ঋতুপর্ণার স্বপ্নপূরণ

বাহারি চুলের ফুটবলকন্যা মাঠে আরও রঙিন। তার বাঁ পায়ের ফুটবলশৈলীতে শুধুই ছড়ায় মুগ্ধতা। অসাধারণ ড্রিবলিংয়ের সঙ্গে চোখ ধাঁধানো ফ্রি কিক; ঋতুপর্ণা চাকমা যেন বাংলাদেশের নারী ফুটবলের পোস্টার গার্ল। অতটা আলোচনায় না এলেও মধ্যমাঠের শিল্পী হিসেবে বেশ সুনাম তাঁর। 

গতকাল কাঠমান্ডুতে নারী সাফের ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে ৮১ মিনিটে যে গোলটি করেছিলেন তিনি, ধারাভাষ্যকাররা বলতে বাধ্য হয়েছেন ‘ওয়ান্ডারফুল’। গোল করার পর নিজের মুখে আঙুল দিয়ে ঋতুপর্ণা ভরা গ্যালারিকে চুপ থাকতে বলেছেন। তাঁর এই গোলেই দশরথের ১৬ হাজারের মতো দর্শক শুধুই চুপই হননি, বাংলাদেশের মেয়েরা যে গড়েছেন অনন্য কীর্তি। বড় কোনো ট্রফি জিতে ধরে রাখার কীর্তি ছেলেরাও পারেনি। সেটিই এবার করে দেখিয়েছেন সাবিনারা।

বুধবার টুর্নামেন্টের ফাইনালে নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জেতা বাংলাদেশের এই সাফল্যের অন্যতম কারিগর তো রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার মোগাছড়ি গ্রামের কন্যা ঋতুপর্ণা। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আপন আলোয় উজ্জ্বল থাকা এ মিডফিল্ডার করেছেন দুই গোল। তবে গোলের জন্য নয়, নজরকাড়া পারফরম্যান্স আর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো বেশ কয়েকটি গল্প লেখায় এবারের আসরে সেরা ফুটবলারের পুরস্কারটি উঠেছে ঋতুপর্ণার হাতে।

পুরস্কার মঞ্চে দাঁড়িয়ে কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলা এ প্লে-মেকার ভাসছেন স্বপ্নপূরণের উচ্ছ্বাসে, ‘এই মুহূর্তে খুবই ভালো লাগছে। আমি সত্যিই খুব আনন্দিত। এই স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। আমি আসলে ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। আমরা দ্বিতীয়বারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। আমার পরিবার আমাকে অনেক সাপোর্ট করেছে। বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। সমর্থকদের দোয়ায় আমরা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছি।’

বাঁ প্রান্ত দিয়ে ঋতুপর্ণা যখন আক্রমণ শানান, তখন প্রতিপক্ষ হয়ে যায় এলেমেলো। ভুটানের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ম্যাচের ৭ মিনিটে তাঁর বাঁ পায়ের বুলেটগতির শটই চলে যায় জালে। অথচ তার আগ পর্যন্ত গোল না পাওয়ার আক্ষেপ ছিল তাঁর কণ্ঠে। শেষ চারে সেই আক্ষেপ পূরণের পর ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে করেছেন জয়সূচক গোল।

বড় ম্যাচের ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা ঋতুপর্ণার জীবনে ২০২২ সালে নেমে এসেছিল আঁধার। ওই বছরের জুনে আদরের ছোট ভাই পার্বন চাকমার মৃত্যুটি তাঁর জন্য বড় আঘাত হয়ে এসেছিল। এরপর সিনিয়র সাফ জেতার সঙ্গে যত কিছুই অর্জন করেছেন, প্রতিবারই প্রিয় ভাই পার্বনকে মনে করেছিলেন। এবারও হয়তো টুর্নামেন্ট সেরার ট্রফিটা প্রয়াত ছোট ভাইকে উৎসর্গ করেছেন মধ্যমাঠের শিল্পী ঋতুপর্ণা চাকমা।




৬৫১ দিন টেস্টে ফিফটি নেই বাবরের, দুর্দশা কাটবে কবে

টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাট উঁচিয়ে ধরতে বাবর আজম বোধ হয় ভুলেই গেছেন! এমনটা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। সাদা পোশাকের ক্রিকেটে সর্বশেষ পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস খেলেছেন ২০২২ সালের ডিসেম্বরে। এরপর তো সময় কম হয়নি। দিনের হিসাবে ৬৫১ দিন।

কাল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সুযোগ এসেছিল। সেই সুযোগটাও কাজে লাগাতে পারেননি। মুলতানের ব্যাটিং–স্বর্গে দিনের একেবারে শেষ দিকে ক্রিস ওকসের বলে আউট হয়েছেন ৩০ রান করে।

২০২২ সালের ডিসেম্বরে বাবরের খেলা শেষ পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংসটি ছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। করাচিতে করেছিলেন ১৬১ রান। এরপর যে কী হলো! সেই ইনিংসের পর এই সংস্করণে বাবর খেলেছেন ১৭ ইনিংস।

যেখানে তাঁর সর্বোচ্চ ইনিংস ৪১ রানের, অস্ট্রেলিয়া সফরে। এই ১৭ ইনিংসে বাবরের গড় মাত্র ২১.২৩। টেস্ট ক্যারিয়ারে এত দীর্ঘ সময়ে কখনোই ব্যাট না উঁচিয়ে থাকেননি বাবর। এর আগে ২০১৬ সালের নভেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে টানা ৭ ইনিংসে ফিফটি পাননি। কোথায় ৭ ইনিংস, কোথায় ১৭!

ফিফটির খরায় ভোগা বাবর অবশ্য এই খারাপ সময়েও বেশির ভাগ ম্যাচেই ভালো শুরু পেয়েছেন। এই ১৭ ইনিংসের মধ্যে ১২ ইনিংসেই ২০ রানের বেশি করেছেন বাবর। অর্থাৎ তিনি শুরুটা পাচ্ছেন। তবে সেটা ধরতে রাখতে পারছেন না। তবে এমন খারাপ সময় কাটানোর পরও টেস্টে বাবরের গড় ৪৪.৩৫। এই বাজে সময়ের আগে টেস্টে বাবরের গড় ছিল প্রায় ৫০।

বাবরের বর্তমান গড়ের যেকোনো ব্যাটসম্যানকেই আসলে নির্দ্বিধায় ভালো বলা যায়। আর তাঁর এমন ভালো গড়ের মূল কারণে ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়টা।
২০১৯ সালের শুরু থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত টেস্টে বাবরের গড় ছিল প্রায় ৬০। এই সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় বাবরের গড় ৫০-এর বেশি—৫২.৫০।

ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজে বাবর ব্যাটিং করেছেন ৪৮ গড়ে, শ্রীলঙ্কার মাটিতে তো প্রায় ৭০ আর দেশের মাটিতে বাবর ব্যাটিং করেছেন ৭৫ গড়ে। এই সময়টায় বাবরের দারুণ পারফরম্যান্সের কারণেই মূলত বিরাট কোহলি, জো রুটদের সঙ্গে তাঁর তুলনার কথা উঠেছিল। তবে এখন বোধ হয় সে তুলনাটাই আর আসবে না!

ফর্মে ফেরার জন্য ইংল্যান্ড সিরিজে বাবর আরও সুযোগ পাবেন। তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজের পরের টেস্টটিও মুলতানে, শেষ টেস্ট রাওয়ালপিন্ডিতে। অর্থাৎ আগামী দুই টেস্টেও মোটামুটি ব্যাটিং–স্বর্গেই ব্যাট করবেন বাবর। সুযোগটা শুধু পারলেই হয়!




ম্যাকগার্ককে বিশ্বকাপের দলে চান ক্লার্ক

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের নতুন পাওয়ার হিটার জ্যাক ফ্রেজার-ম্যাকগার্ককে আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য জাতীয় দলে দেখতে চান দেশটির সাবেক অধিনায়ক মাইকেল 

চলতি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ম্যাকগার্কের পাওয়ার হিটিংয়ে মুগ্ধ হয়েছেন ক্লার্ক। তিনি জানান, ম্যাকগার্কের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের কারনে বিশ্বকাপের জন্য তাকে ভাবতে হবে নির্বাচকদের।

এবারের আইপিএলে প্রথমবারের মত খেলার সুযোগ পান ম্যাকগার্ক। লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে আইপিএলে অভিষেক ম্যাচেই চমক দেখান তিনি। তিন নম্বরে নেমে ১৫৭ স্ট্রাইক রেটে ২টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৩৫ বলে ৫৫ রান করেন এই ডান-হাতি ব্যাটার।

এরপর সানরাইজার্স হায়দারাবাদের বিপক্ষে নিজের ভয়ংকর রুপ দেখান ম্যাকগার্ক। ৩৬১ স্ট্রাইক রেটে ৫টি চার ও ৭টি ছক্কায় ১৮ বলে ৬৫ রান করেন তিনি। ঐ ম্যাচে ১৫ বলে হাফ-সেঞ্চুরি করে এবারের আইপিএল দ্রুততম অর্ধশতকের রেকর্ড গড়েন তিনি। এ ম্যাচেই থেমে যায়নি ম্যাকগর্কের পাওয়ার হিটিং।

গতকাল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে ওপেনার হিসেবে নামেন ম্যাকগার্ক। এবার মুম্বাইয়ের বোলারদের তুলোধুনো করে আবারও ১৫ বলে হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। নিজের রেকর্ড স্পর্শ করা ম্যাচে ৩১১ স্ট্রাইক রেটে ১১টি বাউন্ডারি ও ৬টি ওভার বাউন্ডারিতে ২৭ বলে ৮৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন ম্যাকগার্ক।

দিল্লির হয়ে এখন পর্যন্ত ৫ ইনিংসে ২৩৭ স্ট্রাইক রেটে ও ৪৯ গড়ে ২৪৭ রান করেছেন ম্যাকগার্ক। এমন বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের কারণেই আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া দলে ম্যাকগার্ককে চান অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক ক্লার্ক।

আইপিএলের ম্যাচ চলাকালীন ধারাভাষ্যকক্ষে ক্লার্ক বলেন, ‘ম্যাকগার্ককে নিয়ে এখন ভাবতে হবে নির্বাচকদের। দল সাজানোর জন্য আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। সত্যি বলতে, সে যেভাবে খেলছে তাকে বাদ দেওয়া কঠিন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি ওয়েস্ট ইন্ডিজেও কন্ডিশন একই হবে। স্লোয়ার উইকেটে পাওয়ার প্লেতে অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন।  নিজের সম্ভাবনা তৈরি করেছে সে এবং আমি তাকে ১৫ জনের দলে দেখতে চাই।’

 




বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের নেতৃত্বে উইলিয়ামসন

কেন উইলিয়ামসনকে অধিনায়ক করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নবম আসরের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট (এনজেডসি)।

আগামী ২ থেকে ৩০ জুন যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এবারের আসরের জন্য সবার আগে দল দিল নিউজিল্যান্ড। সোমবার তারা দল ঘোষণার সাথে ১৯৯৯ বিশ্বকাপের আদলে নিজেদের জার্সিও উন্মোচন করে।

অধিনায়ক হিসেবে চতুর্থবারের মত কিউইদের নেতৃত্ব দিবেন উইলিয়ামসন। সব মিরিয়ে ষষ্ঠবার খেলবেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।

সপ্তম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে নামবেন নিউজিল্যান্ডের টেস্ট দলের অধিনায়ক টিম সাউদি। টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ ১৫৭ উইকেটের মালিক ৩৫ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ পেসার।

ক্যারিয়ারে পঞ্চমবারের মত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মাতাবেন আরেক অভিজ্ঞ পেসার ট্রেন্ট বোল্ট। সাউদির সাথে বোলিং আক্রমনে থাকবেন এই ৩৪ বছর বয়সী।

প্রথমবারের মত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে দেখা যাবে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে উদীয়মান ক্রিকেটার হিসেবে মনোনয়নের তালিকায় থাকা পেসার ম্যাট হেনরি এবং ব্যাটিং অলরাউন্ডার রাচিন রবীন্দ্রকে।

নিউজিল্যান্ডের প্রধান কোচ গ্যারি স্টিড বলেন, ‘আপনি যখন বিশ্বকাপে খেলতে যাবেন তখন আপনার অভিজ্ঞতার দরকার হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি দারুন একটি দল যেখানে ভারসাম্য, উইকেট এবং কন্ডিশন বিবেচনা করে আমাদের কেনের মত অনেক বিকল্প আছে।’

ইনজুরির কারণে দলে সুযোগ হয়নি পেসার এডাম মিলনে এবং কাইল জেমিসনের।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নিউজিল্যান্ড দল: কেন উইলিয়ামসন (অধিনায়ক), ফিন অ্যালেন, ট্রেন্ট বোল্ট, মাইকেল ব্রেসওয়েল, মার্ক চ্যাপম্যান, ডেভন কনওয়ে, লুকি ফার্গুসন, ম্যাট হেনরি, ড্যারিল মিচেল, জিমি নিশাম, গ্লেন ফিলিপস, রাচিন রবীন্দ্র, মিচেল স্যান্টনার, ইশ সোধি ও টিম সাউদি।

 




উইকেট শিকারীদের তালিকায় শীর্ষে ফিরলেন মুস্তাফিজ

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে চেন্নাই সুপার কিংসের বড় জয়ের ম্যাচে টুর্নামেন্টে উইকেট শিকারী বোলারদের তালিকার শীর্ষে ফিরেছেন বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান।

রোববার রাতে টুর্নামেন্টের ৪৬তম ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দারাবাদকে ৭৮ রানে হারিয়েছে চেন্নাই।

এ ম্যাচে ২.৫ ওভার বল করে ১৯ রানে ২ উইকেট নেন মুস্তাফিজ। এর ফলে দুই পেসার মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের জসপ্রিত বুমরাহ ও পাঞ্চাব কিংসের হার্সাল প্যাটেলের সাথে ১৪ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে তালিকার শীর্ষে ফিরলেন মুস্তাফিজ। বুমরাহ ও প্যাটেল ৯টি করে এবং মুস্তাফিজ ৮টি ম্যাচ খেলেছেন।

নিজেদের মাঠে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় ওভারে ওপেনার আজিঙ্কা রাহানে ৯ রানে আউট হলেও অধিনায়ক ঋুতুরাজ গায়কোয়াড় ও নিউজিল্যান্ডের ড্যারিল মিচেলের জোড়া হাফ-সেঞ্চুরিতে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২১২ রানের বড় সংগ্রহ পায় চেন্নাই।

জবাবে খেলতে নেমে চেন্নাইয়ের বোলারদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পন করেন হায়দারাবাদ। ৭ বল বাকী থাকতে ১৩৪ রানে অলআউট হয় তারা।

ম্যাচে নিজের প্রথম ওভারে ৮ ও দ্বিতীয় ওভারে ৫ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন মুস্তাফিজ। ১৯তম ওভারে তৃতীয়বারের মত আক্রমনে এসে ৫ বলে ৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন কাটার মাস্টার।

আইপিএলে বোলারদের পার্পল ক্যাপ জেতার প্রধান মানদণ্ড উইকেটসংখ্যা। একাধিক বোলার সমানসংখ্যক উইকেট পেলে ম্যাচ বা স্ট্রাইক রেট দেখা হয় না। বিবেচনায় নেওয়া হয় ইকোনমি, অর্থাৎ ওভারপ্রতি কে কেমন রান দিয়েছেন। ঠিক এ জায়গাতেই বুমরার চেয়ে পিছিয়ে মোস্তাফিজ। মুম্বাইয়ের বুমরা এখন পর্যন্ত ৩৬ ওভার বল করে দিয়েছেন ২৩৯ রান, ওভারপ্রতি ৬.৬৩ করে। আর মোস্তাফিজ ৩০.২ ওভারে ২৯৬ রান দিয়েছেন ৯.৭৫ ইকোনমিতে।

পাঞ্জাবের হার্শাল অবশ্য রান দিয়েছেন আরও বেশি হারে—ওভারপ্রতি ১০.১৮ করে। সব মিলিয়ে পার্পল ক্যাপের লড়াইয়ে বুমরা এখন এক নম্বরে, মোস্তাফিজ দুই আর হার্শাল তিন নম্বরে।

 




দারুণ জয়ে প্রিমিয়ার লিগে টিকে রইল রূপগঞ্জ

দুই দলের জন্যই ম্যাচটি ছিল বাঁচা-মরার। সেই লড়াইয়ে কোনো বিভাগেই প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারল না গাজী টায়ার্স ক্রিকেট একাডেমি। তাদের উড়িয়ে প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের টিকে থাকা নিশ্চিত করেছে রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাব।

বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে সোমবার ৭ উইকেটে জেতে রূপগঞ্জ টাইগার্স। বোলারদের মিলিত প্রচেষ্টায় গাজী টায়ার্সকে ২০৬ রানে গুটিয়ে দেয় দলটি। পরে জয়ের সহজ পথ তৈরি করে দেন দুই ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন। রেলিগেশন লিগের শেষ ম্যাচটিতে ২০৭ রানের লক্ষ্য ৯৫ বল বাকি থাকতেই ছুঁয়ে ফেলে তারা।

রূপগঞ্জ টাইগার্স সব মিলিয়ে ১৩ ম্যাচে জিতল ৪টিতে। আগের ম্যাচে সিটি ক্লাবের বিপক্ষে জিতলেও শেষ ম্যাচ হেরে আবার প্রথম বিভাগে নেমে গেল গাজী টায়ার্স। প্রথমবার ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের শীর্ষ পর্যায়ে এসে স্রেফ এক আসর টিকতে পারল তারা।

গাজী টায়ার্সের আগেই অবনমিত হয়েছে ১৩ ম্যাচে স্রেফ ২ জয় পাওয়া সিটি ক্লাব। এই দুই দলের জায়গায় প্রথম বিভাগ থেকে উন্নীত হয়ে আগামী মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগ খেলবে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ও গুলশান ক্রিকেট ক্লাব।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে গাজী টায়ার্সের প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানই দুই অঙ্ক স্পর্শ করেন। কিন্তু ইনিংস টেনে লম্বা করতে পারেননি কেউই।

সাত নম্বরে নামা অধিনায়ক গাজী তাহজিবুল ইসলামের ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৪৪ বলে ৫২ রানের ইনিংসে কোনোমতে দুইশ পেরোয় দল।

রূপগঞ্জের কোনো বোলার একাধিক উইকেট নিতে পারেননি। তবে আঁটসাঁট বোলিংয়ে সম্মিলিত অবদান রাখেন সবাই।

রান তাড়ায় মাহফিজুল ও জসিমের ব্যাটে ১৫১ বলে ১৫৫ রানের উদ্বোধনী জুটি পায় রূপগঞ্জ টাইগার্স। ২৬তম ওভারে শামিম মিয়ার বলে ফেরেন দুজনই। ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৭৭ বলে ৭৪ রান করেন মাহফিজুল। জসিমের ব্যাট থেকে আসে ৯ চার ও ২ ছক্কায় ৭৫ বলে ৭৭ রান।

চতুর্থ উইকেটে ৩১ বলে ৪১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে জয় নিশ্চিত করেন সালমান হোসেন ও আব্দুল্লাহ আল মামুন।

৭৪ রানের ইনিংসে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন মাহফিজুল। ১১ ম্যাচে ৩ ফিফটিতে ৪১০ রান করে এবারের লিগ শেষ করলেন ২০২২ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলা এই ওপেনার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

গাজী টায়ার্স ক্রিকেট একাডেমি: ৫০ ওভারে ২০৬/৭ (মহব্বত ২৭, ইফতেখার হোসেন ২৭, আশিকুর ১৭, হাফিজুর ২১, শামিম ৩২, আশরাফুল ২, তাহজিবুল ৫২*, ইফতেখার সাজ্জাদ ১৪, আরিদুল ১*; মহিউদ্দিন ১০-০-৩৫-১, আরিফুল ৬-১-১৯-১, মামুন ৮-০-৩৫-০, হাশিম ১০-২-৩৩-১, সোহাগ ১০-০-৪২-১, গালিব ৫-০-২৭-১, আইচ ১-০-১১-০)

রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাব: ৩৪.১ ওভারে ২০৭/৩ (মাহফিজুল ৭৪, জসিম ৭৭, শামসুর ৭, সালমান ২৩*, মামুন ২০*; ইকবাল ৩-০-২৩-০, লিওন ৫-০-১৬-০, আরিদুল ৮-০-৩৮-১, ইফতেখার হোসেন ৪-০-৩৬-০, ইফতেখার সাজ্জাদ ৪-০-২৫-০, হাফিজুর ৩-০-১৭-০, শামিম ৫-০-৪৪-২, আশরাফুল ২.১-০-৮-০)।

ফল: রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাব ৭ উইকেটে জয়ী।




লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে দল কিনল বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান

দেড় মাস পর শুরু হবে শ্রীলঙ্কার ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আসর লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল)। আগামী ১ জুলাই থেকে মাঠে গড়াবে এবারের আসর। তবে, এলপিএলের আগামী আসরে থাকছে না গতবারের রানার্স আপ ডাম্বুলা অরা। নতুন নামে আসছে দলটি, যার মালিকানা থাকছে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে।লঙ্কা গ্রুপের মালিকানায় থাকা ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মালিকানা কিনে নিয়েছে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান ইম্পেরিয়াল স্পোর্টস গ্রুপ।…

লঙ্কা গ্রুপের মালিকানায় থাকা ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মালিকানা কিনে নিয়েছে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান ইম্পেরিয়াল স্পোর্টস গ্রুপ। আসন্ন আসরে নতুন নাম ডাম্বুলা থান্ডার হিসেবে খেলবে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। ইতোমধ্যে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করে ইম্পেরিয়াল স্পোর্টস গ্রুপের দুই কর্ণধার তামিম রহমান ও গোলাম রাকিব দলটির মালিকানা বুঝে নিয়েছেন।

২০২০ সালে ডাম্বুলা ভাইকিংস নামে যাত্রা শুরু করেছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। পরের বছর নাম পাল্টে জায়ান্টস ফ্র্যাঞ্চাইজি নামে খেলে। সর্বশেষ দুই আসরে মালিকানা বদলে ডাম্বুলা অরা নামে খেলেছে তারা। নিজেদের প্রথম মৌসুমে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকলেও গেল মৌসুমে ফাইনালে উঠেছিল দলটি। তবে, ফাইনালে ক্যান্ডির কাছে হেরে যায়।

Advertisement

এলপিএলে দল নিতে পেরে রোমাঞ্চিত ইম্পেরিয়াল স্পোর্টস গ্রুপের দুই কর্ণধার। নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ইম্পেরিয়ালের সহ-প্রতিষ্ঠাতা তামিম বলেন, ‘প্রথমবারের মতো আমরা লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে যুক্ত হচ্ছি। এমন একটা দল গড়ে তুলতে চাই যারা স্পিরিট ও দক্ষতা দিয়ে ক্রীড়া অনুরাগীদের উদাহরণ হবে এবং বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটপ্রেমিদের অনুপ্রাণিত করবে।’

আরেক সহপ্রতিষ্ঠাতা গোলাম রাকিব বলেন, ‘সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করার বাইরেও ডাম্বুলা থান্ডারকে প্রসারিত করাই আমাদের লক্ষ্য। শ্রীলঙ্কার কমিউনিটিতে প্রভাব রাখা, ইতিবাচক পদচিহ্ন রাখা এবং স্থানীয় প্রতিভাবানদের পরিচর্যা করতে কাজ করব। আমরা এখানে জিততে এসেছি।’

Advertisement



বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ১৬০০ মিটার দৌড়ে ক্রিকেটারদের ফিটনেস পরীক্ষা

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম। হোম অব ক্রিকেটের উত্থানের আগে এটিই ছিল ক্রিকেটের সব! সেই ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামের অ্যাথলেটিকস টার্ফে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা দৌড়ে-দৌড়ে যাচাই করেছেন নিজেদের ফিটনেসের অবস্থান।

শনিবার কাক ডাকা ভোরে ক্রিকেটার-কর্মকর্তারা হাজির হন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। যেটা মূলত নতুন ফিজিও নাথান ক্যালির মস্তিস্কপ্রসূত। বিশ্বকাপের আগে ক্রিকেটারদের ফিটনেসের অবস্থা দেখতে মূলত এই ব্যবস্থা। ৩৫ ক্রিকেটার অংশ নেন ১৬০০ মিটার ও ৪০ মিটার স্প্রিন্টে।

ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফিস সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘অ্যাথলেটিকস ট্র্যাক বেছে নেওয়া্র পেছনে আসলে টাইমিংয়ের একটা বিষয় আছে। আমরা যদি আন্তর্জাতিকভাবে অনুসরণ করি তাহলে বেশ কিছু টেস্টিং মেথড আছে, আমরা আজ ১৬শ মিটার টাইম ট্রায়াল নিলাম। অ্যাথলেটিকস ট্র্যাকে যদি নেই, তাহলে প্রপার টাইমিংটা হয়। কারণ ওইভাবেই ক্যালকুলেট করা হয়। এটা ওদের কাছে নতুন মনে হয়েছে। সব মিলিয়ে ভালো।’

ক্রিকেটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন এই দৌড়ে। দুই দলে ভাগ হয়ে দৌড়েছেন সব ক্রিকেটার। ১৬০০ মিটার সবার আগে পার হন দুই তরুণ পেসার নাহিদ রানা ও তানজিম হাসান সাকিব। এখানেই দৌড়ে শেষ নয়, মিরপুর জিমনিশিয়ামে ক্যালির অধীনে চলবে নানা সেশন।

বাংলাদেশের বর্তমান ক্রিকেটারদের মধ্যে এই মাঠে খেলার অভিজ্ঞতা আছে মাত্র দুই ক্রিকেটারের। ২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ঘরোয়া ক্রিকেটের একটি টুর্নামেন্টে খেলেছিলেন তরুণ মাহমুদউল্লাহ। এ ছাড়া খেলেছেন মুশফিকুর রহিমও। ক্রিকেটার থেকে বোর্ডের কর্তা হওয়া শাহরিয়ার নাফিস ও নাফিস ইকবালও খেলেছেন এই মাঠে, দুজনে উপস্থিত ছিলেন আজ।

স্মৃতিরোমান্থন করতে গিয়ে শাহরিয়ার বলেন, ‘১৯৯৪ সালে প্রথম এই মাঠে আসি আমি। অনেক আইকন ক্রিকেটার এখানে খেলতেন। তাদের দেখতে মাঠে আসতাম। ২০০৪ সালে আমার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস এ মাঠে খেলেছি, ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলাম। তখন হয়তো বুঝিনি। কিন্তু এখন বুঝি সেই ইনিংসটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বন্ধুবন্ধু স্টেডিয়ামের প্রত্যেকটা ইঞ্চি ইতিহাস বহন করে। আমাদের প্রজন্মের খেলোয়াড়, শুধু ক্রিকেটার নয়, অন্য খেলার খেলোয়াড়রাও এ কথা বলবে।’

‘যারা একদম নতুন প্রজন্ম, তারা হয়তো এখানে খেলেনি। কিন্তু এই স্টেডিয়ামের কথা নিশ্চয়ই শুনেছে। অনেকের জন্ম ২০০০ সালের আশেপাশে। তাদের খেলার কথাও নয়। তবে আইকনিক স্টেডিয়াম যেহেতু, এটার গল্প নিশ্চয়ই শুনেছে। দেখুন, নরমালি সকাল ছয়টায় ফিটনেস টেস্ট দেখতে এত মানুষের আসার কথা নয়। যেহেতু বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, তাই এসেছে। সবার জন্যই দারুণ অভিজ্ঞতা ছিল’-আরও যোগ করেন শাহরিয়ার।

এছাড়াও ট্রেনিং সেশনে উপস্থিত ছিলেন দেশী ট্রেনার মীর ইফতি খায়রুল ইসলাম। যিনি সম্প্রতি জাতীয় দলের সঙ্গেও কাজ করেছেন। ইফতি বলেন, ‘এই পরীক্ষার মাধ্যমে বুঝলাম খেলোয়াড়দের অবস্থাটা কি। এটার মধ্যে পাশ-ফেলের কিছু নেই। ডিপিএল গিয়েছে, বিপিএল গিয়েছে। এরপরে ওদের ফিটনেসের অবস্থা কি সেটা জানার জন্য। এটা জানার পর খেলোয়াড়দের কাকে কি অনুশীলন করাতে হবে তা খুঁজে বের করব। ওদের জানিয়ে দেব, ওভাবে আমরা প্রয়োগ করব।




জোড়া সেঞ্চুরির পরও ২৮০ রানে অলআউট শ্রীলংকা

জোড়া সেঞ্চুরির পরও ২৮০ রানে অলআউট শ্রীলংকা

৫৭ রানে ৫ উইকেট পতনের পর অধিনায়ক ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ও কামিন্দু মেন্ডিসের জোড়া সেঞ্চুরিতে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে সব উইকেট হারিয়ে ২৮০ রানের সংগ্রহ পেয়েছে সফরকারী শ্রীলংকা। ধনাঞ্জয়া ও কামিন্দু উভয়েই  ১০২ রান করে করেন। বাংলাদেশের দুই পেসার খালেদ আহমেদ ও অভিষিক্ত নাহিদ রানা ৩টি করে উইকেট নেন।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্বান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ব্যাটিংয়ে নেমে খালেদ তোপে পড়ে ৪১ রানে ৩ উইকেট হারায় শ্রীলংকা। দুই ওপেনার নিশান  মাদুশকাকে (২) ও দিমুথ করুনারত্নকে (১৭) এবং তিন নম্বরে নামা কুশল মেন্ডিসকে (১৬) ফেরান খালেদ।
খালেদ তোপের পর অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ ৫ রানে রান আউট এবং দিনেশ চান্ডিমালকে ৯ রানে ফেরান  আরেক পেসার শরিফুল ইসলাম। এতে ৫৭ রানে ৫ উইকেট হারায় শ্রীলংকা। এরপর বাংলাদেশ বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন শ্রীলংকার অধিনায়ক ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ও কামিন্দু মেন্ডিস। ষষ্ঠ উইকেটে ডাবল-সেঞ্চুরির জুটি গড়েন তারা। সেই সাথে সেঞ্চুরির দেখা পান দু’জনই।
৫৭তম ওভারে কামিন্দুকে শিকার করে জুটি ভাঙ্গেন অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা পেসার নাহিদ রানা। ১১টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১২৭ বলে ১০২ রান করেন কামিন্দু। এরপর আরেক সেঞ্চুরিয়ান ধনাঞ্জয়াকেও শিকার করেন রানা। ১২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৩১ বলে ১০২ রান করেন লঙ্কার দলনেতা। জুটিতে ২৪৫ বলে ২০২ রান যোগ করেন ধনাঞ্জয়া ও কামিন্দু। দলীয় ২৬৪ রানের মধ্যে ধনাঞ্জয়া ও কামিন্দু ফেরার পর ২৮০ রানে অলআউট হয় শ্রীলংকা। বাংলাদেশের খালেদ ৭২ রানে ও রানা ৮৭ রানে ৩টি করে উইকেট নেন।



লংকানদের ২৮৭ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ

 

শ্রীলংকার বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৮৬ রান সংগ্রহ করেছেন টাইগাররা। জিততে হলে শ্রীলংকাকে করতে হবে ২৮৭ রান। সর্বশেষ ৩৩ বলে ১৮ রান করে আউট হয়েছেন তানজিম হাসান সাকিব। এতে তাওহিদ হৃদয় ও তানজিম সাকিবের জুটি ভেঙে যায়। এরপর মাঠে নামেন তাসকিন আহমেদ।

১০২ বলে ৯৬ রান করে বাংলাদেশকে অনেকটাই এগিয়ে রাখেন হৃদয়। আর তাসকিন করেন ১০ বলে ১৮ রান।  সর্বশেষ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফিফটি পেয়েছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হৃদয়ের সর্বশেষ ফিফটি ছিল সেটিই। ৮ ইনিংস পর আরেকটি ৫০ রানের ইনিংসের দেখা পেলেন তিনি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার সপ্তম ফিফটি।
এদিকে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ইনিংসের প্রথম বলে বোল্ড হয়েছিলেন লিটন দাস। গোল্ডেন ডাকের পর এবার খেলতে পারলেন মোটে ৩ বল। তবে রানের খাতা খুলতে পারেননি। আজও ডাক খেয়েই ফিরেছেন এই ওপেনার। লঙ্কান পেসার দিলশান মাদুশঙ্কার করা প্রথম ওভারে স্কয়ার লেগে সহজ ক্যাচ তুলে দিয়েছেন লিটন।
শ্রীলংকার বিপক্ষে আজ ম্যাচ জিতলেই সিরিজ জয়, হারলে অপেক্ষা করতে হবে আগামী ম্যাচের জন্য। প্রথম ওয়ানডেতে দাপুটে জয়ের পর এখন অনেকটাই চাপমুক্ত টাইগাররা। শেষ দুই ম্যাচের একটি জিতলেই সিরিজ নিশ্চিত।
শুক্রবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে খেলতে নামছে দুই দল। বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি শুরু হয় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে।
বাংলাদেশ একাদশ: নাজমুল হোসেন (অধিনায়ক), লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম, তাওহিদ হৃদয়, সৌম্য সরকার, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, শরীফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, মাহমুদউল্লাহ ও তানজিম হাসান।
শ্রীলংকা একাদশ: পাথুম নিশাঙ্কা, আবিস্কা ফার্নান্দো, কুশল মেন্ডিস (অধিনায়ক), সাদিরা সামারবিক্রমা, চারিথ আসালাঙ্কা, জেনেথ লিয়ানাগে, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, মাহেশ থিকশানা, প্রমোদ মাদুশান, দিলশান মাদুশঙ্কা ও লাহিরু কুমারা।