গোপালগঞ্জে নিরাপত্তা জোরদার, ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

গোপালগঞ্জে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পাঁচ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আজ বুধবার সকাল থেকে তাঁরা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকায় টহল দিচ্ছেন। তাঁদের সঙ্গে পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যরাও যৌথভাবে টহল দিচ্ছেন।

গত বছরের ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন। ওই ঘটনার এক বছর পূর্ণ হবে আগামীকাল।

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বিজিবি মোতায়েনের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা হলে তা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত আছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের সংঘর্ষের ঘটনার এক বছর হওয়ার দিনকে কেন্দ্র করে এবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে আগাম নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ কারণে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে গোপালগঞ্জে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।




রাজনৈতিক বৈষম্যের কারণে জনগণ যেন অধিকারবঞ্চিত না হয়

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান উন্নয়ন বরাদ্দে ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধায় রাজনৈতিক বৈষম্য না টানার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বৈষম্যের কারণে যেন সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়।

তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন ও সরকারি বরাদ্দ বণ্টনে দলীয় বিবেচনার পরিবর্তে সুষমতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে দেশের সব নাগরিক সমানভাবে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পান।’

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে বিরোধী দলীয় নেতা এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

তিনি বলেন, বিএনপির ৩১ দফা ও নির্বাচনি ইশতেহারে সুষম উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সেই প্রতিশ্রুতির আলোকে রাজনৈতিক বৈষম্য দূর করে জনগণের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান জামায়াত আমির।

জাতীয় সংসদকে দেশের মজলুম ও সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার মিলনমেলা হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, সংসদের কার্যক্রম যত বেশি নিয়মতান্ত্রিক ও কার্যকর হবে, মানুষের আস্থা তত বাড়বে। তিনি সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে স্পিকারের আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।

বাজেট ও গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের প্রসঙ্গে ডা. শফিক বলেন, সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে বিরোধী দলের সদস্যরা পর্যাপ্ত আলোচনার সুযোগ পাননি। ভবিষ্যতে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিরোধী দলকে কার্যকরভাবে মতামত দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

সাম্প্রতিক বন্যা, ভূমিধস ও পানিতে ডুবে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত চার বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

Natural Disasters

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই ঢাকা শহর ড্রেনের পানিতে তলিয়ে যায়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। রাজধানীকে দৃষ্টিনন্দন ও বাসযোগ্য করতে সমন্বিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ এবং বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।’

শিক্ষা খাত প্রসঙ্গে বিরোধী দলীয় নেতা প্রাথমিক পর্যায়ে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার আহ্বান জানান।

সরকারি অর্থ অপচয় রোধে উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতাদের নামে নামফলক বসানোর সংস্কৃতি বন্ধ করারও দাবি জানান ডা. শফিক। তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এসব নামফলক বদলাতে গিয়ে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ অপচয় হয়।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি।

City & Local Guides

এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে স্বাগত জানান জামায়াত আমির। একইসঙ্গে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার দাবিও জানান।




সাবেক স্পীকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে স্পীকারের শোক

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, এমপি সাবেক স্পীকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার এর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২ জুলাই, ২০২৬ খ্রি: রাজধানীর একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। এক শোক বার্তায় জাতীয় সংসদের স্পীকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি দুঃখ প্রকাশ ও গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ১৯৬১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে গিয়ে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল’ ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ফিরে আইন পেশায় যুক্ত হয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের একজন খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পীকারের দায়িত্ব পালন করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। উল্লেখ্য, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।




এবার মধ্যপ্রাচ্যের সব সমুদ্রপথ বন্ধ করার হুমকি দিল ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সুবিধা দেয়, এমন অন্য সব জ্বালানি রপ্তানির করিডর বন্ধের হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। দেশটির সংবাদমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশ হয়েছে।

আইআরজিসির এ হুমকির আগে ইরান নতুনভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করেছে।

আজ বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ‘আঞ্চলিক জ্বালানি রপ্তানির সুবিধা হয় সবাই পাবে, না হয় কেউই পাবে না।’




ডিপিডিসির রাজস্ব চুরির মহাকাব্য

• প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকির চাঞ্চল্যকর নথিপত্র ফাঁস

• গ্রাহক থেকে সংগ্রহ করলেও জমা হয়নি এনবিআরের কোষাগারে

• সুশাসনের অভাব ও নৈতিক অবক্ষয়ের এক করুণ দলিল

• আর্থিক অসংগতি ও জবাবদিহিহীনতার এক নির্লজ্জ বহিঃপ্রকাশ

হাসান মাহমুদ রিপন :

আলোর ফেরিওয়ালা হিসেবে পরিচিত রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)। রাজধানী ও তৎসংলগ্ন জনপদের অলিগলি আলোকিত করার গুরুদায়িত্ব যাদের কাঁধে, সেই প্রতিষ্ঠানের অন্ধকার গলিতেই এখন ধরা পড়েছে রাষ্ট্রীয় কোষাগার লুন্ঠনের চাঞ্চল্যকর সব আখ্যান। সাধারণ গ্রাহকের পকেট থেকে বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে আদায় করা ভ্যাট সরকারি তহবিলে জমা না দিয়ে রীতিমতো তেলেসমাতি কারবার চালিয়েছে সংস্থাটি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) নিখুঁত অনুসন্ধান ও নিবিড় পর্যবেক্ষণে উন্মোচিত হয়েছে প্রায় ৪১ কোটি ২৬ লাখ টাকার ভ্যাট জালিয়াতির এক বিষ্ময়কর চিত্র। এটি কেবল সংখ্যার হিসাব নয়, বরং দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের চরমতম আর্থিক অসংগতি ও জবাবদিহিহীনতার এক নির্লজ্জ বহিঃপ্রকাশ।

তদন্তের আড়ালে লুকানো অসংগতি:

২০২৫ সালের এপ্রিলের শেষভাগে এলটিইউ-এর অভিজ্ঞ নিরীক্ষাদল ডিপিডিসির ২০২২-২৩ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত দীর্ঘ তিন বছরের আয়-ব্যয়ের খতিয়ান তল্লাশি শুরু করে। সিএ রিপোর্ট, মাসিক ভ্যাট রিটার্ন এবং অভ্যন্তরীণ দালিলিক প্রমাণাদি খুঁটিয়ে দেখতে গিয়েই বেরিয়ে আসে প্রকৃত সত্য। নিরীক্ষক দল অবাক বিস্ময়ে লক্ষ করেন, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বার্ষিক প্রতিবেদন এবং ভ্যাট রিটার্নের তথ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। ক্যাশ ফ্লো স্টেটমেন্টে গ্রাহকের কাছ থেকে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের কথা উল্লেখ রয়েছে, সরকারি খাতায় তার প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে। প্রায় ৭৩০ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিক্রির তথ্য সরাসরি গোপন করা হয়েছে, যা ভ্যাট আইনের চরম লঙ্ঘন।

জালিয়াতির আদ্যোপান্ত:

তদন্তের সূত্রপাত হয় ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল। এলটিইউ কর্তৃক গঠিত একটি বিশেষ নিরীক্ষাদল ডিপিডিসির ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত প্রতিটি নথিপত্র তন্ন তন্ন করে তল্লাশি চালায়। অডিট দল যখন বার্ষিক প্রতিবেদন (সিএ রিপোর্ট), মাসিক দাখিলপত্র (ভ্যাট রিটার্ন) এবং ভ্যাট সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক তথ্যাদি একে অপরের সঙ্গে মেলাতে শুরু করে, তখনই বেরিয়ে আসে শুভঙ্করের ফাঁকি।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, সিএ রিপোর্টে বর্ণিত ‘ক্যাশ কালেকশন ফ্রম কনজ্যুমার’ বা গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত প্রকৃত অর্থের অংক এবং ভ্যাট রিটার্নে প্রদর্শিত বিক্রয়মূল্যের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য বিদ্যমান।

২০২২-২৩ অর্থবছর: বিক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে ৮ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা, যেখানে সিএ রিপোর্টে সংগৃহীত অর্থ ৮ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা।

    ২০২৩-২৪ অর্থবছর: ১০ হাজার ৩২০ কোটি টাকা বিক্রয়মূল্য হিসেবে প্রদর্শিত হলেও সিএ রিপোর্ট বলছে ১০ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা।

  ২০২৪-২৫ অর্থবছর: চিত্রটি বিপরীতমুখী; এখানে বিক্রয়মূল্যের তুলনায় সিএ রিপোর্টে অধিক সংগৃহীত অর্থ (১১ হাজার ২২৭ কোটি টাকা) দেখা গেছে।

এই গরমিল থেকেই স্পষ্ট হয় যে, ডিপিডিসি সুপরিকল্পিতভাবে বিক্রয় তথ্যে কারসাজি করেছে। অডিট দল নিশ্চিত হয়েছে যে, তিন বছরে প্রায় ৭৩০ কোটি ১১ লাখ ৩৯ হাজার ৭২৯ টাকা বিদ্যুৎ বিক্রির তথ্য রিটার্নে গোপন করা হয়েছে। এই লুকানো বিক্রয়মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ হারে ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ৫৬ হাজার ৯৮৬ টাকা ভ্যাট রাষ্ট্রের প্রাপ্য, যা কখনোই সরকারি ভাণ্ডারে পৌঁছায়নি।

অপারেটিং ইনকামেও কারচুপির খেলা

বিদ্যুৎ বিক্রির পাশাপাশি ‘আদার অপারেটিং ইনকাম’ খাতেও চলেছে চরম অনিয়ম। সিএ রিপোর্ট ও দাখিলপত্রের অসংগতি বলছে, এই খাতে ১৫ কোটি ৫১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৬১ টাকা কম দেখানো হয়েছে। এর ওপর ১৫ শতাংশ হারে ২ কোটি ৩২ লাখ ৭৪ হাজার ৮৬৪ টাকা ভ্যাট পরিশোধ না করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি এক নতুন কৌশল অবলম্বন করেছে। ভ্যাট আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বা কেনাকাটার ওপর যে ‘উৎসে মূসক’ বা ‘উইথহোল্ডিং ভ্যাট’ কর্তন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেখানেও ঘটেছে ব্যর্থতা। মোট ২৬২ কোটি ৪৪ লাখ ৪৯ হাজার ৫৯৯ টাকা উৎসে কর প্রযোজ্য হলেও, ডিপিডিসি ২ কোটি ৪২ লাখ ৮২ হাজার ৪৪৪ টাকা সরকারি তহবিলে জমা দিতে অবহেলা করেছে।

ভ্যাট ফাঁকির অশুভ প্রবণতা

বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডিপিডিসিকে তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় ও সেবাপ্রাপ্তির বিপরীতে উৎসে ভ্যাট বা মুসক কর্তন করতে হয়। কিন্তু আইনের অনুশাসন মেনে চলার পরিবর্তে তারা বেছে নিয়েছে দায়সারা গোছের পথ। বিগত তিন বছরে ২৬২ কোটি ৪৪ লাখ টাকার উৎসে ভ্যাট প্রযোজ্য থাকলেও, সেখানে প্রায় ২ কোটি ৪২ লাখ টাকার কোনো হদিস মিলছে না। অর্থাৎ, সরকারি অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরিবর্তে নিজেদের তহবিল সমৃদ্ধ করার এই প্রচেষ্টায় ডিপিডিসির নৈতিক স্খলন স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

ডিপিডিসির এই ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অনিয়ম নয়, বরং দেশের বিদ্যুৎ খাতে সুশাসনের অভাবের এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত যখন ভর্তুকির ভারে নুইয়ে পড়ছে, তখন রাজস্ব আদায়ের এমন বেপরোয়া জালিয়াতি দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে বাধাগ্রস্ত করবে।

অডিট বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন:

১. ডিপিডিসির প্রতিটি আর্থিক লেনদেনে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা।

২. অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

৩. প্রতি তিন মাস অন্তর এলটিইউ কর্তৃক নিরপেক্ষ তদারকি নিশ্চিত করা।

স্বচ্ছতার অভাব ও নীতিনির্ধারকদের নীরবতা

সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিবুন নাহার কিংবা নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) মোহাম্মদ হায়দার আলীর মতো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক প্রচেষ্টা চালানো হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপের ডিজিটাল মেসেজগুলো তাদের মোবাইল স্ক্রিনে উজ্জ্বল হলেও, জবাবদিহিতার আলো সেখানে পৌঁছায়নি। নীরবতা কি অপরাধ স্বীকারোক্তি? নাকি ক্ষমতার দাপটে তথ্য লুকানোর এক চিরাচরিত সংস্কৃতি? এ প্রশ্ন আজ জনমনে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি কেবল সাধারণ অনিয়ম নয়, বরং গ্রাহক-প্রতারণা। ভ্যাট আইন অনুযায়ী, ফাঁকি প্রমাণিত হলে দাবিনামার অতিরিক্ত হিসেবে বিশাল অংকের জরিমানা আরোপের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা ও জনদাবি

বিদ্যুৎ এমন একটি পরিষেবা, যার প্রতিটি ইউনিটের বিপরীতে গ্রাহক নির্দিষ্ট হারে ভ্যাট পরিশোধ করেন। অর্থাৎ, ডিপিডিসি কেবল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এনবিআর ও ভোক্তার মাঝে সেতুবন্ধন তৈরির কথা ছিল। কিন্তু সেই বিশ্বাস ভেঙে যখন অর্থ তসরুফ হয়, তখন তা সমগ্র কর কাঠামোকেই প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেয়। এলটিইউ কর্তৃক জারি করা কারণ দর্শানো নোটিশ এখন ডিপিডিসির জন্য অগ্নিপরীক্ষার সমান। প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হলে কেবল বকেয়া ভ্যাটই নয়, গুনতে হবে দণ্ড।

আইনি জটিলতা ও ভবিষ্যতের শঙ্কা

এনবিআরের এলটিইউ ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছে। আইন অনুযায়ী, এই নোটিশের জবাব দিয়ে ডিপিডিসিকে তাদের দাবিনামাকৃত ভ্যাটের স্বপক্ষে প্রমাণ হাজির করতে হবে। যদি তারা তা দেখাতে ব্যর্থ হয়, তবে কেবল মূল ভ্যাটই নয়, বরং আইন অনুযায়ী বিশাল অংকের জরিমানার কবলে পড়তে হবে এই সরকারি কোম্পানিকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিদ্যুৎ খাতের মতো অপরিহার্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান যখন রাজস্ব ফাঁকিতে জড়িয়ে পড়ে, তখন তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। এটি কেবল নিয়ম লঙ্ঘন নয়, এটি রাষ্ট্রীয় আস্থার চরম অবমাননা।”

বিশেষজ্ঞ মতামত 

অর্থনীতিবিদদের মতে, ডিপিডিসির মতো একটি জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এমন জালিয়াতি রাষ্ট্রীয় অডিট প্রক্রিয়ার দুর্বলতাকে প্রকট করে তোলে। সরকারি প্রকল্পের হাজারো কোটি টাকা ব্যয় করার সময় যদি ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা না থাকে, তবে জনস্বার্থ ব্যাহত হওয়াটাই স্বাভাবিক। বর্তমান সময়ে যখন জাতীয় অর্থনীতি নানাবিধ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন খোদ সরকারি প্রতিষ্ঠানের এহেন আচরণ রীতিমতো অপ্রত্যাশিত। এই ঘটনাটি বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান বিশৃঙ্খলার একটি লক্ষণ মাত্র। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সংস্থাগুলো অভ্যন্তরীণ অডিট কিংবা জবাবদিহিতার আওতার বাইরে থেকে এভাবে দুর্নীতির সুযোগ নিচ্ছে। ডিপিডিসি—এর বিরুদ্ধে এমন এক চাঞ্চল্যকর অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, যা কেবল প্রশাসনিক গাফিলতি নয়, বরং রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের শামিল। যদি অবিলম্বে এ ধরনের জালিয়াতি রোধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের বড় অংশই গুটিকতক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার পকেটে চলে যাবে। এনবিআরের কঠোর অবস্থান প্রশংসার দাবি রাখে, তবে দাবি এখন কেবল ৪১ কোটি টাকা আদায় নয়; বরং এ ধরনের জালিয়াতি যেন ভবিষ্যতে আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা।

আলোর উৎস যখন অন্ধকারের আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়, তখন তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিতেই হবে। ডিপিডিসির এই ভ্যাট ফাঁকির আখ্যান কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি সুশাসনের অভাব ও নৈতিক অবক্ষয়ের এক করুণ দলিল। সামগ্রিকভাবে, বিদ্যুতের বিল থেকে ভ্যাট কেটে রাখা এবং তা সরকারি তহবিলে না জমা দেওয়া—একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য চরম লজ্জার বিষয়। সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা যখন লুটপাটের অলিগলিতে হারিয়ে যায়, তখন উন্নয়নের স্বপ্ন ফিকে হয়ে আসে। দেশের সাধারণ করদাতারা আশা করেন, আইন সবার জন্য সমান এবং যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচিত হবে। সরকারি অর্থের প্রতিটি পয়সা জনগণের আমানত, আর সেই আমানতের খেয়ানতকারীর ক্ষমা পাওয়ার কোনো অধিকার নেই। এখন দেখার বিষয়, এনবিআর শেষ পর্যন্ত কতটা দৃঢ়তার সঙ্গে এই জটিল অংকের ফয়সালা করতে পারে। ডিপিডিসি কি পারবে এই কালিমালিপ্ত অধ্যায় থেকে মুক্তি পেতে, নাকি তাদের ভাগ্যে নেমে আসবে কঠোর আইনি শাস্তি? এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।




১০০ রুপি ক্যাশব্যাক পেতে গিয়ে জুটল কেবল চকলেট

অনলাইন কেনাকাটায় ছাড় কিংবা ক্যাশব্যাক পেতে আমরা কত কী-ই না করি। সামান্য কিছু টাকার জন্য অফার হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে দেখে কার্টে প্রয়োজন নেই, এমন কমদামি জিনিসও যোগ করার অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। কিন্তু ভারতের এক ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই বুদ্ধিই চরম হাস্যকর এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

ওই ব্যক্তি অফারে ১০০ রুপির ক্যাশব্যাক পেতে ৯০৩ রুপির পণ্য কেনেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর কপালে জোটে ৫ রুপির একটি চকলেট




২০২৬ বিশ্বকাপ কার? সুপারকম্পিউটারের চাঞ্চল্যকর হিসাব-নিকাশ

প্রায় ১৭ দিন ও ৭২ ম্যাচের শ্বাসরুদ্ধকর সব লড়াইয়ের পর শেষ হলো ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের খেলা। ৪৮ দল নিয়ে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ ৩২ দলে এসে ঠেকেছে। শেষ বত্রিশের প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হওয়ায় টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপগুলোর সম্ভাব্য লড়াইয়ের চিত্রও অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গেছে। ফলে এখনকার হিসাব-নিকাশ আগের তুলনায় আরও বাস্তবসম্মত ও স্পষ্ট ধারণা দিচ্ছে সম্ভাব্য ম্যাচআপগুলো নিয়ে।

যেমন নকআউটের প্রথম ম্যাচের ফলের অনুমান ঠিকঠাক মিলে গেছে। ক্রীড়া পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠান ‘অপটা অ্যানালিস্টের’ সুপারকম্পিউটার রাউন্ড অব থার্টি টুর প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কানাডার জয়ের কথা বলেছিল। শেষ পর্যন্ত হয়েছেও তাই। এবার জেনে নিতে পারেন অপটার সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসারে এবার ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি কোন দুই দলের।

সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস, শেষ বত্রিশ থেকে শেষ ষোলোতে ওঠার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি ফ্রান্সের—৮১.৫ শতাংশ। এ ছাড়া কিলিয়ান এমবাপ্পেদের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা ৫৮.৩ শতাংশ, সেমিফাইনালে ৪২.৭ শতাংশ এবং ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ২৮.৪ শতাংশ। আর ফাইনালে জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনায়?—১৮.৭ শতাংশ। এটিও সব দলের মধ্যে সর্বোচ্চ।

ফ্রান্স শিরোপা জয়ের সম্ভাবনায় এগিয়ে থাকলেও নকআউট পর্বের অন্যান্য ধাপে পার হওয়ার ক্ষেত্রে বেশি এগিয়ে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। রাউন্ড অব থার্টি টুতে কেপ ভার্দেকে পাওয়া আর্জেন্টিনা শেষ ষোলোর পথে সবচেয়ে বেশি ‘নিরাপদ’—জেতার সম্ভাবনা ৮৯.২ শতাংশ। শুধু তা–ই নয়, কোয়ার্টার ফাইনাল (৭০.৫%), সেমিফাইনাল (৪৯.৬%) এবং ফাইনালে (৩০%) ওঠার সম্ভাবনার দিক থেকেও সবার ওপরে রয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরাই। অর্থাৎ সুপারকম্পিউটার ইঙ্গিত দিচ্ছে, ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার পাল্লা ফ্রান্সের চেয়েও ভারী, যদিও ট্রফি ছোঁয়ার চূড়ান্ত মুহূর্তে কিছুটা এগিয়ে ফরাসিরাই।

তালিকার তৃতীয় স্থানে আছে স্পেন, যাদের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ১৩.৫ শতাংশ। হ্যারি কেইনদের ইংল্যান্ড ৯.৭ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে আছে চতুর্থ স্থানে, আর নেইমার–ভিনিসিয়ুসদের ব্রাজিলের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ৬.৫ শতাংশ।

আরও কিছু দলেরও সম্ভাবনা খুব কম নয়। অপটার সুপারকম্পিউটার বলছে, নেদারল্যান্ডসের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ৫.১ শতাংশ, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের ৪.৭ শতাংশ এবং জার্মানির ৪.৪ শতাংশ। এ ছাড়া এখনো লড়াইয়ে টিকে থাকা কলম্বিয়া (৩.২%), আর্লিং হলান্ডের নরওয়ে (৩%), স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র (২.৫%) ও সুইজারল্যান্ড (২.২%) যেকোনো মুহূর্তে সমীকরণ বদলে দিতে পারে।

অন্যদিকে তিন স্বাগতিক দেশের অন্যতম মেক্সিকোর শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ১.৮ শতাংশ। গত আসরের চমক মরক্কো এবং সোনালি প্রজন্মের বেলজিয়ামের সম্ভাবনা সমান ১.৬ শতাংশ। আর এশিয়ান পরাশক্তি জাপানের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ১ শতাংশ।

তবে মনে রাখতে হবে, অপটার এই পূর্বাভাস কেবলই গাণিতিক ও পরিসংখ্যানগত হিসাব। ফুটবল মাঠে ৯০ মিনিটে অনেক কিছুই হতে পারে।

বিডি প্রতিদিন/নাজিম




কুমিল্লা নগরীতে হকার উচ্ছেদ অভিযান, ভেঙে ফেলা হলো ভ্যান

নগরীর যানজট নিরসন ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে। এ সময় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে বসা হকারদের ভ্যান ও বিভিন্ন পণ্য জব্দ করা হয়। কয়েকটি ভ্যান ভেকু দিয়ে ভেঙেও ফেলা হয়।

রবিবার (২৮ জুন) বিকেলে নগরীর রানীবাজার, নজরুল এভিনিউ, কান্দিরপাড়ের পূবালী চত্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। এ সময় সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান চলাকালে সড়কের পাশে বসা হকারদের ভ্যান ও বিভিন্ন পণ্য জব্দ করা হয়। কিছু ভ্যান লুকিয়ে রাখা হলেও সেগুলো খুঁজে বের করে জব্দ করা হয়। পরে ভেকুর সাহায্যে কয়েকটি ভ্যান ভেঙে ফেলা হয়। একই সঙ্গে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা না করার জন্য হকারদের সতর্ক করা হয়।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, আমার নিজের কাছেও খারাপ লাগে, যখন এসব গরিব ও অসহায় মানুষের বিরুদ্ধে কঠিন পদক্ষেপ নিতে হয়। কিন্তু জনগণের চলাচলের পথে যেন কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়, সেজন্যই আমাদের এই অভিযান পরিচালনা করতে হয়।

তিনি বলেন, ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করা হকারদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে সিটি করপোরেশন। কুমিল্লা সিটি মার্কেটের ৩, ৪, ৫ ও ৬ তলা হকারদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগ্রহীরা নিজেদের সামর্থ্য ও পছন্দ অনুযায়ী সেখানে দোকান নিতে পারবেন। এছাড়া হকার্স মার্কেটের প্রচারের মাধ্যমে তাদের ব্যবসা পরিচালনায় সহযোগিতা করা হবে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, নগরীর যানজট কমানো ও জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।

বিডি প্রতিদিন/এনআরএইচ




ধর্ষণের অভিযোগে তদন্তের মুখে কেপ ভার্দের অধিনায়ক

বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের সবচেয়ে বড় ও মর্যাদাপূর্ণ ম্যাচটি খেলার অপেক্ষায় রয়েছে কেপ ভার্দে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ বত্রিশের (রাউন্ড অব থার্টি টু) এই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের ঠিক আগমুহূর্তে, এক চরম অস্বস্তিতে পড়েছে আফ্রিকান দলটি।

দলের অধিনায়ক রায়ান মেন্দেসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। ব্রাজিলিয়ান দৈনিক ‘ও গ্লোবো’র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই তারকা ফুটবলারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে তার।

মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে খোদ অধিনায়কের এমন আইনি জটিলতা ও শাস্তির শঙ্কা কেপ ভার্দে শিবিরের মনোবলে বড় এক ধাক্কা দিয়েছে, যা পুরো দলকে ঠেলে দিয়েছে চরম উৎকণ্ঠার মুখে।

ঘটনাটি গত মার্চ মাসের। সে সময় নিউজিল্যান্ডে চিলি ও কেপ ভার্দেকে নিয়ে একটি ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। কেপ ভার্দে দলের ভাষাগত সুবিধার জন্য একজন ব্রাজিলিয়ান নারীকে দোভাষী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরে ওই নারী মেন্দেসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, কেপ ভার্দে দল যে হোটেলে অবস্থান করছিল, সেখানে একটি কক্ষের অনুষ্ঠানে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবেই তিনি সেখানে যান।

কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, সেটি কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক নয়; বরং একটি পার্টি। একপর্যায়ে শরীর খারাপ লাগায় তিনি নিজের কক্ষে ফিরে যান। এরপর মেন্দেস তার কক্ষে এসে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন এবং তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।

তুরস্কের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব ইগদির এফকেতে খেলা ৩৬ বছর বয়সী মেন্দেসের বিরুদ্ধে গত ১০ এপ্রিল অকল্যান্ডের আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর গত মাসে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই নিউজিল্যান্ড ফুটবল ফেডারেশন বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফাকে জানায়। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী অ্যান্ড্রু প্র্যাগনেল জানিয়েছেন, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী প্রথমে কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশনের কাছে সহায়তা চেয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি পরে স্থানীয় পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগেরই এখন তদন্ত শুরু হয়েছে বলে খবর।

নিউজিল্যান্ডের আইনে যৌন নিপীড়নের মতো অপরাধের শাস্তি কঠোর। অভিযোগ প্রমাণিত হলে মেন্দেসের সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

একদিকে বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্বপ্নের ম্যাচ খেলার রোমাঞ্চ, অন্যদিকে অধিনায়কের এই অন্ধকার অধ্যায়—সব মিলিয়ে এক চরম টানাপোড়েনের মধ্যেই পড়ে গেল কেপ ভার্দে ফুটবল দল।

তবে এ বিষয়ে মেন্দেস, তার আইনজীবী কিংবা কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশনের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার কথা ও’গ্লোবোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।




জাপানের বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের কাছে ফাইনালের মতোই

ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আজ রাতের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও জাপান। শেষ ৩২-এর এই ম্যাচটি দুই দলের জন্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ। জয় পেলেই পরবর্তী ধাপে জায়গা নিশ্চিত হবে এবং পরাজিত দলকে বিদায় নিতে হবে টুর্নামেন্ট থেকে।

সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ। জাপানের বিপক্ষে ম্যাচকে ‘ফাইনাল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে সেলেসাও কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলে গেছেন, নকআউট পর্বে যেকোনো কিছুর জন্যই প্রস্তুত আছেন তারা।

আনচেলত্তির ভাষায়, ‘পুরো দলই মনোযোগী, সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তৈরি। অতিরিক্ত সময় কিংবা পেনাল্টি শুটআউট—আমরা সবদিক থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। ম্যাচটি আমাদের কাছে ফাইনালের মতোই।’

‘ফাইনাল’ খেলার অভিজ্ঞতা ব্রাজিল দলের ফুটবলারদের বেশির ভাগেরই আছে। ক্লাব ফুটবলে এ ধরনের নকআউট ম্যাচও তারা খেলেন নিয়মিতই। ওই আত্মবিশ্বাস বিশ্বকাপেও কাজে লাগাতে চান আনচেলত্তি। এ জন্য দলের ভেতর ‘মন, হৃদয় ও পরিষ্কার ভাবনার’ সমন্বয় খুঁজছেন ব্রাজিল কোচ।

দলের অভিজ্ঞ ফুটবলারদের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে আনচেলত্তি বলেন, ‘আমরা সৌভাগ্যবান যে দলে এমন কিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছে, যারা এ ধরনের বড় ম্যাচের চাপ কীভাবে সামলাতে হয়, তা খুব ভালো করেই জানে। এদিক থেকে আমি পুরোপুরি নিশ্চিন্ত।’

তবে প্রতিপক্ষের জন্যও সমীহ আছে তাঁর কথায়, ‘জাপান এমন একটা দল, যাদের সম্মান করতে হবে, আমরা তা করবও।’

এবারের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ড্র করলেও পরের দুই ম্যাচে হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে উঠেছে ব্রাজিল। তিউনিসিয়াকে হারালেও নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের সঙ্গে ড্র করে গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে এই পর্বে এসেছে জাপান।

ব্রাজিলের জন্য শুরুটা ভালো না হলেও সময়ের সঙ্গে তারা উন্নতি করছে—এমন বিশ্বাস দলটির অধিনায়ক মার্কিনিওসের, ‘আমরা আমাদের সেরা ফর্মে ছিলাম না, তবে আমাদের খেলায় প্রতিনিয়ত উন্নতি হচ্ছে। টুর্নামেন্টের শুরুতে আমাদের যে অবস্থা ছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস নিয়ে আমরা এখন নকআউট পর্বে পা রাখছি।’