বুথফেরত জরিপ : ইসরায়েলের নির্বাচনে জিততে চলেছেন নেতানিয়াহু

গত চার বছরের কম সময়ের মধ্যে পঞ্চমবারের মতো সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ইসরায়েলিরা। মঙ্গলবারের (১ নভেম্বর) এই নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে ফের ক্ষমতায় ফিরতে যাচ্ছেন সরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

বুথফেরত জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। বুধবার (২ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি এবং সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফলের আগে জয়-পরাজয়ের যে পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে তাতে বিরোধীদের তুলনায় নেতানিয়াহুর ডানপন্থি ব্লক অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম বলেছে, ২০১৯ সাল থেকে পঞ্চমবারের মতো মঙ্গলবার ইসরায়েলি নাগরিকরা জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেন। গত সাড়ে ৩ বছর ধরে দেশটিকে পঙ্গু করে দেওয়া রাজনৈতিক অচলাবস্থা সমাধানের আশায় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে ১২০টি আসন রয়েছে। আর তাই কোনও দল বা জোটকে সরকার গঠন করতে হলে কমপক্ষে ৬১টি আসন পেতে হবে। আর মঙ্গলবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ভোট গণনা শেষে সরকার গঠনের জন্য ইসরায়েলি দলগুলোর হাতে প্রায় ৩ মাস সময় আছে।

এই সময়ের মধ্যে যদি তারা সরকার গঠন করতে না পারে, তাহলে ইসরায়েল ষষ্ঠ নির্বাচনের দিকে যাবে।




ভারতে সেতু ভেঙে নিহত বেড়ে ১৪০

গুজরাটের মাচ্চু নদীর ওপর সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সোমবার সকাল পর্যন্ত ১৪০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঝুলন্ত সেতু ভেঙে পড়ে আহতও হয়েছেন বহু মানুষ।

অভিযোগ উঠেছে, এই সেতু জনসাধারণের জন্য চালু করার আগে প্রশাসনের কাছ থেকে সবুজ সংকেত নেওয়া হয়নি। সেতুর কোনো ‘ফিটনেস সার্টিফিকেট’ নেওয়া হয়নি।

রোববার সন্ধ্যায় এটি ভেঙে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষের এই গাফিলতিকে দায়ী করছেন কেউ কেউ।

গুজরাটের মোরবিতে নদীর ওপর যে ঝুলন্ত সেতুটি ভেঙে পড়েছে, তা সংস্কারের পর কিছু দিন আগেই জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল। সেতু ফের চালু হওয়ার ৬ দিনের মাথায় এ বিপর্যয়। সংকীর্ণ সেতুটিতে রোববার সন্ধ্যায় প্রায় ৫০০ মানুষ উঠে পড়েছিলেন। নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে কীভাবে লাফালাফি করছেন অনেকে। এর পরেই নদীর ওপর হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে সেতুটি।

সেতুটি সংস্কারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ‘ওরেভা’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থাকে। সংস্কারের জন্য দীর্ঘ সাত মাস সেতুটি বন্ধ ছিল। গত ২৬ অক্টোবর তা খোলা হয়। রোববার সারা রাত ধরে মাচ্চু নদীতে উদ্ধারকাজ চলেছে। স্থানীয় বাসিন্দা এবং উদ্ধারকারীসহ অন্তত ২০০ জন উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছেন।

গুজরাটে রোববারই তিন দিনের সফরে গেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে গুজরাট সরকার চার লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবারের জন্য দুই লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এ ছাড়া আহতদের ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা করবে সরকার। সেতু বিপর্যয়ে শোক প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।




ফিলিপাইনে বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে৭২

ফিলিপাইনে গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড় ন্যালগায় সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত ৭২ জন নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আরও অনেকে ধসে যাওয়া মাটির নিচে চাপা পড়েছেন বলে আশঙ্কা উদ্ধারকর্মীদের।

গতকাল শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) দেশটির দক্ষিণের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল মিন্দানাও থেকে প্রথমে ১১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধারকর্মীদের অভিযানে মৃতের সংখ্যা ৭২ এ গিয়ে পৌঁছায়। খবর এএফপির

অঞ্চলটির অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী নাগুয়িব সিনারিম্বো দেশটির গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড়ে মিন্দানাও প্রদেশে প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হলেও দুর্ভাগ্যবশত এমন প্রাণহানি ঘটেছে।

দেশটির দুর্যোগ কর্মকর্তারা জানান, এরই মধ্যে সরকারি উদ্যোগে হাজার হাজার মানুষকে ঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া টানা বৃষ্টিপাতের ফলে শুক্রবার রাতেও মধ্য ফিলিপাইনের সামার প্রদেশে ভূমিধসের শঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও আগামীকাল শনিবার সকাল থেকে তা আবারও শুরু হবে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। কারণ, প্রদেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে দাতু ওডিন শহরে অসংখ্য মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।




১৭৩ জনকে নিয়ে ছিটকে গেল বিমান

কোরিয়ান এয়ারের একটি বিমান মধ্য ফিলিপাইনে খারাপ আবহাওয়ায় অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে গিয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানে থাকা ১৭৩ জনের কেউ কোনো আঘাত পাননি।

রোববার গভীর রাতে সেবু প্রদেশের ম্যাকটান দ্বীপে এ ঘটনা ঘটে। এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে এসোসিয়েট প্রেস।

কোরিয়ান এয়ারের ফ্লাইট কেই-৬৩১ এ ১১ জন ক্রু এবং ১৬২ জন যাত্রী ছিলেন। কর্মকর্তারা ও এয়ারলাইন্স জানিয়েছে যে, ক্ষতিগ্রস্ত বিমান থেকে বাঁচতে জরুরি স্লাইড ব্যবহার করেছিলেন সবাই।  ফিলিপাইনের সিভিল এভিয়েশন অথরিটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘সকল যাত্রী নিরাপদে আছেন এবং জরুরি কর্মীরা উপস্থিত রয়েছেন।’ বিমানটি সোমবার ম্যাকটান সেবু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একা রানওয়ের শেষে ঘাসের মধ্যে আটকে যায়। এর ফলে  বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বিমানের সামনের নীচের অংশটি এবং এর নাক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবরে বলা হয়।

ছবিতে দেখা গেছে যে, বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে ঘাসের মধ্যে পড়ে রয়েছে। এর সামনের অবতরণের চাকাটি দেখা যায়নি। এছাড়া বিমানের দরজায় জরুরি স্লাইডগুলো স্থাপন করা হয়েছিল।




সরে দাঁড়িয়েছেন জনসন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন সুনাক

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড় থেকে সরে দাড়াঁলেন বরিস জনসন। রোববার (২৩ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাতে এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। ফলে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেড়ে গেল ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির আরেক নেতা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাকের।

জানা যায়, ইতোমধ্যে ১৫০ জনের বেশি এমপির সমর্থন পেয়েছেন সুনাক। অপর দিকে পেনি মর্ডান্টের পেয়েছেন ২৫ জনের। ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন ঋসি সুনাক।

প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে লিজ ট্রাসের বিদায়ের পর নতুন নেতা হওয়ার দৌড়ে যে ক’জনের নাম উচ্চারিত হচ্ছিল তাদের মধ্যে বরিস জনসনও ছিলেন। রোববার রাতে বিবৃতিতে তিনি বলেন, পার্লামেন্টের আইনপ্রণেতারা তাকে সমর্থন করা শর্তেও তিনি সরে দাঁড়ালেন। আপাতত প্রধানমন্ত্রীর হওয়ার দৌড়ে থাকা ঠিক হবে না বলে মনে করছেন তিনি।

বরিস জানিয়েছেন, পার্লামেন্টে ১০২ জন আইনপ্রণেতা তাকে সমর্থন করছিলেন। তবে বিবিসি বলছে, বরিসকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন এমন আইনপ্রণেতার সংখ্যা আসলে ৫৭ জন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস। মাস দেড়েক আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। তবে তার পদত্যাগের পর এখন ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পাটির পরবর্তী নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী কে হবেন তা নির্ধারণের জন্য আরেকটি নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে।




রাশিয়ার পরবর্তী টার্গেট কী জানালেন জেলেনস্কি

চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের দেশ ইউক্রেনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ চালাচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পরাশক্তি রাশিয়া। বিগত আট মাসের যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে ইউক্রেন। এই সময়ে দেশটির পূর্ব ও দক্ষিণ অঞ্চল কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এরই মধ্যে দেশটির চারটি অঞ্চল ডোনেটস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিঝঝিয়া ও খেরসন- গণভোটের মাধ্যমে রাশিয়ার সঙ্গে একীভূত করে নিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

কিন্তু বর্তমানে এই অঞ্চলগুলো পুনরুদ্ধ জোর তৎপরতা চালাচ্ছে ইউক্রেন। এতে হামলার পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি রাজধানীর কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে ৮০টির বেশি মিসাইল হামলা চালিয়ে দেশটির বিদ্যুৎ খাতে বিপর্যয় নামিয়ে আনে রাশিয়া।

বর্তমানে কার্যত খুঁড়িয়ে চলা ইউক্রেনের শেষ ভরসা হাতের লাঠিটাও এবার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টায় রুশ বাহিনী। সামনে শীত। বরফে ঢেকে যাবে দেশটি। বিদ্যুৎ ছাড়া জীবনধারণ অসম্ভব। এ অবস্থায় পাওয়ার গ্রিডগুলোতে হামলা শুরু করেছে তারা। ইউক্রেনের ৪০ শতাংশ পাওয়ারগ্রিড ইতোমধ্যেই ধ্বংস হয়ে গেছে।

ধারণা করা যাচ্ছে, মস্কোর পরবর্তী নিশানা ইউক্রেনের একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প লাগোয়া জলাধার। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এমন অভিযোগ করেছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, রাশিয়া যদি এই কাজ করে, তা বড়সড় বিপর্যয় ডেকে আনবে।

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, নিপ্রো নদীতে মাইন ফেলেছে রুশ বাহিনী। তাদের পরবর্তী লক্ষ্য, নিপ্রো নদীর উপরে কাখোভকা ড্যাম। জলাধারটি রুশ নিয়ন্ত্রিত এলাকাতে রয়েছে। কিন্তু ক্রমশ সেদিকে এগিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। কাখোভকা ড্যাম মস্কোর হাত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে।

জেলেনস্কির দাবি, এর জন্যই পাল্টা রণকৌশল নিয়েছে ক্রেমলিন। তারা উল্টো অভিযোগ করা শুরু করছে যে, কাখোভকা ড্যাম লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে কিয়েভের সেনারা। জেলেনস্কি বলেন, এই জলাধার যদি কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে দেশের দক্ষিণ অংশে পানিসরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে। জাপোরিঝঝিয়ায় ইউরোপের সর্ববৃহৎ পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিও পানির অভাবে স্থবির হয়ে যাবে।

জেলেনস্কির কথায়, “এই জলাধারে যে পরিমাণ পানি ধরে, তাতে এটি বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়া হলে খেরসন-সহ ৮০টি এলাকা পানি তলায় চলে যাবে। ভয়াবহ বন্যা দেখা দেবে। হাজার হাজার মানুষের চরম পরিণতি হবে।”




কংগ্রেসের নতুন সভাপতি হলেন মল্লিকার্জুন খাড়গে

ভারতীয় কংগ্রেসের নতুন সভাপতি নির্বাচিত হলেন দলটির প্রবীণ নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে। বুধবার  দিল্লিতে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাচিত নতুন সভাপতির নাম ঘোষণা করা হয়।

 প্রায় দুই দশক পর গান্ধী পরিবারের বাইরে সভাপতি পেল দলটি।

উপমহাদেশের অন্যতম পুরোনো রাজনৈতিক দলীয় প্রধান নির্বাচনে একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী শশী থারুরকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছেন খাড়গে। সভাপতি পদে খাড়গে পেয়েছেন ৭ হাজার ৮৯৭ ভোট। থারুর পেয়েছেন ১ হাজার ৭২ ভোট। সভাপতি নির্বাচনে গত সোমবার কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ এই ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভোটদানে যোগ্য ৯ হাজার ৯১৫ নেতার প্রায় ৯৬ শতাংশই ভোট দিয়েছেন।

বুধবার সকাল ১০টার দিকে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভোট গণনা শুরু হয়। সেখানে সারা দেশ থেকে সিলগালা করা ব্যালটগুলো নিয়ে আসা হয়।

স্বাধীনতার পর থেকে গান্ধী পরিবারের সদস্যরাই অধিকাংশ সময় কংগ্রেসের নেতৃত্ব দিয়ে এসেছেন। নেহরু-গান্ধী পরিবারের বাইরে ১৯৯৮ সালে শেষবার সভাপতি নির্বাচিত হন কংগ্রেস কোষাধ্যক্ষ সীতারাম কেশরী।




রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ; ইউরোপের দেশে দেশে বিক্ষোভ

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দীর্ঘ সাড়ে সাত মাস ধরে যুদ্ধ চলছে । এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজারে বেড়েছে খাদ্যপণ্য ও জ্বালানির দাম। গোটা বিশ্বে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি।

এরই ধারাবাহিকতায় জ্বালানির দাম এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শ্রমিক ধর্মঘট ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটছে।

মঙ্গলবার ইউরোপীয় দেশগুলোতে বিক্ষোভ ও ধর্মঘটের একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

ফ্রান্স
দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে রবিবার প্যারিসের রাস্তায় নেমেছিল হাজার হাজার মানুষ। মঙ্গলবার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দেওয়ায় ফ্রান্সে আঞ্চলিক ট্রেন চলাচল প্রায় অর্ধেক কমে গেছে।

ব্রিটেন
ব্রিটেনে পণ্য সরবরাহকারী চালক বেতন নিয়ে বিরোধের কারণে চলতি মাসের শেষ দিকে পাঁচ দিনে ধর্মঘটে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার ইউনাইটেড ইউনিয়ন জানিয়েছে, এই ধর্মঘটে বিয়ার সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে। ব্রিটেনের অন্যতম বৃহৎ কন্টেইনার বন্দর লিভারপুলে শত শত শ্রমিক ২৪ অক্টোবর থেকে বেতন ও চাকরির জন্য আরও দুই সপ্তাহের ধর্মঘট গ্রহণ করবে। রাজকীয় ডাক কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী কমিউনিকেশন অ্যান্ড ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন রয়্যাল মেইল সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের শুরুতে ধর্মঘট করেছে। বেতন ও অপারেশনাল পরিবর্তন নিয়ে কয়েক মাস ব্যর্থ আলোচনার পরে তারা আরও ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছে।

বেলজিয়াম
বিদ্যুতের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ২১ সেপ্টেম্বর হাজার হাজার মানুষ ব্রাসেলসের রাস্তায় নেমেছিল। জুন মাসে অনুরূপ একটি বিক্ষোভে প্রায় ৭০ হাজার শ্রমিক যোগ দিয়েছিল।

জার্মানি
লুফথানসা ইউরো উইংয়ের পাইলটরা সোমবার থেকে তিন দিনের ধর্মঘট শুরু করেছে। তাদের ইউনিয়ন জানিয়েছে, ধর্মঘটের কারণে হাজার হাজার যাত্রীর ওপর প্রভাব পড়ছে।

হাঙ্গেরি
উচ্চ মজুরির জন্য ধর্মঘটে যোগদানের জন্য বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকদের সমর্থনে হাজার হাজার হাঙ্গেরিয়ান ছাত্র এবং অভিভাবক ১৪ অক্টোবর সমাবেশ করেছে।

চেক প্রজাতন্ত্র
২৮ সেপ্টেম্বর প্রাগে হাজার হাজার নাগরিক বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং দেশটির ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে। কমিউনিস্টসহ অতিডানপন্থিরা এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল।

সূত্র: এবিসি নিউজ, রয়টার্স, আল জাজিরা,  ইউরো নিউজ




মৃত্যুর আগে পুরো জীবন চোখের সামনে ভাসে : গবেষণা

একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, মৃত্যুর আগে মানুষের চোখের সামনে তার পুরো জীবনের চিত্র ভাসতে থাকে। বিজ্ঞানীরা এমন বিষয়ে আগে থেকে কোনো পরিকল্পনা না করেই দুর্ঘটনাবশত এমন তথ্য জানতে পারেন। বিজ্ঞানীদের একটি দল ৮৭ বছর বয়সী একজন রোগীর মস্তিষ্কের তরঙ্গ পরিমাপ করতে কাজ করছিলেন। ওই রোগী মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

 খবরে বলাaa হয়েছে, স্নায়বিক রেকর্ডিংয়ের সময় একটি মারাত্মক হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন ওই রোগী। সেই সময়ে একটি মৃত মস্তিষ্কের অপ্রত্যাশিত রেকর্ডিং পান বিজ্ঞানীরা।

সেখানে ৩০ সেকেন্ড আগে ও পরের মস্তিষ্কের রেকর্ডে দেখা গেছে যে, মানুষের মস্তিষ্কের তরঙ্গগুলো স্বপ্ন দেখা বা স্মৃতি স্মরণ করার মতো একই প্যাটার্ন অনুসরণ করেছে।

এই ধরনের মস্তিষ্কের কার্যকলাপে বোঝা যায় যে, একজন ব্যক্তি শেষ মুহুর্তে চূড়ান্ত ‘জীবনের স্মরণ’ করছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিজ্ঞানীদের এই গবেষণা ফ্রন্টিয়ার্স ইন এজিং নিউরোসায়েন্সে প্রকাশিত হয়েছে।গবেষণার সহ-লেখক ডঃ আজমল জেম্মার বলেছেন যে, কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অবস্থিত দলটি দুর্ঘটনাক্রমে যা পেয়েছিল তা ছিল মৃত মস্তিষ্কের প্রথম রেকর্ডিং।

তিনি বলেছিলেন, ‘এটি আসলে সম্পূর্ণভাবে ঘটনাক্রমে হয়েছিল, আমরা এই পরীক্ষাটি করার বা এই সংকেতগুলো রেকর্ড করার পরিকল্পনা করিনি।’তাহলে আমরা কি মৃত্যুর আগে প্রিয়জনদের এবং অন্যান্য সুখ স্মৃতির এক ঝলক দেখতে পাব? ডাঃ জেম্মার বলেন, এটা বলা অসম্ভব।

ডাঃ জেমার এখন লুইসভিল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নিউরোসার্জন। তিনি বলেন, রোগীর হৃদয় মস্তিষ্কে রক্ত ​​সরবরাহ বন্ধ করার ৩০ সেকেন্ড আগে তার মস্তিষ্কের তরঙ্গগুলো একই প্যাটার্ন অনুসরণ করে। যেমন মনোযোগ দেওয়া- স্বপ্ন দেখা বা স্মৃতি স্মরণ করা। রোগীর হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন বন্ধ হওয়ার ৩০ সেকেন্ড পর পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকে। এরপর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

তিনি বলেন, ‘এটি সম্ভবত আমাদের জীবনের অভিজ্ঞতার স্মৃতিগুলোর একটি শেষ স্মরণ হতে পারে এবং সেগুলো আমাদের মৃত্যুর আগে শেষ সেকেন্ডে মস্তিষ্কের খেলা করে।’এই গবেষণায় দেখা গেছে যে, ঠিক কখন জীবন শেষ হয়, কখন হৃৎপিণ্ড স্পন্দন বন্ধ করে বা মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে।

ডাঃ জেমার এবং তার দল সতর্ক করে দিয়েছেন যে, একজনের গবেষণা থেকে বিস্তৃত সিদ্ধান্তে আসা যাবে না। রোগীর মৃগীরোগ ছিল, তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং স্ফীত হওয়ার বিষয়টি আরও জটিল করে তোলে।২০১৬ সালে প্রথম রেকর্ডিংয়ের পর তিনি কয়েক বছর ধরে এই বিষয়ে গবেষণার জন্য এমন আরও রেকর্ড করার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।




নাইজেরিয়ায় ভয়াবহ বন্যা: প্রাণহানি ৬০০ জনের বেশি

নাইজেরিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা এমন তথ্য জানিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন যে এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে দেশটি।

নাইজেরিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন, ‘নাইজেরিয়ায় সাম্প্রতিক বন্যা একটি অপ্রতিরোধ্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিণত হয়েছে।

অনেক রাজ্য সতর্কতা সত্ত্বেও এমন ভয়াবহ বন্যার জন্য সঠিকভাবে প্রস্তুত ছিলো না। পশ্চিম আফ্রিকার দেশটিতে এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এ বন্যায় ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। প্রায় ১৩ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং দু’লাখের বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত বন্যা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।‘

দেশটিতে গ্রীষ্মের শুরুতে বন্যা হওয়ার পর থেকে সেখানকার চাষের জমির বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া সেখানে রোগের বিস্তারের বিষয়ে আশঙ্কা রয়েছে এবং খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে।

রোববার একটি সংবাদ সম্মেলনে নাইজেরিয়ার মানবিক বিষয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী সাদিয়া উমর ফারুক দেশটির স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী লোকদের সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরো জানান, কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য ও অন্যান্য সহায়তা দিচ্ছে। সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং প্রাথমিক সতর্কতা সত্ত্বেও অনেক রাজ্য সরকার বন্যার জন্য প্রস্তুতি নেয়নি।’