প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরকে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা উচিত নয়: ভারপ্রাপ্ত স্পিকার

জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ব্লাইন্ড এডুকেশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (বার্ডো)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. সাইদুল হকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।

বুধবার ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, প্রতিটি মানুষকে সমমর্যাদা প্রদান করা এবং মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া আমাদের কর্তব্য।

তিনি বলেন, কেউ স্বেচ্ছায় প্রতিবন্ধী হয়ে জন্মায় না। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরকে আমাদের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। মানুষকে মর্যাদা প্রদান করা সংসদ-সদস্যদের অন্যতম পবিত্র দায়িত্ব।

প্রতিনিধি দল সাক্ষাতকালে বৈশ্বিক পরিসরে প্রতিবন্ধীদের যথাযথ সুরক্ষা প্রদান, শিক্ষার অধিকার নিশ্চিতকরণ ও মানুষ হিসেবে সমতার অধিকার নিশ্চিতে মতবিনিময় করেন। এসময় রাজনৈতিক দলে প্রতিবন্ধীদের প্রতিনিধিত্ব এবং সংসদীয় ককাস গঠনের মাধ্যমে তাদের যথাযথ আইনি সুরক্ষা ও মানসম্মত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

উল্লেখ্য, বার্ডো মূলত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং অন্যান্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, পুনর্বাসন এবং স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কাজ করে। এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. সাইদুল হক বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা ও পুনর্বাসনে অনন্য অবদানের জন্য দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ এ ভূষিত হয়েছেন।




মৎস্য খাতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটেছে, এবার রফতানি বাড়াতে হবে : প্রতিমন্ত্রী

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দেশের মৎস্য খাত বর্তমানে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে সক্ষমতা অর্জন করেছে। এখন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

মঙ্গলবার মৎস্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় আয়োজন ঢাকার বাইরে কিশোরগঞ্জে করার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মৎস্য উৎপাদনে হাওরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশের মিঠাপানির মাছের একটি বড় অংশ হাওরাঞ্চল থেকে আসে। তাই প্রান্তিক পর্যায়ের মৎস্যচাষি, জেলে ও মৎস্য খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষের কাছে কর্মসূচির বার্তা পৌঁছে দিতে ঢাকার বাইরে এ আয়োজন করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নে নদী খনন, খাল সংস্কারসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াও মৎস্য খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষি ও মৎস্য খাতের কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, এবার আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই বড় আয়োজন করেছি। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ও নির্দেশনায় ঢাকার বাইরে এই কর্মসূচি আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির কারণে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত ও ব্যতিক্রমী হয়ে উঠেছে।

জাতীয় মৎস্য পক্ষের আয়োজন সফল করতে মৎস্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, হাতের পাঁচটি আঙুলের মতো আমাদের সবার দায়িত্ব আলাদা হতে পারে, কিন্তু সবাই একসঙ্গে কাজ করলেই মুষ্টিবদ্ধ হাতের মতো শক্তি তৈরি হয়। এবারের আয়োজনও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সফল হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দেওয়া দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। কোনো দায়িত্বে অবহেলা বা কাজে ফাঁকি দেওয়া যাবে না। প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিজের যোগ্যতা ও মেধা দিয়ে রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে।

মৎস্য খাতের উন্নয়নে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে এ খাতের উন্নয়নে কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রান্তিক অর্থনীতিতে মৎস্য অধিদফতর আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মৎস্যচাষি, জেলে ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




কলাপাড়ায় নৌযান শুমারি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

‘নৌযান শুমারি সফর করি, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নৌযান শুমারি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের আয়োজনে মৎস্য বন্দর মহিপুর-আলিপুর এলাকায় এ র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় জেলে, নৌযান মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।

র‍্যালিটি বন্দরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে খাপভাঙ্গা নদীর দুই পাড়ে নৌযান পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান।

এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক, পটুয়াখালী জেলার উপপরিচালক মো. নাজমুল হুসাইন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মোকছেদুল আলম, মহিপুর থানা বিএনপির সভাপতি জলিল হাওলাদারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের নৌযানের সঠিক তথ্য সংগ্রহ এবং একটি নির্ভরযোগ্য জাতীয় নৌযান তথ্যভান্ডার প্রস্তুতের লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগে এ নৌযান শুমারি পরিচালনা করা হচ্ছে।




ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে র‌্যালি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার র‌্যালী ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলার স্বেচ্ছাসবক দলের নেতাকর্মীরা শহরের জেলা পরিষদ মার্কেট চত্বর থেকে একটি আনন্দ র‌্যালি বের হয়।

র‌্যালীটি শহরের দক্ষিণ কালিবাড়ি মোড়, টি.এ.রোড, পুরাতন কাছারি সড়ক, হাসপাতাল সড়কসহ প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব চত্বরে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরমান মিয়ার সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মোল্লা মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম। প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক। এছাড়া বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এ.বি.এম মমিনুল হক, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান শাহীন, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলে আহবায়ক নুরুল আমিন প্রমুখ।




শিশু কেন হাফপ্যান্ট পরল, জেরার পর পর্যটকদের দুই ঘণ্টা ধরে মারধর

ভারতের ঐতিহাসিক মারাঠা সাম্রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী সিংহগড় দুর্গে বেড়াতে গিয়ে চরম নৈতিক পুলিশি ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন একদল পর্যটক। আট বছরের শিশুর হাফপ্যান্ট পরাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া কথা-কাটাকাটির জেরে অন্তত দুই ঘণ্টা ধরে নারী, শিশু ও বয়স্কদের ওপর তাণ্ডব চালায় স্বঘোষিত ‘দুর্গ সংরক্ষণ সমিতি’র সদস্যরা।

ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের ঠিক পরদিন, অর্থাৎ গত ১৬ আগস্ট পুনের এই জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর পুনের হাভেলি পুলিশ স্টেশন অভিযুক্ত নয়জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে।

পুনে শহর ও এর আশেপাশের অঞ্চলজুড়ে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজসহ মারাঠা রাজাদের নির্মিত একাধিক ঐতিহাসিক দুর্গ রয়েছে, যা বছরজুড়েই পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তবে গত সপ্তাহান্তে সিংহগড় দুর্গে বেড়াতে যাওয়া কিছু সাধারণ মানুষের জন্য সেই আনন্দের মুহূর্তটি আতঙ্কে পরিণত হয়।

পুনে পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট সন্দীপ সিং গিল ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, সপ্তাহান্তের ভিড়ের মধ্যে এক তরুণ ও তার দল একটি পরিবারকে থামায় এবং তাদের আট বছর বয়সী কন্যাসন্তান কেন হাফপ্যান্ট পরেছে তা নিয়ে জেরা শুরু করে। এরপরই উভয়পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয় এবং একপর্যায়ে ওই পরিবার ও অন্যান্য পর্যটকদের ওপর হামলা চালানো হয়।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা নিজেদের ‘দুর্গ সংরক্ষণ সমিতি’র সদস্য বলে দাবি করে। ১৬ আগস্ট দুর্গে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়ের সুযোগ নিয়ে দলটির সদস্যরা শিশুসহ বেশ কয়েকজন পর্যটকের পোশাককে ‘অসংবেদনশীল’ ও ‘অপ্রীতকর’ আখ্যা দিয়ে চড়াও হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এটি কোনো ক্ষণিকের ঘটনা ছিল না; প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই তাণ্ডবে হামলাকারীরা নারী, শিশু ও প্রবীণদের কাউকেই রেহাই দেয়নি। উপর্যুপরি শারীরিক মারধর ও হেনস্তার কারণে পুরো দুর্গ এলাকায় এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং পর্যটকরা আতঙ্কে আত্মরক্ষার জন্য ছোটাছুটি করতে থাকেন।

খবর পেয়ে হাভেলি পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং হামলায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে চিহ্নিত নয়জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে। জড়িত অন্যান্যদের আইনের আওতায় আনতে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুনে ও এর আশেপাশের দুর্গে নিজেদের ইতিহাসের রক্ষক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে দাবি করা কিছু স্বঘোষিত ‘দুর্গ সংরক্ষণ’ দলের উৎপাত আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত ভ্রমণকারীদের মতে, ঐতিহাসিক এসব স্থাপনা সংরক্ষণের নামে এসব দলের সদস্যরা প্রায়ই নিজেদের বানানো নিয়মকানুন পর্যটকদের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেয় এবং কে কী পোশাক পরবে বা কীভাবে চলাফেরা করবে—তা নিয়ে নিয়মিত ধমকাধমকি ও অনুশাসন জারি করে।

সিংহগড় দুর্গের এই সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনাটি ঐতিহাসিক স্থানে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বঘোষিত গোষ্ঠীগুলোর বেআইনি কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।




বিদায়ী বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বারবার কাঁদলেন ও চোখ মুছলেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে দোয়া চেয়ে তিনি নিয়ম অনুযায়ী দলের সংসদ সদস্যদের প্রতি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। দুপুর ২টা থেকে দেড় ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির বক্তব্যের পর বক্তব্য রাখেন বিএনপির বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বক্তব্যের শুরুতেই আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। স্মরণ করেন বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে। তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানকে। কৃতজ্ঞতা জানান দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও।

বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনকালে তার কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। তিনি বলেন, দল তাকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, জীবন দিয়ে হলেও তিনি সেই সম্মান রক্ষা করবেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না। সভায় অংশ নেওয়া একাধিক সংসদ সদস্য বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এসব তথ্য জানান।

মির্জা ফখরুল সবার কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, বঙ্গভবনে যাওয়ার পর সহকর্মীদের মিস করবেন। কয়েক মিনিটের বক্তব্যে চার থেকে পাঁচবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মির্জা ফখরুল। এতে সভায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী নিজেও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি শেষ বক্তব্য দেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় আর অংশ নেবেন না। বিএনপির সংসদীয় দলের আজকের বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আবেগঘন বিদায় এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর সাংগঠনিক বার্তা- মিলিয়ে দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলার বিষয়টিই গুরুত্ব পায়।

মির্জা ফখরুল আবেগ জড়িত কণ্ঠে আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই দলের সঙ্গে যুক্ত আছি। অনেক বিপদ-আপদ, ঝড়-ঝঞ্জা, সুখ-দুঃখ, জেল-জুলুম, মামলা-হামলার সম্মুখীন হয়েছি। সবকিছুতেই আপনাদের সঙ্গে ছিলাম। কিন্তু কখনো দল ছেড়ে যাওয়ার কথা চিন্তাও করিনি। কিন্তু আগামীকাল হয়তো এই দল থেকে আমাকে পদত্যাগ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমি যেনো রাষ্ট্রপতি পদে থেকে সকলের মাঝে থেকে একটি সুন্দর ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের অভিভাবকের ভূমিকা রাখতে পারি এজন্য সকলের দোয়া ও সহযোগিতা চাই।

সভায় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের বিস্তারিত ধারণা দেন এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে ভোট চান। তিনি সভায় জানান, আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং মির্জা ফখরুল ইসলামগীর নিজেও ভোট দেবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলে তার ঠাকুরগাঁও-৩ আসনটি শূন্য হয়ে যাবে। এবং আগামীকাল শুক্রবার নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ নেবেন। পরে সকলের অংশগ্রহণে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।




পাকিস্তানকে বিদায় করে হকি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে ভারত

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৫-৩ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে পুরুষ হকি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে ভারত। ম্যাচে ভারতের পক্ষে জোড়া গোল করেছেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং ও অভিষেক। বাকি গোল করেন হার্দিক সিং। অন্যদিকে পাকিস্তানের হয়ে হান্নান শহীদ দুটি এবং সুফিয়ান খান একটি গোল করলেও তা কেবল ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে ভারতীয় দল। খেলার মাত্র পঞ্চম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার (পিসি) থেকে দুর্দান্ত এক ড্র্যাগ ফ্লিক করে ভারতকে এগিয়ে নেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং। এর ঠিক ছয় মিনিট পর বাঁ দিক দিয়ে দুর্দান্ত গতি ও ড্রিবলিংয়ে বক্সে ঢুকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অভিষেক।

২১তম মিনিটে আবারও পেনাল্টি কর্নার থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করেন হরমনপ্রীত। তবে পিছিয়ে পড়ার পরপরই দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। এক মিনিট পরেই অসাধারণ এক ফিল্ড গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন হান্নান শহীদ। ২৪তম মিনিটে দুই দলই একটি করে গোল করায় প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় ৪-২ ব্যবধানে। এ সময় পাকিস্তানের পক্ষে দ্বিতীয় গোলটি করেন সুফিয়ান খান।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আক্রমণ শাণিত করে ভারত। খেলার পঞ্চম মিনিটের মাথায় সুখজিত সিংয়ের ওপর ফাউল হলে পেনাল্টি স্ট্রোক পায় ভারত। আর সেখান থেকে গোল করে ব্যবধান ৫-২ করেন হার্দিক সিং।

তৃতীয় কোয়ার্টারে সম্পূর্ণ আধিপত্য বজায় রাখে ভারতীয় দল। তবে চতুর্থ কোয়ার্টারে দারুণ গতি ও হাই প্রেস করে খেলায় ফেরার চেষ্টা চালায় পাকিস্তান। ম্যাচের শেষভাগে হান্নান শহীদ আরও একটি গোল করে স্কোরলাইন ৫-৩ এ নামিয়ে আনেন। সমতায় ফেরার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালায় পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত দারুণ রক্ষণ সামলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারতীয় হকি দল।




‘সবার আগে বাংলাদেশ গড়তে সব নাগরিকের সমান সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে’

সবার আগে বাংলাদেশ গড়তে সব নাগরিকের সমান সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

তিনি বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত আমাদের সংবিধানে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে ‘প্রোমোটিং পারসন উইথ ডিজেবিলিটি ফ্রেন্ডলি ইনক্লুসিভ ক্লাইমেট জাস্টিস রেজিলেন্স প্র্যাকটিসেস’ (আইসিজেআরপি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, প্রতিবন্ধী মানুষকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রান্তিক অংশীজন হিসেবে নয়, বরং সমান অধিকারসম্পন্ন অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তাদের প্রয়োজন ও সক্ষমতাকে সামনে রেখে আমাদের অবকাঠামো, পরিকল্পনা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, দেশের সব সাইক্লোন সেন্টার ও দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করতে হবে। সেখানে হুইলচেয়ার চলাচলের উপযোগী র‌্যাম্প, প্রশস্ত প্রবেশপথ, প্রতিবন্ধীবান্ধব শৌচাগার, নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা, পৃথক ও নিরাপদ থাকার ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তাও শ্রবণ, দৃষ্টি ও অন্যান্য প্রতিবন্ধিতার ধরন বিবেচনায় নিয়ে সহজবোধ্য ও বহুমাধ্যমভিত্তিক করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।




জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে ঢাবির দুই হলে এআই কর্মশালা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাবি শাখা আয়োজিত ‘ডিমিস্টিফাইং এআই’ শীর্ষক কর্মশালা রবিবার (২৩ আগস্ট) মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ও হাজী মোহাম্মদ মুহসিন হল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান ও বিশেষ অতিথিরা

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক রাকিবুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন জিয়া হল ছাত্র সংসদের ভিপি মহিউদ্দিন তালুকদার মাহাবুব, জাতীয় ছাত্রশক্তি ঢাবি শাখার সভাপতি তাহমীদ আল মুদাসসির চৌধুরী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

কর্মশালার মূল বক্তব্য

তাহমীদ আল মুদাসসির চৌধুরী বলেন, “দিল্লি না ঢাকা কেবল একটি রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং একটি মিশন। এই মিশনের অংশ হিসেবে ঢাকাকে মেধা, যোগ্যতা ও নেতৃত্বের সমন্বয়ে গড়ে তুলতে হবে। সাউথ এশিয়ার সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং জ্ঞানের রাজধানী হবে ঢাকা।”

সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহ উল্লেখ করেন, “জাতীয় ছাত্রশক্তি ক্রমান্বয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঠারোটি হলে এআই ট্রেনিং প্রোগ্রামের আয়োজন করবে। এটি শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।”

উপস্থিতির তালিকা

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন, সহ-সভাপতি এম এ সাইদ, জোনাল সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সাকিব ও ফেরদৌস আইয়াম, দপ্তর সম্পাদক সরদার নাদিম মাহমুদ শুভ, ক্যারিয়ার ও আইটি সম্পাদক আবিদ হাসান জয়, জিয়া হলের আহ্বায়ক শাহরিয়ার ইয়ামিন, মুহসিন হলের আহ্বায়ক শাহিদুর রহমান, সদস্য সচিব সাইদ আফ্রিদী, বিজয় একাত্তর হলের আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম, সোহানুর রহমান সোহানসহ ঢাবি ও হল ইউনিটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।




দূতাবাস এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে ইমেইল হুমকির পর

পটভূমি

ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দূতাবাস ও সরকারি অফিসে ইমেইল হুমকি ও অর্থ দাবির বার্তা পাঠানো হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা

এই হুমকির প্রতিক্রিয়ায়, ডিপার্টমেন্ট অফ মেট্রোপলিটন পুলিশ (DMP) কূটনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগে অতিরিক্ত নজরদারি চালু করেছে। গুলশান ও বারিধারা দূতাবাসগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

পুলিশের ইউনিফর্মড ও প্লেইনক্লথ লেফটেন্যান্টদের পাশাপাশি কূটনৈতিক এলাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সামনে ও দূতাবাসের সামনে অতিরিক্ত গার্ড স্থাপন করা হয়েছে। চেকপয়েন্ট ও প্যাট্রোল বাড়ানো হয়েছে এবং কুইক রেসপন্স টিম (QRT) জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত

ডিপার্টমেন্ট অফ মেট্রোপলিটন পুলিশের কূটনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আবু খায়ের নিশ্চিত করেছেন যে, হুমকি ও অর্থ দাবির পর কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে।

এর পর, সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের প্রতিনিধিরা DMP-র কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (CTTC) ইউনিটের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। CTTC হুমকির উত্স ও উদ্দেশ্য উদ্ঘাটনের জন্য তদন্ত শুরু করেছে।

উপসংহার

এই ঘটনাগুলোর পর কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।