মুন্সীগঞ্জে পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষ আহত ৩০

মুন্সীগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শহরের মুক্তারপুরে এ ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ-সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সদর উপজেলা, মুন্সীগঞ্জ শহর ও মিরকাদিম পৌর বিএনপি শহরের মুক্তারপুর এলাকার পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। দুপুর আড়াইটা থেকে মুক্তারপুর এলাকার আশপাশে বিএনপি নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে থাকে। পুলিশও অবস্থান নেয় আগে থেকেই। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় আসতে শুরু করে।

কর্মসূচি থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এগোতে চাইলে পুলিশ বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাধা দেয়। এ সময় তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। ঘটনাস্থলে একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুজ্জামান জানান, অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।




লক্ষ্মীপুরে চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার দুই

লক্ষ্মীপুরে চোরাই দুটি মোটরসাইকেলসহ দুই চোরকে গ্রেফতার করেছেন পুলিশ।

আজ বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের দাসেরহাট পশ্চিম বাজার থেকে তাদের গ্রেফতার করে চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন দাসেরহাট ফাঁড়ি পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো-নোয়াখালী জেলার চরজাব্বার থানার চরবাটা ইউনিয়নের চর রমিজ ভূঁইয়ার হাট গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে মো. শাহজাহান (২২) ও একই এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে মো. ওসমান (২১)।

পুলিশ জানায়, শাহজাহান ও ওসমান রাতে দু’টি চোরাই মোটরসাইকেল নিয়ে দাসেরহাট বাজারে অবস্থান করছিলেন- খবর পেয়ে দাসেরহাট ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

পরে তাদের কাছে থাকা একটি হিরো স্পেন্ডাল ও একটি প্লাটিনা (বাজাজ) মডেলের মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা মোটরসাইকেল দু’টি চোরাই বলে পুলিশকে জানান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করে তাদের আদালতে সোপর্দ করে। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোসলেহ্ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।




জাতির পিতার দর্শনই সংবিধানের মূল ভিত্তি ; স্পিকার

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দর্শনই সংবিধানের মূল ভিত্তি বলে জানান জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

আজ বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসস্থ সেনামালঞ্চে ‘বিশ্ব শান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকা’ শীর্ষক একটি সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস-২০২২ উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে সেমিনারটি আয়োজন করেন। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, মানবজাতির প্রতি জাতির পিতার দর্শনই আমাদের সংবিধানের মূল ভিত্তি। এই ভিত্তিকে উজ্জীবিত রাখতে আমরা সবাই বদ্ধপরিকর থাকব।

এ সময় তিনি আশা ব্যক্ত করে আরো বলেন, জাতির পিতার এই দর্শন এবং বাংলাদেশের সংবিধানকে সমুন্নত
রেখে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী ও সব পর্যায়ের অংশীদারগণ সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

সেমিনারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ তার বক্তব্যে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অসামান্য অবদান উল্লেখপূর্বক সামগ্রীকভাবে শান্তিরক্ষীদের সার্বিক অর্জনকে তুলে ধরেন।

পাশাপাশি এই অর্জনকে সমুন্নত রেখে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনে করণীয় সম্পর্কে আলোকপাত করেন।




ঝিনাইদহে ভুয়া চিকিৎসককে ১৫ দিনের কারাদণ্ড

ঝিনাইদহে এক ভূয়া দন্ত্য চিকিৎসককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আজ বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের এইচ এস এস সড়কে অভিযান চালিয়ে এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম নুরুন্নবী।

তিনি বলেন, এইচ এস এস সড়কের সোনালী ব্যাংকের পশ্চিম পার্শে দি ওরাল ডেন্টাল এন্ড ডেন্টিস্ট কেয়ারে বিপ্লব কুমার দাস নামের এক ভূয়া চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা দিয়ে আসছে। এমন খবরে স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগিতায় সেখানে অভিযান চালানো হয়।

সেসময় অননুমোদিতভাবে এলোপ্যাথি চিকিৎসা ও অনুমোদনহীন চিকিৎসা দেওয়ার অপরাধে বিপ্লব কুমার দাসকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।  অভিযানে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য  ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. ফারহানা ইয়াসমিনসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




৯০হাজার টন টিএসপি ও ইউরিয়া সার কিনবে সরকার

মরক্কো ও কাতার থেকে মোট ৯০ হাজার টন টিএসপি ও ইউরিয়া সার ক্রয় করবে সরকার। এর মধ্যে টিএসপি ৩০ হাজার টন ও ইউরিয়া ৬০ হাজার টন। এ পরিমাণ সার কিনতে খরচ ধরা হয়েছে ৬৩৭ কোটি ২৩ লাখ ৫২ হাজার ৫০২ টাকা।

আজ বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকটি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সভার সিদ্ধান্ত জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল বারিক।

তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে দুটি এবং সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ১১টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।

এর মধ্যে অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে দুটি এবং সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ১০টি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদন দেওয়া প্রস্তাবগুলোর জন্য মোট অর্থের পরিমাণ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯০৩ কোটি ৮৭ লাখ ১ হাজার ৯২৩ টাকা।

মো. আব্দুল বারিক জানান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মাধ্যমে মরক্কোর ওসিপি, এসএ থেকে ২২১ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার ৩৫৭ টাকায় ৩০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।




৪৮৯ কোটি টাকার পাঠ্যপুস্তক কিনবে সরকার

প্রাথমিক ও মাধ্যমিকস্তরের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের লক্ষ্যে আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য ১১ কোটি ২০ লাখ এক হাজার ৪৭৪টি পাঠ্যপুস্তক কিনবে সরকার। এতে মোট খরচ হবে ৪৮৯ কোটি ২৫ লাখ ২৮ হাজার ৯২৬ টাকা।

আজ বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভার্চ্যুয়ালি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত পৃথক প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।   বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল বারিক সাংবাদিকদের জানান অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য দুটি এবং ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য ১১টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। ক্রয় প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের তিনটি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তিনটি, স্থানীয় সরকার বিভাগের দুটি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের একটি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একটি এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাবনা ছিল।
ক্রয় কমিটির অনুমোদিত ১১টি প্রস্তাবে মোট অর্থের পরিমাণ এক হাজার ৯০৩ কোটি ৮৭ লাখ এক হাজার ৯২৩ টাকা।

প্রস্তাবের বিস্তারিত তুলে ধরে অতিরিক্ত সচিব জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক ৪৮৯ কোটি ২৫ লাখ ২৮ হাজার ৯২৬ টাকায় ১১ কোটি ২০ লাখ এক হাজার ৪৭৪টি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের জন্য ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের ইবতেদায়ি (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি), মাধ্যমিক (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন), ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণি, দাখিল স্তরের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণি, শিক্ষক নির্দেশিকা এবং কারিগরি বই (ট্রেড বই)।

অতিরিক্ত সচিব জানান, ১৮২টি লটে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এসব পাঠ্যপুস্তক কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য এসব পাঠ্যপুস্তক কেনা হবে।




ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ আমাদের কাজ নয়; স্বাস্থ্য সচিব

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ নয় বলে জানালেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আনোয়ার হোসেন হাওলাদার।

তিনি জানান, ঢাকায় প্রচুর মানুষ ডাব খেয়ে থাকে, এগুলো অনেক সময় পরিষ্কার করা হয় না। এতে এডিস মশার প্রকোপ বাড়ে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ আমাদের কাজ নয়, আমরা সেবা দিয়ে থাকি।

স্বাস্থ্য সচিব আরো বলেন, হয়তো সবসময় হয় সবকিছু হয় না, কিন্তু চেষ্টা করা হয়। তবে সবাইকে (ডেঙ্গু) প্রতিরোধের কাজটা করতে হবে। এ জন্য আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। প্রথম দিকে যদি চিহ্নিত করা যায়, তাহলে চিকিৎসা দেওয়া অনেক সহজ হয়৷

আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, এখনো থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। নিয়মিত বৃষ্টি হলে পানি জমে থাকে, ফলে এডিস মশার জন্ম হয়। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে যেন, নিজ বাসাতেই মশার উৎপাদন না হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জরিপের তথ্য উপস্থাপন করেন অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম। তিনি জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১৩টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১৪টি ওয়ার্ড ডেঙ্গুতে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। নাজমুল ইসলাম জানান, ডিএনসিসির ৪০ ওয়ার্ডে ৪৮টি সাইট এবং ডিএসসিসির ৫৮টি ওয়ার্ডে ৬২টি সাইটসহ মোট ১১০টি সাইটে তিন হাজার ১৫০টি বাড়িতে জরিপ চালানো হয়েছে। ২১টি টিমের মাধ্যমে ১০ দিনব্যাপী জরিপটি চালায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।




‘আতঙ্কে’ শেয়ার বিক্রির হিড়িক, বড় দরপতন পুঁজিবাজারে

মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা ও শেয়ারের দাম কমার ‘আতঙ্কে’ বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) পুঁজিবাজারে ছিল শেয়ার বিক্রির হিড়িক। এ  চাপে দেশের উভয় দরপতন হয়েছে পুজিবাজারে। কমেছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম, সূচক ও লেনদেন। ফলে একদিনেই বিনিয়োগকারীদের পুঁজি উধাও হয়েছে ১ হাজার ৬১৫ কোটি ১৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা।

৩৭১টি কোম্পানির মধ্যে দাম কমেছে ১৫৯টির শেয়ারের দাম। দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক কমেছে ৪৫ পয়েন্ট। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক কমেছে ১৩০ পয়েন্ট। সূচকের পাশাপাশি লেনদেন কমেছে  হাজার কোটি টাকার বেশি।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, বুধবার ১৫৫টি কোম্পানির শেয়ারে ছিল ফ্লোর প্রাইস। ফলে শেয়ার বিক্রি করা যায়নি। তাতে লেনদেনও কমেছে।

বাজারে সার্বিক অবস্থা নিয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড ডি রোজারিও ঢাকা পোস্টকে বলেন, বাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের ভয় ও আতঙ্ক রয়েছে। এ আতঙ্কে একটি গ্রুপ শেয়ার বিক্রি, আরেকটি গ্রুপ প্রফিট টেকিং করেছে। এ দুই কারণে আজ দরপতন হয়েছে।

তিনি বলেন, আজকের পতন নরমালি হয়েছে। তবে ভয়ের বিষয় হচ্ছে, বাজার কয়েকটি আইটেমের ওপর নির্ভর করে চলছে। এসব আইটেম বাড়লে ইনডেক্স ও টার্নওভার দুটোই বাড়ছে। আবার কমলে বাজারও নেগেটিভ হচ্ছে। ডিএসইর অনুযায়ী, বুধবার বাজারে ২৬ কোটি ৯৪ লাখ ৬৪ হাজার ৬৪টি শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যার মূল্য ১ হাজার ৮০৮ কোটি ১৯ লাখ ১২ হাজার টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৮৩২ কোটি ৩০ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ আগের দিনের চেয়ে লেনদেন কমেছে হাজার কোটি টাকার বেশি।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৭১টি কোম্পানির শেয়ার। এর মধ্যে ৫৮টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ১৫৯ টির, আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫৪টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম। লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৫ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ৫৫১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। প্রধান সূচকের পাশাপাশি ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ১২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৪৩৬ পয়েন্টে এবং ডিএস-৩০ সূচক ২৬ দশমিক ৯৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৩৭৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

এদিন বেক্সিমকো লিমিটেডকে টপকে লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে ওরিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালস। দ্বিতীয় স্থানে নেমেছে বেক্সিমকো। লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। এ ছাড়াও যথাক্রমে লেনদেনের শীর্ষে ছিল- জেএমআই হসপিটাল, শাহজিবাজার পাওয়ার, লাফার্জহোলসিম, ওরিয়ন ইনফিউশন, একমি ল্যাবরেটরিজ, বসুন্ধরা পেপারস মিলস ও শাইনপুকর সিরামিক লিমিটেড।

দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৩০ পয়েন্ট কমে ১৯ হাজার ৩১৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এ বাজারে ২৫৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ১০৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১০২টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১২০ কোটি ৬৭ লাখ ৪৬ হাজার ১৭৭ টাকার শেয়ার। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪৯ কোটি ৫০ লাখ ৫৬ হাজার ২৪৭ টাকার শেয়ার।




টিসিবিকে ১৬৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার অনুমতি

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশকে দেশের তিন কোম্পানি কাছ থেকে ১৬৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ তেল কেনায় সরকারের খরচ হবে ৩০৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চুয়ালি সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল বারিক।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন টিসিবির মাধ্যমে সুপার অয়েল রিফাইনারি লিমিটেডের কাছ থেকে ৫৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই তেল কিনতে খরচ ধরা হয়েছে ১০১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

এর আগে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এদিন অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার কমিটির বৈঠকে দুটি এবং সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ১১টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে।

এগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার কমিটিতে দুটি এবং সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার কমিটিতে ১০টি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।




হাসনাতের অনশন ভাঙালেন উপাচার্য, আশ্বাস দাবি পূরণের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রশাসনিক জটিলতায় সৃষ্ট নানা রকম হয়রানি বন্ধ ও ৮ দফা দাবিতে আমরণ অনশনে বসা ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহর অনশন ভাঙালেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

আজ বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে প্রায় ২৭ ঘণ্টা পর পানি খাইয়ে অনশন ভাঙান উপাচার্য।

এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের সব দাবি পূরণের আশ্বাস দেন।

উপাচার্য বলেন, আমি ঘোষণা দিচ্ছি, এই মুহূর্ত থেকে কোনো শিক্ষার্থীকে দাপ্তরিক কাজের জন্য আর রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ে যেতে হবে না। সব কাজ হল এবং বিভাগে সম্পন্ন হবে। সেখানে আমাদের লোকবল দেওয়া আছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।