মাধ্যমিকে ক্লাস চলবে যেভাবে

ঢাকা: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে ২ দিন ছুটি কার্যকর হওয়ার প্রেক্ষিতে ৬ দিনের শ্রেণি কার্যক্রম সমন্বয় করে ৫ দিনের জন্য পরিমার্জিত সময়সূচি প্রণয়ন করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।

বুধবার (৩১ আগস্ট) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এ নতুন শ্রেণি কার্যক্রম ঘোষণা করেছে। পরিমার্জিত সময়সূচি অনুযায়ী রোববার থেকে বৃহস্পতিবার ষষ্ঠ-দশম শ্রেণিতে প্রতিদিন ৭টি করে ক্লাস হবে।

এতে বলা হয়, ইতোমধ্যে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুক্রবার ও শনিবার ২ দিন সাপ্তাহিক ছুটি কার্যকর করা হয়েছে । শিক্ষার্থীদের যাতে শিখন ঘাটতি সৃষ্টি না হয় এবং শিক্ষাক্রমের বিষয় কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত সময়সূচি পরিমার্জন করা হলো।
ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি: রোববার থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিদিন ৭টি করে সপ্তাহে মোট ৩৫টি শ্রেণি কার্যক্রম (পিরিয়ড) পরিচালিত হবে।

এক শিফট বিশিষ্ট প্রতিষ্ঠানে শ্রেণি কার্যক্রমের ব্যাপ্তি দৈনিক সমাবেশ ১৫ মিনিট ও বিরতি ৩০ মিনিটসহ মোট ৬ ঘণ্টা ১০ মিনিট।

একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি: প্রতিটি শ্রেণি কার্যক্রমের  ব্যাপ্তি হবে ৫০ মিনিট। বাংলা, ইংরেজি এবং শাখাভিত্তিক ৩টি নৈর্বাচনিক বিষয়ের জন্য সপ্তাহে প্রতি বিষয়ে ৫ টি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের জন্য ৩টি শ্রেণি কার্যক্রম (পিরিয়ড) পরিচালিত হবে । অর্থাৎ সপ্তাহে মোট ২ টি (২৫ +৩) শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ঐচ্ছিক বিষয়ের জন্য ৫টি শ্রেণি কার্যক্রম (পিরিয়ড) পরিচালিত হবে।




আমাদের ভাষার এই সময়

বায়ান্ন সালের পর থেকে আমাদের সকল আন্দোলন, সমস্ত কিছুর সঙ্গে একুশে ফেব্রুয়ারির চেতনা জড়িত হয়ে গেছে- তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু যে কোনো আন্দোলনই মরে যায়। একটা সময় পরে তার আবেদন বা প্রাসঙ্গিকতা আর থাকে না। এ প্রসঙ্গে বলা যায় ফ্রেঞ্চ রেভ্যুলুশনের কথা। এত বড় প্রভাবশালী ঘটনা, অথচ এখন হয়তো সেই দিনটি পালিত হয় কি হয় না, তার ঠিক নেই।

আমাদের জাতিটা বড্ড বেশি বাক্যবাগীশ। সমাজ যে বদলাচ্ছে; সেই বদলের সঙ্গে আমাদের একুশের আন্দোলন-চেতনার যে সমন্বয় করা দরকার, পরিবর্তনটা দরকার- তা আর কেউ ভাবে না। কারণ ভাবলে অনেক কাজ করতে হবে। আমাদের সারাটা দেশ গরিব; মানুষ নিরক্ষর, মানুষের মনে কিছু নেই; কিছু মধ্যবিত্ত যুবক আছে, কিছু কাগজ ও টিভি চ্যানেল আছে। আর একুশে ফেব্রুয়ারি পালনের কিছু কমিটি আছে। তাই দিয়েই কিছু আয়োজন হয়। কিন্তু যদি বলি, শ্বাসে এবং মূলে আমাদের সমাজের ভেতরে একুশ কি ঢুকেছে? উত্তর না-ই আসবে।

সাতচল্লিশের পর থেকে এখন পর্যন্ত, জনসাধারণ যেখানে ছিল সেখানেই থেকে গেল। আর আমরা আশা করতে থাকলাম, জনসাধারণ একুশের চেতনায় জাগ্রত আছে- তাই কি হয়! আপনি গ্রামের মধ্যে নানান রকমের এটা-ওটা ব্যবসা, এনজিও ঢুকিয়ে দেবেন। তাহলে সেই গ্রামটা কি আর কোনোদিন প্রকৃতির সেই শুদ্ধ সাঁওতাল গ্রাম থাকবে! থাকবে না। প্রত্যেক বছরেই একবার এই যে আমাদের একুশের চেতনা, আমাদের ভাষা আন্দোলন আমাদের গৌরব বলে ঢাক-ঢোল পেটানো হয়; এই ‘আমাদের’ বলতে আসলে কাদের বোঝানো হয়? এই ‘আমাদের’টা আসলে কারা? ‘আমাদের’ শব্দ একটা অত্যন্ত অস্পষ্ট শব্দ। এই শব্দটি দিয়ে বহু কিছু এড়িয়ে যাওয়া যায়।
একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে আমাদের সামগ্রিক পরিস্থিতি দেখলে মনে হয়, আমরা বিপরীত মেরুতে চলে এসেছি। একুশের চেতনার ঠিক উল্টো জায়গাটিতে এসে আমরা পৌঁছেছি। আমরা টেবিলের এপারে ছিলাম, টেবিলের ওপারে গিয়েছি- এর বেশি কিছু আসলে হয়নি। এরপর হয়তো এসবও হবে না। কিংবা গ্রামদেশে এখন এসবের কিছুই নেই। কেন থাকবে! থাকার কোনো কারণও নেই। একুশে ফেব্রুয়ারির চেতনা মানুষের মধ্যে কাজ যে করবে, সেটা কীভাবে? আজকে প্রায় সত্তর বছর পর কাজ করেছে, তবেই না আগামীতে করবে। তা না হলে মানুষ পিছু হটবে কীভাবে? মানুষ আসলে কেমন করে পিছু হটে?

এ সবকিছু নিয়ে একটা গোলমেলে সাংস্কৃতিক অবস্থা বিরাজ করছে। এর সঙ্গে অর্থনীতির কোনো সাযুজ্য নেই, শিক্ষার কোনো মিল নেই। এসবের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করার প্রথম দায়িত্ব আমরা যারা রাষ্ট্র চালাই, তাদের। তাই বাস্তবতার এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়ে গ্লানি বা হতাশা ছাড়া আর কিছু নেই। আমি কোনো আশার আলো দেখছি না। কারণ এখানে যা কাজ আছে, যা কাজ হচ্ছে, তাতে কোনো রকম পরিকল্পনা নেই চেতনা সংক্রান্ত। চেতনা আছে শুধু কিছু বুলি আউড়ানো আর টকশোর আস্ম্ফালনে। তবু কিচ্ছু হবে না- এ কথা আমার নয়।

একটা দেশের সংস্কৃতিকে উন্নত করতে না চাইলে এবং চাইলে- দু’ক্ষেত্রেই প্রথম কাজ হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষার অবস্থা ভালো আছে কি মন্দ- এ প্রশ্ন অনেক দিন ধরেই পড়ে আছে। আমাদের উচ্চশিক্ষার বাস্তব কার্যকারিতাও সবার কাছে অনিশ্চিত। একটা মানুষ এত পড়াশোনা করে কী করবে, আদৌ কী করার আছে এ ব্যাপারে; শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারে না। কেউ যদি আমাকে বলে যে, এত হতাশাবাদী হচ্ছো কেন? আমি বলব, আরে বাবা, হতাশাবাদী হবো না কেন!

সবার জন্য একমুখী শিক্ষা মুখে মুখে বলছি। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার, ইংলিশ মিডিয়ামের স্কুলগুলোতে বাংলা বইগুলো ইংরেজিতে অনুবাদ করে পড়ানো হয়। বলা হচ্ছে, সবাইকে একই সিলেবাস পড়তে হবে। এ দেশের বড়লোক, এ দেশের ধান্ধাবাজ, এ দেশের আমলারা দেশটাকে বিদেশিদের বাজার বানাবার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। এদের মধ্যে সৃষ্টি বলে কিছু নেই। তারা লুটপাটে ব্যস্ত। আমরা তাদের মনঃতুষ্টির একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলছি। রাষ্ট্রটি যে সাধারণ মানুষের নয়- তা ঢাকা শহরের দিকে তাকালেই বোঝা যায়।

ভাষা নিয়ে আমরা কী করেছি? আমরা মুখে মুখে অনেক কথা বলেছি। কিন্তু ভাষা নিয়ে কাজের কাজ কিছুই করতে পারিনি। যেমন কিছুটা স্ববিরোধী ভঙ্গিতেই আমি বলব, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাকে মাধ্যম করাটাই ভুল হয়েছে। এ কথা বললে লোকে আমাকে দেশদ্রোহী বলবে। বাংলাকে মাধ্যম করার আগে বোঝা দরকার ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা কী পড়াই। দর্শন এবং ইতিহাস পড়তে গিয়ে একজন বাংলায় যে বইগুলো পড়ে, তা কি পাঠযোগ্য? বাংলায় দর্শনের ওপরে কোনো ভালো বই নেই। একজন ছাত্র যখন বাংলা বইয়ের মাধ্যমে দর্শনকে বোঝার চেষ্টা করে তখন সেটা অর্থহীন হয়ে পড়ে। সে ইংরেজি না জানার কারণে দর্শন ভালো করে বোঝে না অথবা অপরদিকে অগোছালো বাংলায় দর্শনকে ভুলভাবে বোঝে। বাংলায় ফিলসফির কোনো বই পড়া যায়? কিন্তু এর মানে এই নয় যে, বাংলায় দর্শনচর্চা সম্ভব নয় বা বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা সম্ভব নয়। যত্ন নিয়ে, শ্রম দিয়ে এসবই সম্ভব। আমরা এই ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাব। বাংলা ভাষা অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি ভাষা। আমি মুষ্টিমেয় পণ্ডিতের ওপর অনাস্থা আনতে পারি, কিন্তু বাংলাভাষী কোটি কোটি মানুষের ভাষার ওপর আমার আস্থা গভীর।

বলা হয়েছিল, দেশের মানুষের শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করে দেবে, খাজনাহীন জমি করে দেবে। কিন্তু খাজনাহীন জমি তো দূরে থাক, খাসজমি- সেগুলো যেভাবে ছিল সেভাবেই পড়ে রইল ৫০ বছর ধরে। কী হবে আমাদের এখানে ভাষা চেতনা, কী হবে আমাদের এখানে আদিবাসীদের সমস্যা? এসবের কিছুই ঠিক করা হয়নি এখনও। আর করলে যে ঢাকার নিজেদেরই চলবে না। এটা হচ্ছে, at the cost of one class। তার মানে ব্যাপারটা দাঁড়াচ্ছে- : the hole country has become the country of few.

তবু বলি যে, বাংলাদেশে অন্ততপক্ষে ৩৪ কোটি হাত তো আছে। তাকে যদি প্রকৃত অর্থে কাজে লাগানো হয়, তাহলে আমাদের জন্য অসম্ভব তো কিছুই নয়। কিন্তু সেই সম্ভবটাকে বাস্তবে পরিণত করতে হলে যে সংস্কারগুলো দরকার, সেগুলো তো করতে হবে। সব হতাশার পরেও আমি মনে করি, ৩৪ কোটি হাত আছে। এমনকি কোনোদিন ঘটবেই না যে, এই হাতগুলো যখন যা করা দরকার তা করে ফেলবে; যে করছে না তাকে ছুড়ে ফেলে দেবে! নিশ্চয়ই করবে।
লেখক
কথাশিল্পী, শিক্ষাবিদ




ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে: কল্যাণ পার্টি

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি বলেছে, ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্ব হতে হবে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে। সেখানে ভারতের কথিত দাদাগিরির অবসান ঘটাতে হবে। বৃহস্পতিবার মহাখালীর ডিওএইচএসে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষে স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসান নাসির এ কথা বলেন।

দলটি বলেছে, ভারত শুধু নিতে চায়; দিতে চায় না। বস্তুতপক্ষে তারা চায় একতরফা সম্পর্ক। এভাবে কোনো সম্পর্কও হয় না বা বন্ধুত্বও হয় না। সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম উপস্থিত ছিলেন।

ভারত-বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সম্পর্ক নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসান নাসির বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক আদান-প্রদানই মূল কথা। কিন্তু ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা সেটা দেখতে পাই না। এ ক্ষেত্রে একতরফা ভালোবাসা দেখতে পাই।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে বন্ধুত্বের নামে অমানবিক বন্ধুত্ব মেনে নিতে বাংলাদেশের মানুষকে বাধ্য করার চেষ্টা করছে ভারত। বিনিময়ে ভারত সরকার এ দেশে রাতের ভোটের অবৈধ সরকারকে ক্রমান্বয়ে অধিকতর শক্তিশালী হতে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বাইরে কল্যাণ পার্টি কোনো নির্বাচনে যাবে না। বর্তমান সরকারের অধীনে তো নয়ই। তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা আত্মহত্যার শামিল।

সংবাদ সম্মেলনে ২০ দলীয় জোটের কয়েকটি শরিক দলসহ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যানের সামরিক উপদেষ্টা কর্নেল (অব.) কামাল আহমেদ, উপদেষ্টা কর্নেল (অব.) আব্দুল হক, ড. বদরুল আলম সিদ্দিকী, ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদ খান, কমডোর আরিফ মাহমুদ, গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) শেখ মিজহাজ উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




ঢাকাস্থ সুবর্ণচর সমিতির নতুন কমিটি

ঢাকায় বসবাসরত নোয়াখালীর সুবর্ণচরের বাসিন্দাদের সংগঠন ‘সুবর্ণচর উপজেলা কল্যাণ সমিতি, ঢাকা’র নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে সাধারণ সভায় এ কমিটি ঘোষণা করেন সাবেক সচিব এ টি এম আতাউর রহমান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সুবর্ণচর উপজেলা চেয়ারম্যান এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম।

নতুন কমিটিতে মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনকে সভাপতি ও নাজমুল ইসলাম প্যামেলকে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত করা হয়েছে।

কমিটির অন্যরা হলেন- সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. গোলাম কবির রতন, অর্থ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন বাবর, দপ্তর সম্পাদক সিরাজুল মাওলা, প্রচার সম্পাদক জাহিদুর রহমান, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. ওমর ফারুক, প্রকাশনা সম্পাদক মো. আলী আকবর, সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক মো. আরিফ বিল্লাহ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মিজানুর রহমান ফিরোজ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফখরুল বিন খালেক, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. শহীদ এলাহী, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো. আব্দুল গোফরান মোস্তান, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. হেলাল উদ্দিন, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. তারিক উল্লাহ, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক জাকির হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক আবদুল আহাদ রুবেল, আপ্যায়ন সম্পাদক মো. আবুল বাশার, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক মো. আব্দুল ওয়াদুদ রিয়াজ, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মো. তানজীদ হোসেন, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ফাতেমা বেগম পলি।




ফটোসাংবাদিক কাজলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

রাজধানীর হাজারীবাগ থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় ফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক মোহাম্মদ রাসেল মোল্লা এ চার্জশিট জমা দেন।

শনিবার সংশ্নিষ্ট আদালতের কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ওসমান আরা বেলী বাদী হয়ে ২০২০ সালের ১০ মার্চ হাজারীবাগ থানায় এ মামলা করেন। গত বছরের ১১ মার্চ রাজধানীর চকবাজারের বাসা থেকে বের হয়ে ‘নিখোঁজ’ হন শফিকুল ইসলাম কাজল।

নিখোঁজের ৫৩ দিন পর ২ মে রাতে যশোরের বেনাপোলে ভারতীয় সীমান্তের একটি মাঠ সাদিপুর থেকে অনুপ্রবেশের দায়ে ফটোসাংবাদিক ও দৈনিক পক্ষকালের সম্পাদক শফিকুল ইসলাম কাজলকে আটক করে বিজিবি। পরদিন অনুপ্রবেশের দায়ে বিজিবির করা মামলায় আদালতে সাংবাদিক কাজলের জামিন মঞ্জুর হলেও পরে কোতোয়ালি মডেল থানায় ৫৪ ধারায় অপর একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০২০ সালের ২৫ ডিসেম্বর কেরানীগঞ্জে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি।




মুজিববর্ষে পাকা ঘর পাচ্ছে আরও এক লাখ পরিবার

মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে দ্বিতীয় ধাপে আরও এক লাখ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পাকা ঘর পাচ্ছে। এর মধ্যে ৫০ হাজার পরিবারকে আগামী এপ্রিলে এবং ৫০ হাজার পরিবারকে জুনে ঘর দেবে সরকার। এর আগে জানুয়ারিতে প্রথম ধাপে প্রায় ৭০ হাজার পরিবারকে ঘর উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঘর নির্মাণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আয়োজিত সমন্বয় সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার সভাপতিত্বে সভায় ভূমি সচিব মোস্তাফিজুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. মোহসীন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মাহবুব হোসেনসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন প্রত্যেক বিভাগের কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া দ্বিতীয় ধাপে ৫০ হাজার নতুন ঘর নির্মাণ কাজ ৭ এপ্রিলের মধ্যে শেষ করতে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার এই ৫০ হাজার ঘরের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। ১৫ এপ্রিলের দিকে এই ঘরগুলো উদ্বোধন করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর পরবর্তী ৫০ হাজার ঘর হয়তো জুলাই মাসে উদ্বোধন করতে পারব।

প্রথম পর্যায়ে গৃহনির্মাণ কার্যক্রমের মান প্রশংসা পেয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কাজের এই গুণগত মান ধরে রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

ডিভিও কনফারেন্সে যুক্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বলেন, আরও উপকারভোগী চিহ্নিত করে আগামী ৭ দিনের মধ্যে আরও নতুন ঘর নির্মাণের প্রস্তাব পাঠাতে হবে। প্রস্তাব পাঠানোর ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে গুরুত্ব দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে কাজ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মাহবুব হোসেন বলেন, এবারের নির্মাণাধীন ঘরের নকশায় ছোটখাটো কিছু পরিবর্তন এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঘরপ্রতি ২০ হাজার টাকা বাজেট বাড়ানো হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে প্রতিটি ঘরের জন্য পরিবহন খরচসহ ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছিল। এবার তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৯৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা করা হয়েছে।

‘মুজিববর্ষে বাংলাদেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’- প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলোকে এসব ঘর দেওয়া হচ্ছে।