হতে চেয়েছিলেন ফুটবলার, হয়ে গেলেন জেমস বন্ড

‘বন্ড, জেমস বন্ড।’

ইয়ান ফ্লেমিংয়ের কালজয়ী চরিত্রের কালজয়ী সংলাপ। সিনেমার পর্দায় বেশ কয়েকজন অভিনেতাকে দেখা গেছে ব্রিটিশ সিক্রেট সার্ভিসের এই বিশ্বখ্যাত এজেন্টের চরিত্রে। কিন্তু আজ আমরা যে ভদ্রলোকের কথা বলব, তিনি বাকি সবার চেয়ে একটু আলাদা।

সিনেমার ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে জনপ্রিয় এই সংলাপ প্রথম শোনা গিয়েছিল তাঁর মুখে। লম্বায় ৬ ফুট ২, জাতে স্কটিশ। জেমস বন্ড সিনেমার যাঁরা ভক্ত, তাঁরা এরই মধ্যে চিনে ফেলেছেন ভদ্রলোককে

যাঁরা চেনেননি আরও একটু জেনে নিন, দ্য আনটাচেবলস ছবিতে অভিনয়ের জন্য ইনি চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার অস্কার জিতেছিলেন ১৯৮৭ সালে। পিপল ম্যাগাজিনের জরিপে ৬৯ বছর বয়সেও হয়েছিলেন শতাব্দীর সবচেয়ে আবেদনময়ী পুরুষ!

৯০ বছর বয়সে ২০২০ সালে পরপারে চলে যাওয়ার আগেই জেমস বন্ডের সাতটা সিনেমা ছাড়াও তিনি উপহার দিয়েছেন দ্য হান্ট ফর রেড অক্টোবর (১৯৯০), দ্য রাশা হাউস (১৯৯০), দ্য রক (১৯৯৬) ও এনট্রাপমেন্ট (১৯৯৯)-এর মতো বক্স অফিস কাঁপানো অনেক ছবি। এতক্ষণে নিশ্চয়ই ভদ্রলোকের চেহারাটা ভেসে উঠেছে চোখের সামনে? শন কনারি।

অস্কারজয়ী পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ একবার বলেছিলেন, ‘পৃথিবীর ইতিহাসে শুধু সাতজন সুপারস্টার অভিনেতা আছেন। শন কনারি তাঁদের একজন।’ এই কথার পর কনারিকে নিয়ে আর কিছু বলার থাকে না। কিন্তু তাহলে আর হঠাৎ তাঁকে নিয়ে গল্প ফাঁদা কেন! তার মানে কিছু কথা আছে।

ধরুন যদি বলি, অভিনেতা নয়; আসলে কনারির হওয়ার কথা ছিল দুর্দান্ত ফুটবলার! বিশ্বাস করবেন না জানি। তাহলে বাসবিকে সাক্ষী আনতে হবে। বাসবিকে চিনেছেন তো? ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ইউরোপিয়ান কাপ (এখনকার চ্যাম্পিয়নস লিগ) জেতানো কিংবদন্তি কোচ স্যার ম্যাট বাসবি। ইনিও স্কটিশ।

যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে, কনারির বয়স তখন ২২–২৩। ‘বনিরিগ রোজ’ নামে স্কটল্যান্ডের স্থানীয় ক্লাবে রাইট উইঙ্গার হিসেবে খেলেন। কিন্তু শখ অভিনয় করা। একটা ব্রেক খুঁজছেন সিনেমায়।

বাসবি ইউনাইটেডে বেশ কয়েকটা মৌসুম কাটিয়েছেন। তাঁর দলটা প্রথমবার ইংলিশ প্রথম বিভাগ লিগ (এখনকার প্রিমিয়ার লিগ) জেতে ১৯৫১-৫২ মৌসুমে। ১৯৫৩-৫৪ মৌসুম শুরুর আগে দলবল নিয়ে বাসবি প্রাক্‌মৌসুম সফরে গেলেন স্কটল্যান্ডে। সেই সফরেই মাঝেমধ্যে বাসবি বিকেলে বের হতেন স্থানীয় বিভিন্ন ক্লাবের খেলা দেখতে। উদ্দেশ্য, যদি হঠাৎ কাউকে চোখে লেগে যায়।




সর্বকালের সেরা ১০ ফুটবলার: কারা আছেন আইএফএফএইচএসের তালিকায়

ফুটবলে সর্বকালের সেরা কে—এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর নেই। এ নিয়ে বিতর্কও চলে আসছে যুগের পর যুগ। পেলে, ম্যারাডোনা, মেসি নাকি রোনালদো? যুক্তি, তর্ক ও বিশ্লেষণের পর বিশ্লেষণ করেও শেষ পর্যন্ত এই প্রশ্নের উত্তরে সর্বসম্মতিক্রমে কাউকে বেছে নেওয়ার উপায় নেই। পাল্টা যুক্তি ওঠেই।




সালাহর হাতে আরেকটি স্বীকৃতি, আসছে আরও

কদিন আগেই জিতেছিলেন ফুটবল রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার। এবার মোহাম্মদ সালাহ পেলেন প্রিমিয়ার লিগের বর্ষসেরার খেতাবও। আজ প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ ২০২৪-২৫ মৌসুমের জন্য সালাহকে সেরা খেলোয়াড় ঘোষণা করেছে।

প্রিমিয়ার লিগ ক্যারিয়ারে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার বর্ষসেরা হলেন সালাহ। এর আগে ২০১৭-১৮ মৌসুমে সেরার স্বীকৃতি পেয়েছিলেন তিনি। দ্বিতীয় বর্ষসেরা হয়ে ম্যানচেস্টার সিটির দাপটও ভেঙেছেন সালাহ। ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ মৌসুম বর্ষসেরা ছিলেন সিটির খেলোয়াড়েরা।

প্রিমিয়ার লিগের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ভোটাভুটিতে বর্ষসেরা হয়েছেন সালাহ। সাধারণ ফুটবল ভক্তদের পাশাপাশি একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল সেরা খেলোয়াড়ের ভোট দিয়েছেন। সালাহর সঙ্গে বর্ষসেরা হওয়ার লড়াইয়ে ছিলেন ভার্জিল ফন ডাইক, রায়ান গ্রাভেনবার্চ, মরগান গিবস-হোয়াইট, আলেক্সান্দার ইসাক, ব্রায়ান এমবুয়েমো, ডেকলান রাইস ও ক্রিস উড।

কে কত ভোট পেয়েছেন জানানো না হলেও অন্যদের  তুলনায় বড় ব্যবধানেই এগিয়ে থাকার কথা সালাহর। ৩২ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড শেষ হতে চলা মৌসুমে লিভারপুলের হয়ে গোল করেছেন ২৮টি, করিয়েছেন আরও ১৮টি। ৩৮ ম্যাচের লিগে ৪৬টি গোলে অবদান এর আগে কেউ রাখেননি।

আগামীকাল ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে মৌসুমের শেষ ম্যাচ খেলবে লিভারপুল। এই ম্যাচে সালাহ দুটি গোলে অবদান রাখতে পারলে ভেঙে দেবেন প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল-অবদানের রেকর্ড। প্রিমিয়ার লিগ ৪২ ম্যাচের থাকতে মৌসুমে ৪৭টি করে গোলে ভূমিকা রেখেছিলেন অ্যালান শিয়ারার ও অ্যান্ড্রু কোল।

এবারের প্রিমিয়ার লিগে গোল্ডেন বুট আর বর্ষসেরা প্লেমেকার জেতার পথেও আছেন সালাহ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল করা নিউক্যাসল স্ট্রাইকার আলেক্সান্দার ইসাকের চেয়ে ৫ গোলে এগিয়ে তিনি। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট করা জন মারফির চেয়ে এগিয়ে ৬ ব্যবধানে।

মৌসুমের শেষ ম্যাচে ইসাক ও মারফি ৫ ও ৬ গোলের ব্যবধান কমাতে না পারলে সালাহ হবেন প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড়, যিনি একই মৌসুমে গোল্ডেন বুট, বর্ষসেরা প্লেমেকার এবং বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতবেন।

দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটানো সালাহ এরই মধ্যে এরই মধ্যে একাধিক রেকর্ড গড়ে ফেলেছেন। ২৪৪ গোল নিয়ে তিনি এখন লিভারপুলের সর্বকালের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। প্রিমিয়ার লিগের ১১তম সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে মৌসুম শুরু করে এখন তিনি ১৮৫ গোলে পঞ্চম-সর্বোচ্চ গোলের মালিক। সামনে শুধু অ্যালান শিয়ারার (২৬০), হ্যারি কেইন (২১৩), ওয়েইন রুনি (২০৮) ও অ্যান্ড্রু কোল (১৮৭)।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিকও এখন সালাহ। পেছনে ফেলেছেন ১৮৪ গোল করা আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার সের্হিও আগুয়েরোকে। আর প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসে থিয়েরি অঁরি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, নিমাঞ্জা ভিদিচ ও কেভিন ডি ব্রুইনার মতো তাঁরও বর্ষসেরা পুরস্কার এখন দুটি। এপ্রিলে লিভারপুলের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি নবায়ন করায় সবাইকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগও থাকছে।

 




সাকিব-ম্যাথুস এবার সতীর্থ: ‘টাইমড আউট’-এর স্মৃতি এবং নিয়তির খেয়াল

কারণ, সরাসরি চুক্তিতে দুজনকে আগেই দলে ভিড়িয়েছে চিটাগং কিংস। তখনই হয়তো কারও কারও মনে গত বছর নভেম্বরে দিল্লির সেই ঘটনা উঁকি দিয়েছে। গতকাল প্লেয়ার্স ড্রাফটের পর চট্টগ্রাম কিংসের ২০ সদস্যের খেলোয়াড় তালিকা দেখেও কেউ কেউ হয়তো ফিরে গিয়েছেন দিল্লির সেই বিকেলে। সাকিব আল হাসান, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস…ব্যস, আর কিছু লাগে!

পরে এ নিয়ে কত বিতর্ক হলো, কত কথা হলো! নিয়মের বইপত্রও খুলে দেখা হলো। জানা গেল, সাকিব নিয়মের ভেতরে থেকেই ম্যাথুসকে ‘কাঁটা’ ফুটিয়েছেন। লঙ্কানদের মধ্যে সাক্ষরতার হার প্রায় শতভাগ। তবে কোনো জাতি কতটা প্রতিশোধপরায়ণ তা নির্ণয়ের কোনো যন্ত্রপাতি এখনো আবিষ্কার হয়নি। তাই লঙ্কানদের মধ্যে এই ধারা কতটা, তা বলা না গেলেও চিত্র দেখে আন্দাজ তো করে নেওয়া যায়। এ বছর মার্চেই বাংলাদেশ সফরে এসে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের পর
সেই চিত্র যে খুব একটা দৃষ্টিসুখকর ছিল না, তা বোঝেন লঙ্কানরাও। কিংসকে তাই লঙ্কানরা ধন্যবাদ জানাতেই পারেন। কারণ, ম্যাথুসের পথে সাকিবকে যে এখন ‘ফুল’ বিছিয়ে রাখতে হবে!
ব্যাপারটা পুরোপুরি এমন না হলেও খুব দূরবর্তী ভাবনাও নয়। কিংস দুজনকেই দলে টেনেছে। অর্থাৎ ৩০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া বিপিএলে সতীর্থ হিসেবে খেলবেন সাকিব ও ম্যাথুস। যেহেতু সতীর্থ, তাই বিপিএলে অন্তত ম্যাথুসকে ‘টাইমড আউট’ করার সুযোগটা সাকিব পাচ্ছেন না। উল্টো, ম্যাথুস এমন কিছুর শিকার হলে সাকিবকে তাঁর হয়ে গলা ফাটাতে হবে। শুধু তা–ই নয়, সাকিব চাইলে কিছু বিষয় আগে থেকে ভেবেও রাখতে পারেন।
সাকিব ও ম্যাথুস—দুজনেই অলরাউন্ডার। ব্যাটিং পজিশনও তাই কাছাকাছি হবে। অর্থাৎ দুজনের একসঙ্গে ব্যাটিং করার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তো, সাকিব তাঁর আগে নামলে পকেটে করে হেলমেটের অতিরিক্ত একটি স্ট্র্যাপ নিয়ে যেতে পারেন। কারণ, ম্যাথুস যেহেতু পরে নামবেন, তাঁর এটা লাগতে পারে। কিংবা সাকিব ক্রিজে থাকতে অন্য প্রান্তের ব্যাটসম্যান আউট হওয়ার পর তিনি দৌড়ে একটু এগিয়ে গিয়ে (অবশ্যই মাঠের সীমানার ভেতরে থাকতে হবে) ম্যাথুসকে ডাকতে পারেন, ‘ম্যাথুস, ম্যাথুস ডাক পাড়ি, টাইমড আউটের নেই বেশি (সময়) বাকি!’

২০২৩ সালের ৬ নভেম্বর ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেই ম্যাচে আগে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল শ্রীলঙ্কা। অধিনায়ক সাকিবের করা ২৪.২ ওভারে সাদিরা সামারাবিক্রমা আউট হওয়ার পর নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে এসেছিলেন ম্যাথুস। ক্রিজে দাঁড়িয়ে টের পেলেন, তাঁর হেলমেটের স্ট্র্যাপে (ফিতা) কোনো একটা সমস্যা, সম্ভবত ছেঁড়া ছিল। ড্রেসিংরুমে ইশারা করলেন নতুন হেলমেটের জন্য। অতিরিক্ত খেলোয়াড়ের মাধ্যমে নতুন হেলমেট আনতে কিছুটা দেরি হলো। তখন ম্যাথুসকে ‘টাইমড আউট’–এর আবেদন করেছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব। আইনসিদ্ধ হওয়ায় মাঠের আম্পায়ার আবেদন মেনে নিয়ে ম্যাথুসকে আউট ঘোষণা করেন। জন্ম হয় নতুন ইতিহাস ও বিতর্কের।

ম্যাথুস হলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ‘টাইমড আউট’ হওয়া ব্যাটসম্যান, আর ক্রিকেট–বিশ্বে বিভক্ত হলো ‘স্পিরিট অব দ্য গেম’ নিয়ে। অর্থাৎ সাকিবের আচরণ খেলোয়াড়সুলভ ছিল কি না, এই প্রশ্নে বিভক্তি দেখা গিয়েছিল।

কিন্তু এখন বিভক্তি নয়, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিপক্ষকে ‘টাইমড আউট’ করার সময়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ম্যাথুস যেহেতু প্রথম ‘টাইমড আউট’ হওয়া ব্যাটসম্যান, আর সাকিবও এই আউটের আবেদন করে সফল হওয়া প্রথম অধিনায়ক (ক্রিকেটার)—তাই ‘টাইমড আউট’ কীভাবে হয় কিংবা কখন এই আউটের আবেদন করতে হবে, তা সাকিব-ম্যাথুসের চেয়ে ভালো জানবেন কে! অর্থাৎ বিপিএলে এই দুই ক্রিকেটারকে মিলেমিশে প্রতিপক্ষকে টাইমড আউট করতে দেখলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। লঙ্কানরাও এমন কিছু দেখলে নিশ্চয়ই শান্তি পাবেন।




ভিনিসিয়ুসকে নয়, বর্ষসেরা ফুটবলার হিসেবে বেবেতো–বুনোচ্চি–লামরা সেই রদ্রিকেই বেছে নিলেন

এবারের ব্যালন ডি’অরে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়ে রীতিমতো তুলকালাম হয়ে গেছে। পুরস্কার ঘোষণার মাসখানেক আগে থেকেই ইউরোপিয়ান সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রই হচ্ছেন বর্ষসেরা ফুটবলার।

রিয়াল মাদ্রিদও নিজেদের খেলোয়াড়ের ব্যালন ডি’অর জয় উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলেছিল। কিন্তু পুরস্কার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে থেকে বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট।

রদ্রির ব্যালন ডি’অর জয়ের খবর সামনে আসার পর রিয়াল কর্তৃপক্ষ নিজেদের প্যারিস সফরও বাতিল করে দেয়।

তবে এর মধ্যেই রিয়ালকে আরেকবার হতাশাজনক খবর দিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। ব্যালন ডি’অরের মতো তারাও বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচন করেছে রদ্রিকেই।

গার্ডিয়ানের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন দেশের ২৩ সাবেক ফুটবলার। যে তালিকায় ইতালির কিংবদন্তি ডিফেন্ডার লিওনার্দো বোনুচ্চি, জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ফিলিপ লাম এবং ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী তারকা বেবেতোও আছেন।

কোচদের মধ্যে নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় ছিলেন গ্যালাতাসারাইয়ের কোচ ওকান বুরুক, আইসল্যান্ডের আফতুরেল্ডিং ক্লাবের কোচ মাগনাস মার এইনারসন এবং ব্রাজিলের ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের সহকারী কোচ ক্লেবের জাভিয়ার। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের শতাধিক সাংবাদিকও নিজেদের মত দিয়েছেন খেলোয়াড় নির্বাচনে।

খেলোয়াড় নির্বাচনে প্রত্যেক বিচারকের পছন্দের ক্রমের এক নম্বর খেলোয়াড় পেয়েছেন ৪০ পয়েন্ট করে এবং দ্বিতীয় পছন্দের খেলোয়াড় ৩৯ পয়েন্ট। এভাবে ৪০ নম্বর খেলোয়াড়টি পেয়েছেন ১ পয়েন্ট। এরপর সব ভোট এক করে একটি স্কোর নির্ধারণ করা হয়।

এবারের ভোটিংয়ে রদ্রি পেয়েছেন ৭৪৯৫ পয়েন্ট, আর রদ্রি পেয়েছেন ৭৪২৭ পয়েন্ট। অর্থাৎ রদ্রি শেষ পর্যন্ত জিতেছেন ৬৮ পয়েন্টের ব্যবধানে। যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ৯২ জন সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বেছে নিয়েছেন রদ্রিকে। আর ৭২ জনের প্রথম পছন্দ ছিলেন ভিনিসিয়ুস।

ব্যালন ডি’অরের সঙ্গে শীর্ষ দুইয়ে মিল থাকলেও পরবর্তী স্থানগুলোয় কিছু অদল–বদল এসেছে। ব্যালন ডি’অরে তৃতীয় হয়েছেন জুড বেলিংহাম। যিনি গার্ডিয়ানের তালিকায় নেমে গেছেন পাঁচ নম্বরে। আর ব্যালন ডি’অরে পাঁচে থাকা হলান্ড গার্ডিয়ানে আছেন তিন নম্বরে।

 




রাবাদা-ইয়ানসেনে পাকিস্তানকে অবিশ্বাস্যভাবে হারিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা

রোমাঞ্চকর এক সমাপ্তির আভাস নিয়েই আজ সেঞ্চুরিয়নে শুরু হয় দক্ষিণ আফ্রিকা-পাকিস্তান প্রথম দিনের চতুর্থ দিনের খেলা।

যারা আজ সুপারস্পোর্ট পার্কে খেলা দেখতে গেছেন, তাঁরা হতাশ হননি। হতাশ হননি যাঁরা টেলিভিশনের সামনে বসে এই খেলা দেখেছেন তাঁরাও। কী রোমাঞ্চকর এক লড়াই-ই না উপহার দিল দুই দল!

রুদ্ধশ্বাস সেই লড়াই শেষে শেষ হাসিটা হাসল দক্ষিণ আফ্রিকা।  ১৪৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করা প্রোটিয়ারা ৯৯ রানেই হারিয়ে ফেলে ৮ উইকেট। তিন বছর পর পাকিস্তানের টেস্ট দলে ফেলা পেসার মোহাম্মদ আব্বাস ৬ উইকেট নিয়েই দারুণ এক জয়ের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছিলেন পাকিস্তানকে। কিন্তু মার্কো ইয়ানসেনের সঙ্গে মিলে পাকিস্তানিদের সেই স্বপ্ন কেড়ে নিলেন কাগিসো রাবাদা।

আব্বাসের করা ইনিংসের ৪০তম ওভারের তৃতীয় বলটাকে মার্কো ইয়ানসেন পয়েন্ট অঞ্চল দিয়ে সীমানাছাড়া করতেই ‘বিশ্বজয়ের’ উদ্‌যাপনে মাতল দক্ষিণ আফ্রিকানরা। প্রায় হেরে বসা ম্যাচে এমনভাবে জিতেই বিশ্বজয়ের আরেকটু কাছে পৌঁছে গেল দলটি। ২ উইকেটের এই জয়েই যে প্রথম দল হিসেবে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের তৃতীয় চক্রের ফাইনাল খেলা নিশ্চিত করে ফেলল দক্ষিণ আফ্রিকা

শেষ চারটি মেরে যখন দলকে জেতালেন ইয়ানসেন, তাঁর নামের পাশে অপরাজিত ১৬ রান। ৫০ রানের নবম উইকেট জুটিতে সঙ্গী রাবাদার রান ২৬ বলে ৩১।

দক্ষিণ আফ্রিকা দিনটা শুরু করেছিল ৩ উইকেটে ২৭ রান নিয়ে। দলটির ভরসা হয়ে টিকে ছিলেন এইডেন মার্করাম। আগের দিন দক্ষিণ আফ্রিকার তোলা ২৭ রানের ২২-ই এসেছিল তাঁর ব্যাট থেকে। সেই মার্করাম আজ অধিনায়ক টেম্বা বাভুমাকে নিয়ে দিনের প্রথম ঘণ্টাটা নিরাপদেই পাড়ি দেন। ৩ উইকেটে ৬২ রান নিয়ে ড্রিংকস বিরতিতে যায় প্রোটিয়ারা।

বিরতির পর খেলা শুরু হতেই বদলে যায় সব। প্রথম ওভারেই মোহাম্মদ আব্বাসের কিছুটা নিচু হয়ে যাওয়া নিখুঁত লেংথের এক বলে বোল্ড মার্করাম (৬৩ বলে ৩৭ রান)। মার্করাম বিদায় নিলেও অবিচলই ছিলেন বাভুমা। ডেভিড বেডিংহামকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে ৩৪ রান যোগ করে ফেলেন অধিনায়ক।

এরপর কী যেন হলো বাভুমার। আব্বাসের করা মোটামুটি নিরীহ এক বলকে আড়াআড়ি ব্যাট চালিয়ে মিড উইকেট দিয়ে সীমানাছাড়া করতে চেয়েছিলেন প্রোটিয়া অধিনায়ক। কিন্তু বলটি বাভুমার ব্যাটে বাতাস লাগিয়ে চলে যায় মোহাম্মদ রিজওয়ানের গ্লাভসে। হালকা শব্দ শুনেই আউট দিয়ে দেন আম্পায়ার। সেটি মেনে ড্রেসিংরুমে ফিরে যান বাভুমা। সেখানে ফিরে নিশ্চিত সতীর্থদের ভর্ৎসনা শুনেছেন বাভুমা, টিভি রিপ্লেতে যে আলট্রা এজ প্রযুক্তি বল ব্যাটের সংযোগের প্রমাণ দিতে পারেনি। এই ঘটনার সময় দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ২৯.৪ ওভারে ৯৬/৫।

পরের ওভারের নাসিম শাহ বোল্ড করে দেন কাইল ভেরেইনাকে। ৯৯ রানের প্রতিপক্ষের ৬ উইকেট তুলে নিয়ে হঠাৎই জয়ের সুবাস পেতে শুরু করা পাকিস্তানকে পরের ওভারে আরও ২টি উইকেট এনে দেন আব্বাস। ডেভিড বেডিংহামকে কিছুটা শর্ট বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করার পরের বলেই অভিষিক্ত করবিন বশকেও একইভাবে ফেরান আব্বাস।

তাতে ৪ বলের মধ্যে ৯৯/৫ থেকে ৯৯/৮ হয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। আর তিন বছর পর টেস্টে ফিরেই ক্যারিয়ারসেরা বোলিং পেয়ে যান আব্বাস। ২৬ টেস্টের ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৬ উইকেট পেয়ে পেছনে ফেলেন ২০১৮ সালে আবুধাবিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গড়া রেকর্ডকে (৫/৩৩)।

ক্রিকেটের বিশ্ব মঞ্চে বারবার চাপের মুখে ভেঙে পড়ার ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করছে দক্ষিণ আফ্রিকা, এমনটাই মনে হচ্ছিল তখন। কিন্তু রাবাদা ও ইয়ানসেনের ইতিহাসের উল্টো স্রোতে হাঁটার ইচ্ছেই হলো। আব্বাসের সেই ওভারে চতুর্থ বলে চার মেরেই চাপটাপ সব দূরে সরানোর কাজ শুরু করেন রাবাদা। আর কোনো উইকেট না হারিয়ে দলের স্কোরটাকে ১১৬ রানে নিয়ে লাঞ্চে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

এরপর খেয়েদেয়ে মাঠে ফিরে ৬ ওভারের মধ্যেই পাকিস্তানের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে অবিশ্বাস্য সেই জয় রাবাদা-ইয়ানসেনদের।

৩ জানুয়ারি কেপটাউনে শুরু হবে সিরিজের শেষ টেস্ট।




নিউজিল্যান্ড: হিসাবে রাখতেই হবে

বিশ্ব আসরে ‘ডার্ক হর্স’ তকমা নিউজিল্যান্ডের জন্য অপরিচিত নয়। কিন্তু দিন শেষে সবচেয়ে ধারাবাহিক দলগুলোর ছোট তালিকাতেই থাকে তারা। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপও ব্যতিক্রম নয়। শুধু ট্রফিটাই ছুঁয়ে দেখা হয়নি তাদের। সর্বশেষ তিনটি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলা একমাত্র দল নিউজিল্যান্ড। এর মধ্যে ২০২১ সালে ফিরতে হয়েছে রানার্সআপ হয়ে। সেটাই এখন পর্যন্ত দলটির সেরা অর্জন।

এবারও ফেবারিট তকমা হয়তো সেভাবে নেই, তবে ভারসাম্যপূর্ণ দলটিকে কেউ হিসাবের বাইরে রাখতে চাইবেন না। নিউজিল্যান্ডের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে চারটি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন উইলিয়ামসন। চোট, বিশ্রাম আর পিতৃত্বকালীন ছুটি মিলিয়ে অবশ্য দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টি থেকে দূরে ছিলেন। ২০২২ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর নিউজিল্যান্ডের প্রথম ৩৫টি টি–টোয়েন্টির মধ্যে মাত্র দুটিতে খেলেছিলেন উইলিয়ামসন।

দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিউই নির্বাচকেরা যে অভিজ্ঞতাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন, সেটা সর্বশেষ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সঙ্গে এবারের দলটিকে মেলালেই বোঝা যায়। গত আসরের দল থেকে বাদ পড়েছেন মাত্র দুজন—মার্টিন গাপটিল আর অ্যাডাম মি। তাঁদের জায়গায় সুযোগ পাওয়া রাচিন রবীন্দ্র ও ম্যাট হেনরির এটাই হতে চলেছে প্রথম টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।

১৫ সদস্যের দলে সবচেয়ে অভিজ্ঞ টিম সাউদি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক সাউদি খেলবেন সপ্তম টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। অন্যদিকে সাউদির দীর্ঘদিনের বোলিং সঙ্গী ট্রেন্ট বোল্টের এটি হবে পঞ্চম টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সাউদি–বোল্ট জুটির সঙ্গে লকি ফার্গুসন ও ম্যাট হেনরিকে নিয়ে গড়া পেস আক্রমণ যেকোনো দলকে ঝামেলায় ফেলতে পারে। দুই পেস বোলিং অলরাউন্ডার জিমি নিশাম ও ড্যারিল মিচেলও ক্যারিবীয় কন্ডিশনে কার্যকরী হতে পারেন।

স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার মিচেল স্যান্টনার ও গ্লেন ফিলিপসও বেশ ধারাবাহিক। ছন্দে আছেন লেগ স্পিনার ইশ সোধিও। চোটের কারণে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ মিস করা আরেক স্পিন অলরাউন্ডার মাইকেল ব্রেসওয়েলও দলে ফিরেছেন। শীর্ষ সারির ক্রিকেটাররা আইপিএলে ব্যস্ত থাকায় গত এপ্রিলে পাকিস্তান সফরে যায় দ্বিতীয় সারির দল, তাতে নেতৃত্ব দেন ব্রেসওয়েলই। পূর্ণ শক্তির পাকিস্তানের বিপক্ষে সে সিরিজ ড্র করে নিউজিল্যান্ড।

ব্যাটিং লাইনআপও বেশ শক্তিশালী। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে উড়ন্ত শুরু এনে দিতে পারেন ফিন অ্যালেন। রবীন্দ্রও পাওয়ারপ্লের সুবিধা কাজে লাগিয়ে দ্রুত রান তুলতে পারেন। চোটের কারণে আইপিএল মিস করা ডেভন কনওয়ে ফিরবেন বিশ্বকাপ দিয়ে। দলের প্রথম পছন্দের উইকেটকিপারও কনওয়ে। টপ অর্ডার ব্যর্থ হলে মিডল অর্ডারে দলের হাল ধরতে আছেন উইলিয়ামসন ও মিচেল। শেষ দিকে মার্ক চ্যাপম্যান, ফিলিপস, নিশামরা বদলে দিতে পারেন ম্যাচের গতিপথ। সাম্প্রতিক সময়ে ফিনিশারের ভূমিকায় দারুণ করেছেন চ্যাপম্যান, যা নিউজিল্যান্ডের জন্য বাড়তি পাওনা।




ঋতুপর্ণার স্বপ্নপূরণ

বাহারি চুলের ফুটবলকন্যা মাঠে আরও রঙিন। তার বাঁ পায়ের ফুটবলশৈলীতে শুধুই ছড়ায় মুগ্ধতা। অসাধারণ ড্রিবলিংয়ের সঙ্গে চোখ ধাঁধানো ফ্রি কিক; ঋতুপর্ণা চাকমা যেন বাংলাদেশের নারী ফুটবলের পোস্টার গার্ল। অতটা আলোচনায় না এলেও মধ্যমাঠের শিল্পী হিসেবে বেশ সুনাম তাঁর। 

গতকাল কাঠমান্ডুতে নারী সাফের ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে ৮১ মিনিটে যে গোলটি করেছিলেন তিনি, ধারাভাষ্যকাররা বলতে বাধ্য হয়েছেন ‘ওয়ান্ডারফুল’। গোল করার পর নিজের মুখে আঙুল দিয়ে ঋতুপর্ণা ভরা গ্যালারিকে চুপ থাকতে বলেছেন। তাঁর এই গোলেই দশরথের ১৬ হাজারের মতো দর্শক শুধুই চুপই হননি, বাংলাদেশের মেয়েরা যে গড়েছেন অনন্য কীর্তি। বড় কোনো ট্রফি জিতে ধরে রাখার কীর্তি ছেলেরাও পারেনি। সেটিই এবার করে দেখিয়েছেন সাবিনারা।

বুধবার টুর্নামেন্টের ফাইনালে নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জেতা বাংলাদেশের এই সাফল্যের অন্যতম কারিগর তো রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার মোগাছড়ি গ্রামের কন্যা ঋতুপর্ণা। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আপন আলোয় উজ্জ্বল থাকা এ মিডফিল্ডার করেছেন দুই গোল। তবে গোলের জন্য নয়, নজরকাড়া পারফরম্যান্স আর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো বেশ কয়েকটি গল্প লেখায় এবারের আসরে সেরা ফুটবলারের পুরস্কারটি উঠেছে ঋতুপর্ণার হাতে।

পুরস্কার মঞ্চে দাঁড়িয়ে কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলা এ প্লে-মেকার ভাসছেন স্বপ্নপূরণের উচ্ছ্বাসে, ‘এই মুহূর্তে খুবই ভালো লাগছে। আমি সত্যিই খুব আনন্দিত। এই স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। আমি আসলে ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। আমরা দ্বিতীয়বারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। আমার পরিবার আমাকে অনেক সাপোর্ট করেছে। বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। সমর্থকদের দোয়ায় আমরা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছি।’

বাঁ প্রান্ত দিয়ে ঋতুপর্ণা যখন আক্রমণ শানান, তখন প্রতিপক্ষ হয়ে যায় এলেমেলো। ভুটানের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ম্যাচের ৭ মিনিটে তাঁর বাঁ পায়ের বুলেটগতির শটই চলে যায় জালে। অথচ তার আগ পর্যন্ত গোল না পাওয়ার আক্ষেপ ছিল তাঁর কণ্ঠে। শেষ চারে সেই আক্ষেপ পূরণের পর ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে করেছেন জয়সূচক গোল।

বড় ম্যাচের ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা ঋতুপর্ণার জীবনে ২০২২ সালে নেমে এসেছিল আঁধার। ওই বছরের জুনে আদরের ছোট ভাই পার্বন চাকমার মৃত্যুটি তাঁর জন্য বড় আঘাত হয়ে এসেছিল। এরপর সিনিয়র সাফ জেতার সঙ্গে যত কিছুই অর্জন করেছেন, প্রতিবারই প্রিয় ভাই পার্বনকে মনে করেছিলেন। এবারও হয়তো টুর্নামেন্ট সেরার ট্রফিটা প্রয়াত ছোট ভাইকে উৎসর্গ করেছেন মধ্যমাঠের শিল্পী ঋতুপর্ণা চাকমা।




৬৫১ দিন টেস্টে ফিফটি নেই বাবরের, দুর্দশা কাটবে কবে

টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাট উঁচিয়ে ধরতে বাবর আজম বোধ হয় ভুলেই গেছেন! এমনটা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। সাদা পোশাকের ক্রিকেটে সর্বশেষ পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস খেলেছেন ২০২২ সালের ডিসেম্বরে। এরপর তো সময় কম হয়নি। দিনের হিসাবে ৬৫১ দিন।

কাল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সুযোগ এসেছিল। সেই সুযোগটাও কাজে লাগাতে পারেননি। মুলতানের ব্যাটিং–স্বর্গে দিনের একেবারে শেষ দিকে ক্রিস ওকসের বলে আউট হয়েছেন ৩০ রান করে।

২০২২ সালের ডিসেম্বরে বাবরের খেলা শেষ পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংসটি ছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। করাচিতে করেছিলেন ১৬১ রান। এরপর যে কী হলো! সেই ইনিংসের পর এই সংস্করণে বাবর খেলেছেন ১৭ ইনিংস।

যেখানে তাঁর সর্বোচ্চ ইনিংস ৪১ রানের, অস্ট্রেলিয়া সফরে। এই ১৭ ইনিংসে বাবরের গড় মাত্র ২১.২৩। টেস্ট ক্যারিয়ারে এত দীর্ঘ সময়ে কখনোই ব্যাট না উঁচিয়ে থাকেননি বাবর। এর আগে ২০১৬ সালের নভেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে টানা ৭ ইনিংসে ফিফটি পাননি। কোথায় ৭ ইনিংস, কোথায় ১৭!

ফিফটির খরায় ভোগা বাবর অবশ্য এই খারাপ সময়েও বেশির ভাগ ম্যাচেই ভালো শুরু পেয়েছেন। এই ১৭ ইনিংসের মধ্যে ১২ ইনিংসেই ২০ রানের বেশি করেছেন বাবর। অর্থাৎ তিনি শুরুটা পাচ্ছেন। তবে সেটা ধরতে রাখতে পারছেন না। তবে এমন খারাপ সময় কাটানোর পরও টেস্টে বাবরের গড় ৪৪.৩৫। এই বাজে সময়ের আগে টেস্টে বাবরের গড় ছিল প্রায় ৫০।

বাবরের বর্তমান গড়ের যেকোনো ব্যাটসম্যানকেই আসলে নির্দ্বিধায় ভালো বলা যায়। আর তাঁর এমন ভালো গড়ের মূল কারণে ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়টা।
২০১৯ সালের শুরু থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত টেস্টে বাবরের গড় ছিল প্রায় ৬০। এই সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় বাবরের গড় ৫০-এর বেশি—৫২.৫০।

ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজে বাবর ব্যাটিং করেছেন ৪৮ গড়ে, শ্রীলঙ্কার মাটিতে তো প্রায় ৭০ আর দেশের মাটিতে বাবর ব্যাটিং করেছেন ৭৫ গড়ে। এই সময়টায় বাবরের দারুণ পারফরম্যান্সের কারণেই মূলত বিরাট কোহলি, জো রুটদের সঙ্গে তাঁর তুলনার কথা উঠেছিল। তবে এখন বোধ হয় সে তুলনাটাই আর আসবে না!

ফর্মে ফেরার জন্য ইংল্যান্ড সিরিজে বাবর আরও সুযোগ পাবেন। তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজের পরের টেস্টটিও মুলতানে, শেষ টেস্ট রাওয়ালপিন্ডিতে। অর্থাৎ আগামী দুই টেস্টেও মোটামুটি ব্যাটিং–স্বর্গেই ব্যাট করবেন বাবর। সুযোগটা শুধু পারলেই হয়!




ম্যাকগার্ককে বিশ্বকাপের দলে চান ক্লার্ক

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের নতুন পাওয়ার হিটার জ্যাক ফ্রেজার-ম্যাকগার্ককে আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য জাতীয় দলে দেখতে চান দেশটির সাবেক অধিনায়ক মাইকেল 

চলতি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ম্যাকগার্কের পাওয়ার হিটিংয়ে মুগ্ধ হয়েছেন ক্লার্ক। তিনি জানান, ম্যাকগার্কের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের কারনে বিশ্বকাপের জন্য তাকে ভাবতে হবে নির্বাচকদের।

এবারের আইপিএলে প্রথমবারের মত খেলার সুযোগ পান ম্যাকগার্ক। লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে আইপিএলে অভিষেক ম্যাচেই চমক দেখান তিনি। তিন নম্বরে নেমে ১৫৭ স্ট্রাইক রেটে ২টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৩৫ বলে ৫৫ রান করেন এই ডান-হাতি ব্যাটার।

এরপর সানরাইজার্স হায়দারাবাদের বিপক্ষে নিজের ভয়ংকর রুপ দেখান ম্যাকগার্ক। ৩৬১ স্ট্রাইক রেটে ৫টি চার ও ৭টি ছক্কায় ১৮ বলে ৬৫ রান করেন তিনি। ঐ ম্যাচে ১৫ বলে হাফ-সেঞ্চুরি করে এবারের আইপিএল দ্রুততম অর্ধশতকের রেকর্ড গড়েন তিনি। এ ম্যাচেই থেমে যায়নি ম্যাকগর্কের পাওয়ার হিটিং।

গতকাল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে ওপেনার হিসেবে নামেন ম্যাকগার্ক। এবার মুম্বাইয়ের বোলারদের তুলোধুনো করে আবারও ১৫ বলে হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। নিজের রেকর্ড স্পর্শ করা ম্যাচে ৩১১ স্ট্রাইক রেটে ১১টি বাউন্ডারি ও ৬টি ওভার বাউন্ডারিতে ২৭ বলে ৮৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন ম্যাকগার্ক।

দিল্লির হয়ে এখন পর্যন্ত ৫ ইনিংসে ২৩৭ স্ট্রাইক রেটে ও ৪৯ গড়ে ২৪৭ রান করেছেন ম্যাকগার্ক। এমন বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের কারণেই আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া দলে ম্যাকগার্ককে চান অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক ক্লার্ক।

আইপিএলের ম্যাচ চলাকালীন ধারাভাষ্যকক্ষে ক্লার্ক বলেন, ‘ম্যাকগার্ককে নিয়ে এখন ভাবতে হবে নির্বাচকদের। দল সাজানোর জন্য আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। সত্যি বলতে, সে যেভাবে খেলছে তাকে বাদ দেওয়া কঠিন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি ওয়েস্ট ইন্ডিজেও কন্ডিশন একই হবে। স্লোয়ার উইকেটে পাওয়ার প্লেতে অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন।  নিজের সম্ভাবনা তৈরি করেছে সে এবং আমি তাকে ১৫ জনের দলে দেখতে চাই।’