অবশেষে মুক্তি মিলল মানবাধিকারকর্মী লুজাইনের

সৌদি আরবের প্রখ্যাত নারী মানবাধিকারকর্মী লুজাইন আল হাতলুল মুক্তি পেয়েছেন।এক হাজার এক দিন কারাগারে থাকার পর বুধবার বিকেলে ছাড়া পান তিনি।

রিয়াদের এক বিচারকের অনুমোদনের পর বুধবার বিকেলে মুক্তি দেওয়া হয় তাকে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সৌদি নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেয়ার পক্ষে আন্দোলনকারীদের মধ্যে অন্যতম লুজাইন আল হাতলুল। গত বছরের ডিসেম্বরে তাকে বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করে জনশৃঙ্খলা নষ্টের অপরাধে অভিযুক্ত করে পাঁচ বছর আট মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। তবে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই অধিকারকর্মীকে মুক্তি দিতে বার বার আহ্বান জানানো হয়।

অবশ্য সৌদি আরবের পক্ষ থেকে লুজাইনের আটক, বিচার ও মুক্তি নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

বেশ কিছু শর্তের অধীনে মুক্তি পান লুজাইন আল হাতলুল। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে কারাগারে তার সঙ্গে আচরণ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না এবং সৌদি আরব ছেড়ে যেতে পারবেন না। শর্ত ভঙ্গ করলে তার কারাদণ্ড পুনর্বহাল করা হতে পারে।

নিজের কারাদণ্ডের প্রতিবাদে আমরণ অনশন শুরু করেছিলেন হাতলুল। এছাড়া, অন্য নারী বন্দিদের সঙ্গে তিনিও বিচারকের কাছে দাবি করেন জিজ্ঞাসাবাদের সময় মুখোশ পরিহিত পুরুষেরা তাদের ওপর নির্যাতন ও যৌন নিপীড়ন চালান। তবে গত মঙ্গলবার একটি আপিল আদালত নির্যাতনের অভিযোগ খারিজ করে দেয় বলে জানায় তার পরিবার। সূত্র: গার্ডিয়ান




আলোচনায় বাইডেনের ‘অতিগোপনীয়’ নথি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাবেক ব্যক্তিগত অফিস ও বাড়ি থেকে গোপনীয় সরকারি নথি উদ্ধারের ঘটনা পুরোনো। তবে উদ্ধার হওয়া নথিগুলোর মধ্যে কিছু ছিল ‘অতিগোপনীয়’, যা পুরো দেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনা তদন্তে একজন সরকারি কৌঁসুলিকে দায়িত্ব দিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ। বিবিসির খবর।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএসের বরাত দিয়ে খবরে বলা হচ্ছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাইডেন। গোপন নথিগুলো সেই সময়ের। আইন অনুযায়ী, চাকরি শেষ হলে কেন্দ্রীয় সরকারে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় দাপ্তরিক নথি ও গোপন দলিলপত্র জমা দিতে হয়। তবে বাইডেন তা জমা দেননি।

বাইডেনের অফিস ও বাসা থেকে প্রায় ২০টি নথি উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে অফিসে পাওয়া ১০টি নথির মধ্যে ছিল ‘অতিগোপনীয়’ নথি। তাঁর ডেলাওয়ারের বাসায়ও ১০টির মতো নথি পাওয়া গেছে। বলা হচ্ছে, অতিগোপনীয় নথিগুলো কোনোভাবে ফাঁস হয়ে গেলে ‘ভয়াবহ ক্ষতি’ হতে পারত।

নথিগুলো উদ্ধারের খবর প্রথম গণমাধ্যমে আসে গত সোমবার। গত নভেম্বরে ওয়াশিংটনে বাইডেনের সাবেক প্রতিষ্ঠান ‘পেন বাইডেন সেন্টার’-এর অফিস থেকে নথিগুলো উদ্ধার হয়।

নথি উদ্ধারের বিষয়ে বাইডেন বলেন, তিনি গোপন নথি ও জিনিসপত্র উদ্ধারের ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে বিচার বিভাগকে পূর্ণ সহযোগিতা দিচ্ছেন। 




ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্য মমতা: অমর্ত্য সেন

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন তিনি। খবর এনডিটিভির

২০২৪ সালে ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভার নির্বাচন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জন্য একক ঘোড় দৌড় হবে বলে মনে করলে সেটা ‘ভুল হবে’। দেশটির আগামী নির্বাচনে কয়েকটি আঞ্চলিক দলের ভূমিকা ‘স্পষ্টভাবে গুরুত্বপূর্ণ’ হয়ে উঠবে বলে মনে করেন তিনি।

অমর্ত্য সেন বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা রয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির বিরুদ্ধে জনগণের হতাশাকে কাজে লাগাতে সক্ষম হবেন কিনা তা এখনও প্রতিষ্ঠিত নয়।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি কয়েকটি আঞ্চলিক দল স্পষ্টভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আমার মতে ডিএমকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দল, তৃণমূলও অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ এবং সমাজবাদী পার্টিরও কিছুটা অবস্থান আছে, তবে সেই অবস্থান বাড়ানো যাবে কিনা আমি জানি না।’

অমর্ত্য সেন বলেন, বিজেপির জায়গা নিতে পারে এমন অন্য কোনও দল নেই, এ ধরনের চিন্তাভাবনাকে আমি ভুল বলে মনে করি। কারণ বিজেপি একটি দল হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে, যার একটি দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে এবং ভারতের অন্যান্যদের চেয়ে হিন্দুদের দিকে বেশি ঝুঁকছে দলটি।

ভারতের ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনকে ঘিরে বিরোধীদল কংগ্রেসসহ জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) এবং জনতা দলের (ইউনাইটেড) মতো দেশটির কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারা একটি নতুন জোট গড়ার ডাক দিয়েছেন। দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন বিজেপির পরাজয় নিশ্চিত করবে বলে এসব দলের নেতারা জোর দিয়েছেন।




বিশ্বের দীর্ঘ নৌরুটে যাত্রা শুরু গঙ্গা বিলাসের

বিশাল প্রমোদতরী ‘গঙ্গা বিলাস’। এর আলো ঝলমলে অন্দরমহল যেন পাঁচ তারকা হোটেল। নানা আনন্দ আয়োজন রাখা হয়েছে এর ভেতরে। ভারতের উত্তর প্রদেশের বারানসী থেকে যাত্রা শুরু করেছে এটি। বাংলাদেশের নদীপথ দিয়ে পৌঁছাবে আসামে। প্রমোদতরীটি বিশ্বের দীর্ঘতম নৌপথ ৩ হাজার ২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবে। এ যাত্রায় সময় নেবে ৫১ দিন। এরমধ্যে বাংলাদেশে অবস্থান করবে ১৫ দিন। যাত্রাপথে পড়বে অন্তত ৫০টি ঐতিহাসিক ও স্থাপত্য তাৎপর্যময় স্থান। এগুলো ঘুরে দেখবেন এতে আরোহী পর্যটকরা।

‘গঙ্গা বিলাস’ নামকরণকে যথার্থই বলতে হবে। কারণ, এতে আরোহণ বিলাসই বটে। এ জাহাজে ভ্রমণে প্রতিদিন মাথা পিছু ভাড়া গুনতে হবে ২৫ থেকে ৫০ হাজার রুপি। ৫১ দিনের ভ্রমণে নূন্যতম খরচ পড়বে ১২ লাখ ৫০ হাজার রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৬ লাখ টাকা।
শুক্রবার বারানসীতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রমোদতরী এমভি গঙ্গা বিলাস উদ্বোধন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ সময় ভারতের কেন্দ্রীয় নৌ পরিবহনমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ও আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী যাত্রায় প্রমোদতরীতে যাত্রী হিসেবে আছেন সুইজারল্যান্ডের ৩২ জন ও এক জার্মান পর্যটক। এ ছাড়া সাতজন ক্রু রয়েছেন।

গঙ্গা বিলাসের দৈর্ঘ্য ৬২ দশমিক ৫ মিটার; প্রস্থ ১২ দশমিক ৮ মিটার। এতে আছে এলইডি টেলিভিশন, স্মোক ডিটেক্টর লাইফ জ্যাকেট, ফ্রেঞ্চ ব্যালকনি, ৪০ আসন বিশিষ্ট রেস্তোর, স্পা, সানডেক ইত্যাদি। রয়েছে ময়লা পানি পরিশোধনের ব্যবস্থাও। এ পরিশোধন পল্গ্যান্ট নদী থেকে পানি তুলে তা পর্যটকদের জন্য গোসল ও অন্য কাজের উপযোগী করবে। ভ্রমণকালে বিনোদনের জন্য থাকবে সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। এ ছাড়া ফিটনেস ঠিক রাখতে জিমের ব্যবস্থাও রয়েছে।

প্রমোদতরীটি বারানসি থেকে বিহার-কলকাতা ছুঁয়ে বাংলাদেশ হয়ে আসামের ডিব্রুগড় পর্যন্ত যাবে। এর মধ্যে এটি বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার নদীপথ অতিক্রম করবে। ভ্রমণকালে ২৭টি নদীর পানিতে ভাসবে গঙ্গা বিলাস। তবে সুন্দরবন ডেল্টা, গঙ্গা আরতি, আসমের মায়ংয়ের কালো জাদু এবং কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যানের মতো অন্তত ৫০টি স্থানে থাকবে।

বারানসীর রামনগর বন্দরের সন্ত রামদাস ঘাট থেকে তরীটি যাত্রা শুরুর পর বিহারের গাজীপুর-বপার-ছাপরা-পাটনা-মুঙ্গের-বৌদ্ধগয়া-নালন্দা, ঝাড়খণ্ডের সাহিবগঞ্জ, পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা-মুর্শিদাবাদ হয়ে কলকাতায় পৌঁছবে। একদিন বিরতি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন অংশের নামখানা-সজনেখালি হয়ে তা সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে প্রবেশ করবে। পরে মংলা বন্দর-বাগেরহাট-মোড়েলগঞ্জ-বরিশাল-সোনারগাঁও হয়ে ফেব্‌রুয়ারি মাসে ঢাকায় পৌঁছবে। এরপর আরিচা-টাংগাইল-সিরাজগঞ্জ-চিলমারী-আসামের ধুবরি-গোয়ালপাড়া হয়ে ফেব্‌রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে গোয়াহাটিতে পৌঁছবে। পরে ফেব্‌রুয়ারির শেষ দিকে মাজুলী আইল্যান্ড পৌঁছবে। ১ মার্চ আসামের ডিব্রুগড়ে গিয়ে যাত্রা শেষ করবে। বিশ্বের এ দীর্ঘতম নৌরুটেই প্রমোদতরীটি যাতায়াত করবে।

তরীটি উদ্বোধনের পর নরেন্দ্র মোদি বলেন, গঙ্গায় বিশ্বের দীর্ঘতম প্রমোদতরী পরিষেবার সূচনা যুগান্তকারী মুহূর্ত। এ প্রকল্প ভারতের পর্যটন মানচিত্রে নতুন যুগের সূচনা করবে। গঙ্গা বিলাসের যাত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা যা কল্পনা করবেন, এমন সবকিছুই ভারতে আছে। শুধু তাই নয়, আপনাদের কল্পনার বাইরেও অনেক কিছু এখানে আছে।

প্রমোদতরীর পরিচালক রাজ সিং জানান, তিনতলা জাহাজটিকে সাজিয়ে তুলতে খরচ হয়েছে ৬৮ কোটি রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকার বেশি)।

গঙ্গা বিলাস নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বনন্দ সোনোয়াল বলেন, গঙ্গা বিলাসের যাত্রা বিদেশি পর্যটকদের কাছে ভারত ও বাংলাদেশের ইতিহাস-সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিকতাকে বুঝতে সহায়তা করবে।

ভারতের সরকারি ও বেসরকারি যৌথ ব্যবস্থাপনা মডেলের (পিপি মডেল) ওপর ভিত্তি করি পরিচালিত হবে বারাণসী-বাংলাদেশ-ডিব্রুগড় রুটের এ প্রমোদতরী। এজন্য ভারত সরকার ‘ইনল্যান্ড ওয়াটারওয়েজ অথরিটি অব ইন্ডিয়া’র দুই জনপ্রিয় ক্রুজ সংস্থা অন্তরা লাপারি রিভার এবং জেএম বপী রিভার ক্রুজের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে। যাত্রার জন্য টিকিট বুক করা যাবে বেসরকারি দুই সংস্থার ওয়েবসাইট থেকে। তবে লম্বা সময় এবং অর্থ হাতে না থাকল সম্পূর্ণ ট্রিপ বুকিং ছাড়া কেবল সমুদ্রের আমেজ উপভোগ করতে বারাণসী থেকে কলকাতা বা কলকাতা থেকে ডিব্রুগড়ের প্যাকেজও বুক করা যাবে।




ক্ষমতা হস্তান্তর না করেই যুক্তরাষ্ট্রে বলসোনারো

প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো শুক্রবার তার প্রতিদ্বন্দ্বী নির্বাচিত বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা ডা সিল্ভা দায়িত্ব নেয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ব্রাজিল ত্যাগ করেছেন। তিনি বলেছেন, তিনি ‘লড়াইয়ে হেরেছেন কিন্তু যুদ্ধে নয়’।

নির্বাচনে হারার পরে বলসেনারো এই প্রথম কথা বলেছেন। তিনি কোথায় যাচ্ছেন তা নিশ্চিত করনেনি তবে তার উড়োজাহাজটির ট্র্যাকিং উপাত্ত থেকে জানা যায়, তিনি ফ্লোরিডা যাচ্ছেন।

সেখানে তার নিরাপত্তা কর্মীরা ইতোমধ্যেই অবস্থান করছে। তিনি বারবার বলেছেন, তিনি রোববারের শপথ অনুষ্ঠানে লুলার কাছে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব হস্তান্তর করতে চান না।




যুক্তরাষ্ট্রে তুষার ঝড়ে নিহত বেড়ে ৫৫

যুক্তরাষ্ট্রে তুষার ঝড়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতের মধ্যে ২৫ জনই নিউ ইয়র্কের।

নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঝড়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিউ ইয়র্কের বাফেলো শহর। পশ্চিম নিউইয়র্কের শহরটি তুষারঝড়ে বিধ্বস্ত। বিদ্যুৎ সংযোগসহ সেখানের জরুরি পরিসেবাগুলো বন্ধ রয়েছে। সবমিলিয়ে বড়দিনের ছুটিতে উৎসবের বদলে স্থবির হয়ে গেছে আমেরিকার জনজীবন। বৈরি আবহাওয়ার কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না অধিবাসীরা।

বিবিসি জানায়, বড়দিনে ৫৫ মিলিয়নের বেশি আমেরিকান শীতল বায়ু সতর্কতার অধীনে দিন কাটিয়েছে। এবারের ঝড় বাফেলোর ইতিহাসে সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক ও ভয়াবহ বলে আখ্যা দিয়েছেন হিসেবে নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল।

দেশটির কোথাও কোথাও তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ৪৮ ডিগ্রি নিচে চলে গেছে। প্রবল ঠাণ্ডার কারণে নিমেষেই বরফে পরিণত হচ্ছে ফুটন্ত পানি। ইতোমধ্যে কয়েক হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক, বাফেলো ছাড়াও ভেরমন্ট, ওহাইও, মিসৌরি, উইসকনসিন, কানসাস ও কলোরাডোতে ঝড়-ঠাণ্ডায় অনেকের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঠাণ্ডা পড়েছে পশ্চিমাঞ্চলের রাজ্য মন্টানাতে। সেখানে তাপমাত্রা মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও নিচে নেমে গেছে বলে জানা গেছে।




মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্টের ১১ বছর কারাদণ্ড

মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনকে দুর্নীতি ও অর্থ পাচার মামলায় ১১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার জরিমানাও করা হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে একটি প্রাইভেট কোম্পানির কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইয়ামিন।

২০১৮ সালে ক্ষমতা হারান আবদুল্লাহ ইয়ামিন। তবে আগামী বছরের (২০২৩) মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রগ্রেসিভ পার্টি থেকে তিনি প্রার্থী হবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে ২০১৯ সালে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে ১০ লাখ ডলার আত্মসাতের জন্য তাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছিল। রায়ের পর তাকে গৃহবন্দী অবস্থায় রাখা হয়েছিল। অবশ্য কয়েক মাস পর বন্দীদশা থেকে মুক্তি পান তিনি।




চীনে সোনার খনিতে ধস, আটকা পড়েছে ১৮ জন

উত্তর-পশ্চিম চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলে একটি সোনার খনিতে ধসের পর মাটির নিচে আটকা পড়েছেন ১৮ জন। তাদেরকে উদ্ধারের চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এমন তথ্য জানিয়েছে।

কাজাখস্তানের সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ কি.মি. দূরে চীনের ইইনিং কাউন্টির সোনার খনিতে মোট ৪০ জন লোক কাজ করছিলেন। এরপর শনিবার বিকেলে খনিটি ধসে যায়। তাদের মধ্যে ২২ জন খনি শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু, বাকি ১৮ জন ওই খনিতে আটকা পড়েছেন।




যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ভয়ঙ্কর তুষারঝড়, ১৯জন নিহত

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ১০ লাখের বেশি মানুষ খ্রিষ্টানদের বড়দিন (ক্রিসমাস দিবস) উৎসব পালন করছেন বিদ্যুৎ ছাড়া। কারণ, উত্তর আমেরিকার এ দেশগুলোতে আঘাত হেনেছে ভয়ঙ্কর তুষারঝড়। এ সময় ১৯ জন মারা গেছেন।

এটা একটি মারাত্মক তুষারঝড়, এটাকে ‘বোমা ঘূর্ণিঝড়’ বলে অভিহিত করা হয়। যখন বায়ুমণ্ডলীয় চাপ কমে যায় তখন এ ঝড় তুষার, শক্তিশালী বাতাস এবং হিমাঙ্কের তাপমাত্রা নিয়ে আসে।

প্রায় ২৫ কোটি লোক এ তুষারঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ সময় তীব্র ঠাণ্ডায় ১৯ জন মারা যান। কুইবেক থেকে টেক্সাস পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার ২০০ কি.মি. বিস্তৃত এলাকার মানুষ এ ঝড়ের কবলে পড়েছেন।

তুষারঝড়ের কারণে খ্রিষ্টানদের বড়দিন (ক্রিসমাস দিবস) উৎসবের সময়ও হাজার হাজার বিমানের ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বের হচ্ছেন না অনেকে। পথ-ঘাটে বরফের স্তূপে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সড়ক পিচ্ছিল হওয়ায় দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে বহু গাড়ি। দূর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ও জর্জিয়া রাজ্যের মানুষদের সতর্ক করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) তিন হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ, এতে আটকা পড়েন হাজার হাজার যাত্রী।

কানাডায় অন্টারিও এবং কুইবেক প্রদেশ আর্কটিক অঞ্চলের তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

ব্রিটিশ কলাম্বিয়া থেকে নিউফাউন্ডল্যান্ড পর্যন্ত দেশটির বাকি বেশিরভাগ অংশই চরম ঠাণ্ডা এবং শীতকালীন ঝড়ের সতর্কতার অধীনে আছে।




শীতকালীন ঝড়ে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র , ৪৪০০ ফ্লাইট বাতিল

শীতকালীন শক্তিশালী ঝড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ঝড়ের সঙ্গে তুষারপাত ও বাতাস বয়ে যাওয়ায় প্রায় চার হাজার ৪০০ অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করেছে দেশটি।

ঝড়ের কারণে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এসব ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয় দেশটি। এর মধ্যে শুক্রবার বাতিল করা হয়েছে ২১ শ টিরও বেশি ফ্লাইট।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া প্রচণ্ড ঠান্ডা বাতাসের কারণে তাপমাত্রা আরও অনেক কমে যেতে পারে। এমন অবস্থায় চার হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।