৩১ বার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয়, কে এই শেরপা কামি রিতা

শেরপা কামি রিতা। প্রতি বছরই যেন শৃঙ্গজয়ের এক নিরবচ্ছিন্ন অধ্যায় রচনা করে চলেছেন এই নেপালি। ১৯৯৪ সালে প্রথম এভারেস্ট জয় করেছিলেন। যারা পর্বতারোহণকে কেবল ক্রীড়া নয়, জীবনদর্শন মনে করেন- কামি রিতা তাদের কাছে এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা।

আবারও নিজের গড়া নজির ভাঙলেন কিংবদন্তি শেরপা কামি রিতা। ৫৫ বছর বয়সি নেপালের এই পর্বতারোহী ৩১ বার বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে আরোহণ করলেন।

মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি দলের পথপ্রদর্শক শেরপা কামি রিতা ৮৮৪৯ মিটার (২৯০৩২ ফুট) উঁচু এভারেস্ট শীর্ষ স্পর্শ করেছেন। এভারেস্টজয়ীদের ইতিহাসে এটা এক অনন্য নজির।

নেপালের সলুখুম্বু জেলার থামি গ্রামে কামি রিতার জন্ম। হিমালয়ের কোলে তিনি বেড়ে উঠেছেন। শৈশব থেকেই তার পরিবার শেরপা গাইড হিসেবে কাজ করত। আর তিনিও বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে পেশাদার শেরপা হয়ে ওঠেন। তার এই দীর্ঘ পর্বতারোহণ-জীবনে শুধু এভারেস্টই নয়, পৃথিবীর অন্যান্য উচ্চতম পর্বত যেমন চো ইয়ু, লোৎসে, কাঞ্চনজঙ্ঘা ইত্যাদিতেও সফল অভিযান পরিচালনা করেছেন। ১৯৫৩ সালে এ পথ ধরেই প্রথম এভারেস্টে আরোহণ করেছিলেন তেনজিং নোরগে এবং এডমন্ড হিলারি।

এভারেস্ট অভিযান সংগঠক সেভেন সামিট ট্রেকস এক বিবৃতিতে বলেছে, শেরপা কামি রিতার পরিচয়ের প্রয়োজন নেই। তিনি শুধু নেপালের পর্বতারোহণের নায়ক নন, বরং এভারেস্টের বৈশ্বিক প্রতীক।

কাঠমান্ডু পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনোজ যোশীর নেতৃত্বে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অ্যাডভেঞ্চার উইং এভারেস্ট অভিযানের একটি দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন শেরপা কামি রিতা।

অন্যদিকে সেভেন সামিট ট্রেকসের চেয়ারম্যান মিংমা শেরপা জানিয়েছেন, এই নতুন কীর্তি বিশ্বের সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্বত আরোহণের রেকর্ডধারী হিসেবে শেরপা কামি রিতার মর্যাদাকে আরও দৃঢ় করে তুলবে-এটি এমন একটি রেকর্ড; যা অন্য কেউ ধারেকাছেও পৌঁছতে পারেনি।

তিনি জানান, কামি রিতা চূড়ায় আরোহণের পর নিরাপদ এবং স্থিতিশীল আছেন। এবার তিনি বেস ক্যাম্পে ফিরে যাচ্ছেন। সব সময়ের মতো কামি পর্বতে তার অতুলনীয় দক্ষতা এবং পেশাদারিত্ব প্রদর্শন করেছেন। আমরা তার কৃতিত্বের জন্য অত্যন্ত গর্বিত।




যুক্তরাষ্ট্রে দুই হামলায় নানা মিল, যোগসূত্র খুঁজছে এফবিআই

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বছরটা শুরু হলো রক্তপাত দিয়ে। ঘড়ির কাঁটার হিসাবে ২০২৫ সালের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে তিনটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় নিহত হয়েছেন ১৬ জন। আহত হয়েছেন অনেকে। বছরের শুরুতেই হওয়া এ হামলাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসাজশ আছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) তদন্তকারীদের। এ সন্দেহের সত্যতা যাচাইয়ে এরই মধ্যে কাজও শুরু করেছেন তাঁরা। এফবিআইয়ের পাশাপাশি এ ঘটনা তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ।

প্রথম হামলাটি ঘটে স্থানীয় সময় গত বুধবার লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নিউ অরলিয়েন্স শহরে। সেখানে বর্ষবরণের উৎসবে যোগ দেওয়া লোকজনের ওপর গাড়ি উঠিয়ে দেন এক ব্যক্তি। তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাবেক সদস্য ছিলেন। তাঁর ব্যবহার করা গাড়িতে সন্ত্রাসী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) পতাকা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় হামলাকারীসহ ১৫ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হন।




হামাস-হিজবুল্লাহর মতো হুতিদের পরিণতি হবে: হুঁশিয়ারি ইসরায়েলের

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে লড়াই চলছে ইসরায়েলের। এরই মধ্যে লেবাননের হিজবুল্লাহ ও গাজা উপত্যকার হামাসের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়েছে দেশটি। এতে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে গোষ্ঠী দুটি। প্রাণ হারিয়েছেন তাদের বেশ কয়েকজন নেতা। এমন পরিস্থিতি ইসরায়েল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের ভূখণ্ডে হামলা হলে হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো একই পরিণতি হবে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের। যদিও ইসরায়েলের এ হুঁশিয়ারির পরও দেশটিতে হামলা অব্যাহত রেখেছে হুতিরা।

হুতিদের প্রতি এ হুঁশিয়ারি দেন জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন। নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া এক ভাষণে গতকাল সোমবার তিনি বলেন, হুতিদের ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ করতে হবে। তারা যদি এই হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে হিজবুল্লাহ, হামাস ও সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদের মতো একই ধরনের ‘শোচনীয় পরিণতি’ হবে তাদের। তেহরানের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো স্থানে হামলা চালানো সক্ষমতা রয়েছে ইসরায়েলের। ইরান–সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলা সহ্য করবেন না তাঁরা।

সোমবার ড্যানি ড্যাননের এমন হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টা পরই ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ঘোষণা দেয়, ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকিয়ে দিয়েছে তারা। ওই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে সাইরেন বাজতে শোনা যায়। পরে আজ মঙ্গলবার হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, তেল আবিবের কাছে বেন গুরিওন বিমানবন্দর এবং জেরুজালেমের দক্ষিণে একটি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র লক্ষ্য করে একটি হাইপারসনিক ও একটি ‘জুলফিকার’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে হুতিদের সুপ্রিম রেভল্যুশনারি কামিটির প্রধান মোহামেদ আলী আল–হুতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, তাঁরা ইসরায়েলে হামলা বন্ধ করবেন না। দেশটির ওপর হামলা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে গাজার প্রতি সমর্থন জারি রাখবেন তাঁরা।

‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে’

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। সেদিন থেকেই গাজায় হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। উপত্যকাটিতে চলমান এই সংঘাতে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন দিয়ে আসছে হুতি ও হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে প্রায়ই হামলা চালাচ্ছি তারা। পাল্টা জবাব দিচ্ছিল ইসরায়েলও। এরই মধ্যে সেপ্টেম্বর থেকে লেবাননে ব্যাপক হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে হিজবুল্লাহপ্রধান হাসান নাসরুল্লাহসহ গোষ্ঠীটির কয়েকজন নেতা নিহত হন।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে ইসরায়েলের হামলার মুখে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে হামাস ও হিজবুল্লাহ। এ ছাড়া গত ৮ ডিসেম্বর বিদ্রোহীদের অভিযানের মুখে পতন হয়েছে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের। দেশটির গদিতে তাঁকে টিকিয়ে রেখেছিল রাশিয়া ও ইরান। বাশারের পতনের কৃতিত্বও দাবি করেছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

হুতিদের ওপর ব্যাপক আকারে হামলা এখনো শুরু করেনি ইসরায়েল। গত সপ্তাহে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ইয়েমেনে হুতি–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ‘হামলা শুরু করেছে’ ইসরায়েল। এ সময় ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বিমানবন্দর, দেশটির পশ্চিম উপকূলে বিভিন্ন বন্দর ও দুটি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল তারা।

গত ২৬ ডিসেম্বর সানা বিমানবন্দরে ইসরায়েলের হামলার সময় সেখানে ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস। পরে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বিমানবন্দরে উড়োজাহাজে ওঠার সময় বোমা হামলা শুরু হয়। এতে উড়োজাহাজের এক ক্রু সদস্য আহত হন।

এদিকে সোমবারে নিরাপত্তা পরিষদে ইসরায়েল–হুতি পাল্টাপাল্টি হামলা নিয়ে কথা বলেছেন জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারি। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সামরিক সংঘাত আরও বাড়লে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে। এর ফলাফল বইতে হবে ইয়েমেন, ইসরায়েলসহ এ অঞ্চলে লাখ লাখ মানুষকে, যার কোনো শেষ থাকবে না। পাল্টাপাল্টি হামলার জন্য ইসরায়েল ও হুতি—দুই পক্ষেরই সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘের রুশ রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়াও।




লাল লিপস্টিক কীভাবে আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্বের প্রতীক হয়ে উঠল

গাঢ় লাল ঠোঁট, হালকা সোনালি চুল, আকর্ষণীয় সাজসজ্জায় কোটি ভক্তের নজর কেড়েছিলেন মার্কিন অভিনেত্রী মেরিলিন মনরো। সাত দশক পরেও তাই আজও তাঁকে মনে রেখেছে দর্শক। বর্তমান সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় গায়িকা টেলর সুইফটের কথাই ধরুন না! অসাধারণ সংগীত–প্রতিভার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছে তাঁর সিগনেচার লাল লিপস্টিক। স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে লালরঙা ঠোঁটই কেন বেছে নেন তারকারা? কীভাবেই–বা লাল লিপস্টিক হয়ে উঠল আত্মবিশ্বাস ও মর্যাদার প্রতীক?

ইতিহাসের পাতায় লাল লিপস্টিক

ঠোঁট রাঙাতে লাল রঙের ব্যবহার সেই প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার যুগ থেকে। পাথর গুঁড়া করে তার সঙ্গে সাদা সিসার মিশ্রণ দিয়ে ঠোঁট রাঙাতেন তখনকার উচ্চবিত্ত ও রাজপরিবারের নারীরা। লিপস্টিকের বিবর্তনের ইতিহাসে সৌন্দর্যের রানি ক্লিওপেট্রার নামও চলে আসে। প্রাচীন মিসরে রানি ক্লিওপেট্রা নিজেই একধরনের পোকা থেকে প্রাপ্ত কারমাইন দিয়ে তাঁর ঠোঁট লাল করতেন। এ ছাড়া মিসরীয়রা অ্যালজিন, আয়োডিন ও ব্রোমিনের মিশ্রণে লাল রং তৈরি করে ঠোঁটে ব্যবহার করতেন। উচ্চবিত্ত ও রাজপরিবারের সদস্যদের ব্যবহারের কারণে তখন থেকেই লালরঙা ঠোঁট শক্তি-ক্ষমতা ও সামাজিক মর্যাদার নিদর্শন হয়ে ওঠে।




যে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে মিস ইউনিভার্সের মুকুট জিতলেন ভিক্টোরিয়া

এই প্রথম ডেনমার্ক পেল মিস ইউনিভার্সের খেতাব। ভিক্টোরিয়া কিয়ের থিলভিগকে মুকুট পরিয়ে দেন ২০২৩ সালের বিজয়ী, নিকারাগুয়ার শেনিস প্যালাসিওস

মিস ইউনিভার্স ডেনমার্ককে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রথমে জিজ্ঞেস করা হয়, ‘কেউ যদি আপনাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন না করে, আপনি কীভাবে বাঁচবেন?’

ভিক্টোরিয়া বলেন, ‘আমি আমার মতোই বাঁচব। প্রতিদিনের নিয়মে বাঁচব। অন্য কেউ নির্ধারণ করে দেবে না যে আমি কীভাবে বাঁচব। কেউ যদি সঠিকভাবে মূল্যায়ন না করে, সেটা তার সমস্যা। আমার নয়।’

পরে ভিক্টোরিয়ার জন্য প্রশ্ন ছিল, ‘মিস ইউনিভার্স প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নারীদের অনুপ্রাণিত করে আসছে। আজকের রাতে এ মুহূর্তে আপনাকে যে নারীরা দেখছেন, তাঁদের উদ্দেশে আপনার কী বলার আছে?’

উত্তরে ভিক্টোরিয়া বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যাঁরা আমাকে দেখছেন, আমি আপনাদের বলতে চাই, আপনি কোথা থেকে এসেছেন, আপনার অতীত কী—এসবের কিছু দিয়ে আপনাকে বিচার করা যাবে না। যেকোনো পরিস্থিতিতে আপনি ঘুরে দাঁড়াতে পারেন। আপনাকে সংগ্রাম করে যেতে হবে। আমি আজ এখানে দাঁড়িয়ে আছি, কেননা আমি বদলে দিতে চাই। আমি ইতিহাস গড়তে চাই।’

ভিক্টোরিয়া ছোটবেলা থেকেই নাচে পারদর্শী। পেশাগত এই নৃত্যশিল্পী আইন নিয়ে পড়াশোনা করছেন। মানসিক সেবা নিয়ে সচেতনতামূলক বার্তা দেন। এ ছাড়া প্রাণী অধিকার নিয়ে সচেতন

নিজের একটি বিউটি ব্র্যান্ডও আছে এই সুন্দরীর। ২০২২ সালে মিস গ্র্যান্ড ইন্টারন্যাশনালের সেরা ২০-এ স্থান পেয়েছিলেন ভিক্টোরিয়া

মিস ইউনিভার্স ২০২৪-এর শুরু থেকেই তাঁকে একজন শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে ভাবা হচ্ছিল

প্রতিযোগিতায় মিস নাইজেরিয়া প্রথম রানারআপ ও মিস মেক্সিকো হয়েছেন দ্বিতীয় রানারআপ।

চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে ছিলেন মিস থাইল্যান্ড ও মিস ভেনেজুয়েলা। ভারতের রিয়া সিংহ সেরা ৩০-এ স্থান পেলেও সেরা ১২ থেকে বাদ পড়ে যান

 




ইসরায়েলি অস্ত্র বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা চায় ৫২ দেশ

ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দিতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ৫২টি দেশ ও দুটি সংস্থা। জাতিসংঘে চিঠিটি জমা দিয়েছে তুরস্ক। জিবুতিতে তুরস্ক-আফ্রিকা পার্টনারশিপ শীর্ষ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।

ফিদান বলেন, আমরা একটি যৌথ চিঠি লিখেছি। সেখানে সব দেশকে ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ বিক্রি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছি। এই চিঠিটি ১ নভেম্বর জাতিসংঘে হস্তান্তর করেছি, যেখানে ৫৪ জন স্বাক্ষরকারী রয়েছে। আমাদের প্রতিটি সুযোগে পুনরাবৃত্তি করতে হবে যে, ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি করা মানে এর গণহত্যায় অংশ নেওয়া।

স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে সৌদি আরব, ব্রাজিল, আলজেরিয়া, চীন, ইরান এবং রাশিয়া ছিল; দুটি সংস্থা আরব লিগ ও ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা রয়েছে। এর আগে, অক্টোবরে ইসরায়েলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

এদিকে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। সোমবারের হামলায় অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছে। এ পর্যন্ত উপত্যকাটিতে নিহতের সংখ্যা প্রায় ৪৩ হাজার ৪০০ জন। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলা এই হামলায় আহত হয়েছেন এক লাখের বেশি মানুষ। এ ছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছে গাজার ২৩ লাখ বাসিন্দার অধিকাংশ।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে সংবাদমাধ্যম জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ৩৭ জন নিহত এবং ১৫৬ জন আহত হয়েছেন। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের ধারণা, গাজা উপত্যকাজুড়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও ১০ হাজারের বেশি লোক নিখোঁজ রয়েছেন। গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব সত্ত্বেও নির্বিচার হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

অন্যদিকে বিদেশি গণমাধ্যমে গোপন তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এক শীর্ষ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। ইসরায়েলের বিরোধী নেতারা বলছেন, ফাঁস করা গোয়েন্দা তথ্য ছিল ভুয়া। আর এই কাজ ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তির লক্ষ্যে একটি সম্ভাব্য চুক্তিকে নস্যাৎ করার চক্রান্তের অংশ। খবর আলজাজিরা ও বিবিসির।




ভালোবাসায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে জাপানের কিশোর-কিশোরীরা

ভালোবাসায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে জাপানের কিশোর-কিশোরীরা। এতে জন্মহার কমে বড় ধরনের সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি জাপান সোসাইটি ১২ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীকে নিয়ে একটি জরিপ করে। সেখানে দেখা গেছে, ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের মধ্যে ৮০ শতাংশ এখনও ভালোবাসায় জড়ায়নি। আর মেয়েদের মধ্যে এই হার ২৫ শতাংশ। ১৯৭৪ সালের পর এটিই ছিল সবচেয়ে কম।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কভিড-১৯ মহামারির কারণে স্কুল বন্ধ এবং শারীরিক সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞার ফলে এসব বাধা সৃষ্টি হয়েছে।

২০২৩ সালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, দেশটির নিম্ন জন্মহার এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে এটা দেশের কার্যক্ষমতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। এ ছাড়া কিছু গবেষক বলছেন, দেশের জনসংখ্যা বর্তমানে ১২ কোটি ৫০ লাখ থেকে শতাব্দীর শেষ নাগাদ ৫ কোটি ৩০ লাখে নেমে যেতে পারে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, জাপানে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। দেশটির ১০ শতাংশ মানুষ এখন ৮০ বছর বয়সী।
জাপানে প্রতিনিয়ত জীবনযাত্রার খরচ বাড়ছে। এ জন্য আরও বেশি সংখ্যক নারী কর্মজীবনে যুক্ত হচ্ছে। আগ্রহ হারাচ্ছে বিয়ে ও সন্তান জন্মদানে। অন্যদিকে জন্মনিরোধক ব্যবস্থার সহজলভ্যতাও জন্মহার হ্রাসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে জাপানের ভবিষ্যৎ জনসংখ্যা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। বিবিসি।




নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে রাশিয়া, অভিযোগ মার্কিন গোয়েন্দাদের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়াসহ ‘প্রতিপক্ষ’ দেশগুলো হস্তক্ষেপের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন গোয়েন্দারা। মঙ্গলবার তারা বলেছে, ওই দেশগুলো নির্বাচন নিয়ে জনগণের আস্থা নষ্ট করতে চায়। খবর বিবিসির।

মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি, প্রতিপক্ষ দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানাভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রতিপক্ষ দেশগুলো আমেরিকানদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতে চায়।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালকের কার্যালয় ওডিএনআই এবং সাইবার ও অবকাঠামো নিরাপত্তা সংস্থা যৌথ বিবৃতিতে এই দাবি করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উস্কে দিতে নানা তৎপরতা চালাচ্ছে রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠী। ভোট কারচুপির মিথ্যা দাবি তুলে সেসব প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোট গ্রহণ শুরুর ঠিক আগে এমন অভিযোগ তুলল দেশটির অভ্যন্তরীণ এই তিন গোয়েন্দা সংস্থা।




আমি খুব আত্মবিশ্বাসী, ভোট দিয়ে বললেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন রিপাবলিকান মনোনীত প্রার্থী এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভোট দিয়ে তিনি বলেন, জয়ের ব্যাপারে আমি খুব আত্মবিশ্বাসী।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পাম বিচে ম্যান্ডেল রিক্রিয়েশন সেন্টারে ভোট দেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। খবর বিবিসির।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে  আমি খুব আত্মবিশ্বাসী। তার দাবি, এমনকি তার কাছাকাছি ভোটও কেউ পাবে না।

ট্রাম্প বলেন, আমি খুব আত্মবিশ্বাসী বোধ করছি। আমি শুনেছি, আমরা সব জায়গায় খুব ভালো করছি।

তিনি বলেন, তিনটি প্রচারণার মধ্যে এটি ছিল সেরা।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। ২৪ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন রিপাবলিকান দলীয় প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প আর ডেমোক্র্যাট দলীয় কমালা হ্যারিসের মাঝে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কানেকটিকাট, নিউ জার্সি, নিউইয়র্ক, নিউ হ্যাম্পশায়ার এবং ভার্জিনিয়াসহ আট রাজ্যের ভোটকেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সময় সকাল ৬টায়। এছাড়া দেশটির ইনডিয়ানা ও কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যেও সকাল ৬টায় ভোটকেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে। দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় কিছু রাজ্যে সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের ছোট্ট শহর ডিক্সভিল নচের একটি ভোটকেন্দ্রে মধ্যরাতে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থী কমালা হ্যারিস ও রিপাবলিকান দলীয় ডোনাল্ড ট্রাম্প সমসংখ্যক ভোট পেয়েছেন।




ট্রাম্প ১৬২ ও কমলা পেয়েছেন ৬২ ইলেকটোরাল কলেজ ভোট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পর ধীরে ধীরে ফলাফল আসতে শুরু করছে। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলো অঙ্গরাজ্য-ভিত্তিক ফলাফল ঘোষণা করছে। ফলাফলের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডায় এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমালা হ্যারিস ম্যাসাচুসেটসে জয়ী হয়েছেন।

বুধবার এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও ভয়েস অব আমেরিকা। ফলে ১৬২টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন ট্রাম্প। আর কমালা হ্যারিস পেয়েছেন ৬২টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট।

মূলত এখন পর্যন্ত ফলাফলে কোনো অঘটন ঘটেনি। দেশটির অঙ্গরাজ্যেগুলোতে যা ফলাফল দেখা যাচ্ছে, ফল সেরকম হবে বলে আগেই ধারণা করা হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিসট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ায় মোট ৫৩৮ ইলেকটোরাল কলেজ ভোট আছে এবং এর মধ্যে যে প্রার্থী ২৭০টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পাবেন তিনি নির্বাচিত বলে গণ্য হবেন। তবে গত এক বছরের জনমত জরিপ এবং অতীত নির্বাচনের আলোকে ৪৩টি অঙ্গরাজ্যের ফলাফল কী হবে তা মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে আছে।

আর সাতটি অঙ্গরাজ্যে— জর্জিয়া, উইসকনসিন, মিশিগান, পেন্সিলভানিয়া, অ্যারিজনা, নেভাদা আর নর্থ ক্যারলাইনায় কে জিতবে, তা নিশ্চিত ছিল না। এই রাজ্যেগুলোকে ‘সুইং স্টেট’ বলা হয় এবং সেখানে মোট ৯৩টি ইলেক্টরাল ভোট আছে।

অর্থাৎ, নির্বাচনে জয়ের জন্য একজন প্রার্থীকে এই সাতটি সুইং স্টেটের অন্তত চারটিতে জয়লাভ করতে হবে।