বিয়ের পাত্রী না পেয়ে প্রাণ দিলো ২৯ জন

ভারতের মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৩৮৩ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছেন। মহারাষ্ট্র পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে ২৯ জনের আত্মহত্যার কারণ হিসেবে বিয়ের জন্য পাত্রী না পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আত্মহত্যার এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে মাদকাসক্তি, হতাশা, পারিবারিক সমস্যা ও ঋণের মতো নানা কারণও উঠে এসেছে।

তবে ২৯ জনের আত্মহত্যার ঘটনায় বিয়ের জন্য পাত্রী না পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর জলগাঁওয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, সত্যিই কি শুধু পাত্রী না পাওয়ার কারণেই এসব আত্মহত্যা? নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও জটিল সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা?

জলগাঁওয়ের গ্রামগুলো ঘুরে তরুণ, তাদের পরিবার, নারী এবং এ বিষয়ে গবেষণা করা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে একটি জটিল চিত্র পাওয়া যায়। সেখানে বিয়ে এখন শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। চাকরি, জমির মালিকানা, জাতি, পারিবারিক দায়িত্ব, অভিবাসন, নারীদের বদলে যাওয়া প্রত্যাশা এবং পুরুষদের ওপর সামাজিক চাপ—সবকিছু মিলিয়ে বিয়ের বিষয়টি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠেছে।

‘ঠিক বয়সে বিয়ে হওয়া দরকার’

জলগাঁওয়ে বছর তিরিশের বিশাল পাতিলের সঙ্গে কথা হয়। তিনি পেশায় অধ্যাপক। বিয়ে নিয়ে তার কথায় জলগাঁওয়ের অনেক তরুণের চিন্তা ও অভিজ্ঞতার প্রতিফলন পাওয়া যায়। বিশাল পাতিল বলেন, তার বাবা-মাও চান তিনি বিয়ে করুন। তবে তিনি বিষয়টি কিছুটা পিছিয়ে দিচ্ছেন। কারণ, তিনি এখন ক্যারিয়ারে মনোযোগ দিতে চান এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে চান।

তিনি বলেন, এমন একজন নারীকে খুঁজে পাওয়ার পরই তিনি বিয়ে করতে চান, যিনি তাঁকে বুঝবেন এবং তার জন্য উপযুক্ত হবেন।

বিশাল পাতিলের মতে, ভারতীয় সমাজে বিয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট বয়সের ধারণা রয়েছে। সাধারণভাবে ২৪ থেকে ২৬ বছরের মধ্যে, অথবা সর্বোচ্চ ২৮-২৯ বছরের মধ্যে বিয়ে হয়ে যাওয়া উচিত বলে মনে করা হয়।

তার ভাষায়, কারো বয়স ৩০ বছর পেরিয়ে গেলে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে শুরু করে। শুধু বিয়ে না করার কারণে নয়, ওই ব্যক্তির মধ্যে কোনো খামতি আছে—এমন ধারণাও ধীরে ধীরে তৈরি হতে পারে।

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাউন্সেলিং করেন মুকেশ। তার ব্যাখ্যা, বিয়ের সঙ্গে যখন সামাজিক মর্যাদা ও সাফল্যের বিষয়গুলো জুড়ে দেওয়া হয়, তখন অনেক অবিবাহিত তরুণ বিয়ে না হওয়াকে নিজের ব্যর্থতা হিসেবে দেখতে শুরু করেন।

জলগাঁও পুলিশের সাম্প্রতিক আত্মহত্যার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণের সময় বিষয়টি তাই বিবেচনায় রাখা জরুরি। পুলিশের হিসাবে ২৯টি আত্মহত্যার ঘটনায় বিয়ের বিষয়টি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশও মনে করছে না যে এসব ঘটনার একমাত্র কারণ ছিল বিয়ে করতে না পারা। মাদকাসক্তি, হতাশা, পারিবারিক চাপ ও ঋণের মতো বিষয়ও এসব ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নারীর তুলনায় অবিবাহিত পুরুষ বেশি

মহারাষ্ট্রের এই পরিসংখ্যান আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করছে। ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে-৫ (এনএফএইচএস-৫) অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রে ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সী প্রায় ১১ শতাংশ নারী অবিবাহিত। পুরুষের ক্ষেত্রে এই হার ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ মহারাষ্ট্রে একই বয়সসীমায় অবিবাহিত পুরুষের সংখ্যা নারীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

তবে শুধু নারীর সংখ্যা কম হওয়াই এর একমাত্র কারণ কি না, সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। জলগাঁওয়ের কৌস্তুভ পোটদারের ঘটনা বিষয়টির একটি গুরুতর দিক সামনে আনে।

বি ফার্ম ডিগ্রি নেওয়ার পর নাসিকের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন কৌস্তুভ। তার মায়ের মৃত্যুর পর পরিবার তার জন্য পাত্রী খোঁজা শুরু করে। কিন্তু নিজের বাড়ি বা সরকারি চাকরি না থাকায় বিভিন্ন পাত্রীপক্ষের কাছ থেকে তাকে বারবার প্রত্যাখ্যাত হতে হয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আত্মহত্যা করেন কৌস্তুভ পোটদার।

তার ঘটনা দিয়ে অবশ্য বলা যায় না যে প্রতিটি বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পেছনে একই কারণ কাজ করে। তবে তার ঘটনা দেখায়, বিয়ের ক্ষেত্রে পুরুষের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও পারিবারিক কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

‘পাকা বাড়ি বানালে তবেই পাত্রী পাব’

জলগাঁওয়ের এক প্রবীণ নারী জানিয়েছেন, তার ছেলের বয়স এখন ৪০ বছর। বহু বছর ধরে তিনি ছেলের জন্য পাত্রী খুঁজছেন। কিন্তু পাত্রীপক্ষের কাছ থেকে বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর এখন তিনি নিজেই একটি পাকা বাড়ি তৈরি করছেন। তার আশা, বাড়ি তৈরি হয়ে গেলে ছেলের জন্য পাত্রী পাওয়া যাবে।

ছেলের বিয়ে না হওয়া নিয়ে তার উদ্বেগ স্পষ্ট ছিল। তবে কথায় তার চেয়েও বেশি ছিল অসহায়ত্ব। কারণ, বছরের পর বছর চেষ্টা করেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। মহারাষ্ট্রের গ্রামাঞ্চল নিয়ে গবেষণা করেছেন ময়ূর কুডুপলে ও জোয়েল কাবালিয়ান। তাদের গবেষণাতেও এই পরিবর্তনের প্রতিফলন পাওয়া যায়।

গবেষণা অনুযায়ী, গ্রামে বিয়ের ক্ষেত্রে নারীদের পছন্দকে প্রভাবিত করে জমি, শিক্ষা, জাতি ও পাত্রের বয়সের মতো বিষয়। ময়ূর কুডুপলে বলেন, একসময় মেয়ের পরিবার সবচেয়ে বেশি দেখত পাত্রের কত জমি আছে। এখন জমির চেয়ে পাত্রের চাকরি আছে কি না, সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার মতে, গ্রামীণ অর্থনীতি বদলেছে। কিন্তু বিয়ে নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা সেই অনুযায়ী সমানভাবে বদলায়নি।

আগে জমিকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। এখন তার জায়গায় এসেছে নিয়মিত আয়, কর্মসংস্থান, শহরে থাকার সম্ভাবনা এবং নিজের বাড়ি থাকার মতো বিষয়।

বদলে যাচ্ছে বিয়ে নিয়ে প্রত্যাশা

এসব পরিবর্তনের মধ্যেও জাতি এখনো বড় বাধা হয়ে আছে। ময়ূর কুডুপলের মতে, জাতি ও উপজাতির মতো বিষয় বিয়ের ক্ষেত্রে মানুষের পছন্দের পরিধি সীমিত করে। পাত্র-পাত্রীর খোঁজ করার সময় অনেক পরিবার নিজেদের জাতি ও উপজাতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। লিঙ্গ সমতা প্রশিক্ষক দর্শনা পাওয়ার এই কাঠামোর আরেকটি দিক তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, কোনো পুরুষ বিয়ের প্রয়োজন বোধ করলে অন্য জাতির নারীকে বিয়ে করতে রাজি হতে পারেন। কিন্তু সেই নারীর জাতি তাঁর বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজন মেনে নেবেন কি না, সেটি বড় প্রশ্ন। অর্থাৎ বিয়ের ক্ষেত্রে জাতিভিত্তিক বাধা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। শুধু এর ধরন বদলেছে।

বিয়ে নিয়ে নারীদের প্রত্যাশা

জলগাঁওয়ে পুরুষদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রায়ই একটি অভিযোগ শোনা গেছে। অনেক পুরুষের দাবি, বিয়ে নিয়ে নারীদের প্রত্যাশা বেড়ে গেছে। তাদের ধারণা, নারীরা এমন পুরুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে চান, যার চাকরি আছে, শহরে বাড়ি আছে এবং যিনি আর্থিকভাবে স্থিতিশীল। তবে নারীদের সঙ্গে কথা বলে কিছুটা ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। বিয়ে ও ব্যক্তিগত প্রত্যাশা নিয়ে ২০-২২ বছর বয়সি এক তরুণীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সাক্ষাৎকারের পরদিন তার পরিবার জানায়, ওই কথোপকথন প্রতিবেদনে ব্যবহার করা যাবে না। এতে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়। নারীদের প্রত্যাশা বদলালেও তা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলার স্বাধীনতা সবার নেই।

দর্শনা পাওয়ার বলেন, স্বামীর সঙ্গে কথা বলা বা বাইরে একসঙ্গে সময় কাটাতে চাওয়া কোনো ভুল প্রত্যাশা নয়। এটি বাড়াবাড়ি ধরনের চাহিদাও নয়। বরং এটি মৌলিক ও যুক্তিসঙ্গত আকাঙ্ক্ষা। এ বিষয়ে এখন সচেতনতা বাড়ছে। জলগাঁওয়ে যাঁদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, তাদের বেশির ভাগই বিয়ে না হওয়ার জন্য শুধু নারীদের দায়ী করেছেন।

ময়ূর কুডুপলের গবেষণাতেও বিয়ে নিয়ে গ্রামের নারী ও পুরুষের পছন্দের পরিবর্তন নিয়ে একই ধরনের অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। তবে গবেষণায় নারীদের পছন্দের পরিবর্তনকে শুধু প্রত্যাশা বেড়ে যাওয়া হিসেবে দেখা হয়নি। এর পেছনে কৃষিকাজ কমে আসা, বেকারত্ব, শিক্ষা নিয়ে পরিবর্তিত চিন্তা, জাতি ও সামাজিক অবস্থানের মতো একাধিক কারণ রয়েছে।

পুরুষের অবস্থান কী?

জলগাঁও জেলার বিভিন্ন গ্রামে বিয়ে নিয়ে কথা বলার সময় পুরুষদের কথার ধরনও বদলাতে দেখা গেছে। তাদের কেউ কেউ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। একজন যুবক সরাসরি বলেছেন, তিনি ক্যামেরার সামনে নিজের কথা বললে তাকে কে বিয়ে করবে? অনেক পরিবার এখন ছেলেদের বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া বন্ধ করেছে। কারণ, বছরের পর বছর চেষ্টা করেও সাফল্য না পাওয়ায় তারাও অনেকটা আশা ছেড়ে দিয়েছে।

তবে কিছু পরিবার এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ বাড়ি তৈরি করছে, কেউ জমি কিনছে। কেউ আবার ছেলের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করার চেষ্টা করছে, যাতে বিয়ের জন্য পাত্রী পাওয়া সহজ হয়। অনেক পরিবার এখন ঘটকের ওপর নির্ভর করছে। তবে কিছু অভিভাবকের অভিযোগ, বিয়ের আয়োজনের নামে প্রতারণার ঘটনাও বেড়েছে। জীবনসঙ্গীর সন্ধানে কিছু পুরুষ মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলেও যাচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, পাত্রী পাওয়ার জন্য কিছু পরিবার অর্থ দিতেও রাজি হচ্ছে। ফলে পাত্র-পাত্রীর খোঁজ এখন আত্মীয়স্বজনের প্রচলিত গণ্ডি পেরিয়ে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী, অর্থের লেনদেন এবং দূরের জেলায় গিয়ে পাত্রী খোঁজার মতো বিষয়।

কন্যাভ্রূণ হত্যা থেকে বিয়ের ব্যবস্থায় পরিবর্তন

এই প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় তুলে ধরেছেন দর্শনা পাওয়ার। তিনি বলেন, গত কয়েক দশকে ব্যাপক কন্যাভ্রূণ হত্যার প্রভাব এখন বিবাহযোগ্য বয়সি পুরুষ প্রজন্মের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সি যেসব পুরুষ এখনো জীবনসঙ্গী খুঁজে পাননি, তারা এমন সময়ে জন্মেছেন, যখন বিপুলসংখ্যক কন্যাভ্রূণ নষ্ট করা হয়েছে। তবে মেয়ের সংখ্যা কমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে নারীরা এখন বিয়ে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার পেয়েছেন।

ময়ূর কুডুপলে ও জোয়েল কাবালিয়ানের গবেষণাতেও বলা হয়েছে, নারীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কিছুটা বাড়লেও পারিবারিক প্রত্যাশা, জাতি ও সামাজিক কাঠামোর মতো বিষয় এখনো তাদের ওপর চাপ তৈরি করে। অন্যদিকে চাকরি, আয়, বর্ণ, পারিবারিক প্রত্যাশা এবং বিয়ে নিয়ে বদলে যাওয়া ধারণার মধ্যে পুরুষেরাও নিজেদের অবস্থান খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সব মিলিয়ে জলগাঁওয়ের চিত্র বলছে, বিয়ের সংকটকে শুধু ‘পাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না’—এভাবে দেখলে পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জনসংখ্যার ভারসাম্য, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, চাকরি, জমি, জাতি, পারিবারিক প্রত্যাশা এবং নারী-পুরুষের বদলে যাওয়া দৃষ্টিভঙ্গি।

বিশাল পাতিল অবশ্য বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখেন। তার ভাষায়, ‘বিয়েই জীবনের সবকিছু নয়।’

মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে

মানসিক চাপ, হতাশা বা অন্য কোনো মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হলে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া উচিত। আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ মানসিক সমস্যায় ভুগলে বা এর কোনো লক্ষণ অনুভব করলে সরকারি হেল্পলাইনে যোগাযোগ করা যেতে পারে। পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গেও কথা বলা জরুরি।

সুত্র: বিবিসি বাংলা




প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরকে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা উচিত নয়: ভারপ্রাপ্ত স্পিকার

জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ব্লাইন্ড এডুকেশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (বার্ডো)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. সাইদুল হকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।

বুধবার ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, প্রতিটি মানুষকে সমমর্যাদা প্রদান করা এবং মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া আমাদের কর্তব্য।

তিনি বলেন, কেউ স্বেচ্ছায় প্রতিবন্ধী হয়ে জন্মায় না। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরকে আমাদের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। মানুষকে মর্যাদা প্রদান করা সংসদ-সদস্যদের অন্যতম পবিত্র দায়িত্ব।

প্রতিনিধি দল সাক্ষাতকালে বৈশ্বিক পরিসরে প্রতিবন্ধীদের যথাযথ সুরক্ষা প্রদান, শিক্ষার অধিকার নিশ্চিতকরণ ও মানুষ হিসেবে সমতার অধিকার নিশ্চিতে মতবিনিময় করেন। এসময় রাজনৈতিক দলে প্রতিবন্ধীদের প্রতিনিধিত্ব এবং সংসদীয় ককাস গঠনের মাধ্যমে তাদের যথাযথ আইনি সুরক্ষা ও মানসম্মত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

উল্লেখ্য, বার্ডো মূলত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং অন্যান্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, পুনর্বাসন এবং স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কাজ করে। এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. সাইদুল হক বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা ও পুনর্বাসনে অনন্য অবদানের জন্য দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ এ ভূষিত হয়েছেন।




কলাপাড়ায় নৌযান শুমারি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

‘নৌযান শুমারি সফর করি, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নৌযান শুমারি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের আয়োজনে মৎস্য বন্দর মহিপুর-আলিপুর এলাকায় এ র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় জেলে, নৌযান মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।

র‍্যালিটি বন্দরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে খাপভাঙ্গা নদীর দুই পাড়ে নৌযান পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান।

এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক, পটুয়াখালী জেলার উপপরিচালক মো. নাজমুল হুসাইন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মোকছেদুল আলম, মহিপুর থানা বিএনপির সভাপতি জলিল হাওলাদারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের নৌযানের সঠিক তথ্য সংগ্রহ এবং একটি নির্ভরযোগ্য জাতীয় নৌযান তথ্যভান্ডার প্রস্তুতের লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগে এ নৌযান শুমারি পরিচালনা করা হচ্ছে।




ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে র‌্যালি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার র‌্যালী ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলার স্বেচ্ছাসবক দলের নেতাকর্মীরা শহরের জেলা পরিষদ মার্কেট চত্বর থেকে একটি আনন্দ র‌্যালি বের হয়।

র‌্যালীটি শহরের দক্ষিণ কালিবাড়ি মোড়, টি.এ.রোড, পুরাতন কাছারি সড়ক, হাসপাতাল সড়কসহ প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব চত্বরে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরমান মিয়ার সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মোল্লা মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম। প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক। এছাড়া বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এ.বি.এম মমিনুল হক, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান শাহীন, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলে আহবায়ক নুরুল আমিন প্রমুখ।




শিশু কেন হাফপ্যান্ট পরল, জেরার পর পর্যটকদের দুই ঘণ্টা ধরে মারধর

ভারতের ঐতিহাসিক মারাঠা সাম্রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী সিংহগড় দুর্গে বেড়াতে গিয়ে চরম নৈতিক পুলিশি ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন একদল পর্যটক। আট বছরের শিশুর হাফপ্যান্ট পরাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া কথা-কাটাকাটির জেরে অন্তত দুই ঘণ্টা ধরে নারী, শিশু ও বয়স্কদের ওপর তাণ্ডব চালায় স্বঘোষিত ‘দুর্গ সংরক্ষণ সমিতি’র সদস্যরা।

ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের ঠিক পরদিন, অর্থাৎ গত ১৬ আগস্ট পুনের এই জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর পুনের হাভেলি পুলিশ স্টেশন অভিযুক্ত নয়জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে।

পুনে শহর ও এর আশেপাশের অঞ্চলজুড়ে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজসহ মারাঠা রাজাদের নির্মিত একাধিক ঐতিহাসিক দুর্গ রয়েছে, যা বছরজুড়েই পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তবে গত সপ্তাহান্তে সিংহগড় দুর্গে বেড়াতে যাওয়া কিছু সাধারণ মানুষের জন্য সেই আনন্দের মুহূর্তটি আতঙ্কে পরিণত হয়।

পুনে পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট সন্দীপ সিং গিল ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, সপ্তাহান্তের ভিড়ের মধ্যে এক তরুণ ও তার দল একটি পরিবারকে থামায় এবং তাদের আট বছর বয়সী কন্যাসন্তান কেন হাফপ্যান্ট পরেছে তা নিয়ে জেরা শুরু করে। এরপরই উভয়পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয় এবং একপর্যায়ে ওই পরিবার ও অন্যান্য পর্যটকদের ওপর হামলা চালানো হয়।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা নিজেদের ‘দুর্গ সংরক্ষণ সমিতি’র সদস্য বলে দাবি করে। ১৬ আগস্ট দুর্গে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়ের সুযোগ নিয়ে দলটির সদস্যরা শিশুসহ বেশ কয়েকজন পর্যটকের পোশাককে ‘অসংবেদনশীল’ ও ‘অপ্রীতকর’ আখ্যা দিয়ে চড়াও হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এটি কোনো ক্ষণিকের ঘটনা ছিল না; প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই তাণ্ডবে হামলাকারীরা নারী, শিশু ও প্রবীণদের কাউকেই রেহাই দেয়নি। উপর্যুপরি শারীরিক মারধর ও হেনস্তার কারণে পুরো দুর্গ এলাকায় এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং পর্যটকরা আতঙ্কে আত্মরক্ষার জন্য ছোটাছুটি করতে থাকেন।

খবর পেয়ে হাভেলি পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং হামলায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে চিহ্নিত নয়জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে। জড়িত অন্যান্যদের আইনের আওতায় আনতে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুনে ও এর আশেপাশের দুর্গে নিজেদের ইতিহাসের রক্ষক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে দাবি করা কিছু স্বঘোষিত ‘দুর্গ সংরক্ষণ’ দলের উৎপাত আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত ভ্রমণকারীদের মতে, ঐতিহাসিক এসব স্থাপনা সংরক্ষণের নামে এসব দলের সদস্যরা প্রায়ই নিজেদের বানানো নিয়মকানুন পর্যটকদের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেয় এবং কে কী পোশাক পরবে বা কীভাবে চলাফেরা করবে—তা নিয়ে নিয়মিত ধমকাধমকি ও অনুশাসন জারি করে।

সিংহগড় দুর্গের এই সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনাটি ঐতিহাসিক স্থানে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বঘোষিত গোষ্ঠীগুলোর বেআইনি কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।




বিদায়ী বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বারবার কাঁদলেন ও চোখ মুছলেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে দোয়া চেয়ে তিনি নিয়ম অনুযায়ী দলের সংসদ সদস্যদের প্রতি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। দুপুর ২টা থেকে দেড় ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির বক্তব্যের পর বক্তব্য রাখেন বিএনপির বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বক্তব্যের শুরুতেই আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। স্মরণ করেন বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে। তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানকে। কৃতজ্ঞতা জানান দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও।

বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনকালে তার কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। তিনি বলেন, দল তাকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, জীবন দিয়ে হলেও তিনি সেই সম্মান রক্ষা করবেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না। সভায় অংশ নেওয়া একাধিক সংসদ সদস্য বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এসব তথ্য জানান।

মির্জা ফখরুল সবার কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, বঙ্গভবনে যাওয়ার পর সহকর্মীদের মিস করবেন। কয়েক মিনিটের বক্তব্যে চার থেকে পাঁচবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মির্জা ফখরুল। এতে সভায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী নিজেও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি শেষ বক্তব্য দেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় আর অংশ নেবেন না। বিএনপির সংসদীয় দলের আজকের বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আবেগঘন বিদায় এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর সাংগঠনিক বার্তা- মিলিয়ে দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলার বিষয়টিই গুরুত্ব পায়।

মির্জা ফখরুল আবেগ জড়িত কণ্ঠে আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই দলের সঙ্গে যুক্ত আছি। অনেক বিপদ-আপদ, ঝড়-ঝঞ্জা, সুখ-দুঃখ, জেল-জুলুম, মামলা-হামলার সম্মুখীন হয়েছি। সবকিছুতেই আপনাদের সঙ্গে ছিলাম। কিন্তু কখনো দল ছেড়ে যাওয়ার কথা চিন্তাও করিনি। কিন্তু আগামীকাল হয়তো এই দল থেকে আমাকে পদত্যাগ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমি যেনো রাষ্ট্রপতি পদে থেকে সকলের মাঝে থেকে একটি সুন্দর ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের অভিভাবকের ভূমিকা রাখতে পারি এজন্য সকলের দোয়া ও সহযোগিতা চাই।

সভায় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের বিস্তারিত ধারণা দেন এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে ভোট চান। তিনি সভায় জানান, আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং মির্জা ফখরুল ইসলামগীর নিজেও ভোট দেবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলে তার ঠাকুরগাঁও-৩ আসনটি শূন্য হয়ে যাবে। এবং আগামীকাল শুক্রবার নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ নেবেন। পরে সকলের অংশগ্রহণে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।




পাকিস্তানকে বিদায় করে হকি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে ভারত

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৫-৩ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে পুরুষ হকি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে ভারত। ম্যাচে ভারতের পক্ষে জোড়া গোল করেছেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং ও অভিষেক। বাকি গোল করেন হার্দিক সিং। অন্যদিকে পাকিস্তানের হয়ে হান্নান শহীদ দুটি এবং সুফিয়ান খান একটি গোল করলেও তা কেবল ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে ভারতীয় দল। খেলার মাত্র পঞ্চম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার (পিসি) থেকে দুর্দান্ত এক ড্র্যাগ ফ্লিক করে ভারতকে এগিয়ে নেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং। এর ঠিক ছয় মিনিট পর বাঁ দিক দিয়ে দুর্দান্ত গতি ও ড্রিবলিংয়ে বক্সে ঢুকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অভিষেক।

২১তম মিনিটে আবারও পেনাল্টি কর্নার থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করেন হরমনপ্রীত। তবে পিছিয়ে পড়ার পরপরই দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। এক মিনিট পরেই অসাধারণ এক ফিল্ড গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন হান্নান শহীদ। ২৪তম মিনিটে দুই দলই একটি করে গোল করায় প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় ৪-২ ব্যবধানে। এ সময় পাকিস্তানের পক্ষে দ্বিতীয় গোলটি করেন সুফিয়ান খান।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আক্রমণ শাণিত করে ভারত। খেলার পঞ্চম মিনিটের মাথায় সুখজিত সিংয়ের ওপর ফাউল হলে পেনাল্টি স্ট্রোক পায় ভারত। আর সেখান থেকে গোল করে ব্যবধান ৫-২ করেন হার্দিক সিং।

তৃতীয় কোয়ার্টারে সম্পূর্ণ আধিপত্য বজায় রাখে ভারতীয় দল। তবে চতুর্থ কোয়ার্টারে দারুণ গতি ও হাই প্রেস করে খেলায় ফেরার চেষ্টা চালায় পাকিস্তান। ম্যাচের শেষভাগে হান্নান শহীদ আরও একটি গোল করে স্কোরলাইন ৫-৩ এ নামিয়ে আনেন। সমতায় ফেরার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালায় পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত দারুণ রক্ষণ সামলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারতীয় হকি দল।




‘সবার আগে বাংলাদেশ গড়তে সব নাগরিকের সমান সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে’

সবার আগে বাংলাদেশ গড়তে সব নাগরিকের সমান সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

তিনি বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত আমাদের সংবিধানে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে ‘প্রোমোটিং পারসন উইথ ডিজেবিলিটি ফ্রেন্ডলি ইনক্লুসিভ ক্লাইমেট জাস্টিস রেজিলেন্স প্র্যাকটিসেস’ (আইসিজেআরপি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, প্রতিবন্ধী মানুষকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রান্তিক অংশীজন হিসেবে নয়, বরং সমান অধিকারসম্পন্ন অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তাদের প্রয়োজন ও সক্ষমতাকে সামনে রেখে আমাদের অবকাঠামো, পরিকল্পনা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, দেশের সব সাইক্লোন সেন্টার ও দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করতে হবে। সেখানে হুইলচেয়ার চলাচলের উপযোগী র‌্যাম্প, প্রশস্ত প্রবেশপথ, প্রতিবন্ধীবান্ধব শৌচাগার, নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা, পৃথক ও নিরাপদ থাকার ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তাও শ্রবণ, দৃষ্টি ও অন্যান্য প্রতিবন্ধিতার ধরন বিবেচনায় নিয়ে সহজবোধ্য ও বহুমাধ্যমভিত্তিক করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।




চলতি মাসের শেষ দিকে চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’: প্রতিমন্ত্রী

চলতি আগস্ট মাসের শেষ দিকে প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তিনি বলেছেন, এটিএম কার্ডের মতো এই কার্ড ব্যবহার করে ব্যাংকিং লেনদেনের পাশাপাশি দেশে ফিরে সরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণেও সুবিধা পাবেন প্রবাসীরা।

আজ বুধবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের আয়োজনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নুরুল হক বলেন, ‘প্রবাসী কার্ড’ এটিএম কার্ডের মতো ব্যবহার করা যাবে। এর মাধ্যমে প্রবাসীরা ব্যাংকিং লেনদেনের সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি দেশে ফিরে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও সরকারি সেবা গ্রহণেও কার্ডটি কাজে লাগবে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলেও কার্ডধারী প্রবাসীরা অগ্রাধিকার পাবেন।

তিনি আরও বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু হলে দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন সেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে।

আলোচনা সভায় উদ্বোধক ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন। প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন ও মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম ইরাদত মানু।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মুহাম্মদ রাজু। এ সময় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।

আলোচনা সভা শেষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের মাঝে আর্থিক অনুদান ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।




আহতদের চিকিৎসা ও শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার : ইশরাক হোসেন

চব্বিশের স্বৈরাচারবিরোধী অভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

বুধবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটি’র সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জুলাই আহতদের ও শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন এবং তাদের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিশ্চিত করা। দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে যাদের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তাদের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করছি।

তিনি বলেন, আহত জুলাই যোদ্ধারা যেন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন এবং তাদের জীবনযাত্রার মান সহনীয় পর্যায়ে থাকে, সেই বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক ও তৎপর রয়েছি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম এবং সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৪৫-এর সংসদ সদস্য ও জুলাই শহীদ জাবিরের মাতা রোকেয়া বেগম।

এছাড়া, অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অর্থ বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা; সরকার মনোনীত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের একজন প্রতিনিধি এবং জুলাই যোদ্ধাদের একজন প্রতিনিধি।