নিজেদের অনৈক্যের সুযোগে স্বৈরাচার যেন মাথাচাড়া দিতে না পারে: তারেক রহমান

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে হাসিনাসহ অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও তাদের দোসর-প্রেতাত্মারা এখনো সর্বত্র বসে আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পতিত স্বৈরাচারের দোসররা সময়-সুযোগ বুঝে ফের জাতির ঘাড়ে চেপে বসতে পারে।

মনে রাখতে হবে, নিজেদের বিশৃঙ্খলা বা অনৈক্যের সুযোগে ফের স্বৈরাচার যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠে না পারে।

 

মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে যশোর শহরের মুন্শি মেহেরুল্লাহ ময়দানে (টাউন হল মাঠ) বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা বিএনপি আয়োজিত স্মরণসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তারেক এসব কথা বলেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ছাত্র-জনতার মহাবিপ্লবের মাধ্যমে আমরা ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার হাসিনা সরকারকে উৎখাত করেছি। হাসিনাসহ অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। কিন্তু তাদের দোসর-প্রেতাত্মারা এখনো সর্বত্র বসে আছে। তারা প্রশাসনকে অস্থিতিশীল করে নিজেদের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে। মনে রাখতে হবে এসব পতিত স্বৈরাচারের দোসররা সময় সুযোগ বুঝে ফের জাতির ঘাড়ে চেপে বসতে পারে।

তিনি বলেন, পতিত স্বৈরাচার ফ্যাসিস্টদের পরিণতি কী হতে পারে তা দেশের মানুষ ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে উপলব্ধি করেছে। তাই আগামীর বাংলাদেশ হতে হবে শোষণ, নির্যাতন ও বৈষম্যমুক্ত। মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও গণবিপ্লবের সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।

যারা জাতীয়তাবাদের আদর্শ বুকে লালন করেন, তাদের বজ্রকঠিন ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সব রকম ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে দেশকে সত্যিকারের গণতন্ত্রের পথে নিতে হবে। মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কেবল সংবিধানে কয়েকটি শব্দ যোজন-বিয়োজন করলেই সংস্কার হবে না। সংস্কার করতে হলে প্রথমেই মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সেই লক্ষ্যে বিএনপি ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব জাতির সামনে তুলে ধরেছে। সেই দাবি বাস্তবায়নে বিএনপি কাজ করে যাচ্ছে। আপনাদের সেই দাবি পূরণে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, নিজেদের বিশৃঙ্খলা বা অনৈক্যের সুযোগে ফের স্বৈরাচার যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠে না পারে।

‘তরিকুল ইসলাম কখনো প্রাচুর্য ও সম্পদের পেছনে ছোটেননি’
প্রয়াত তরিকুল ইসলাম আমৃত্যু মা, মাটি ও মানুষের মুক্তির সংগ্রামে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তিনি কখনো প্রাচুর্য ও সম্পদের পেছনে ছোটেননি।  আজকের নতুন প্রজন্মকে তরিকুল ইসলামের রাজনৈতিক জীবন ও তার শিষ্ঠাচার থেকে শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে। ব্যক্তিগত লাভালাভ বা অর্থ-উপার্জনের হাতিয়ার হিসেবে যিনি বা যারা রাজনীতি করেন ও করেছেন; তাদের পরিণতি দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে।

বেলা ৩টায় স্মরণসভা শুরু হলেও তার অনেক আগে থেকেই বিএনপির নেতা-কর্মীরা দলে দলে স্মরণসভার স্থান মুন্শি মেহেরুল্লাহ ময়দানে জড়ো হতে থাকেন। টাউন হল মাঠ ছাড়িয়ে জনসমাগম ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের রাস্তায়।

লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, আজকের এই স্মরণসভায় হাজারো মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে প্রয়াত তরিকুল ইসলাম কতটা জনপ্রিয় ছিলেন। তরিকুল ইসলাম সারাজীবনই আদর্শের সঙ্গে কোনো আপস করেননি। স্বৈরাচার এরশাদ আমলে এবং ফ্যাসিস্ট ও পতিত স্বৈরাচার হাসিনার আমলে, ওয়ান ইলেভেন সরকারের আমলে তরিকুল ইসলাম বারবার কারাবরণ, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন। কিন্তু তিনি কখনো তার আদর্শ থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হননি। মরহুম তরিকুল ইসলামের সঙ্গে আমার কাজ করার বেশি অভিজ্ঞতা নেই। তারপরও যতটুকু সময় পেয়েছি ততটুকু সময়ে আমি তার কাছ থেকে মানুষের জন্য রাজনীতি করা শিখেছি।

তারেক রহমান বলেন, তিনি বহুবার সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু তারপরও তিনি শেকড়ের কথা ভোলেননি। তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে তার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ছিল। আমিও মরহুম তরিকুল ইসলামের এই গুণ থেকে শিক্ষা নিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করছি। কারণ, মানুষের ভালোবাসা অর্জনের জন্য এই যোগাযোগের কোনো বিকল্প নেই।

বক্তব্যের আগে প্রয়াত তরিকুল ইসলামের রুহের মাগফেরাত কামনা করে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে অংশ নেন তারেক রহমান। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকনের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা দেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু।

তরিকুল ইসলামের বর্ণাঢ্য জীবনের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে বক্তৃতা করেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, যশোর বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, ডা. হারুন অর রশীদ, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, অধ্যাপক আয়ুব হোসেন, তন্ময় সাহা, এজেড এম সালেক, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতন, মোশারফ হোসেন, মাওলানা বেলায়েত হোসেন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিদুর রহমান সাগর প্রমুখ।

স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত তরিকুল ইসলামের সহধর্মিণী অধ্যাপক নার্গিস বেগম, দুই সন্তান শান্তুনু ইসলাম সুমিত ও অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান খান, গোলাম রেজা দুলু, সাবেক পৌর মেয়র মারুফুল ইসলাম মারুফ, একেএম শরফুদ্দৌলাহ ছটলু, মাহাতাব নাসির পলাশ, মাওলানা আব্দুল মান্নান, মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, অ্যাডভোকেট জাফর সাদিক, মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোরে নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক , যুবদলের জেলা সভাপতি এম তমাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আনছারুল হক রানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা সভাপতি প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আমির ফয়সাল প্রমুখ। এ ছাড়া স্মরণসভায় খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




দেশে ফ্যাসিস্টদের স্থান হবে না: রিজভী

শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত দেশে ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারের দোসরদের স্থান হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, শহীদদের রক্ত কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। ফ্যাসিস্টদের ও তাদের সব দোসরের বিচার দেশের মাটিতেই হবে।

আজ রোববার বেলা আড়াইটার দিকে বিয়ানীবাজার উপজেলা সদর ও বারইগ্রাম বাজারে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ আয়োজিত পৃথক দুটি পথসভায় রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা হয়েছে, হামলা হয়েছে। আমাদের নেতা-কর্মীদের গণগ্রেপ্তার, গুম ও খুন করা হয়েছে। তারপরও বিএনপির একজন নেতা-কর্মীকেও লক্ষ্য থেকে তারা সরাতে পারেনি। দলের প্রত্যেক নেতা-কর্মী গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে লড়াইয়ে কাজ করে গেছেন।’ তিনি আরও বলেন, দেশের গণতন্ত্র, বাক্‌স্বাধীনতা, ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য দলের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। সর্বশেষ ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার চূড়ান্ত লড়াইয়ে অনেক প্রাণ গেছে। এত শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত দেশে ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারের দোসরদের স্থান হবে না।

এ সময় সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে চূড়ান্ত লড়াইয়ে সিলেট জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণ দিয়েছেন গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলার মানুষ। শহীদদের এই রক্ত কিছুতেই বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। দীর্ঘদিন থেকে এই এলাকার মানুষ উন্নয়নে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে এই বঞ্চনা আর থাকবে না।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান, কাতার বিএনপির সভাপতি শরীফুল হক প্রমুখ।




ধর্মনিন্দার জন্য ব্লগারের বিরুদ্ধে মৃত্যু স্লোগান

বাংলাদেশে ইসলাম ও ধর্মীয় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার পোস্ট করার জন্য অভিযুক্ত একজন ব্লগার কামরান হোসেনের ছবি পোড়ানোর ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের সদস্যসহ বিক্ষোভকারীরা ব্লগারকে ফাঁসির দাবি জানাচ্ছে।

প্রতিবাদকারীদের মতে, ব্লগার তার ওয়েবসাইট www.search70.com-এ অভিযোগ করেছেন যে সে শিশুকালে ধর্ষনের শিকার হয়েছিলেন তার জামায়াত-ই-ইসলামী কুরআন শিক্ষকের দ্বারা। তারা দাবি করে যে তার ওয়েবসাইটটি বাংলাদেশের ধর্মগুরুদের বিরুদ্ধে ছেলেদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রবন্ধে ভরা। বিশেষ করে, প্রতিবাদকারীরা নিবন্ধগুলি তুলে ধরে যেখানে তিনি যুক্তি দেন যে, যেহেতু কুরআন এবং নবী মুহাম্মদ (সাঃ) ছেলেদের যৌন নির্যাতনকে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করেনি, তাই ধর্মগুরুরা তাদের যত্নে ছোট বাচ্চাদের ধর্ষণ করছে। এমনকি তিনি দাবি করেন যে আজকের মানদণ্ড অনুসারে, ইসলামের নবীকে বিবেচনা করা হবে একজন পেডোফাইল হিসাবে

 

 

প্রতিবাদকারীরা যুক্তি দেয় যে এই বিবৃতিগুলি, তার নিবন্ধগুলিতে অন্যান্য দাবিগুলি ধর্মনিন্দার সামিল। উলামা এবং আলেমরা প্রকাশ্যে ব্লগারকে হত্যার আহ্বান জানিয়েছেন।




বিএনপির ইতিহাসে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নজির নেই: ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপিকে গণতান্ত্রিক দল মনে করি না। তাদের ইতিহাসে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কোনো নজির নেই। তারা গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে, প্রহসনে পরিণত করেছে। গণতান্ত্রিক বিধিবিধান তারা দলের মধ্যেও কোনো দিন মানেনি।

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার সকালে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি দাসত্ব করে ক্ষমতা পাওয়ার জন্য, জনগণকে মূল বিষয় হিসেবে মনে করে না। বিদেশি প্রভুদের দাসত্ব করলে ক্ষমতায় যাওয়া যায়? এখনো তাদের দুরভিসন্ধি হচ্ছে বিদেশি প্রভুদের দাসত্ব করে কীভাবে ক্ষমতায় যাওয়া যায়?

তিনি আরও বলেন, তারা বড় বড় কথা বলে, তারা কবে দলীয় কাউন্সিল করেছে? তারা কোথায় দলীয় কাউন্সিল করেছে? ৭-৮ বছর আগে লা মেরিডিয়ানে কেন্দ্রীয় কমিটির মিটিং হয়েছে। ৫০১ জনের জাম্বুজেট মার্কা কমিটি তাদের। কাজেই যাদের নিজেদের দলের ভেতরেই গণতন্ত্র নেই, তারা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে- এ আশা আমরা করি না।

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ দেশে সাধারণ মানুষের মাঝে যারা রাজনীতিকে নিয়ে গিয়েছিলেন তাদের মধ্যে জাতীয় নেতা শেরে বাংলা ছিলেন অন্যতম। সাধারণ মানুষকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। শেরে বাংলাকে গ্রাম বাংলার কৃষকরা কোনোদিনও ভুলতে পারবে না। তিনি চিরদিন তাদের মাঝে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন করে সুদ খোর মহাজনদের অত্যাচার থেকে রক্ষা করেছেন, তিনি সে জন্য এখনও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, আজ আমাদের অঙ্গীকার বঙ্গবন্ধু, সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠন করা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা লড়ে যাচ্ছি মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে। সেটাই শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের স্বপ্ন এবং সেটা আজ আমাদের অঙ্গীকার।




আ’লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক কাল

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক বসছে মঙ্গলবার। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সন্ধ্যা ৭টায় বৈঠক শুরু হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বৈঠকে আসন্ন উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে দলের মধ্যে সৃষ্ট দ্বন্দ্ব-কোন্দল বিষয়ে আলোচনা করা হবে। বিশেষ করে দলীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে উপজেলা নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপি ও নেতাদের স্বজনকে প্রার্থী করা এবং প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার বিষয়টিও থাকবে। ফলে তৃণমূল পর্যায়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্ব-কোন্দল নিরসনের কৌশল নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে বৈঠকে।

এ ছাড়া দলের অন্য সাংগঠনিক বিষয়ের পাশাপাশি সর্বশেষ আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জাতীয় ও দলীয় বিভিন্ন দিবসের কর্মসূচিও চূড়ান্ত করা হবে বৈঠকে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে বৈঠকে উপস্থিত থাকতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

 




‘কথা না শোনা’ মন্ত্রী-এমপির কপাল পুড়ছে

নির্দেশনা আমলে না নিয়ে উপজেলা নির্বাচনে স্বজন প্রার্থী হওয়ায় কপাল পুড়তে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট আওয়ামী লীগদলীয় এমপি ও মন্ত্রীর। সাংগঠনিক শাস্তির খড়্গ নেমে আসছে তাদের ওপর। কেড়ে নেওয়া হতে পারে দলীয় পদ-পদবি। এমনকি আগামী সংসদ নির্বাচনে তারা দলের মনোনয়ন নাও পেতে পারেন। যে কোনো সময় মন্ত্রিসভা থেকে ছিটকে পড়তে পারেন দলের কড়া বার্তা কানে না তোলা মন্ত্রীরা।

আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন এমপির স্বজন দলের নির্দেশ না মেনে উপজেলা নির্বাচনে লড়ছেন। তাদের নির্বাচন থেকে সরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট এমপির সঙ্গে কথা বলেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তবে সে কথায় চিড়ে ভেজেনি! এক এমপিও তাদের স্বজনকে ভোটের মাঠ থেকে তুলে নেননি। এ নিয়ে দলের ভেতরেই দেখা দিয়েছে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া।

এ পরিস্থিতিতে স্বজনকে প্রার্থী করানো মন্ত্রী ও দলীয় এমপির তালিকা তৈরি করা হয়। এর মধ্যে আগামী ৮ মে অনুষ্ঠেয় প্রথম ধাপের ১৫০ উপজেলা নির্বাচনে যেসব মন্ত্রী ও এমপির স্বজন প্রার্থী হয়েছেন, তাদের তালিকা চূড়ান্ত করেন দলের আট সাংগঠনিক সম্পাদক।

এ তালিকায় থাকা মন্ত্রী ও এমপির বিষয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে আলোচনার কথা রয়েছে বলে বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা সমকালকে জানিয়েছেন। আগামীকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে এ বৈঠক ডাকা হয়েছে। অভিযুক্ত এমপির কয়েকজন, যারা দলের কার্যনির্বাহী সংসদে আছেন, তারাও বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। তাদের মধ্যে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা রয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মন্ত্রী ও দলীয় এমপির স্বজনের উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। তবু মন্ত্রীসহ দলের কয়েকজন এমপির স্বজন নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। দলের নির্দেশে শুধু ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের শ্যালক এবং নাটোরের সিংড়ার চেয়ারম্যান প্রার্থী লুৎফুল হাবীব রুবেল নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ দেলোয়ার হোসেন পাশাকে অপহরণের অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে মাজহারুল ইসলাম সুজন এমপির দুই চাচা মোহাম্মদ আলী, সফিকুল ইসলাম ও ভাতিজা আলী আফসার রানা, নীলফামারীর ডিমলায় আফতাব উদ্দিন সরকার এমপির চাচাতো ভাই আনোয়ারুল হক সরকার ও ভাতিজা ফেরদৌস পারভেজ, বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে সাহাদারা মান্নান এমপির ছেলে সাখাওয়াত হোসেন সজল, সোনাতলায় এমপির ভাই মিনহাদুজ্জামান লিটন, পাবনার বেড়ায় ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুর ভাই আবদুল বাতেন ও ভাতিজা আবুল কালাম সবুজ, কুষ্টিয়া সদরে মাহবুবউল-আলম হানিফের চাচাতো ভাই আতাউর রহমান আতা, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় আলী আজগর টগর এমপির ভাই আলী মুনসুর বাবু, পিরোজপুরের নাজিরপুরে শ ম রেজাউল করিম এমপির ভাই এস এম নুর ই আলম সিদ্দিকী, মাদারীপুর সদরে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান এমপির ছেলে আসিবুর রহমান খান ও চাচাতো ভাই পাভেলুর রহমান শফিক খান, নরসিংদীর পলাশে ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলীপ এমপির শ্যালক শরীফুল হক, মৌলভীবাজারের বড়লেখায় প্রার্থী হয়েছেন শাহাব উদ্দিন এমপির ভাগনে সোয়েব আহমদ, নোয়াখালীর সুবর্ণচরে জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী এমপির ছেলে আতাহার ইশরাক সাবাব চৌধুরী, কক্সবাজারের মহেশখালীতে আশেক উল্লাহ রফিক এমপির চাচাতো ভাইয়ের ছেলে হাবিব উল্লাহ।

এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলামের ভাতিজা আমিরুল ইসলাম, লাকসামে মন্ত্রীর শ্যালক মহব্বত আলী এবং বরিশালের বাকেরগঞ্জে মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজ মল্লিক এমপির ভাই সালাম মল্লিক।

অবশ্য এ প্রার্থীদের কেউ কেউ মন্ত্রী ও দলের এমপির স্বজন হয়েও ছাড় পাবেন। দলের ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম সমকালকে জানান, মন্ত্রী ও দলের এমপির স্বজনের উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। আর স্বজন বলতে মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, সহোদর ভাইবোন, ছেলে ও ছেলের স্ত্রী, মেয়ে ও মেয়ের স্বামীকেই বোঝানো হয়েছে। অন্য সম্পর্কের স্বজনের বেলায় দলের নির্দেশ কার্যকর হবে না। আর গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা মন্ত্রী এবং দলের এমপির স্বজন হলেও তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সাংগঠনিক বিধান প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

তবে দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে যেসব মন্ত্রী ও এমপির স্বজন নির্বাচনে রয়ে গেছেন, তাদের নিয়ে দলের ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও এমপির সঙ্গে কথা বলেছেন ওবায়দুল কাদের। এতে কেউ সাড়া দেননি। এ ব্যাপারে ওবায়দুল কাদের বলেন, সময়মতো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও এমপির বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সভাপতিমণ্ডলী ও সম্পাদকমণ্ডলীর কয়েকজন সদস্য বলেন, দলের নির্দেশ না মানায় বহিষ্কারের নিয়ম রয়েছে। তবে সংসদের সদস্যপদ হারাতে পারেন বলে এমপিদের দল থেকে বহিষ্কার করতে দল চাইবে না। তবে নানাভাবেই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে দলের সংশ্লিষ্ট এমপি ও মন্ত্রীকে তিরষ্কার করার পাশাপাশি দলীয় পদ-পদবি কেড়ে নেওয়ার ব্যাপারে জোর আলোচনা রয়েছে। এমনকি সাংগঠনিক যোগ্যতা থাকার পরও তারা নতুন করে দলের পদ-পদবি নাও পেতে পারেন। সেই সঙ্গে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাওয়াটা তাদের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আর অভিযুক্ত মন্ত্রী যে কোনো সময়েই মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন। সেই সঙ্গে তিনবার বিজয়ী এমপির মধ্যে যাদের মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা আছে, তাদের মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা কমে আসতে পারে। অবশ্য এসব বিষয়ে এখনই দলের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে না।

এদিকে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক সমকালকে বলেন, অভিযুক্ত মন্ত্রী এবং দলীয় এমপিকে শোকজ করা হতে পারে।




সিম্প্যাথি কার্ড’ খেলার অপচেষ্টা করছে বিএনপি: ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সন্ত্রাসী দল বিএনপি নেতারা নিজেদের অত্যাচারিত-নির্যাতিত দেখিয়ে ‘সিম্প্যাথি কার্ড’ খেলার অপচেষ্টা করছেন। জনকল্যাণের রাজনীতি বাদ দিয়ে এ ধরনের অপকৌশল গ্রহণ করায় বিএনপি দিনে দিনে সাংগঠনিকভাবে আরও দুর্বল হচ্ছে।

আজ সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক বিবৃতিকে ‘রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিএনপি রাজনৈতিক দল হিসেবে গণরাজনীতিতে নতুন কোনো মাত্রা যোগ করতে পারছে না। তাই দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল নিয়মিতভাবে গণমাধ্যমে একই গীত গেয়ে চলেছেন; প্রতিনিয়ত অত্যাচার-নির্যাতনের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন গ্রেপ্তার অবতারণা করছেন। জনগণের জন্য রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচি দেওয়ার ব্যর্থতা ঢাকার জন্য এই অপকৌশল অবলম্বন করছেন তারা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট একটি রাজনৈতিক দল। দলটির নেতারা টিকে থাকার জন্য সর্বদা মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে রাজনীতিতে কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা চালান। তাদের বোঝা উচিত, বিরোধী দল নয়; বরং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কাজ করতে হয়। সুতরাং নিজেদের নেতাকর্মীর রাষ্ট্রবিরোধী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে নিবৃত্ত রাখাটাই বিএনপির জন্য শ্রেয় হবে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছে। জনগণের সেবা করাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির মূলনীতি। আওয়ামী লীগ সবসময় শাসন-শোষণ ও জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করেছে। আওয়ামী লীগের হাতেই দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত।

 




ডিএসএ ২০১৮-এর অধীনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন সম্পাদক

আওয়ামী লীগ বিরোধী অপপ্রচার ছড়ানোর জন্য www.provatbangla.com এর সম্পাদক ইয়েসমিন রুকায়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, পুলিশ এখন নিশ্চিত করেছে যে তারা ইয়েসমিন রুকায়ার ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া তথ্য থেকে তার পরিচয় নিশ্চিত করেছে এবং যশোরে তার আবাসিক ঠিকানা পরিদর্শন করেছে পুলিশ। পুলিশের মতে, ইয়েসমিন রুকায়া বর্তমানে দেশের বাইরে, তবে সাইবার সিকিউরিটি আইন ২০২৩ এর অধীনে অপরাধের জন্য বাংলাদেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে, যা পুলিশকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই কাউকে গ্রেপ্তার করার অনুমতি দেয়।

আমাদের কাছে আরও তথ্য আসলে আমরা এই বিভাগটি আপডেট করব।




নয়াপল্টনে জড়ো হচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মীরা

শনিবার (১৮ মার্চ) বেলা ২টায় নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে এ সমাবেশ শুরু হয়। এতে প্রধান অতাথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বেলা ১টা থেকে সমাবেশে অংশ নিতে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে শুধু করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। সমাবেশে দলের অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা আসছেন দলে দলে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছোট-ছোট মিছিল নিয়ে আসছেন। তারা রাস্তায় ত্রিফল বিছিয়ে তার উপর বসেছেন এবং সমাবেশের জন্য কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ট্রাকের উপর মঞ্চ তৈরী করা হয়েছে।

এদিকে ব্যানার, ফেস্টুন, জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের হাজার হাজার নেতা কর্মীদের সমাবেশে উপস্থিত হতে দেখা গেছে। এসময় খালেদা জিয়ার মুক্তি, সরকারের পদত্যাগ এবং সরকার বিরোধী বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তুলেন তারা।

এছাড়া নেতাকর্মীদের মাথায় বিভিন্ন রঙের ক্যাপ পড়ে সমাবেশে অংশ নিতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে আরো দেখা গেছে, সমাবেশ ঘিরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আশপাশে কঠোর অবস্থানে আছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যরা। কার্যালয়ের আশপাশে সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। জনসমাগম ঘটিয়ে যাতে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য সার্বিক প্রস্তুতিও নেয়া হয়।

 




সমমনা পেশাজীবি গণতান্ত্রিক জোটের প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা- সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আ’লীগ ১০টি আসনও পাবে না

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে বাকশালি চেতনাধারী আওয়ামী লীগ ১০টি আসনও পাবে না বলে মন্তব্য করেছেন সমমনা পেশাজীবি গণতান্ত্রিক জোট নেতারা।

শনিবার (১৮ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা এসব এসব কথা বলেন।

সংসদ ভেঙে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, বেগম খালেদা জিয়াকে স্থায়ী জামিন ও সকল রাজবন্দীর মুক্তি এবং ১০দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে সমমনা পেশাজীবি গনতান্ত্রিক জোটের প্রধান সমন্বয়কারী ও বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মুহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, এই অবৈধ সংসদ ভেঙে একটি নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনে দেশব্যাপী দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে এই বাকশালি চেতনাধারী আওয়ামী লীগ ১০টি আসনও পাবে না। জনগণ নৌকাকে চিরতরে ডুবিয়ে দিবে।

সমাবেশে জোটের সহকারী সমন্বয়কারী এডভোকেট মাইনুদ্দিন মজুমদার বলেন, এই নিশিরাতের বাকশালী সরকারের পতনের ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট বার ও ঢাকা বারের নির্বাচনে তাদের নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি প্রমাণ করেছে যে, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনও এই অবৈধ সরকারের অধীনে সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করা সম্ভবপর নয়।

সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী নাগরিক দলের সভাপতি শাহজাদা সৈয়দ মোহাম্মদ ওমর ফারুক পীরসাহেব, সংবিধান সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, জাতীয়তাবাদী আইন শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু হানিফ, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধ-৭১ এর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আনসার রহমান সিকদার, বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক কাউন্সিলের সভাপতি শেখ আলিম উল্লাহ আলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ তোফায়েল আহমেদ মজুমদার, জিয়া নাগরিক সংসদের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল হক অহিদুল, বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শরীফসহ জোটের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।