প্ল্যান্ট অচল রেখে মাসে কোটি টাকার অক্সিজেন কিনছে সরকারি হাসপাতাল

শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারি অক্সিজেন প্ল্যান্টগুলো বছরের পর বছর অচল পড়ে আছে। অথচ সরকারি হাসপাতালগুলোকে প্রতি মাসে বেসরকারি দুই কোম্পানির কাছ থেকে কোটি কোটি টাকার অক্সিজেন কিনতে হচ্ছে। ১৩ বছর ধরে নতুন টেন্ডার না হওয়ায় দেশের মেডিকেল অক্সিজেন সরবরাহ কার্যত এই দুই কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের দাবি, জটিলতা ও ঝুঁকির কারণে কেউ নতুন টেন্ডার আহ্বানের সাহস করছে না। আর বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি প্ল্যান্ট বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে বেসরকারি কোম্পানিগুলো। কৃত্রিম সংকট তৈরি করেই চলছে অক্সিজেন বাণিজ্য।




একইসঙ্গে ভারত-চীনকে কাছে টানছে বাংলাদেশ : বিবিসির রিপোর্ট

প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টার মাঝেই ধাবমান অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে চীনের বড় বিনিয়োগ ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব অর্জনে সচেষ্ট হয়েছে বাংলাদেশের নতুন সরকার। গত মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরের অংশ হিসেবে মালয়েশিয়া ও চীন সফর সম্পন্ন করেছেন, যা ঢাকার বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির নতুন দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।  রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে সদ্য নির্বাচিত দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের জন্য ঐতিহ্যগতভাবে ভারত সফরই প্রথম পছন্দ হলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীনকে বেছে নেওয়া দিল্লির জন্য একটি প্রচ্ছন্ন বার্তা। বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে একটি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার পর থেকে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কে যে শীতলতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতে এই সফর বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বেইজিং সফরে মোংলা বন্দরের কাছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার চুক্তি এবং তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনায় চীনের কারিগরি সহযোগিতা ভারতের নীতিনির্ধারকদের কড়া নজরদারিতে রয়েছে।

ফেব্রুয়ারি মাসে সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণ করলে দুই দেশের বরফ গলতে শুরু করে। ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শ্যাম শরণ বিবিসিকে জানিয়েছেন যে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে এবং ভারত আবারও বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা দেওয়া শুরু করেছে।

এর পাশাপাশি প্রায় ১৮ মাস বন্ধ থাকার পর কলকাতা-ঢাকা এবং ঢাকা-আগরতলা রুটে যাত্রীবাহী বাস চলাচল আংশিকভাবে পুনরায় চালু করা হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সময় ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে জরুরি জ্বালানি পাঠিয়েছিল এবং সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদিকে ক্যাবিনেট পদমর্যাদায় উন্নীত করে পাঠানো হয়েছে।

তবে এই সমস্ত ইতিবাচক ইঙ্গিতের বাইরেও দুই দেশের সম্পর্কে কিছু স্থায়ী অস্বস্তি রয়ে গেছে। বাংলাদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের অব্যাহত সমর্থনের কারণে একটি তীব্র ভারত-বিরোধী জনমত তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ কর্তৃক অবৈধ অভিবাসী সন্দেহে বাংলাভাষী মুসলিমদের পুশ-ইন বা জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা ঢাকায় ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তাছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি জয়ী হওয়ার পর বাংলাদেশে এর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, যা বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে বলে মনে করেন সাবেক বাংলাদেশি কূটনীতিক হুমায়ুন কবির।

ভারতের জন্য সবচেয়ে সংবেদনশীল নিরাপত্তা ইস্যু হলো তিস্তা নদী প্রকল্পে চীনের যেকোনো ধরনের সম্পৃক্ততা। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ বছর ধরে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি ঝুলে থাকায় বেইজিং সফরে নদীটির ব্যবস্থাপনায় যৌথ কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়ে একমত হয়েছে ঢাকা ও বেইজিং। ভারতের শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’-এর কাছাকাছি চীনের এই উপস্থিতি দিল্লির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। তবে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের মতে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ভারতকে এই প্রকল্পে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানালেও দিল্লি সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ করেছে, যেখানে চীনের এই ধরনের বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের আর্থিক ও কারিগরি সক্ষমতা রয়েছে।

ভারতের এই সমস্ত কৌশলগত উদ্বেগ দূর করতে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়া কুন বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে চীন-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে করা হয়নি এবং এটি যেকোনো তৃতীয় পক্ষের প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকা উচিত। উল্লেখ্য যে চীন ইতিমধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ এবং ঢাকার কাছে বেইজিংয়ের পাওনা ঋণের পরিমাণ ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। এবারের সফরে চীন, মিয়ানমার ও বাংলাদেশকে সংযুক্ত করে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তোলার প্রস্তাবও দিয়েছে বেইজিং।

ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় জটিলতা হলো দিল্লিতে অবস্থান করা শেখ হাসিনা, যাঁর প্রত্যর্পণ চাইছে ঢাকা। গত বছর বাংলাদেশের একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ছাত্র আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শ্যাম শরণ মনে করেন যে শেখ হাসিনা দিল্লিতে থাকা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য রাজনৈতিকভাবে ভারত সফর করা কিছুটা কঠিন হতে পারে। তবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে দুই দেশই একে অপরকে উপেক্ষা করতে পারবে না, যা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য একটি জটিল ও সংবেদনশীল কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।




প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত : লালমাই উপজেলার ১৪৭ জন শিক্ষার্থী ও ৪৩জন শিক্ষকের স্বপ্ন পূরণ!

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ৪৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৪৭ জন শিক্ষার্থী ও ৪৩ জন শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শন করেছেন। কুমিল্লা ১০ নির্বাচনী আসনের এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রচেষ্টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ভিজিট শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ সফর তাদের জন্য স্মরণীয়, অনুপ্রেরণাদায়ী ও স্বপ্নপূরণের অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে। জাতীয় সংসদে শিক্ষা সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ে আনন্দিত শিক্ষার্থীরা।

৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) ভোরবেলা লালমাই উপজেলা থেকে ঢাকা জাতীয় সংসদের উদ্দেশ্য রওনা হয় তারা। সফরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শিক্ষক- অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা বিনিময় যা শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করেছে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী এবং লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সৃজনশীল চর্চার প্রতি সমান গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্মরণীয় মুহূর্ত ধারণ করতে পেরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

পরিদর্শন কালে শিক্ষার্থীরা প্রথমে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন, সংসদের দক্ষিণ প্লাজা, ক্রিসেন্ট লেক, ও এলডি হল, সংসদ লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন। সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়ার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও ফটোসেশনে অংশগ্রহণ করেন।

এরপর বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের নকশায় নির্মিত সংসদ ভবনের নান্দনিক স্থাপত্য ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘুরে দেখেন। চলমান বাজেট অধিবেশন সরাসরি উপভোগ করেন।

সংসদ ভবনে আয়োজিত ব্রিফিং সেশনে শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংসদ ভবনের ইতিহাস, স্থাপত্যশৈলী এবং সংসদীয় কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার অংশ হিসেবে গান পরিবেশন করা হয়।

শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।

শিক্ষার্থীরা জানান, ‘আজ আমরা বঙ্গভূমির হৃৎস্পন্দনকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি। এই শিক্ষা সফর আমাদের মনে দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও রাষ্ট্র চেতনার বীজ বুনে দিয়েছে। এটি শুধু একটি শিক্ষা সফর বা অভিজ্ঞতা নয়, বরং আমাদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য এক অনুপ্রেরণা ও গর্বের স্মৃতি হয়ে থাকবে।’

একই সঙ্গে তারা উচ্ছ্বাসের সঙ্গে স্লোগান দেয়- ‘করবো পড়াশোনা, গড়বো দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ।’ সফরের অংশ হিসেবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের এলডি হলে মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ করেন।

বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে সফররত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, শিক্ষামন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্যদের এবং বিভিন্ন সংসদ সদস্যকে সরাসরি দেখার বিরল সুযোগ পান। পরিদর্শন শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংসদ সচিবালয় এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন




একটানা নয়, দুই দফায় ঘুমানোর পরামর্শ

আধুনিক বিশ্বে সুস্থ থাকার আদর্শ মানদণ্ড হিসেবে আমরা টানা আট ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টাকেই ধ্রুব সত্য বলে মেনে নিয়েছি। তবে ইতিহাস ও বিজ্ঞানের গভীর বিশ্লেষণে দেখা যায়, আমাদের পূর্বপুরুষদের ঘুমের ধরণ ছিল বর্তমানের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা এবং বৈচিত্র্যময়।

মধ্যযুগীয় ইউরোপীয় সাহিত্য থেকে শুরু করে ভিক্টোরিয়ান যুগের বিভিন্ন নথিতে ‘বাইফ্যাসিক স্লিপ’ বা দ্বিখণ্ডিত ঘুমের অসংখ্য প্রমাণ পাওয়া যায়। ইতিহাসবিদ রজার একির্চ প্রায় ৫০০টিরও বেশি ঐতিহাসিক তথ্যসূত্র বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন, শিল্প বিপ্লবের আগে মানুষ মূলত দুই দফায় ঘুমাতে অভ্যস্ত ছিল। এই প্রাচীন জীবনধারায় মানুষ সূর্যাস্তের পরপরই বিছানায় যেত এবং রাত ১০টা বা ১১টার দিকে তাদের ‘প্রথম ঘুম’ ভেঙে যেত।

প্রথম দফার এই ঘুম ভাঙার পর মানুষের জীবনে ‘ওয়াচিং’ বা জেগে থাকার একটি বিশেষ বিরতি আসত যা প্রায় ঘণ্টা দুয়েক স্থায়ী হতো। এই সময়টুকুতে মানুষ অলস বসে না থেকে ঘরের টুকটাক কাজ, পড়াশোনা, প্রতিবেশী বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গল্পগুজব এবং ধর্মীয় উপাসনা করত। মধ্যরাতের এই বিরতি শেষে তারা পুনরায় ‘দ্বিতীয় ঘুমে’ তলিয়ে যেত এবং সূর্যোদয় পর্যন্ত সেই বিশ্রাম চলত।

বিজ্ঞানীদের মতে, কৃত্রিম আলোর অনুপস্থিতিতে মানুষের শরীর মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণকে ভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করত বলেই এমনটি হতো। নব্বইয়ের দশকে মনোবিজ্ঞানী টমাস ওয়্যারের এক গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষকে দীর্ঘ সময় অন্ধকারে রাখা হলে তাদের শরীর প্রাকৃতিকভাবেই এই দ্বিখণ্ডিত ঘুমের প্যাটার্নে ফিরে যায়।

এই দুই ঘুমের মধ্যবর্তী সময়ে মানবদেহে ‘প্রোল্যাকটিন’ নামক এক ধরনের হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা মানুষকে মানসিকভাবে শান্ত এবং অত্যন্ত সৃজনশীল করে তোলে। আধুনিক যুগের অনেক অনিদ্রা বা ইনসোমনিয়ার রোগী আসলে এই প্রাচীন জৈবিক ঘড়ির প্যাটার্নেই আটকে আছেন, যা বর্তমানের যান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খায় না।

সপ্তদশ শতাব্দীর শেষভাগে ইউরোপে রাস্তার আলোর প্রচলন এবং পরবর্তীকালে শিল্প বিপ্লবের ফলে কৃত্রিম আলোর বিস্তার মানুষের এই আদিম অভ্যাসকে বদলে দেয়। কফি পানের সংস্কৃতি এবং রাত জেগে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা ঘুমের সেই মধ্যবর্তী সৃজনশীল বিরতিটুকুকে চিরতরে হারিয়ে দেয়।

আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, আট ঘণ্টার টানা ঘুমের প্রথা আসলে একটি সমকালীন উদ্ভাবন যা অনেক সময় আমাদের ডিএনএ-তে থাকা আদিম অভ্যাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়। বিশেষ করে ছাত্র, গবেষক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বা সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য এই মধ্যবর্তী জেগে থাকার সময় বা ‘ওয়াচ’ অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে।

ইতিহাসের এই বাঁক আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বিশ্রামের কোনো ধরাবাঁধা গাণিতিক নিয়ম নেই। বরং প্রকৃতির ছন্দের সঙ্গে শরীরকে মিলিয়ে নেওয়াই ছিল মানুষের প্রকৃত স্বভাব। এই আদিম জৈবিকতাকে যদি বর্তমানের সৃজনশীল কাজে সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়, তবে তা আমাদের চিন্তাশক্তিকে আরও শাণিত করতে পারে।

লেখক: ড. তৌকির হাসান (বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল)




আবদুল আজিজ এর নবম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

আব্দুল আজিজ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের আয়োজনে গতকাল  ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন  মিলনায়তনে বরেণ্য রাজনীতিবিদ, দাগন ভূঁইয়ার কৃতি সন্তান মরহুম আব্দুল আজিজ এর নবম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় আব্দুল আজিজ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম টিপুর সভাপতিত্বে, দাগনভূঁইয়া ব্লাড ডোনেশন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিনের পরিচালনায় স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের এই আলোচনা সভায় স্মৃতিচারণ করেন  ফেনী সমিতির আহবায়ক জনাব আব্দুল্লাহ চৌধুরী, দৈনিক আমার কাগজ সম্পাদক ফজলুল হক ভূঁইয়া রানা, জেএসডি সাধারণ সম্পাদক  শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, দাগনভূঞা সমিতির সভাপতি সাবেক সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড: খুরশিদ আলম সাগর,  নোফেল সংযোগের প্রধান সমন্বয়কারী নাসির উদ্দীন মাসুক, লায়ন মোহাম্মদ হাশেম, সুপ্রিম কোর্টের  আইনজীবী মীর মোশারফ হোসেনবাদন , আল ইনসিয়াত  ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মনির, স্বপ্নীল এর মহাসচিব রবিন আহমেদ, জাগো বাংলা শিশু কিশোরের সভাপতি জামাল শিকদার,  স্বপ্নীল এর ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রহিম ফরাজি, দাগনভূঞা যুব ফোরামের সভাপতি গোলাম আজাদ বুলবুল, বিশিষ্ট সংগঠক তাজুল ইসলাম লিটন, আবু সুফিয়ান রিপন চৌধুরী, আব্দুল হালিম লিটন, সাইদুল হক টিটু, সাংবাদিক ইয়াসিন রনি  মরহুমের দৌহিত্র মুসতারিফ আনাম ওহী, মরহুমের ছোট ছেলে মঞ্জুরুল ইসলাম সুমন, বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী  সিরাজুল হক বাবু, ফেনী বন্ধু পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক মো: ইসমাইল নাসির ,মো: আব্দুল  কাদের প্রমুখ

আলোচনা সভা শেষে ধর্মীয় ভাব গম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ফকিরাপুল জামে মসজিদের ইমাম মামুনুর রশীদ। এসময় কোরানের পাখিদের উপস্থিতিতে আব্দুল আজিজ ফাউন্ডেশনের পক্ষ পুরস্কার  বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত অতিথিরা মরহুমের জন্য দোয়া করে।

সর্বশেষ আব্দুল আজিজ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম টিপু সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।




একইসঙ্গে ভারত-চীনকে কাছে টানছে বাংলাদেশ : বিবিসির রিপোর্ট

প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টার মাঝেই ধাবমান অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে চীনের বড় বিনিয়োগ ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব অর্জনে সচেষ্ট হয়েছে বাংলাদেশের নতুন সরকার। গত মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরের অংশ হিসেবে মালয়েশিয়া ও চীন সফর সম্পন্ন করেছেন, যা ঢাকার বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির নতুন দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।  রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে সদ্য নির্বাচিত দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের জন্য ঐতিহ্যগতভাবে ভারত সফরই প্রথম পছন্দ হলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীনকে বেছে নেওয়া দিল্লির জন্য একটি প্রচ্ছন্ন বার্তা। বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে একটি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার পর থেকে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কে যে শীতলতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতে এই সফর বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বেইজিং সফরে মোংলা বন্দরের কাছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার চুক্তি এবং তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনায় চীনের কারিগরি সহযোগিতা ভারতের নীতিনির্ধারকদের কড়া নজরদারিতে রয়েছে।

ফেব্রুয়ারি মাসে সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণ করলে দুই দেশের বরফ গলতে শুরু করে। ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শ্যাম শরণ বিবিসিকে জানিয়েছেন যে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে এবং ভারত আবারও বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা দেওয়া শুরু করেছে।

এর পাশাপাশি প্রায় ১৮ মাস বন্ধ থাকার পর কলকাতা-ঢাকা এবং ঢাকা-আগরতলা রুটে যাত্রীবাহী বাস চলাচল আংশিকভাবে পুনরায় চালু করা হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সময় ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে জরুরি জ্বালানি পাঠিয়েছিল এবং সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদিকে ক্যাবিনেট পদমর্যাদায় উন্নীত করে পাঠানো হয়েছে।

তবে এই সমস্ত ইতিবাচক ইঙ্গিতের বাইরেও দুই দেশের সম্পর্কে কিছু স্থায়ী অস্বস্তি রয়ে গেছে। বাংলাদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের অব্যাহত সমর্থনের কারণে একটি তীব্র ভারত-বিরোধী জনমত তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ কর্তৃক অবৈধ অভিবাসী সন্দেহে বাংলাভাষী মুসলিমদের পুশ-ইন বা জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা ঢাকায় ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তাছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি জয়ী হওয়ার পর বাংলাদেশে এর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, যা বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে বলে মনে করেন সাবেক বাংলাদেশি কূটনীতিক হুমায়ুন কবির।

ভারতের জন্য সবচেয়ে সংবেদনশীল নিরাপত্তা ইস্যু হলো তিস্তা নদী প্রকল্পে চীনের যেকোনো ধরনের সম্পৃক্ততা। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ বছর ধরে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি ঝুলে থাকায় বেইজিং সফরে নদীটির ব্যবস্থাপনায় যৌথ কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়ে একমত হয়েছে ঢাকা ও বেইজিং। ভারতের শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’-এর কাছাকাছি চীনের এই উপস্থিতি দিল্লির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। তবে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের মতে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ভারতকে এই প্রকল্পে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানালেও দিল্লি সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ করেছে, যেখানে চীনের এই ধরনের বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের আর্থিক ও কারিগরি সক্ষমতা রয়েছে।

ভারতের এই সমস্ত কৌশলগত উদ্বেগ দূর করতে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়া কুন বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে চীন-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে করা হয়নি এবং এটি যেকোনো তৃতীয় পক্ষের প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকা উচিত। উল্লেখ্য যে চীন ইতিমধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ এবং ঢাকার কাছে বেইজিংয়ের পাওনা ঋণের পরিমাণ ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। এবারের সফরে চীন, মিয়ানমার ও বাংলাদেশকে সংযুক্ত করে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তোলার প্রস্তাবও দিয়েছে বেইজিং।

ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় জটিলতা হলো দিল্লিতে অবস্থান করা শেখ হাসিনা, যাঁর প্রত্যর্পণ চাইছে ঢাকা। গত বছর বাংলাদেশের একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ছাত্র আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শ্যাম শরণ মনে করেন যে শেখ হাসিনা দিল্লিতে থাকা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য রাজনৈতিকভাবে ভারত সফর করা কিছুটা কঠিন হতে পারে। তবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে দুই দেশই একে অপরকে উপেক্ষা করতে পারবে না, যা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য একটি জটিল ও সংবেদনশীল কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।




‘ইডির চেয়েও ভয়ংকর এবি’, তৃণমূল ছেড়ে বললেন মমতাঘনিষ্ঠ মদন মিত্র

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন মোড়। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম পরিচিত নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত মদন মিত্র দল ছেড়ে বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে যোগ দিয়েছেন। দুর্নীতির অভিযোগে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) তদন্ত, বাড়িতে তল্লাশি এবং সম্প্রতি স্ত্রী ও দুই ছেলেকে তলবের ঘটনার মধ্যেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

আজ বুধবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কক্ষে গিয়ে মদন মিত্র তৃণমূল কংগ্রেসের সব পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘তৃণমূলে ছিলাম, তৃণমূলে রইলাম। শুধু এক ঘর থেকে আরেক ঘরে এলাম।’




ব্রাজিলকে ছেড়ে কথা বলব না: জাপান কোচ

ব্রাজিল বনাম জাপানের হাইভোল্টেজ মহারণের বাকি আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। মহাগুরুত্বপূর্ণ এই লড়াইয়ের আগে রোববার সংবাদ সম্মেলনে এসে সেলেসাওদের রুখে দেওয়ার নকশা ও রণপরিকল্পনা স্পষ্ট করেছেন ‘ব্লু সামুরাইদের’ কোচ হাজিমে মোরিয়াসু।

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বধ করে আরও একটি রূপকথা লেখার সামর্থ্য জাপানের আছে—এমনটাই বিশ্বাস এই কোচের। মাঠের লড়াইয়ে ব্রাজিলকে এক চুলও ছাড় না দেওয়ার ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি।

ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে জাপানের কোচ মোরিয়াসু বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ খেলেছি এবং আমাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবেই পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। এটা আসলে আমাদের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ারই একটা অংশ। সত্যি বলতে, আসল বিশ্বকাপ তো শুরু হচ্ছে এখন থেকেই। দল এখন পর্যন্ত দারুণ ফুটবল খেলেছে, যদিও ম্যাচগুলো বেশ কঠিন ছিল।’

ব্রাজিলকে সমীহ করলেও জয়ের ব্যাপারে হুঙ্কার ছুঁড়েছেন জাপান কোচ। মোরিয়াসু যোগ করেন, ‘সামনে আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন এক প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করছে। এই ম্যাচে জয় তুলে নিতে হলে আমাদের নিজেদের সেরা ফুটবলটাই খেলতে হবে। একই সঙ্গে আমরা মাঠে আমাদের দলের উন্নতির গ্রাফটাও ফুটিয়ে তুলতে চাই। ব্রাজিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারে, তবে আমরা তাদের ছেড়ে কথা বলব না; মাঠের লড়াইয়ে তাদের সর্বোচ্চ চ্যালেঞ্জ জানাতে আমরা তৈরি।’

গ্রুপ ‘এফ’ থেকে রানার্স-আপ হয়ে নকআউট পর্বের টিকিট কেটেছে জাপান। নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করার পর, দ্বিতীয় ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৪-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয় তারা। আর শেষ ম্যাচে সুইডেনের সাথে ১-১ গোলের ড্রয়ে শেষ বত্রিশ নিশ্চিত হয় এশিয়ান পরাশক্তিদের।

সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলকে গত বছর হারানোর স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে মোরিয়াসু বলেন,  ‘গত বছর ব্রাজিলের বিপক্ষে একটা প্রীতি ম্যাচ খেলেছিলাম আমরা এবং সেই ম্যাচে আমরা জয় পেয়েছিলাম। ওটাই ছিল তাদের সাথে আমাদের শেষ দেখা। অবশ্য বিশ্বকাপের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে, বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলের বিপক্ষে আমরা কখনই জিততে পারিনি। তবে এখন আমাদের দলের অনেক উন্নতি হয়েছে।’

সেই প্রীতি ম্যাচের জয় এবার চাপ ও প্রত্যাশা দুটোই বাড়িয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে জাপান কোচ আরও যোগ করেন,  ‘গত বছরের সেই জয়ের কারণে এই ম্যাচ নিয়ে আমাদের ওপর চাপ ও দাবি আরও বেড়ে গেছে। তবে ওই প্রীতি ম্যাচের ব্রাজিলের সাথে এই ব্রাজিলের অনেক তফাত। তারা যেমন অনুপ্রাণিত, আমরাও ঠিক তেমনি। দুই দলই জয় ছাড়া কিছুই ভাবছে না। আমার ধারণা, মাঠের লড়াইটা আজ চরম উত্তেজনাকর হবে। আমাদের বিশ্বাস আছে যে আমরা জিততে পারি, যা প্রীতি ম্যাচেই প্রমাণিত। তবে কালকের ম্যাচটা আরও অনেক বেশি কঠিন হবে। আর জয় নিশ্চিত করতে হলে আমাদের দলের শতভাগ উজাড় করে দিতে হবে।’

বিশ্বকাপ জয়ের ব্যাপারে নিজেদের আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়ে মোরিয়াসু আরও বলেন,  ‘অনেকে হয়তো ভাবছেন আমরা কেবল ভালো খেলার জন্যই খেলছি, কিন্তু আমাদের মনে মনে দৃঢ় বিশ্বাস আছে যে আমরা এই বিশ্বকাপ জিততে পারি। অবশ্যই প্রতিপক্ষ যখন ব্রাজিল—যারা বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের অন্যতম শীর্ষ দল—তখন অনেকেই হয়তো জাপানকে আন্ডারডগ বা পিছিয়ে থাকা দল হিসেবেই গণ্য করবেন। আমরা প্রতিপক্ষকে সমীহ করেই মাঠে নামবো, তবে গত বছরের জয়ের মতো এবারও জেতার পূর্ণ বিশ্বাস নিয়েই লড়বো। মানুষ যেন আমাদের এমন একটা দল হিসেবে দেখে, যাদের বিশ্বসেরাদের হারানোর সবটুকু সামর্থ্য আছে—এটা খুবই জরুরি।’

‘ডু অর ডাই’ ম্যাচের আগে জাপানি শিবিরে বড় এক ধাক্কার খবরও নিশ্চিত করেছেন মোরিয়াসু। দলের অন্যতম বড় তারকা তাকেফুসা কুবো সোমবারের এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ডান প্রান্তের এই উইঙ্গার চোট পেয়েছিলেন।

কুবোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে কোচ জানান,  ‘ও দলের সঙ্গে মূল অনুশীলনে অংশ নিতে পারেনি, কেবল একা একা কিছুটা রানিং করেছে। ব্রাজিলের বিপক্ষে এই ম্যাচে ও খেলছে না। আমরা আশা করছি ও দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে এবং ও নিজেও মাঠে ফিরতে উন্মুখ হয়ে আছে।’




২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল ২০ জুলাই

২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে আগামী ২০ জুলাই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

আজ সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে। পরীক্ষা চলে ২০ মে পর্যন্ত। এখন চলছে ব্যবহারিক পরীক্ষা।

এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি।




ড. ইউনূসসহ সব উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে রিট

হামের টিকা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে ড. ইউনূস ও সাবেক সব উপদেষ্টাসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা চাওয়া হয় রিটে।হামের টিকাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা থেকে বেসরকারি খাতে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে রবিবার (১৭ মে) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম এই রিট দায়ের করেন।

রিটে তদন্ত কমিটি গঠন ও ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সব সদস্যের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ সরকারের সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।

গত ৬ এপ্রিল এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নোটিশ পাঠানো হয়। সেদিন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম জানান, সারা দেশে অকস্মাৎ বিলুপ্ত রোগ হামের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং অগণিত শিশু ও সাধারণ নাগরিক হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। হামের মতো টিকা করণের ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা থেকে প্রাইভেট খাতে দেওয়ার অশুভ অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ডের স্বার্থে জড়িত থাকায় এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক তদন্তের দাবি জানিয়ে এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ড. আসিফ নজরুল, সৈয়দ রেজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খান শুভ্র, নূর জাহান বেগম, ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ সব উপদেষ্টা, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস-সচিব শফিকুল আলম এবং সংশ্লিষ্ট সব সাবেক ব্যক্তিগত সহকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য সরকারের প্রতি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। তবে সে নোটিশের সদুত্তর না পেয়ে তিনি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।