ইরান কীভাবে এই যুদ্ধ শেষ করতে পারে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে এই যুদ্ধের সূচনা ইরান করেনি। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর এক মাসের বেশি সময় পর স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান এতে জয়লাভ করছে। সরকারের পতন ঘটানোর আশায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের ভূখণ্ডে অবিরাম বোমা হামলা চালিয়েছে; কেড়ে নিয়েছে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ এবং ধ্বংস করেছে শত শত ভবন। তা সত্ত্বেও ইরান নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে এবং সফলভাবে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করেছে।

ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা গুপ্তহত্যার শিকার হওয়ার পরও তাঁরা নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। সামরিক–বেসামরিক ও শিল্প স্থাপনায় হামলার পরও হামলাকারীদের ওপর বারবার পাল্টা আঘাত হেনেছে। ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলিরা যুদ্ধ শুরু করে এখন এমন এক চোরাবালিতে আটকে গেছে, যেখান থেকে বের হওয়ার কোনো কৌশল তাদের জানা নেই। অন্যদিকে ইরানিরা প্রতিরোধের এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।




‘আমি আমার ছেলেকে ফেরত চাই’

আমরা গোলামবাজার এলাকায় থাকি। তিন মাস আগে ছেলে এ কারখানায় কাজে ঢোকে। আজ সকাল আটটার দিকে কাজের উদ্দেশ্যে ছেলে বের হয়। আগুন লাগার পর থেকে তার খোঁজ নেই। আমি আমার ছেলেকে ফেরত চাই।’

আহাজারি করতে করতে বলছিলেন কুলসুম বেগম নামের এক নারী। তাঁর ছেলে নাঈম (১৭) ঢাকার কেরানীগঞ্জের আগুনে পুড়ে যাওয়া আকরাম গ্যাসলাইটার কারখানায় কাজ করে। আজ শনিবার বেলা ১টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের কদমতলী ডিপজল গলি সড়ক এলাকার কারখানাটিতে আগুন লাগে।

অগ্নিকাণ্ডের পর কারখানার ভেতর থেকে পাঁচ শ্রমিকের পোড়া লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একাধিক শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন কুলসুম বেগমের ছেলে নাঈম।




ধর্মকে নারীর অধিকার ও সমতার প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা হচ্ছে: ফওজিয়া মোসলেম

গত এক বছরে দেশে নারীবিদ্বেষী প্রচারণা এবং ঘৃণার সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা ছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার দুঃসাহসও দেখানো হয়েছিল। নির্বাচনে সেই অপশক্তির পরাজয় হয়েছে। তবে সতর্ক থাকতে হবে, সেই শক্তি যাতে আবার সক্রিয় না হয়। গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে আরও তীক্ষ্ণ নজর রাখতে। ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখতে হবে।

আজ শনিবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ৫৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন সংগঠনটির সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম।

বেলা আড়াইটায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠবার্ষিকীর উদ্বোধন করা হয়। এরপর তাঁরা সেখান থেকে র‍্যালি নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আসেন। ‘লিঙ্গীয় বৈষম্য দূর করি, সমতাপূর্ণ সমাজ গড়ি’ স্লোগানে সেখানে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শুরু হয়।

ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারের বিরোধিতা করে ফওজিয়া মোসলেম অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে ধর্মকে নারীর অধিকার ও সমতার প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ বা যৌতুকের মতো বিষয়গুলোকে ধর্মীয় দোহাই দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করার অপচেষ্টা চলছে।

নারী অধিকার বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে ফওজিয়া মোসলেম বলেন, সংবিধানে প্রদত্ত অধিকার এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সনদে (সিডও, বেইজিং প্ল্যাটফর্ম) করা অঙ্গীকারগুলো রক্ষায় রাষ্ট্রকে দায়বদ্ধ হতে হবে। তিনি নারীদের সুরক্ষায় দেশের বিচারিক কাঠামো বা বিচারব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর দাবি জানান। একই সঙ্গে মব কালচার ও নারী আন্দোলনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। তিনি বলেন, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে ৫৬ বছর ধরে লড়াই করা এই সংগঠনটি নতুন প্রজন্মের জন্য এক শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর পূর্ণ ও স্বাধীন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই নারী আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। সব বাধা ডিঙিয়ে অকুতোভয় যোদ্ধার মতো নিজেদের প্রাপ্য অধিকার ও মর্যাদা বুঝে নিতে তিনি তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান।

৫৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম। তিনি মৌলবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে নারীসমাজসহ সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

ঘোষণাপত্রে ধর্ম–বর্ণনির্বিশেষে সম্পত্তিতে নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করাসহ নারীর সুরক্ষায় ১৯টি দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া দেশের রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও নারীসমাজের প্রতি নারীর সুরক্ষায় জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

নারী অধিকার ও অসাম্প্রদায়িক মানবিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কয়েক প্রজন্মের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরেন ওয়াইডব্লিউসিএ অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হেলেন মনীষা সরকার। তিনি বলেন, লৈঙ্গিক বৈষম্য নিরসনে দীর্ঘ সময়ের চ্যালেঞ্জ থাকলেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে সমমর্যাদার বাংলাদেশ গড়ায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

সাংবাদিক এবং কলামিস্ট মাহবুব আজীজ তৃণমূল পর্যায়ে নারী নির্যাতনের রূঢ় বাস্তবতা এবং আইনি জটিলতার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কেবল উচ্চবিত্ত নয়, সব শ্রেণির নারীই নির্যাতনের শিকার। নারীর প্রকৃত মুক্তি ও ক্ষমতায়ন তখনই সম্ভব, যখন সম্পত্তিতে তাঁদের সমান অধিকার নিশ্চিত হবে।

নারী অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠায় ৫৬ বছরের লড়াইয়ের স্মৃতিচারণা করে মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা. মাখদুমা নার্গিস বলেন, নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করলেও সামাজিক মানসিকতা ও লৈঙ্গিক বৈষম্যের শিকল এখনো বিদ্যমান। ঘরে-বাইরে নারীর পূর্ণ মানবিক মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা আজও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য তিনি উত্তরাধিকার আইনে সমান অধিকার নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন।

অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে নারীর অধিকার ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান। তিনি বলেন, মাথাপিছু আয় বাড়লেও যদি দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারীরা সুফল না পান, তবে সেই উন্নয়নকে সফল বলা যাবে না। শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ ন্যায্য মজুরি ও কর্মক্ষেত্রে উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি।

গৃহস্থালি কাজের স্বীকৃতি, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধি, সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখার ওপর জোর দেন সেলিম রায়হান।

মহিলা পরিষদের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার ফজিলা খাতুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও গবেষণা সহকারী মাহামুদ খালিদ এবং উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সৈয়দা সুরঞ্জনা।




ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত সাতটি সামরিক উড়োজাহাজ হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত সাতটি সামরিক উড়োজাহাজ হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৫ই এবং একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান গতকাল শুক্রবার পৃথক ঘটনায় বিধ্বস্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ধ্বংস হওয়া মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজের সংখ্যা বেড়ে সাতে দাঁড়িয়েছে।

গত ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ভুলে তিনটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। অবশ্য তিনটি যুদ্ধবিমানের ছয় ক্রু সদস্যের সবাই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।

গত ১২ মার্চ ইরাকের আকাশসীমায় একটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে মার্কিন বিমানবাহিনীর ছয় সদস্য নিহত হয়েছেন। ওই ঘটনায় একই ধরনের দ্বিতীয় উড়োজাহাজটি পাশের একটি দেশে নিরাপদে অবতরণ করে।

গত ২৭ মার্চ সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানি হামলায় রানওয়েতে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ই-৩ সেন্ট্রি উড়োজাহাজ ধ্বংস হয়। সূত্রগুলো জানিয়েছে, মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি রিফুয়েলিং উড়োজাহাজও ওই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ছাড়া গত মাসে মধ্যপ্রাচ্যের একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান জরুরি অবতরণ করে। ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার হামলায় যুদ্ধবিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




রাতে যেসব জেলায় ৮০ কিমি বেগে ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

 

বার্তায় বলা হয়, পাবনা, ঢাকা, ফরিদপুর ও কুমিল্লা জেলার ওপর দিয়ে পশ্চিম ও উত্তর- পশ্চিম থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সময় বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টিও হতে পারে।
 
এসব এলাকার নদীবন্দরকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
 
এছাড়া আবহাওয়ার অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সিলেট বিভাগে এ পরিস্থিতি আগামী দুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। 



মাদ্রাসায় চালু হচ্ছে বাণিজ্য বিভাগ, থাকছে যেসব বিষয়

দেশের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় বাণিজ্য বিভাগ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ জন্য প্রাথমিকভাবে চারটি বিষয় চালু করা হতে পারে।

বুধবার (১ এপ্রিল) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সভায় প্রাথমিকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম কমিটির (এনসিসি) সভা সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসার বাণিজ্য বিভাগ চালু হলে চারটি বিষয় যুক্ত করা হতে পারে। বিষয়গুলো হলো- অ্যাকাউন্টিং, ফিন্যান্স, মার্কেটিং ও ম্যানেজমেন্ট।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নৈতিকতা সম্পন্ন দক্ষতা উদ্যোগক্তা তৈরির জন্য প্রাথমিকভাবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে থেকেই মাদ্রাসায় বাণিজ্য বিভাগ চালুর আলোচনা ছিল। অবেশেষে সে উদ্যোগ চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে।




প্রবাসী আয়ে রেকর্ড, মার্চে এলো পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলার

এর আগে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসার রেকর্ডটি ছিল গত বছরের। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল বাংলাদেশ। এ ছাড়া গত বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রবাসীরা ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছিলেন, যা বর্তমানে তৃতীয় সর্বোচ্চ অবস্থান।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, মার্চের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স আসার গতি ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এরমধ্যে রমজান ও ঈদুল ফিতরের কারণে পুরো মাসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

তথ্য বলছে, সদ্যবিদায়ী মার্চে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের মাধ্যমে ৬৪ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। বিশষায়িত দুই ব্যাংকের মধ্যে একটির (কৃষি ব্যাংক) মাধ্যমে এসেছে ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৬৪ কোটি ডলার। আর বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে এক কোটি ২০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স।

তবে এ সময়ে ৭টি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। এসব ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে— বিশেষায়িত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক বা রাকাব, বেসরকারি খাতের আইসিবি ইসলামি ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক, বিদেশি খাতের ব্যাংক আলফালাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।




বাজেট প্রণয়নে বড় চ্যালেঞ্জ সীমিত আর্থিক সক্ষমতা

কাঠামোগত দুর্বলতা, অসম্পূর্ণ সংস্কার এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে নতুন সরকার তার প্রথম জাতীয় বাজেট প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেছেন, সীমিত আর্থিক সক্ষমতা বর্তমান সময়ে সরকারের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) কার্যালয়ে ‘বাজেট ঘিরে নাগরিক ভাবনা ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রাক্-বাজেট মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সিটিজেনস প্ল্যাটফর্ম ফর এসডিজি।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মানিত ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকার এখন এক ধরনের কঠোর বাজেট সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করছে, যেখানে ব্যয় ও সম্পদের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং খরচের ক্ষেত্রে সতর্ক অগ্রাধিকার নির্ধারণ অপরিহার্য। বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যয়ের পরিকল্পনা না করলে অর্থনীতিতে চাপ আরও বাড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকার তাদের মেয়াদের শেষ সময়ে পে স্কেল সংক্রান্ত যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব বর্তমান সরকারের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে এক ধরনের ‘প্রলম্বিত দায়’ তৈরি হয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে অন্যায্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, বর্তমান সরকার নিজস্ব উদ্যোগে একটি কমিশন গঠন করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে আগের সরকারের পে কমিশনের প্রতিবেদনকে সহায়ক উপাদান হিসেবে নেওয়া যেতে পারে। তবে সেটিকে সরাসরি বা প্রশ্নহীনভাবে গ্রহণ করার সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, অবৈধভাবে সরানো সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনা জরুরি। দেশ-বিদেশে জব্দ হওয়া সম্পদ দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিক্রি করে সেই অর্থ দেশে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। সম্প্রতি বিদেশ থেকে তুলনামূলক ছোট অঙ্কের অর্থ ফেরত আসার প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন রাখেন, বড় অঙ্কের অর্থ ফিরিয়ে আনতে কেন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা গেলে রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি সম্ভব। তার মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সীমিত রাজনৈতিক সক্ষমতার কারণে এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি ধীর ছিল। তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের জন্য শুরুর সময়টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম বছরে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জিত না হলে মেয়াদের শেষ দিকে তা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

সরকারি ব্যয় ও ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, কৃষি ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকির চাপ আরও বাড়তে পারে। তাই অদক্ষ ও অপ্রয়োজনীয় খাত চিহ্নিত করে ভর্তুকি কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ধাপে ধাপে নগদ প্রণোদনার ওপর নির্ভরতা কমানোর পরামর্শ দেন তিনি। আসন্ন বাজেটে অর্থসংস্থান জোরদার করতে কর ছাড় সীমিত করা, করজাল সম্প্রসারণ এবং পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে জোর দেওয়ার আহ্বান জানান এই অর্থনীতিবিদ।

বর্তমান সরকারের আসন্ন বাজেট প্রণয়নে চারটি প্রধান চাপের কথা তুলে ধরেন তিনি। প্রথমত, অর্থনীতি এখনও দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা এবং পূর্ববর্তী সময়ের অসম্পূর্ণ নীতিগত উদ্যোগের প্রভাব বহন করছে। একই সঙ্গে নতুন প্রশাসন একটি রূপান্তরকালীন পর্যায়ে রয়েছে, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণকে জটিল করে তুলছে।

দ্বিতীয়ত, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চাপ রয়েছে সরকারের ওপর। পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হচ্ছে।

তৃতীয়ত, সীমিত আর্থিক পরিসর বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে। রাজস্ব সংগ্রহের সীমাবদ্ধতা এবং অর্থায়নের সংকটের কারণে ব্যয় সম্প্রসারণের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে দেবপ্রিয় বলেন, পর্যাপ্ত সম্পদ ছাড়া বাজেটের আকার বৃদ্ধি কিংবা কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

চতুর্থত, বহির্বিশ্বের সঙ্গে লেনদেনে ভারসাম্যহীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ, রপ্তানি আয়, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ, বৈদেশিক সহায়তা এবং ঋণ পরিশোধের চাপ—সব মিলিয়ে বৈদেশিক খাতে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

এছাড়া বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অনিশ্চয়তাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিকে নতুন করে চাপের মুখে ফেলছে বলে সতর্ক করেন তিনি।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশ এখন এমন এক পর্যায়ে প্রবেশ করছে যেখানে বাজেট প্রণয়নে বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা নির্ধারণ জরুরি। এই প্রেক্ষাপটে স্বল্পমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনায় প্রণয়ন করতে হবে।

তার মতে, এসব চ্যালেঞ্জ যথাযথভাবে মোকাবিলা করা না গেলে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা অর্জন এবং প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার ক্ষেত্রে আসন্ন বাজেট প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হতে পারে।




রাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসকদের বৈঠক

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।

গত ১৫ মার্চ সরকার ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেয়, যাদের সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। নিয়োগের পর এটিই হবে প্রশাসকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রশাসক জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেবেন।

তিনি বলেন, দলীয় নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে কীভাবে কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে, সে বিষয়ে তিনি কথা বলবেন। দলীয় কার্যক্রম, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়সহ অন্যান্য বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।

এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলে তিনি জানান।




‘হুথি জ্বরে’ কাঁপছে ইউরোপ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ধারাবাহিক কিছু পোস্টে ‘অপারেশন আস্পাইডস’ জানায় যে, তারা শিপিং শিল্পের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিবন্ধিত হতে এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা চ্যানেলগুলো দিয়ে চলাচলের সময় সহায়তার আবেদন জানাতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

মিশনটি আরও উল্লেখ করেছে, বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষা এবং নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার সমর্থন অনুযায়ী তাদের সম্পদগুলো লোহিত সাগর এলাকায় সতর্ক অবস্থানে মোতায়েন রয়েছে।

এর আগে ২০২৩ সালে ফিলিস্তিনে ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছিল হুথি। সেই থেকে দীর্ঘদিন তাদের আঘাতে জর্জড়িত হয়েছে ইসরাইলি ও পশ্চিমা নৌযানগুলো, যারা মূলত তেল আবিবের গণহত্যা সমর্থন করেছে। ওই সময় হুথি আক্রমণ ঠেকাতে না পারায় লোহিত সাগর দিয়ে বন্ধ হয়ে যায় জাহাজ চলাচল। তখন মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূল হয়ে চলাচল করতে হয়েছে নৌযানগুলোকে। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই এবার নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে ইইউ।