টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্স

কাতারের মাটিতে চমক জাগানো উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। এবারের আসরে অবিশ্বাস্য সব গল্পের জন্ম দিয়ে উঠে আসা আফ্রিকার দলটির রক্ষণে শুরু থেকে চেপে ধরা ফরাসিরা প্রথমার্ধের শুরুতেই থিও হার্নান্দেজের গোলে এগিয়ে যায়। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ৭৯তম মিনিটে কোলো মুয়ানির গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে দিদিয়ে দেশমের দল।

এরপর আর কোনো দল গোল করতে না পারায় ২-০ গোলের জয় নিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে এমবাপে-জিরুদরা।

এর আগে কাতারের আল খোরের আল বায়াত স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মাঠে নামে এই দুই দল। শুরু থেকেই বল দখলে এগিয়ে ছিল উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কো। দ্রুত আক্রমণে ফ্রান্সের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখতে থাকে দলটি। তবে ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে মরক্কোর রক্ষণকে ভেঙে থিও হার্নান্দেজের গোলে এগিয়ে যায় ফরাসিরা।




প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ৩৭ হাজার ৫৭৪ জনকে সহকারী শিক্ষক পদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করে ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে (www.mopme.gov.bd) এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ওয়েবসাইটে (www.dpe.gov.bd) ফল প্রকাশ করা হয়।

নির্বাচিত প্রার্থীদের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সব সনদের মূলকপি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ৩ কপি, পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম (যথাযথভাবে পূরণ করা), সিভিল সার্জন দেওয়া স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার সনদসহ সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ৩২ হাজার ৫৭৭টি পদের কথা বলা হলেও পরে এই সংখ্যা পাঁচ হাজার বাড়ানো হয়।

২০২০ সালের ২০ অক্টোবর সহকারী শিক্ষকের ৩২ হাজার ৫৭৭টি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। এতে আবেদন করেন ১৩ লাখ ৯ হাজার ৪৬১ জন প্রার্থী।

নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা তিন ধাপে নেওয়া হলেও চূড়ান্ত ফলাফল একবারেই প্রকাশ করা হয়।

প্রথম ধাপের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৪০ হাজার ৮৬২ জন, দ্বিতীয় ধাপে ৫৩ হাজার ৫৯৫ এবং তৃতীয় ধাপে ৫৭ হাজার ৩৬৮ জন। সবমিলিয়ে তিন ধাপে উত্তীর্ণ হন ১ লাখ ৫১ হাজার ৮২৫ জন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের পরবর্তী মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। এরপর ৩৭ হাজার ৫৭৪ জনকে নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত করে ফল প্রকাশ করা হয়।




ফাইনালে খেলেই মেসির বিদায়!

কাতার বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে লিওনেল মেসি খেললেন। মনের আনন্দে খেললেন। গোল করলেন। গোল করালেন। আর্জেন্টিনাকে এনে দিলেন অসাধারণ এক জয়। মেসির বাম পায়ের জাদু আর আলভারেজের দূরন্ত গতিতে বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা। স্বপ্ন এখন হাতের নাগালে।

আগামী রবিবার বিশ্বকাপ জেতার মিশন নিয়ে মাঠে নামবে আকাশি-সাদারা। তার আগে মেসি আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন, আগামী ম্যাচটাই হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপে তার শেষ ম্যাচ।

মেসি যদিও বিশ্বকাপের আগে জানিয়েছিলেন, এবারই তার শেষ; তবু কোচ লিওনেল স্কালোনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন, আর্জেন্টাইন অধিনায়ক খেলবেন আরও অনেক দিন। তবে মেসি জানালেন, পরের বিশ্বকাপে আর দেখা যাবে না তাকে।




সেমিতে জয়ের পর ফাইনাল নিয়ে যা বললেন মেসি

ফুটবলের ইতিহাসে নিজেকে চিনিয়েছেন অন্য রকমভাবে। যে মানুষটির ফুটবলার হওয়ারই কথা ছিল না তিনি আজ পুরো বিশ্বের মধ্যে অনন্য এক তারার মতো। ক্যারিয়ারে ফুটবল জগতের সমস্ত কিছুই অর্জন করেছেন। শুধুই অধরা রয়ে গেছে বিশ্বকাপ। কাতারের লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে প্রথম সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। ক্রোয়াটদের বধের পর এই ক্ষুদে জাদুকর জানিয়েছেন, ফাইনাল ম্যাচই হবে তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ।

সৌদি আরবের বিপক্ষে হার দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছিল টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকা আলবিসেলেস্তেরা। গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়ার শঙ্কায় ছিল লিওনেল স্ক্যালোনির দল। সেই সমীকরণ থেকে কাতারে বিশ্বকাপে নিজেদের সকল ম্যাচ জিতে আজ ফাইনালের মঞ্চে আর্জেন্টিনা।

গোটা বিশ্বের আর্জেন্টাইন সমর্থকরা যখন আনন্দে ভাসছেন। ঠিক তখনই মেসি জানালেন বিদায়ের খবর। ম্যাচ শেষে লা পুলগা বলেন, “এই স্থান অর্জন করতে পেরে, অনেক আনন্দে আছি। বিশ্বকাপে আমার ক্যারিয়ার শেষ করছি, ফাইনালই আমার শেষ খেলা। আর্জেন্টিনাতে মানুষ কেমন জীবনযাপন করেছে এবং তারা কীভাবে এ জয় উপভোগ করছে। এই বিশ্বকাপে আমি অনেক কিছু অনুভব করেছি , যা খুবই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল।” আর্জেন্টিনা অধিনায়ক আরও যোগ করেন, “অবশ্যই এটিই আমার শেষ বিশ্বকাপ। পরের বিশ্বকাপের জন্য অনেক বছর আছে এবং আমি মনে করি না সেটি আমি পারব এবং এইভাবে শেষ করাটাই শ্রেয়।”

২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠে শিরোপার কাছে থেকেও হারতে হয়েছিল মেসিদের। জার্মানির বিপক্ষে ১-০ গোলের হারে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় সাতবারের ব্যালন ডিওর জয়ী এই তারকাকে। এবার ৮ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের দ্বারপ্রান্তে এই আর্জেন্টাইন। আগামী ১৮ ডিসেম্বর লুসাইল স্টেডিয়ামে ফাইনালে মাঠে নামবে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। যেখানে মেসিদের প্রতিপক্ষ থাকবে ফ্রান্স বনাম মরক্কোর মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের জয়ী দল।




ডি মারিয়াকে ছাড়াই আর্জেন্টিনার একাদশ

তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে কাতারে পা রেখেছিল টানা ৩৬ ম্যাচে জয় পাওয়া দলটি। বিশ্বকাপ মিশনের শুরুতেই সৌদি আরবের বিপক্ষে হেরে হোঁচট খায় আর্জেন্টিনা। সেই পরাজয়ের পর নিজেদের শক্তির জানান দিয়ে টানা চারটি ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে উঠেছে লিওনেল মেসির দল।

গতবারের রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে দুই পরিবর্তন নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি। এবারো শুরুর একাদশে জায়গা হয়নি আনহেল ডি মারিয়ার।

আর্জেন্টিনা একাদশ

এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (গোলরক্ষক),

নাহুয়েল মলিনা, লিয়েন্দ্রো পারেদেস, নিকলাস অটামেন্ডি, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো,

এনজো ফের্নান্দেজ, রদ্রিগো ডি পল, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো

আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, লিওনেল মেসি, ইউলিয়ান অ্যালভারেজ।




গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে যারা

বিশ্বকাপের শেষ আটের লড়াই পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে আছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে। পাঁচ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা পাঁচটি। অন্যদিকে পাঁচ ম্যাচে চার গোল করে এই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছেন আলবেসেলিস্তা ফুটবলার লিওনেল মেসি ও আরেক ফরাসি ফরোয়ার্ড অলিভার জিরুদ।

এই তালিকায় তিনটি করে গোল করে আরও আছেন ইংলিশ ফুটবলার বুকায়ো সাকা ও মার্কাস রাশফোর্ড, স্পেনের আলভারো মোরাতা, সেলেসাও তারকা রিচার্লিসন ও পর্তুগালের গনজালো রামোস। তবে শেষ আট থেকে তাদের দল বিদায় নেয়ায় গোল্ডেন বুট জেতার লড়াইয়ে টিকে রয়েছেন এমবাপে, মেসি ও জিরুদ।

২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে সেরা ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছিলেন মেসি। সেবার তার পা থেকে এসেছিল চার গোল। এবারও দারুণ ছন্দে আছেন মেসি। নিজে যেমন গোল করেছেন, সতীর্থদের দিয়েও করিয়েছেন। তাই এবারও সেরা হওয়ার দৌড়ে বেশ এগিয়ে থাকছেন মেসি। তাছাড়াও আর একটি গোল করলে নাম লেখাবেন আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ডে।

অন্যদিকে ফরাসি তারকা এমবাপেও আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। পাঁচ ম্যাচ খেলে এখন পর্যন্ত তার গোল ৫টি। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে সকারুজদের বিপক্ষে ১ গোল করেছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচে ড্যানিশদের সঙ্গে জোড়া গোল করেন। শেষ ষোলোতে পোল্যান্ডের বিপক্ষেও করেন ২ গোল। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করতে পারেননি এই পিএসজি তারকা। তাছাড়াও গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে মেসির সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে আছেন ফ্রান্সের জিরুদ। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। শেষ আটে পোলিশদের বিপক্ষে করেন এক গোল। কোয়ার্টারে তার গোলেই ইংলিশদের হারিয়েছে ফ্রান্স। তারও সুযোগ আছে গোল্ডেন বুট জেতার।




সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনাকেই সমর্থন দিচ্ছে ব্রাজিল!

ব্রাজিলের মিশন হেক্সা মাঝপথে থেমেছে। তবে বিশ্বকাপ জয়ের লড়াইয়ে এখনও টিকে আছে লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনা। ফুটবল মাঠে দুই দেশ চির-বৈরি হলেও, লাতিন প্রসঙ্গে তারা একাট্টা।

তার নজির আবারও দেখা যায়। নিজেরা আসর থেকে বাদ যাওয়ার পর এবার আর্জেন্টিনাকেই সমর্থন দিচ্ছে ব্রাজিল। কারণ, তারা চায় বিশ্বকাপের শিরোপা লাতিনদের হাতেই উঠুক।

স্পোর্টস সেন্টাল ব্রাজিলে দেশটির ফুটবল সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট ফের্নান্দো সার্নে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন বলেন।
তিনি বলেন,‘আমাদের একতা বজায় রাখতে হবে। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে, আমরা সবাই আর্জেন্টাইন। আমি আশা করি, তারা বিশ্ব সেরার ট্রফি লাতিন আমেরিকায় নিয়ে আসবে।’ বিশ্বকাপ শুরুর পর আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিও একইরকম কথা বলেছিলেন, যদি তারা বিদায় নেন তাহলে ব্রাজিলকে সমর্থন দেবেন।




বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেমিফাইনালে হারেনি আর্জেন্টিনা

টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপ খেলতে এসেছিল লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। কিন্তু সেই জয়রথের দৌড়ে বাধা হয়ে দাড়ায় সৌদি আরব। অপরদিকে সেই ম্যাচে লিওনেল মেসিদের হোচটের পরের সৌদি কোচ হার্ভি রেনারে জানিয়েছিলেন, ‘আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্ব পার করবে এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিতবে।’ হয়তো শেষ পর্যন্ত তার কথায় সত্য হতে যাচ্ছে। সেই ভবিষ্যৎ বাণীকে সত্য প্রমাণ করার একদম দ্বারপ্রান্তে আলবিসেলেস্তারা।

আর মাত্র ২টি ম্যাচ পার করতে পারলেই মরুর বুকে সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরবেন মেসি-ডি মারিয়ারা। আপাতত সেমিফাইনাল বাধা টপকাতে হবে স্কালোনিদের। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ গত আসরের রানার্স আপ ক্রোয়েশিয়া। তবে অতীতের পরিসংখ্যান বলছে ‘সেমিতে কখনো হারেনি আলবিসেলেস্তারা।’ কারণ, সেমিফাইনাল মানেই আর্জেন্টিনা ফেবারিট! অন্তত অতীত পরিসংখ্যান সেই কথা বলে আর্জেন্টাইনদের। কাতার বিশ্বকাপের আগে এ পর্যন্ত চারবার সেমিফাইনাল খেলেছে মেসিরা। যার একটিতেও হারের মুখ দেখতে হয়নি তাদের। প্রথমে ১৯৩০ সালের উরুগুয়ে বিশ্বকাপে এরপর ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে, ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে ও সর্বশেষ ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের প্রত্যেকটিতে সেমিফাইনালে খেলে আর্জেন্টিনা। যার কোনটাতেই পরাজয়ের নাম নেই লাতিন আমেরিকার দেশটি।

১৯৩০ উরুগুয়ে বিশ্বকাপ

সেইবার আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল খেলেছিলো যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে। তবে সেই বিশ্বকাপে হট ফেবারিট ছিলেন মার্কিনরা। লড়াইয়ে আগে তারাই ছিল এগিয়ে। কিন্তু সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে যুক্তরাষ্ট্র হেরে যায় ৬-১ গোলের বড় ব্যবধানে।

১৯৮৬ মেক্সিকো বিশ্বকাপ

এই আসরে বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ চারে লড়েছিল ডিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা। তবে ফুটবলের বরপুত্রের অনন্য ফুটবল প্রদর্শনীতে ‘রেড ডেভিলদের’ বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় পায় আলবিসেলেস্তারা। সেবার ম্যারাডোনা একাই আর্জেন্টিনাকে জিতিয়েছিলেন বিশ্বকাপ।

১৯৯০ ইতালি বিশ্বকাপ

ইতালি আসরে স্বাগতিক ইতালির বিপক্ষে সেমিফাইনালের পুরো ১২০ মিনিটে ১-১ গোলের ব্যবধানে ড্র করে আর্জেন্টিনা। তবে পেনাল্টি শুট আউটে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক সার্জিও গয়কোচিয়ার অসাধারণ নৈপুন্যে ৪-৩ গোলের ব্যবধানে জয় পায় তারা।

২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপ

নেদারল্যান্ডসের সাথের সেমিফাইনালের ১২০ মিনিটই ছিল পুরোপুরি গোলশূন্য। অরেঞ্জদের বিপক্ষে পুরো খেলায় নিজের ছায়াকেই যেন খুঁজে ফিরছিলেন মেসি। তবে গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরোর নৈপুণে সেদিনের দারুণ সব সেভের পর টাইব্রেকারে ঠেকিয়ে দেন দু-দুটি শট। তাতেই আলবিসেলেস্তাদের জন্য খুলে ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালের দরজা। আগামী ১৩ নভেম্বর রাত ১ টায় লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও ক্রোয়েশিয়া মহারণ দিয়ে শুরু হবে কাতার বিশ্বকাপের শেষ চারের প্রথম লড়াই।




দেশের ফুটবলভক্তদের জন্য ৩০ ফ্লাইট চালু করছে মরক্কো

কাতার বিশ্বকাপের বিস্ময় মরক্কো। গত শনিবার কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে ওঠে ইয়াসিন বোনের দল।

এরই সঙ্গে বিশ্বকাপে আফ্রিকা মহাদেশের প্রথম দল হিসেবে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিতের গৌরব অর্জন করল দলটি।তবে মরক্কোর স্বপ্ন আরও বড়। ফাইনালে খেলার স্বপ্নে বিভোর তারা। আর দলের স্বপ্নে সঙ্গী হতে কাতারে যোগ দিতে চান বহু মরক্কান।

নিজ দেশের ম্যাচ সরাসরি গ্যালারিতে বসে উপভোগ করতে চান তারা। দলের ১১ তারকাকে দিতে চান উৎসাহ ও সমর্থন। আর সেজন্য অতিরিক্ত ৩০টি বিশেষ ফ্লাইট চালু করছে মরক্কোর সরকারি বিমান পরিষেবা সংস্থা রয়েল এয়ার মারোক। যাতে সেমিফাইনাল পর্বে নিজেদের দেশের প্রথম ম্যাচ যেন মরক্কোর ফুটবলভক্তরা মাঠে গিয়ে সরাসরি উপভোগ করতে পারেন।

সোমবার এক বিবৃতিতে রয়েল এয়ার মারোক জানিয়েছে, আগামী মঙ্গল ও বুধবার দোহার উদ্দেশে মরক্কোর বাণিজ্যিক রাজধানী ক্যাসাব্লাঙ্কা থেকে এসব ফ্লাইট ছেড়ে যাবে। সেমিফাইনালে আগামী বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১টায় শক্তিশালী ফ্রান্সের বিপক্ষে নামবে মরক্কো। তার আগেই দোহায় পৌঁছে যাবেন ‘মারোকরা’। মরক্কোর জনগণরা ‘মারোক’ নামে পরিচিত।

কাতার বিশ্বকাপে চমকের পর চমক দেখিয়ে যাচ্ছে মরক্কো দলটি। উত্তর আফ্রিকার এই দেশের রক্ষণ সবাইকে রীতিমতো চমকে দিয়েছে। প্রথম পাঁচ ম্যাচে মরক্কোর জালে প্রতিপক্ষ কোনো বল জড়াতে পারেনি। একটি গোল হয়েছে অবশ্য, তবে সেটা আত্মঘাতী।




সেমিফাইনালে খেলা হচ্ছে না আর্জেন্টিনার দুই তারকার

শুক্রবার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলের ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

এদিন কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে ১৮টি হলুদ কার্ড ও একটি লাল কার্ড দেখান রেফারি আন্তোনিও মিগেল মাতেউ লাহোজ।

লিওনেল মেসিসহ আর্জেন্টিনার ৮ জন খেলোয়াড় ও কোচ স্কালোনি আর কোচিং স্টাফের সদস্য ওয়াল্টার স্যামুয়েল হলুদ কার্ড দেখেন। খেলোয়াড়দের দেখা ৮টি হলুদ কার্ডের মধ্যে দুটি নিয়ে অস্বস্তি রয়েছে আর্জেন্টিনা। কাতার বিশ্বকাপে এর আগে আরেকটি হলুদ কার্ড দেখার কারণে মার্কোস আকুনিয়া ও গনসালো মনতিয়েল বিপদে পড়েছেন। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালে তারা খেলতে পারবেন না।

আর্জেন্টিনার সুপারস্টার লিওনেল মেসিও চলতি বিশ্বকাপে প্রথম হলুদ কার্ড দেখছেন শুক্রবার। ফিফার বাইলজ অনুযায়ী গ্রুপপর্ব থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যেকোনো দুই ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখলেই দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখার পরের ম্যাচটি মিস করবেন খেলোয়াড়। এই নিয়মের কারণে সেমিফাইনালে খেলা হচ্ছে না আর্জেন্টিনার দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় আকুনিয়া ও মনতিয়েলের।