কমলনগরে ৩ রাখাল নিঁেখাজ, ভেসে গেছে ৭০০ গরু-মহিষ

 

লক্ষ্মীপুর  : লক্ষ্মীপুরের কমলগনগরের মেঘনা নদীতে জেগে উঠা চর কাঁকরা থেকে জলোচ্ছ্বসে ৩ জন রাখাল নিখোঁজ হয়েছেন। এসময় ওই চর থেকে তীব্র জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে ৬০০ মহিষ ও  ১০০ গরু। লন্ডভন্ড হয়ে গেছে গরু-মহিষ রাখার কিল্লা। নদীতে ভাসতে দেখা গেছে মৃত গরু ও মহিষের বাচ্চা।

শুক্রবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩ টার দিকে উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়নের মেঘনা নদীতে জেগে উঠা কাঁকরার চরে ফিরোজ বাঘার মহিষ কিল্লা থেকে রাখাল ও গরু-মহিষ ভেসে যায়। এতে নিখোঁজ হয় তিন জন রাখাল।

নিখোঁজ রাখালরা হলেন- পাটারিরহাট ইউনিয়নের মৃত মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে আবদুর জাহের (৫০), চর ফলকন গ্রামের কালু পলোয়ানের ছেলে হান্নান (৩৫) একই গ্রামের দুলালের ছেলে মো. বাহার (২৫)।

কমলনগর মহিষ খামার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজিরহাট উপকূল ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. মাহবুবুর রহমান স্বপন তিনজন রাখাল নিখোঁজ ও ৭০০ গরু-মহিষ নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

জানা গেছে পাটারিরহাট ইউনিয়নের মো. ফিরোজ বাঘার ২০০ মহিষ, ফলকন ইউনিয়নের শফিকুল ইসলামের ১০০ মহিষ, গরু ২০টি। একই গ্রামের আনোয়ারুল ইসলামের ১০০ মহিষ, নুর নবী বাঘার ১০০ মহিষ, দুলাল বাতানের ৫০ মহিষ, ৩৫টি গরু, জসিমের ১০০ মহিষ, শাহ আলমের ২৫টি মহিষ, গরু ৩টি, সালাহ উদ্দিনের মহিষ ৫০টি, আলা উদ্দিনের ৩০ মহিষ ও গরু ৫টি, জামাল উদ্দিনের ২০টি মহিষ, গরু ৫টি জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যায়। এর পর থেকে গরু ও মহিষগুলো নিখোঁজ রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত মহিষ মালিক ও চরে কিল্লা স্থাপনকারী মো. ফিরোজ বাঘা বলেন, জেগে ওঠা ওই চরে ৭ লাখ টাকায় নির্মিত কিল্লা তৈরী করে ১০জন মালিক প্রায়  ১ হাজার মহিষ ও দুইশতাধিক গরু লালন-পালন করে আসছেন। শুক্রবার গভীর রাতে জলোচ্ছ্বাসে কিল্লা লন্ডভন্ড হয়ে যায়। এসময় ৩ জন রাখাল ও প্রায় ৭০০ গরু মহিষ ভেসে যায়। এর পর থেকে ওই ৩ জন রাখাল নিঁেখাজ রয়েছে। ভেসে যাওয়া গরু মহিষেরও সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পাটারিরহাট, ফলকন  ও কালকিনি ইউনিয়নের মেঘনা পাড়ের বাসিন্দারা জানান, জোয়ারের সাথে বেশ কিছু মহিষের মৃত বাচ্চা ও গরু ভেসে যেতে দেখা গেছে।

কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকুল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, এ ব্যাপারে কেউ এখনো থানায় জানায়নি।

 




অতিবৃষ্টি, তীব্র জোয়ারে কমলনগর-রামগতি প্লাবিত

 

লক্ষ্মীপুর : নিন্মচাপের প্রভাবে অতিবৃষ্টি ও তীব্র জোয়ারে রামগতি ও কমলনগরের অন্তত ২০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে উপকূলীয় রাস্তাঘাট। পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে ৪ হাজার পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৬ শতাধিক কাঁচা ঘর, আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ২ শতাধিক পরিবার। তীব্র জোয়ারে মেঘনা জেগে উঠা চর আবদুল্লাহ থেকে ১৫০টি মহিষ নিখোঁজ হয়। ভেসে গেছে মাছের ঘের ও উপড়ে পড়েছে গাছপাল। এদিকে মেঘনা নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কমলনগর মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ পড়েছে মারাতœক হুমকির মুখে। ভাঙনের শিকার হয়েছে অন্তত ৫০টি পরিবার।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হয়ে শনিবার (২১ অক্টোবর) বিকাল পর্যন্ত টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে লক্ষ্মীপুরের উপকূলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

 

অতিবৃষ্টি, ঝড় ও তীব্র জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম ইউনিয়নগুলো হলো-রামগতি উপজেলার চর আলেকজান্ডার, চর আলগী, চর আবদুল্লাহ, চর রমিজ, বড়খেরী, চর গাজী। কমলনগর উপজেলার চর ফলকন, সাহেবেরহাট, চর কালকিনি, পাটারিরহাট, চর মার্টিন, চর লরেন্স, হাজিরহাট, চর কাদিরা ও তোরাবগঞ্জ ইউনিয়। এসব ইউনিয়নের মেঘনা পাড়ের প্রায় ৩০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

রামগতি উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল ওয়াহেদ জানান, অতিবৃষ্টি, ঝড় ও তীব্র জোয়ারে রামগতির উপকূলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার চর আলগী, চর আবদুল্লাহ, চর রমিজ, বেড় খেরী ও চর গাজী ইউনিয়নের প্রায় ৬শ’ কাঁচা ঘর-বাড়ির ক্ষতি হয়েছে। বসত ঘরের উপর গাছ চাপা পড়ে সুরাইয়া বেগম নামের এক নারী আহত হয়েছেন। চর আলগী ও রড়খেরী ইউনিয়নে প্রায় দুই শতাধিক পরিবার দুইটি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। চর আবদুল্লাহ থেকে তীব্র জোয়ারের প্রায় ১৫০টি মহিষ ভেসে গেছে। এর মধ্যে ১১টি মহিষ উদ্ধার করে বড় খেরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যানের জিম্মায় রাখা হয়। মাছ চাষিদের প্রায় শতাধিক মাছের ঘের জোয়ারে ভেসে গেছে। বেশ কিছু গাছ পালা উপড়ে পয়েছে। ডুবে গেছে ফসলের মাঠ ও সবজি খেত।

এদিকে,কমলনগরের ফলকন, কালকিনি, পাটারিরহাট ও সাহেবেরহাট ইউনিয়নে নদী ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত দুই দিনের ভাঙনে ৫০ পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। বিলীন হয়েছে ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট। মারাতœক হুমকির মুখে পড়েছে নদী তীর রক্ষা বাঁধ। আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে কমলনগরবাসী। এ উপজেলাতেও জোয়ার ও বৃষ্টির পানিতে দুই  হাজার পরিবার পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে।

কমলনগরে চরফলকন ইউনয়িন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হাজী হারুনুর রশিদ, সাহেবেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবুল খায়ের, কালকিনি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইফ উল্লাহ ও পাটারিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রাজু বলেন, অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ৪টি ইউনিয়নের সব কয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানি বন্ধি হয়েছে শত শত পরিবার।




লক্ষ্মীপুরে বিদ্যুৎ নেই: ৪৮ ঘন্টা অন্ধকারে কমলনগর

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাগরের নিম্নচাপের ফলে ৩দিনের প্রবল বর্ষণের ৩য় দিন শনিবার (২২ অক্টোবর) বেলা ৩টা পর্যন্ত পুরো লক্ষ্মীপুর জেলার প্রায় ৮৫ ভাগ এলাকায়  বিদ্যুৎ নেই। ঘন্টার পর ঘন্টা অন্ধকারে সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে কমলনগর উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বৃস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে। অন্যদিকে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রামগঞ্জ, চন্দ্রগঞ্জ, রামগতি এবং রায়পুর উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

 

বিদ্যুতের অভাবে বাসাবাড়িতে থাকা ফ্রিজে সংরক্ষিত খাবার নষ্ট হচ্ছে, মানুষ প্রয়োজনীয় কাজ সারতে ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুতের জন্য অপেক্ষা করছে। কখন আসবে বিদ্যুৎ। কিন্তু দেখা নেই। কি কারণে বিদ্যুৎ নেই বা কখন বিদ্যুৎ ফিরবে তাও কেউ জানে না। আবার জানতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছে। কারণ তথ্য জানার একমাত্র উপায় লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুতের হেল্প লাইনগুলোতে কলের পর কল করলেও কেউ রিসিভ করছে না। কি সমস্যা হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে এমন কোন বিষয়ও মানুষ কে জানানো হয়নি।এতে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভের মাত্রা বাড়ছে।

 

অন্যদিকে সকাল থেকে কমলনগর, রামগতি, রায়পুর এবং রামগঞ্জের বিদ্যুৎ কর্মীদের কে মাঠে দেখা গেছে।




কমলনগরের অগ্নিকাণ্ডে ৬টি দোকানঘর পুড়ে ছাই

লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের তোরাবগঞ্জ বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ৬টি দোকানঘর পুড়ে ছাই হয়েছে গেছে। এতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

শনিবার (২১ অক্টোবর) ভোররাত ৪টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

তোরাবগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ফয়সল আহমেদ রতন বলেন, ভোর রাতে যখন বিদ্যুৎ ছিলো না, বৃষ্টি হচ্ছিলো ঠিক তখনই বাজারে আগুন লাগে। খবর পেয়ে লক্ষ্মীপুর ও রামগতির ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। মুহূর্তেই মালামালসহ ছয়টি দোকানঘর পড়ে ছাই যায়।

তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ৫০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত এখনো জানা সম্ভব হয়নি।




বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, নিম্নাঞ্চল জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে

ত্তর বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। শুক্রবার সকালে আবাহওয়া অধিদফতরের এক সতর্ক বার্তায় এসব কথা বলা হয়।

এতে আরও বলা হয়, নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠী, পিরোজপুর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১-২ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

এজন্য উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।




লক্ষ্মীপুরে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের পুরষ্কার বিতরণ

লক্ষ্মীপুরে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরষ্কার বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে বৃহস্পতিবার জেলা স্টেডিয়াম মাঠে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা শেষে পুরষ্কার বিতরণের আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক হোমায়রা বেগম। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মুর্শিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন। এ সময়, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

খেলায় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে লক্ষ্মীপুর সদরকে ৩-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কমলনগর। অপরদিকে বঙ্গমাতা গোল্ডকাপে রামগতিকে ড্রাইবেকারে হারিয়ে রায়পুর চ্যাম্পিয়ন হয়।




সংবাদকর্মী জুলহাসের চিকিৎসায় ৫ লাখ টাকার প্রয়োজন

লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের বাসিন্দা সাবেক আনসার ব্যাটলিয়নের সিপাহী ও সংবাদকর্মী হাছনাইন আহাম্মদ (জুলহাস) (৩৫) গত ৭ বছর ধরে শারিরীক ও মানসিক রোগে ভুগছেন। তার চিকিৎসার জন্য ৫ লাখ টাকার প্রয়োজন। সবার আর্থিক সহযোগিতায় সুস্থ্য হয়ে আবারও সাংবাদিকতায় ফিরতে চান তিনি।

জুলহাস উপজেলার চরফলকন গ্রামের মৃত আবু সাঈদ মাস্টারের ছেলে। ১৯৯৭ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত স্থানীয় একাধিক পত্রিকায় রামগতি উপজেলার প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে আনসার ব্যাটলিয়নে সিপাহী পদে চাকরি করেন। অসুস্থতার কারণে এক বছর পর তাকে চাকরি ছাড়তে হয়। চিকিৎসার জন্য বসতবাড়ির জমি বিক্রি করে এতদিন চিকিৎসা চালিয়েছেন। বর্তমানে টাকার অভাবে তার চিকিৎসা বন্ধ। উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারত যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। জুলাহাসের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা ও সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন তার পরিবার। সাহায্যে পাঠানোর ঠিকানা : গোলেনুর বেগম, চলতি হিসাব নম্বর ৫১১৫, সোনালী ব্যাংক কমলনগর শাখা, লক্ষ্মীপুর। বিকাশ ০১৭৪৫৭৭০৯০৫।




লক্ষ্মীপুরে নামাযের সময় দোকানপাট বন্ধ, পৌর মেয়রের মহতী উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
‘নামাজ বেহেস্তর চাবি’-নামাজ আদায়ে প্রত্যেক ধর্মাবলম্বী মুলমানদের উৎসাহিত করতে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব আবু তাহের নিয়েছেন এক মহতী উদ্যোগ। প্রতি ওয়াক্ত নামাজের সময় লক্ষ্মীপুর শহরের (হিন্দু মুসলিমসহ) সকল ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। এতে লক্ষ্মীপুরের বণিক সমিতি, মুসলমান ব্যবসায়ীর পাশাপাশি হিন্দু ব্যবসায়ীরাও একমত পোষণ করেন। সোমবার দুপুরে যোহরের আযানের সাথে সাথে শহরের ব্যবসায়ীরা তাদের দোকনপাট বন্ধ করে দলে দলে মসজিদগামী হতে দেখা গেছে। এতে মসজিদ গুলোতে মুসল্লিদের ঢল নামে। এদিকে এমন ঘোষণায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও নামাজের সময় তাদের দোকান বন্ধ রাখতে দেখা গেছে।
কয়েকজন মুসলমান ব্যবসায়ী জানান, লক্ষ্মীপুর শহরের বাজার গুলোতে নামাজের সময় দোকানপাট খোলা থাকলে দোকানী নিজেও অনেক সময় নামাজ আদায় করতে পারে না। তাই মেয়রের এমন মহতী সিদ্ধান্ত ভালোই হয়েছে। এতে ক্রেতা-বিক্রেতার মাঝে নামাজ আদায়ের আগ্রহ বাড়বে। তাছাড়া নামাজের সময় বাজারে আগত মহিলাদের জন্য লক্ষ্মীপুর চক বাজার জামে মসজিদের নিচ তলায় নামাজ আদায়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। যাতে কোন মহিলা নামাজের সময় বাড়ি ফেরত যেতে না হয়।
হিন্দু ব্যবসায়ী লিটন মজুমদার জানান, মুসলমানদের নামাজ চলাকালিন সময়ে আমরা কোন মুসল্লিকে দোকানে প্রবেশ করতে দেবো না। ওই সময় সাময়িক সময়ের জন্য দোকান বন্ধ রাখবে হিন্দুরা।
এদিকে জোহর ও আছরের নামাজের সময় পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকতে দেখা যায়। তবে শহরের আজিম শাহ্ মাকের্ট এলাকায় কিছু দোকানপাট খোলা ছিলো। অপর দিকে লক্ষ্মীপুর পৌর মেয়র আবু তাহেরের এমন সিদ্ধান্তে লক্ষ্মীপুর বণিক সমিতি, ব্যবসায়ী, পৌর এলাকার মুসল্লি, সুশীল সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ সাধুবাদ জানিয়েছেন।
লক্ষ্মীপুর আজিশ শাহ মার্কেটের ব্যবসায়ী তৌহিদুল ইসলাম শীর্ষ সংবাদকে বলেন, পৌর মেয়রের এমন সিদ্ধান্তে আমরা ব্যবসায়ীরা অনেক খুশি। তবে আমাদের মার্কেটে পাশাপাশি দুইটি মসজিদ। দুই মসজিদে নামাজ আদায়ের সময়ও ভিন্ন। ফলে একটি মসজিদে নামাজের সময় অন্য মসজিদের আশেপাশে কয়েকটি দোকান খোলা থাকে, এতে নিয়মের কিছুটা বিঘ্ন ঘটে।
লক্ষ্মীপুর বণিক সমিতির সভাপতি একেএম সালাহ্ উদ্দিন টিপু  বলেন, মেয়রের এমন সিদ্ধান্তকে বণিক সমিতি স্বাগত জানিয়েছে। নামায আদায়ে উৎসাহিত করতে বণিক সমিতির পক্ষ থেকে বাজার এলাকায় ক্যাম্পিং করা হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এতে সহযোগীতা করবেন বলে তিনি জানান।
লক্ষ্মীপুর পৌর মেয়র আবু তাহের জানান, নামাজের সময় সকল ধরনের দোকানপাট বন্ধ রাখতে শহরের ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করা হয়েছে। এমনকি মাইকিংও করা হয়েছে। আশাকরি মুসল্লি ক্রেতা-বিক্রেতারা মসজিদে এসে জামাতের সাথে নামাজ আদায় করবে।




মাদ্রাসা ছাত্র আবদুল মন্নান নিখোঁজ

নোয়াখালী সদর উপজেলার আন্ডার চর ইউনিয়নের শান্তিরহাট দারুল উলুম মহিনুর ইসলাম কাওমী মাদ্রাসার ৬ষ্ট শ্রেণীর ছাত্র আবদুল মন্নান (১২) নিখোঁজ হয়। গত রবিবার বাড়ি থেকে মাদ্রাসা যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে সে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। গত ৯দিনেও আতœীয় স্বজনসহ সম্ভাব্যস্থানে খোজ করে তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ আবদুল মন্নান নোয়াখালী সদর উপজেলার আন্ডার চর ইউনিয়নের শান্তিরহাট এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেনের ছেলে। এর আগে আবদুল মন্নানের পরিবার লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চর ফলকন গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। সম্প্রতি ওই পরিবারের বাড়িঘর মেঘনার ভাঙ্গনে বিলীন হলে তারা নোয়াখালী আন্ডারচরের শান্তিরহাট এলাকায় বসতি গড়েন।

নিখোজের মামা মো. হারুন জানান, মান্নান মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। আতœীয়-স্বজন ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানেও তার খোঁজ করেও তার খোজ মেলেনি। কোন সহৃদয়বান ব্যাক্তি তার সন্ধান ফেলে মাদ্রাসায় পৌছি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।




অটোরিকশা চাপায় দলিল লেখক নিহত

 লক্ষ্মীপুর :  লক্ষ্মীপুরে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চাপায় হামিদ উল্যা ভেন্ডার নামে (৬০) এক দলিল লেখক নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে জেলা সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হামিদ উল্যা ভেন্ডার সদর উপজেলার আবিরনগর গ্রামের মৃত এরাদ মিয়া সওদাগরে ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দলিল লেখক হামিদ উল্যা রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগামী একটি অটোরিকশা তাকে চাপা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের লাশ সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। উপস্থিত লোকজন অটোরিকশা আটক করে ভাংচুর করে। তবে চালক পালিয়ে যায়। অটোরিকশা চাপায় দলিল লেখকের মৃত্যুর বিষয় ছড়িয়ে পড়লে বাজারে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আনোয়ার হোসেন দলিল লেখকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।