তথ্য গোপন করে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব পালন, চাঁদপুরে প্রধান শিক্ষককে অব্যাহতি

জানা গেছে, গত সোমবার ফরাক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসাইন চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী- কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তার সন্তান এসএসসি পরীক্ষার্থী হলে তিনি কেন্দ্র সচিব বা পরীক্ষা পরিচালনা কমিটিতে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না।তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, কেন্দ্র সচিব মো. ইলিয়াছ মিয়ার মেয়ে রাইসা অরিন আনিকা চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী। সে চাঁদপুর আল আমিন একাডেমির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। এই তথ্য গোপন রেখে ইলিয়াছ মিয়া কেন্দ্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, যা বোর্ডের বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন। চাঁদপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানোর পর তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং এ সংক্রান্ত চিঠি জারি করা হয়েছে।



তনু হত্যার ১০ বছর পর প্রথম আসামি গ্রেফতার

বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে কুমিল্লা সদর আমলি আদালত-১ এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক এ রিমান্ডের আদেশ দেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আসামিকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

 

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম সন্দেহভাজন হাফিজুর রহমানকে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করেন। গত ৬ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তা তিন সন্দেহভাজনের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচের জন্য আদালতের কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন। ওই তিন সন্দেহভাজন হলেন; সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক শাহিনুল আলম।

আদালত সূত্র জানায়, বহুল আলোচিত এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৮০টি শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। গত এক দশকে মোট চারটি সংস্থার সাতজন কর্মকর্তা চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্ত করেছেন।
 
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু। অনেক খোঁজাখুঁজির পর সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের নিকটবর্তী একটি জঙ্গল থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।



পৌনে ২ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি প্রস্তাব অনুমোদন, ব্যয় কত?

দেশে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য ডিবিএস ট্রেডিং হাউস এফজেডসিওর কাছ থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন ইএন৫৯০-১০ পিপিএম ডিজেল এবং ২৫ হাজার মেট্রিক টন গ্যাসোলিন ৯৫ আনলেডেড (অকটেন) আমদানির প্রস্তাব বৈঠকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এই জ্বালানি তেল কেনা হবে। এতে ব্যয় হবে ১ হাজার ২৩ কোটি ৬১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আরেক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য আর্চার এনার্জি এলএলসির কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১ লাখ মেট্রিক টন ইএন৫৯০-১০ পিপিএম মানমাত্রার সালফারযুক্ত ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৬৭৪ কোটি ৬০ লাখ ২০ হাজার টাকা।



পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন: প্রথম দফার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রায় দেড় হাজার প্রার্থী

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফার ১৫২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রায় দেড় হাজার প্রার্থী। ২৩ শতাংশের বেশি প্রার্থীর বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর অপরাধের মামলা। আর কোটিপতি প্রার্থী আছেন অন্তত সাড়ে ৩শ’।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় বিভিন্ন আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, মালদা, মুর্শিদাবাদসহ রাজ্যটির ১৬ জেলার ১৫২টি বিধানসভা আসনে লড়ছেন ১ হাজার ৪৭৫ জন প্রার্থী।

 

নির্বাচনি আসনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নন্দীগ্রাম, যেখানে লড়ছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও তৃণমূল নেতা পবিত্র কর।
 

খড়গপুর সদর আসনে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের বিপরীতে লড়ছেন তৃণমূলের প্রদীপ সরকার। এক সময়ের প্রতাপশালী কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী লড়ছেন বহরমপুর কেন্দ্র থেকে। 

এবার আলোচনায় এসেছে কোটিপতি প্রার্থীর তালিকা। মোট প্রার্থীদের ২১ শতাংশ এবার কোটিপতি। সবচেয়ে বেশি রাজ্যের শাসক তৃণমূলের। ১৫২ জনের মধ্যে ১০৬ জনের সম্পদের পরিমাণ কোটির অঙ্ক ছাড়িয়েছে।
 
এছাড়াও বিজেপির রয়েছেন ৭১ জন, কংগ্রেসের ৫০ জন এবং বামদের কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা ২৪ জন।
 
অন্যদিকে এডিআর ও ইলেকশন ওয়াচ সংস্থার দাবি, প্রথম দফার মোট প্রার্থীর মধ্যে ৩৪৫ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে মামলা। আগামী ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রথম দফার নির্বাচনে এসব প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ভোটার।



চেঙ্গী নদীতে ফুল ভাসিয়ে পাহাড়ে ‘বিজু’ শুরু

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর সবচেয়ে বড় এই সামাজিক উৎসবকে ঘিরে পুরো পাহাড়ি জনপদে এখন উৎসবের আমেজ।


চাকমা সম্প্রদায়ের রীতি অনুযায়ী, উৎসবের প্রথম দিনটিকে বলা হয় ‘ফুল বিজু’। এদিন সকালে বন-পাহাড় থেকে সংগৃহীত ফুল দিয়ে ঘর সাজানো হয়। এরপর নদী বা খালের পাড়ে গিয়ে কলাপায় করে ফুল ভাসিয়ে গঙ্গা দেবীর পূজা করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এর মাধ্যমে পুরাতন বছরের সব গ্লানি মুছে যায় এবং নতুন বছরের জন্য নিজেরা পবিত্র হন।



কৃষকের সেচ সচল রাখতে প্রয়োজনে শহরে বিদ্যুৎ থাকবে না: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের দিন পরীক্ষামূলকভাবে ১০জেলায় কৃষক কার্ডের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। দেশের কৃষকদের প্রতি, জনগণের প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের যে অঙ্গীকার রয়েছে একে একে বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সারা পৃথিবীতে জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তারপরও একমাত্র কৃষকদের কথা বিবেচনা করে আমাদের সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করেনি।’

আরও পড়ুন: জিয়াউর রহমানের নাম আসবে বলেই বিগত সরকার খাল খনন করেনি: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

অনুষ্ঠানে জেলার ৩ হাজার ৪শ’ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে বিনামূল্যে এক কেজি করে পাটের বীজ, পাঁচ কেজি এমওপি ও পাঁচ কেজি ডিওপি সার দেয়া হয়।

যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. মোশাররফফ হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসা. রাজিয়া সুলতানা, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




ক্লিনিকে ইজিবাইকের লাইট জ্বালিয়ে অপারেশন!

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দিন দীপু জানান, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে দুপুর ১২টার পর মডার্ন ডায়াগনস্টিক এবং আল মদিনা প্রাইভেট হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও লাইসেন্স না থাকায় মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করা হয়।

এরপর আল মদিনা প্রাইভেট হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। ওই হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে ইজিবাইকের লাইট ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া খাবার পানির উৎসের পাশেই ময়লার স্তূপ জমা ছিল, পর্যাপ্ত বেডের ব্যবস্থা ছিল না এবং রোগীদের রেজিস্টার পাওয়া যায়নি। এসব কারণে দণ্ডবিধির ৫২ ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া অভিযানের অংশ হিসেবে এ হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতালও পরিদর্শন করা হয়। সেখানে কোনো অসঙ্গতি পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: ফিলিং স্টেশন থেকে ৫০০ টাকার তেল নিয়ে স্টার্ট দিতেই পুড়ল মোটরসাইকেল

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, জনস্বার্থে স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এবং অনিয়মকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযানকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশীষ কুমার বসু, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শোভন বিশ্বাসসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




মারা গেছেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। ভারতীয় সংগীতের অন্যতম আইকনিক ও বহুমুখী প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে সুপরিচিত আশা ভোঁসলে। আট দশকের বেশি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি একাধিক ভারতীয় ভাষার পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি ভাষাতেও হাজার হাজার গান রেকর্ড করেছেন।




এক ট্রাম্পের পাল্লায় পড়ে ন্যাটো কি অস্তিত্ব হারাবে

দেশবাসীর কাছে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলার ব্যাখ্যা দিতে গত বুধবার টেলিভিশনে হাজির হয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেদিনের ভাষণে তিনি ইরানের ওপর তীব্র বোমাবর্ষণ করে দেশটিকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফেরত পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন।

ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য অর্জন হবে বলেও দাবি করেছেন। কিন্তু এ যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরের এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মার্কিনরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।

রয়টার্স/ইপসোসের সম্প্রতিক একটি জরিপে ইরান যুদ্ধ নিয়ে সাধারণ মার্কিনদের ভেতর হতাশা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির চিত্র উঠে এসেছে।

জরিপে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ মানুষ বলেছেন, তাঁরা মার্কিন সেনাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়েও তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক।

প্রায় অর্ধেক মানুষ মনে করেন, এ যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা আরও কমে যাবে এবং ইরানের মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও খারাপ হবে।

জরিপে অংশ নেওয়া চারজনের মধ্যে তিনজনের বেশি মানুষ মার্কিন স্থল সেনাদের ইরানে পাঠানোর বিপক্ষে। ইরানে আক্রমণের একটি বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সেখানে স্থল সেনা পাঠানোর কথা বিবেচনা করার কথা জানিয়েছেন।

ইরান যুদ্ধে সহজ জয়ের উদ্ভট কল্পনা

বাজারবিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের ভাষণ দেওয়ার পরদিন বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যায়। এর কারণে, আগামী সপ্তাহে দেশটিতে খুচরা তেলের দাম গড়ে প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ২৫ ডলার থেকে ৪ দশমিক ৪৫ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ট্রাম্পের হুমকির জবাবে সতর্ক করে ‘আরও বিধ্বংসী, বিস্তৃত ও ধ্বংসাত্মক’ হামলার হুমকি দিয়েছে। এ ছাড়া তেহরান এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধে তাদের সক্ষমতা দেখিয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, বিশ্ববাজারে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের ওপর এর প্রভাব আরও গভীর হবে।




যে কারণে চেঙ্গিস খানের পথে হাঁটছেন নেতানিয়াহু

খ্রিষ্টধর্মের অন্যতম পবিত্র স্থান জেরুজালেমের ‘চার্চ অব দ্য হোলি সেপালকার’। প্রতিবছর পাম সানডে বা খর্জূর রোববারে এখানে পুণ্যার্থীদের ঢল নামে। কিন্তু এবার দৃশ্যপট ছিল ভিন্ন।

যিশুখ্রিষ্টের স্মৃতিবিজড়িত এই পবিত্র দিনে চার্চে প্রবেশের পথে খোদ ক্যাথলিক প্যাট্রিয়ার্ককেও আটকে দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। জেরুজালেমের এই রুদ্ধদ্বার কেবল কোনো প্রশাসনিক বিড়ম্বনা নয়; এটি মূলত ক্ষমতার এক চরম দম্ভ এবং আধিপত্যের নির্লজ্জ প্রদর্শনী।

সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিখ্যাত ইতিহাসবিদ উইল ডুরান্টের একটি উক্তি উদ্ধৃত করে নিজের শাসননীতির মূল সুরটি তুলে ধরেছেন।

তাঁর উদ্ধৃতিতে ছিল চেঙ্গিস খান আর যিশুখ্রিষ্টের তুলনামূলক শ্রেষ্ঠত্বের কথা। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন চেঙ্গিস খানের শক্তি আর যুদ্ধের বিপরীতে যিশুর অহিংস বার্তার কোনো বাড়তি বিশেষত্ব নেই। এটি কেবল তাত্ত্বিক কথা নয়, বরং এটি সেই রাজনৈতিক দর্শনের বহিঃপ্রকাশ, যেখানে মমতা আর সত্যের চেয়ে ‘ব্রুট ফোর্স’ বা পাশবিক শক্তিকেই সর্বোচ্চ আসীন করা হয়েছে।

অথচ খ্রিষ্টীয় দর্শনে আমরা দেখি, যিশু কোনো বিজয়ী সেনাপতি হিসেবে অবতীর্ণ হননি; বরং তিনি এসেছেন মানুষের মুক্তির সওগাত নিয়ে। তিনি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম না করে মানুষকে সত্য ও কল্যাণের আহ্বানে জাগ্রত করেছেন। ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার অন্তিম মুহূর্তেও তিনি প্রতিহিংসার কথা বলেননি।

ইসলামি ঐতিহ্যেও মরিয়মপুত্র ঈসা (আ.) এক অলৌকিক ক্ষমতাধর ও উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন নবী। তিনি রুগ্‌ণকে সুস্থ করতেন, মানবতার মর্যাদা রক্ষা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার দৃষ্টান্ত গড়তেন। কিন্তু আজকের জমানায় মানবিক এই মূল্যবোধের বদলে জায়গা করে নিয়েছে মধ্যযুগীয় বর্বরতায় রাঙানো দম্ভ।