‘ইডির চেয়েও ভয়ংকর এবি’, তৃণমূল ছেড়ে বললেন মমতাঘনিষ্ঠ মদন মিত্র

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন মোড়। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম পরিচিত নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত মদন মিত্র দল ছেড়ে বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে যোগ দিয়েছেন। দুর্নীতির অভিযোগে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) তদন্ত, বাড়িতে তল্লাশি এবং সম্প্রতি স্ত্রী ও দুই ছেলেকে তলবের ঘটনার মধ্যেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

আজ বুধবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কক্ষে গিয়ে মদন মিত্র তৃণমূল কংগ্রেসের সব পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘তৃণমূলে ছিলাম, তৃণমূলে রইলাম। শুধু এক ঘর থেকে আরেক ঘরে এলাম।’




২০২৬ বিশ্বকাপ কার? সুপারকম্পিউটারের চাঞ্চল্যকর হিসাব-নিকাশ

প্রায় ১৭ দিন ও ৭২ ম্যাচের শ্বাসরুদ্ধকর সব লড়াইয়ের পর শেষ হলো ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের খেলা। ৪৮ দল নিয়ে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ ৩২ দলে এসে ঠেকেছে। শেষ বত্রিশের প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হওয়ায় টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপগুলোর সম্ভাব্য লড়াইয়ের চিত্রও অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গেছে। ফলে এখনকার হিসাব-নিকাশ আগের তুলনায় আরও বাস্তবসম্মত ও স্পষ্ট ধারণা দিচ্ছে সম্ভাব্য ম্যাচআপগুলো নিয়ে।

যেমন নকআউটের প্রথম ম্যাচের ফলের অনুমান ঠিকঠাক মিলে গেছে। ক্রীড়া পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠান ‘অপটা অ্যানালিস্টের’ সুপারকম্পিউটার রাউন্ড অব থার্টি টুর প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কানাডার জয়ের কথা বলেছিল। শেষ পর্যন্ত হয়েছেও তাই। এবার জেনে নিতে পারেন অপটার সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসারে এবার ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি কোন দুই দলের।

সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস, শেষ বত্রিশ থেকে শেষ ষোলোতে ওঠার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি ফ্রান্সের—৮১.৫ শতাংশ। এ ছাড়া কিলিয়ান এমবাপ্পেদের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা ৫৮.৩ শতাংশ, সেমিফাইনালে ৪২.৭ শতাংশ এবং ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ২৮.৪ শতাংশ। আর ফাইনালে জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনায়?—১৮.৭ শতাংশ। এটিও সব দলের মধ্যে সর্বোচ্চ।

ফ্রান্স শিরোপা জয়ের সম্ভাবনায় এগিয়ে থাকলেও নকআউট পর্বের অন্যান্য ধাপে পার হওয়ার ক্ষেত্রে বেশি এগিয়ে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। রাউন্ড অব থার্টি টুতে কেপ ভার্দেকে পাওয়া আর্জেন্টিনা শেষ ষোলোর পথে সবচেয়ে বেশি ‘নিরাপদ’—জেতার সম্ভাবনা ৮৯.২ শতাংশ। শুধু তা–ই নয়, কোয়ার্টার ফাইনাল (৭০.৫%), সেমিফাইনাল (৪৯.৬%) এবং ফাইনালে (৩০%) ওঠার সম্ভাবনার দিক থেকেও সবার ওপরে রয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরাই। অর্থাৎ সুপারকম্পিউটার ইঙ্গিত দিচ্ছে, ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার পাল্লা ফ্রান্সের চেয়েও ভারী, যদিও ট্রফি ছোঁয়ার চূড়ান্ত মুহূর্তে কিছুটা এগিয়ে ফরাসিরাই।

তালিকার তৃতীয় স্থানে আছে স্পেন, যাদের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ১৩.৫ শতাংশ। হ্যারি কেইনদের ইংল্যান্ড ৯.৭ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে আছে চতুর্থ স্থানে, আর নেইমার–ভিনিসিয়ুসদের ব্রাজিলের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ৬.৫ শতাংশ।

আরও কিছু দলেরও সম্ভাবনা খুব কম নয়। অপটার সুপারকম্পিউটার বলছে, নেদারল্যান্ডসের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ৫.১ শতাংশ, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের ৪.৭ শতাংশ এবং জার্মানির ৪.৪ শতাংশ। এ ছাড়া এখনো লড়াইয়ে টিকে থাকা কলম্বিয়া (৩.২%), আর্লিং হলান্ডের নরওয়ে (৩%), স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র (২.৫%) ও সুইজারল্যান্ড (২.২%) যেকোনো মুহূর্তে সমীকরণ বদলে দিতে পারে।

অন্যদিকে তিন স্বাগতিক দেশের অন্যতম মেক্সিকোর শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ১.৮ শতাংশ। গত আসরের চমক মরক্কো এবং সোনালি প্রজন্মের বেলজিয়ামের সম্ভাবনা সমান ১.৬ শতাংশ। আর এশিয়ান পরাশক্তি জাপানের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ১ শতাংশ।

তবে মনে রাখতে হবে, অপটার এই পূর্বাভাস কেবলই গাণিতিক ও পরিসংখ্যানগত হিসাব। ফুটবল মাঠে ৯০ মিনিটে অনেক কিছুই হতে পারে।

বিডি প্রতিদিন/নাজিম




একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

বরেণ্য চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।  (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

পরিবার সূত্র জানায়, রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে গত ১৪ জুন ভর্তি করানো হয় মুস্তাফাকে। নিউমোনিয়ার ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি।

এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রোস্টেট ক্যানসারের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মুস্তাফা। ছিলেন লাইফ সাপোর্টে। সেবার ভারতের দিল্লিতে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছিলেন। ওই অসুস্থতার দুই বছর পর নিউমোনিয়ার ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আইসিইউতে ভর্তি করানো হয় তাকে।

দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অনন্য অবদান রেখে দেশের অন্যতম শ্রদ্ধেয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন মুস্তাফা মনোয়ার। শিল্প ও সংস্কৃতিতে তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন




কুমিল্লা নগরীতে হকার উচ্ছেদ অভিযান, ভেঙে ফেলা হলো ভ্যান

নগরীর যানজট নিরসন ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে। এ সময় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে বসা হকারদের ভ্যান ও বিভিন্ন পণ্য জব্দ করা হয়। কয়েকটি ভ্যান ভেকু দিয়ে ভেঙেও ফেলা হয়।

রবিবার (২৮ জুন) বিকেলে নগরীর রানীবাজার, নজরুল এভিনিউ, কান্দিরপাড়ের পূবালী চত্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। এ সময় সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান চলাকালে সড়কের পাশে বসা হকারদের ভ্যান ও বিভিন্ন পণ্য জব্দ করা হয়। কিছু ভ্যান লুকিয়ে রাখা হলেও সেগুলো খুঁজে বের করে জব্দ করা হয়। পরে ভেকুর সাহায্যে কয়েকটি ভ্যান ভেঙে ফেলা হয়। একই সঙ্গে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা না করার জন্য হকারদের সতর্ক করা হয়।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, আমার নিজের কাছেও খারাপ লাগে, যখন এসব গরিব ও অসহায় মানুষের বিরুদ্ধে কঠিন পদক্ষেপ নিতে হয়। কিন্তু জনগণের চলাচলের পথে যেন কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়, সেজন্যই আমাদের এই অভিযান পরিচালনা করতে হয়।

তিনি বলেন, ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করা হকারদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে সিটি করপোরেশন। কুমিল্লা সিটি মার্কেটের ৩, ৪, ৫ ও ৬ তলা হকারদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগ্রহীরা নিজেদের সামর্থ্য ও পছন্দ অনুযায়ী সেখানে দোকান নিতে পারবেন। এছাড়া হকার্স মার্কেটের প্রচারের মাধ্যমে তাদের ব্যবসা পরিচালনায় সহযোগিতা করা হবে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, নগরীর যানজট কমানো ও জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।

বিডি প্রতিদিন/এনআরএইচ




ধর্ষণের অভিযোগে তদন্তের মুখে কেপ ভার্দের অধিনায়ক

বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের সবচেয়ে বড় ও মর্যাদাপূর্ণ ম্যাচটি খেলার অপেক্ষায় রয়েছে কেপ ভার্দে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ বত্রিশের (রাউন্ড অব থার্টি টু) এই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের ঠিক আগমুহূর্তে, এক চরম অস্বস্তিতে পড়েছে আফ্রিকান দলটি।

দলের অধিনায়ক রায়ান মেন্দেসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। ব্রাজিলিয়ান দৈনিক ‘ও গ্লোবো’র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই তারকা ফুটবলারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে তার।

মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে খোদ অধিনায়কের এমন আইনি জটিলতা ও শাস্তির শঙ্কা কেপ ভার্দে শিবিরের মনোবলে বড় এক ধাক্কা দিয়েছে, যা পুরো দলকে ঠেলে দিয়েছে চরম উৎকণ্ঠার মুখে।

ঘটনাটি গত মার্চ মাসের। সে সময় নিউজিল্যান্ডে চিলি ও কেপ ভার্দেকে নিয়ে একটি ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। কেপ ভার্দে দলের ভাষাগত সুবিধার জন্য একজন ব্রাজিলিয়ান নারীকে দোভাষী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরে ওই নারী মেন্দেসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, কেপ ভার্দে দল যে হোটেলে অবস্থান করছিল, সেখানে একটি কক্ষের অনুষ্ঠানে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবেই তিনি সেখানে যান।

কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, সেটি কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক নয়; বরং একটি পার্টি। একপর্যায়ে শরীর খারাপ লাগায় তিনি নিজের কক্ষে ফিরে যান। এরপর মেন্দেস তার কক্ষে এসে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন এবং তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।

তুরস্কের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব ইগদির এফকেতে খেলা ৩৬ বছর বয়সী মেন্দেসের বিরুদ্ধে গত ১০ এপ্রিল অকল্যান্ডের আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর গত মাসে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই নিউজিল্যান্ড ফুটবল ফেডারেশন বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফাকে জানায়। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী অ্যান্ড্রু প্র্যাগনেল জানিয়েছেন, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী প্রথমে কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশনের কাছে সহায়তা চেয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি পরে স্থানীয় পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগেরই এখন তদন্ত শুরু হয়েছে বলে খবর।

নিউজিল্যান্ডের আইনে যৌন নিপীড়নের মতো অপরাধের শাস্তি কঠোর। অভিযোগ প্রমাণিত হলে মেন্দেসের সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

একদিকে বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্বপ্নের ম্যাচ খেলার রোমাঞ্চ, অন্যদিকে অধিনায়কের এই অন্ধকার অধ্যায়—সব মিলিয়ে এক চরম টানাপোড়েনের মধ্যেই পড়ে গেল কেপ ভার্দে ফুটবল দল।

তবে এ বিষয়ে মেন্দেস, তার আইনজীবী কিংবা কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশনের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার কথা ও’গ্লোবোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।




জাপানের বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের কাছে ফাইনালের মতোই

ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আজ রাতের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও জাপান। শেষ ৩২-এর এই ম্যাচটি দুই দলের জন্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ। জয় পেলেই পরবর্তী ধাপে জায়গা নিশ্চিত হবে এবং পরাজিত দলকে বিদায় নিতে হবে টুর্নামেন্ট থেকে।

সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ। জাপানের বিপক্ষে ম্যাচকে ‘ফাইনাল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে সেলেসাও কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলে গেছেন, নকআউট পর্বে যেকোনো কিছুর জন্যই প্রস্তুত আছেন তারা।

আনচেলত্তির ভাষায়, ‘পুরো দলই মনোযোগী, সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তৈরি। অতিরিক্ত সময় কিংবা পেনাল্টি শুটআউট—আমরা সবদিক থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। ম্যাচটি আমাদের কাছে ফাইনালের মতোই।’

‘ফাইনাল’ খেলার অভিজ্ঞতা ব্রাজিল দলের ফুটবলারদের বেশির ভাগেরই আছে। ক্লাব ফুটবলে এ ধরনের নকআউট ম্যাচও তারা খেলেন নিয়মিতই। ওই আত্মবিশ্বাস বিশ্বকাপেও কাজে লাগাতে চান আনচেলত্তি। এ জন্য দলের ভেতর ‘মন, হৃদয় ও পরিষ্কার ভাবনার’ সমন্বয় খুঁজছেন ব্রাজিল কোচ।

দলের অভিজ্ঞ ফুটবলারদের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে আনচেলত্তি বলেন, ‘আমরা সৌভাগ্যবান যে দলে এমন কিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছে, যারা এ ধরনের বড় ম্যাচের চাপ কীভাবে সামলাতে হয়, তা খুব ভালো করেই জানে। এদিক থেকে আমি পুরোপুরি নিশ্চিন্ত।’

তবে প্রতিপক্ষের জন্যও সমীহ আছে তাঁর কথায়, ‘জাপান এমন একটা দল, যাদের সম্মান করতে হবে, আমরা তা করবও।’

এবারের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ড্র করলেও পরের দুই ম্যাচে হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে উঠেছে ব্রাজিল। তিউনিসিয়াকে হারালেও নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের সঙ্গে ড্র করে গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে এই পর্বে এসেছে জাপান।

ব্রাজিলের জন্য শুরুটা ভালো না হলেও সময়ের সঙ্গে তারা উন্নতি করছে—এমন বিশ্বাস দলটির অধিনায়ক মার্কিনিওসের, ‘আমরা আমাদের সেরা ফর্মে ছিলাম না, তবে আমাদের খেলায় প্রতিনিয়ত উন্নতি হচ্ছে। টুর্নামেন্টের শুরুতে আমাদের যে অবস্থা ছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস নিয়ে আমরা এখন নকআউট পর্বে পা রাখছি।’




৮টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা ধ্বংসের দাবি আইআরজিসির

বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের আটটি সামরিক স্থাপনায় সফলভাবে হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে,  এসব হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।

আইআরজিসির দাবি, ইরানের সিরিক ও কেশমে অবস্থিত স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে।

এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের আগের হামলার জবাবে মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সমুদ্রে মাইন পাতা সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন হামলার পর নতুন করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী।  তারা বলেছে, ‘মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো নরকযন্ত্রণা ভোগ করবে।’

এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী জানায়, সিরিক শহরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণকে কোনোভাবেই দুর্বল করতে পারেনি।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নিয়ম ভঙ্গকারী জাহাজগুলোর ওপর আমাদের গুলি চালানো অন্য জাহাজগুলোর জন্যও স্পষ্ট বার্তা— কোন পথ দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে হবে।’

এতে আরও বলা হয়, ‘অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিষয়টি আলাদা। আগামী দিনগুলোতে তারা নরকযন্ত্রণা ভোগ করবে।’

সূত্র: দ্য ডন

বিডি প্রতিদিন/নাজিম




ব্রাজিলকে ছেড়ে কথা বলব না: জাপান কোচ

ব্রাজিল বনাম জাপানের হাইভোল্টেজ মহারণের বাকি আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। মহাগুরুত্বপূর্ণ এই লড়াইয়ের আগে রোববার সংবাদ সম্মেলনে এসে সেলেসাওদের রুখে দেওয়ার নকশা ও রণপরিকল্পনা স্পষ্ট করেছেন ‘ব্লু সামুরাইদের’ কোচ হাজিমে মোরিয়াসু।

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বধ করে আরও একটি রূপকথা লেখার সামর্থ্য জাপানের আছে—এমনটাই বিশ্বাস এই কোচের। মাঠের লড়াইয়ে ব্রাজিলকে এক চুলও ছাড় না দেওয়ার ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি।

ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে জাপানের কোচ মোরিয়াসু বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ খেলেছি এবং আমাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবেই পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। এটা আসলে আমাদের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ারই একটা অংশ। সত্যি বলতে, আসল বিশ্বকাপ তো শুরু হচ্ছে এখন থেকেই। দল এখন পর্যন্ত দারুণ ফুটবল খেলেছে, যদিও ম্যাচগুলো বেশ কঠিন ছিল।’

ব্রাজিলকে সমীহ করলেও জয়ের ব্যাপারে হুঙ্কার ছুঁড়েছেন জাপান কোচ। মোরিয়াসু যোগ করেন, ‘সামনে আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন এক প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করছে। এই ম্যাচে জয় তুলে নিতে হলে আমাদের নিজেদের সেরা ফুটবলটাই খেলতে হবে। একই সঙ্গে আমরা মাঠে আমাদের দলের উন্নতির গ্রাফটাও ফুটিয়ে তুলতে চাই। ব্রাজিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারে, তবে আমরা তাদের ছেড়ে কথা বলব না; মাঠের লড়াইয়ে তাদের সর্বোচ্চ চ্যালেঞ্জ জানাতে আমরা তৈরি।’

গ্রুপ ‘এফ’ থেকে রানার্স-আপ হয়ে নকআউট পর্বের টিকিট কেটেছে জাপান। নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করার পর, দ্বিতীয় ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৪-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয় তারা। আর শেষ ম্যাচে সুইডেনের সাথে ১-১ গোলের ড্রয়ে শেষ বত্রিশ নিশ্চিত হয় এশিয়ান পরাশক্তিদের।

সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলকে গত বছর হারানোর স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে মোরিয়াসু বলেন,  ‘গত বছর ব্রাজিলের বিপক্ষে একটা প্রীতি ম্যাচ খেলেছিলাম আমরা এবং সেই ম্যাচে আমরা জয় পেয়েছিলাম। ওটাই ছিল তাদের সাথে আমাদের শেষ দেখা। অবশ্য বিশ্বকাপের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে, বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলের বিপক্ষে আমরা কখনই জিততে পারিনি। তবে এখন আমাদের দলের অনেক উন্নতি হয়েছে।’

সেই প্রীতি ম্যাচের জয় এবার চাপ ও প্রত্যাশা দুটোই বাড়িয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে জাপান কোচ আরও যোগ করেন,  ‘গত বছরের সেই জয়ের কারণে এই ম্যাচ নিয়ে আমাদের ওপর চাপ ও দাবি আরও বেড়ে গেছে। তবে ওই প্রীতি ম্যাচের ব্রাজিলের সাথে এই ব্রাজিলের অনেক তফাত। তারা যেমন অনুপ্রাণিত, আমরাও ঠিক তেমনি। দুই দলই জয় ছাড়া কিছুই ভাবছে না। আমার ধারণা, মাঠের লড়াইটা আজ চরম উত্তেজনাকর হবে। আমাদের বিশ্বাস আছে যে আমরা জিততে পারি, যা প্রীতি ম্যাচেই প্রমাণিত। তবে কালকের ম্যাচটা আরও অনেক বেশি কঠিন হবে। আর জয় নিশ্চিত করতে হলে আমাদের দলের শতভাগ উজাড় করে দিতে হবে।’

বিশ্বকাপ জয়ের ব্যাপারে নিজেদের আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়ে মোরিয়াসু আরও বলেন,  ‘অনেকে হয়তো ভাবছেন আমরা কেবল ভালো খেলার জন্যই খেলছি, কিন্তু আমাদের মনে মনে দৃঢ় বিশ্বাস আছে যে আমরা এই বিশ্বকাপ জিততে পারি। অবশ্যই প্রতিপক্ষ যখন ব্রাজিল—যারা বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের অন্যতম শীর্ষ দল—তখন অনেকেই হয়তো জাপানকে আন্ডারডগ বা পিছিয়ে থাকা দল হিসেবেই গণ্য করবেন। আমরা প্রতিপক্ষকে সমীহ করেই মাঠে নামবো, তবে গত বছরের জয়ের মতো এবারও জেতার পূর্ণ বিশ্বাস নিয়েই লড়বো। মানুষ যেন আমাদের এমন একটা দল হিসেবে দেখে, যাদের বিশ্বসেরাদের হারানোর সবটুকু সামর্থ্য আছে—এটা খুবই জরুরি।’

‘ডু অর ডাই’ ম্যাচের আগে জাপানি শিবিরে বড় এক ধাক্কার খবরও নিশ্চিত করেছেন মোরিয়াসু। দলের অন্যতম বড় তারকা তাকেফুসা কুবো সোমবারের এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ডান প্রান্তের এই উইঙ্গার চোট পেয়েছিলেন।

কুবোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে কোচ জানান,  ‘ও দলের সঙ্গে মূল অনুশীলনে অংশ নিতে পারেনি, কেবল একা একা কিছুটা রানিং করেছে। ব্রাজিলের বিপক্ষে এই ম্যাচে ও খেলছে না। আমরা আশা করছি ও দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে এবং ও নিজেও মাঠে ফিরতে উন্মুখ হয়ে আছে।’




জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলায় আরো এক আসামি গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার মো. ইমরান (২৫) পথরীঘোনা এলাকার ছিন্নমূল ৮ নম্বর সমাজের বাসিন্দা ও আজাহারের ছেলে।

র‍্যাব সূত্র জানায়, মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার বিকেলে সলিমপুর এলাকার পথরীঘোনায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রোববার সকালে র‍্যাব-৭-এর পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার তদন্তে ইমরানের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হয়।

র‍্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে। ইমরানকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সীতাকুণ্ড মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

জেডএম




সেই ব্লকবাস্টার ব্রাজিল কোথায়?

ব্রাজিলের ফুটবল মানেই আনন্দের ছটা। দলবেঁধে একঝাঁক হলুদ প্রজাপতির নাচন। সেই ছন্দের তালে নেচে ওঠে ধমনি, রক্তকোষ! এবারের বিশ্বকাপে প্রথম দুই ম্যাচের ক্যানভাসে চিরপরিচিত লাতিন ফুটবলের সেই বোল্ড, বিউটিফুল ফুটবলের ব্রাজিলকে যে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না!
বিশ্বকাপে ব্রাজিল মানেই সাম্বার নাচ। তারা চায় বলের সঙ্গে ছন্দ, গতির সঙ্গে সৌন্দর্য, আক্রমণের সঙ্গে শিল্প। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিলকে দেখে মনে হচ্ছে, তারা নাচছে যন্ত্রসংগীত ছাড়া। গাইছে তাল-লয়-সুরহীন কোনো গান। সেই নাচ তাই খ্যামটার মতো, সেই গান কেবলই বেসুরো।
হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় স্কোরবোর্ডে নিঃসন্দেহে স্বস্তির। কিন্তু মাঠের ফুটবল? সেখানে সন্তুষ্ট হওয়ার মতো খুব কমই আছে। রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিধ্বস্ত, ফিফা র‌্যাংকিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকা, অখ্যাত ফুটবলারদের নিয়ে গড়া একটি দলের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয় হওয়ারই কথা ছিল। প্রশ্ন হলো, এই জয় কি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঘোষণা দেওয়া একটি দলের মতো ছিল? উত্তরটা স্পষ্ট—না।
দুই ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের ঝুলিতে মাত্র চার পয়েন্ট। একটি ড্র, একটি জয়। ফলাফলের হিসেবে বিপদে নয়, কিন্তু পারফরম্যান্সের হিসেবে এখনো নিজেদের পরিচয়ই খুঁজে বেড়াচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
হাইতির বিপক্ষে প্রথমার্ধে তিন গোল করেই ম্যাচ শেষ করে দেয় ব্রাজিল। মাথেউস কুনিয়া দুটি এবং ভিনিসিয়াস জুনিয়র একটি গোল করেন। কিন্তু বিরতির পর যেন পুরো দলই গতি হারিয়ে ফেলে। আক্রমণে ধার নেই, বলের গতি নেই, প্রতিপক্ষকে চেপে ধরার মানসিকতা নেই। বরং হাইতির মতো সীমিত সামর্থ্যের দলও দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকটি বিপজ্জনক আক্রমণ গড়ে তোলে। আরো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হলে সেই ভুলগুলোর মূল্য হয়তো অনেক বড়ই হতো।
এই ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অতিরিক্ত ভিনিনির্ভরতা। দুই ম্যাচেই দলের একমাত্র ধারালো অস্ত্র ছিলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তার গতি, ড্রিবলিং এবং ওয়ান টু ওয়ান পজিশন থেকেই এসেছে বেশির ভাগ বিপজ্জনক মুহূর্ত। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোনো ম্যাচে যদি ভিনি নিজের সেরা খেলাটা খেলতে না পারেন? যদি প্রতিপক্ষ তাকে ডাবল মার্কিংয়ে আটকে ফেলে? তাহলে ব্রাজিলের আক্রমণ কে টানবে?
রাফিনিয়া এখনো বার্সেলোনার সেই বিধ্বংসী উইঙ্গারের ছায়াও নন। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ধীর, শেষ পাসে ভুল, সহজ গোল মিস, আর চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার আগে পর্যন্ত ম্যাচে তার প্রভাব ছিল খুবই সীমিত। রদ্রিগোও নিজের মানের ধারেকাছেও নেই। মাঝমাঠে ব্রুনো গিমারায়েস, ক্যাসিমিরো কেউই খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। একজন বল ধরে রাখছেন, অন্যজন পাস দিচ্ছেন, কিন্তু মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে সেই সৃজনশীল সংযোগটা তৈরি হচ্ছে না। ফলে আক্রমণের পুরো ভার এসে পড়ছে উইংয়ে, বিশেষ করে ভিনিসিয়াসের ওপর। তার সঙ্গে শেষ ম্যাচে লুকাস পাকেতো অবশ্য সমান তালে পারফরম্যান্স দেখান।
ট্যাকটিক্যাল দিক থেকেও আনচেলত্তির দল এখনো অগোছালো। বল হারানোর পর দ্রুত প্রেসিং নেই। ফুলব্যাকরা ওপরে উঠে গেলেও তাদের পেছনের জায়গা বারবার ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। দুই সেন্টারব্যাকের মধ্যকার দূরত্বও অনেক সময় বেড়ে যাচ্ছে, যার সুযোগ নিচ্ছে প্রতিপক্ষ। মিডফিল্ডে ‘ডাবল পিভট’ ঠিকমতো রক্ষণকে সুরক্ষা দিতে পারছে না, আবার আক্রমণেও সংখ্যাগত সুবিধা তৈরি করতে পারছে না। ফলে দলটি একদিকে রক্ষণে ভঙ্গুর, অন্যদিকে আক্রমণে শুধু ভিনির ওপর অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভরশীল।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এই ব্রাজিলে এখনো সেই পুরোনো ‘জোগো বনিতো’র কোনো ছাপ নেই। নেই ওয়ান-টাচ ফুটবল, নেই অফ দ্য বল মুভমেন্ট, নেই আক্রমণে স্বতঃস্ফূর্ততা। খেলোয়াড়রা যেন নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবল খেলছেন না; চিরজীবন উপভোগের মন্ত্রে ফুটবল খেলে আসা সেই ব্রাজিল কই?
মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর হাইতিকে হারিয়ে ব্রাজিল স্বস্তি পেয়েছে ঠিকই। কিন্তু বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখানো দলের কাছে স্বস্তি যথেষ্ট নয়। তাদের দরকার আধিপত্য, ছন্দ, আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিপক্ষকে ভয় ধরিয়ে দেওয়ার মতো ফুটবল।
এখন পর্যন্ত সেই ব্রাজিলকে দেখা যায়নি।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে পরের ম্যাচটি তাই শুধু তিন পয়েন্টের নয়, নিজেদের সত্যিকারের পরিচয় ফিরে পাওয়ারও পরীক্ষা। কারণ বিশ্বকাপের নকআউটে প্রতিপক্ষ আর হাইতি হবে না। সেখানে ভিনিসিয়াস একা ম্যাচ জেতাতে পারবেন না। পুরো দলকে জেগে উঠতে হবে। নইলে পাঁচ তারকার জার্সি গায়ে রেখেও এই ব্রাজিলের বিশ্বকাপ যাত্রা ১৯ জুলাইয়ের অনেক আগেই থেমে যেতে পারে।
১৯ জুলাই বিশ্বকাপ ফাইনাল।