পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন: প্রথম দফার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রায় দেড় হাজার প্রার্থী

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফার ১৫২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রায় দেড় হাজার প্রার্থী। ২৩ শতাংশের বেশি প্রার্থীর বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর অপরাধের মামলা। আর কোটিপতি প্রার্থী আছেন অন্তত সাড়ে ৩শ’।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় বিভিন্ন আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, মালদা, মুর্শিদাবাদসহ রাজ্যটির ১৬ জেলার ১৫২টি বিধানসভা আসনে লড়ছেন ১ হাজার ৪৭৫ জন প্রার্থী।

 

নির্বাচনি আসনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নন্দীগ্রাম, যেখানে লড়ছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও তৃণমূল নেতা পবিত্র কর।
 

খড়গপুর সদর আসনে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের বিপরীতে লড়ছেন তৃণমূলের প্রদীপ সরকার। এক সময়ের প্রতাপশালী কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী লড়ছেন বহরমপুর কেন্দ্র থেকে। 

এবার আলোচনায় এসেছে কোটিপতি প্রার্থীর তালিকা। মোট প্রার্থীদের ২১ শতাংশ এবার কোটিপতি। সবচেয়ে বেশি রাজ্যের শাসক তৃণমূলের। ১৫২ জনের মধ্যে ১০৬ জনের সম্পদের পরিমাণ কোটির অঙ্ক ছাড়িয়েছে।
 
এছাড়াও বিজেপির রয়েছেন ৭১ জন, কংগ্রেসের ৫০ জন এবং বামদের কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা ২৪ জন।
 
অন্যদিকে এডিআর ও ইলেকশন ওয়াচ সংস্থার দাবি, প্রথম দফার মোট প্রার্থীর মধ্যে ৩৪৫ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে মামলা। আগামী ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রথম দফার নির্বাচনে এসব প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ভোটার।



চেঙ্গী নদীতে ফুল ভাসিয়ে পাহাড়ে ‘বিজু’ শুরু

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর সবচেয়ে বড় এই সামাজিক উৎসবকে ঘিরে পুরো পাহাড়ি জনপদে এখন উৎসবের আমেজ।


চাকমা সম্প্রদায়ের রীতি অনুযায়ী, উৎসবের প্রথম দিনটিকে বলা হয় ‘ফুল বিজু’। এদিন সকালে বন-পাহাড় থেকে সংগৃহীত ফুল দিয়ে ঘর সাজানো হয়। এরপর নদী বা খালের পাড়ে গিয়ে কলাপায় করে ফুল ভাসিয়ে গঙ্গা দেবীর পূজা করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এর মাধ্যমে পুরাতন বছরের সব গ্লানি মুছে যায় এবং নতুন বছরের জন্য নিজেরা পবিত্র হন।



এক ট্রাম্পের পাল্লায় পড়ে ন্যাটো কি অস্তিত্ব হারাবে

দেশবাসীর কাছে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলার ব্যাখ্যা দিতে গত বুধবার টেলিভিশনে হাজির হয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেদিনের ভাষণে তিনি ইরানের ওপর তীব্র বোমাবর্ষণ করে দেশটিকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফেরত পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন।

ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য অর্জন হবে বলেও দাবি করেছেন। কিন্তু এ যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরের এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মার্কিনরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।

রয়টার্স/ইপসোসের সম্প্রতিক একটি জরিপে ইরান যুদ্ধ নিয়ে সাধারণ মার্কিনদের ভেতর হতাশা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির চিত্র উঠে এসেছে।

জরিপে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ মানুষ বলেছেন, তাঁরা মার্কিন সেনাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়েও তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক।

প্রায় অর্ধেক মানুষ মনে করেন, এ যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা আরও কমে যাবে এবং ইরানের মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও খারাপ হবে।

জরিপে অংশ নেওয়া চারজনের মধ্যে তিনজনের বেশি মানুষ মার্কিন স্থল সেনাদের ইরানে পাঠানোর বিপক্ষে। ইরানে আক্রমণের একটি বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সেখানে স্থল সেনা পাঠানোর কথা বিবেচনা করার কথা জানিয়েছেন।

ইরান যুদ্ধে সহজ জয়ের উদ্ভট কল্পনা

বাজারবিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের ভাষণ দেওয়ার পরদিন বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যায়। এর কারণে, আগামী সপ্তাহে দেশটিতে খুচরা তেলের দাম গড়ে প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ২৫ ডলার থেকে ৪ দশমিক ৪৫ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ট্রাম্পের হুমকির জবাবে সতর্ক করে ‘আরও বিধ্বংসী, বিস্তৃত ও ধ্বংসাত্মক’ হামলার হুমকি দিয়েছে। এ ছাড়া তেহরান এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধে তাদের সক্ষমতা দেখিয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, বিশ্ববাজারে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের ওপর এর প্রভাব আরও গভীর হবে।




যে কারণে চেঙ্গিস খানের পথে হাঁটছেন নেতানিয়াহু

খ্রিষ্টধর্মের অন্যতম পবিত্র স্থান জেরুজালেমের ‘চার্চ অব দ্য হোলি সেপালকার’। প্রতিবছর পাম সানডে বা খর্জূর রোববারে এখানে পুণ্যার্থীদের ঢল নামে। কিন্তু এবার দৃশ্যপট ছিল ভিন্ন।

যিশুখ্রিষ্টের স্মৃতিবিজড়িত এই পবিত্র দিনে চার্চে প্রবেশের পথে খোদ ক্যাথলিক প্যাট্রিয়ার্ককেও আটকে দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। জেরুজালেমের এই রুদ্ধদ্বার কেবল কোনো প্রশাসনিক বিড়ম্বনা নয়; এটি মূলত ক্ষমতার এক চরম দম্ভ এবং আধিপত্যের নির্লজ্জ প্রদর্শনী।

সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিখ্যাত ইতিহাসবিদ উইল ডুরান্টের একটি উক্তি উদ্ধৃত করে নিজের শাসননীতির মূল সুরটি তুলে ধরেছেন।

তাঁর উদ্ধৃতিতে ছিল চেঙ্গিস খান আর যিশুখ্রিষ্টের তুলনামূলক শ্রেষ্ঠত্বের কথা। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন চেঙ্গিস খানের শক্তি আর যুদ্ধের বিপরীতে যিশুর অহিংস বার্তার কোনো বাড়তি বিশেষত্ব নেই। এটি কেবল তাত্ত্বিক কথা নয়, বরং এটি সেই রাজনৈতিক দর্শনের বহিঃপ্রকাশ, যেখানে মমতা আর সত্যের চেয়ে ‘ব্রুট ফোর্স’ বা পাশবিক শক্তিকেই সর্বোচ্চ আসীন করা হয়েছে।

অথচ খ্রিষ্টীয় দর্শনে আমরা দেখি, যিশু কোনো বিজয়ী সেনাপতি হিসেবে অবতীর্ণ হননি; বরং তিনি এসেছেন মানুষের মুক্তির সওগাত নিয়ে। তিনি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম না করে মানুষকে সত্য ও কল্যাণের আহ্বানে জাগ্রত করেছেন। ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার অন্তিম মুহূর্তেও তিনি প্রতিহিংসার কথা বলেননি।

ইসলামি ঐতিহ্যেও মরিয়মপুত্র ঈসা (আ.) এক অলৌকিক ক্ষমতাধর ও উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন নবী। তিনি রুগ্‌ণকে সুস্থ করতেন, মানবতার মর্যাদা রক্ষা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার দৃষ্টান্ত গড়তেন। কিন্তু আজকের জমানায় মানবিক এই মূল্যবোধের বদলে জায়গা করে নিয়েছে মধ্যযুগীয় বর্বরতায় রাঙানো দম্ভ।




ধর্মকে নারীর অধিকার ও সমতার প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা হচ্ছে: ফওজিয়া মোসলেম

গত এক বছরে দেশে নারীবিদ্বেষী প্রচারণা এবং ঘৃণার সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা ছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার দুঃসাহসও দেখানো হয়েছিল। নির্বাচনে সেই অপশক্তির পরাজয় হয়েছে। তবে সতর্ক থাকতে হবে, সেই শক্তি যাতে আবার সক্রিয় না হয়। গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে আরও তীক্ষ্ণ নজর রাখতে। ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখতে হবে।

আজ শনিবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ৫৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন সংগঠনটির সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম।

বেলা আড়াইটায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠবার্ষিকীর উদ্বোধন করা হয়। এরপর তাঁরা সেখান থেকে র‍্যালি নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আসেন। ‘লিঙ্গীয় বৈষম্য দূর করি, সমতাপূর্ণ সমাজ গড়ি’ স্লোগানে সেখানে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শুরু হয়।

ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারের বিরোধিতা করে ফওজিয়া মোসলেম অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে ধর্মকে নারীর অধিকার ও সমতার প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ বা যৌতুকের মতো বিষয়গুলোকে ধর্মীয় দোহাই দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করার অপচেষ্টা চলছে।

নারী অধিকার বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে ফওজিয়া মোসলেম বলেন, সংবিধানে প্রদত্ত অধিকার এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সনদে (সিডও, বেইজিং প্ল্যাটফর্ম) করা অঙ্গীকারগুলো রক্ষায় রাষ্ট্রকে দায়বদ্ধ হতে হবে। তিনি নারীদের সুরক্ষায় দেশের বিচারিক কাঠামো বা বিচারব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর দাবি জানান। একই সঙ্গে মব কালচার ও নারী আন্দোলনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। তিনি বলেন, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে ৫৬ বছর ধরে লড়াই করা এই সংগঠনটি নতুন প্রজন্মের জন্য এক শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর পূর্ণ ও স্বাধীন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই নারী আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। সব বাধা ডিঙিয়ে অকুতোভয় যোদ্ধার মতো নিজেদের প্রাপ্য অধিকার ও মর্যাদা বুঝে নিতে তিনি তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান।

৫৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম। তিনি মৌলবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে নারীসমাজসহ সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

ঘোষণাপত্রে ধর্ম–বর্ণনির্বিশেষে সম্পত্তিতে নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করাসহ নারীর সুরক্ষায় ১৯টি দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া দেশের রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও নারীসমাজের প্রতি নারীর সুরক্ষায় জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

নারী অধিকার ও অসাম্প্রদায়িক মানবিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কয়েক প্রজন্মের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরেন ওয়াইডব্লিউসিএ অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হেলেন মনীষা সরকার। তিনি বলেন, লৈঙ্গিক বৈষম্য নিরসনে দীর্ঘ সময়ের চ্যালেঞ্জ থাকলেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে সমমর্যাদার বাংলাদেশ গড়ায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

সাংবাদিক এবং কলামিস্ট মাহবুব আজীজ তৃণমূল পর্যায়ে নারী নির্যাতনের রূঢ় বাস্তবতা এবং আইনি জটিলতার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কেবল উচ্চবিত্ত নয়, সব শ্রেণির নারীই নির্যাতনের শিকার। নারীর প্রকৃত মুক্তি ও ক্ষমতায়ন তখনই সম্ভব, যখন সম্পত্তিতে তাঁদের সমান অধিকার নিশ্চিত হবে।

নারী অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠায় ৫৬ বছরের লড়াইয়ের স্মৃতিচারণা করে মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা. মাখদুমা নার্গিস বলেন, নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করলেও সামাজিক মানসিকতা ও লৈঙ্গিক বৈষম্যের শিকল এখনো বিদ্যমান। ঘরে-বাইরে নারীর পূর্ণ মানবিক মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা আজও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য তিনি উত্তরাধিকার আইনে সমান অধিকার নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন।

অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে নারীর অধিকার ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান। তিনি বলেন, মাথাপিছু আয় বাড়লেও যদি দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারীরা সুফল না পান, তবে সেই উন্নয়নকে সফল বলা যাবে না। শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ ন্যায্য মজুরি ও কর্মক্ষেত্রে উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি।

গৃহস্থালি কাজের স্বীকৃতি, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধি, সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখার ওপর জোর দেন সেলিম রায়হান।

মহিলা পরিষদের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার ফজিলা খাতুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও গবেষণা সহকারী মাহামুদ খালিদ এবং উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সৈয়দা সুরঞ্জনা।




ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত সাতটি সামরিক উড়োজাহাজ হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত সাতটি সামরিক উড়োজাহাজ হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৫ই এবং একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান গতকাল শুক্রবার পৃথক ঘটনায় বিধ্বস্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ধ্বংস হওয়া মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজের সংখ্যা বেড়ে সাতে দাঁড়িয়েছে।

গত ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ভুলে তিনটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। অবশ্য তিনটি যুদ্ধবিমানের ছয় ক্রু সদস্যের সবাই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।

গত ১২ মার্চ ইরাকের আকাশসীমায় একটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে মার্কিন বিমানবাহিনীর ছয় সদস্য নিহত হয়েছেন। ওই ঘটনায় একই ধরনের দ্বিতীয় উড়োজাহাজটি পাশের একটি দেশে নিরাপদে অবতরণ করে।

গত ২৭ মার্চ সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানি হামলায় রানওয়েতে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ই-৩ সেন্ট্রি উড়োজাহাজ ধ্বংস হয়। সূত্রগুলো জানিয়েছে, মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি রিফুয়েলিং উড়োজাহাজও ওই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ছাড়া গত মাসে মধ্যপ্রাচ্যের একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান জরুরি অবতরণ করে। ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার হামলায় যুদ্ধবিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




প্রবাসী আয়ে রেকর্ড, মার্চে এলো পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলার

এর আগে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসার রেকর্ডটি ছিল গত বছরের। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল বাংলাদেশ। এ ছাড়া গত বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রবাসীরা ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছিলেন, যা বর্তমানে তৃতীয় সর্বোচ্চ অবস্থান।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, মার্চের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স আসার গতি ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এরমধ্যে রমজান ও ঈদুল ফিতরের কারণে পুরো মাসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

তথ্য বলছে, সদ্যবিদায়ী মার্চে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের মাধ্যমে ৬৪ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। বিশষায়িত দুই ব্যাংকের মধ্যে একটির (কৃষি ব্যাংক) মাধ্যমে এসেছে ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৬৪ কোটি ডলার। আর বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে এক কোটি ২০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স।

তবে এ সময়ে ৭টি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। এসব ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে— বিশেষায়িত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক বা রাকাব, বেসরকারি খাতের আইসিবি ইসলামি ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক, বিদেশি খাতের ব্যাংক আলফালাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।




‘হুথি জ্বরে’ কাঁপছে ইউরোপ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ধারাবাহিক কিছু পোস্টে ‘অপারেশন আস্পাইডস’ জানায় যে, তারা শিপিং শিল্পের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিবন্ধিত হতে এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা চ্যানেলগুলো দিয়ে চলাচলের সময় সহায়তার আবেদন জানাতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

মিশনটি আরও উল্লেখ করেছে, বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষা এবং নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার সমর্থন অনুযায়ী তাদের সম্পদগুলো লোহিত সাগর এলাকায় সতর্ক অবস্থানে মোতায়েন রয়েছে।

এর আগে ২০২৩ সালে ফিলিস্তিনে ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছিল হুথি। সেই থেকে দীর্ঘদিন তাদের আঘাতে জর্জড়িত হয়েছে ইসরাইলি ও পশ্চিমা নৌযানগুলো, যারা মূলত তেল আবিবের গণহত্যা সমর্থন করেছে। ওই সময় হুথি আক্রমণ ঠেকাতে না পারায় লোহিত সাগর দিয়ে বন্ধ হয়ে যায় জাহাজ চলাচল। তখন মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূল হয়ে চলাচল করতে হয়েছে নৌযানগুলোকে। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই এবার নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে ইইউ।




ছেলের ক্ষমতায় আসা নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন আয়াতুল্লাহ খামেনি: মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য

খামেনি মনে করতেন যে তার ছেলে মোজতবা খামেনি নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যথেষ্ট যোগ্য নন।

মনে করা হতো, মোজতবা খামেনি খুব বেশি বুদ্ধিমান নন ও নেতৃত্বের জন্য অযোগ্য।

সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ইসরাইলের হামলায় নিহত এই নেতা তার ছেলের ব্যক্তিগত কিছু সমস্যার বিষয়েও জানতেন।

সিবিএস নিউজ বলছে, এই গোয়েন্দা তথ্য ইতোমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার ঘনিষ্ঠ একটি ছোট পরিসরের দলের লোকজনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

৫৬ বছর বয়সি মোজতবা খামেনিকে গত সপ্তাহে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।




ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর একের পর এক রকেট হামলা

লেবানন-ইসরাইল সীমান্তে চলমান উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়ে ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে নতুন করে রকেট ও কামান থেকে গোলাবর্ষণ করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। রোববার (১৫ মার্চ) ভোররাত থেকেই সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে এই হামলা চালানো হয় বলে গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

রোববারের এই হামলাগুলোর মাধ্যমে দিন শুরু হতেই ইসরাইলি বাহিনীর ওপর অন্তত চারটি বড় ধরনের আক্রমণের দায় স্বীকার করল লেবানন ভিত্তিক এই গোষ্ঠীটি। সীমান্ত এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে গত বেশ কিছু সময় ধরে চলা তীব্র লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই এই হামলাগুলো চালানো হয়েছে।

হিজবুল্লাহর এই আকস্মিক ও উপর্যুপরি হামলায় ইসরাইলি সেনাদের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সীমান্তে অব্যাহত এই সংঘাতের ফলে পুরো অঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।