লক্ষ্মীপুরে দুই মাদক কারবারির ১৪ বছর কারাদণ্ড

লক্ষ্মীপুরে ১৬ গেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার হওয়া দুই মাদক কারবারির সাত বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

একই সঙ্গে তাদের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আজ বুধবার দুপুরে মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন। লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। তাদেরকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ের সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তারা জামিনে গিয়ে পলাতক রয়েছেন।’

দণ্ডপ্রাপ্ত কামরুল হাসান লক্ষ্মীপুর পৌরভার রাজিবপুর এলাকার মারফত উল্যার ছেলে ও মাঈন উদ্দিন কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের মুক্তার হোসেনের ছেলে।

এজাহার সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ৯ অক্টোবর রাতে সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের মতলবপুর গ্রামের কালিবাজার সড়কে মাদকদ্রব্য নিয়ে কামরুল ও মাঈন অবস্থান করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের দল ঘটনাস্থল থেকে তাদের আটক করে। এসময় তাদের কাছ থেকে ৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

পরে আটক মাঈনের লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের দক্ষিণ মজুপুর এলাকার ভাড়া বাসা থেকে আরও ৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশের এসআই জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

একই বছর ১৫ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মকবুল হোসেন আদালতে কামরুল ও মাঈনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত তাদের কারাদণ্ড প্রদান করেন।




একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকুন : সেনাপ্রধান

আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সদা প্রস্তুত থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ।

বুধবার (৩০ নভেম্বর) সকালে রাজশাহী সেনানিবাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬টি ইউনিটের রেজিমেন্টাল কালার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

সেনা প্রধান জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন রেজিমেন্টাল কালার প্রাপ্ত ইউনিটসমূহকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই বিশেষ দিনে আমি পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

সেই সঙ্গে স্মরণ করছি মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মদানকারী ৩০ লক্ষ বীর শহীদদের।

তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে প্রিয় বাংলাদেশ আজ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। ফোর্সেস গোল-২০৩০ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন হচ্ছে। সেনাবাহিনীর সামরিক ঐতিহ্য অনুযায়ী যে কোনো ইউনিটের জন্য রেজিমেন্টাল কালার প্রাপ্তি অত্যন্ত গৌরবের বিষয়।

তিনি সকলকে আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সদা প্রস্তুত থাকতে আহ্বান জানান।

পরিশেষে সেনাবাহিনী প্রধান রেজিমেন্টাল কালার প্রদান উপলক্ষ্যে একটি সুশৃঙ্খল, মনোজ্ঞ ও বর্ণিল কুচকাওয়াজ প্রদর্শনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

এরপর সেনাবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারে বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলনে উপস্থিত বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের অধিনায়ক ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন এবং এ রেজিমেন্টের উন্নয়ন, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও দেশে-বিদেশে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রম বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

সেনাবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য, দেশমাতৃকার সেবায় সক্রিয় অবদানের কথা স্বরণ করেন। আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সদা প্রস্তুত থাকতে এই রেজিমেন্টের সকল সদস্যের প্রতি আহ্বান জানান।




ইসলামী ব্যাংকের অনিয়ম তদন্তে রিটের পরামর্শ

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের অস্বাভাবিক ঋণ প্রদানসহ নানা অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত চেয়ে রিটের পরামর্শ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (৩০ নভেম্বর) এ বিষয়ে এক আইনজীবীর মৌখিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই পরামর্শ দেন।

এদিন সকালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির আদালতে ‘ইসলামী ব্যাংকের ভয়ংকর নভেম্বর’, এস আলম গ্রুপের ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার ঘটনায় প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন।

সকাল ১০টা ৫৪ মিনিটে ডায়াসে আসেন শিশির মনির। তিনি বলেন, আমরা ঘটনা ঘটার পর সেটি নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করি।

আগে থেকেই যদি এসব সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করি তাহলে হয়তো কিছুটা সমাধান করা সম্ভব। এরপর তিনি তার চিঠি ও ইসলামী ব্যাংকের বিষয়ে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। আদালত সেটি দেখে রিট করার পরামর্শ দেন।

এর আগে গত রোববার (২৭ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বরাবর একটি চিঠি দেন। তার সঙ্গে আরও ছিলেন ইসলামী ব্যাংকের পাঁচজন আইনজীবী গ্রাহক। অন্যরা হলেন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ, অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ সাদিক, শাইখুল ইসলাম ইমরান ও যায়েদ বিন আমজাদ।

ডাকযোগে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ‘আমরা সবাই ইসলামী ব্যাংক, বাংলাদেশ লিমিটেডের নিয়মিত গ্রাহক। ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় আমাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। আমরা সাধ্যমতো ইসলামী ব্যাংকের সাথে লেনদেন করে থাকি।

গত ২৪ নভেম্বর ‘প্রথম আলো’ পত্রিকার অনুসন্ধানী রিপোর্টে উঠে এসেছে, ইসলামী ব্যাংক থেকে নভেম্বর মাসের ১ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত দুই হাজার ৪৬০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে একটি ‘অসাধু চক্র’। এই রিপোর্টে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের আমানতকারী হিসেবে আমরা উদ্বিগ্ন। স্বীকৃতমতে, বর্তমানে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করছে।’

এমতাবস্থায়, এই ধরনের সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনে আমরা সংক্ষুব্ধ। বিষয়টি আমলে নিয়ে গভীরভাবে খতিয়ে দেখার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। একইসঙ্গে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করার অনুরোধ করছি।




৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি আজ , পদ ২৩০০

বিসিএস পরীক্ষার্থীদের প্রতীক্ষার প্রহর ফুরাতে যাচ্ছে। আজ ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। এবার ২৩০০ পদে নিয়োগ দেবে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ক্যাডার নিয়োগ করা হবে।

নন-ক্যাডার পদে ঠিক কত জনবল নিয়োগ হতে পারে, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত আজ চূড়ান্ত করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ শাখা থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে বিপিএসসির একাধিক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, বুধবার দুপুরে পিএসসিতে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতেই ৪৫তম বিসিএসের ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদের সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ বিসিএসে ২৩টি ক্যাডারে মোট ২ হাজার ৩০৯ জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হবে স্বাস্থ্য ক্যাডারে। এতে নিয়োগ পাবেন ৫৩৯ চিকিৎসক।
এর মধ্যে সহকারী সার্জন পদে ৪৫০ ও ডেন্টাল সার্জন পদে ৮৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রশাসনে ২৭৪, পুলিশে ৮০, শিক্ষা ক্যাডারে ৪৩৭ জন, কর ক্যাডারে ৩০, কাস্টমসে ৫৪, আনসারে ২৫ এবং পররাষ্ট্র, বন, রেল, কৃষি, মৎস্যসহ অন্যান্য ক্যাডারে ৮৭০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।




রামগঞ্জে বিএনপির সাবেক এমপি সহ ৫ নেতাকে দল থেকে অব্যাহতি

আবু তাহের, রামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকায় লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির আহবায়কসহ ৫ নেতাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। জেলা বিএনপির আহবায়ক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবুসহ তিন নেতা এ অব্যাহতি পত্রে স্বাক্ষর করেন বলে জানা গেছে।
সোমবার(২৮ নভেম্বর) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আ্যডভোকেট হাছিবুর রহমান হাছিব।অব্যাহতি প্রাপ্তরা হলেন- রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ, সদস্য সাহাবুদ্দিন তুর্কি, আবদুর রহিম ভিপি, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব মিয়া মো. আলমগীর, পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক জাকির হোসেন মোল্লা।
দলীয় সূত্র জানায়, ওই ৫ নেতার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায় জেলা বিএনপির দলীয় প্যাডে অব্যাহতি পত্র লিখে অব্যাহতি পাওয়া নেতৃবৃন্দের হোয়াটস আ্যাপ নাম্বারে প্রেরণ করা হয়। এর আগে ১২ নভেম্বর অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেতাদেরকে ৭ দিনের সময় দিয়ে কারন দর্শানোর নোটিশ দেয় জেলা বিএনপি। যথাসময়ে নোটিশের জবাবও দেয়া হয়। তবে সন্তোস জনক কোন জবাব দেয়া হয়নি বলে তাদেরকে দল থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
জানতে চাইলে রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ অব্যাহতিপত্র প্রাপ্তি স্বীকার করে মুঠোফোনে জানান, জেলা বিএনপির কয়েক নেতা একপেশে সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদেরকে অন্যায়ভাবে অব্যাহতি দিয়েছে। এ বিষয়ে তারা কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে আপিল পত্র পাঠাবেন বলে জানান তিনি। এসময় তিনি আরও জানান, গত কয়েকমাস আগে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাহাবুবুল আলম বাহারকে অব্যাহতি দিয়ে কেন্দ্র থেকে চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু জেলা কমিটি কেন্দ্রের নির্দেশনা উপেক্ষা করে তাকে স্বপদে বহাল রাখে। এতে নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতা-কর্মীরা জানায়, ৫ নেতাকে অব্যাহতি দিয়ে অবিচার করেছেন জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। এছাড়া এমন সিদ্ধান্ত সামনে আন্দোলন সংগ্রাম সহ জাতীয় নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে মত প্রকাশ করেন এসব নেতা-কর্মীরা।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আ্যডভোকেট হাছিবুর রহমান জানান, বিভিন্ন সময়ে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনাসহ একাধিক অভিযোগে সংগঠনের নিয়ম মেনে তাদেরকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। দলের বৃহত্তর স্বার্থ সংরক্ষনে অব্যাহতি প্রদানের সিদ্ধান্ত যথার্থ হয়েছে বলে তিনি জানান।




রামগঞ্জ উপজেলার শ্রেষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত শামছুল ইসলাম (সুমন)

আবু তাহের, রামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ৫নং চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সফল চেয়ারম্যান মরহুম নুরুল ইসলাম এর সুযোগ্য পুত্র শামছুল ইসলাম (সুমন ) রামগঞ্জ উপজেলার শ্রেষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

২০২১ সালে ২৮ শে নভেম্বর রামগঞ্জ উপজেলার চন্ডীপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। এরপর পরিষদের সকল সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ড ভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ এবং ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক জন্মনিবন্ধন, চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট, ওয়ারিশ সনদসহ সকল সেবা দ্রুততার সহিত দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের ২০২১-২০২২ অর্থবছরের কর্মদক্ষতার মূল্যায়নে এবং ইউনিয়নে উন্নয়নমূলক কাজে বিশেষ অবদান রাখায় ১০ জন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে এবং স্বচ্ছতাভাবে কাজ করায় শামছুল ইসলাম সুমনকে উপজেলার ইউনিয়ন শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়।
তার এ অর্জনএ স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় থেকে চন্ডিপুর ইউনিয়ন এর উন্নয়নমুলক কাজের জন্য বিশেষ অর্থ বরাদ্দ প্রাপ্ত হবেন।

চন্ডিপুর ইউনিয়নের ইউপি সচিব জনাব শফিকুল ইসলাম ও গন্যমান্য বেশ কয়েকজন চেয়ারম্যানের কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জানান, যে কোন সমস্যায় লোকজন ইউনিয়ন পরিষদে গেলে চেয়ারম্যান আন্তরিকতার সঙ্গে দ্রুত সমাধান করে দেন এবং শুরু থেকে পরিষদের যে কোন উন্নয়ন কাজ, বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ সরকারি যে কোন কর্মসূচিতে ও গ্রাম আদালতে অভিযোগ সমাধানে সকল সদস্যদের সাথে সমন্বয় করে সমাধান করে থাকেন।

চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামছুল ইসলাম সুমন বলেন, আমার বাবাও অত্র ইউনিয়নের একজন জনপ্রিয় চেয়ারম্যান হিসেবে জনগণের সেবা করে গেছেন। আমিও আমার বাবার মতো জনগণের সেবা করে যেতে চাই। কতটুকু সফল হতে পেরেছি সেটা জনগণ বিচার করবে। উপজেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান ও যেসব সম্মাননা পেয়েছি এগুলো ইউনিয়নবাসীর অর্জন। তারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে এবং সহযোগিতা না করলে আমার দ্বারা এ সম্মাননা অর্জন করা সম্ভব হতো না।




দীনের প্রতি অটল থাকা আল্লাহর সন্তুষ্টির পথ

দীনের ওপর অটল ও অবিচল থাকতে হবে। আল্লাহর সন্তুষ্টির এটিই একমাত্র পথ। বস্তুত দীনের ওপর অটল থাকা ছাড়া কল্যাণকর কোনো কিছুই অর্জিত হয় না। মহান আল্লাহ তাঁর পথকে ‘মুস্তাকিম’ বলেছেন। যার অর্থ সরল সুদৃঢ় ও অটল। আল্লাহর দীনের ওপর অটল থাকার অর্থ সব কাজে নিরবচ্ছিন্নভাবে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের আনুগত্য করা। চরম শিথিল ও বাড়াবাড়ির মাঝামাঝি পন্থায় নিয়ামতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের (নবী, সিদ্দিক, শহীদ ও সালেহিন) পথ সিরাতে মুস্তাকিমের অনুসরণ। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর এটিই আমার সরল পথ। অতএব তোমরা এ পথেরই অনুসরণ কর। অন্যান্য পথের অনুসরণ কোরো না। তাহলে তা তোমাদের তার পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে। এসব বিষয় তিনি তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যাতে তোমরা (ভ্রান্তপথ থেকে) বেঁচে থাকতে পারো।’ (সুরা আনআম, আয়াত ১৫৩) দীনের দাওয়াত ও সমাজ সংস্কারও একটি গুরুদায়িত্ব। এজন্য প্রয়োজন অসীম ধৈর্য।

প্রচলিত ধারণা উচ্ছেদ করে নতুন কোনো ধারণা প্রতিষ্ঠা করা নিঃসন্দেহে কঠিন কাজ। এ কঠিন কাজ সম্পাদনে মানুষের মনে ঠাঁই পেতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ির কোনো অবকাশ নেই। ইসলাম প্রচারেও রসুলুল্লাহ (সা.) অসীম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। সহজ ভাষায় তা প্রচার করেছেন। আজকের যুগে দীনের প্রচার এবং সমাজ সংস্কারেও আমাদের একই পথ বেছে নিতে হবে। দীনকে যাতে মানুষ বোঝা হিসেবে না ভাবে সেভাবেই এগোতে হবে।

আল্লাহর পথ সুদৃঢ়; যা ভঙ্গুর নয়, পরিবর্তনশীল নয়, বরং সদা মজবুত ও অপরিবর্তনীয়; যা কারও অনুগামী হবে না, বরং সবাই তার অনুসারী হবে। যা যুগের হাওয়ায় পরিবর্তন হয় না। বরং যুগকে সে পরিবর্তন করে। সিরাতে মুস্তাকিমের অনুসারীদের জন্য দীনের ওপর অটল থাকা অপরিহার্য। নইলে তার ওই দাবি মিথ্যা প্রতিপন্ন হবে। এজন্য আল্লাহ তাঁর নবীকে নির্দেশ দেন, ‘আর তুমি যেভাবে আদিষ্ট হয়েছো সেভাবে অটল থাকো এবং যারা তোমার সঙ্গে (শিরক ও কুফরি থেকে) তওবা করেছে তারাও। আর তোমরা সীমালঙ্ঘন কোরো না। নিশ্চয়ই তিনি তোমাদের সব কার্যকলাপ প্রত্যক্ষ করেন।’ (সুরা হুদ, আয়াত ১১২) আবুবকর (রা.) একবার রসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রসুল! আপনি বৃদ্ধ হয়ে গেছেন।’ জবাবে তিনি বললেন, ‘আমাকে বৃদ্ধ করেছে হুদ, ওয়াকিয়া, মুরসালাত, নাবা, তাকভির প্রভৃতি সুরা।’ (তিরমিজি) অর্থাৎ আল্লাহর দীনের ওপর অটল থাকতে গিয়ে এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ যথাযথভাবে পালন করতে গিয়ে অভিশপ্ত শয়তানের মোকাবিলা করতে হয়। যারা দীনের ওপর অটল থাকে তাদের মর্যাদার কথা উল্লেখ করে আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় যারা বলে আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ। এরপর তাতে অটল থাকে। তাদের ওপর ফেরেশতা অবতীর্ণ হয় এবং বলে, তোমরা ভয় কোরো না ও চিন্তিত হইও না। আর তোমরা তোমাদের জন্য প্রতিশ্র“ত জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ কর। ইহকালীন জীবনে ও পরকালে আমরা তোমাদের বন্ধু।’ (সুরা হা-মিম সাজদাহ, আয়াত ৩০) বর্ণিত আছে, ‘দীনের ওপর অটল থাকা এমন কষ্টকর যেমন জ্বলন্ত কয়লা হাতের মুঠোয় আঁকড়ে ধরে রাখা কষ্টকর।’ আমর (রা.) বলেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসুল! আপনি আমাকে ইসলামের এমন একটি কথা বলে দিন, যে সম্পর্কে আপনাকে ছাড়া অন্য কাউকে জিজ্ঞাসা না করতে হয়।’ তিনি বললেন, ‘তুমি বল, আমি আল্লাহর প্রতি ইমান আনলাম, এরপর (তার ওপর) অটল থাকো।’ (মুসলিম, তিরমিজি) আমাদের সমাজে চার ধরনের মানুষ রয়েছে। দৃঢ়বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী, কপট বিশ্বাসী ও শিথিল বিশ্বাসী। অবিশ্বাসীরা দিশাহীন পথিক। ওরা পথভ্রষ্ট। ওদের আচরণ পশুর চেয়ে নিকৃষ্ট। কপট বিশ্বাসীরা সুবিধাবাদী ও সুযোগসন্ধানী। এরা বলে এটাও ঠিক, ওটাও ঠিক। এরা মানুষের ঘৃণার পাত্র। এরা জাহান্নামের সবচেয়ে নিচের স্তরে থাকবে। শিথিল বিশ্বাসীরা ভীরু ও কাপুরুষ।

এরা সর্বদা অন্যের দ্বারা ব্যবহƒত হয়। সমাজে এদের সংখ্যাই বেশি। প্রথমোক্ত লোকেরাই সমাজের নেতা ও পরিচালক সাধারণত হয়ে থাকে। তারা যদি প্রবৃত্তিপূজারি হয় ও তার ওপর দৃঢ় থাকে, তাহলে তারা হয় হঠকারী ও সমাজ ধ্বংসকারী। অন্যদিকে তারা যদি আল্লাহভীরু হয় এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধের ওপর দৃঢ় থাকে তাহলে তারা হয় সমাজের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। অনেক সময় অনেক দীনদার মানুষকে চরমপন্থি হতে দেখা যায়। এটা হয়ে থাকে তাদের দীন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে। এদের থেকে বেঁচে থাকার জন্য রসুল (সা.) উম্মতকে সাবধান করে গেছেন। শৈথিল্যবাদীদের অবস্থা আরও করুণ। উভয় দল থেকে দূরে থেকে সর্বদা মধ্যপন্থি হয়ে আহলুস সুন্নাহর অনুসারী হওয়া একান্ত কাম্য। তাবেয়ি ইকরিমা (রহ.) থেকে বর্ণিত। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘প্রতি জুুমার দিন (সপ্তাহান্তে) একবার ওয়াজ-নসিহত কর। যদি তুমি পীড়াপীড়ি কর তবে দুবার, এর পরও যদি বাড়াতে চাও তবে তিনবার। লোকদের কোরআনের প্রতি বিরক্ত কোরো না।

এমন অবস্থা যেন না হয় যে, তুমি লোকদের কাছে গেলে এবং তাদের কোনো আলাপে লিপ্ত দেখলে, আর এ অবস্থায় তাদের তুমি ওয়াজ-নসিহত শুরু করে দিলে। ফলে তাদের আলাপে ছেদ পড়ল এবং তুমি তাদের অন্তর তোমার প্রতি ঘৃণায় ভরে দিলে। বরং এ অবস্থায় তুমি নীরব থাকো। যদি তারা আগ্রহভরে তোমার কাছে কিছু শুনতে চায় তবে তাদের কিছু বল। দোয়ায় কবিতার ছন্দমিল পরিহার কর। কেননা আমি রসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর সাহাবিদের দেখেছি, তারা এরূপ করতেন না।’ (বুখারি থেকে মিশকাতে)

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক




একযোগে ২৫ এএসপিকে বদলি

বাংলাদেশ পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদমর্যাদার ২৫ জন কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাদের বদলি করা হয়।

এতে বলা হয়, জনস্বার্থে এই পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি/পদায়ন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে কর্মকর্তাদের বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্বভার অর্পণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অন্যথায় ৮ ডিসেম্বর থেকে তাদের অনাকাঙ্ক্ষিত অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে।




আর্জেন্টিনার খেলা নিয়ে বাগবিতণ্ডা , ছুরিকাঘাতে বন্ধুকে খুন

চাঁদপুরে আর্জেন্টিনার খেলার সমর্থক নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে দশম শ্রেণির ছাত্র মো. মেহেদীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে একই এলাকার তার বন্ধু মো. বরকত।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত বরকতকে তার বসতঘর থেকে এলাকাবাসী আটক করে পুলিশে খবর দেয়।

সোমবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের নানুপুর আমিন ব্যাপারীর বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রউফ বিষয়টি জানিয়েছেন।

মেহেদীর বাবা হেলাল ব্যাপারী বলেন, ‘আমার ছেলে দুই দিন আগে আর্জেন্টিনার খেলা দেখছিল। ওই দিন রাতে আমার ছেলেকে খেলা নিয়ে বরকত মারধর করে। এরপর সোমবার সন্ধ্যায় আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে বরকত ছুরি দিয়ে বুকে আঘাত করে অন্ধকারে ফেলে রেখে যায়। ঘটনার পরপরই আহত মেহেদীকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।’

ওসি মো. আবদুর রউফ জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত বরকতকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে মেহেদীর মরদেহ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




ব্রাজিল ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় গোলশূন্য প্রথমার্ধ

কাতার বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নেমেছে ব্রাজিল ও সুইজারল্যান্ড। ‘জি’ গ্রুপের লড়াইয়ে শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ করতে থাকে দুই দল।

২৭তম মিনিটে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হয়ে সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন ভিনিসিউস। পুরো ৪৫ মিনিট জুড়েই ফিনিশিংয়ের অভাব দেখা যায় উভয় শিবিরে। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্র নিয়েই বিরতিতে যায় সেলেসাওরা।

বিস্তারিত আসছে …