প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন

সফরের উদ্দেশ্য

বিপিএন চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন (UNGA‑81) এ অংশগ্রহণের জন্য। এই সফরটি ২০ বছরের মধ্যে তার প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর।

এজেন্ডা ও কার্যক্রম

প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনকে সম্বোধন করবেন এবং বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশ নেবেন। তিনি অধিবেশনের আগে অন্য কোনো দেশ সফর করবেন না।

প্রধানমন্ত্রী অফিস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সফরের সূচি ও অন্যান্য কার্যক্রম চূড়ান্ত করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকা অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে একটি নোট ভার্বেল পাঠিয়েছে।

এটি তারেক রহমানের প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর পদে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সুযোগ। তিনি অধিবেশনের সাইডলাইন মিটিং ও ইভেন্টেও অংশ নেবেন।

অতিরিক্ত সফর

জাতিসংঘের কার্যক্রমের পর প্রধানমন্ত্রী সান ফ্রান্সিসকো, ক্যালিফোর্নিয়ায় দুই দিনের ইভেন্টে অংশ নেবেন। সরকারী সূত্র ও বিপিএন নেতাদের মতে, সফরটি ৮ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত চলতে পারে।

বিশেষ গুরুত্ব

এই বছর বাংলাদেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খালিলুর রহমানকে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ও জাতিসংঘের সভাপতির সমন্বয় আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মুহূর্ত তৈরি করবে।

প্রতিক্রিয়া ও প্রস্তুতি

দুই দশকের পর তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর বাংলাদেশি প্রবাসী ও বিপিএন কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে। নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর জন্য একটি বড় নাগরিক রিসেপশন প্রস্তুত করা হচ্ছে।

বিপিএন নীতি নির্ধারক ও যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় নেতারা ইতিমধ্যে অনলাইন প্রস্তুতিমূলক সভা আয়োজন করেছেন। বিভিন্ন রাজ্যের বিপিএন কর্মীরা নিউ ইয়র্কে সমবেত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

পূর্ববর্তী সফর

প্রধানমন্ত্রী গঠনের পর প্রথম বিদেশ সফর ছিল ২১ থেকে ২৬ জুন মালয়েশিয়া ও চীনে। এই সফরে উভয় দেশের সাথে শ্রমশক্তি রপ্তানি, আমদানি-রপ্তানি ও করিডোর স্থাপনের বিষয়ে মেমোরান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (MoU) ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

পরবর্তী সময়ে অন্যান্য দেশেও আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন, তবে সূত্র অনুযায়ী জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের আগে তিনি আর কোনো দেশ সফর করবেন না।

Source: bd24live




ভৈরব পৌরসভার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আল আমিন সৈকতকে কুপিয়ে হত্যা

ঘটনার সারসংক্ষেপ

রবিবার (২৩ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে ভৈরব শহরের টিনপট্টি এলাকায় গোপাল জিউর মন্দিরের সামনে দুর্বৃত্তদের একটি দল সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌর যুবলীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমিন সৈকত (৪০)কে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।

সৈকতকে সাড়ে ১২টার দিকে উদ্ধার করে, তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের মন্তব্য

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুব রহমান জানান, ঘটনাটি টিনপট্টি এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলার ফলে ঘটেছে এবং পুলিশ বর্তমানে জড়িতদের ধরতে কাজ করছে।

চিকিৎসা পরিস্থিতি

সৈকতকে উদ্ধার করার সময় তার অবস্থা অত্যন্ত বিপজ্জনক ছিল, তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পরও চিকিৎসা সফল হয়নি।

Source: jagonews




আপত্তির মুখে কনসার্ট বন্ধ, কী বলছেন শিল্পীরা

কনসার্ট বাতিলের পটভূমি

দুই দিনের ব্যবধানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল এমন কনসার্টগুলো হঠাৎ বাতিল হয়ে যায়। এই ঘটনাগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও দেখা গিয়েছিল, কিন্তু নির্বাচিত সরকারের অধীনে আবারও একই পরিস্থিতি দেখা দেওয়ায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে।

শিল্পীদের বক্তব্য

শেখ সাদী খান বলেন, “আমরা একে অন্যকে খোঁচাখুঁচি করার রাজনীতি করছি। কিন্তু সবাই মিলে দেশের জন্য কীভাবে কিছু করা যায়, দেশটাকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়—সেই জায়গায় আমাদের চিন্তাভাবনা খুব একটা নেই। এই প্রবণতা বন্ধ হওয়া উচিত।” তিনি আরও যোগ করেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতো সংগীতসমৃদ্ধ জেলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধের সাম্প্রতিক ঘটনাটি পুরোপুরি সাংঘর্ষিক।”

সাবিনা ইয়াসমীনও উল্লেখ করেন, “শিল্পী, যন্ত্রশিল্পী, আয়োজকসহ সংশ্লিষ্ট সবারই আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। গান কিংবা কোনো অনুষ্ঠান কারও পছন্দ না হলে সেটি না দেখার অধিকার তাঁর অবশ্যই আছে, কিন্তু পছন্দ নয় বলে একটি অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।” তিনি বলেন, “সরকারের কোনো সংস্থার যদি কোনো অনুষ্ঠান নিয়ে আপত্তি থাকে, তাহলে সেটি শুরুতেই জানানো উচিত।”

হামিন আহমেদ বলেন, “কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এ ধরনের পরিস্থিতি এক-দুই মাসে তৈরি হয়নি। গত কয়েক বছরে ধীরে ধীরে বিষয়টি বড় আকার ধারণ করেছে। তাই এখনই এর লাগাম টেনে ধরা প্রয়োজন।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “পুলিশ, থানা বা জেলা প্রশাসন যদি কোনো এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তাহলে সেই থানা কীভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করছে—সেই প্রশ্নও তুলতে হবে।”

বেবী নাজনীন বলেন, “কনসার্ট বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনা বারবার ঘটতে থাকলে শিল্পীরা নিরুৎসাহিত হবেন। উগ্র গোষ্ঠীগুলোর উদ্দেশ্য হয়তো সেটিই—শিল্পীদের ভয় দেখানো, নিরুৎসাহিত করা এবং একদিন তাদের কাজ বন্ধ করে দেওয়া।” তিনি বলেন, “সাংস্কৃতিক চর্চা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়ার জন্য সরকার ও তার সংস্থাগুলোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।”

নাজমুন মুনিরা ন্যান্‌সিকও যোগ করেন, “কোনো একটি গোষ্ঠী আপত্তি করলে তার কারণে প্রশাসন অনুষ্ঠান বাতিল করে দিল—এমনটা হতে পারে না। এটি সরাসরি সংস্কৃতির ওপর হুমকি।” তিনি বলেন, “প্রশাসনের বড় ভূমিকা রয়েছে, বৈধ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নিয়ে আপত্তি থাকলে তার যৌক্তিকতা যাচাই করতে হবে।”

সরকারের প্রতি অনুরোধ

শিল্পীরা সরকারকে অনুরোধ করেছেন, “কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং তদন্তের ভিত্তিতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।” তারা আরও বলেন, “সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে কেউ যেন কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে। আর যারা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে—সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এমন একটি স্পষ্ট বার্তা আসা দরকার।”

শেখ সাদী খান বলেন, “সাংস্কৃতিক বলয়টাই যদি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে রাজনীতিও নষ্ট হয়ে যাবে। সংস্কৃতি ও রাজনীতির মধ্যে সুন্দর সমন্বয় থাকা জরুরি।” তিনি যোগ করেন, “আমাদের দেশ আমাদের সবার। আমাদের একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে। গান-বাজনা এ দেশের মানুষের রক্তে, মগজে, মননে মিশে আছে।”

উপসংহার

শিল্পীরা জোর দিয়ে বলেন, “সাংস্কৃতিক চর্চা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারকে একটি নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো গোষ্ঠী আপত্তি করলেই বা হুমকি দিলেই প্রশাসনের দায়িত্ব অনুষ্ঠান বাতিল করা নয়, বরং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অনুষ্ঠানটি নির্বিঘ্নে করানো।”

Source: prothom alo




চলতি মাসের শেষ দিকে চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’: প্রতিমন্ত্রী

চলতি আগস্ট মাসের শেষ দিকে প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তিনি বলেছেন, এটিএম কার্ডের মতো এই কার্ড ব্যবহার করে ব্যাংকিং লেনদেনের পাশাপাশি দেশে ফিরে সরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণেও সুবিধা পাবেন প্রবাসীরা।

আজ বুধবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের আয়োজনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নুরুল হক বলেন, ‘প্রবাসী কার্ড’ এটিএম কার্ডের মতো ব্যবহার করা যাবে। এর মাধ্যমে প্রবাসীরা ব্যাংকিং লেনদেনের সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি দেশে ফিরে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও সরকারি সেবা গ্রহণেও কার্ডটি কাজে লাগবে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলেও কার্ডধারী প্রবাসীরা অগ্রাধিকার পাবেন।

তিনি আরও বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু হলে দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন সেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে।

আলোচনা সভায় উদ্বোধক ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন। প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন ও মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম ইরাদত মানু।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মুহাম্মদ রাজু। এ সময় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।

আলোচনা সভা শেষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের মাঝে আর্থিক অনুদান ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।




হালাল খাদ্যসংস্কৃতি ও মূল্যবোধ মানবসভ্যতার জন্য একটি বড় সম্পদ : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, হালাল খাদ্যসংস্কৃতি ও মূল্যবোধ শুধু মুসলিম বিশ্বের জন্য নয়, সমগ্র মানবসভ্যতার জন্যও একটি বড় সম্পদ ও শক্তিতে পরিণত হতে পারে।

তিনি বলেন, হালাল পণ্য ও সংস্কৃতির বিকাশ শুধু একটি ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক বিষয় নয়, এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মানবকল্যাণের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। বিশ্ববাজারে হালাল খাদ্যের একটি বিশাল বাজার রয়েছে এবং ভোক্তা ও বিনিয়োগকারী উভয়েই এই খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রস্তুত।

বুধবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে মালয়েশিয়ান হাইকমিশন আয়োজিত ‘থিংক হালাল, গ্রো গ্লোবাল’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার অভিন্ন মূল্যবোধের কথা উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দুই দেশ যৌথভাবে তাদের অভিন্ন মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে হালাল শিল্পের বিকাশ ও বিশ্ববাজারে এর পরিধি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

হালাল পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য সঠিক ধারণা, তথ্য, জ্ঞান ও সুনির্দিষ্ট ব্যবসায়িক কাঠামো তৈরি করতে হবে। সঠিক ধারণা ও জ্ঞানের সঠিক সমন্বয় ঘটাতে পারলে তা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যেও হালাল পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়াবে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের কথা স্মরণ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কুয়ালালামপুর সফরকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম যেভাবে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়েছেন, তা দুই দেশের গভীর বন্ধুত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে তিনি মালয়েশিয়া সরকার এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্কের ভিত্তি শুধু কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, জনগণের মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়েই এই সম্পর্ক টিকে আছে। হালাল শিল্প দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করবে।

সেমিনারে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওথমান ও বাংলাদেশ মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সভাপতি আনোয়ার শাহিদ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার শীর্ষ ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




আহতদের চিকিৎসা ও শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার : ইশরাক হোসেন

চব্বিশের স্বৈরাচারবিরোধী অভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

বুধবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটি’র সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জুলাই আহতদের ও শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন এবং তাদের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিশ্চিত করা। দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে যাদের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তাদের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করছি।

তিনি বলেন, আহত জুলাই যোদ্ধারা যেন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন এবং তাদের জীবনযাত্রার মান সহনীয় পর্যায়ে থাকে, সেই বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক ও তৎপর রয়েছি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম এবং সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৪৫-এর সংসদ সদস্য ও জুলাই শহীদ জাবিরের মাতা রোকেয়া বেগম।

এছাড়া, অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অর্থ বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা; সরকার মনোনীত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের একজন প্রতিনিধি এবং জুলাই যোদ্ধাদের একজন প্রতিনিধি।




টেলিযোগাযোগ উন্নয়নে প্রকৌশলীদের দক্ষতার সঙ্গে কাজের আহ্বান আইসিটি মন্ত্রীর

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, দেশের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও সবার জন্য উন্নত মানের যোগাযোগসেবা নিশ্চিত করতে প্রকৌশলীদের মেধা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে কাজে লাগাতে হবে।

বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরে ২৭তম বিসিএস টেলিযোগাযোগ ক্যাডারে যোগদানকৃত সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলীদের সঙ্গে আয়োজিত পরিচিতিমূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। বাংলাদেশও দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করতে দক্ষ মানবসম্পদ ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।

প্রকৌশলীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সরকারি দায়িত্ব শুধু চাকরি নয়, এটি জনগণের সেবা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততা, পেশাদারিত্ব, জবাবদিহি ও দেশপ্রেমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের দক্ষতা ও জ্ঞানকে নিয়মিতভাবে সমৃদ্ধ করার জন্যও তাদের আহ্বান জানান।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে উন্নত ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগসেবা পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সাশ্রয়ী, মানসম্মত ও জনবান্ধব টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

সভায় ২৭তম বিসিএস টেলিযোগাযোগ ক্যাডারে যোগদানকৃত সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলীরা নিজেদের পরিচয় তুলে ধরেন এবং টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নে তাদের প্রত্যাশা ও কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে মতবিনিময় করেন। পরিচিতি সভার শুরুতে মন্ত্রী টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরে অবস্থিত সাইবার থ্রেট ডিটেকশন এন্ড রেসপন্স (সিটিডিআর) সেন্টার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আশরাফ হোসেন সভায় সভাপতিত্ব করেন। এ সময় টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং নবনিযুক্ত সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।




ক্যারিয়ার সেরা র‌্যাঙ্কিংয়ে শান্ত, ৮৪ ধাপ এগোলেন তামিম

অস্ট্রেলিয়ায় মাটিতে ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের টেস্ট খেলতে নেমেই সেঞ্চুরি পেয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি করেছেন বাঁহাতি এই ওপেনার। এ পারফরম্যান্সের সুবাদে আইসিসির টেস্ট ব্যাটারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে লম্বা লাফ দিয়েছেন তিনি। ৮৪ ধাপ এগিয়ে কার্টিস ক্যাম্ফারের সঙ্গে যৌথভাবে ৮৮ নম্বরে আছেন তানজিদ।

তার পাশাপাশি অজিদের বিপক্ষে বাংলাদেশের হাল ধরেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। সেঞ্চুরি করতে না পারলেও বাংলাদেশকে বড় লিড নেওয়ার ভিত গড়ে দেন টেস্ট অধিনায়ক। হ্যাজেলউডের বলে আউট হওয়ার আগে খেলেছেন ৮৪ রানের ইনিংস।

এমন ব্যাটিংয়ে ৯ ধাপ এগিয়ে ক্যারিয়ারসেরা র‌্যাঙ্কিংয়ে উঠেছেন শান্ত। ৬৫৯ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক আছেন ২০ নম্বরে। বাংলাদেশের টেস্ট ব্যাটারদের মধ্যে শান্তর ওপরে কেবল মুশফিকুর রহিম। ১৮ নম্বরে আছেন ডানহাতি অভিজ্ঞ ব্যাটার। ডারউইনে প্রথম টেস্টে ডাক মেরেছিলেন লিটন দাস। রান না পাওয়ায় ৫ ধাপ পিছিয়ে ২৮ নম্বরে নেমে গেছেন বাংলাদেশের উইকেটকিপার ব্যাটার।

তানজিদের সঙ্গে ১০২ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের বিপদ সামাল দেওয়ার পাশাপাশি দলকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যান মুমিনুল হক। তবে হাফ সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে বাঁহাতি ব্যাটারকে ফিরতে হয় ৪৯ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে করেছেন অপরাজিত ৩০ রান। এমন ব্যাটিংয়ে ৫ ধাপ এগিয়ে ৩১ নম্বরে উঠে এসেছেন মুমিনুল। ছোট ছোট ইনিংসে ৩ ধাপ এগিয়ে সাদমান ইসলাম উঠেছেন ৫৮ নম্বরে।

দ্রুতই শান্ত, মুশফিক ও লিটনের বিদায়ের পর টেইলএন্ডারদের সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের লিড ২২৮ রান পর্যন্ত নিয়ে যান মেহেদী হাসান মিরাজ। ৬৫ রানের ইনিংস খেলে ৫ ধাপ এগিয়ে ৫৯ নম্বরে উঠে এসেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া সফরে না থাকা এক ধাপ পিছিয়ে গেছেন মাহমুদুল হাসান জয়। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে আগের মতোই সবার উপরে (১১ নম্বরে) আছেন তাইজুল ইসলাম। বাঁহাতি স্পিনারের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়ে ৩ ধাপ এগিয়ে ২৪ নম্বরে উঠেছেন মিরাজ। ডারউইন টেস্টের দুই ইনিংসেই দুর্দান্ত ছিলেন হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে ৫৫ রানে নিয়েছিলৈন ৬ উইকেট। দ্বিতীয় তিন উইকেট নিয়েছিলেন ৫৬ রানে। ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে টেস্ট বোলারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে ২৬ ধাপ এগিয়েছেন হাসান। বর্তমানে ৩৮ নম্বরে আছেন ডানহাতি পেসার। তাসকিন আহমেদ এক ধাপ ও ইবাদত হোসেন এগিয়েছেন ৪ ধাপ।

ডারউইনে হাফ সেঞ্চুরি ও ৫ উইকেট নিলেও অলরাউন্ডারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে কোনো পরিবর্তন হয়নি মিরাজের। আগের মতোই তিনে আছেন স্পিন বোলিং এই অলরাউন্ডার। এদিকে সতীর্থ জো রুটকে পেছনে ফেলে ব্যাটারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠেছেন হ্যারি ব্রুক। বোলারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে আগের মতোই শীর্ষে আছেন ভারতের জসপ্রিত বুমরাহ।




বিদায়ী বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বারবার কাঁদলেন ও চোখ মুছলেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে দোয়া চেয়ে তিনি নিয়ম অনুযায়ী দলের সংসদ সদস্যদের প্রতি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। দুপুর ২টা থেকে দেড় ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির বক্তব্যের পর বক্তব্য রাখেন বিএনপির বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বক্তব্যের শুরুতেই আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। স্মরণ করেন বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে। তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানকে। কৃতজ্ঞতা জানান দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও।

বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনকালে তার কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। তিনি বলেন, দল তাকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, জীবন দিয়ে হলেও তিনি সেই সম্মান রক্ষা করবেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না। সভায় অংশ নেওয়া একাধিক সংসদ সদস্য বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এসব তথ্য জানান।

মির্জা ফখরুল সবার কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, বঙ্গভবনে যাওয়ার পর সহকর্মীদের মিস করবেন। কয়েক মিনিটের বক্তব্যে চার থেকে পাঁচবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মির্জা ফখরুল। এতে সভায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী নিজেও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি শেষ বক্তব্য দেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় আর অংশ নেবেন না। বিএনপির সংসদীয় দলের আজকের বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আবেগঘন বিদায় এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর সাংগঠনিক বার্তা- মিলিয়ে দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলার বিষয়টিই গুরুত্ব পায়।

মির্জা ফখরুল আবেগ জড়িত কণ্ঠে আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই দলের সঙ্গে যুক্ত আছি। অনেক বিপদ-আপদ, ঝড়-ঝঞ্জা, সুখ-দুঃখ, জেল-জুলুম, মামলা-হামলার সম্মুখীন হয়েছি। সবকিছুতেই আপনাদের সঙ্গে ছিলাম। কিন্তু কখনো দল ছেড়ে যাওয়ার কথা চিন্তাও করিনি। কিন্তু আগামীকাল হয়তো এই দল থেকে আমাকে পদত্যাগ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমি যেনো রাষ্ট্রপতি পদে থেকে সকলের মাঝে থেকে একটি সুন্দর ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের অভিভাবকের ভূমিকা রাখতে পারি এজন্য সকলের দোয়া ও সহযোগিতা চাই।

সভায় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের বিস্তারিত ধারণা দেন এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে ভোট চান। তিনি সভায় জানান, আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং মির্জা ফখরুল ইসলামগীর নিজেও ভোট দেবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলে তার ঠাকুরগাঁও-৩ আসনটি শূন্য হয়ে যাবে। এবং আগামীকাল শুক্রবার নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ নেবেন। পরে সকলের অংশগ্রহণে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।




নিরাপত্তা ছাড়াই সাগরে মাছ শিকারে জেলেরা, ট্রলারডুবিতে বাড়ছে প্রাণহানি

গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার বৈধ অনুমতি নেই। ফিটনেস সনদও নেই। তবু বছরের পর বছর শত শত ট্রলার ছুটে যাচ্ছে বঙ্গোপসাগরে। অধিকাংশ ট্রলারে নেই লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয়া বা জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থা। অনেক সময় জেলেদের কাছে আবহাওয়ার সতর্কবার্তাও পৌঁছায় না। ফলে একের পর এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন জেলেরা। তবু থামছে না এই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা।