অনুব্রত মণ্ডলের জামিনের আবেদন আবারো খারিজ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে পুনরায় জেল হেফাজতের নির্দেশ দিল সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত।

বুধবার অনুব্রতের জামিনের অনুরোধ খারিজ করেন আসানসোলের সিবিআইয়ের বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারক রাজেশ চক্রবর্তী। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ৫ অক্টোবর। আসানসোল সিজিএম আদালতে ওই শুনানি হবে। খবর আনন্দবাজারের।

আজ আইনজীবী সন্দীপন গঙ্গোপাধ্যায় এবং আইনজীবী অনির্বাণ গুহ ঠাকুরতা তাদের মক্কেল অনুব্রতের জামিনের আবেদন করেন। তাদের যুক্তি ছিল, গরু পাচার কাণ্ডে মূল অভিযুক্তদেরই জামিন মুওকুফ হয়েছে। এর পর অনুব্রতের শারীরিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে জামিনের আবেদন করেন তারা।

অন্য দিকে, সিবিআইয়ের আইনজীবী রাকেশ কুমার বলেন, ‘‘দুটো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে প্রচুর টাকা লেনদেন হয়েছে। ব্যাঙ্কের মাধ্যমে প্রচুর টাকা দেওয়া-নেওয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নামে প্রচুর কলেজ তৈরি হয়েছে। এই রাজ্য ছাড়া অন্য রাজ্যেও হয়েছে।’’

সিবিআই বলেছে, অনুব্রত এতটাই প্রভাবশালী যে বাইরে বের হলে বিভিন্নভাবে তদন্তের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারেন। দুই পক্ষের সওয়াল-জবাবের পর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন বিচারক।




হিজাব বিতর্কে উত্তাল ইরান, সংঘর্ষে নি-হ-ত ৫

ইরানে হিজাব ইস্যুতে গ্রেফতারের পর পুলিশ হেফাজতে মাহসা আমিনি নামে এক তরুণীর মৃত্যুর প্রতিবাদে উত্তাল সারাদেশ। এ ঘটনায় নিহত হোন পাঁচজন এবং আহত হয়েছেন শতাধিক। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

গত মঙ্গলবার দেশটিতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। খবর সিএনএনের।

পুলিশি হেফাজতে তরুণীর মৃত্যুর প্রতিবাদে মঙ্গলবারও উত্তাল ছিল ইরানের বিভিন্ন শহর। এদিন দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কামারানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। প্রতিবাদ বিক্ষোভে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংস প্রতিক্রিয়ার কড়া সমালোচনা করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন। মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে সংস্থাটি বলছে, তার মর্মান্তিক মৃত্যু, নির্যাতনের অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে কী ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে তার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত হতে হবে। মাহসার পরিবার যে অভিযোগ এনেছে সেটিও গুরুত্বসহকারে দেখতে হবে।

এদিকে মাহসা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে কানাডা, জার্মানি ও তুরস্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ইরান সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় অনেকে মাথার চুল কেটে প্রতিবাদ জানান। ‘সঠিকভাবে’ হিজাব না পরার কারণে মাহসা আমিনি নামে ২২ বছর বয়সি এক তরুণীকে সম্প্রতি গ্রেফতার করে ইরান পুলিশ। এর পর ওই তরুণী অসুস্থ হয়ে কোমায় চলে গেলে তাকে ‘মারধরের’ অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। এর মধ্যেই গত ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাহসা আমিনি।

ইরানের বার্তা সংস্থা ফারসের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া জানায়, মাহসা নামে ওই তরুণী চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরানের কুর্দিস্তান প্রদেশ থেকে রাজধানী তেহরানে তার আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান।

এ সময় ‘সঠিকভাবে’ হিজাব না পরায় তাকে গ্রেফতার করে ‘গাশত-ই এরশাদ’ নামে পরিচিত ইরানের নৈতিকতা পুলিশ। ‘সঠিকভাবে’ হিজাব না পরার যুক্তি হিসেবে তখন পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, চুল পুরোপুরি না ঢাকার জন্য মাহসা আমিনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ইরান পুলিশের দাবি, আটক থাকাবস্থায় মাহসা ‘হার্টের সমস্যায়’ ভুগছিলেন। তবে পুলিশের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, পুলিশের মারধরেই মৃত্যু হয়েছে ওই তরুণীর। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।




বিরোধীদের পোস্টে লাইক-শেয়ারে হতে পারে ১০ বছর জেল

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জান্তা-বিরোধীদের পোস্ট অথবা অন্য কোনও কনটেন্টে লাইক অথবা শেয়ার করলে সেজন্য তিন থেকে ১০ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে বলে দেশের মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

মঙ্গলবার মিয়ানমারের জনসাধারণকে প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতি নৈতিক সমর্থন দেখানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করে এই হুমকি দিয়েছে জান্তা।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলে নেওয়ার পর থেকে মিয়ানমারে ব্যাপক সহিংসতা চলছে। দেশটির গণতন্ত্রপন্থী বিভিন্ন সংগঠন ও ছায়া সরকার নেতৃত্বাধীন মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর সাথে মিয়ানমারের জান্তাবাহিনীর সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। ক্ষমতাসীন জান্তার তথ্যমন্ত্রী ও মুখপাত্র জাও মিন টিন বলেছেন, ‘সন্ত্রাসীরা’ দেশকে অস্থিতিশীল এবং নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করার জন্য তহবিল চেয়ে প্রচারণা চালিয়ে আসছে। তাই তাদের প্রতি সমর্থন কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

তিনি বলেছেন, জাতীয় ঐক্যের সরকার (এনইউজি) অথবা তাদের সশস্ত্র সহযোগী সংগঠন পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেসের (পিডিএফ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ডে সমর্থন জানানোর জন্য তিন থেকে ১০ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। এমনকি যারা সামান্য পরিমাণ অর্থও সহায়তা করবে, তাদের অবস্থা আরও ভয়াবহ হবে।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, আপনি যদি সন্ত্রাসীদের অর্থ সহায়তা অথবা তাদের কাজ সমর্থন করেন, তাহলে আপনাকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। আমরা নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য এটি করছি।




তাইওয়ানে ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্প

তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলে শনিবার ৬ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মার্কিন ভূতাত্বিক সংস্থা ইউএসজিএস এ তথ্য জানায়।

সংস্থাটি জানিয়েছে, উপকূলীয় শহর তাইতুং থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তরে স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পে কোনো ক্ষয়ক্ষতি খবর জানা যায়নি।

তাইওয়ানের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি ছিল ৬ দশমিক ৪ মাত্রার ছিল। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর কম্পনের গভীরতা ছিল ৭ দশমিক ৩ কিলোমিটার।




রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যে থাকবেন জো বাইডেন

ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি রানির শেষকৃত্যে যোগ দেবেন বলে নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস। তার সঙ্গে থাকবেন মার্কিন ফার্স্ট লেডিও। একটি বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস বলেছে, ‘আজ (রোববার) সকালে প্রেসিডেন্ট বাইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯ সেপ্টেম্বর রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পরিষেবাতে যোগদানের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।

হোয়াইট হাউস এর আগে ঘোষণা করেছিল যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ১৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক ভ্রমণ করবেন এবং ১৯ এবং ২০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দেবেন। তবে নতুন করে হোয়াইট হাউস ঘোষণা করেনি যে কবে বাইডেন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) চিরবিদায়ের মধ্য দিয়ে ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের ৭০ বছরের রাজত্বের অবসান ঘটে। এর পর থেকে তার মরদেহ ছিল স্কটল্যান্ডের বালমোরাল ক্যাসেলের বলরুমে। সেখান থেকে রানির মরদেহবাহী কফিন রবিবার যাত্রা শুরু করেছে; যা আগামী মঙ্গলবার লন্ডনে পৌঁছাবে। কফিন লন্ডনে আসার পর রানি তার শেষকৃত্যের আগে প্রায় চার দিন ওয়েস্টমিনস্টার হলে শুয়ে থাকবেন।

রানির মৃত্যুর পর রাজকীয় শোকের সময়কাল শেষকৃত্যের সাত দিন পর পর্যন্ত পালন করা হবে। এর তারিখ যথাসময়ে রাজপরিবার দ্বারা নিশ্চিত করা হবে।




আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটেনের নতুন রাজার স্বীকৃতি পেলেন তৃতীয় চার্লস

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর তৃতীয় চার্লসকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটেনের নতুন রাজার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। লন্ডনে এবং যুক্তরাজ্যের চার কোণে কামানের গোলা নিক্ষেপ করে এবং ঘোষণা পাঠের পর একটি অনুষ্ঠানে রাজা চার্লস তৃতীয়কে ব্রিটেনের নতুন শাসকের মর্যাদা দেওয়া হয়। চার্লসের রাজদায়িত্ব পাওয়ার ঘোষণাটি যুক্তরাজ্যের অন্যান্য রাজধানী শহরগুলো যেমন: স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গ, উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট, ওয়েলসের কার্ডিফ ও অন্যান্য স্থানে প্রকাশ্যে পাঠ করা হয়েছে।

চার্লস (তৃতীয়) এখন থেকে যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য ১৪ রাষ্ট্রের রাজা ও রাষ্ট্র-প্রধান। এসব রাষ্ট্রের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জ্যামাইকা, নিউজিল্যান্ড ও পাপুয়া নিউ গিনি রয়েছে। তবে রাজা তৃতীয় চার্লসের আনুষ্ঠানিক রাজ্যাভিষেক পরবর্তীতে অনসুষ্ঠিত হবে। তবে তা কবে হবে তা স্পষ্ট নয়। এর আগে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের সেন্ট জেমসেস প্যালেসে ঐতিহাসিক এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রিন্স চার্লস ফিলিপ আর্থার জর্জকে দেশটির নতুন রাজা হিসাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার স্থানীয় সময় সকালের দিকে সেন্ট জেমসেস প্রাসাদে অ্যাকসেশন কাউন্সিল এক বৈঠকের পর তৃতীয় চার্লসকে রাজা ঘোষণা করে।




প্রথম ভাষণে যে অঙ্গীকার করেছেন ব্রিটেনের নতুন রাজা

ব্রিটেনের সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদি রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ বৃহস্পতিবার মারা গেছেন। তার মৃত্যুর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশটির নতুন রাজা হয়েছেন তার ছেলে চার্লস।

বর্তমানে তার নাম রাজা তৃতীয় চার্লস। রাজার দায়িত্ব পাওয়ার পর জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণ দিয়েছেন চার্লস। তিনি তার ভাষণে যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য রাজ্যের এবং বিশ্ববাসীকে আজীবন সেবা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

শুক্রবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এই অঙ্গীকার করেন।

তিনি তার সদ্য প্রয়াত মা রানী এলিজাবেথের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, তিনি (এলিজাবেথ) ছিলেন অনুপ্রেরণা এবং আমার ও আমার পরিবারের কাছে উদাহরণস্বরূপ। আমার মা জীবনভর যে কাজ করে গিয়েছেন, আমিও সেই কাজেই জীবন উৎসর্গ করব।

তিনি আরও বলেন, রাজত্বের সূচনায় ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ যে অঙ্গীকার করেছিলেন সে অনুযায়ী সম্মান, মর্যাদা এবং ভালোবাসার সঙ্গে ব্রিটেন ও কমনওয়েলথের জনগণের সেবা করব।

রাজা চার্লস উল্লেখ করেন, কীভাবে ১৯৪৭ সালে তার ২১তম জন্মদিনে এলিজাবেথ কেপটাউন থেকে বেতার ভাষণে জানিয়েছিলেন, তার জীবন ছোট বা দীর্ঘ, যেমনই হোক, জনগণের সেবায় উৎসর্গ করবেন।




রানির মৃত্যুতে বাংলাদেশে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে আজ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন সরকার।

আজ শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে শুক্রবার থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিন বাংলাদেশের সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোয় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। রানির মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। পৃথক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী রানির বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এর আগে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকালে স্কটল্যান্ডের বালমোরাল প্যালেসে ৯৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ।




ভারতে রোজ সকালে ৫২ সেকেন্ডের জন্য থেমে যায় যে শহর

ঘড়িতে সাড়ে ৮টা বাজলেই থেমে যায় পুরো শহর। যিনি যে কাজেই থাকেন বা কাজ যত গুরুত্বপূর্ণই হোক, সবাই সব কাজ বন্ধ করে দেন। ওই সময়ে এমনকি রাস্তায় গাড়ি চললেও ট্রাফিকের সিগন্যাল ছাড়াই সবাই দাঁড়িয়ে পড়েন। দক্ষিণ ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের নালগোন্ডা শহরে এমনি নিয়মের প্রচলন রয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টার সময় শহরজুড়ে বেজে ওঠে জাতীয় সঙ্গীত। ৫২ সেকেন্ড ধরে চলতে থাকে এটি।

এ সময় বাজার থেকে শুরু করে ব্যস্ত রাস্তা, পথচারী ও অফিসগামী কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে সবাই নিজেদের জায়গায় স্যালুট করে দাঁড়িয়ে পড়েন। এটি ওই নালগোন্ডা শহরের প্রতিদিনকার দৃশ্য।  শহরের ১২টি প্রান্তে মাইকের মাধ্যমে জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়।

২০২২ সালের ২৩ জানুয়ারি থেকে এই নিয়ম চালু হয়েছে শহরে। ‘জনগণ মন উৎসব সমিতি’র সভাপতি কার্নাতি বিজয়কুমার বন্ধুদের সাহায্যে শহরে এই নিয়ম চালু করেছেন। বিজয়কুমারের দাবি, এর মাধ্যমে মানুষের মনে দেশপ্রেম বাড়ে।

৭ হাজার ১২২ বর্গ কিলোমিটার এই শহরের জনসংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ ১৮ হাজার ৪১৬।




গ্যাস সংকটের জন্য দায়ী ইউরোপীয়রাই : এরদোয়ান

গ্যাস সংকটের জন্য আসন্ন শীত ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর জন্য কঠিন সময়ে পরিণত হতে পারে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

মঙ্গলবার আঙ্কারায় এক সংবাদ সম্মেলনে ওই সংকটের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নকেই দায়ী করেছেন এরদোয়ান।

ইউরোপ মহাদেশে গ্যাস সংকটের বিষয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো তাদের কর্মের ফল ভোগ করছে। তাদের কারণেই এ অঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি পশ্চিমাদের মনোভাব এবং মস্কোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বর্তমান সংকটের জন্য দায়ী। এসব নিষেধাজ্ঞাই পুতিনকে প্রতিশোধ নিতে বাধ্য করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি যে ইউরোপ এ শীতের সময়ে গুরুতর সমস্যার মধ্য দিয়ে যাবে। তবে তুরস্কে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই।’

এরদোয়ান রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। একইসাথে তিনি সংঘাতে নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন।

এরদোয়ান বলেন, ‘পুতিনের প্রতি ইউরোপের আচরণ, তাদের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা পুতিনকে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় এটা বলতে বাধ্য করেছে যে তোমরা যদি এটা করো, তবে আমি ওইটা করব। পুতিন তার সব কৌশল ও অস্ত্র ব্যবহার করছেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসও তার একটি।