ভক্তদের যে সুখবর দিলেন মেসি

কাতার বিশ্বকাপে লিওনেল পা ফেলার আগ থেকেই জোরেশোরেই শোনা যাচ্ছিল ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসি ক্যারিয়ারের ইতি টানতে যাচ্ছে ২২তম আসর খেলেই। এই তারকা কিছু কিছু গণমাধ্যমে তার ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। কিন্তু বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষে সব খবর উড়িয়ে দিয়ে জানালেন, এখনই অবসর নিচ্ছেন না তিনি। তিনি জানান, আরো কয়েকবছর আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে খেলবেন।

মেসির বয়স সবে ৩৫ চলে। কিন্তু তার দুর্দান্ত ফর্ম আর খেলা দেখে বলার উপায় নেই তার বয়সের ছাপ পড়েছে। এই সাবেক বার্সা তারকা বিশ্বকাপে করেছেন ৭ গোল, সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৩ গোল। জিতেছেন গোল্ডেন বল। বিশ্বকাপের ফাইনালে জয় পেয়ে গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, আমি চেয়েছিলাম বিশ্বকাপ শেষেই অবসর নিতে। বিশ্বকাপ থেকে যা পেয়েছে, এর চেয়ে বেশি কিছু চাইতেও পারি না। ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসে আমার যে অর্জন তা যথেষ্ট।

তিনি আরও বলেন, আমি ফুটবলকে ভালবাসি। আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলা উপভোগ করি। আমার ইচ্ছা, আমি চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা চালিয়ে যাব।




একনজরে স্বপ্নযাত্রায় মেসির যত রেকর্ড

অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়েছে। দীর্ঘ ৩৬ বছরের আক্ষেপ মিটিয়ে অবশেষে বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলেছে ম্যারাডোনার উত্তরসূরিরা। গোটা ফুটবল বিশ্বকে উল্লাসে মাতিয়ে চির অধরা সোনালি ট্রফিটা শেষ পর্যন্ত নিজেদের করে নিয়েছে আলবিসেলেস্তারা।

বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের লক্ষ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে পা রেখেছিল আর্জেন্টিনা। তবে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই সৌদি আরবের কাছে হেরে সেই আশা ফিকে হতে শুরু করেছিল। তবে দারুণ প্রত্যাবর্তনে এক লিওনেল মেসির হাত ধরে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ফাইনালে উঠে আসে লাতিন আমেরিকার দলটি।

আর কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে রোববারের সেই ফাইনালে রোমাঞ্চকর এক লড়াই দেখে গোটা ফুটবল বিশ্ব। যে লড়াইয়ে নির্ধারিত সময়ে ৩-৩ সমতার পর ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলে আর্জেন্টিনা।

দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে জাদুকরী এক পারফরম্যান্সে এবারের বিশ্বকাপে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দ্যুতি ছড়িয়েছেন মেসি। নিজেকে বসিয়েছেন রেকর্ডবুকেও। দেখে নেওয়া যাক, কাতার বিশ্বকাপে মেসির ঝুলিতে কি কি রেকর্ড ও অর্জন এসে ধরা দিল।

১. ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের এক আসরে গ্রুপ পর্ব, শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনালে গোল করেছেন মেসি।

২. বিশ্বকাপের মঞ্চে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পড়ে মেসি খেলেছেন রেকর্ড ১৯টি ম্যাচ। এই তালিকায় পরের দুইটি স্থানে আছেন মেক্সিকোর রাফা মার্কেস (১৭) ও আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা (১৬)।

৩. লুসাইলের ফাইনাল দিয়ে বিশ্বকাপে মোট ২৬টি ম্যাচ খেলেছেন মেসি। যার মধ্য দিয়ে ভেঙেছেন জার্মানির লুথার ম্যাথেউসের ২৫টি ম্যাচ খেলার রেকর্ড।

৪. এবারের বিশ্বকাপে ৭ গোল করে আকাশী-সাদা জার্সিতে আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোল স্কোরার এখন মেসি। যে তালিকায় পরের অবস্থানে আছেন গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা (১০), ম্যারাডোনা (৮), গিয়ের্মো স্তাবিল (৮), মারিও কেম্পেস (৬) ও গনজালো হিগুয়েন (৫)।

৫. একমাত্র ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের ভিন্ন পাঁচটি আসরে অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়েছেন মেসি। ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে, পোল্যান্ডের জেগোস লাতো, আর্জেন্টিনার ম্যারাডোনা ও ইংল্যান্ডের ডেভিড বেকহ্যামের অ্যাসিস্ট আছে মোটে তিনটি আসরে।

৬. বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির প্রথম ও সবশেষ গোলের মাঝে ব্যবধানটা ১৬ বছর ১৮৪ দিনের। যা ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ। পরের অবস্থানে আছেন পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। যে সময়টা ১৬ বছর ১৬০ দিনের।

৭. বিশ্বকাপে ২ হাজার ৩১৪ মিনিট মাঠ দাপিয়ে বেড়িয়েছেন মেসি। ভেঙেছেন ইতালির পাওলো মালদিনির আগের ২ হাজার ২১৭ মিনিট খেলার রেকর্ড।

৮. বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ১১ বার ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন মেসি। কাতারে সাত ম্যাচের পাঁচটিতেই পান এই স্বীকৃতি। ২০০২ বিশ্বকাপ থেকে এই পুরস্কারটি দেওয়া শুরু করে ফিফা।

৯. ১৯৬৬ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ থেকে নিয়ে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের এক আসরে ভিন্ন তিনটি ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্টের ডাবল মেসির। প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের মঞ্চে ভিন্ন চারটি ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্টের অনন্য অর্জনও লা পুলগা’র।

১০. বিশ্বকাপে মেসির জয় ১৬টি ম্যাচে। অবশ্য এলএমটেন এর চেয়ে বেশি জয় আছে কেবল জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার। যার জয় ১৭টি ম্যাচে।




আর্জেন্টিনার শেষের নায়ক মার্টিনেজ

থ্রিলার ম্যাচ বলতে যা বোঝায়, তার সব কিছুই ছিল কাতার বিশ্বকাপে লুসাইলের ফাইনাল ম্যাচে। ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই গোলে এগিয়ে থাকায় অনেকেই আর্জেন্টিনার শিরোপা জয় দেখে ফেলেছিলেন।

কিন্তু এক মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে ফ্রান্সকে সমতায় ফেরান এমবাপ্পে। ফলে নির্ধারিত সময়ের খেলা ২-২ গোলের সমতায় শেষ হয়।

অতিরিক্ত সময়ে এসে ১০৮তম মিনিটে মেসির দুর্দান্ত এক গোলে আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়ার মিনিট দুয়েক আগে আরেকবার গোল করে নিজের হ্যাট্টিক পূরণ করে আবারও সমতায় ফেরে ফ্রান্স। কিন্তু টাইব্রেকারে ম্যাচ গড়ানোর পর জয়ের দেখা পেল লে আলবিসেলেস্তেরা।

কাতার বিশ্বকাপের শিরোপা শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে জিতে নেয় আকাশি নীল শিবির। সেখানেই আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর নায়কে পরিণত হলেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। পেনাল্টি শুটআউটে কিংসলে কোম্যানের পেনাল্টির শট ঠেকিয়ে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে আসেন মার্তিনেজ। এরপর অরিলিয়েন চুয়ামেনি যে শটটি নিয়েছিলেন মার্টিনেজকে ঠেকানোর জন্য সেটি হয়ে গেলো মিস। তাতেই আর্জেন্টিনার জয়ের শেষ মুহূর্তের নায়কে পরিণত হলেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।




ম্যাচ হারলেও গোল্ডেন বুট এমবাপ্পের

কাতার বিশ্বকাপের শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আর্জেন্টিনা। দল হারলেও কিলিয়ান এমবাপ্পে ফাইনালে হ্যাট্রিকসহ টুর্নামেন্টে মোট ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতে নিয়েছেন। ম্যাচে মেসি ৭ গোল করেও এমবাপ্পের কাছে গোল্ডেন বুট হারাতে হয়েছে।

রোববার (১৮ ডিসেম্বর) বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসি ও এমবাপ্পে দু’জনই ৫ গোল নিয়ে খেলতে নেমেছিলেন। ২৩ মিনিটে ফ্রান্সের জালে বল জড়ানোর মধ্য দিয়ে মেসির গোল ৬ এ দাঁড়ায়।

দ্বিতীয়ার্ধে কম সময়ের মধ্যে জোড়া গোল করেন এমবাপ্পে।

তার গোল সংখ্যা দাঁড়ায় ৭টিতে। খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে সেই সময়ে মেসি আরো একটি গোল করেন। এর মধ্য দিয়ে তার গোল সংখ্যা ৭ হয়। এরপর অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় অংশে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন এমবাপ্পে। তার গোল দাঁড়ায় ৮টিতে। এর মধ্য দিয়েই তার গোল্ডেন বুট নিশ্চিত হয়ে যায়।




বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল লিওনেল মেসির

১৯৮৬ থেকে ২০২২। ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে পেরিয়ে গেছে ৩৬টি বছর। এর মাঝে স্বাদ নেওয়া হয়নি বিশ্বকাপ জয়ের শিরোপা। এমন হিসেব-নিকেশ পুঁজি করেই আয়োজক দেশ কাতারে এবার পা রেখেছিল লিওনেল মেসির দল।

তবে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই সৌদি আরবের কাছে হেরে অঘটনের জন্ম দেয় লাতিন আমেরিকার দেশটি। পরক্ষনেই সেই প্রেক্ষাপট পাল্টে বিশ্বকাপে নিজেদের মেলে ধরতে শুরু করে লিওনেল স্ক্যালোনির দল। যার মূল কারিগর দলটির প্রাণভ্রোমরা লিওনেল মেসি। তার হাত ধরেই এবারের বিশ্বকাপ মঞ্চের ফাইনালে জিতেছে আলবিসেলেস্তারা।

চলতি কাতার বিশ্বকাপে মাঠ ও মাঠের বাইরে এক অন্য রকম মেসিকে দেখেছে বিশ্ব। এবারের বিশ্বকাপে মেসির পা থেকে এসেছে ৭টি গোল, করিয়েছেন তিনটি। আর্জেন্টিনা দলের যখনই তাকে প্রয়োজন হয়েছে, তখনই জ্বলে উঠেছেন এই তারকা। নকআউট পর্বের তিনটি ম্যাচেই পেয়েছেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। সব মিলিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন চার ম্যাচে। অপরদিকে এই তারকা বিশ্বকাপের ফাইনালেও করেছেন ২টি গোল।




তৃতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা

ফুটবল বিশ্বের সকল ট্রফিতে নিজের নাম লিখিয়েছেন রোজারিও থেকে উঠে আসা ৩৫ বছর বয়সী এই ফুটবলার। শুধুই অধরা ছিল সোনালি সেই বিশ্বকাপ শিরোপাটি। আজ কাতারের লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে নাটকীয় লড়াইয়ে টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছে আর্জেন্টিনা।

বিস্তারিত আসছে…




দি মারিয়াকে নিয়েই একাদশ সাজালো আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপজুড়ে আর্জেন্টিনার ম্যাচের সঙ্গে বদলে গেছে একাদশ। প্রতিপক্ষকে বিবেচনায় এনে কৌশল পাল্টেছেন দলটির কোচ লিওনেল স্কালোনি।

ফ্রান্সের বিপক্ষে তার একাদশ কেমন হয়, এ নিয়ে ছিল আলোচনা। আনহেল দি মারিয়া পূর্ণ ফিট হলেও তিনি খেলবেন কি না তা নিয়ে ছিল প্রশ্ন। তবে অভিজ্ঞ এই উইঙ্গারকে নিয়েই একাদশ সাজিয়েছেন স্কালোনি।
ফরাসিদের ভয়ঙ্কর আক্রমণ আটকাতে আর্জেন্টিনা নামছে দুই সেন্টার ব্যাক ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও নিকোলাম ওতামেন্দিকে নিয়ে। ফুলব্যাক হিসেবে খেলবেন মলিনা ও মার্কোস আকুইনা।

তাদের সঙ্গে তিন মিডফিল্ডার হিসেবে আছেন এঞ্জো ফার্নান্দেস, রদ্রিগো দে পল ও অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্তার। আক্রমণের দায়িত্বে লিওনেল মেসির সঙ্গী সেমিফাইনালে জোড়া গোল করা হুলিয়ান আলভারেস ও আনহেল দি মারিয়া। শিরোপা লড়াইয়ের ম্যাচটির শুরুর একাদশে নেই আনহেল দি মারিয়া।

ফ্রান্সের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশ :

গোলরক্ষক: এমিলিয়ানো মার্তিনেস।

ডিফেন্ডার: ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, নিকোলাস ওতামেন্দি নাহুয়েল, মোলিনা, মার্কাস আকুইনা।

মিডফিল্ডার: এঞ্জো ফার্নান্দেস, রদ্রিগো দে পল, ম্যাক অ্যালিস্তার।

ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেস, আনহেল দি মারিয়া।




অতীত পরিসংখ্যানে ফ্রান্সের বিপক্ষে এগিয়ে আর্জেন্টিনা

দীর্ঘ ৩৬ বছরের শিরোপা খরা কাটাতে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের বিপক্ষে মাঠে নামছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। ২৮ দিনের বিশ্বকাপ মহাযজ্ঞের শেষ লড়াইটা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায়। দুই দলের সামনেই সুযোগ আছে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি নিজেদের করে নেওয়ার। ম্যাচের আগে ফরাসিদের বিপক্ষে অতীত পরিসংখ্যান অনেকটাই এগিয়ে রাখছে আলবিসেলেস্তাদের। যা মাঠে বাড়তি সাহস জোগাতে পারে লিওনেল স্ক্যালোনির শিষ্যদের।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছে ১২ বার। যার ছয়টিতে জিতেছে আর্জেন্টিনা, ফরাসিদের জয় তিনটি ম্যাচে। বাকি ম্যাচগুলো ড্র হয়েছে। তবে দুই দলের সবশেষ দেখায় শেষ হাসি হেসেছিল দিদিয়ে দেশমের দল। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে এমবাপে- গ্রিজম্যানদের নৈপুণ্যে সেবার ফ্রান্স ৪-৩ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টারে পা রাখে।

অন্যদিকে বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার পরিসংখ্যান বেশ সমৃদ্ধ। এর আগের তিনবারের দেখায় দুইবারই ফরাসিদের হারিয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। তাছাড়াও ফুটবল মঞ্চে দুই দলের প্রথম দেখা হয় বিশ্বকাপে। ১৯৩০ সালের উরুগুয়ে বিশ্বকাপে ১-০ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। এরপর ১৯৭৮ বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো লড়াইয়ে নামে এই দুই দল। সেই ম্যাচেও ফ্রান্সকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ হাসি হাসে আর্জেন্টিনা।

এদিকে কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে পা রাখা আর্জেন্টিনা, গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই এশিয়ার পরাশক্তি সৌদি আরবের কাছে হেরে যায়। এরপর শঙ্কা জাগে পরের রাউন্ডে ওঠার। তবে দারুণ প্রত্যাবর্তনে শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ও সেমির লড়াই শেষে মেসির দল এবার শিরোপা জয়ের থেকে মাত্র একধাপ দূরে দাঁড়িয়ে।




রামগতিতে চোর চক্রের যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ গ্রামবাসী

রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি :

লক্ষ্মীপুরের রামগতির চর বাদাম ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে চিহিৃত চোর চক্রের যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী।
জানা যায়, ইউনিয়নের পঞ্চাত সমাজে সিদেল চুরি, টাকা চুরি, মোবাইল চুরি, রাতের অন্ধকারে হাড়ি পাতিল, রান্না করা মাংশ চুরি সহ গৃহবধূকে রাতের অন্ধকারে ধারালো টেটা বিদ্ধ করা ও তাদের সংঘঠিত বিভিন্ন অপরাধ এর কারণে এলাকাবাসী চরম এক আতংকে দিনাতিপাত করছে।
থানা পুলিশ, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার, চৌকিদার সহ সকলেই জানে এই চোর চক্রের অপরাধ জগত সম্পর্কে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চুরি করে ধরা খাওয়ার পর অধরা থেকে যাচ্ছে এ সিন্ডিকেট।

স্থানীয়রা জানায়, চর বাদাম ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের পঞ্চাত সমাজে বেশ কিছুদিন থেকে গড়ে উঠেছে আবুল বাশার বাসু মিয়ার ছেলে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মাজেদ রাজুর সহোদর ভাই সুমন, শাহীন, নোমান, শান্তর একটি সংঘবদ্ধ চোর ও অপরাধচক্র। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আকবর হোসেন সুখীর বিরুদ্ধে উঠেছে এদের নিয়ে আড্ডা দেয়া, শোডাউন করা সহ পৃষ্ঠপোষতার অভিযোগ। চোর চক্র ধরা খাওয়ার পর গডফাদাররা ক্ষমতার প্রভাবে তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। এদের কারণে সাধারণ মানুষের সমাজে বসবাস করা দূরুহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায়না। কেউ মুখ খুললেই তার উপর নেমে আসে চুরি চামারি ও হামলার মত ঘটনা। গত একমাসের মধ্যে প্রায় ১৫/২০টি বাড়ীতে চুরি, ধারালো কোচ দিয়ে গৃহবধূর উপর হামলা, মোবাইল চুরি, টাকা চুরি, গরু ছাগল চুরি, সিঁদ কেটে ঘরের মালামাল চুরি করে তারা। এই চক্রটি গত কয়েক দিন আগে রাতে মৃত আবুল খায়েরের ছেলে আবদুর রহিমের ঘরের দরজা কেটে ভিতরে ঢুকে ২০হাজার মূল্যের একটি মোবাইল ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যায়। নুরুল ইসলামের ছেলে প্রবাসী মাকসুদের ঘরের দরজা কেটে পার্সপোট ভিসা, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যায়। আবুল কালামের ছেলে মোছলেহ উদ্দিনের পানির পাম্পের মোটর ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যায়। চৌধুরী মিয়ার ছেলে নুরনবীর একটি গরু নিয়ে যাওয়ার সময় শোর চিৎকার করিলে গরু রেখে চলে যায়। নুরনবীর ঘরের সিঁদ কেটে একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। যা জিডি করার পর রামগতি থানা পুলিশ উদ্ধার করে। গত ১৫/২০দিন আগে মিরন পন্ডিতের ছেলে আনোয়ারের ঘরের বেড়া কেটে একটি এন্ড্রয়েড মোবাইল নিয়ে যায়।

হাফেজ মাহবুব উল্যাহ ঘরের সিদ কেটে দুটি টাচ মোবাইল নিয়ে যায়। গত এক বৎসর আগে একই ঘটনা ঘটে। আবদুল মতিন বেপারীর বাড়ীর ঘরের সিঁদ কেটে দুইটি টাচ মোবাইল ও স্বর্ণলংকার নিয়ে যায়। ইসমাইলের ছেলে রাশেদ ডাক্তারের ঘরের সিঁদ কেটে দুটি এন্ড্রয়েড সেট ও ডাক্তারী যন্ত্রপাতি নিয়ে যায়। ইউনুছ পঞ্চাতের ঘরে সিদ কেটে ঢুকে তার স্ত্রীর গলা থেকে স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়া সময় চিৎকার দিলে চেইন রেখে চলে যায়, তারপর সামাজিক ভাবে শালিশী বৈঠকে তারা চোর প্রমানিত হলে মাফ চায়। আবু জাকেরের ঘরের দরজা কেটে ঘরে ঢুকে মোবাইল, অন্যান্য মালামাল ও গরু নিয়ে যায়। পরপর দুইবারই তার ঘরে চুরি করে এ চোর চক্র। মো: রাসেলের ঘরে দুইবার পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে প্রাণনাশের চেষ্টা করে এসময় তার একটি রান্নাঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। রাসেলের মা নামায পড়তে উঠলে ওযু করা অবস্থায় কোচ মেরে তাকে হত্যা চেষ্টা করলে মহিলার চিৎকার করলে তারা পালিয়ে যায়। এ সময় তার বুকে কোচ বিদ্ধ হয়। ইতিপূর্বে রাসেলকে তারা বিভিন্ন কূ-পরামর্শ ও হুমকি ধমকি দেয়।

স্থানীয়রা আরো জানায়, এ চক্রটি বিভিন্ন সময়ে মানুষের ঘরের সিঁদ কাটা, হাঁস-মুরগী, মোবাইল, নগদ টাকা, নারিকের, সুপারী চুরি করে সমাজকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এ চক্রটি নামায পড়ানোর সময় মসজিদের ঈমামের দুটি মোবাইল নিয়ে যায়। কয়েকদিন আগে তাজল ইসলামের ছেলে মো: ইউনুসের ঘরে ঢুকে নগদ আট হাজার টাকা নিয়ে যায় তা প্রমানিত হলে সামাজিক ভাবে শালিশী বৈঠকে দেড় মাসের মধ্যে কারামতিয়া বাজার কমিটির সেক্রেটারীর কাছে জরিমানার টাকা জমা দিবে মর্মে স্বীকার করে তাদের পিতা বাসু। এই চক্রটি দ্বীর্ঘদিন থেকে চুরি করে আসছে। রামগতি থানায় তাদের নামে কয়েকটি জিডি রয়েছে। এদের নির্মূল করা এখন সময়ের দাবী।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন জসিম জানান, চোর চক্রের কারণে আমাদের এলাকাবাসী অতিষ্ঠ।
এ বিষয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ মো: আলমগীর হোসেন জানান, তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
সচেতন এলাকাবাসী এ চোর চক্রটি দমনে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানায়।




আজ আত্মবিশ্বাসী মেসি

কণ্ঠটাই শোনা যায় কেবল। চেহারা দেখা যায় না ঠিকঠাক।

তবুও ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে বেশ। কেন? ‘জানি না ফাইনালে কী হবে তবে এটুকু বলতে পারি আপনি সবাইকে আনন্দিত করতে পেরেছেন…প্রভাবও রেখেছেন জীবনে’ বা এমন কিছু লাইনের জন্য। এতক্ষণে টের পাওয়ার কথা নিশ্চয়ই- বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের পর লিওনেল মেসিকে কথাগুলো বলেছিলেন এক আর্জেন্টাইন সাংবাদিক।
দায়িত্ব ভুলে তিনি ক্ষণিকের জন্য হয়ে গিয়েছিলেন অনেকের প্রতিনিধি। দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে তার সেসব কথা। ব্রায়ান লারা তার ক্যারিয়ার সায়াহ্নে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আমি কি আপনাদের বিনোদন দিতে পেরেছি?’ লিওনেল মেসি লারা নন। নির্লিপ্ত, বিনয়ী, আলাভোলা। ‘ফুটবল না খেললে হয়তো হালচাষ করতেন…’ আড্ডার আনন্দে ডুবে তাকে নিয়ে বলা হয় এমন। তিনি তাই প্রশ্ন করবেন, ভাবা যায় না তেমন কিছু।

তবুও তাকে উত্তর জানিয়ে দেন কেউ, ‘পেরেছেন’ বলেন জানতে না চাইলেও। কোটি ভক্ত সেসব কথা শুনে বিস্ময়ে ডুবে থাকেন, ‘আরে, আমার মন কীভাবে পড়ে ফেললো…!’ ভদ্রমহিলা মহিলা বলেন, ‘আপনি কোটি আলবিসেলেস্তের হৃদয় ছুঁয়েছেন। ফেক হোক অথবা কল্পনায়; আপনার জার্সি আছে বেশির ভাগেরই…’

তিনি মিথ্যা বলেননি অবশ্যই। ইন্টারনেটের কল্যাণেই ক’দিন পরপর ভেসে উঠে সেসব। ছেঁড়া জামায়, ফুটপাতে দাঁড়ানো কোনো এক কিশোরের পেছনে ইটের কণায় লেখা হয় ‘মেছি’। বানান একদমই মূখ্য হয় না এখানে, বড় হয় বরং ভালোবাসা। দারিদ্রতাতে একটু সুখের খোঁজ এনে দেন ফুটবলের ‘দুঃখী রাজা’।

এসব তো দূর দেশের গল্প। হুলিয়ান আলভারেসের কথাই একবার ভাবুন। বছর এগারো আগের একটি ছবি এখন ভাইরাল বেশ। লিওনেল মেসির সঙ্গে কোথাও একটা দেখা হয়েছিল তার; কোনোরকমে একটি ছবিও তুলে রেখেছিলেন। পরে সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্নের কথা।

কী? ‘দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে পারা…’। ফুটবলের আইডল? ‘লিওনেল মেসি…’।

আপনি নিশ্চয়ই খণ্ড খণ্ড ছবিগুলো মেলাতে শুরু করেছেন এতক্ষণে। অথবা আপনার কল্পনায় ভেসে উঠে এসেছে মেসির অমানবিক অ্যাসিস্টকে গোল বানিয়ে ফেলার পর তার সঙ্গে আলভারেসের ছবিটা।

বিশ্বকাপের সেরাদের একজন, বহু বড় ক্লাবের কাঙ্ক্ষিত ডিফেন্ডারকে স্রেফ বোকা বানিয়েছিলেন। পরে কেউ একজন লিখেছিলেন, ‘মেসি পাঁচজনকে ড্রিবল করে কাটিয়ে যাননি। তবে একজনকে পাঁচবার পরাস্ত করেছেন…’ ড্রিবলিংয়ের সেই সেকেন্ড বিশেকের অনেক অনেকগুলো, আলভারেসের শট, মেসিকে জড়িয়ে ধরা…

ওসব ছবি জোড়া লাগিয়ে ফ্রেম তৈরি করা যায় চাইলে। তবুও স্বীকৃতির জন্য দরকার হয় জয়। কেন? ২০১৪ বিশ্বকাপের পর লিওনেল মেসির গোল্ডেন বলের ট্রফি আনতে যাওয়া ছবি প্রমাণ তার। অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকা শূন্যতা ব্যক্তিগত শিরোপায় মেটানো যায় না, অনুভব করা যায় তেমন।

সময় বয়ে চলে। ২০১৫ আসে, ‘১৬ও। তিন ফাইনাল হারের পর আলাভোলা ছেলেটি বলে ফেলেন, ‘আন্তর্জাতিক ফুটবলে আমার আর কিছুই বাকি নেই…’। হৃদয় ভেঙে যায়। পৃথিবীজুড়ে শত কণ্ঠ জেগে উঠে ফিরে আসার আবদারে। তিনি আসেন।