এডিপির আকার কমল ১৮ হাজার কোটি টাকা

এডিপির আকার কমল ১৮ হাজার কোটি টাকা

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) কমেছে ১৮ হাজার কোটি টাকা। মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে দেওয়া বরাদ্দের অর্থ ব্যয় করতে না পারায় কাটছাঁটের পর এডিপির আকার দাঁড়াল ২ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। মূল এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা। আজ মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় সংশোধিত এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কমিশন সূত্র জানায়, সব মন্ত্রণালয় সময় মতো বরাদ্দকৃত অর্থ খরচ করতে পারছে না। ফলে এডিপির বাস্তবায়নে প্রত্যেকবারই ব্যয় কমানো হচ্ছে। মোট সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) সর্বোচ্চ ২৫ দশমিক ৮২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে। যা টাকার অঙ্কে ৬৩ হাজার ২৬৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এরপরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ খাতে ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ। যা টাকার অঙ্কে ৩৭ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা।
পরিকল্পনা কমিশন জানায়, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে নিজস্ব অর্থায়ন কমছে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা। এডিপিতে নিজস্ব অর্থায়ন ছিল ১ লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকা। যা কমে হচ্ছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এছাড়া, বিদেশি সহায়তা থেকে বরাদ্দ কমছে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা। এতে সংশোধিত এডিপিতে বিদেশি সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াবে ৮৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।



অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, রমজান মাসে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকার যেমন অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর তেমনি জনগণকেও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাই। সোমবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, পণ্যের যথেষ্ট সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে পণ্য মজুত করে এবং অতিরিক্ত মুনাফা লাভের জন্য কৃত্রিম উপায়ে দাম বাড়ায়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সারা বিশ্বে উৎসব-পার্বণে দ্রব্যমূল্য কমে আর আমাদের দেশে অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বেশি রাখে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর। অভিযানও চলমান। অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জনগণ যখন মোর্চা গড়ে তুলবে তখন তারা কোথায় যাবে এমন প্রশ্নও রাখেন তিনি।
মতবিনিময়ের আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ তুরস্ক, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে টানা সফর নিয়ে ব্রিফ করেন। তিনি জানান, ১ মার্চ তুরস্কে আনাতালিয়া ফোরামের সাইডলাইনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ও সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইগন্যাসিও ক্যাসিসের সঙ্গে তিনি বৈঠক করেন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়সহ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার কথা জানান তিনি।
৫ মার্চ সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ এবং ওআইসি মহাসচিব হিসেন ব্রাহিম তাহার সঙ্গে তার সাক্ষাৎ অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।
৮ ও ৯ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং মানবসম্পদ ও এমিরেটাইজেশন বিষয়ক মন্ত্রী ড. আব্দুল রহমান আল আওয়ারের সঙ্গে তার বৈঠকের ওপর আলোকপাত করেন হাছান মাহমুদ।



অনুমোদনহীন ভবনের গ্যাস বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নের নির্দেশ

অনুমোদনহীন ভবনের গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। বুধবার চট্টগ্রামে ব্রিফিংয়ে তিনি এ নির্দেশ দেন। এদিন কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির প্রিপেইড মিটার প্রকল্পের ডেটা সেন্টার উদ্বোধন করেন তিনি।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বেইলি রোডের মতো দুর্ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না থাকলে গ্যাস সংযোগ দেওয়া যাবে না। আগে সংযোগ দেওয়া হলেও যদি নিয়মবহির্ভূত কাজে ব্যবহার হয়, তবে সেই সংযোগ কাটা হবে। আবাসিকের অনুমোদন নিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালালে, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ না হলে, নকশার ব্যত্যয় হলে সেই ভবনের গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।’ এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, অনুমোদিত শিল্প এলাকা ছাড়া কোথাও গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হবে না।

তিন বছরের মধ্যে চট্টগ্রামের সব গ্রাহককে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব মিটার লাগানো হচ্ছে, সেগুলো জাপানের। জাইকার সহযোগিতায় এই কার্যক্রম চলছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গ্যাস কোম্পানিগুলোর বেশি বকেয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র  ও সার কারখানায়। এ দুই খাতে কয়েক হাজার কোটি টাকা বকেয়া জমেছে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস চাইলে বকেয়া পরিশোধ করতে হবে। সার কারখানা বকেয়া না দিলে তাদের গ্যাস দেওয়া হবে না।’ এ সময় পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এর আগে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের নিজস্ব ভবন নির্মাণের স্থান এবং পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির স্থাপনা পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ‘সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন তেল পরিবহনের ব্যবস্থা হচ্ছে। জ্বালানি তেল খালাস, সংরক্ষণ ও পরিবহন অটোমেশনের আওতায় আসবে।’ তিনি জানান, তেলের দাম নির্ধারণ এবং পরিচালনা পেপারলেস ও হিউম্যানলেস হবে। সিঙ্গেল মুরিং (এসপিএম) লাইন প্রকল্পে পরীক্ষামূলক তেল পরিবহন চলছে। এতে বছরে প্রায় হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। মহেশখালীর গভীর সমুদ্রের মাদার ভেসেল থেকে পাইপলাইনে পতেঙ্গা ডিপোতে তেল চলে আসবে।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ডিপোগুলো অটোমেশন হচ্ছে। পতেঙ্গা থেকে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল পর্যন্ত পাইপলাইন হচ্ছে। ট্যাঙ্কলরিগুলোও আধুনিকায়ন করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘আজ বৃহস্পতিবার দেশে জ্বালানি তেলের দামে বিরাট পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এর পর থেকে মাসের প্রথম সপ্তাহে দাম নির্ধারণ হবে। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা চালু করতে পারলে সেখানেও অর্থ সাশ্রয় হবে।’ বিপিসির চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদসহ কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন




ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় এক দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার তৎকালীন রমনা রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসভায় ঐতিহাসিক ভাষণে জাতিকে স্বাধীনতার প্রশ্নে উদ্দীপ্ত করেছিলেন। ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’– এ দৃপ্ত উচ্চারণে বঙ্গবন্ধু সেদিন পাকিস্তানের নিষ্পেষণ থেকে বাঙালির মুক্তির মূলমন্ত্র ঘোষণা করেছিলেন তাঁর ভাষণে।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সে ভাষণ পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজমন্ত্র হয়ে পড়ে। মূলত বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণে উদাত্ত আহ্বানেই মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করে বাঙালি। পরে ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংস গণহত্যার পর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

দিনটিকে বাঙালির ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেন তারা। ৭ মার্চ উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও বেতার বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। সংবাদপত্রগুলোতে প্রকাশ করা হবে বিশেষ নিবন্ধ।

দিনটি স্মরণে আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে রয়েছে– ভোর সাড়ে ৬টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন; সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ এবং বিকেল ৪টায় তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ ভবনে রয়েছে আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ ছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগ, তাঁতী লীগ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, জয় বাংলা সাংস্কৃতিক ঐক্যজোটসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান দিবসটি উপলক্ষে পতাকা উত্তোলন, জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে ৭ মার্চ উপলক্ষে কেন্দ্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালনের জন্য দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী-সমর্থক এবং সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।




ভবন-রেস্টুরেন্ট মালিকের দোষ কর্মচারীর ওপর

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের পপাইস কফি অ্যান্ড ফাস্টফুডে আট কর্মচারী কাজ করেন নিয়মিত। যা বেতন পান তাতে সংসার খরচের পর কিছুই থাকে না। রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে গ্রেপ্তার আতঙ্কে তিন দিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ। দোকানটি বেশি দিন বন্ধ থাকলে বেকার হয়ে যেতে পারেন– এমন আশঙ্কা তাদের।

রাজধানীর প্রায় প্রতিটি রেস্তোরাঁর কর্মচারীদের মধ্যেই এ ভীতি ভর করেছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের অভিযোগে গ্রেপ্তারও হতে হচ্ছে কর্মচারীদের। তাদের ভাষ্য, রাজধানীর প্রায় সব রেস্তোরাঁ ভবন মালিকের কাছ থেকে ফ্লোর ভাড়া নিয়ে গড়ে উঠেছে। সে পটভূমিতে নিয়ম-অনিয়মের জন্য দায়ী হওয়ার কথা ভবন মালিক ও রেস্তোরাঁ মালিকদের। তবে হয়রানির মুখে পড়ছেন কর্মচারীরা। পুলিশ কর্মচারীদেরই ধরে নিয়ে যাচ্ছে।

বছরের পর বছর রাজধানীর রেস্তোরাঁর বিষয়ে নজরদারি ছিল না সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার। গত ২৯ ফেব্রুয়ারি রাতে বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের প্রাণ হারানোর পর যেন চেতনা ফিরেছে তাদের। নড়েচড়ে বসে সেবা সংস্থাগুলো। বেইলি রোডের ওই ট্র্যাজেডির পর ৩ মার্চ থেকে রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে পুলিশ, রাজউক ও সিটি করপোরেশন। প্রশ্ন উঠেছে, এতদিন ছিল কোথায় সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্তরা? গ্রিন কোজি কটেজে যখন আটটি রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছিল, তখন কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? এতে কি দায়িত্বপ্রাপ্তদের কোনো দায় নেই? আর দুর্ঘটনার পর ঢালাওভাবে রেস্তোরাঁয় অভিযান চালানো হচ্ছে। হয়রানি করা হচ্ছে নিরীহ কর্মচারীদের।

গতকাল বুধবার দুপুর পর্যন্ত তিন দিনে রাজধানীতে ১ হাজার ১৩২ রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।

এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার রাখায় ২০৭ দোকানে এবং আটটি রাসায়নিক গুদামে অভিযান চালায় পুলিশ। তিন দিনে ৮৭২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বেশির ভাগের বিরুদ্ধে আদালতে প্রসিকিউশন দেওয়া হয়। প্রসিকিউশন সংখ্যা ৮৮৭টি। প্রসিকিউশনে অভিযুক্তরা আদালতে অর্থদণ্ড দিয়ে ছাড়া পান। অবশ্য ২০ মামলা হয়েছে এই তিন দিনে।

এর মধ্যে মঙ্গলবার ৪০২ রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২২৮ জনকে। আর আদালতে প্রসিকিউশন দেওয়া হয়েছে ১৯২টি। মামলা হয়েছে ১০টি। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার রাখার অভিযোগে ১০৩ দোকান ও পাঁচটি রাসায়নিক গুদামে অভিযান চালানো হয়।

এ ছাড়া রাজউক ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ২৩ প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ৯ লাখ ৬৭ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।

গতকাল বিকেলে মেরাদিয়া ভূঁইয়াপাড়ার লাল মিয়ার হোটেলের সামনে রাস্তার ওপর গ্যাসের চুলা লাগিয়ে রান্না চলছিল। এ সময় খিলগাঁও পুলিশ হোটেলের ব্যবস্থাপক আশরাফুলকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে আদালতে প্রসিকিউশন দেওয়ার কথা রয়েছে।

গতকাল খিলগাঁওয়ের ২৫/বি ভবনে অভিযান চালিয়ে কেএফসি, ডোমিনোজ পিৎজা, সিক্রেট রেসিপিসহ চার প্রতিষ্ঠানকে ৭ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন রাজউকের ভ্রাম্যমাণ আদালত। যখন ওই ভবনে অভিযান চালানো হয়, তখন আল কায়েদা পার্টি সেন্টার ও ক্রিমসন কাপ নামে দুটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ পাওয়া যায়।

রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল ইসলাম বলেন, কেএফসি ও ডোমিনোজ পিৎজায় ফায়ার সেফটি ও বিকল্প সিঁড়ি পাওয়া যায়নি। আবাসিক ভবনে এই রেস্তোরাঁ করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। অনিয়মের জন্য দুটি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া সিক্রেট রেসিপিকে ২ লাখ ও চায়না ল্যান্ড রেস্টুরেন্টকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি বলেন, তাদের সব নিয়মকানুন মেনে প্রতিষ্ঠান চালাতে বলা হয়েছে। রেস্তোরাঁ মালিকের পাশাপাশি ভবন মালিককেও আইনের আওতায় আনা হবে।




নির্বাচনকালে নিরাপত্তা বিষয়ে জানতে চাইল যুক্তরাষ্ট্র

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় সরকার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কী ভূমিকা পালন করবে এবং কীভাবে নিরাপত্তা প্রদানের পরিকল্পনা করেছে– তা জানতে চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সময় মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে সরকারের ভূমিকাও জানতে চায় তারা। ঢাকা-ওয়াশিংটন নবম নিরাপত্তা সংলাপে এসব বিষয় উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ওই সংলাপ হয়। ঢাকা সফররত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনৈতিক সামরিকবিষয়ক আঞ্চলিক নিরাপত্তার ডেপুটি অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি মিরা কে রেসনিক সংলাপে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উত্তর আমেরিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালক খন্দকার মাসুদুল আলম। সংলাপ শেষে বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মিরা কে রেসনিক।

একটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এ সময় যেন কোনো সহিংসতা না হয়। তাই নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সরকার কী পরিকল্পনা নিয়েছে, তা জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে নির্বাচনকালে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে রাখার পক্ষে মত দিয়েছে ওয়াশিংটন।

সংলাপে অংশগ্রহণকারী এক কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল। তবে কীভাবে তা করা হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি।

সংলাপ শেষে আলোচনার বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘মানবাধিকার বিষয়ে যেসব বাধ্যবাধকতা রয়েছে, বাংলাদেশ সেগুলো পূরণ করছে। সংলাপে বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। তারা নির্বাচনের ব্যাপারে জানতে চেয়েছে। বাংলাদেশ অবাধ ও মুক্ত নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী এ কথা অনেকবার বলেছেন। তিনি বিদেশিদেরও বলেছেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) এটি নিয়ে কাজ করছে। সম্প্রতি ইসি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে। সেখানেও যদি সাহায্য লাগে, যুক্তরাষ্ট্র করতে চেয়েছে। তবে রাজনৈতিক দল কে কী ভাবছে তা তো আমরা বলতে পারব না।’ তবে, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব।

আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিরক্ষা বাদে, মানবাধিকার, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, সাইবার নিরাপত্তা, ইন্দো-প্যাসিফিক আউটলুক ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সরাসরি প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি, যেহেতু এটি প্রতিরক্ষা সংলাপের আলোচনার বিষয় ছিল। তবে আমরা বলেছি, বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তি নিয়ে কাজ করছে। বিভিন্ন দেশ থেকে এ বিষয়ে আমরা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করছি।’

র্যা বের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘র্যা বের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কিছু আলোচনা করেছে। আমরা জানিয়েছি, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রতিটি অভিযোগ আমরা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে সেগুলোর উত্তর আমরা বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে দিই। আমাদের দেশে বিচারহীনতার কোনো সুযোগ রাখি না। র‌্যাব-পুলিশ প্রত্যেকেরই আচরণবিধি রয়েছে। একটা গুলি খরচ করলেও জবাবদিহি করতে হয়। সব অভিযোগ বা দুর্ঘটনায় যে সরকার জড়িত থাকে এমন নয়। যেমন, গাজীপুরে এক শ্রমিক নেতা মারা গেছেন। সেখানে সরকারের কোনো হাত নেই। শেষ পর্যন্ত আমাদেরই জবাবদিহি করতে হয়।’ র্যা বের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশের ইন্দো-প্যাসিফিক আউটলুক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মন্তব্য জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের ইন্দো-প্যাসিফিকে অনেক মিল রয়েছে। সেখানে যাতে মুক্তভাবে জাহাজ চলাচল করতে পারে, অর্থনৈতিক সম্ভাবনার যাতে পূর্ণ ব্যবহার হয়– এগুলোর বিষয়ে দুই দেশ একমত। তারাও চান না, কোনো সুনির্দিষ্ট দেশ আধিপত্য বিস্তার করুক বা মুক্ত চলাচলে বাধা হয়ে দাঁড়াক।’ যুক্তরাষ্ট্র একক আধিপত্য বলতে চীনের কথা বলেছে কিনা– জানতে চাইলে কোনো উত্তর দেননি পররাষ্ট্র সচিব।

মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘র্যা বের ওপরে আপাতত তাদের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, আমাদের পুলিশ-সেনাবাহিনীসহ অন্য বাহিনী ও সংস্থার সঙ্গে তাদের সহায়তা যেন অব্যাহত থাকে। আর্মি টু আর্মি জয়েন্ট এক্সারসাইজ আছে, সেগুলো অব্যাহত থাকবে এবং আগামীতে আরও জোরদার হবে।’

সংলাপে রোহিঙ্গা ইস্যুতে হালনাগাদ তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরা হয়। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘আমরা বলেছি, এই সংকটের সমাধান চাই। মানবিক সহায়তার কথা বলা হয়েছে, ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে কীভাবে ফেরত পাঠানো যায় সে বিষয়েও আমাদের অবস্থান জানিয়েছি। তবে, রাখাইনে এই মুহূর্তে নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে। আলাদা কোনো মনোভাব নেই, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত হলে এবং স্বেচ্ছায় যেতে চাইলে প্রত্যাবাসনে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ভারত সফরের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ওই বৈঠক হবে। বৈঠকে তিস্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে।

মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় অনেক ইস্যু রয়েছে। সবগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। কানেকটিভিটি ও তিস্তার পানির বিষয়ে কথা হবে। জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হবে। গুরুত্বপূর্ণ সব ইস্যু নিয়েই আলাপ হবে। দুই দেশের মধ্যে অনেক প্রকল্প রয়েছে, সেগুলোর অগ্রগতি আলোচনা হবে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিশ্বের জটিল পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। খাদ্য নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা, কাউন্টার স্যাংশন নিয়েও আলোচনা হবে।




জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষা

২০২৪ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আগামী বছর জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

সোমবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক তপন কুমার সরকার স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে জানানো হয়, ২০২৪ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সকল নিয়মিত, অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা শুরুর সম্ভাব্য সময় আগামী বছরের জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহ।




তিন শিশুকে মামলায় জড়িয়ে পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ

নদীতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় মানিকগঞ্জ আদালতে মামলা করেন বাবা। এতে শিশুটির তিন বন্ধুকেও আসামি করা হয়েছে। তাদের বয়স যথাক্রমে ১২, ১০ ও ৯ বছর।

এর প্রতিবাদে জেলার সাটুরিয়া উপজেলার তিল্লি এলাকার বাসিন্দারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন। সোমবার তসভি ডাঙ্গা এলাকায় পালিত হয় এ কর্মসূচি।

আসামি করা শিশুদের স্বজন ও এলাকাবাসীর ভাষ্য, ২০ আগস্ট ওই চার শিশু স্থানীয় কালিগঙ্গা নদীর সেতুর নিচে গোসলে যায়। সেখানে দাপাদাপির সময় নিখোঁজ হয় অপূর্ব (১১)। তিন বন্ধু বিষয়টি টের পেয়ে বড়দের ডেকে আনে। তাদের সহায়তায় নৌপুলিশের ডুবুরিদল উদ্ধার অভিযান চালিয়েও সেদিন অপূর্বর খোঁজ পায়নি। এর দু’দিন পর ঘটনাস্থলের কয়েক কিলোমিটার দূরে শিশুটির লাশ ভেসে ওঠে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, লাশ শনাক্তের জন্য অপূর্বর স্বজনদের সংবাদ পাঠানো হলেও তারা আসেননি। পরে তিন বন্ধু লাশটি অপূর্বর বলে শনাক্ত করে। ময়নাতদন্তের পর পুলিশ বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন করে। পরিচয় নিশ্চিত হতে তারা ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্তও নেয়।

এ ঘটনায় মানিকগঞ্জ আদালতে মামলা করেন অপূর্বর বাবা আব্দুল মালেক। তিনি ছেলেকে হত্যা ও গুমের অভিযোগ আনেন। এতে ৯ বছর বয়সী শিশুটিকে পাঁচ নম্বর, ১২ বছর বয়সী শিশুকে ৬ নম্বর ও ১০ বছর বয়সী শিশুটিকে ৭ নম্বর আসামি করা হয়। ওই শিশুরা স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় পড়ে। তাদের বাবা-মাকেও আসামি করা হয় এ মামলায়।

সোমবারের বিক্ষোভে স্থানীয় বিশিষ্টজন অভিযোগ করেন, স্থানীয় এক প্রভাবশালীর ইশারায় মৃত শিশুটির বাবা মিথ্যা মামলা করেছেন। এর মাধ্যমে তিন শিশুর পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে। সেখানে বক্তব্য দেন তিল্লী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক খান, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুরছালিন বাবুসহ অন্যরা।

বক্তব্য জানতে মামলার বাদী আব্দুল মালেকের মোবাইল ফোন নম্বরে কল দিয়ে বন্ধ পাওয়া যায়। তাঁকে বাড়িতেও পাওয়া যায়নি। স্বজনরাও কোনো বক্তব্য দিতে চাননি।

সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস বলেন, শিশু নিখোঁজের বিষয়ে থানায় কোনো মামলা হয়নি। আদালতে মামলা হয়েছে বলে শুনেছেন। তবে গতকাল পর্যন্ত আদালত থেকে এ বিষয়ে কোনো কাগজপত্র থানায় আসেনি।




কাস্টমস গুদাম থেকে ৫৫ কেজি স্বর্ণ উধাও

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টম হাউস থেকে অন্তত ৫৫ কেজি স্বর্ণ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। যে কোনো মূল্যে চুরির সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে বলে জানিয়েছেন কাস্টমসের একাধিক কর্মকর্তা। চুরি হওয়া স্বর্ণের মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে বিমানবন্দর থানার ওসি আজিজুল হক মিঞা বলেন, কাস্টম হাউসের ভল্ট থেকে চুরির ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। পুলিশ জানায়, রোববার দুপুরের দিকে ভল্ট থেকে স্বর্ণ চুরির বিষয়টি জানাজানি হয়। ওই এলাকাটি সংরক্ষিত। পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরার নজরদারিতে।

অবৈধ উপায়ে আনা যাত্রীদের কাছ থেকে জব্দ স্বর্ণের বার, অলংকারসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র কাস্টম হাউসের গুদামে রাখা হয়। উধাও হওয়া স্বর্ণের মধ্যে অলংকার ও স্বর্ণের বার রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো চক্র সুকৌশলে কাস্টম হাউস থেকে জব্দ স্বর্ণ সরিয়ে ফেলেছে। দীর্ঘদিন ধরে অল্প অল্প করে সরানো হয়েছে, নাকি একবারেই গায়েব করা– তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

কাস্টম হাউসের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জব্দ মালপত্র গুদামে ঠিকঠাক রয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হতে কয়েক দিন ধরেই নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছিল কাস্টম হাউস। আলাদা একাধিক দল গুদামের মালপত্রের তালিকা প্রস্তুত করছিল। এ সময় তারা দেখতে পায়, গুদামের একটি তালা বাইরে থেকে অক্ষত থাকলেও ভেতরের লকার ভাঙা। এর পরই স্বর্ণ চুরির বিষয়টি ধরা পড়ে।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, বিমানবন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তারা চার শিফটে কাজ করেন। সব শিফটে জব্দ করা স্বর্ণ একটি গুদামে রাখা হয়েছিল। স্বচ্ছতার জন্য ঢাকা কাস্টম হাউসের কমিশনার একেএম নুরুল হুদা আজাদ সম্প্রতি জব্দ করা স্বর্ণ শিফটের ভিত্তিতে আলাদা লকারে রাখার নির্দেশ দেন। বিভিন্ন শিফটে জব্দ হওয়া স্বর্ণ ওই শিফটের নির্ধারিত লকারে রাখতে বলেন তিনি। পরে গুদামে থাকা স্বর্ণের হিসাব করার জন্য একটি কমিটি করা হয়। ওই কমিটি প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। কাস্টম হাউস ছাড়াও সিআইডি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকটি দল দোষীদের শনাক্ত করতে কাজ করছে।

বিমানবন্দরের ভেতরে হারিয়ে যাওয়া ও খুঁজে পাওয়া পণ্য রাখার স্থানের পাশেই কাস্টমসের গুদাম।




বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে আরও ২৩ ককটেল উদ্ধার

বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩৫ নম্বর কেমিক্যাল শেডের পশ্চিম পাশে একটি মুদি দোকানের পেছনে ড্রেনের ভেতর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ২৩টি তাজা ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে এ ককটেলগুলো উদ্ধার করা হয়।

বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন ভূঁইয়া জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩৫ নম্বর কেমিক্যাল গোডাউনের পশ্চিম পাশে একটি মুদি দোকানের পেছনে ড্রেনের মধ্যে পরিত্যক্ত অবস্থায় ২৩টি তাজা ককটেল রয়েছে। পরে বেনাপোল পোর্ট থানার একটি টিম নিয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে ২৩টি তাজা ককটেল উদ্ধার করি। উদ্ধার করা ককটেলগুলো পানিতে ভিজিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। কে বা কারা এ ককটেল সেখানে রেখেছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।