কেইনের হ্যাটট্রিক, শেষ ম‌্যা‌চে বায়ার্ন মিউনিখের গোল উৎসব কোল‌নের বিরু‌দ্ধে

বুন্ডেসলিগার  আসরের শেষ ম‌্যাচটায় দারুণ এক হ্যাটট্রিক করলেন হ‌্যা‌রি কেইন। ইংলিশ তারকার নৈপুণ্যে কোলনকে ৫-১ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় শনিবার তাদের অন্য দুটি গোল করেন টম বিশফ ও নিকোলাস জ্যাকসন।জসুয়া কিমিখের হেড পাস ছয় গজ বক্সের বাইরে পেয়ে ভলিতে দলকে এগিয়ে নেন কেইন। তিন মিনিট পর তিনিই দারুণ ফ্রি কিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।

পাঁচ মিনিট পর একটি গোল শোধ করেন সাইদ এল মালা। তবে, ২২তম মিনিটে আবার দুই গোলের ব্যবধান করেন বিশফ। ৬৯তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শটে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন কেইন। আর ৮৩তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ান জ্যাকসন।

বুন্ডেসলিগার এক আসরে রবের্ত লেভানদোভস্কির ৪১ গোলের রেকর্ডে দৃষ্টি রেখেছিলেন কেইন, ২০২০-২১ মৌসুমে গড়েছিলেন পোলিশ তারকা। শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য পূরণ না হলেও, মৌসুমটা কেইনের দুর্দান্ত কাটছে। এবারের বুন্ডেসলিগায় তার গোল হলো ৩৬টি, মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫০ ম্যাচে ৫৮টি।




ভিসি অপসারণের দাবিতে ডুয়েটে সংঘর্ষ, বহু শিক্ষার্থী আহত

গাজীপুরে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে উপাচার্য (ভাইস চ্যান্সেলর) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আর এই নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই তা প্রত্যাখ্যান করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ চলমান রয়েছে। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আজ রোববার সকালে নবনিযুক্ত ভিসিকে ‘লাল কার্ড’ দেখিয়ে বিক্ষোভের ডাক দেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সকালে সবাই শহীদ মিনারে জড়ো হলে শুরু হয় ত্রিমুখী সংঘর্ষ। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বহিরাগত ব্যক্তিদের নিয়ে ছাত্রদল তাঁদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং পুলিশ তাঁদেরকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। সংঘর্ষের ঘটনায় বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, ডুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর ডুয়েটের অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই নিয়োগ দিতে হবে। তাঁদের মতে, ডুয়েটের শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা, একাডেমিক কাঠামো ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা ও ধারণা তুলনামূলক বেশি। ফলে ডুয়েটের উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ শিক্ষক থেকে উপাচার্য নিয়োগ অধিক কার্যকর হবে।

একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। শিক্ষার্থীরা বলছেন, ছাত্রদল বহিরাগত ব্যক্তিদের নিয়ে এসে হামলা করেছে। অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন জিএমপি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে রয়েছি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।




এনসিপি কি ডানপন্থি রাজনৈতিক দল হয়ে উঠছে?

 সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন দল থেকে অনেককেই যুক্ত হতে দেখা যাচ্ছে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান থেকে গড়ে ওঠা দল জাতীয় নাগরিক পাটি -এনসিপিতে। কেউ এসেছেন বিএনপি থেকে, কেউ জাতীয় পার্টি, আবার জামায়াত ঘরানার সংগঠন থেকেও কেউ কেউ ঘটা করে যোগ দিয়েছেন এনসিপিতে।

গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ঢাকা তো বটেই, ঢাকার বাইরেও রীতিমতো আয়োজন করে এসব ‘যোগদান অনুষ্ঠান’ করেছে এনসিপি। এরমাধ্যমে দলকে ‘বড় করে তোলার’ একটা চেষ্টা আছে এনসিপির মধ্যে। যদিও ভিন্ন ভিন্ন দল থেকে লোক যুক্ত করলে সেটা আদর্শিকভাবে দলটিকে টানাপোড়েনের মধ্যে ফেলতে পারে এমন আশঙ্কাও আছে। —- বি‌বি‌সি বাংলা

এরমধ্যেই এগার দলীয় জোটে থাকা এবং সাবেক শিবির নেতাদের অনেকের এনসিপিতে যুক্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে, এনসিপি কি আদর্শিকভাবে ডানপন্থার দিকে ঝুঁকছে কি-না। কেউ কেউ এনসিপিকে এমনকি ‘জামায়াতের বি-টিম’ হিসেবেও অভিযোগ করছেন।




যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জ্বালানি সমঝোতা, কী সুবিধা পাবে বাংলাদেশ?

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন।। জ্বালানি খাতে কৌশলগত সহযোগিতার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ স্বাক্ষরের পর এ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা হচ্ছেবিশেষ করে কয়েক মাস আগেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুই দেশের মধ্যে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন বা ১৫০০ কোটি ডলারের জ্বালানি কিনতে বাংলাদেশ সম্মত হওয়ার পরে এখন আবার নতুন করে জ্বালানি খাতের সমঝোতা কেন এ নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

এমওইউ স্বাক্ষরের পর ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে “জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যপূর্ণ করা” এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে “বৃহত্তর জ্বালানি সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের” বিষয়টি উঠে এসেছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিবিসি বাংলাকে বলেছেন এই সমঝোতা স্মারকের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিশেষ করে এলপিজি ও এলএনজির জন্য যুক্তরাষ্ট্র বড় একটি বিকল্প উৎস হতে পারে।




বিভিন্ন উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হয়েছে

মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের শেখ রুস্তম আলীর ধান ক্ষেতে গিয়ে এমন দৃশ্যই দেখা যায়।


হতদরিদ্র এই কৃষক এবার দুই একর ৫০ শতক জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলেন। ভারি বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে তার ক্ষেতের অন্তত দুই একর জমির ধান নুয়ে পড়েছে। আর নুয়ে পড়া সব ধানেই চারা গজিয়েছে। শুধু রুস্তম নয়, পুরো জেলাজুড়ে বেশিরভাগ ধানচাষির ক্ষেতের একই অবস্থা।


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬৮ হাজার ১৭১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে অন্তত এক হাজার ৬৩০ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শেখ রুস্তম আলী বলেন, আড়াই একর জমি করতে এক লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টি ছাড়া স্বাভাবিকভাবে এই ধান কেটে মাড়াই করতে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা লাগত। কিন্তু এখন এই ধান ঘরে তুলতে অন্তত ৮০ হাজার টাকা লাগবে। এবার যে কি হবে জানি না, গরুর জন্য খড় না লাগলে ধানই কাটতাম না বলে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়েন মাঝ বয়সী এই কৃষক।


একই গ্রামের কৃষক মোজাফফের মোল্লা বলেন, ‘নিজের তো জমি নেই। ২০ হাজার টাকায় লিজ নিয়ে এক বিঘা জমি করেছিলাম। বৃষ্টিতে নুয়ে পড়া সব ধানেই চারা হইছে। এলাকার সবার ধানেরই একই অবস্থা, দিনে এক হাজার টাকা দিয়েও কোনো শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। মাদ্রাসায় পড়া ছেলেকে নিয়ে ধান কাটতে নেমেছি।’

দেড় বিঘার মাছের ঘেরে বোরো ধান রোপণ করেন বাগেরহাট সদর উপজেলার উৎকুল গ্রামের চাষি হুমায়ুন কবির। শ্রমিকের অভাবে পানির নিচে থাকা ধান তো উঠাতেই পারেননি, অন্যদিকে ধান ও পচা পানিতে ঘেরের মাছ মরে যাচ্ছে বলেও জানান এই কৃষক।

হুমায়ুন কবির আরও বলেন, ‘ধান তো গেছেই। খড়ও ঘরে যাবে না। আর ঘেরে থাকা চিংড়ি ও সাদা মাছ মরা শুরু করেছে। জাল টেনে কিছু বিক্রি করেছি। এবারের বৃষ্টি আসলে আমাদের সব শেষ করে দিয়েছে।’

এ দিকে যেসব কৃষক অনেক কষ্ট করে ধান ঘরে তুলেছেন, তাদের বিক্রি করতে হচ্ছে অনেক কম দামে। গেল বছর যেখানে খোলা বাজারে ধানের মণ ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে, এবার সেই ধান বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮৫০ টাকা মণে।

এ নিয়ে চাষি আমির হাওলাদার বলেন, ‘এবার ধান অনেক ভালো হয়েছিল। বৃষ্টি ও বাতাসে ধান ঝড়ে যাওয়ার পরেও দুই বিঘা জমিতে ৮০ মণ ধান পেয়েছি। তবে ধান ভিজা থাকায় দাম একদম নেই বললেই চলে। ৭৫০ টাকা মনে বিক্রি করেছি। খরচের টাকাও ওঠা দায় হবে। জেলার অন্তত অর্ধ লাখ বোরো চাষির অবস্থা রুস্তম, হুমায়ুন, আমির ও মোজাফফরের মত। প্রত্যেকেরই এবার লোকসান গুণতে হবে।

কৃষি বিভাগ জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে। সরকার যদি কখনও কোনো প্রণোদনা দেয়, তাহলে এই কৃষকদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের বাগেরহাটের উপ-পরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টির পরে আমরা মাঠ পরিদর্শন করেছি। অনেক কৃষকের ধান নষ্ট হয়ে গেছে। পর্যাপ্ত শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না, মজুরিও অনেক বেশি। আর খোলা বাজারে ধানের দামও বেশ কম। তবে আর বৃষ্টিপাত না হলে, চাষিরা কিছুটা ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।’

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি প্রণোদনা বা সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা দেয়ার সুযোগ হয়, তাহলে এসব চাষিদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।



লেবাননে বোমা হামলায় নিহত শফিকুল, সন্তানের লাশের অপেক্ষায় দিনমজুর বাবা

সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যায় শফিকুল ইসলামের মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শুরু হয় শোকের মাতম।নিহত শফিকুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। পাড়া-প্রতিবেশীরাও এসে ভিড় করছেন শোকাতুর ওই বাড়িতে। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহতের বাবা দিনমজুর আফসার আলী কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘পরিবারে সুখ ফেরাতে এনজিও আর মানুষের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। মাত্র দুই মাস হলো সে গেছে। এখন ঋণের টাকা শোধ করা তো দূরের কথা, ছেলের লাশটা কীভাবে পাব তা জানি না।’ তিনি সরকারের কাছে ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
শফিকুল ইসলাম ছিলেন তার বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। বাড়িতে তার অসুস্থ মা আজেয়া খাতুন, স্ত্রী রুমা খাতুন এবং দুই মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ে তামান্না আকতার মৌ স্থানীয় ভালুকা চাঁদপুর আদর্শ কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী এবং ছোট মেয়ে তন্বী আকতার বৃষ্টি বুধহাটা কাউছানিয়া মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। বাবার মৃত্যুতে দুই মেয়ের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

নিহতের স্ত্রী রুমা খাতুন স্বামীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি এতিম দুই মেয়ের পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

তামান্না আকতারের কলেজের অধ্যক্ষ মোবাশ্বের হক জ্যোতি বলেন, ‘শফিকুল একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা ছিলেন। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে গিয়ে তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। একজন নাগরিক হিসেবে তার মরদেহ রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে দেশে আনা এবং তাঁর অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব।’
 




অবশেষে বাধা কাটল, ১১৮ বিধায়কের সমর্থন পেলেন থালাপতি বিজয়

এর আগে গত বুধবার (৬ মে) ও বৃহস্পতিবারও (৭ মে) গভর্নরের সঙ্গে বিজয়ের বৈঠক হয়েছিল। তবে দুইবারই গভর্নর আর্লেকার বিজয়ের সরকার গঠনের দাবি নাকচ করে দেন। তার যুক্তি ছিল, বিধানসভায় প্রয়োজনীয় সমর্থন এখনো দেখাতে পারেননি টিভিকে নেতা।
 
আরও পড়ুন: বিধানসভা ভাঙলেও সামাজিক মাধ্যমে এখনো পশ্চিমবঙ্গের ‘মুখ্যমন্ত্রী’ মমতা!
 
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম চমক দেখিয়ে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টি জিতে নেয়। নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিয়েই দলটি দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে) ও এবং অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগাম (এআইএডিএমকে)–এর ৬২ বছরের রাজনৈতিক আধিপত্য ভেঙে দেয়।
 
তবে টিভিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসনের চেয়ে ১০টি কম পায়। গত বৃহস্পতিবারের বৈঠকে গভর্নর আর্লেকার বিজয়কে একাধিক প্রশ্ন করেন। এর মধ্যে ছিল, ‘মাত্র ১১৩ জন বিধায়ক নিয়ে কীভাবে সরকার চালাবেন?’ এবং ‘আর কোন দলগুলো আপনাকে সমর্থন দেবে?’
 
বিজয় যে জবাব দেন তা গভর্নরকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। টিভিকের অল্পের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা হাতছাড়া হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানটান নাটকীয়তা।
 
আরও পড়ুন: ডিএমকে ও এআইএডিএমকে সরকার গঠনের চেষ্টা করলে টিভিকে’র ১০৮ বিধায়কই পদত্যাগ করবেন
 
বিজয়ের দল দ্রুতই কংগ্রেসের ৫টি আসনের সমর্থন নিশ্চিত করে। তবে শর্ত ছিল, তামিল দলটি যেন ‘সাম্প্রদায়িক শক্তির’ সঙ্গে জোট না করে। যার ইঙ্গিত স্পষ্ট ছিল আর তা হলো নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। কিন্তু মূল নাটক শুরু হয় ভিসিকে এবং দুই বাম দলের সমর্থন ঘিরে। কারণ নির্বাচনের আগে এই তিন দলই ডিএমকের জোটসঙ্গী ছিল। 




হরমুজে টোল আদায়ের জন্য এজেন্সি খুলেছে ইরান: লয়েডস লিস্ট

এর আগে গত মঙ্গলবার ইরানের ইংরেজি ভাষার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভি জানায়, হরমুজ প্রণালীতে ‘সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য’ ইরান একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। তারা আরও বলে, প্রণালী দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোকে info@PGSA.ir শীর্ষক ইমেইল থেকে নতুন ‘বিধিনিষেধ’ পাঠানো হচ্ছে।
 
আরও পড়ুন: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র হামলা পাল্টা হামলার পর ট্রাম্প বললেন, ‘যুদ্ধবিরতি এখনও বহাল’ 
 
এই নতুন ব্যবস্থা এমন সময় চালু হলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী জোর করে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খুলে দেয়ার স্বল্পমেয়াদি সামরিক অভিযান স্থগিত করেছেন। তার দাবি, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
 
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত অচল করে রেখেছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সাধারণত এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান বারবার ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা হরমুজ প্রণালীতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে চায়। এর মধ্যে রয়েছে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায় এবং সেই অর্থ ভাগাভাগি করা।
 
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নিজস্ব নৌ অবরোধ আরোপ করেছে। আর হরমুজ প্রণালীতে মাঝেমধ্যেই নতুন সংঘর্ষ পরিস্থিতি স্থায়ীভাবে শান্ত করার সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। গত রাতেও এই অঞ্চলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে।  
 
আরও পড়ুন: মার্কিন নৌ অবরোধে কয়েক মাস টিকে থাকতে পারবে ইরান, সিআইএ’র মূল্যায়ন



হরমুজে জাহাজ পাহারা দেয়ার কার্যক্রম ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের

সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রণালীটি কার্যত বন্ধ রয়েছে, যা বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ আটকে দিয়েছে এবং একটি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে।
 
আরও পড়ুন:হরমুজের জলসীমার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব, নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমরা পারস্পরিকভাবে সম্মত হয়েছি যে, অবরোধ পূর্ণমাত্রায় কার্যকর থাকলেও, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্বল্প সময়ের জন্য স্থগিত থাকবে, যাতে চুক্তিটি চূড়ান্ত ও স্বাক্ষরিত হতে পারে কি না তা দেখা যায়।’

তবে এ বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, যেখানে তখন বুধবার ভোর ছিল।
 
ট্রাম্পের পোস্টের কিছুক্ষণ পরেই, মার্কিন অপরিশোধিত তেলের ফিউচার মূল্য ২ দশমিক ৩০ ডলার কমে যায় এবং ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে, যা দুই মাস আগে সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার পর থেকে একটি বহুল আলোচিত সীমা ছিল।
 
এদিকে, কী অগ্রগতি হয়েছে বা এই বিরতি কতদিন স্থায়ী হবে, সে বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো উত্তর দেয়নি।
 
আরও পড়ুন:হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন হামলায় ৫ বেসামরিক নাগরিক নিহতের দাবি ইরানের

রুবিও এবং প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মঙ্গলবার এর আগে বলেছেন যে, প্রণালীটির যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে ইরানকে অনুমতি দেয়া যাবে না।
 
মাইন, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং দ্রুত-আক্রমণকারী নৌযান মোতায়েনের হুমকি দিয়ে ইরান কার্যকরভাবে প্রণালীটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করেছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য প্রহরীসহ যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছে।
 
সূত্র: রয়টার্স



মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে জার্মানির প্রতিক্রিয়া

এদিকে, ‘ইউরোপে, বিশেষ করে জার্মানিতে, মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ও আমাদের উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করে।’ শনিবার সিএনএন-কে দেয়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলেছেন পিস্টোরিয়াস।
 
পিস্টোরিয়াস ইউরোপের নিজস্ব নিরাপত্তার জন্য আরও বেশি দায়িত্ব নেয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন এবং বলেছেন যে এই বিষয়ে জার্মানি সঠিক পথেই রয়েছে।
 
এর আগে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ বলেছিলেন, ইরানের নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অপমানিত’ করছে। তার পরপরই এই সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সেনা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দেন।
 
এরপর ট্রাম্প বলেন, ইরান বিষয়ে তার জার্মান প্রতিপক্ষ কী বলছেন তা তিনি নিজেই জানেন না এবং পরের দিন ঘোষণা করেন যে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য সেনা হ্রাসের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে ও পর্যালোচনা করছে।ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদ থেকেই জার্মানিতে সামরিক উপস্থিতি কমানোর আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন এবং ইউরোপকে নিজেদের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব নিতে বারবার অনুরোধ করেছেন। তবে, এই সপ্তাহের শুরুতে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের সঙ্গে বিতর্কের পর তিনি এই হুমকি আরও বাড়িয়ে দেন।