শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আ.লীগের নতুন কমিটির শ্রদ্ধা

দশমবারের মতো নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছে নতুন কমিটি।

আজ রবিবার সকাল ১০টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে এই শ্রদ্ধা জানান দলটির নবনির্বাচিত নেতারা।




ফুল হাতে জাতীয় স্মৃতিসৌধে জনতার ঢল

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জনতার ঢল নেমেছে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায়। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাঙালি পেয়েছিল স্বাধীন দেশ, সেই শহীদদের স্মরণে শুক্রবার প্রথম প্রহরেই জেগে উঠে স্মৃতিসৌধ এলাকা।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর হাতে ফুল নিয়ে স্মৃতিসৌধে শহীদদের জন্য তৈরি বেদিতে শ্রদ্ধা জানাতে যান হাজারো মানুষ। সূর্য সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা নিবেদনে স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদীতে ফুল দিচ্ছেন আবালবৃদ্ধবনিতা।

হাজারো মানুষের আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে স্মৃতিসৌধ এলাকা উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে শীতকে উপেক্ষা করে ভোর থেকেই ভিড় করতে থাকেন শিশু-ছেলে-বুড়োসহ সব বয়সী মানুষ। শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন যুদ্ধাহত অনেক মুক্তিযোদ্ধাও। তাদের অনেকের হাতে শোভা পাচ্ছিল লাল-সবুজের পতাকা আর রঙবেরঙের ফুল। পোশাকেও লাল-সবুজের বাহারি উপস্থিতি। অনেকের হাতে শোভা পাচ্ছে ব্যানার। অনেকের কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে দেশের গান।

ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিবসের কর্মসূচি। ভোর সাড়ে ছয়টার পর রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তাদের চলে যাওয়ার পর স্মৃতিসৌধ এলাকা সর্বস্তরের মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এরপর ফুল হাতে জনতার ঢল নামে সৌধ প্রাঙ্গণে। ফুলে ফুলে ভরে ওঠে শহীদের স্মৃতির মিনার।

বিজয় দিবসে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন জন্য আসায় সৌধ এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।




শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি রাষ্ট্রপতি – প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা ৫৯ মিনিটে রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তারা কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা রাষ্ট্রীয় সালাম দেয়। বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। হালকা শীত, কুয়াশা মোড়ানো ভোরে পিনপতন নিরবতায় সেই সুরে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে শোকের আবেশ।

৭টায় দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দ্বিতীয় বার শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা। এরপর প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহিদ বুদ্ধিজীবীদের সন্তানদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

এর আগে ৬টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে আসেন। ৬ টা ৫৭ মিনিটে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ৭টা ৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতিকে বিদায় জানান প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ৭টা ৮ মিনিটে শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

সোয়া ৭টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ এলাকা ছেড়ে গেলে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এ সময় শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের ঢল নামে।




বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন

আজ ১৪ই ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র দুইদিন আগে পাক হানাদার বাহিনীর ঘৃণ্য নীলনকশার বাস্তবায়ন করে এ দেশীয় রাজাকার, আলবদর, আল-শামসরা। এদিন হত্যা করা হয় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, ডাক্তার থেকে শুরু করে জাতিকে মেধাশূন্য করার জন্য তালিকা করে হত্যা করা হয় দেশের সূর্য সন্তানদের।
তাদের মধ্যে ৯৯১ জন শিক্ষাবিদ, ১৩ জন সাংবাদিক, ৪৯ জন চিকিৎসক, ৪২ জন আইনজীবীকে হত্যা করা হয়। এছাড়াও প্রকৌশলী, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মিলিয়ে আরও ১৬ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

সেই ধারাবাহিকতায় এই দিনটি জাতীয় বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষ্যে সকাল ৬টা ৫৯ মিনিটে রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। ৭ টা ০৭ মিনিটে দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দ্বিতীয় বার শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ। এরপর একে একে শ্রদ্ধা জানান জাতীয় সংসদের স্পিকার ডা. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

আজ সকাল সোয়া ৭টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ এলাকা ছেড়ে গেলে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এ সময় শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের ঢল নামে।

এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ সংগঠনের নেতারা শহীদদের স্মৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ শহীদদের স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আক্তারুজ্জামান। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, এই দিনটি জাতির ইতিহাসে একটি কলংকময় দিন। এ দিনে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করা হয়। স্বাধীনতার এত বছর পরেও এ দিন নিহতদের প্রকৃত কোনো তালিকা তৈরী হয়নি কেনো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তালিকা আছে, এখনো অনেক কিছু বাকি আছে। আরও খুঁজে বের করা উচিত। কারন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি এলাকা সেদিন আক্রান্ত হয়েছিল। সেদিন এই ক্যাম্পাসে একটি জেনোসাইড সংঘটিত হয়েছিল। বিশ্ব সভ্যতা এবং সাংস্কৃতিক স্বীকৃতির জন্যই এটি জেনোসাইড হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া উচিত।




১০ ডিসেম্বর ঘিরে ঢাকায় কঠোর অবস্থানে পুলিশ

রাজধানীতে বিএনপির সমাবেশের আর মাত্র একদিন বাকি। ১০ ডিসেম্বরের এই সমাবেশ ঘিরে রাজধানীতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। রাজধানীর পরিবেশ নির্বিঘ্ন রাখতে নগরজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি তৎপরতা দেখা গেছে।

গত কয়েকদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা থাকলেও শুক্রবার সকাল থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ চোখে পড়েছে। প্রতিটি মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়েছে তারা। এসব মোড়ে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব সদস্যদের দেখা গেছে।

গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি করতে দেখা গেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। পোশাকধারী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি রাজধানীজুড়ে বিপুল সংখ্যক সাদা পোশাকের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিএনপির সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ, র‌্যাব ছাড়াও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

অপতৎপরতা এড়াতে বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামিরাসহ নজরদারিতে রয়েছে। পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সাইবার ক্রাইম টিমের মনিটরিংয়ের আওতায় রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।




‘ভুয়া চিকিৎসকদের’ বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার নির্দেশ; হাইকোর্ট

চিকিৎসক হিসেবে প্র্যাকটিসের জন্য বৈধ সনদ ও নিবন্ধন নেই এমন ‘ভুয়া’ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

আজ মঙ্গলবার বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি). সভাপতি ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) এ বিষয়ে ৩ মাসের মধ্যে হাইকোর্টের নির্দেশনা মেনে প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলা ‌‌”ভুয়া” চিকিৎসকদের শাস্তির জন্য বিদ্যমান ৩ বছরের কারাদণ্ডের মেয়াদ সংশোধনে তারা নিষ্ক্রিয় কেন, তা আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে রুল জারি করা হয়েছে।

রুলে, কর্মকর্তাদের শাস্তি বাড়ানোর জন্য মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন-২০১০-এর ২৮ (৩) এবং ২৯ (২) ধারা সংশোধনের পদক্ষেপ নিতে কেন বলা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জে আর খান রবিনের দায়ের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

তিনি গত ২৯ নভেম্বর হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা হিসাবে আবেদনটি জমা দেন। যেখানে ‘ভুয়া’ চিকিৎসকদের শাস্তির পরিমাণ বাড়ানোর জন্য সরকারকে প্রাসঙ্গিক আইন সংশোধনের নির্দেশনা চাওয়া হয়। আবেদনে তিনি বলেন, ‘প্র্যাকটিস করার বৈধ সার্টিফিকেট ও রেজিস্ট্রেশন না থাকা ভুয়া চিকিৎসকের মাধ্যমে অনেক রোগী প্রতারিত হচ্ছেন।’

এ ধরনের ‘ভুয়া’ চিকিৎসক রোগীদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকির সৃষ্টি করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের বেআইনি কাজের শাস্তি মাত্র ৩ বছরের কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা যা খুবই অপ্রতুল।’

পিটিশনকারী জে আর খান রবিন নিজেই আবেদনটি উপস্থাপন করেন এবং আজ আবেদনের শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।।




ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ২৪

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ২৪ জনকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

শনিবার সকাল ছয়টা থেকে আজ সকাল ছয়টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটকসহ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

আটকের সময় তাদের হেফাজত থেকে ৪৬০ পিস ইয়াবা, ২০ গ্রাম হেরোইন, ১৬ কেজি ৫১০ গ্রাম গাঁজা ও ২১০ লিটার দেশি মদ উদ্ধার করা হয়।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১৮টি মামলা রুজু হয়েছে।




নরসিংদীতে ইউপি চেয়ারম্যানকে গুলি করে হত্যা

মোঃ মোবারক হোসেন, নরসিংদী প্রতিনিধি:

নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার মির্জাচর ইউপি চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল মানিককে (৫০) দিনে দুপুরে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার (৩ ডিসেম্বর) বিকাল পৌনে ৫টার দিকে স্থানীয় শান্তিপুর বাজারে এ হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নিহত চেয়ারম্যান মানিকের ভাই বারসন মিয়া জানান, পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষ মির্জাচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফিরোজ মিয়ার সমর্থকরা গুলি করে মানিককে হত্যা করেছে। তাঁর লাশ উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহত জাফর ইকবাল মানিক নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার মির্জাচর ইউনিয়নের মির্জাচর গ্রামের মৃত আব্দুল মোতালিব মিয়ার ছেলে। তিনি টানা দুইবার মির্জাচর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এবং একই ইউনিয়নের আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি ছিলেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন মোঃ ফিরোজ মিয়া। তাঁর সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি জাফর ইকবাল মানিক।

এরই জেরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। পরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পর থেকে এলাকাছাড়া ছিল ফিরোজ সমর্থিত লোকজন।
গতকাল শুক্রবার এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধে দুটি পক্ষ বৈঠক করে। সমঝোতা না মেনে সভা থেকে উঠে যায় ফিরোজের লোকেরা। আজ শনিবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে শান্তিপুর বাজারে যান মানিক। এ সময় তাঁকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় স্বজনরা।
মির্জাচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়ে তা বন্ধ পাওয়া গেছে। এ কারণে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এই বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়পুরা সার্কেল) সত্যজিৎ কুমার ঘোষ বলেন চেয়ারম্যান নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি, ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারব।’




মনোহরদী থানার নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মোঃ মোবারক হোসেন, নরসিংদী প্রতিনিধি:

নরসিংদীর মনোহরদী থানার নবনির্মিত ভবনের ফলক উন্মোচন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। এসময় সাংবাদিকদের বলেন, সন্ত্রাস,জঙ্গিবাদ ও মাদক শুধু বাংলাদেশ নয়, এটা একটি বৈশ্বিক সমস্যা। আদালতপাড়া থেকে দুই জঙ্গি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা দেশে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের পূর্ব পরিকল্পিত। আত্মগোপনে থাকা জঙ্গিরা তাদের অবস্থান জানান দিতে এই কাজটি করেছে। তাদেরকে গ্রেফতারসহ জঙ্গিবাদ নিরসনে কাজ করছে সরকার।

বুধবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে নরসিংদী জেলা পুলিশের উদ্যোগে মনোহরদী থানার নবনির্মিত থানা ভবনের ফলক উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদক বিরোধী সমাবেশে পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম পিপিএম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় নিরাপাত্তা বাহিনীর কেউ সম্পৃক্ত থাকলে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। মাদক সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যাদের নিয়ে আমরা গর্ব করি, স্বপ্ন দেখছি তাদেরকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে হবে। মাদক যে ভয়ংকর নেশা, এটা যে একটা সমাজকে পরিবারকে ধ্বংস করে দেয় এটা মানুষকে বুঝাতে হবে। তিনি আরোও বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা আলোকিত বাংলাদেশ চাই, আমরা আলোকিত থাকতে চাই।
আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপি ঢাকা দখল এবং ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা করছে বলে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আমরা আরেকটি ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাই। কোন ধরনের বিশৃঙ্খলার সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তা প্রতিহত করবে। আমাদের নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কখনও ষড়যন্ত্রে বিশ্বাস করে না। জননেত্রী শেখ হাসিনার এদেশের জনগণের উপর আস্থা রয়েছে, জনগণের তিনি জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করেন।আমরা মনে করি এদেশের জনগন কখনও আর ভুল করবে না। আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে আবারও জননেত্রী শেখ হাসিনাকে জয়যুক্ত করবে এবং আবারও আলোকিত বাংলাদেশ দেখবে ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মনোহরদী- বেলাব মাটি ও মানুষের নেতা শিল্পমন্ত্রী এডভোকেট নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন এমপি, নরসিংদী-২ আসনের সাংসদ ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খান, শিবপুরের সাংসদ জহিরুল হক ভুঁইয়া মোহন, সংরক্ষিত মহিলা সাংসদ তামান্না নুসরাত বুবলী, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনির হোসেন ভুইয়া,ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম বিপিএম(বার)পিপিএম, নরসিংদী জেলা প্রশাসক আবু নইম মোঃ মারুফ খান, পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম পিপিএম,প্রমুখ। জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জিএম তালেব হোসেন, সাধারণ সম্পাদক পীরজাদা মোহাম্মদ আলী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট ফজলুল হক, সাধারণ সম্পাদক বাবু প্রিশাশীষ রায়সহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।




নরসিংদীতে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

মোঃ মোবারক হোসেন, নরসিংদী প্রতিনিধি:

নরসিংদীতে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় নরসিংদী জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে কালচারাল অফিসার শায়লা খাতুনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যাপক মোঃ গোলাম মোস্তফা মিয়া।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয় “দ্যুতিময় দুয়ার” এর প্রধান শিক্ষক মোঃ জসিম উদ্দিন সরকার। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, এ আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের লুকায়িত সুপ্ত প্রতিভা প্রকাশ পাবে। তাই তাদের প্রতি আমাদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের উন্নয়নে দেশ ও বিদেশে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা এ শিশুদের নিয়ে স্বপ্ন দেখি কিভাবে তাদের সমাজের মূল ধারার সাথে মানব সম্পদ হিসেবে তৈরি করা যায়।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বুদ্ধি ও অটিজম শিশুদের নাচ,গান ও কবিতায় ৩০ জন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শিশুদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করা হয়।