মধ্যে বিয়ে হয়ে যাওয়া উচিত বলে মনে করা হয়।

তার ভাষায়, কারো বয়স ৩০ বছর পেরিয়ে গেলে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে শুরু করে। শুধু বিয়ে না করার কারণে নয়, ওই ব্যক্তির মধ্যে কোনো খামতি আছে—এমন ধারণাও ধীরে ধীরে তৈরি হতে পারে।

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাউন্সেলিং করেন মুকেশ। তার ব্যাখ্যা, বিয়ের সঙ্গে যখন সামাজিক মর্যাদা ও সাফল্যের বিষয়গুলো জুড়ে দেওয়া হয়, তখন অনেক অবিবাহিত তরুণ বিয়ে না হওয়াকে নিজের ব্যর্থতা হিসেবে দেখতে শুরু করেন।

জলগাঁও পুলিশের সাম্প্রতিক আত্মহত্যার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণের সময় বিষয়টি তাই বিবেচনায় রাখা জরুরি। পুলিশের হিসাবে ২৯টি আত্মহত্যার ঘটনায় বিয়ের বিষয়টি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশও মনে করছে না যে এসব ঘটনার একমাত্র কারণ ছিল বিয়ে করতে না পারা। মাদকাসক্তি, হতাশা, পারিবারিক চাপ ও ঋণের মতো বিষয়ও এসব ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নারীর তুলনায় অবিবাহিত পুরুষ বেশি

মহারাষ্ট্রের এই পরিসংখ্যান আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করছে। ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে-৫ (এনএফএইচএস-৫) অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রে ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সী প্রায় ১১ শতাংশ নারী অবিবাহিত। পুরুষের ক্ষেত্রে এই হার ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ মহারাষ্ট্রে একই বয়সসীমায় অবিবাহিত পুরুষের সংখ্যা নারীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

তবে শুধু নারীর সংখ্যা কম হওয়াই এর একমাত্র কারণ কি না, সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। জলগাঁওয়ের কৌস্তুভ পোটদারের ঘটনা বিষয়টির একটি গুরুতর দিক সামনে আনে।

বি ফার্ম ডিগ্রি নেওয়ার পর নাসিকের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন কৌস্তুভ। তার মায়ের মৃত্যুর পর পরিবার তার জন্য পাত্রী খোঁজা শুরু করে। কিন্তু নিজের বাড়ি বা সরকারি চাকরি না থাকায় বিভিন্ন পাত্রীপক্ষের কাছ থেকে তাকে বারবার প্রত্যাখ্যাত হতে হয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আত্মহত্যা করেন কৌস্তুভ পোটদার।

তার ঘটনা দিয়ে অবশ্য বলা যায় না যে প্রতিটি বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পেছনে একই কারণ কাজ করে। তবে তার ঘটনা দেখায়, বিয়ের ক্ষেত্রে পুরুষের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও পারিবারিক কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

‘পাকা বাড়ি বানালে তবেই পাত্রী পাব’

জলগাঁওয়ের এক প্রবীণ নারী জানিয়েছেন, তার ছেলের বয়স এখন ৪০ বছর। বহু বছর ধরে তিনি ছেলের জন্য পাত্রী খুঁজছেন। কিন্তু পাত্রীপক্ষের কাছ থেকে বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর এখন তিনি নিজেই একটি পাকা বাড়ি তৈরি করছেন। তার আশা, বাড়ি তৈরি হয়ে গেলে ছেলের জন্য পাত্রী পাওয়া যাবে।

ছেলের বিয়ে না হওয়া নিয়ে তার উদ্বেগ স্পষ্ট ছিল। তবে কথায় তার চেয়েও বেশি ছিল অসহায়ত্ব। কারণ, বছরের পর বছর চেষ্টা করেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। মহারাষ্ট্রের গ্রামাঞ্চল নিয়ে গবেষণা করেছেন ময়ূর কুডুপলে ও জোয়েল কাবালিয়ান। তাদের গবেষণাতেও এই পরিবর্তনের প্রতিফলন পাওয়া যায়।

গবেষণা অনুযায়ী, গ্রামে বিয়ের ক্ষেত্রে নারীদের পছন্দকে প্রভাবিত করে জমি, শিক্ষা, জাতি ও পাত্রের বয়সের মতো বিষয়। ময়ূর কুডুপলে বলেন, একসময় মেয়ের পরিবার সবচেয়ে বেশি দেখত পাত্রের কত জমি আছে। এখন জমির চেয়ে পাত্রের চাকরি আছে কি না, সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার মতে, গ্রামীণ অর্থনীতি বদলেছে। কিন্তু বিয়ে নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা সেই অনুযায়ী সমানভাবে বদলায়নি।

আগে জমিকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। এখন তার জায়গায় এসেছে নিয়মিত আয়, কর্মসংস্থান, শহরে থাকার সম্ভাবনা এবং নিজের বাড়ি থাকার মতো বিষয়।

বদলে যাচ্ছে বিয়ে নিয়ে প্রত্যাশা

এসব পরিবর্তনের মধ্যেও জাতি এখনো বড় বাধা হয়ে আছে। ময়ূর কুডুপলের মতে, জাতি ও উপজাতির মতো বিষয় বিয়ের ক্ষেত্রে মানুষের পছন্দের পরিধি সীমিত করে। পাত্র-পাত্রীর খোঁজ করার সময় অনেক পরিবার নিজেদের জাতি ও উপজাতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। লিঙ্গ সমতা প্রশিক্ষক দর্শনা পাওয়ার এই কাঠামোর আরেকটি দিক তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, কোনো পুরুষ বিয়ের প্রয়োজন বোধ করলে অন্য জাতির নারীকে বিয়ে করতে রাজি হতে পারেন। কিন্তু সেই নারীর জাতি তাঁর বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজন মেনে নেবেন কি না, সেটি বড় প্রশ্ন। অর্থাৎ বিয়ের ক্ষেত্রে জাতিভিত্তিক বাধা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। শুধু এর ধরন বদলেছে।

বিয়ে নিয়ে নারীদের প্রত্যাশা

জলগাঁওয়ে পুরুষদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রায়ই একটি অভিযোগ শোনা গেছে। অনেক পুরুষের দাবি, বিয়ে নিয়ে নারীদের প্রত্যাশা বেড়ে গেছে। তাদের ধারণা, নারীরা এমন পুরুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে চান, যার চাকরি আছে, শহরে বাড়ি আছে এবং যিনি আর্থিকভাবে স্থিতিশীল। তবে নারীদের সঙ্গে কথা বলে কিছুটা ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। বিয়ে ও ব্যক্তিগত প্রত্যাশা নিয়ে ২০-২২ বছর বয়সি এক তরুণীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সাক্ষাৎকারের পরদিন তার পরিবার জানায়, ওই কথোপকথন প্রতিবেদনে ব্যবহার করা যাবে না। এতে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়। নারীদের প্রত্যাশা বদলালেও তা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলার স্বাধীনতা সবার নেই।

দর্শনা পাওয়ার বলেন, স্বামীর সঙ্গে কথা বলা বা বাইরে একসঙ্গে সময় কাটাতে চাওয়া কোনো ভুল প্রত্যাশা নয়। এটি বাড়াবাড়ি ধরনের চাহিদাও নয়। বরং এটি মৌলিক ও যুক্তিসঙ্গত আকাঙ্ক্ষা। এ বিষয়ে এখন সচেতনতা বাড়ছে। জলগাঁওয়ে যাঁদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, তাদের বেশির ভাগই বিয়ে না হওয়ার জন্য শুধু নারীদের দায়ী করেছেন।

ময়ূর কুডুপলের গবেষণাতেও বিয়ে নিয়ে গ্রামের নারী ও পুরুষের পছন্দের পরিবর্তন নিয়ে একই ধরনের অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। তবে গবেষণায় নারীদের পছন্দের পরিবর্তনকে শুধু প্রত্যাশা বেড়ে যাওয়া হিসেবে দেখা হয়নি। এর পেছনে কৃষিকাজ কমে আসা, বেকারত্ব, শিক্ষা নিয়ে পরিবর্তিত চিন্তা, জাতি ও সামাজিক অবস্থানের মতো একাধিক কারণ রয়েছে।

পুরুষের অবস্থান কী?

জলগাঁও জেলার বিভিন্ন গ্রামে বিয়ে নিয়ে কথা বলার সময় পুরুষদের কথার ধরনও বদলাতে দেখা গেছে। তাদের কেউ কেউ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। একজন যুবক সরাসরি বলেছেন, তিনি ক্যামেরার সামনে নিজের কথা বললে তাকে কে বিয়ে করবে? অনেক পরিবার এখন ছেলেদের বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া বন্ধ করেছে। কারণ, বছরের পর বছর চেষ্টা করেও সাফল্য না পাওয়ায় তারাও অনেকটা আশা ছেড়ে দিয়েছে।

তবে কিছু পরিবার এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ বাড়ি তৈরি করছে, কেউ জমি কিনছে। কেউ আবার ছেলের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করার চেষ্টা করছে, যাতে বিয়ের জন্য পাত্রী পাওয়া সহজ হয়। অনেক পরিবার এখন ঘটকের ওপর নির্ভর করছে। তবে কিছু অভিভাবকের অভিযোগ, বিয়ের আয়োজনের নামে প্রতারণার ঘটনাও বেড়েছে। জীবনসঙ্গীর সন্ধানে কিছু পুরুষ মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলেও যাচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, পাত্রী পাওয়ার জন্য কিছু পরিবার অর্থ দিতেও রাজি হচ্ছে। ফলে পাত্র-পাত্রীর খোঁজ এখন আত্মীয়স্বজনের প্রচলিত গণ্ডি পেরিয়ে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী, অর্থের লেনদেন এবং দূরের জেলায় গিয়ে পাত্রী খোঁজার মতো বিষয়।

কন্যাভ্রূণ হত্যা থেকে বিয়ের ব্যবস্থায় পরিবর্তন

এই প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় তুলে ধরেছেন দর্শনা পাওয়ার। তিনি বলেন, গত কয়েক দশকে ব্যাপক কন্যাভ্রূণ হত্যার প্রভাব এখন বিবাহযোগ্য বয়সি পুরুষ প্রজন্মের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সি যেসব পুরুষ এখনো জীবনসঙ্গী খুঁজে পাননি, তারা এমন সময়ে জন্মেছেন, যখন বিপুলসংখ্যক কন্যাভ্রূণ নষ্ট করা হয়েছে। তবে মেয়ের সংখ্যা কমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে নারীরা এখন বিয়ে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার পেয়েছেন।

ময়ূর কুডুপলে ও জোয়েল কাবালিয়ানের গবেষণাতেও বলা হয়েছে, নারীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কিছুটা বাড়লেও পারিবারিক প্রত্যাশা, জাতি ও সামাজিক কাঠামোর মতো বিষয় এখনো তাদের ওপর চাপ তৈরি করে। অন্যদিকে চাকরি, আয়, বর্ণ, পারিবারিক প্রত্যাশা এবং বিয়ে নিয়ে বদলে যাওয়া ধারণার মধ্যে পুরুষেরাও নিজেদের অবস্থান খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সব মিলিয়ে জলগাঁওয়ের চিত্র বলছে, বিয়ের সংকটকে শুধু ‘পাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না’—এভাবে দেখলে পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জনসংখ্যার ভারসাম্য, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, চাকরি, জমি, জাতি, পারিবারিক প্রত্যাশা এবং নারী-পুরুষের বদলে যাওয়া দৃষ্টিভঙ্গি।

বিশাল পাতিল অবশ্য বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখেন। তার ভাষায়, ‘বিয়েই জীবনের সবকিছু নয়।’

মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে

মানসিক চাপ, হতাশা বা অন্য কোনো মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হলে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া উচিত। আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ মানসিক সমস্যায় ভুগলে বা এর কোনো লক্ষণ অনুভব করলে সরকারি হেল্পলাইনে যোগাযোগ করা যেতে পারে। পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গেও কথা বলা জরুরি।




ফের ইরানের পিকঅ্যাক্স পর্বতে হামলার হুমকি ট্রাম্পের

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতে শিগগিরই হামলা চালানো হতে পারে বলে ফের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব শিগগিরই’ পিকঅ্যাক্সে হামলা চালাতে পারে। কাতারভিত্তিক বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন সামরিক অভিযানকে ‘বিচ্ছিন্ন’ হামলা বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনায় হামলার ইঙ্গিত দেন তিনি। ট্রাম্প চলমান যুদ্ধকে তুলনামূলকভাবে ‘ছোটখাটো বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধে যেখানে প্রায় এক লাখ মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছিলেন, সেখানে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৮ জন আমেরিকান নিহত হয়েছেন।

পিকঅ্যাক্স পর্বত ইরানে স্থানীয়ভাবে ‘কুহ-এ কোলাং গাজ লা’ নামে পরিচিত। এটি দেশটির ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত নাতানজ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনার কাছাকাছি অবস্থিত। পাহাড়টির ভেতরে রয়েছে গভীর ভূগর্ভস্থ দুটি টানেল কমপ্লেক্স।

প্রায় ২০২০ সাল থেকে ওই এলাকায় খননকাজ শুরু হয়। পরে শক্ত গ্রানাইট পাথরের স্তরের কয়েকশ মিটার নিচে বিশাল ভূগর্ভস্থ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থা ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ নিয়ে কাজ করা বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান সেখানে গোপন একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র তৈরির চেষ্টা করছিল। তাদের মতে, এটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য একটি ‘কৌশলগত বিকল্প’ হিসেবে তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে ইরান অতীতে দাবি করেছে, পাহাড়ের ভেতরের এই স্থাপনা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য নয়; বরং সেখানে সেন্ট্রিফিউজ তৈরির কাজ করা হচ্ছে।

এর আগে জুলাইয়ের মাঝামাঝিতেও পিকঅ্যাক্স পর্বতে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সে সময় ‘দ্য হিউ হিউইট শো’-তে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র পিকঅ্যাক্স পর্বত ধ্বংস করবে এবং ইরানকে প্রস্তুত থাকতে বলেছিলেন। খুব শিগগিরই সেখানে হামলা চালানো হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি।

পিকঅ্যাক্স পর্বত নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো এর গভীরতা। অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, পাহাড়ের অনেক গভীরে নির্মিত ভূগর্ভস্থ টানেলগুলো এতটাই সুরক্ষিত যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী ‘বাংকার-বাস্টার’ বোমাও সেগুলোতে কার্যকরভাবে আঘাত হানতে নাও পারে।

ফলে ট্রাম্পের সর্বশেষ হুমকি বাস্তবে রূপ নিলে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোর পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় হামলা চালানোর সক্ষমতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে। একই সঙ্গে এমন হামলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।




তিব্বত-নেপালে বন্যায় নিহত বেড়ে ১২২৫, নিখোঁজ ৪৭৫৭

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ১ হাজার ২০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া এখনও ৪ হাজার ২১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্যোগের এক সপ্তাহ পর গতকাল বুধবার দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনের আরও বলা হয়, চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিব্বতে বন্যায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

অর্থাৎ দুই দেশের ভয়াবহ বন্যায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২২৫ জনে। আর নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৭৫৭ জন।

উল্লেখ্য, গত ২৬ আগস্ট নেপাল চীন সীমান্তের পার্বত্য এলাকায় বরফ ও পাথরের বিশাল অংশ ধসে পড়ে। এতে লেন্দে খোলা নদীতে বিপুল পানি ও পাথর জমে বাঁধ ভেঙে যায়। পরে সেই স্রোত ভোতে কোশি বা ত্রিশূলী নদীতে নেমে এসে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

পাহাড়ি নদী, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ধসে পড়া ঘরবাড়ির ধ্বংসস্তূপে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে।

এদিকে নিখোঁজের সংখ্যা বেশি হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।




বলিভিয়ায় সামরিক ব্যারাকে বিস্ফোরণ, নিহত ২

বলিভিয়ায় একটি সামরিক ব্যারাকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত দুজন নিহত ও ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। শুক্রবার দেশটির লা পাজ শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের ভিয়াচা পৌর এলাকায় এ বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় আরও ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী আর্নেস্তো জাস্টিনিয়ানো জানান, স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর প্রায় আড়াইটার দিকে সামরিক স্থাপনার একটি এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটে। ওই এলাকায় আতশবাজি ও অন্যান্য পাইরোটেকনিক সামগ্রী সংরক্ষণ করা হতো।

বিস্ফোরণের সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংরক্ষণ করা আতশবাজির মজুত থেকেই বিস্ফোরণের সূত্রপাত।

এর আগে ভিয়াচার স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক রিতা নেব্রাস্কা স্থানীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছিলেন, ঘটনায় ১০ থেকে ১৫ জনের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে এবং ৬২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৪ জনকে লা পাজের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে এক কিশোরীও রয়েছে, যার শরীরের তৃতীয় মাত্রার দগ্ধ হয়েছে বলে জানান তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণে ৫০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। পাশাপাশি আশপাশের বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় মূলত বাড়িগুলোর জানালার কাচ ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ঘটনার পর সামরিক কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক দল ও পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। তারা ক্ষয়ক্ষতির পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং আহতদের দ্রুত বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার কাজ করেন।

তবে বিস্ফোরণের পরও ঘটনাস্থলে নতুন করে বিস্ফোরণের আশঙ্কা রয়েছে। ভিয়াচার স্বাস্থ্য পরিচালক নেব্রাস্কা জানান, দমকলকর্মীরা সেখানে এখনও একটি তাপের উৎস থাকার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। ফলে আরও বিস্ফোরণ ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ কারণে আশপাশের বাসিন্দাদের ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ১৫০ মিটার দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ, নিখোঁজ ব্যক্তিদের অবস্থান এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে তদন্ত চলছে।




কেরালায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮ শিক্ষার্থী

ভারতের কেরালার ত্রিশূর জেলায় মহাসড়কের পাশে ‘অবৈধভাবে’ পার্ক করে রাখা একটি লরির পেছনে গাড়ির ধাক্কায় তামিলনাড়ুর দিন্দিগুলের আট প্রকৌশল শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। শনিবার ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান হয়।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে কাইপামঙ্গলামের পানাম্বিকুন্নু এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের বহনকারী গাড়িটি গুরুভায়ুর থেকে কোডুঙ্গালুরের দিকে যাওয়ার সময় মহারাষ্ট্রের নিবন্ধিত একটি লরির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়।

প্রাথমিক তদন্ত ও এফআইআরের তথ্য অনুযায়ী, নির্মাণকাজ চলায় মহাসড়কের একটি অংশে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ওই এলাকায় মহাসড়কের ডান পাশে লরিটি অবৈধভাবে পার্ক করা ছিল।

পুলিশের ধারণা, গাড়িটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল এবং চালক ব্যারিকেড দেখে যান চলাচলের পরিবর্তিত পথ বুঝতে পারেননি। পরে গাড়িটি সরাসরি লরির পেছনে গিয়ে ধাক্কা দেয়।

দুর্ঘটনায় ছয় শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত আরও দুজনকে কাছের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতরা দিন্দিগুলের একটি প্রকৌশল কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তারা সবাই এনএইচ-৬৬ মহাসড়ক দিয়ে কোডুঙ্গালুরের দিকে যাচ্ছিলেন।

পুলিশ ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তারা হলেন- সূর্য, যুবাসাঞ্জিত, বিশ্ব, জোহুয়া, সন্তোষ ও প্রসন্ন। প্রথম চারজন দিন্দিগুলের এবং সন্তোষ ও প্রসন্ন মাদুরাইয়ের বাসিন্দা। নিহত অপর দুজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, দমকল ও উদ্ধারকর্মী এবং পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়ি থেকে শিক্ষার্থীদের মরদেহ বের করে আনে। পরে মরদেহগুলো ত্রিশূর মেডিকেল কলেজের মর্গে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় কাইপামঙ্গলম থানায় লরিচালকের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকেই লরিচালক পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহতদের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষার্থী পরিচয়পত্রের মাধ্যমে পুলিশ তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকটি পরিবার জানতই না যে তাদের সন্তানরা কেরালায় গিয়েছিলেন।

নিহতদের পরিবারের সদস্যরা ত্রিশূর মেডিকেল কলেজে পৌঁছানোর পর মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




নেপালের জলবিদ্যুৎ টানেল থেকে চীনা নাগরিক জীবিত উদ্ধার

নেপালে ভয়াবহ বন্যার ১০ দিন পর একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ টানেল থেকে এক চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার স্থানীয় সময় বিকেলে আপার ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল থেকে তাকে উদ্ধার করে নেপালি সেনাবাহিনী ও বিদেশি উদ্ধারকারীদের একটি যৌথ দল। মার্কিন বার্তাসংস্থা সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

নেপালি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া চীনা নাগরিকের নাম লুহাইতাও। টানেলের ভেতরে প্রায় ২২৫ মিটার দূরের একটি স্থান থেকে তাকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনা হয়।

উদ্ধারের পর লুহাইতাওয়ের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী। তবে তার বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

নেপালি সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘নেপালি সেনাবাহিনী ও বিদেশি উদ্ধারকারীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ উদ্ধারকারী দল আপার ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেলের ভেতর থেকে চীনা নাগরিক লুহাইতাওকে জীবিত উদ্ধার করেছে।’

গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমবাহ ধসের পর ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ঢলে ত্রিশুলি উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা বিপর্যস্ত হয়। এতে বহু মানুষ নিহত ও নিখোঁজ হন। একই সঙ্গে উপত্যকার একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা আটকা পড়েন।

দুর্যোগের পর থেকেই এসব টানেলে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে আসছে নেপালি সেনাবাহিনী ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দল। কাদা, ধ্বংসাবশেষ ও পানিতে টানেলগুলো ভরে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

লুহাইতাওকে উদ্ধারের পরও আপার ত্রিশুলি-১সহ বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নেপালি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধারকারীরা একই সঙ্গে টানেলের ভেতরে আটকে থাকা অন্যদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।

বন্যার ১০ দিন পরও একজনকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনায় নিখোঁজদের স্বজনদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলোও টানেলের ভেতরে জীবিত আরও কাউকে পাওয়া যেতে পারে এই আশায় তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।




বিয়ের পাত্রী না পেয়ে প্রাণ দিলো ২৯ জন

ভারতের মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৩৮৩ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছেন। মহারাষ্ট্র পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে ২৯ জনের আত্মহত্যার কারণ হিসেবে বিয়ের জন্য পাত্রী না পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আত্মহত্যার এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে মাদকাসক্তি, হতাশা, পারিবারিক সমস্যা ও ঋণের মতো নানা কারণও উঠে এসেছে।

তবে ২৯ জনের আত্মহত্যার ঘটনায় বিয়ের জন্য পাত্রী না পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর জলগাঁওয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, সত্যিই কি শুধু পাত্রী না পাওয়ার কারণেই এসব আত্মহত্যা? নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও জটিল সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা?

জলগাঁওয়ের গ্রামগুলো ঘুরে তরুণ, তাদের পরিবার, নারী এবং এ বিষয়ে গবেষণা করা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে একটি জটিল চিত্র পাওয়া যায়। সেখানে বিয়ে এখন শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। চাকরি, জমির মালিকানা, জাতি, পারিবারিক দায়িত্ব, অভিবাসন, নারীদের বদলে যাওয়া প্রত্যাশা এবং পুরুষদের ওপর সামাজিক চাপ—সবকিছু মিলিয়ে বিয়ের বিষয়টি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠেছে।

‘ঠিক বয়সে বিয়ে হওয়া দরকার’

জলগাঁওয়ে বছর তিরিশের বিশাল পাতিলের সঙ্গে কথা হয়। তিনি পেশায় অধ্যাপক। বিয়ে নিয়ে তার কথায় জলগাঁওয়ের অনেক তরুণের চিন্তা ও অভিজ্ঞতার প্রতিফলন পাওয়া যায়। বিশাল পাতিল বলেন, তার বাবা-মাও চান তিনি বিয়ে করুন। তবে তিনি বিষয়টি কিছুটা পিছিয়ে দিচ্ছেন। কারণ, তিনি এখন ক্যারিয়ারে মনোযোগ দিতে চান এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে চান।

তিনি বলেন, এমন একজন নারীকে খুঁজে পাওয়ার পরই তিনি বিয়ে করতে চান, যিনি তাঁকে বুঝবেন এবং তার জন্য উপযুক্ত হবেন।

বিশাল পাতিলের মতে, ভারতীয় সমাজে বিয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট বয়সের ধারণা রয়েছে। সাধারণভাবে ২৪ থেকে ২৬ বছরের মধ্যে, অথবা সর্বোচ্চ ২৮-২৯ বছরের মধ্যে বিয়ে হয়ে যাওয়া উচিত বলে মনে করা হয়।

তার ভাষায়, কারো বয়স ৩০ বছর পেরিয়ে গেলে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে শুরু করে। শুধু বিয়ে না করার কারণে নয়, ওই ব্যক্তির মধ্যে কোনো খামতি আছে—এমন ধারণাও ধীরে ধীরে তৈরি হতে পারে।

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাউন্সেলিং করেন মুকেশ। তার ব্যাখ্যা, বিয়ের সঙ্গে যখন সামাজিক মর্যাদা ও সাফল্যের বিষয়গুলো জুড়ে দেওয়া হয়, তখন অনেক অবিবাহিত তরুণ বিয়ে না হওয়াকে নিজের ব্যর্থতা হিসেবে দেখতে শুরু করেন।

জলগাঁও পুলিশের সাম্প্রতিক আত্মহত্যার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণের সময় বিষয়টি তাই বিবেচনায় রাখা জরুরি। পুলিশের হিসাবে ২৯টি আত্মহত্যার ঘটনায় বিয়ের বিষয়টি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশও মনে করছে না যে এসব ঘটনার একমাত্র কারণ ছিল বিয়ে করতে না পারা। মাদকাসক্তি, হতাশা, পারিবারিক চাপ ও ঋণের মতো বিষয়ও এসব ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নারীর তুলনায় অবিবাহিত পুরুষ বেশি

মহারাষ্ট্রের এই পরিসংখ্যান আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করছে। ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে-৫ (এনএফএইচএস-৫) অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রে ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সী প্রায় ১১ শতাংশ নারী অবিবাহিত। পুরুষের ক্ষেত্রে এই হার ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ মহারাষ্ট্রে একই বয়সসীমায় অবিবাহিত পুরুষের সংখ্যা নারীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

তবে শুধু নারীর সংখ্যা কম হওয়াই এর একমাত্র কারণ কি না, সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। জলগাঁওয়ের কৌস্তুভ পোটদারের ঘটনা বিষয়টির একটি গুরুতর দিক সামনে আনে।

বি ফার্ম ডিগ্রি নেওয়ার পর নাসিকের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন কৌস্তুভ। তার মায়ের মৃত্যুর পর পরিবার তার জন্য পাত্রী খোঁজা শুরু করে। কিন্তু নিজের বাড়ি বা সরকারি চাকরি না থাকায় বিভিন্ন পাত্রীপক্ষের কাছ থেকে তাকে বারবার প্রত্যাখ্যাত হতে হয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আত্মহত্যা করেন কৌস্তুভ পোটদার।

তার ঘটনা দিয়ে অবশ্য বলা যায় না যে প্রতিটি বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পেছনে একই কারণ কাজ করে। তবে তার ঘটনা দেখায়, বিয়ের ক্ষেত্রে পুরুষের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও পারিবারিক কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

‘পাকা বাড়ি বানালে তবেই পাত্রী পাব’

জলগাঁওয়ের এক প্রবীণ নারী জানিয়েছেন, তার ছেলের বয়স এখন ৪০ বছর। বহু বছর ধরে তিনি ছেলের জন্য পাত্রী খুঁজছেন। কিন্তু পাত্রীপক্ষের কাছ থেকে বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর এখন তিনি নিজেই একটি পাকা বাড়ি তৈরি করছেন। তার আশা, বাড়ি তৈরি হয়ে গেলে ছেলের জন্য পাত্রী পাওয়া যাবে।

ছেলের বিয়ে না হওয়া নিয়ে তার উদ্বেগ স্পষ্ট ছিল। তবে কথায় তার চেয়েও বেশি ছিল অসহায়ত্ব। কারণ, বছরের পর বছর চেষ্টা করেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। মহারাষ্ট্রের গ্রামাঞ্চল নিয়ে গবেষণা করেছেন ময়ূর কুডুপলে ও জোয়েল কাবালিয়ান। তাদের গবেষণাতেও এই পরিবর্তনের প্রতিফলন পাওয়া যায়।

গবেষণা অনুযায়ী, গ্রামে বিয়ের ক্ষেত্রে নারীদের পছন্দকে প্রভাবিত করে জমি, শিক্ষা, জাতি ও পাত্রের বয়সের মতো বিষয়। ময়ূর কুডুপলে বলেন, একসময় মেয়ের পরিবার সবচেয়ে বেশি দেখত পাত্রের কত জমি আছে। এখন জমির চেয়ে পাত্রের চাকরি আছে কি না, সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার মতে, গ্রামীণ অর্থনীতি বদলেছে। কিন্তু বিয়ে নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা সেই অনুযায়ী সমানভাবে বদলায়নি।

আগে জমিকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। এখন তার জায়গায় এসেছে নিয়মিত আয়, কর্মসংস্থান, শহরে থাকার সম্ভাবনা এবং নিজের বাড়ি থাকার মতো বিষয়।

বদলে যাচ্ছে বিয়ে নিয়ে প্রত্যাশা

এসব পরিবর্তনের মধ্যেও জাতি এখনো বড় বাধা হয়ে আছে। ময়ূর কুডুপলের মতে, জাতি ও উপজাতির মতো বিষয় বিয়ের ক্ষেত্রে মানুষের পছন্দের পরিধি সীমিত করে। পাত্র-পাত্রীর খোঁজ করার সময় অনেক পরিবার নিজেদের জাতি ও উপজাতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। লিঙ্গ সমতা প্রশিক্ষক দর্শনা পাওয়ার এই কাঠামোর আরেকটি দিক তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, কোনো পুরুষ বিয়ের প্রয়োজন বোধ করলে অন্য জাতির নারীকে বিয়ে করতে রাজি হতে পারেন। কিন্তু সেই নারীর জাতি তাঁর বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজন মেনে নেবেন কি না, সেটি বড় প্রশ্ন। অর্থাৎ বিয়ের ক্ষেত্রে জাতিভিত্তিক বাধা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। শুধু এর ধরন বদলেছে।

বিয়ে নিয়ে নারীদের প্রত্যাশা

জলগাঁওয়ে পুরুষদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রায়ই একটি অভিযোগ শোনা গেছে। অনেক পুরুষের দাবি, বিয়ে নিয়ে নারীদের প্রত্যাশা বেড়ে গেছে। তাদের ধারণা, নারীরা এমন পুরুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে চান, যার চাকরি আছে, শহরে বাড়ি আছে এবং যিনি আর্থিকভাবে স্থিতিশীল। তবে নারীদের সঙ্গে কথা বলে কিছুটা ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। বিয়ে ও ব্যক্তিগত প্রত্যাশা নিয়ে ২০-২২ বছর বয়সি এক তরুণীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সাক্ষাৎকারের পরদিন তার পরিবার জানায়, ওই কথোপকথন প্রতিবেদনে ব্যবহার করা যাবে না। এতে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়। নারীদের প্রত্যাশা বদলালেও তা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলার স্বাধীনতা সবার নেই।

দর্শনা পাওয়ার বলেন, স্বামীর সঙ্গে কথা বলা বা বাইরে একসঙ্গে সময় কাটাতে চাওয়া কোনো ভুল প্রত্যাশা নয়। এটি বাড়াবাড়ি ধরনের চাহিদাও নয়। বরং এটি মৌলিক ও যুক্তিসঙ্গত আকাঙ্ক্ষা। এ বিষয়ে এখন সচেতনতা বাড়ছে। জলগাঁওয়ে যাঁদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, তাদের বেশির ভাগই বিয়ে না হওয়ার জন্য শুধু নারীদের দায়ী করেছেন।

ময়ূর কুডুপলের গবেষণাতেও বিয়ে নিয়ে গ্রামের নারী ও পুরুষের পছন্দের পরিবর্তন নিয়ে একই ধরনের অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। তবে গবেষণায় নারীদের পছন্দের পরিবর্তনকে শুধু প্রত্যাশা বেড়ে যাওয়া হিসেবে দেখা হয়নি। এর পেছনে কৃষিকাজ কমে আসা, বেকারত্ব, শিক্ষা নিয়ে পরিবর্তিত চিন্তা, জাতি ও সামাজিক অবস্থানের মতো একাধিক কারণ রয়েছে।

পুরুষের অবস্থান কী?

জলগাঁও জেলার বিভিন্ন গ্রামে বিয়ে নিয়ে কথা বলার সময় পুরুষদের কথার ধরনও বদলাতে দেখা গেছে। তাদের কেউ কেউ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। একজন যুবক সরাসরি বলেছেন, তিনি ক্যামেরার সামনে নিজের কথা বললে তাকে কে বিয়ে করবে? অনেক পরিবার এখন ছেলেদের বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া বন্ধ করেছে। কারণ, বছরের পর বছর চেষ্টা করেও সাফল্য না পাওয়ায় তারাও অনেকটা আশা ছেড়ে দিয়েছে।

তবে কিছু পরিবার এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ বাড়ি তৈরি করছে, কেউ জমি কিনছে। কেউ আবার ছেলের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করার চেষ্টা করছে, যাতে বিয়ের জন্য পাত্রী পাওয়া সহজ হয়। অনেক পরিবার এখন ঘটকের ওপর নির্ভর করছে। তবে কিছু অভিভাবকের অভিযোগ, বিয়ের আয়োজনের নামে প্রতারণার ঘটনাও বেড়েছে। জীবনসঙ্গীর সন্ধানে কিছু পুরুষ মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলেও যাচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, পাত্রী পাওয়ার জন্য কিছু পরিবার অর্থ দিতেও রাজি হচ্ছে। ফলে পাত্র-পাত্রীর খোঁজ এখন আত্মীয়স্বজনের প্রচলিত গণ্ডি পেরিয়ে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী, অর্থের লেনদেন এবং দূরের জেলায় গিয়ে পাত্রী খোঁজার মতো বিষয়।

কন্যাভ্রূণ হত্যা থেকে বিয়ের ব্যবস্থায় পরিবর্তন

এই প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় তুলে ধরেছেন দর্শনা পাওয়ার। তিনি বলেন, গত কয়েক দশকে ব্যাপক কন্যাভ্রূণ হত্যার প্রভাব এখন বিবাহযোগ্য বয়সি পুরুষ প্রজন্মের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সি যেসব পুরুষ এখনো জীবনসঙ্গী খুঁজে পাননি, তারা এমন সময়ে জন্মেছেন, যখন বিপুলসংখ্যক কন্যাভ্রূণ নষ্ট করা হয়েছে। তবে মেয়ের সংখ্যা কমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে নারীরা এখন বিয়ে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার পেয়েছেন।

ময়ূর কুডুপলে ও জোয়েল কাবালিয়ানের গবেষণাতেও বলা হয়েছে, নারীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কিছুটা বাড়লেও পারিবারিক প্রত্যাশা, জাতি ও সামাজিক কাঠামোর মতো বিষয় এখনো তাদের ওপর চাপ তৈরি করে। অন্যদিকে চাকরি, আয়, বর্ণ, পারিবারিক প্রত্যাশা এবং বিয়ে নিয়ে বদলে যাওয়া ধারণার মধ্যে পুরুষেরাও নিজেদের অবস্থান খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সব মিলিয়ে জলগাঁওয়ের চিত্র বলছে, বিয়ের সংকটকে শুধু ‘পাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না’—এভাবে দেখলে পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জনসংখ্যার ভারসাম্য, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, চাকরি, জমি, জাতি, পারিবারিক প্রত্যাশা এবং নারী-পুরুষের বদলে যাওয়া দৃষ্টিভঙ্গি।

বিশাল পাতিল অবশ্য বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখেন। তার ভাষায়, ‘বিয়েই জীবনের সবকিছু নয়।’

মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে

মানসিক চাপ, হতাশা বা অন্য কোনো মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হলে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া উচিত। আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ মানসিক সমস্যায় ভুগলে বা এর কোনো লক্ষণ অনুভব করলে সরকারি হেল্পলাইনে যোগাযোগ করা যেতে পারে। পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গেও কথা বলা জরুরি।

সুত্র: বিবিসি বাংলা