হিজবুল্লাহ-ইসরায়েলের শত্রুতা কত বছরের, কতবার মুখোমুখি তারা

গত বছরের অক্টোবরে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকেই লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও হামাসের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। দুই পক্ষই আন্তসীমান্ত হামলা চালাতে থাকে। সম্প্রতি সে উত্তেজনা চরমে রূপ নেয়। হিজবুল্লাহ নিশ্চিত করেছে, বৈরুতে আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলার ঘটনায় হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহ নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের দাবি, গত শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে হিজবুল্লাহর সদর দপ্তরের ওপর চালানো হামলায় নাসরুল্লাহ নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় দাহিয়েহ এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর দক্ষিণ ফ্রন্টের কমান্ডার আলী কারাকিসহ আরও কয়েকজন কমান্ডারও নিহত হয়েছেন।

এরপর গতকাল মঙ্গলবার থেকে লেবাননে স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল। হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাতের ঘটনা নতুন কিছু নয়। এ বৈরিতা প্রায় অর্ধ শতকের পুরোনো। এ সময়ের মধ্যে দুই পক্ষ বেশ কয়েকবারই লড়াইয়ে জড়িয়েছে।

১৯৮২ সালে লেবাননের হামলা

১৯৮২ সালে লেবাননে হামলা চালায় ইসরায়েল। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইসরায়েলের ওপর প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) হামলার জবাবে ওই অভিযান শুরু হয়। তখন থেকে লেবাননে সাত বছর ধরে গৃহযুদ্ধ চলেছে।

ইসরায়েল চেয়েছিল তাদের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ থাকবে, এমন একটি সরকার লেবাননের ক্ষমতায় আসুক। সে আশা নিয়ে ইসরায়েল লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল দখল করে নেয় এবং তারা বৈরুতের পশ্চিমাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। বৈরুতের পশ্চিমাঞ্চলে ছিল পিএলওর মূল ঘাঁটি। ইসরায়েলি বাহিনী এলাকাটি অবরুদ্ধ করে ফেলে।

একটি সমঝোতা চুক্তির পর পিএলও তিউনিসিয়াতে সরে যায়। তবে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী লেবাননে থেকে যায়। তারা স্থানীয় সংগঠনগুলোকে গৃহযুদ্ধে সমর্থন জুগিয়ে যেতে থাকে। সাবরা ও শাতিলায় হত্যাকাণ্ডেও ইসরায়েলের ভূমিকা ছিল।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে দুই দিনে দুই হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার ফিলিস্তিনি শরণার্থী এবং লেবাননের বেসামরিকদের হত্যা করেছিল লেবাননের ডানপন্থী মিলিশিয়া গোষ্ঠী।

ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা ঠেকাতে লেবাননের কয়েকটি সংগঠন গড়ে উঠেছিল। এর মধ্যে একটি ছিল শিয়া মুসলিমদের সংগঠন।

হিজবুল্লাহ গঠনের চিন্তাটি এসেছিল ইরান–সমর্থিত মুসলিম নেতাদের পরিকল্পনায়। মূলত লেবানন থেকে ইসরায়েলকে বিতাড়িত করার লক্ষ্য নিয়ে হিজবুল্লাহ নামক সংগঠনটি গড়ে উঠেছিল। বেকা উপত্যকা ও বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকার তরুণ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সমর্থন নিয়ে হিজবুল্লাহ দ্রুতই লেবাননের একটি উল্লেখযোগ্য শক্তিতে পরিণত হয়।

১৯৮৩ সালের হামলা

১৯৮২ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত লেবাননে বিদেশি সেনাদের কয়েকটি হামলা হয়েছে। বিভিন্ন গোষ্ঠী এসব হামলার দায় স্বীকার করেছে। তবে অনেক হামলার জন্য হিজবুল্লাহকে দায়ী করা হয়ে থাকে।

১৯৮৩ সালের ২৩ অক্টোবর বৈরুতের বেশ কয়েকটি ব্যারাক ভবনে বোমা হামলা হয়। ওই হামলায় তিন শতাধিক ফরাসি ও মার্কিন শান্তিরক্ষী নিহত হন।

ইসলামিক জিহাদ গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করে। অনেকের বিশ্বাস, হিজবুল্লাহরই একটি অংশ এই ইসলামিক জিহাদ গোষ্ঠী।

১৯৮৫ সালে হিজবুল্লাহর উত্থান

১৯৮৫ সালে হিজবুল্লাহর লড়াই করার ক্ষমতা এতটাই বেড়ে যায় যে তারা মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে একজোট হয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে লেবাননের লিতানি নদী–তীরবর্তী এলাকা থেকে সরে যেতে বাধ্য করে।

লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ ঘোষণা করে ইসরায়েল। সে নিরাপত্তা অঞ্চলটির দায়িত্ব দেওয়া হয় খ্রিষ্টান আধিপত্যশীল মিলিশিয়া বাহিনী সাউথ লেবানন আর্মিকে (এসএলএ)। এটি ইসরায়েলের ছায়া বাহিনী হিসেবে পরিচিত। ২০০০ সালে ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের দখলদারকে সমর্থন জানিয়ে গেছে তারা।

১৯৯২ সালের রাজনীতি

১৯৯২ সালে লেবাননের গৃহযুদ্ধের (১৯৭৫-১৯৯২) অবসান হওয়ার পর হিজবুল্লাহ সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করে। ১২৮ আসনবিশিষ্ট পার্লামেন্টে আটটি আসনে জয় লাভ করে তারা।

এরপর হিজবুল্লাহর আসনসংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পার্লামেন্টে ৬২টি আসন হিজবুল্লাহ ও তাদের মিত্রদের দখলে।

নিজেদের অবস্থান শক্ত—এমন এলাকাগুলোতে বিভিন্ন রকমের সামাজিক কর্মসূচি পরিচালনা করে হিজবুল্লাহ। এতেও তাদের প্রভাব বাড়ছে।

১৯৯৩ সালে ৭ দিনের যুদ্ধ

১৯৯৩ সালের জুলাইয়ে লেবাননে হামলা করে ইসরায়েল। তারা এর নাম দেয় ‘অপারেশন অ্যাকাউন্টেবিলিটি।’ লেবাননে একটি শরণার্থীশিবির ও গ্রামে ইসরায়েলি হামলার জবাবে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে পাল্টা হামলা চালানোর পর ওই অভিযান শুরু হয়েছিল। ওই সংঘাত সাত দিন স্থায়ী হয়েছিল।

ওই সংঘাতে লেবাননের ১১৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫০০ জনের বেশি। সংঘাত চলাকালে হাজারো ভবন ধ্বংস হয়েছে।

১৯৯৬ সালের এপ্রিলে আগ্রাসন

তিন বছর পর ১৯৯৬ সালের ১১ এপ্রিল ইসরায়েল আবারও লেবাননে হামলা শুরু করে। এই অভিযান ১৭ দিন স্থায়ী হয়েছিল। অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল হিজবুল্লাহকে লিতানি নদীর ওপারে হটানো। ইসরায়েল চেয়েছিল হিজবুল্লাহকে হটিয়ে এমন দূরবর্তী অবস্থানে নিয়ে যেতে, যেন হিজবুল্লাহ আর ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে না পারে।

ইসরায়েলের ওই অভিযানকে লেবাননের নাগরিকেরা এপ্রিল অ্যাগ্রেসন (এপ্রিল হামলা) নাম দিয়েছিলেন। আর ইসরায়েলিরা একে ডাকতেন ‘অপারেশন গ্রেপস অব র‌্যাথ’ বলে। মার্কিন লেখক জন স্টেইনবেকের ১৯৩৯ সালের উপন্যাস দ্য গ্রেপস অব র‌্যাথ-এর নামানুসারে এ নামকরণ করা হয়েছিল।

সামরিক ও বেসামরিকভাবে দুই পক্ষেরই উল্লেখজনক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং লেবাননের অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

১৮ এপ্রিল লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে কানা গ্রামের কাছে জাতিসংঘ চত্বরে গোলা হামলা চালায় ইসরায়েল। প্রায় ৮০০ বাস্তুচ্যুত বেসামরিক নাগরিক সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

হামলায় কমপক্ষে ৩৭ শিশুসহ ১০৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ১১৬ জন। ফিজির চার সেনাসদস্যও তখন গুরুতর আহত হন। তাঁরা জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী শান্তিরক্ষী বাহিনীতে নিযুক্ত ছিলেন।

২০০৬ সালের জুলাই যুদ্ধ

২০০৬ সালে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হিজবুল্লাহর অভিযানে তিন ইসরায়েলি সেনা নিহত হন। আরও দুই ইসরায়েলি সেনাকে আটকে রাখে হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলি সেনাদের ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে সে দেশে কারাবন্দী থাকা লেবাননের নাগরিকদের মুক্তি দাবি করেছিল হিজবুল্লাহ।

পরে একই মাসে জুলাই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। ওই যুদ্ধ ৩৪ দিন স্থায়ী হয়েছিল। লেবাননের প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ মারা যান এবং ৪ হাজার ৪০০ জন আহত হন। এর বেশির ভাগই বেসামরিক নাগরিক। ইসরায়েলও তাদের ১৫৮ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছিল। তাদের বেশির ভাগই সেনাসদস্য।

২০০৯ সালের ইশতেহার হালনাগাদ

ইসরায়েলের প্রতি বিরোধিতা ও ইরানকে সমর্থন—এ নীতিতে চলতে থাকে হিজবুল্লাহ। এর মধ্যে ২০০৯ সালে হিজবুল্লাহ তাদের ইশতেহার হালনাগাদ করে। তারা নিজেদের এমন একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় একীভূত করার প্রতিশ্রুতি দেয়, যেখানে সাম্প্রদায়িক স্বার্থ নয় বরং জাতীয় ঐক্য প্রতিফলিত হবে। ১৯৮৫ সালে লেখা খোলা চিঠির পর এটি ছিল হিজবুল্লাহর দ্বিতীয় ঘোষণাপত্র। ১৯৮৫ সালের খোলা চিঠিতে তারা সরাসরি দেশের লক্ষ্যগুলোর বিরোধিতা করেছিল।

২০০৯ সালের ইশতেহারে হিজবুল্লাহ তাদের ইসরায়েলবিরোধী প্রতিরোধকে জোরালোভাবে তুলে ধরেছে। এতে হিজবুল্লাহ কীভাবে লেবাননের সব স্তরে পরিণত হচ্ছে, তা দেখিয়েছে তারা।

২০১২ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ

২০১২ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে দেশটির সরকারকে সমর্থন জানায় হিজবুল্লাহ। তারা ওই গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। তাদের এমন পদক্ষেপকে আরব সমর্থকদের অনেকে ভালোভাবে নেননি। এমনকি সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন সুভি আল তুফায়লিও এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছিলেন।

অবশ্য হিজবুল্লাহর সমর্থকেরা দাবি করেছিলেন, এই পদক্ষেপ লেবাননে সশস্ত্র গোষ্ঠী বিশেষ করে আইএসের মতো সংগঠনগুলোর আগ্রাসন রোধে ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি এই পদক্ষেপের কারণে যুদ্ধক্ষেত্র বিষয়ে বড় ধরনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে হিজবুল্লাহ।

২০২৩ থেকে ২০২৪-গাজা

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজার মানুষের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রকেট হামলা শুরু করে হিজবুল্লাহ।

গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় হামাস। এতে প্রায় ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হন। প্রায় আড়াই শ জনকে বন্দী করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনার পরপরই গাজায় সর্বাত্মক হামলা শুরু করে ইসরায়েল।

এর জবাবে সেদিন থেকেই গাজা উপত্যকায় হামলা শুরু করে ইসরায়েল।

লেবানন ও সিরিয়ায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে হিজবুল্লাহ ও হামাসের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা নিহত হন।

২০২৪ সালের ১ এপ্রিল দামেস্কে ইরানের কনস্যুলার ভবনে হামলার ঘটনায় ইসরায়েলকে দায়ী করা হয়। দুই সপ্তাহ পর ইরান যখন ইসরায়েলকে পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে, তখন তেহরানকে ব্যাপকভাবে সমর্থন জুগিয়ে গেছে হিজবুল্লাহ।

গত ২৮ জুলাই ইসরায়েল অধিকৃত গোলান মালভূমিতে একটি ফুটবল মাঠে হামলায় ১২ সিরীয় শিশু ও তরুণ নিহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ—দুই পক্ষই দাবি করে এ ঘটনায় তারা জড়িত নয়। এর কয়েক দিন পর বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর কমান্ডার ফুয়াদ শোকর হত্যার শিকার হন। তখন এ হত্যাকাণ্ডকে গোলানে ফুটবল মাঠের ঘটনার পরিণতি বলে উল্লেখ করে ইসরায়েল।

ফুয়াদ শোকর নিহত হওয়ার পরপরই হামাসের রাজনৈতিক নেতা ইসমাইল হানিয়েও নিহত হন। এই দুই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা তৈরি হয়।

ফুয়াদ শোকরের হত্যার বদলা হিসেবে আগস্টের শেষের দিকে রকেট হামলা চালায় হিজবুল্লাহ।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর-পেজার বিস্ফোরণ

২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর লেবাননে হিজবুল্লাহ সদস্যদের ব্যবহৃত কয়েক হাজার পেজার যোগাযোগযন্ত্রে বিস্ফোরণ হয়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ইসরায়েলকে দায়ী করে হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতিশোধের হুমকি দেয় তারা। মূলত ১৭ সেপ্টেম্বর এই পেজার বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। গত সপ্তাহ থেকে রাজধানী বৈরুতসহ লেবাননের বিভিন্ন জায়গায় হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে জোরালো হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েলি বাহিনী। লেবানন সরকারের হিসাব অনুসারে, গত কয়েক দিনের হামলায় দেশটিতে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।




পা ভেঙে হাসপাতালে ইসরাইলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রী গ্যান্টজ

ইসরাইলের যুদ্ধকালীন ক্যাবিনেট মন্ত্রী বেনি গ্যান্টজ দক্ষিণ ইসরাইলের কিবুটজ ইয়াদ মোর্দেচাইয়ের কাছে ক্রস-কান্ট্রি বাইক রাইডের সময় দূর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।

তার অফিসের উদ্ধৃতি দিয়ে হিব্রু মিডিয়া একটি বিবৃতিতে বলেছে, সোমবারের এ দূর্ঘটনায় গ্যান্টজের পা ভেঙেছে।

আশকেলনের বারজিলাই হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর গ্যান্টজকে আরও পরীক্ষার জন্য তেল আবিবের শেবা মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

ন্যাশনাল ইউনিটি দলের প্রধান ও চরমপন্থী এ নেতাকে আজকেই হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল।

 




স্কটল্যান্ডের প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

স্কটল্যান্ডের প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী হামজা হারুন ইউসাফ পদত্যাগ করেছেন। বিরোধীদের প্রস্তাবিত অনাস্থা ভোটে হারতে পারেন এমন একটি শঙ্কা থেকে সোমবার তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

স্কটিশ গ্রিনস পার্টির সঙ্গে জোট করে স্কটল্যান্ডে সরকার গঠন করেছিল হামজার দল স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি। তবে এই দলের সঙ্গে সম্প্রতি তার দল স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির জোট ভেঙে যায়। এরপর তাকে ক্ষমতা থেকে হটাতে দুটি অনাস্থা ভোটের ডাক দেন বিরোধীরা। একটি ফার্স্ট মিনিস্টার ও আরেকটি স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির সরকারের বিরুদ্ধে। এসব অনাস্থা ভোটে হামজা হেরে যেতে পারেন, এটা অনেকটা নিশ্চিত। তাই অনাস্থা ভোটের আগেই পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন তিনি।

সোমবার এক ভাষণে হামজা বলেছেন, আমি আমার মূল্যবোধ ও নীতি নিয়ে ব্যবসা করতে চাই না। অথবা ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য যার-তার সঙ্গে চুক্তি করতে চাই না। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে হামজা বলেছিলেন, বিরোধীদের ডাকা অনাস্থা ভোটে তিনি জিততে পারবেন বলে বেশ আত্মবিশ্বাসী। তবে সোমবারের মধ্যেই নিজের সংখ্যালঘু সরকারকে শক্তিশালী করতে অন্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

গত বছর স্কটল্যান্ডের ক্ষমতাসীন স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) নেতা নির্বাচিত হন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত হামজা ইউসেফ। এরপর সাবেক ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টার্জেনের স্থলাভিষিক্ত হন তিনি। স্কটল্যান্ডের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে ফার্স্ট মিনিস্টার নির্বাচিত হয়েছিলেন হামজা। হামজার জন্ম স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয়। তবে তার পূর্বপুরুষেরা উনিশ শতকের ষাটের দশকে পাকিস্তানের পাঞ্জাব থেকে স্কটল্যান্ডে পাড়ি জমান। অবশ্য তার বাবা মুজাফফর ইউসুফের জন্ম পাকিস্তানে হলেও মা সায়িস্তার জন্ম কেনিয়ায়। সূত্র: ডন।




গাজায় যুদ্ধাপরাধ, আইসিসি’র গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে আতঙ্কে ইসরাইলি নেতারা

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় গণহত্যা এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং বেশ কয়েকজন ইসরায়েলি রাজনৈতিক ও সামরিক নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির করতে যাচ্ছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।

তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইলের বিচার মন্ত্রণালয় এবং সেনার আইনজীবীরা এটি যাতে না ঘটে তার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছেন। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, কৌশলগত বিষয়ক মন্ত্রী রন ডার্মার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোও পরোয়ানা জারি করতে বিলম্ব বা প্রতিরোধ করতে হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটর করিম খানকে বোঝানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু এটা স্পষ্ট নয় যে, তারা কতটা সফল হয়েছে।

ইসরাইলি কর্মকর্তারা বলছেন যে, তারা মনে করেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট এবং ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ হারজল হালেভির বিরুদ্ধে এ সপ্তাহের কোনো এক সময় পরোয়ানা দেয়া হবে। তাদের নিচের কর্মকর্তারা রেহাই পাবেন।

ইসরাইলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা মামলার শুনানিকারী আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের বিপরীতে, আইসিসি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন, রাশিয়া, ইরান এবং বেশিরভাগ আরব দেশের মতো, ইসরাইল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের কর্তৃত্বকে স্বীকৃতি দেয় তবে আইসিসি নয়।

যদি পরোয়ানা জারি করা হয়, তাহলে প্রতিটি আইসিসি সদস্য রাষ্ট্র (মোট ১২৩) যদি আসামীরা তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে তবে আসামীদের গ্রেপ্তার করে হেগের কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য। যদিও আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আপিল করার কোনো উপায় নেই, যে কোনো দেশ তাত্ত্বিকভাবে আদালতকে বলতে পারে যে, সে নিজেই মামলা পরিচালনা করছে।

 

সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রয় শনডর্ফের মতে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলে ইসরাইলের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপ হতে পারে। ‘এই ওয়ারেন্টগুলো ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক আইনের বিরুদ্ধে লঙ্ঘনকারী হিসাবে বিবেচিত দেশগুলির সাথে গোষ্ঠীভুক্ত করবে এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে অন্যান্য সমস্ত মামলার শীর্ষে আসবে,’ শনডর্ফ বলেছেন।

ইসরাইলি কর্মর্তাদের বিরুদ্ধে কখনও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়নি। কিন্তু ২০২৩ সালের মার্চ মাসে, আইসিসি ইউক্রেনে সম্ভাব্য রাশিয়ান যুদ্ধাপরাধের তদন্তের অংশ হিসাবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে একটি পরোয়ানা জারি করেছে। ফলস্বরূপ, পুতিন সেসব দেশে যেতে পারবেন না যেখানে তিনি মনে করেন যে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। সূত্র: হারেৎজ।

 




লোভনীয় অফার, অনলাইনে সক্রিয় প্রতারক চক্র

ঘরে বসে বাড়তি আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ডিজিটাল প্রতরণায় সক্রিয় হয়েছে বেশ কিছু চক্র। অনলাইনে আয়ের কথা বলে যারা মূলত গ্রাহকদের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সম্প্রতি এদের তৎপরতা বেড়েছে। অপরাধী সনাক্তে সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে শক্তিশালী করছে পুলিশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন প্রতরণার কবল থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে।

আপনি নির্বাচিত হয়েছেন, ঘরে বসে দৈনিক দেড় থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা আয় করুন! কিংবা কোনো বিদেশী ফোন করে লোভনীয় বেতনে কাজের অফার দেন। সম্প্রতি এমন ম্যাসেজ বা ফোন কল পাচ্ছেন অনেকে। অথচ এর পুরোটাই প্রতারক চক্রের কাজ।

ভোলার মনপুরায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিক্রয় বিভাগে কাজ করেন সাইফুল রহমান ইমন। গেল মাসে অনলাইনে আয়ের লোভনীয় অফারের ম্যাসেজ আসে তার ফোনে। প্রথমে সহজ কিছু কাজ করে পাঁচ/ছয়শো টাকা আয়ও করেন। তাদের বিশ্বাস করে প্রথমে দেড় হাজার ও পরে ধার করে আরও পনেরো হাজার টাকা জমা দেন তিনি। এরপর থেকেই তার টাকা ফেরত পাচ্ছেন না ইমন। প্রায় ২৮ হাজার টাকা প্রতারক চক্রটি হাতিয়ে নিয়েছে বলেন জানান তিনি

চক্রটির ফাঁদে পা দিয়ে আর্থিক ও সামাজিক ভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ইমনের মতো অনেকেই।

সম্প্রতি সাইবার প্রতরণার এমন অভিযোগ বাড়লেও এখনও কাওকে শনাক্ত করতে পারেনি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। সাধারণ মানুষকে শর্টকাটে বড়লোক হওয়ার প্রলোভন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ পুলিশের।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের নতুন ডিসি মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘সাইবার ক্রাইম একটি ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম। ক্রাইমগুলো দেশের বাইরে থেকে সাধারণত হয়ে থাকে। সেই আসামিদের দেশে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে আইনগত অনেক জটিলতা রয়েছে। এ কারণে আসলে ভুক্তভোগীকেই আগে সচেতন হতে হবে। নিজের লোভকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’

প্রতারণা রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা ও সাধারণের সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা ।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, ‌‘প্রতারণার বিষয়ে অনেক অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে আইনের কাছে সোপর্দ করতে গেলে যে ধরনের মানব সম্পদ এবং ডিজিটাল যন্ত্রপাতি পুলিশের দরকার তা সংখ্যায় কম আছে। আর সবচেয়ে বড় কথা প্রযুক্তিগত অপরাধ প্রযুক্তি দিয়েই মোকাবিলা করতে হবে।’




গর্ভপাতকে সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিল ফ্রান্স

র্ভপাতকে নারীদের সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে ‍তুলে ধরে ফ্রান্সের পার্লামেন্টে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে নিজেদের মৌলিক আইনে নারীদের গর্ভধারণ স্বেচ্ছায় বন্ধ করার লক্ষ্যে আইন প্রণয়নের বিষয়ে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল ফ্রান্স। খবর এএফপির।

ফ্রান্সের পার্লামেন্টের উভয়কক্ষের এক বিশেষ বৈঠকে তিন-পঞ্চমাংশ ভোট নিয়ে প্রস্তাবটি পাস হয়। ৭৮০ জন আইনপ্রণেতা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন আর ৭২ জন ভোট দেন এর বিপক্ষে। প্রস্তাবটি পাস হওয়ার পর দাঁড়িয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন ডেপুটিরা।

প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আইন পাসের এই উদ্যোগকে ‘ফ্রান্সের গৌরব’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এটি সারা বিশ্বের জন্য একটি বার্তা। আসছে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে সামনে রেখে তা বিশেষভাবে উদযাপনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়।

এ উপলক্ষে ‘আমার শরীর, আমার পছন্দ’ শ্লোগানকে তুলে ধরে বর্ণিল আলোকসজ্জা করা হয় আইফেল টাওয়ারে।

আইনসভার সামনে প্রস্তাবটি উত্থাপন করে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আত্তাল বলেন, ‘এটি মূল পদক্ষেপ..এই পদক্ষেপের কথা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

এদিকে, ভার্সেইলিতে গর্ভপাতের বিরোধিতাকারীরা সাংবিধানিক পরিবর্তনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।

ফ্রান্সের নাগরিকরা যাতে নতুন করে জীবনের আস্বাদন পেতে পারে সে লক্ষ্যে ক্যাথলিক বিশপরা একদিনের উপবাস ও প্রার্থনার ডাক দিয়েছেন।

রোম থেকে ভ্যাটিকানের এক বার্তায় বলা হয়েছে, মানুষের জীবন নেওয়ার কোনো অধিকার নেই অন্যের।

তবে গর্ভপাতের পক্ষে থাকা শত শত সমর্থক রাজধানী প্যারিসে বিশাল টেলিভিশন পর্দায় আইন পাসের এই ঘটনার সাক্ষী হিসেবে উল্লাস প্রকাশ করে।

 




সোমালিয়ার ৩৫ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ, ১৭ নাবিক উদ্ধার

সোমালিয়ার ৩৫ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ, ১৭ নাবিক উদ্ধার

শনিবার ভারতীয় নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে। খবর এনডিটিভির।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪০ ঘণ্টা ধরে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ আইএনএস কলকাতা এমভি রুয়েনের মাধ্যমে জলদস্যুদের ছিনতাইচেষ্টা ভণ্ডুল করে দেয়। এটি ভারতীয় উপকূল থেকে ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দূরে নোঙর করা ছিল। এই অভিযানে আইএনএস সুভদ্র নামের আরেকটি জাহাজের ভারতীয় জাহাজও অংশ নেয়।
মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে এক পোস্টে ভারতীয় নৌবাহিনী জানিয়েছে, মাল্টার পতাকাবাহী বাল্ক কার্গো জাহাজ এমভি রুয়েনে থাকা ৩৫ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছে। আর জাহাজটি অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং মাদক রয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করা হয়েছে।
এই জাহাজটি গত ডিসেম্বরে ছিনতাই করে সোমালি জলদস্যুরা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌবাহিনী জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে সোমালিয়ার উপকূলে বাংলাদেশের পতাকাবাহী যে কার্গো জাহাজ ছিনতাই করা হয়েছে, তার জন্য এ জাহাজটিকে জলদস্যুরা ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে থাকতে পারে।
গত ৪ মার্চ বাংলাদেশের এসআর শিপিংয়ের ১৩ মিটার গভীরতার জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ মোজাম্বিকের মাপুতু বন্দর থেকে কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশে রওনা দেয়। এর পর গত মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে খবর আসে, ভারত মহাসাগরে জাহাজটি ছিনতাই হয়েছে।
জলদস্যুদের উৎপাতের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ভারত মহাসাগরে অস্ত্রধারী নিরাপত্তারক্ষীসহ জাহাজ চলাচলের নিয়ম। এছাড়া জাহাজের চারপাশে তারকাঁটার বেষ্টনী, হাইস্পিড ওয়াটারগানসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু দস্যুদের কবলে পড়া এমভি আবদুল্লাহতে এসব ব্যবস্থার কোনোটিই নেওয়া হয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কয়লাবোঝাই জাহাজটির পানির ওপরের অংশের উচ্চতা কম হওয়ায় খুব সহজেই এটিতে চড়ে বসে দস্যুরা। যার ফলে অনেকটা বিনা বাধায় জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা।



ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ‘পূর্ণ’ জাতিসংঘ সদস্যপদ সমর্থন করে চীন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ‘পূর্ণ’ জাতিসংঘ সদস্যপদ সমর্থন করে চীন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

চীনের শীর্ষ কূটনীতিক বৃহস্পতিবার বলেছেন, বেইজিং জাতিসংঘে একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ‘পূর্ণ’ সদস্যপদ সমর্থন করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক সদস্য হিসেবে সমর্থন করি।

ওয়াং বলেন, ‘গাজার বিপর্যয় আবারও বিশ্বকে মনে করিয়ে দিয়েছে যে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড যে দীর্ঘকাল ধরে দখল করা হয়েছে তা আর উপেক্ষা করা যাবে না।
ফিলিস্তিনি জনগণের দীর্ঘদিনের লালিত আকাঙ্ক্ষা একটি স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন আর এড়ানো যাবে না। যুগ যুগ ধরে ফিলিস্তিনি জনগণের সহ্য করা অবিচার সংশোধন না করে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সেটি চলতে পারে না।
গত বছরের অক্টোবরে ইসরাইল-হামাস যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে আসছে বেইজিং। চীন ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনের প্রতি সহানুভূতিশীল ও ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের সমর্থনকারী। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুদ্ধের সমাধানের জন্য একটি ‘আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনের’ আহ্বান জানিয়েছেন।



সরে দাঁড়ালেন হ্যালি, রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন নিশ্চিত হলো ডোনাল্ড ট্রাম্পের। সাউথ ক্যারোলাইনার সাবেক গভর্নর নিকি হ্যালি ছিলেন ট্রাম্পের সবশেষ প্রতিদ্বন্দ্বী।

স্থানীয় সময় আজ বুধবার সকালে সাউথ ক্যারোলাইনার চার্লসটনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন হ্যালি। এতে রিপাবলিকান পার্টি থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রার্থিতা নিশ্চিত হচ্ছে। আর ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে থাকছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। খবর সিএনএনর

‘সুপার টুয়েসডেতে’ অনুষ্ঠিত ১৫টি অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান পার্টির প্রাইমারিতে (দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের) ১৪টিতে জয় পান সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একমাত্র ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যে জয় পেয়েছিলেন তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যালি।

ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকার সময় হ্যালিকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের দূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন দৌড়ে থাকা এক ডজন প্রার্থীর মধ্যে হ্যালি ট্রাম্পের সবশেষ প্রতিদ্বন্দ্বী, যিনি সরে দাঁড়ালেন। সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেছেন, যারা ট্রাম্পকে সমর্থন করেননি, তাদের ভোট তাকে অর্জন করে নিতে হবে।

হ্যালির একজন উপদেষ্টা বলেন, যদিও সুপার টুয়েসডেতে হ্যালির টিম ভারমন্টে জয় পেয়েছে এবং ভার্জিনিয়ার শহরতলিতে শক্ত সমর্থন দেখাতে পেরেছে। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকতে যে পরিমাণ ভোট পাওয়া দরকার, তা পাওয়া যায়নি।

এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে সুপার টুয়েসডেতে ১৪টি অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারিও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর সব কটিতে জয়ী হয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে আমেরিকান সামোয়া অঞ্চলে অনুষ্ঠিত ককাসে হেরে গেছেন তিনি।

আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী বাইডেন যাঁর কাছে হেরেছেন, তিনি খুব স্বল্প পরিচিত একজন ব্যবসায়ী। তাঁর নাম জ্যাসন পামার।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ছোট অঞ্চল আমেরিকান সামোয়ায় ডেমোক্র্যাটদলীয় ককাসে ভোট পড়েছে ৯১টি। এর মধ্যে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী পদে বাইডেনের প্রতিদ্বন্দ্বী জ্যাসন পামার পেয়েছেন ৫১টি ভোট। আর বাইডেন পেয়েছেন ৪০টি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে পামার লিখেছেন, ‘আমেরিকান সামোয়ায় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী পদের প্রাথমিক বাছাইয়ে আমার বিজয়ের খবর ঘোষণা করতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি।’ তাঁকে সমর্থন দেওয়ায় স্থানীয় ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

আমেরিকান সামোয়ায় জয়লাভের মধ্য দিয়ে জ্যাসন পামার শুধু চারজন প্রতিনিধির সমর্থন নিশ্চিত করেছেন। সেদিক থেকে প্রার্থী মনোনয়নের দৌড়ে তাঁর অবস্থান বাইডেনের ধারেকাছে নেই। সামোয়ায় হারলেও বাইডেনের প্রার্থিতা পাওয়ার ক্ষেত্রে এর কোনো প্রভাব পড়বে না বললেই চলে।

এর আগে ২০২০ সালে আমেরিকান সামোয়া অঞ্চলে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক বাছাইয়ে জয়ী হয়েছিলেন ধনকুবের মাইকেল ব্লুমবার্গ। যদিও তিনি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাননি।

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে মিশিগান অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে লক্ষাধিক নিবন্ধিত ভোটার ‘আনকমিটেড’ (ইচ্ছুক নই) ভোট দেন। ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে বাইডেনের নিরঙ্কুশ সমর্থনের প্রতিবাদে এমন অবস্থান নেন এই ভোটাররা।




ইরানে ইসরায়েলি গুপ্তচরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ইরানে ইসরায়েলি গুপ্তচরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি ওয়ার্কশপে ব্যর্থ ড্রোন হামলার দায়ে ইসরায়েলি গুপ্তচর সংস্থা বা মোসাদের এক সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। রবিবার (৩ মার্চ) মোসাদের ওই গুপ্তচরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে ইরান। ২০২৩ সালের ২৮ জানুয়ারি ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ইস্ফাহানস্থ একটি ওয়ার্কশপে কয়েকটি ছোট্ট ড্রোনের সাহায্যে হামলা চালানো হয়।

কিন্তু আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সহযোগিতায় ওই হামলা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। একটি ড্রোনে আঘাত হানা হয়েছে এবং অন্য দু’টি ড্রোনকে কৌশলে আটকে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এরপর ওই দু’টি ড্রোনও বিস্ফোরিত হয়েছে।
এ সম্পর্কে ইস্ফাহানের বিচার বিভাগের প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম জাফারি বলেছেন, এই ব্যর্থ হামলার পর মোসাদের ওই গুপ্তচর নিজের পরিচয় গোপন করে ইরান থেকে পালিয়ে যায়। এর ১৩ দিন পর ইরানের বিচার বিভাগের সহযোগিতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রচেষ্টায় তাকে একটি প্রতিবেশী দেশ থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর আদালতের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া শেষে গতকাল (৩ মার্চ) মোসাদের ওই সন্ত্রাসীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।