ক্লিনিকে ইজিবাইকের লাইট জ্বালিয়ে অপারেশন!

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দিন দীপু জানান, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে দুপুর ১২টার পর মডার্ন ডায়াগনস্টিক এবং আল মদিনা প্রাইভেট হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও লাইসেন্স না থাকায় মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করা হয়।

এরপর আল মদিনা প্রাইভেট হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। ওই হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে ইজিবাইকের লাইট ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া খাবার পানির উৎসের পাশেই ময়লার স্তূপ জমা ছিল, পর্যাপ্ত বেডের ব্যবস্থা ছিল না এবং রোগীদের রেজিস্টার পাওয়া যায়নি। এসব কারণে দণ্ডবিধির ৫২ ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া অভিযানের অংশ হিসেবে এ হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতালও পরিদর্শন করা হয়। সেখানে কোনো অসঙ্গতি পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: ফিলিং স্টেশন থেকে ৫০০ টাকার তেল নিয়ে স্টার্ট দিতেই পুড়ল মোটরসাইকেল

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, জনস্বার্থে স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এবং অনিয়মকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযানকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশীষ কুমার বসু, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শোভন বিশ্বাসসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




মারা গেছেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। ভারতীয় সংগীতের অন্যতম আইকনিক ও বহুমুখী প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে সুপরিচিত আশা ভোঁসলে। আট দশকের বেশি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি একাধিক ভারতীয় ভাষার পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি ভাষাতেও হাজার হাজার গান রেকর্ড করেছেন।




এক ট্রাম্পের পাল্লায় পড়ে ন্যাটো কি অস্তিত্ব হারাবে

দেশবাসীর কাছে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলার ব্যাখ্যা দিতে গত বুধবার টেলিভিশনে হাজির হয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেদিনের ভাষণে তিনি ইরানের ওপর তীব্র বোমাবর্ষণ করে দেশটিকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফেরত পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন।

ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য অর্জন হবে বলেও দাবি করেছেন। কিন্তু এ যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরের এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মার্কিনরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।

রয়টার্স/ইপসোসের সম্প্রতিক একটি জরিপে ইরান যুদ্ধ নিয়ে সাধারণ মার্কিনদের ভেতর হতাশা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির চিত্র উঠে এসেছে।

জরিপে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ মানুষ বলেছেন, তাঁরা মার্কিন সেনাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়েও তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক।

প্রায় অর্ধেক মানুষ মনে করেন, এ যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা আরও কমে যাবে এবং ইরানের মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও খারাপ হবে।

জরিপে অংশ নেওয়া চারজনের মধ্যে তিনজনের বেশি মানুষ মার্কিন স্থল সেনাদের ইরানে পাঠানোর বিপক্ষে। ইরানে আক্রমণের একটি বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সেখানে স্থল সেনা পাঠানোর কথা বিবেচনা করার কথা জানিয়েছেন।

ইরান যুদ্ধে সহজ জয়ের উদ্ভট কল্পনা

বাজারবিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের ভাষণ দেওয়ার পরদিন বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যায়। এর কারণে, আগামী সপ্তাহে দেশটিতে খুচরা তেলের দাম গড়ে প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ২৫ ডলার থেকে ৪ দশমিক ৪৫ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ট্রাম্পের হুমকির জবাবে সতর্ক করে ‘আরও বিধ্বংসী, বিস্তৃত ও ধ্বংসাত্মক’ হামলার হুমকি দিয়েছে। এ ছাড়া তেহরান এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধে তাদের সক্ষমতা দেখিয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, বিশ্ববাজারে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের ওপর এর প্রভাব আরও গভীর হবে।




যে কারণে চেঙ্গিস খানের পথে হাঁটছেন নেতানিয়াহু

খ্রিষ্টধর্মের অন্যতম পবিত্র স্থান জেরুজালেমের ‘চার্চ অব দ্য হোলি সেপালকার’। প্রতিবছর পাম সানডে বা খর্জূর রোববারে এখানে পুণ্যার্থীদের ঢল নামে। কিন্তু এবার দৃশ্যপট ছিল ভিন্ন।

যিশুখ্রিষ্টের স্মৃতিবিজড়িত এই পবিত্র দিনে চার্চে প্রবেশের পথে খোদ ক্যাথলিক প্যাট্রিয়ার্ককেও আটকে দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। জেরুজালেমের এই রুদ্ধদ্বার কেবল কোনো প্রশাসনিক বিড়ম্বনা নয়; এটি মূলত ক্ষমতার এক চরম দম্ভ এবং আধিপত্যের নির্লজ্জ প্রদর্শনী।

সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিখ্যাত ইতিহাসবিদ উইল ডুরান্টের একটি উক্তি উদ্ধৃত করে নিজের শাসননীতির মূল সুরটি তুলে ধরেছেন।

তাঁর উদ্ধৃতিতে ছিল চেঙ্গিস খান আর যিশুখ্রিষ্টের তুলনামূলক শ্রেষ্ঠত্বের কথা। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন চেঙ্গিস খানের শক্তি আর যুদ্ধের বিপরীতে যিশুর অহিংস বার্তার কোনো বাড়তি বিশেষত্ব নেই। এটি কেবল তাত্ত্বিক কথা নয়, বরং এটি সেই রাজনৈতিক দর্শনের বহিঃপ্রকাশ, যেখানে মমতা আর সত্যের চেয়ে ‘ব্রুট ফোর্স’ বা পাশবিক শক্তিকেই সর্বোচ্চ আসীন করা হয়েছে।

অথচ খ্রিষ্টীয় দর্শনে আমরা দেখি, যিশু কোনো বিজয়ী সেনাপতি হিসেবে অবতীর্ণ হননি; বরং তিনি এসেছেন মানুষের মুক্তির সওগাত নিয়ে। তিনি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম না করে মানুষকে সত্য ও কল্যাণের আহ্বানে জাগ্রত করেছেন। ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার অন্তিম মুহূর্তেও তিনি প্রতিহিংসার কথা বলেননি।

ইসলামি ঐতিহ্যেও মরিয়মপুত্র ঈসা (আ.) এক অলৌকিক ক্ষমতাধর ও উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন নবী। তিনি রুগ্‌ণকে সুস্থ করতেন, মানবতার মর্যাদা রক্ষা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার দৃষ্টান্ত গড়তেন। কিন্তু আজকের জমানায় মানবিক এই মূল্যবোধের বদলে জায়গা করে নিয়েছে মধ্যযুগীয় বর্বরতায় রাঙানো দম্ভ।




ইরান কীভাবে এই যুদ্ধ শেষ করতে পারে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে এই যুদ্ধের সূচনা ইরান করেনি। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর এক মাসের বেশি সময় পর স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান এতে জয়লাভ করছে। সরকারের পতন ঘটানোর আশায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের ভূখণ্ডে অবিরাম বোমা হামলা চালিয়েছে; কেড়ে নিয়েছে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ এবং ধ্বংস করেছে শত শত ভবন। তা সত্ত্বেও ইরান নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে এবং সফলভাবে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করেছে।

ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা গুপ্তহত্যার শিকার হওয়ার পরও তাঁরা নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। সামরিক–বেসামরিক ও শিল্প স্থাপনায় হামলার পরও হামলাকারীদের ওপর বারবার পাল্টা আঘাত হেনেছে। ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলিরা যুদ্ধ শুরু করে এখন এমন এক চোরাবালিতে আটকে গেছে, যেখান থেকে বের হওয়ার কোনো কৌশল তাদের জানা নেই। অন্যদিকে ইরানিরা প্রতিরোধের এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।




‘আমি আমার ছেলেকে ফেরত চাই’

আমরা গোলামবাজার এলাকায় থাকি। তিন মাস আগে ছেলে এ কারখানায় কাজে ঢোকে। আজ সকাল আটটার দিকে কাজের উদ্দেশ্যে ছেলে বের হয়। আগুন লাগার পর থেকে তার খোঁজ নেই। আমি আমার ছেলেকে ফেরত চাই।’

আহাজারি করতে করতে বলছিলেন কুলসুম বেগম নামের এক নারী। তাঁর ছেলে নাঈম (১৭) ঢাকার কেরানীগঞ্জের আগুনে পুড়ে যাওয়া আকরাম গ্যাসলাইটার কারখানায় কাজ করে। আজ শনিবার বেলা ১টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের কদমতলী ডিপজল গলি সড়ক এলাকার কারখানাটিতে আগুন লাগে।

অগ্নিকাণ্ডের পর কারখানার ভেতর থেকে পাঁচ শ্রমিকের পোড়া লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একাধিক শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন কুলসুম বেগমের ছেলে নাঈম।




ধর্মকে নারীর অধিকার ও সমতার প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা হচ্ছে: ফওজিয়া মোসলেম

গত এক বছরে দেশে নারীবিদ্বেষী প্রচারণা এবং ঘৃণার সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা ছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার দুঃসাহসও দেখানো হয়েছিল। নির্বাচনে সেই অপশক্তির পরাজয় হয়েছে। তবে সতর্ক থাকতে হবে, সেই শক্তি যাতে আবার সক্রিয় না হয়। গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে আরও তীক্ষ্ণ নজর রাখতে। ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখতে হবে।

আজ শনিবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ৫৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন সংগঠনটির সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম।

বেলা আড়াইটায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠবার্ষিকীর উদ্বোধন করা হয়। এরপর তাঁরা সেখান থেকে র‍্যালি নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আসেন। ‘লিঙ্গীয় বৈষম্য দূর করি, সমতাপূর্ণ সমাজ গড়ি’ স্লোগানে সেখানে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শুরু হয়।

ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারের বিরোধিতা করে ফওজিয়া মোসলেম অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে ধর্মকে নারীর অধিকার ও সমতার প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ বা যৌতুকের মতো বিষয়গুলোকে ধর্মীয় দোহাই দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করার অপচেষ্টা চলছে।

নারী অধিকার বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে ফওজিয়া মোসলেম বলেন, সংবিধানে প্রদত্ত অধিকার এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সনদে (সিডও, বেইজিং প্ল্যাটফর্ম) করা অঙ্গীকারগুলো রক্ষায় রাষ্ট্রকে দায়বদ্ধ হতে হবে। তিনি নারীদের সুরক্ষায় দেশের বিচারিক কাঠামো বা বিচারব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর দাবি জানান। একই সঙ্গে মব কালচার ও নারী আন্দোলনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। তিনি বলেন, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে ৫৬ বছর ধরে লড়াই করা এই সংগঠনটি নতুন প্রজন্মের জন্য এক শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর পূর্ণ ও স্বাধীন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই নারী আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। সব বাধা ডিঙিয়ে অকুতোভয় যোদ্ধার মতো নিজেদের প্রাপ্য অধিকার ও মর্যাদা বুঝে নিতে তিনি তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান।

৫৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম। তিনি মৌলবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে নারীসমাজসহ সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

ঘোষণাপত্রে ধর্ম–বর্ণনির্বিশেষে সম্পত্তিতে নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করাসহ নারীর সুরক্ষায় ১৯টি দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া দেশের রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও নারীসমাজের প্রতি নারীর সুরক্ষায় জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

নারী অধিকার ও অসাম্প্রদায়িক মানবিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কয়েক প্রজন্মের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরেন ওয়াইডব্লিউসিএ অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হেলেন মনীষা সরকার। তিনি বলেন, লৈঙ্গিক বৈষম্য নিরসনে দীর্ঘ সময়ের চ্যালেঞ্জ থাকলেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে সমমর্যাদার বাংলাদেশ গড়ায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

সাংবাদিক এবং কলামিস্ট মাহবুব আজীজ তৃণমূল পর্যায়ে নারী নির্যাতনের রূঢ় বাস্তবতা এবং আইনি জটিলতার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কেবল উচ্চবিত্ত নয়, সব শ্রেণির নারীই নির্যাতনের শিকার। নারীর প্রকৃত মুক্তি ও ক্ষমতায়ন তখনই সম্ভব, যখন সম্পত্তিতে তাঁদের সমান অধিকার নিশ্চিত হবে।

নারী অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠায় ৫৬ বছরের লড়াইয়ের স্মৃতিচারণা করে মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা. মাখদুমা নার্গিস বলেন, নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করলেও সামাজিক মানসিকতা ও লৈঙ্গিক বৈষম্যের শিকল এখনো বিদ্যমান। ঘরে-বাইরে নারীর পূর্ণ মানবিক মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা আজও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য তিনি উত্তরাধিকার আইনে সমান অধিকার নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন।

অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে নারীর অধিকার ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান। তিনি বলেন, মাথাপিছু আয় বাড়লেও যদি দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারীরা সুফল না পান, তবে সেই উন্নয়নকে সফল বলা যাবে না। শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ ন্যায্য মজুরি ও কর্মক্ষেত্রে উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি।

গৃহস্থালি কাজের স্বীকৃতি, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধি, সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখার ওপর জোর দেন সেলিম রায়হান।

মহিলা পরিষদের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার ফজিলা খাতুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও গবেষণা সহকারী মাহামুদ খালিদ এবং উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সৈয়দা সুরঞ্জনা।




ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত সাতটি সামরিক উড়োজাহাজ হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত সাতটি সামরিক উড়োজাহাজ হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৫ই এবং একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান গতকাল শুক্রবার পৃথক ঘটনায় বিধ্বস্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ধ্বংস হওয়া মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজের সংখ্যা বেড়ে সাতে দাঁড়িয়েছে।

গত ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ভুলে তিনটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। অবশ্য তিনটি যুদ্ধবিমানের ছয় ক্রু সদস্যের সবাই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।

গত ১২ মার্চ ইরাকের আকাশসীমায় একটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে মার্কিন বিমানবাহিনীর ছয় সদস্য নিহত হয়েছেন। ওই ঘটনায় একই ধরনের দ্বিতীয় উড়োজাহাজটি পাশের একটি দেশে নিরাপদে অবতরণ করে।

গত ২৭ মার্চ সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানি হামলায় রানওয়েতে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ই-৩ সেন্ট্রি উড়োজাহাজ ধ্বংস হয়। সূত্রগুলো জানিয়েছে, মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি রিফুয়েলিং উড়োজাহাজও ওই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ছাড়া গত মাসে মধ্যপ্রাচ্যের একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান জরুরি অবতরণ করে। ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার হামলায় যুদ্ধবিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




রাতে যেসব জেলায় ৮০ কিমি বেগে ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

 

বার্তায় বলা হয়, পাবনা, ঢাকা, ফরিদপুর ও কুমিল্লা জেলার ওপর দিয়ে পশ্চিম ও উত্তর- পশ্চিম থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সময় বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টিও হতে পারে।
 
এসব এলাকার নদীবন্দরকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
 
এছাড়া আবহাওয়ার অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সিলেট বিভাগে এ পরিস্থিতি আগামী দুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। 



মাদ্রাসায় চালু হচ্ছে বাণিজ্য বিভাগ, থাকছে যেসব বিষয়

দেশের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় বাণিজ্য বিভাগ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ জন্য প্রাথমিকভাবে চারটি বিষয় চালু করা হতে পারে।

বুধবার (১ এপ্রিল) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সভায় প্রাথমিকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম কমিটির (এনসিসি) সভা সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসার বাণিজ্য বিভাগ চালু হলে চারটি বিষয় যুক্ত করা হতে পারে। বিষয়গুলো হলো- অ্যাকাউন্টিং, ফিন্যান্স, মার্কেটিং ও ম্যানেজমেন্ট।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নৈতিকতা সম্পন্ন দক্ষতা উদ্যোগক্তা তৈরির জন্য প্রাথমিকভাবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে থেকেই মাদ্রাসায় বাণিজ্য বিভাগ চালুর আলোচনা ছিল। অবেশেষে সে উদ্যোগ চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে।