শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে এখন স্মার্ট বাংলাদেশ -এমপি শাওন
রুবেল চক্রবর্তী, ভোলা প্রতিনিধি:
ভোলা ৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন বলেন, বাংলাদেশ শুধু ডিজিটাল খাতেই নয় সবখাতেই উন্নত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় কর্ম দক্ষতায় বাংলাদেশ আজ উন্নত দেশের শিখরে অবস্থান করছে।
সোমবার (১৪ নভেম্বর) উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মরিয়ম বেগম এর সভাপতিত্বে তজুমদ্দিন উপজেলায় দিনব্যাপী ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন এমপি শাওন।
পরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব লাল সরকারের সঞ্চালনায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, রাসায়নিক সার ও ভর্তুকিমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করেন এমপি শাওন।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন দুলাল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফখরুল আলম জাহাঙ্গীর, সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক দেওয়ান সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
লক্ষ্মীপুরে রশির খেলায় প্রাণ হারালো শিশু!
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ফাঁস লেগে মারা যাওয়া সাইফুল ইসলাম (৯) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের ধারণা, রশি নিয়ে খেলতে গিয়েই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ জানায় ময়নাতদন্ত করলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।
আজ সোমবার বিকেলে রায়পুর থানার ওসি শিপন বড়ুয়া মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সাইফুল দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চরবংশী গ্রামের কেরানীবাড়ির দুলাল বেপারীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে রবিবার (১৩ নভেম্বর) দিবাগত রাতে হাজিমারা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা সাইফুলের মরদেহ উদ্ধার করেন। দোচালা টিনের ঘরের আড়ার সঙ্গে তার মরদেহ ঝুলে ছিল। আজ সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পরিবার সূত্র জানিয়েছে, সাইফুল এ ঘটনা ঘটানোর কোনো কারণ নেই। ধারণা করা হচ্ছে, রশি নিয়ে খেলতে গিয়ে তার গলায় ফাঁস লেগে যায়। এতে সে মারা যায়।
ওসি শিপন বড়ুয়া জানান, ‘ঘটনাটি রহস্যজনক। পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন। ’
মাথাপিছু আয় বেড়েছে ২৩৩ ডলার
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মাঝে দেশে মাথাপিছু আয় বেড়ে দুই হাজার ৮২৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে। যা ২০২০-২১ অর্থবছরে ছিল দুই হাজার ৫৯১ ডলার। এই হিসাবে বিগত অর্থবছরে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ২৩৩ ডলার।
আজ সোমবার (১৪ নভেম্বর) মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপিত মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর ২০২১-২২ অর্থবছরের কার্যাবলী সংক্রান্ত বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।
এ সময় তিনি বলেন, ২০২১-২২ অর্থ বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ (সাময়িক), বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৮২৪ মার্কিন ডলার নিরূপিত হয়েছে। এই সময়ে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ তিন লাখ ৪২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা এবং রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ১৮ শতাংশ। এছাড়া বাংলাদেশের রফতানির পরিমাণ ৩৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ২০২১-২২ অর্থ বছরে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ ৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রেরিত রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২১ দশমিক ০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর এই সময়ে নয় লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৯ জন বাংলাদেশি কর্মী বৈদেশিক কর্মসংস্থান লাভ করেন।
এদিকে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে এক হাজার ৮৩৬টি প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে দুই লাখ তিন হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা, যা বরাদ্দের ৯২ দশমিক ৮০ শতাংশ। সেই সঙ্গে ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট ৩৩৩টি প্রকল্প সমাপ্ত হয়। এই অর্থবছর শেষে ১৬ দশমিক ০৭ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ ছিল, যা বিগত অর্থ বছরের তুলনায় ১০ দশমিক ৯৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ২০২১-২২ অর্থবছরে সার, সেচ কাজে বিদ্যুৎ, ইক্ষু ইত্যাদি খাতে মোট ১৫ হাজার ১৭২ দশমিক ৭৯ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে সরকার।
১৫ডিগ্রিতে নামলো পঞ্চগড়ের তাপমাত্রা
হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তাপমাত্রা ১৫ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছে।
আজ সোমবার (১৪ নভেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার আবহাওয়া পর্যেবক্ষণাগারের পর্যেবক্ষক মো. রোকনুজ্জামান ঢাকা মেইলকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, আজ সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ০ ডিগ্রি সে.। গতকাল তেঁতুলিয়ায় ১৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। তবে সামনের দিকে তাপমাত্রা আরও কমতে শুরু করবে।
এদিকে, জেলায় দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও বিকেলে উত্তর হিমালয় থেকে বয়ে আসা হিমশীতল বাতাসের কারণে বেশ ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। এমন ঠান্ডা আবহওয়া রাত থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত বিরাজমান থাকে।
২০ নভেম্বর ইজেডে ৫০ কারখানা উদ্বোধন করবেন শেখ হাসিনা
স্বাধীনতার ৫০ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ২০ নভেম্বর অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৫০টি শিল্প কারখানা, প্রকল্প ও অন্যান্য অবকাঠামো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)’র নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বেজার আটটি স্থানে ভার্চুয়ালি ৫০টি শিল্প কারখানা, প্রকল্প ও স্থাপনা উদ্বোধন করবেন।
বেজা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান আরও জানান, এগুলোর মধ্যে রয়েছে- চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর (বিএসএমএসএন)-এর চারটি বাণিজ্যিক কারখানা এবং বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলের আটটি কারখানা।
নোয়াখালীতে সরবরাহ বেড়েছে পোয়া মাছের, কমেছে দাম
মোঃ বদিউজ্জামান ( তুহিন), নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ
শাকসবজিসহ চাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যখন ঊর্ধ্বগতি ঠিক সে সময়ে মাছের বাজারে কিছুটা হলেও স্বস্তির বাতাস এনে দিয়েছে পোয়া মাছ। নোয়াখালীর বাজারগুলোতে গত কয়েক দিন যাবত পোয়া মাছের সরবরাহ বেড়েছে কয়েকগুণ। ফলে দামও এখন ক্রেতাদের হাতের নাগালে।
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটের আড়তদাররা বলছেন, প্রতিদিন ১ হাজার থেকে দেড় হাজার মণ পোয়া মাছ বিক্রি হয় এখানে। বড় সাইজের পোয়া মাছ ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যা কয়েকদিন আগেও ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো।
মৎস্যখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত কয়েক বছর থেকেই সরকারের নানামুখী উদ্যোগের কারণে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে উপকূলীয় হাটবাজারে এখন সারা বছরই নদী ও সাগরের মাছ পাওয়া যাচ্ছে।
আবদুর রহমান রনি নামের এক আড়তদার বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে পোয়া মাছের সরবরাহ ক্রমশ বাড়ছে। মাছের আড়তগুলোতে সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ বেশি। এ কারণে প্রতিদিন দামও কমছে।
ফারুক উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ী পল্লী নিউজ কে জানান চেয়ারম্যান ঘাটে প্রচুর পোয়া মাছ পাওয়া যাচ্ছে। দাম কম হওয়ায় গরিব মানুষরাও পোয়া মাছ ক্রয় করতে পারছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে নদীতে মাছ আহরণ করে জেলেরা জীবিকা নির্বাহ করতে পারছে।
মেঘনা ফিশিংয়ের ম্যানেজার মো. হাবিব ভূঁইয়া বলেন, প্রচুর পোয়া মাছ ধরা পড়ছে। ট্রলারে ৪ হাজার কেজি থেকে ১০ হাজার কেজি পর্যন্ত পোয়া মাছ পাওয়া যায়। সারাদিন পোয়া মাছ নিয়ে পাইকার ও আড়তদাররা ব্যস্ত থাকে।
কোম্পানিগন্জ ক্লোজার ঘাটের আড়তদার মোঃ জালাল উদ্দীন বলেন এ সময় পোড়া মাছ জেলেদের জীবনসংগ্রামে কিছুটা সাপোর্ট হচ্ছে তা নাহলে পুরো বেকার হয়ে পড়তো জেলেরা।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, সরকার মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে ইলিশের প্রজনন মৌসুম নিরাপদ করেছে। পাশাপাশি মাছের জন্য অভয়াশ্রম তৈরি করা এবং সাগরে নির্দিষ্ট সময় মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। ফলে এখন মাছ যেমন বড় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, তেমনি মাছের বংশবৃদ্ধি এবং উৎপাদন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আজ সেই ভয়াল’ ১২ই নভেম্বর
রুবেল চক্রবর্তী:
আজ ভয়াল ১২ই নভেম্বর । ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, বরগুনা ও ভোলাসহ দেশের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যায় সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড় গোর্কি। গোর্কির আঘাতে বিরাণ ভূমিতে পরিণত হয়েছিল বাংলাদেশের দক্ষিনাঞ্চল। দেড়শ’ মাইল বেগের গতিসম্পন্ন ঘূর্ণিঝড় ও ২০ থেকে ৩০ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসে গোটা উপকূলীয় এলাকা মৃতপুরীতে পরিণত হয়।ওই ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় পাঁচ লাখ লোকের প্রাণহানি ঘটে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ছিল ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা। ওই সময়ে সেখানকার ১ লাখ ৬৭ হাজার মানুষের মধ্যে ৭৭ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। একটি এলাকার প্রায় ৪৬ শতাংশ প্রাণ হারানোর ঘটনা ছিল অত্যন্ত হৃদয় বিদারক। ৭০-এর ঘূর্ণিঝড়ে মনপুরা উপকূলে প্রায় ৭ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। এর মধ্যে হাজিরহাট ইউনিয়নের পাটোয়ারী পরিবারে ৫৫ জন স্বজন প্রাণ হারায়। এছাড়াও অধিকাংশ পরিবারে ৭-১০ জন স্বজনের প্রাণ যায়। তখন বেতার ও টেলিভিশনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস শোনার আজকের মতো জোরদার ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি ছিল না কোন আশ্রয়কেন্দ্র।নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা থাকলেও এত মানুষের প্রাণহানি হত না বলে মন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঘরবাড়ি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ায় বহু মানুষ খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। সেদিন কাল রাতে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে এমন করুণ দৃশ্যের বর্ণনাও শুনাযায় যে, মা নিজে বাঁচতে গিয়ে তার কোলের সন্তানকে ছেড়ে দিয়েছে সামুদ্রিক জোয়ারের স্রোতে। সন্তান ছেড়ে দিয়েছে তার বাবা-মাকে। স্বামী তার স্ত্রীকে। আশ্রয়কেন্দ্রের অভাবে মানুষ জীবন বাঁচিয়েছে গাছের ডালে চড়ে। দিনের পর দিন মানুষ কলার থোড় কিংবা গাছের পাতা খেয়ে জীবনধারণ করেছে। বিশেষ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দূরবর্তী চরদ্বীপগুলোর বেঁচে থাকা প্রতিটি মানুষ দিন কাটিয়েছে অনাহারে। এমনকি নদী-পুকুরের পানিও তারা খেতে পারেনি। কারণ সর্বত্র ছিল শুধু মানুষ আর গবাদি পশুর লাশ আর লাশ। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী দীর্ঘ ১৫-২০ দিনেও কোথাও পৌঁছেনি কোন ধরনের ত্রাণ। ফলে বেঁচে থাকা মানুষগুলো সময় কাটিয়েছে এক নিদারুণ যন্ত্রণায়। যদিও আজকের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি অনেকটা অবাস্তব মনে হতে পারে। বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের কাছে গোটা বিষয়টি অবিশ্বাস্য মনে হবে।
সে সময় আজকের মতো প্রযুক্তি এতটা উন্নত ছিল না। এছাড়া অবকাঠামোগত যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙ্গে পড়েছিল। যে কারণে প্রলয়ঙ্করী এ ঘূর্ণিঝড়ের পুরো খবর ঢাকায় পৌঁছতে সময় লাগে প্রায় এক সপ্তাহ। সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে বহু মানুষ সাগরে ভেসে গিয়েছিল। এরপরও যারা বেঁচে গিয়েছিল তারাও বৈরী প্রকৃতিকে মোকাবেলায় এসব মানুষ জীবিত অবস্থায় দিনের পর দিন সাগরে ভেসে বেড়িয়েছে। বানের পানিতে ভেসে যাওয়া ঘরবাড়ির কাঠ কিংবা মৃত গবাদিপশুর পিঠের ওপর চড়ে মানুষ তীরে ফেরার জন্য আকাশ পানে তাকিয়ে সময় কাটিয়েছে। প্রায় ৪ যুগ পরেও সেই দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে অরক্ষিত চরে এখনো বাস করছে লাখো মানুষ। প্রাকৃতিক দূর্যেগে এসব চরের বাসিন্দাদের ঠাঁই নেয়ার জন্য এখনো গড়ে ওঠেনি পর্যাপ্ত বেড়িবাধ, ঘুর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র।
মোঃ ছাদেক আহমেদ‘র অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, ১৯৭০-এর ১২ নভেম্বর উপকূলীয় অঞ্চলে ভয়াল ঘূর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসে ১০ লক্ষাধিক লোক মৃত্যুবরণ করেছিল। অনেক পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। অনেক পরিবার তাদের আত্মীয়স্বজন, মা-বাবা, ভাই-বোন হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছিল। প্রতি বছর আমাদের জাতীয় জীবনে যখন ১২ নভেম্বর ফিরে আসে, তখন বেদনাবিদুর সেই দিনটির কথা স্মৃতির পাতায় গভীরভাবে ভেসে ওঠে।
সেদিনের স্মৃতির কথা তুলে ধরে তজুমদ্দিনের প্রত্যক্ষদর্শী মোঃ বেলায়ত হোসেন (৭২) বলছিলেন, ‘আগের দিন সন্ধ্যায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মাঝে হঠাৎ কালো মেঘের সৃষ্টি। মাইক ও রেডিওতে প্রচার হয়েছে ১০ নম্বর বিপদ সংকেত। রাতেই ৮-১০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে নেয় বাড়িঘরের প্রয়োজনীয় মালামালসহ জমিতে উৎপাদিত ধানগুলো। মধ্যরাতে হঠাৎ মুহূর্তের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আক্রমণ করলে মারা যায় আমার বাবা মা ও মামাতো ভাই। ওই সময়ে ধ্বংসস্তুপের মাঝে বেঁচে থাকা খুব কঠিন ছিলো’। তজুমদ্দিনের আরো একজন আবদুল করিম (৭৭) বলেন, ১২ নভেম্বর এলেই আমার মায়ের কথা মনে পড়ে যায়। স্রোত এবং ঝড়ের তাণ্ডব থেকে আমাকে বাঁচাতে গিয়ে জোয়ারের পানিতে ভেসে গেলেন আর পাইনি মাকে। সেই বন্যায় আমি আমার পরিবারের মা-বাবা, বোনসহ ১৮ জনকে হারিয়েছি। তিনি আরো বলেন ‘৭০ এর ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ফেনী নদী ও ভূলুয়া নদী থেকে আসা পানি ও ঘূর্ণিঝড়ে মরে যাওয়া বহু মানুষ ভেসে ভেসে চলে গেছেন, তাদের কবর দেওয়া কোনভাবেই সম্ভব হয়নি।
হারিয়ে যাওয়া মোবাইল উদ্ধার করলেন কবিরহাট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম
মোঃ বদিউজ্জামান ( তুহিন), নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালী পুলিশ সুপার ( এসপি) মোঃশহীদুল ইসলামের সার্বিক দিক নির্দেশনায় কবিরহাট থানার হারানো জিডি মূলে ১২ নভেম্বর ৮ টি মোবাইল উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দিলেন কবিরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) রফিকুল ইসলাম ও এএসআই নাসরিন আক্তার ।
রামগঞ্জে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত
এইসময় সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, লক্ষ্মীপুর জেলার হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট রতন লাল ভৌমিক, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, লক্ষ্মীপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবু স্বপন দেবনাথ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু গৌতম মজুমদার, রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বাচ্চু, এছাড়াও আরো বক্তব্য রাখেন, উপজেলা যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি পিযুষ বনিক, সাধারন সম্পাদক উত্তম সুর, পৌর যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি ডাক্তার সঞ্চয় মজমদার, সাধারণ সম্পাদক শিমুল কান্তি দাস, উপজেলা পূজা উৎযাপন কমিটির সভাপতি সমীর রঞ্জন সাহা, সাধারন সম্পাদক পিজুষ কান্তি সাহা লিটন, রামগঞ্জ উপজেলা প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে আগত হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সকল সদস্য বৃন্দু। সম্মেলন শেষে কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতাকর্মীদের উপস্থতিতে তারা রামগঞ্জ উপজেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হবে বলে জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।