এমবাপ্পের আরেক রেকর্ড ভেঙে দিলেন জার্মান বিস্ময়বালক

বয়স তার মোটে ১৭। তবে লেনার্ট কার এর মধ্যেই আলোচনায় চলে এসেছেন। বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেবেন কি না, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। কেন প্রশ্নগুলো উঠছে, তার জবাবটা লেনার্ট কার্ল দিয়েছেন গত রাতে। গোল করেছেন, তাতে কিলিয়ান এমবাপ্পের আরও এক রেকর্ড ভেঙে গেছে গত রাতে। তার নৈপুণ্যে ভর করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে স্পোর্টিং লিসবনের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-১ গোলে জিতেছে বায়ার্ন মিউনিখ।

ম্যাচের শুরুতেই গোল পেয়েছিল বায়ার্ন। কার্ল বল নিয়ন্ত্রণ করে সুন্দর শটে জাল খুঁজে পান। কিন্তু সেই গোল বাতিল হয়। কারণ গেনাব্রি সামান্য অফসাইডে ছিলেন। প্রথমার্ধে আরও কিছু সুযোগ তৈরি করে বায়ার্ন। হ্যারি কেইনের শট পোস্টে লাগে। কার্লও বিরতির ঠিক আগে গোল পেতে পারতেন। কিন্তু রুই সিলভা তার শট ঠেকান।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই চমকে দেয় স্পোর্টিং। বাম দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে জোয়াও সিমোয়েস ক্রস পাঠান। কিমিখ ব্লক করতে গিয়ে ভুল করে নিজ জালেই বল জড়িয়ে দেন। এতে পিছিয়ে পড়ে বায়ার্ন।

কিন্তু দশ মিনিটের মধ্যেই সমতায় ফেরে বায়ার্ন। মাইকেল অলিসের কর্নার থেকে গেনাব্রি সহজ শটে গোল করেন। চার মিনিট পর আবারও গোল। এবার নায়ক কিশোর কার্ল। বক্সে বল পেয়ে প্রথমে বাম পায়ে নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে ডান পায়ে জোরালো শটে জাল খুঁজে পান। এতে এগিয়ে যায় বায়ার্ন।

এরপর স্পোর্টিং আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। কিমিখ দূর থেকে দারুণ পাস দেন। সেই বল থেকে ওলিস মাথা ছুঁইয়ে বিপজ্জনক এলাকায় পাঠান। সেখানে ফাঁকায় ছিলেন টা। তিনি সহজেই বল জালে পাঠান।

এই ম্যাচে কার্লই ছিলেন বায়ার্নের বড় ভরসা। হ্যারি কেইন থাকলেও গোলের সবচেয়ে বড় হুমকি ছিলেন এই কিশোর ফরোয়ার্ড। তার গোলেই ম্যাচে প্রথমবার এগিয়ে যায় বায়ার্ন। এই গোলের মাধ্যমে ইতিহাসও গড়েছেন তিনি। ১৭ বছর ২৯০ দিনে তিনি হয়েছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে টানা তিন ম্যাচে গোল করা খেলোয়াড়। এই রেকর্ডটা আগে ছিল কিলিয়ান এমবাপ্পের। ১৮ বছর ১১৩ দিন বয়সে এই রেকর্ড গড়েছিলেন তৎকালীন মোনাকো সেনসেশন। তবে তার সেই রেকর্ড এবার কেড়ে নিয়েছেন কার্ল।




লিগের সেরা হয়ে রেকর্ড গড়লেন মেসি

লিওনেল মেসি টানা দ্বিতীয়বারের মতো মেজর লিগ সকার-এমএলএসের বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার মেজর লিগ সকার এই ঘোষণা দেয়। ৩৮ বছর বয়সী মেসি ইন্টার মিয়ামিকে লিগ শিরোপা জিতিয়েছেন এবং পুরো মৌসুমে ছিলেন দলের সবচেয়ে বড় ভরসা। তিনি লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবেও মৌসুম শেষ করেন।

মেসি তাতে একটা রেকর্ডও গড়ে ফেলেছেন। তিনি এখন এমএলএস ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় যিনি টানা দুই বছর এমভিপি জিতলেন। তিনি দ্বিতীয় খেলোয়াড় যিনি মোট দুইবার এই পুরস্কার পেলেন। এর আগে ১৯৯৭ ও ২০০৩ সালে প্রেদরাগ রাদোসাভ্লজেভিচ এই পুরস্কার দুবার পেয়েছিলেন। মেসি ২৯টি গোল করেছেন, যা এমএলএস ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ। তিনি ১৯টি অ্যাসিস্ট দিয়ে গোল্ডেন বুট জিতেছেন।

মেসি বলেন, ‘আমি এই পুরস্কার পেয়ে খুশি। এবং এই লিগের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দুই বছর ধরে এটি জিততে পেরে আনন্দিত। আমি খুব কৃতজ্ঞ।’ তিনি আরও বলেন, ‘ব্যক্তিগত পুরস্কার পাওয়া ভালো লাগে। কিন্তু আমি এটি আমার সতীর্থদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই।’

তিনি লিগে গোল ও অ্যাসিস্ট—দুই বিভাগেই শীর্ষে উঠে আসা দ্বিতীয় খেলোয়াড়। এর আগে শুধু সেবাস্টিয়ান জিওভিনকো ২০১৫ সালে এ কৃতিত্ব দেখান। প্লে-অফেও তিনি দাপট দেখান। ছয় গোল করেন এবং আরও নয়টি অ্যাসিস্ট দেন। ভ্যাঙ্কুভারের বিপক্ষে ফাইনালে ইন্টার মিয়ামিকে ৩–১ গোলে জিতিয়ে এমএলএস কাপ এমভিপিও হন। সে ম্যাচে তিনি দুটি অ্যাসিস্ট করেন।

গত অক্টোবরে ইন্টার মিয়ামির সঙ্গে মেসি তিন বছরের চুক্তি নবায়ন করেন। এর সঙ্গে তিনি যুক্ত করলেন আরেকটি মাইলফলক। তার ক্যারিয়ারে রয়েছে আটটি ব্যালন ডি’অর, তিনটি ফিফা বর্ষসেরা এবং দুটি বিশ্বকাপ গোল্ডেন বল।

এবার তিনি বিপুল ভোটে এমভিপি হয়েছেন। মোট ভোটের ৭০.৪৩ শতাংশ মেসি পেয়েছেন। সান ডিয়েগো এফসির আন্দের্স ড্রেয়ার পেয়েছেন ১১.১৫ শতাংশ। মিডিয়া ভোটে মেসি পান ৮৩.০৫ শতাংশ, ক্লাব ভোটে ৭৩.০৮ শতাংশ এবং খেলোয়াড় ভোটে ৫৫.১৭ শতাংশ।

মেসি এমএলএসে এক মৌসুমে ১০টি মাল্টি-গোল ম্যাচ খেলে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। এর আগে স্টার্ন জন, মামাদু দিয়ালো এবং ইব্রাহিমোভিচের রেকর্ড ছিল আটটি।

তিনি প্রথম এমভিপি জেতেন ২০২৪ সালে। সে বছর ১৯ ম্যাচে ২০ গোল ও ১৬ অ্যাসিস্ট করেন তিনি। ২০২৩ সালে ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি দলকে সেই বছর লিগস কাপ জিতিয়েছিলেন এবং ২০২৪ মৌসুমে সাপোর্টার্স শিল্ড অর্জনে নেতৃত্ব দেন।




দলে না নেওয়ায় ভারতে কোচকে হত্যাচেষ্টা

পন্ডিচেরিতে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের কোচ ভেঙ্কটরামনকে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব পন্ডিচেরি মাঠের ভেতর নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। অভিযোগ, তিন স্থানীয় ক্রিকেটার তাকে সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফির দলে না নেওয়ার জন্য দায়ী করে। ঘটনার পর পুলিশ তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার মামলা করেছে এবং তাদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে।

পুলিশ জানায়, সোমবার দুপুরের পর কোচ ভেঙ্কটরামন নেট সেশনে অনুশীলন দেখছিলেন। ওই সময় কার্তিকায়ান, অরবিন্দরাজ এবং সন্তোষ কুমারন নামে তিন ক্রিকেটার তার কাছে গিয়ে দলে না নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ঝগড়া শুরু করে। অভিযোগ, হঠাৎ তারা একটি ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে কোচকে আঘাত করতে শুরু করে এবং একাধিক বার আঘাত করার পর দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা এনডিটিভিকে বলেন, ‘আক্রমণটি পরিকল্পিত ছিল এবং খুবই ভয়ংকর।’ তিনি আরও বলেন, ‘তিনজনই এখনও পলাতক। তাদের ধরতে অভিযান চলছে।’

কোচ ভেঙ্কটরামন গুরুতর আহত হয়েছেন। তার কাঁধ ও পাঁজরে ভাঙন ধরা পড়েছে। কপালে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে এবং সেখানে ২০টি সেলাই দিতে হয়েছে। তিনি চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানায় পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তারা আরও জানান, মাঠের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো কাজ করছিল না।

ঘটনাটি স্থানীয় ক্রিকেট মহলে চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের হামলা তরুণ ক্রিকেটারদের চাপ, হতাশা ও শৃঙ্খলা ভাঙার বিপজ্জনক দিক তুলে ধরছে। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, পুলিশ তদন্ত শেষ হলে তারা নিজেদের মতো করে ব্যবস্থা নেবে।




অনন্য নজির গড়ে সাকিবদের এলিট ক্লাবে বুমরাহ

ক্রিকেটবিশ্বে পঞ্চম বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিন ফরম্যাটেই ১০০ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়লেন বুমরাহ। এদিক থেকে তিনি প্রথম ভারতীয় বোলার।

বুমরাহর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই ন্যূনতম ১০০ উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়েন– শ্রীলংকার সাবেক তারকা লাসিথ মালিঙ্গা, নিউজিল্যান্ডের টিম সাউদি, বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান ও পাকিস্তানের শাহিন শাহ আফ্রিদি। এলিট লিস্টে নতুন করে যুক্ত হলেন বুমরাহ। তিন ফরম্যাটে সবমিলিয়ে ২২২ ম্যাচে বুমরাহর শিকার ৪৮৪ উইকেট।

গতকাল পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম খেলায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ইনিংসের শুরুতে বিপাকে পড়ে যাওয়া ভারত; হার্দিক পান্ডিয়ার ব্যাটিং তাণ্ডবে ১৭৫ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে। ২৮ বলে ৬টি চার ও ৪ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৫৯ রান করেছেন পান্ডিয়া।

১২০ বলে ১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৭৪ রানে অলআউট হয় প্রোটিয়ারা। টি-টোয়েন্টির সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে দক্ষিণ আফ্রিকার এটি সর্বনিম্ন স্কোর। এদিন ভারত ৬ জন বোলারকে ব্যবহার করে। প্রত্যেকে অন্তত একটি করে উইকেট শিকার করেন।

ভারতের পক্ষে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট শিকার করেছেন জাসপ্রিত বুমরাহ, আর্শদীপ সিং, ভরুণ চক্রবর্তী ও অক্ষর প্যাটেল। এই ম্যাচে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির শততম উইকেটের মাইলফলক ছুঁতে কেবল একটি শিকার প্রয়োজন ছিল বুমরাহর। আর্শদীপের পর দ্বিতীয় ভারতীয় বোলার হিসেবে তিনি সেই কীর্তি গড়েছেন।

৮১ টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ১৭.৯১ গড়ে বুমরাহর শিকার ১০১ উইকেট। আর্শদীপ ৬৯ ম্যাচে ১৮.৩৭ গড়ে ১০৭ উইকেট শিকার করেছেন।

এদিনই চতুর্থ ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১০০টি ছক্কার রেকর্ড গড়েন পান্ডিয়া। তার আগে এই কীর্তি গড়েন রোহিত শর্মা (২০৫), সূর্যকুমার যাদব (১৫৫) ও বিরাট কোহলি (১২৪)। ভারতীয় আরেক তারকা লোকেশ রাহুল ইতোমধ্যে ৯৯টি ছক্কা হাঁকিয়ে মাইফলফলক স্পর্শ করার পথে।




‘স্পেনের সেরা’ গোলকিপারকে দলে ভেড়াতে চলেছে বার্সেলোনা

স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদের সম্পর্কটা আদায় কাঁচকলায়। তবে ঠিক এমন নয়, তবে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী এস্পানিয়লের সঙ্গেও বার্সার সম্পর্কটা এমনই তেঁতো। সেই এস্পানিয়লের তরুণ গোলকিপার হোয়ান গার্সিয়াকে দলে পেতে চাইছে বার্সা, যিনি আবার স্পেনেরও সেরা!

এমনকি গার্সিয়ার সঙ্গে এক চুক্তিতেও সম্মত হয়ে গেছে। এই চুক্তির আওতায় বার্সা তাকে ২৫ মিলিয়ন ইউরোতে দলে নিচ্ছে, যা স্পেন জাতীয় দলের মূল দলে ডাক পেলে ৩০ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

২৪ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক চলতি লা লিগা মৌসুমে অসাধারণ পারফরম করেছেন। তিনি স্পেনে সবচেয়ে বেশি ১৩৮টি সেভ করেছেন। ইউরোপেও তিনি সেরাদের কাতারেই আছেন, যা তাকে ইউরোপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ‘ইন্টারভেনশন’ধারী গোলকিপারে পরিণত করেছে। তার উপরে আছেন শুধু ব্রেন্টফোর্ডের মার্ক ফ্লেকেন।

বার্সার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ‘আমরা বর্তমান ও ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গোলপোস্টে পরিবর্তন দরকার, আর গার্সিয়া আমাদের সেই ভরসার জায়গা হতে পারে।’

তিনবার হাঁটুর অপারেশন করা মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেনের ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে গত কয়েক মৌসুম ধরে। অন্যদিকে পোল্যান্ডের ভয়চেখ শেজনি বার্সার সঙ্গে থাকবেন কিনা, তা এখনও নিশ্চিত নয়। এই অবস্থায় ভবিষ্যতের জন্য এক নতুন ভরসা খুঁজছিল বার্সেলোনা, এবং তারা সেটাই পেয়েছে গার্সিয়ার মধ্যে।

অন্যদিকে এস্পানিয়ল আর্থিক সংকটে পড়ায় জুন ৩০-এর আগেই অন্তত ১৫ মিলিয়ন ইউরোর একজন খেলোয়াড় বিক্রির দরকার ছিল। এই চাপের কারণে তাদের পক্ষ থেকেও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আর্সেনালের ২০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব থাকলেও গার্সিয়া নিজেই বার্সায় আসার আগ্রহ প্রকাশ করায় সেই দিকেই ঝুঁকে পড়ে ক্লাবটি।

বার্সেলোনা এখন ভাবছে, গার্সিয়াকে এক মৌসুমের জন্য লোনে দিয়ে খেলার সময় নিশ্চিত করার কথা। রিয়াল বেতিস ও ভ্যালেন্সিয়া ইতোমধ্যে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে গার্সিয়া নিজে চান এখনই শীর্ষ পর্যায়ে খেলার সুযোগ পেতে। তিনি বলেন, ‘আমি চেয়েছি এমন এক ক্লাবে খেলতে যেখানে উন্নতির সুযোগ আছে। বার্সেলোনা সেই জায়গা।’




হতে চেয়েছিলেন ফুটবলার, হয়ে গেলেন জেমস বন্ড

‘বন্ড, জেমস বন্ড।’

ইয়ান ফ্লেমিংয়ের কালজয়ী চরিত্রের কালজয়ী সংলাপ। সিনেমার পর্দায় বেশ কয়েকজন অভিনেতাকে দেখা গেছে ব্রিটিশ সিক্রেট সার্ভিসের এই বিশ্বখ্যাত এজেন্টের চরিত্রে। কিন্তু আজ আমরা যে ভদ্রলোকের কথা বলব, তিনি বাকি সবার চেয়ে একটু আলাদা।

সিনেমার ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে জনপ্রিয় এই সংলাপ প্রথম শোনা গিয়েছিল তাঁর মুখে। লম্বায় ৬ ফুট ২, জাতে স্কটিশ। জেমস বন্ড সিনেমার যাঁরা ভক্ত, তাঁরা এরই মধ্যে চিনে ফেলেছেন ভদ্রলোককে

যাঁরা চেনেননি আরও একটু জেনে নিন, দ্য আনটাচেবলস ছবিতে অভিনয়ের জন্য ইনি চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার অস্কার জিতেছিলেন ১৯৮৭ সালে। পিপল ম্যাগাজিনের জরিপে ৬৯ বছর বয়সেও হয়েছিলেন শতাব্দীর সবচেয়ে আবেদনময়ী পুরুষ!

৯০ বছর বয়সে ২০২০ সালে পরপারে চলে যাওয়ার আগেই জেমস বন্ডের সাতটা সিনেমা ছাড়াও তিনি উপহার দিয়েছেন দ্য হান্ট ফর রেড অক্টোবর (১৯৯০), দ্য রাশা হাউস (১৯৯০), দ্য রক (১৯৯৬) ও এনট্রাপমেন্ট (১৯৯৯)-এর মতো বক্স অফিস কাঁপানো অনেক ছবি। এতক্ষণে নিশ্চয়ই ভদ্রলোকের চেহারাটা ভেসে উঠেছে চোখের সামনে? শন কনারি।

অস্কারজয়ী পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ একবার বলেছিলেন, ‘পৃথিবীর ইতিহাসে শুধু সাতজন সুপারস্টার অভিনেতা আছেন। শন কনারি তাঁদের একজন।’ এই কথার পর কনারিকে নিয়ে আর কিছু বলার থাকে না। কিন্তু তাহলে আর হঠাৎ তাঁকে নিয়ে গল্প ফাঁদা কেন! তার মানে কিছু কথা আছে।

ধরুন যদি বলি, অভিনেতা নয়; আসলে কনারির হওয়ার কথা ছিল দুর্দান্ত ফুটবলার! বিশ্বাস করবেন না জানি। তাহলে বাসবিকে সাক্ষী আনতে হবে। বাসবিকে চিনেছেন তো? ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ইউরোপিয়ান কাপ (এখনকার চ্যাম্পিয়নস লিগ) জেতানো কিংবদন্তি কোচ স্যার ম্যাট বাসবি। ইনিও স্কটিশ।

যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে, কনারির বয়স তখন ২২–২৩। ‘বনিরিগ রোজ’ নামে স্কটল্যান্ডের স্থানীয় ক্লাবে রাইট উইঙ্গার হিসেবে খেলেন। কিন্তু শখ অভিনয় করা। একটা ব্রেক খুঁজছেন সিনেমায়।

বাসবি ইউনাইটেডে বেশ কয়েকটা মৌসুম কাটিয়েছেন। তাঁর দলটা প্রথমবার ইংলিশ প্রথম বিভাগ লিগ (এখনকার প্রিমিয়ার লিগ) জেতে ১৯৫১-৫২ মৌসুমে। ১৯৫৩-৫৪ মৌসুম শুরুর আগে দলবল নিয়ে বাসবি প্রাক্‌মৌসুম সফরে গেলেন স্কটল্যান্ডে। সেই সফরেই মাঝেমধ্যে বাসবি বিকেলে বের হতেন স্থানীয় বিভিন্ন ক্লাবের খেলা দেখতে। উদ্দেশ্য, যদি হঠাৎ কাউকে চোখে লেগে যায়।




সর্বকালের সেরা ১০ ফুটবলার: কারা আছেন আইএফএফএইচএসের তালিকায়

ফুটবলে সর্বকালের সেরা কে—এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর নেই। এ নিয়ে বিতর্কও চলে আসছে যুগের পর যুগ। পেলে, ম্যারাডোনা, মেসি নাকি রোনালদো? যুক্তি, তর্ক ও বিশ্লেষণের পর বিশ্লেষণ করেও শেষ পর্যন্ত এই প্রশ্নের উত্তরে সর্বসম্মতিক্রমে কাউকে বেছে নেওয়ার উপায় নেই। পাল্টা যুক্তি ওঠেই।




সালাহর হাতে আরেকটি স্বীকৃতি, আসছে আরও

কদিন আগেই জিতেছিলেন ফুটবল রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার। এবার মোহাম্মদ সালাহ পেলেন প্রিমিয়ার লিগের বর্ষসেরার খেতাবও। আজ প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ ২০২৪-২৫ মৌসুমের জন্য সালাহকে সেরা খেলোয়াড় ঘোষণা করেছে।

প্রিমিয়ার লিগ ক্যারিয়ারে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার বর্ষসেরা হলেন সালাহ। এর আগে ২০১৭-১৮ মৌসুমে সেরার স্বীকৃতি পেয়েছিলেন তিনি। দ্বিতীয় বর্ষসেরা হয়ে ম্যানচেস্টার সিটির দাপটও ভেঙেছেন সালাহ। ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ মৌসুম বর্ষসেরা ছিলেন সিটির খেলোয়াড়েরা।

প্রিমিয়ার লিগের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ভোটাভুটিতে বর্ষসেরা হয়েছেন সালাহ। সাধারণ ফুটবল ভক্তদের পাশাপাশি একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল সেরা খেলোয়াড়ের ভোট দিয়েছেন। সালাহর সঙ্গে বর্ষসেরা হওয়ার লড়াইয়ে ছিলেন ভার্জিল ফন ডাইক, রায়ান গ্রাভেনবার্চ, মরগান গিবস-হোয়াইট, আলেক্সান্দার ইসাক, ব্রায়ান এমবুয়েমো, ডেকলান রাইস ও ক্রিস উড।

কে কত ভোট পেয়েছেন জানানো না হলেও অন্যদের  তুলনায় বড় ব্যবধানেই এগিয়ে থাকার কথা সালাহর। ৩২ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড শেষ হতে চলা মৌসুমে লিভারপুলের হয়ে গোল করেছেন ২৮টি, করিয়েছেন আরও ১৮টি। ৩৮ ম্যাচের লিগে ৪৬টি গোলে অবদান এর আগে কেউ রাখেননি।

আগামীকাল ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে মৌসুমের শেষ ম্যাচ খেলবে লিভারপুল। এই ম্যাচে সালাহ দুটি গোলে অবদান রাখতে পারলে ভেঙে দেবেন প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল-অবদানের রেকর্ড। প্রিমিয়ার লিগ ৪২ ম্যাচের থাকতে মৌসুমে ৪৭টি করে গোলে ভূমিকা রেখেছিলেন অ্যালান শিয়ারার ও অ্যান্ড্রু কোল।

এবারের প্রিমিয়ার লিগে গোল্ডেন বুট আর বর্ষসেরা প্লেমেকার জেতার পথেও আছেন সালাহ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল করা নিউক্যাসল স্ট্রাইকার আলেক্সান্দার ইসাকের চেয়ে ৫ গোলে এগিয়ে তিনি। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট করা জন মারফির চেয়ে এগিয়ে ৬ ব্যবধানে।

মৌসুমের শেষ ম্যাচে ইসাক ও মারফি ৫ ও ৬ গোলের ব্যবধান কমাতে না পারলে সালাহ হবেন প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড়, যিনি একই মৌসুমে গোল্ডেন বুট, বর্ষসেরা প্লেমেকার এবং বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতবেন।

দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটানো সালাহ এরই মধ্যে এরই মধ্যে একাধিক রেকর্ড গড়ে ফেলেছেন। ২৪৪ গোল নিয়ে তিনি এখন লিভারপুলের সর্বকালের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। প্রিমিয়ার লিগের ১১তম সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে মৌসুম শুরু করে এখন তিনি ১৮৫ গোলে পঞ্চম-সর্বোচ্চ গোলের মালিক। সামনে শুধু অ্যালান শিয়ারার (২৬০), হ্যারি কেইন (২১৩), ওয়েইন রুনি (২০৮) ও অ্যান্ড্রু কোল (১৮৭)।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিকও এখন সালাহ। পেছনে ফেলেছেন ১৮৪ গোল করা আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার সের্হিও আগুয়েরোকে। আর প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসে থিয়েরি অঁরি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, নিমাঞ্জা ভিদিচ ও কেভিন ডি ব্রুইনার মতো তাঁরও বর্ষসেরা পুরস্কার এখন দুটি। এপ্রিলে লিভারপুলের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি নবায়ন করায় সবাইকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগও থাকছে।

 




সাকিব-ম্যাথুস এবার সতীর্থ: ‘টাইমড আউট’-এর স্মৃতি এবং নিয়তির খেয়াল

কারণ, সরাসরি চুক্তিতে দুজনকে আগেই দলে ভিড়িয়েছে চিটাগং কিংস। তখনই হয়তো কারও কারও মনে গত বছর নভেম্বরে দিল্লির সেই ঘটনা উঁকি দিয়েছে। গতকাল প্লেয়ার্স ড্রাফটের পর চট্টগ্রাম কিংসের ২০ সদস্যের খেলোয়াড় তালিকা দেখেও কেউ কেউ হয়তো ফিরে গিয়েছেন দিল্লির সেই বিকেলে। সাকিব আল হাসান, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস…ব্যস, আর কিছু লাগে!

পরে এ নিয়ে কত বিতর্ক হলো, কত কথা হলো! নিয়মের বইপত্রও খুলে দেখা হলো। জানা গেল, সাকিব নিয়মের ভেতরে থেকেই ম্যাথুসকে ‘কাঁটা’ ফুটিয়েছেন। লঙ্কানদের মধ্যে সাক্ষরতার হার প্রায় শতভাগ। তবে কোনো জাতি কতটা প্রতিশোধপরায়ণ তা নির্ণয়ের কোনো যন্ত্রপাতি এখনো আবিষ্কার হয়নি। তাই লঙ্কানদের মধ্যে এই ধারা কতটা, তা বলা না গেলেও চিত্র দেখে আন্দাজ তো করে নেওয়া যায়। এ বছর মার্চেই বাংলাদেশ সফরে এসে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের পর
সেই চিত্র যে খুব একটা দৃষ্টিসুখকর ছিল না, তা বোঝেন লঙ্কানরাও। কিংসকে তাই লঙ্কানরা ধন্যবাদ জানাতেই পারেন। কারণ, ম্যাথুসের পথে সাকিবকে যে এখন ‘ফুল’ বিছিয়ে রাখতে হবে!
ব্যাপারটা পুরোপুরি এমন না হলেও খুব দূরবর্তী ভাবনাও নয়। কিংস দুজনকেই দলে টেনেছে। অর্থাৎ ৩০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া বিপিএলে সতীর্থ হিসেবে খেলবেন সাকিব ও ম্যাথুস। যেহেতু সতীর্থ, তাই বিপিএলে অন্তত ম্যাথুসকে ‘টাইমড আউট’ করার সুযোগটা সাকিব পাচ্ছেন না। উল্টো, ম্যাথুস এমন কিছুর শিকার হলে সাকিবকে তাঁর হয়ে গলা ফাটাতে হবে। শুধু তা–ই নয়, সাকিব চাইলে কিছু বিষয় আগে থেকে ভেবেও রাখতে পারেন।
সাকিব ও ম্যাথুস—দুজনেই অলরাউন্ডার। ব্যাটিং পজিশনও তাই কাছাকাছি হবে। অর্থাৎ দুজনের একসঙ্গে ব্যাটিং করার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তো, সাকিব তাঁর আগে নামলে পকেটে করে হেলমেটের অতিরিক্ত একটি স্ট্র্যাপ নিয়ে যেতে পারেন। কারণ, ম্যাথুস যেহেতু পরে নামবেন, তাঁর এটা লাগতে পারে। কিংবা সাকিব ক্রিজে থাকতে অন্য প্রান্তের ব্যাটসম্যান আউট হওয়ার পর তিনি দৌড়ে একটু এগিয়ে গিয়ে (অবশ্যই মাঠের সীমানার ভেতরে থাকতে হবে) ম্যাথুসকে ডাকতে পারেন, ‘ম্যাথুস, ম্যাথুস ডাক পাড়ি, টাইমড আউটের নেই বেশি (সময়) বাকি!’

২০২৩ সালের ৬ নভেম্বর ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেই ম্যাচে আগে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল শ্রীলঙ্কা। অধিনায়ক সাকিবের করা ২৪.২ ওভারে সাদিরা সামারাবিক্রমা আউট হওয়ার পর নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে এসেছিলেন ম্যাথুস। ক্রিজে দাঁড়িয়ে টের পেলেন, তাঁর হেলমেটের স্ট্র্যাপে (ফিতা) কোনো একটা সমস্যা, সম্ভবত ছেঁড়া ছিল। ড্রেসিংরুমে ইশারা করলেন নতুন হেলমেটের জন্য। অতিরিক্ত খেলোয়াড়ের মাধ্যমে নতুন হেলমেট আনতে কিছুটা দেরি হলো। তখন ম্যাথুসকে ‘টাইমড আউট’–এর আবেদন করেছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব। আইনসিদ্ধ হওয়ায় মাঠের আম্পায়ার আবেদন মেনে নিয়ে ম্যাথুসকে আউট ঘোষণা করেন। জন্ম হয় নতুন ইতিহাস ও বিতর্কের।

ম্যাথুস হলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ‘টাইমড আউট’ হওয়া ব্যাটসম্যান, আর ক্রিকেট–বিশ্বে বিভক্ত হলো ‘স্পিরিট অব দ্য গেম’ নিয়ে। অর্থাৎ সাকিবের আচরণ খেলোয়াড়সুলভ ছিল কি না, এই প্রশ্নে বিভক্তি দেখা গিয়েছিল।

কিন্তু এখন বিভক্তি নয়, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিপক্ষকে ‘টাইমড আউট’ করার সময়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ম্যাথুস যেহেতু প্রথম ‘টাইমড আউট’ হওয়া ব্যাটসম্যান, আর সাকিবও এই আউটের আবেদন করে সফল হওয়া প্রথম অধিনায়ক (ক্রিকেটার)—তাই ‘টাইমড আউট’ কীভাবে হয় কিংবা কখন এই আউটের আবেদন করতে হবে, তা সাকিব-ম্যাথুসের চেয়ে ভালো জানবেন কে! অর্থাৎ বিপিএলে এই দুই ক্রিকেটারকে মিলেমিশে প্রতিপক্ষকে টাইমড আউট করতে দেখলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। লঙ্কানরাও এমন কিছু দেখলে নিশ্চয়ই শান্তি পাবেন।




ভিনিসিয়ুসকে নয়, বর্ষসেরা ফুটবলার হিসেবে বেবেতো–বুনোচ্চি–লামরা সেই রদ্রিকেই বেছে নিলেন

এবারের ব্যালন ডি’অরে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়ে রীতিমতো তুলকালাম হয়ে গেছে। পুরস্কার ঘোষণার মাসখানেক আগে থেকেই ইউরোপিয়ান সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রই হচ্ছেন বর্ষসেরা ফুটবলার।

রিয়াল মাদ্রিদও নিজেদের খেলোয়াড়ের ব্যালন ডি’অর জয় উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলেছিল। কিন্তু পুরস্কার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে থেকে বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট।

রদ্রির ব্যালন ডি’অর জয়ের খবর সামনে আসার পর রিয়াল কর্তৃপক্ষ নিজেদের প্যারিস সফরও বাতিল করে দেয়।

তবে এর মধ্যেই রিয়ালকে আরেকবার হতাশাজনক খবর দিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। ব্যালন ডি’অরের মতো তারাও বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচন করেছে রদ্রিকেই।

গার্ডিয়ানের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন দেশের ২৩ সাবেক ফুটবলার। যে তালিকায় ইতালির কিংবদন্তি ডিফেন্ডার লিওনার্দো বোনুচ্চি, জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ফিলিপ লাম এবং ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী তারকা বেবেতোও আছেন।

কোচদের মধ্যে নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় ছিলেন গ্যালাতাসারাইয়ের কোচ ওকান বুরুক, আইসল্যান্ডের আফতুরেল্ডিং ক্লাবের কোচ মাগনাস মার এইনারসন এবং ব্রাজিলের ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের সহকারী কোচ ক্লেবের জাভিয়ার। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের শতাধিক সাংবাদিকও নিজেদের মত দিয়েছেন খেলোয়াড় নির্বাচনে।

খেলোয়াড় নির্বাচনে প্রত্যেক বিচারকের পছন্দের ক্রমের এক নম্বর খেলোয়াড় পেয়েছেন ৪০ পয়েন্ট করে এবং দ্বিতীয় পছন্দের খেলোয়াড় ৩৯ পয়েন্ট। এভাবে ৪০ নম্বর খেলোয়াড়টি পেয়েছেন ১ পয়েন্ট। এরপর সব ভোট এক করে একটি স্কোর নির্ধারণ করা হয়।

এবারের ভোটিংয়ে রদ্রি পেয়েছেন ৭৪৯৫ পয়েন্ট, আর রদ্রি পেয়েছেন ৭৪২৭ পয়েন্ট। অর্থাৎ রদ্রি শেষ পর্যন্ত জিতেছেন ৬৮ পয়েন্টের ব্যবধানে। যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ৯২ জন সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বেছে নিয়েছেন রদ্রিকে। আর ৭২ জনের প্রথম পছন্দ ছিলেন ভিনিসিয়ুস।

ব্যালন ডি’অরের সঙ্গে শীর্ষ দুইয়ে মিল থাকলেও পরবর্তী স্থানগুলোয় কিছু অদল–বদল এসেছে। ব্যালন ডি’অরে তৃতীয় হয়েছেন জুড বেলিংহাম। যিনি গার্ডিয়ানের তালিকায় নেমে গেছেন পাঁচ নম্বরে। আর ব্যালন ডি’অরে পাঁচে থাকা হলান্ড গার্ডিয়ানে আছেন তিন নম্বরে।