রাজনীতির সংস্কৃতিতে দৃষ্টান্ত গড়ে ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছেন তারেক রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে শিষ্টাচার ও সৌজন্যের এক ব্যতিক্রমী নজির স্থাপন করেছেন তারেক রহমান। বিজয়ের পরপরই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শুরু করে বিএনপির চেয়ারম্যান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন— সংঘাত নয়, সংলাপই হবে আগামী দিনের রাজনীতির ভিত্তি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে তিনি অংশগ্রহণমূলক ও সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করেই রাষ্ট্রক্ষমতায় বসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত তিনি পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

 

জামায়াত আমিরের বাসভবনে তারেক রহমান
এদিন সন্ধ্যায় জামায়াত আমিরের বাসভবনে যান তারেক রহমান। সেখানে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। এ সময় তাকে বাংলাদেশের ‘ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানান তিনি।

বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের বলেন, এটি রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের সূচনা।

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে একসঙ্গে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে রাষ্ট্রগঠনের পথেও সহায়ক হবে। 

তিনি স্পষ্ট করেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো জাতীয় সরকারে অংশ নেবে না; বরং সংসদে আদর্শিক ও শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকবে। তবে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সরকারকে সহযোগিতা করা হবে।

বৈঠকে তারেক রহমান নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে দৃঢ় আশ্বাস দেন বলে জানা গেছে।

 

এনসিপি নেতাদের সঙ্গে সংলাপের বার্তা
জামায়াত আমিরের বাসভবন থেকে বের হয়ে রাত ৮টার দিকে ৫ সার্কিট হাউস রোডে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসভবনে যান তারেক রহমান। সেখানে এনসিপি নেতাদের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন তিনি।

বৈঠক শেষে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, মতভিন্নতা থাকলেও সংলাপের মধ্য দিয়েই সমস্যার সমাধান সম্ভব। তারেক রহমানের এই সৌজন্য সাক্ষাৎকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

বৈঠকে ‘২৪’র গণঅভ্যুত্থানে’ শহীদদের পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসন প্রসঙ্গ উঠে আসে।

এনসিপির পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে আন্দোলনের প্রতীক ‘শাপলা কলি’র প্রতিচ্ছবি এবং এক শহীদের হাতে লেখা চিঠি উপহার দেওয়া হয়। এ সময় বিএনপির পক্ষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও নজরুল ইসলাম খান এবং এনসিপির পক্ষে সারজিস আলমসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর সাধারণত বিজয়ী দল ক্ষমতা সংহত করতেই বেশি মনোযোগী থাকে। কিন্তু তারেক রহমান শুরুতেই বিরোধী পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে অংশগ্রহণমূলক শাসনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এটি প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে জাতীয় ঐক্যের পথে অগ্রযাত্রার বার্তা বহন করে। এই ধারাবাহিক সংলাপ কেবল সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত
তারেক রহমানের এই উদ্যোগকে দেশের গণতন্ত্রের জন্য নতুন এক মাইলফলক হিসেবে দেখছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারী বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন সংস্কৃতির সূচনা হলো। বিজয়ী হয়েই বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রতি সম্মান জানানো এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে বসা গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় দীর্ঘদিন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

এক টেবিলে শীর্ষ নেতৃত্ব
এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও সংলাপে তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষে উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর বিজয়ী দলের প্রধানের পক্ষ থেকে এমন অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিহিংসা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধারাকে পেছনে ফেলে সহনশীলতার পথে এগিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি কেবল সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং জাতীয় ঐক্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থার দিকে তারেক রহমানের একটি দূরদর্শী রাজনৈতিক পদক্ষেপ।




বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সংলাপ শুরু

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা জোরদারে ১২তম বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা সংলাপ শুরু হয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) শুরু হওয়া সংলাপ আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে চলবে।

বুধবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই তথ্য জানানো হয়। ২০১২ সাল থেকে দুই দেশের মধ্যে এই প্রতিরক্ষা সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় চলমান বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রতিনিধিদল অংশ নিচ্ছে।

আইএসপিআর জানিয়েছে, ওই প্রতিরক্ষা সংলাপ দুই দেশের পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়াও এই সংলাপে উভয় দেশের সামরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় আলোচিত হবে। উল্লিখিত সংলাপ বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, দুর্যোগ মোকাবিলা, শান্তি রক্ষা কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ, পরিদর্শন, যৌথ অনুশীলন ও মহড়া, কর্মশালা ইত্যাদি ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে।

এই প্রতিরক্ষা সংলাপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, অপারেশনস ও পরিকল্পনা পরিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ আলী হায়দার সিদ্দিকী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সারাহ রুস।

এ ছাড়া সংলাপে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন।

দুই দিনের এই প্রতিরক্ষা সংলাপের মাধ্যমে দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক আরও উন্নত হবে এবং পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্ব আরও গভীর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।




একটি অর্থবহ নির্বাচন এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: রিজওয়ানা

রাজনৈতিক সহিংসতার শিকারদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘একটি অর্থবহ নির্বাচন এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে। আমরা বিশ্বাস করি সমাজের সব স্তরের মানুষ এতে অংশ নেবে।’
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সাভারের ব্র্যাক সিডিএমে অনুষ্ঠিত ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ ইন্টারন্যাশনালের দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
১১ দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ৬২ দেশের ৮৫ জন প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও আইনগত কাঠামোতে সংস্কার চলছে। তবে বাস্তব পরিবর্তন আনতে সময়, ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।
উপদেষ্টা বলেন, আমরা প্রশাসন ও আইনি কাঠামো দুটোকেই পরিবর্তনের আওতায় আনছি। কিন্তু যে দেশ পরিবেশ সূচকে ১৮০ দেশের মধ্যে ১৭৯তম স্থানে থাকে, সেটি এক বছরে ৫০তম স্থানে পৌঁছে যেতে পারে না—এটি রাতারাতি সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ যদি ৫ থেকে ৭ বছর ধারাবাহিকভাবে কাজ করে এবং অবস্থান ৭৩-এর কাছাকাছি যায়, তবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার সেই ভিত্তির ওপর কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারবে।
উপদেষ্টা জানান, বর্তমান সরকার একটি প্রায় ভেঙে পড়া ব্যবস্থা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। প্রথম কাজ ছিল এটিকে ন্যূনতমভাবে কার্যকর করা এবং তারপর পরিবর্তনের সূচনা। আমরা যাত্রা শুরু করেছি; লক্ষ্য অনেক দূরে। তবে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এগুলো রাজনৈতিক সরকারের অধীনে অব্যাহত থাকতে হবে।
সাম্প্রতিক আইনগত অগ্রগতির বিষয়ে তিনি জানান, বন সংরক্ষণে দুটি যুগান্তকারী আইন ইতোমধ্যে পাশ হয়েছে। প্রাকৃতিক বনে নতুন করে হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ করেছে এসব আইন। এছাড়া বননির্ভর জনগোষ্ঠীকে স্বীকৃতিও দিয়েছে। শিগগিরই জলাভূমি সংরক্ষণ আইনও পাশ হবে।
বর্তমান পরিবেশ বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করে উপদেষ্টা বলেন, সভাস্থল সাভারকে ইতোমধ্যে পরিবেশগতভাবে অক্ষয়িত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ বহু বছর ধরে বায়ুদূষণে বৈশ্বিক সূচকে শীর্ষে রয়েছে। এটি এক বছরে বদলানো সম্ভব নয়। তবে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।
এ ধরনের অবনমিত অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করে পুনর্বাসনের কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
শ্রমিকরা কর্মহীন হবেন না; তারা নতুন নির্ধারিত স্থানে কৃষি-সম্পৃক্ত কাজে যুক্ত হবেন উল্লেখ করে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, এলাকায় দূষণকারী ইটভাটা ও অন্যান্য ইউনিট আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্থানান্তর করা হচ্ছে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, নগর পরিবেশের উন্নতি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ আর পরিবেশ সূচকের একেবারে নিম্নস্থানে নেই। সরকার ও নাগরিকের মধ্যে যোগাযোগ বেড়েছে, তথ্যপ্রাপ্তি সহজ হয়েছে এবং মত-প্রকাশ ও অংশগ্রহণের ক্ষেত্র প্রসারিত হয়েছে।



হজ ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি করলে আইনের আওতায় নিয়ে আসব: ধর্ম উপদেষ্টা

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, আমরা হজকে এবাদত হিসেবে গ্রহণ করেছি। এখানে কেউ দুর্নীতি করলে আমরা তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসব। হজ ব্যবস্থাপনাকে সহজীকরণ করার জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। কোনো সিন্ডিকেট কাজ করতে পারবে না।

বুধবার সকালে নাটোরে জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র  উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রকল্পের পরিচালক শহিদুল আলমের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন- নাটোর জেলা প্রশাসক আসমা শাহিন, পুলিশ সুপার এমএ ওয়াহাব, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবুল হায়াত, নাটোর সিভিল সার্জন ডা. মুক্তাদির আরেফিনসহ সরকারি কর্মকর্তারা।

উপদেষ্টা আরও বলেন, আমরা সবাই সচেতনতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি ফলে কোনো সিন্ডিকেট তৈরি করে হাজিদের জিম্মি করতে পারছে না। গত বছর আমরা আট কোটি টাকা হাজিদের ফেরত দিয়েছি। এবারো পারব ইনশাআল্লাহ।

নাটোরে জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং নাটোর সদর ও গুরুদাসপুর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ তলাবিশিষ্ট নাটোর জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, ৩ তলা বিশিষ্ট উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মধ্যে নাটোর সদর উপজেলার জন্য ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং গুরুদাসপুর উপজেলার জন্য ব্যয় হয়েছে ১৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

এসব মডেল মসজিদে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক নামাজের জায়গা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নামাজের জায়গা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয়, ইমাম প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, বই বিক্রয় কেন্দ্র, লাইব্রেরি, কনফারেন্স রুম, গেস্ট রুম, ইমাম মুয়াজ্জিন ও খাদেমের জন্য আবাসিক ব্যবস্থা পার্কিং প্লেস ইত্যাদি সুযোগ সুবিধা রয়েছে।




ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমানের বৈশিষ্ট্য কী?

ইতালি থেকে ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ইতালির প্রতিষ্ঠান লিওনার্দো এসপিএর সঙ্গে একটি সম্মতিপত্র সই করেছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, টাইফুন যুদ্ধবিমান কেনার এই প্রক্রিয়া বিমানবাহিনীর সম্মুখসারির সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ। আধুনিক মাল্টি–রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট হিসেবে টাইফুন যুক্ত হলে আকাশ প্রতিরক্ষায় নতুন শক্তি যোগ হবে।

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বহরে যুক্ত হতে যাওয়া নতুন এই যুদ্ধবিমান সম্পর্কে ইউরোফাইটারের ওয়েবসাইটে বলা হচ্ছে- এটি বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক সুইং-রোল কমব্যাট বিমান।

তারা বলছে, ইউরোফাইটার টাইফুন একইসঙ্গে এয়ার-টু-এয়ার এবং এয়ার-টু-সারফেস সক্ষমতা প্রদান করে এবং একযোগে ব্যবহারযোগ্য।

বিশ্বের ৯টি দেশের বিমানবাহিনীর কাছে এ যুদ্ধবিমান আছে। দেশগুলো হলো- যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, অস্ট্রিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান ও কাতার।

ইউরোপের চার শক্তিশালী দেশ যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি ও স্পেনের সহযোগিতায় ইউরোফাইটার টাইফুন কনসোর্টিয়াম গঠিত হয়েছে। তাদের শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা ও অ্যারোস্পেস কোম্পানি এয়ারবাস, বিএই সিস্টেমস ও লিওনার্দো এই যুদ্ধবিমান প্রকল্পের মূল অংশীদার।

ইউরোফাইটার টাইফুন

এটি একটি টুইন-ইঞ্জিন, ক্যানার্ড-ডেল্টা উইং, মাল্টিরোল ফাইটার। ইউরোফাইটারের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এটি পুরোপুরি সুইং-রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট।

এয়ার-টু-এয়ার দক্ষতা

শত্রু বিমানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে টাইফুন তার তীক্ষ্ণ সেন্সর, অসাধারণ গতিবেগ এবং উচ্চমানের ডগফাইটিং ক্ষমতার জন্য সুপরিচিত। উন্নত রাডার, মিসাইল ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম এর ক্ষিপ্রতা আরও বাড়িয়ে দেয়।

এয়ার-টু-গ্রাউন্ড আক্রমণ

এটি স্থলভাগে আঘাত হানতেও সমানভাবে সক্ষম। গাইডেড বোমা, প্রিসিশন স্ট্রাইক অস্ত্র এবং রিয়েল-টাইম ব্যাটেলফিল্ড ডেটা প্রক্রিয়াকরণ, সব মিলিয়ে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এটি ভয়ংকর।

ইন্টেলিজেন্স ও নজরদারি

টাইফুন শুধু যুদ্ধই করে না, এটি তথ্য সংগ্রহ, শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, আর আকাশ প্রতিরক্ষার সামগ্রিক ছবি তৈরিতেও সহায়তা করে।

স্টেলথ বৈশিষ্ট্য

যুদ্ধবিমানটির মোট পৃষ্ঠের মাত্র ১৫ শতাংশ ধাতব, যার ফলে রাডার-নির্ভর সিস্টেমের কাছ থেকে এটি অনেকটাই আড়ালে থাকে। এই নকশা সাবসনিক গতিতে উচ্চমানের ম্যানুভারিং এবং সুপারসনিক গতিতে কার্যকর যুদ্ধক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।




গাজায় নৃশংসতার পর ইউরোপ কি ইসরায়েলকে পরিত্যাগ করছে

ইসরায়েলের উদারপন্থী দৈনিক হারেৎজ চলতি সপ্তাহে এক শিরোনামে স্পষ্টভাবে বলেছে: ‘কূটনৈতিক সুনামি আসছে’। এই শিরোনামে সংবাদমাধ্যমটি মূলত সতর্ক করেছে। কারণ, গাজায় ইসরায়েলের ‘চূড়ান্ত উন্মত্ততা’র বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে ইউরোপ।

চলতি সপ্তাহে নানা রূপে কূটনৈতিক আক্রমণ এসেছে, যার সবগুলো সম্পর্কে আগাম অনুমানও করা যায়নি।

গাজায় ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলের নিন্দা থেকে শুরু করে ওয়াশিংটনে দুই তরুণ ইসরায়েলি দূতাবাসকর্মীর হত্যাকাণ্ড—সব মিলিয়ে দেশটি একটি উত্তাল সপ্তাহ পার করেছে।

গত সোমবার সন্ধ্যায় যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা গাজায় ইসরায়েলের ‘ভয়াবহ’ কার্যকলাপের নিন্দা জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দেওয়ার পর থেকেই এই আক্রমণের ঢেউ ইসরায়েলের উপকূলে আছড়ে পড়তে শুরু করে।

ওই তিন দেশ সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েল যদি সামরিক অভিযান চালিয়ে যায় এবং মানবিক সহায়তার ওপর বিধিনিষেধ তুলে না নেয়, তাহলে তারা ‘আরও কঠোর পদক্ষেপ’ নিতে পারে। এ ছাড়া অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় ‘নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা’ দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে দেশগুলো।

এরপর ২৪টি দাতাদেশের একটি বিবৃতি আসে। এতে গাজার জন্য ইসরায়েল-সমর্থিত নতুন ত্রাণ সরবরাহ ব্যবস্থার নিন্দা জানানো হয়।
কিন্তু এটি ছিল কেবল শুরু।

পরদিন মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করে এবং জানায়, ২০২৩ সালের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার পথনকশা পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
এর মধ্যেই ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পশ্চিম তীরের সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব ড্যানিয়েলা ওয়েইসও ওই নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন। তিনি লুই থেরুর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র দ্য সেটলার্স-এ স্থান পেয়েছিলেন।

লন্ডনে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত তসিপি হোটোভেলিকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরে তলব করা হয়েছে—এ ধরনের পদক্ষেপ সাধারণত রাশিয়া বা ইরানের মতো দেশের প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রেই নেওয়া হয়ে থাকে।

ইসরায়েলের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তোলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কাল্লাসের বক্তব্য। তিনি বলেন, ইইউর সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদেশ ইসরায়েলের সঙ্গে ২৫ বছরের পুরোনো সহযোগিতা চুক্তি পর্যালোচনা করার পক্ষে।

 




রাজউকের ১১৮ পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিল, কারণ অনিবার্য

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) রাজস্ব খাতভুক্ত ১১৮ পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিল করা হয়েছে। গত ১২ মে প্রকাশিত রাজউকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অনিবার্য কারণবশত এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিল করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১১৮ পদে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগের লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। ওই  বছরের ১৯ অক্টোবর আবেদন শুরু হয়ে চলে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত। দেশের যেকোনো জেলার প্রার্থীরা এ নিয়োগে আবেদনের সুযোগ পেয়েছিলেন।




ওষুধের দাম বাড়ানো বন্ধে প্রশাসনকে নির্দেশ

খেয়াল খুশিমতো ওষুধের দাম বাড়ানো বন্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য সচিব ও ওষুধ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।

আদালত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ওষুধ কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে জানাতে নির্দেশ দেন। ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিগুলোকে বলা হয়েছে যাতে সরকারের অনুমোদন ব্যতীত কাঁচামাল আমদানি করতে না পারে।

এছাড়া দেশের ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিগুলোর বেআইনিভাবে ওষুধের মূল্য নির্ধারণ বন্ধে ব্যবস্থা না নেয়া কেন অবৈধ নয় এ বিষয়ে একটি রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

 




থাইল্যান্ড সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

থাইল্যান্ডে ছয় দিনের সরকারি সফর শেষে ব্যাংকক থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সোমবার (২৯ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় তাকে বহনকারী ফ্লাইটটি রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সোমবার সকালে (স্থানীয় সময়) ব্যাংকক ত্যাগ করেন।

শেখ হাসিনা থাই প্রধানমন্ত্রী স্রেথা থাভিসিনের আমন্ত্রণে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক উভয় সফরের অংশ হিসেবে ২৪ এপ্রিল বিকেলে ব্যাংকক পৌঁছেন।

শেখ হাসিনা ডন মুয়াং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছলে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেখানে তাকে ১৯ বার তোপধ্বনি ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।




প্রতিরক্ষা ক্রয় মহাপরিদপ্তরের টেন্ডার জালিয়াতি, ২ আসামি রিমান্ডে

প্রতিরক্ষা ক্রয় মহাপরিদপ্তরের টেন্ডার জালিয়াতি করে অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষতিসাধনের মামলায় মেডি গ্রাফিক ট্রেডিং লি: এর দুই কর্মচারীর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন- মো. রবিউল করিম (৪৫) ও শান্তনু কুমার দাশ (৪৬)।

সোমবার (২৯ এপ্রিল) কারাগার থেকে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর আসামিদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে গত ২৪ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) বিলাল আল আজাদের করা আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এদিন আসামিদের জামিন চেয়ে আবেদন করেন আইনজীবীরা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারাহ্ দিবা ছন্দার আদালত আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ২৪ এপ্রিল আসামিদের আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। অপরদিকে আসামি পক্ষে রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি আদালত আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একইসাথে রিমান্ড শুনানির জন্য ২৯ এপ্রিল ধার্য করেন।

আদালতে গুলশান থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক শাহ আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কোম্পানির (মেডি গ্রাফিক ট্রেডিং লি:) চাকরির বিধি অনুযায়ী চাকরি করাকালীন কোন কর্মচারী সমজাতীয় পণ্যের ব্যবসা বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে পারবে না। প্রতিষ্ঠানটি জাপানি কোম্পানি Fuji Film এবং Shimadzu এর একক পরিবেশক হিসেবে দীর্ঘদিন যাবৎ কাজ করে আসছে। ১ নং আসামি তথা মো. রবিউল করিমকে কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা ক্রয়, মহাদপ্তরে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়। গত ১ এপ্রিল প্রতিরক্ষা ক্রয় মহাপরিদপ্তর, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশের মাধ্যমে কোম্পানি জানতে পারে যে, ১ নং আসামি কোম্পানিতে কর্মরত থাকাবস্থায় সম্পূর্ণ বেআইনি ও অবৈধভাবে এবং সরকারি সংস্থার নিকট তথ্য গোপন করে প্রতারণা ও সরকারি টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্য অপর একটি প্রতিষ্ঠান দ্যা ক্রিয়েটিভ ইন্টারন্যাশনাল নামে টেন্ডারে অংশগ্রহণ করে। এবং সেই প্রতিষ্ঠানের সিইও এবং ব্যবস্থাপনার অংশীদার হিসেবে স্বাক্ষর করেন। এছাড়াও তিনি প্রযুক্তি ইন্টারন্যাশনাল নামীয় অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত আছেন। কারণ দর্শানোর নোটিশ থেকে কোম্পানি জানতে পারে যে ২নং আসামি তথা শান্তনু কুমার দাশ আসামি রবিউলের ব্যবসায়ী অংশীদার হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে এমন বেআইনি কাজ করছে। আসামি রবিউল কোম্পানির লেটার হেড জাল করে জাল স্বাক্ষর করে প্রতারণামূলকভাবে গত ১৩ এপ্রিল প্রতিরক্ষা ক্রয় মহাপরিদপ্তর পত্র ইস্যু করে এবং উল্লেখ করেন তিনি কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে আছেন।

তথ্য গোপন করে ১ নং আসামি তার ব্যক্তিগত এবং দ্যা ক্রিয়েটিভ ইন্টারন্যাশনাল নামীয় কোম্পানি মেডি গ্রাফিক কোম্পানির বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেন এবং আসামিরা বিভিন্ন নামে বেনামে অনেক সম্পত্তি অর্জন করেন। যদিও তারা সামান্য বেতনে কোম্পানিতে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। অবৈধ অর্জনের মাধ্যমে আসামি রবিউল ঢাকার মধ্যে বিলাসবহুল ৪ টি ফ্ল্যাট, রংপুরে বাগান বাড়ি, নাটোর ৫০ বিঘা জমির মালিক হন। আসামিদের কাছে মালামাল বিক্রয়ের হিসাব চাইলে তারা হিসাব দিতে ব্যর্থ হয়। আসামি শান্তনু বিভিন্ন জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধ ও বেআইনিভাবে কোম্পানির টাকা আত্মসাৎ করে ২টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, ২টি প্লট, গাড়ি ও ব্যাংকে মোটা অঙ্কের টাকা নামে-বেনামে জমা রাখে।

আসামিরা দি ক্রিয়েটিভ ইন্টারন্যাশনাল এর নামে টেন্ডারে অংশগ্রহণ করে মেডি গ্রাফিক ট্রেডিং লি. থেকে সম্পূর্ণ খরচ দেখিয়ে জাল কাগজপত্র তৈরি করে টাকা আত্মসাৎ করত। ২০২১ সালের ২২ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় তথ্য গোপন করে মেডি গ্রাফিক ট্রেডিং লি. এর প্রায় বিশ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে এবং ব্যবসায়িক প্রায় ত্রিশ কোটি ক্ষতিসাধন করে।

এ ঘটনায় মেডি গ্রাফিকের এডমিন অফিসার শেখ জাকির হোসেন বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতারণার উদ্দেশ্য জালজালিয়াতি, নকল দলিল ব্যবহার, কোম্পানির অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়।