দেশের তিন এলাকায় যে কারণে শীত বেশি

দেশের তিনটি এলাকায় মূলত সবচেয়ে কম তাপমাত্রা থাকছে। ফলে ওই এলাকাগুলোর মানুষ শীতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে। এর মধ্যে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া এবং মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে শীত বেশি থাকে। কারণ, ওই দুই এলাকার কয়েক কিলোমিটার পেছনে হিমালয় পর্বতমালা ও মেঘালয়ের পাহাড়ি এলাকা। হিমালয়ে শীতকালে রীতিমতো বরফ পড়ে।

আর এক যুগ ধরে যশোর ও চুয়াডাঙ্গার প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তন হয়েছে। নদ–নদী শুকিয়ে পানি ও জলীয় বাষ্প কমে গেছে। ফলে শীতের বাতাস কিছুটা উষ্ণ জলীয় বাষ্পের বাধা পাচ্ছে না। এ কারণে তাপমাত্রা কম থাকছে।

দুই সপ্তাহ ধরে দেশের ভেতর দিয়ে যে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, তা ওই তিন এলাকায় বেশি দিন স্থায়ী হয়েছে। গতকাল শনিবারও দেশের সবচেয়ে শীতল এলাকা ছিল তেঁতুলিয়া। সেখানকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এ মৌসুমে সর্বনিম্ন। শ্রীমঙ্গল, চুয়াডাঙ্গা, যশোরেও টানা শৈত্যপ্রবাহ চলছে।

গত ৩০ বছরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায়। ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়—২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবারও চলতি বছরে দেশের সবচেয়ে শীতল এলাকা ছিল ওই তেঁতুলিয়া—৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর শ্রীমঙ্গল ও চুয়াডাঙ্গাতেও গত সপ্তাহে একাধিকবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

উত্তর গোলার্ধ থেকে আসা শীত বাংলাদেশ বা এ অঞ্চলে সরাসরি ঢুকতে পারে না বলে মন্তব্য করেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ। তিনি বলেন, হিমালয় থেকে আসা বায়ুর একটি অংশ কাশ্মীর, দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের একাংশ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। গরমের দিনে দিল্লির তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমতে কমতে বাংলাদেশে আসতে থাকে। আবার শীতকালে দিল্লির অতি শীত ধীরে ধীরে কমতে কমতে বাংলাদেশে আসে। শীতের সময় এই উত্তুরে হাওয়া বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অংশ চুয়াডাঙ্গা দিয়ে ঢোকে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে দেওয়া আজ রোববারের জন্য পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের বেশির ভাগ এলাকায় সকাল থেকে ঘন কুয়াশা আর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি থাকতে পারে। বাতাসে জলীয়বাষ্প বেড়ে যাওয়ায় আজ রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামী ২৪ ঘণ্টাজুড়ে বরিশাল ছাড়া দেশের সব বিভাগে বৃষ্টি ও শীতল আবহাওয়া থাকবে। সোমবার থেকে সারা দেশে আবারও শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে।




উত্তর, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বাড়বে শীতের দাপট

প্রবাদ আছে ‘মাঘের শীতে বাঘ পালায়’। কয়েক বছর ধরেই এমন শীতের আশায় ছিল মানুষ; কিন্তু দেখা মিলছিল না। শীত কেন নেই- এই প্রশ্নই কেবল ঘুরপাক খেয়েছে মনে। তবে এবার তাঁরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন ওই প্রবাদের মর্মার্থ।

আজ রোববার মাঘের শুরু হলেও এবার সেই মাঘের শীত শুরু হয়েছে পৌষ মাসের শুরু থেকে। টানা এক মাস পেরিয়ে গেলেও বিরতি দিচ্ছে না কনকনে শীত। দেশের বেশিরভাগ এলাকায় বইছে টানা শৈত্যপ্রবাহ। কয়েকটি জেলায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি জনজীবন আরও কাবু করে তুলেছে। পৌষের শীত পার হলেও কয়েক দিনের মধ্যে ‘মাঘের শীত’ জেঁকে বসবে আবার। তবে উত্তরাঞ্চলসহ গ্রামীণ জনপদ শীতে কাঁপলেও ঢাকাবাসী আর এ মৌসুমে হাড়কাঁপানো শীতের দেখা পাবে না।

গতকাল শনিবার পঞ্চগড়ের তেঁতুুলিয়ায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এ মৌসুমে সারাদেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। ঢাকায় গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে গত বৃহস্পতিবার মৌসুমের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল চুয়াডাঙ্গায়। গত ৬৮ বছরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায়। ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সে বছর তাপমাত্রা ছিল ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গতকাল দেশের আটটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তাপমাত্রা কিছুটা বাড়বে এবং অনেক জেলায় তা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে চলে আসতে পারে। সোম ও মঙ্গলবার আবারও তাপমাত্রা কমে যেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ বলেন, ‘ভারত থেকে পশ্চিমা মেঘের প্রভাবে আজ রোববার তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি ভারতে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তার প্রভাবে আমাদের এখানেও তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময় বিক্ষিপ্তভাবে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টিপাতের ক্ষীণ সম্ভাবনা রয়েছে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে ঢাকাতেও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সময় তাপমাত্রা আরও কমে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে।’

কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, গতকাল বৃষ্টির সম্ভাবনা কেটে গেছে। দেশের মধ্যাঞ্চলের ভূ-পৃষ্ঠে কুয়াশার যে প্রভাব রয়েছিল তা কেটে উঠতে পারেনি ঊর্ধ্বাকাশে থাকা মেঘ। বঙ্গোপসাগর থেকে খুবই অল্প পরিমাণ জলীয়বাষ্প বাংলাদেশের স্থলভাগে প্রবেশ করছে। আজ সকালে নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্তসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। তিনি বলেন, ১৮ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত আবারও এক সপ্তাহের জন্য দেশব্যাপী কুয়াশা ও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

ঢাকায় শীতের অনুভূতি কম থাকবে :রাজধানী ঢাকায় গত ৫ থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ছিল ঘন কুয়শার সঙ্গে হাড়কাঁপানো শীত। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০-এর নিচে না নামলেও সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য ছিল মাত্র ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীতে গত ৭ জানুয়ারি চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ওই সময় উত্তুরে হাওয়ার কারণে ঢাকায় এবার শীতের অনুভূতি ছিল বেশি। ঢাকায় সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৭ জানুয়ারি তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামে। অর্থাৎ শৈত্যপ্রবাহ অনুভূত হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আজিজুর রহমান জানান, এ মৌসুমেও ঢাকায় শৈত্যপ্রবাহ আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আরও কয়েকটি শৈত্যপ্রবাহ চললেও ঢাকা তার ছোঁয়া পাবে না। তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামবে না।

কাঁপছে পঞ্চগড় :গতকাল সারাদেশে তাপমাত্রা দুই থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লেও পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সকালে সূর্য উঁকি দিলেও সঙ্গে ছিল উত্তরের হাড়কাঁপানো হিমেল হাওয়া। এতে নিম্ন আয়ের মানুষ, কৃষি শ্রমিক, দিনমজুররা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। শীত এবং হিমশীতল বাতাসের কারণে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হননি।




মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায়, টানা শৈত্যপ্রবাহে জবুথবু জনজীবন

পঞ্চগড়ে বইছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। এর মধ্যে আজ শনিবার সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এ মৌসুমে সারা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাসেল শাহ বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার মৌসুমের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল চুয়াডাঙ্গায়।

আজ সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। এর আগে ৫ জানুয়ারি থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত পঞ্চগড়ে টানা চার দিন মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। ৯ জানুয়ারি তাপমাত্রা আরও কমে শুরু হয় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। এর পর থেকে আজ শনিবার পর্যন্ত তেঁতুলিয়ায় দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করেছে। তবে প্রায় প্রতিদিনই সকাল সকাল রোদের দেখা মিলেছে।

আজ মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার দিনে সকালে সূর্য উঁকি দিয়েছে। তবে সঙ্গে ছিল উত্তরের হাড়কাঁপানো হিমেল হাওয়া। শীত উপেক্ষা করেই গরু নিয়ে হালচাষে নেমেছেন পঞ্চগড় সদর উপজেলার ডুডুমারী এলাকার কৃষক কবির হোসেন (৫৮)। আজ সকাল ৯টার দিকে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। শীতের প্রসঙ্গ তুলতেই কবির হোসেন বলেন, ‘রাতিত যে ঠান্ডা ছিল, ওইখান ঠান্ডা এলা (এখন) থাকিলে কাজ করা কঠিন হয়ে গেল হয় বাপু। ভাগ্য ভাল সকালে রোদ উঠিচে, কাজ-কাম করা যাছে, কিন্তু মাটির ঠান্ডায় পাওলা (পা) পটপট করেছে। কষ্ট হলে কী করিবেন! হামরা কৃষক মানসি (মানুষ), কাজ তো করিবায় নাগিবে।’

তীব্র এই শীতে কবির হোসেনের মতো নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। উত্তরের হিমেল বাতাসের সঙ্গে কুয়াশার দাপটে জবুথবু হয়ে পড়েছে জনজীবন। সকাল পৌনে ১০টার দিকে রিকশাচালক মো. নুরনবী বলেন, ‘প্রত্যেক দিন বিকাল হইলে যে একখান ঠান্ডা বাতাস আচ্চে, ওই বাতাসে খুব ঠান্ডা হচ্চে। বেশি রাইত পর্যন্ত রিকশা চালা যায় না। এইতানে (এ জন্য) সকালে রোদ দেখে বাইর হইচু। বিকাল হইতে হইতে বাড়ি যাবা নাগিবে (লাগবে)।’

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাসেল শাহ প্রথম আলোকে বলেন, তেঁতুলিয়ায় বর্তমানে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাত পর্যন্ত শীত কিছুটা কম অনুভূত হয়েছিল। তবে আজ ভোর থেকেই হঠাৎ তাপমাত্রা কমতে থাকে। তবে সকাল সকাল রোদ ওঠায় মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে। আকাশ মেঘ ও কুয়াশামুক্ত থাকায় সূর্যের তাপ ভূপৃষ্ঠে ছড়াতে পারছে। এতে শৈত্যপ্রবাহ থাকলেও শীত তুলনামূলক কম অনুভূত হচ্ছে।




শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে যোগ হচ্ছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি

শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে এবার যোগ হতে যাচ্ছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, কাল শনিবার খুলনা, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। তবে রাজধানী ও দেশের মধ্যাঞ্চলের জেলাগুলোতে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। কোথাও কোথাও আকাশ সামান্য মেঘলা হতে পারে।

এদিকে আজ শুক্রবার রাজধানীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আরও কমেছে। তবে দিনে রোদ থাকায় শীতের তীব্রতা ছিল কম। আর দেশের ১১টি জেলা এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগজুড়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। সেই সঙ্গে নদীতীরবর্তী এলাকা এবং দেশের উত্তর ও উত্তর–পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কুয়াশা ছিল। ফলে নৌপথ এবং মহাসড়কগুলোতে রাতে যান চলাচলে সমস্যা হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক প্রথম আলেকে বলেন, দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোর আকাশে মেঘ আবার কোথাও কোথাও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। মেঘ–বৃষ্টি চলে যাওয়ার পর সোমবার থেকে তাপমাত্রা কমে সারা দেশে আরেক দফা শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। ওই শৈত্যপ্রবাহ চার থেকে পাঁচ দিন স্থায়ী হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল দিনাজপুরে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া ফরিদপুর, মাদারীপুর, কুমিল্লা, মানিকগঞ্জ, ফেনী, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, মৌলভীবাজার, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগজুড়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। কাল শনিবার এই জেলাগুলোর কয়েকটি এলাকা থেকে শৈত্যপ্রবাহ সরে যেতে পারে। সেখানে রাত ও দিনের তাপমাত্রা বাড়তে পারে।




কক্সবাজার থেকে ৭৬৫ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছে নিম্নচাপ!

সাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এটি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে পূর্ব-মধ্যবঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আজ রোববার (২৩ অক্টোবর) সকালে আবহাওয়া অধিদফতরের তিন নং বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ জানিয়েছেন, পূর্ব-মধ্যবঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি আরও উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় (অক্ষাংশ: ১৫.০° উত্তর, দ্রাঘিমাংশ: ৮৯.৫° পূর্ব) অবস্থান করছে।

এদিকে নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটার-এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্ব্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

এছাড়াও চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে এক নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেইসাথে তাদেরকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।




সুস্পষ্ট লঘুচাপ: গভীর সাগরে যেতে নিষেধাজ্ঞা

আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে একই এলাকায় অবস্থান করছে বলে জানায় আবহাওয়া অধিদফতর। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে বলে জানায় সংস্থাটি।

এছাড়াও চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে পরবর্তী নির্দেশনা সাবধানতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে তাদেরকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়।

এদিকে গতকাল শুক্রবার (২১ অক্টোবর) রাতে ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

আবহাওয়াবিদ মো. বজুলুর রশিদ জানান, আন্দামান সাগর এবং তৎসংলগ্ন দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামী দুই দিনে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের কোথাও কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি। গতকাল সন্ধায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায় ১৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল সন্দ্বীপে ৩৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়াও রাজধানীর তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।