নয়াপল্টনে জড়ো হচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মীরা

শনিবার (১৮ মার্চ) বেলা ২টায় নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে এ সমাবেশ শুরু হয়। এতে প্রধান অতাথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বেলা ১টা থেকে সমাবেশে অংশ নিতে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে শুধু করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। সমাবেশে দলের অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা আসছেন দলে দলে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছোট-ছোট মিছিল নিয়ে আসছেন। তারা রাস্তায় ত্রিফল বিছিয়ে তার উপর বসেছেন এবং সমাবেশের জন্য কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ট্রাকের উপর মঞ্চ তৈরী করা হয়েছে।

এদিকে ব্যানার, ফেস্টুন, জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের হাজার হাজার নেতা কর্মীদের সমাবেশে উপস্থিত হতে দেখা গেছে। এসময় খালেদা জিয়ার মুক্তি, সরকারের পদত্যাগ এবং সরকার বিরোধী বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তুলেন তারা।

এছাড়া নেতাকর্মীদের মাথায় বিভিন্ন রঙের ক্যাপ পড়ে সমাবেশে অংশ নিতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে আরো দেখা গেছে, সমাবেশ ঘিরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আশপাশে কঠোর অবস্থানে আছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যরা। কার্যালয়ের আশপাশে সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। জনসমাগম ঘটিয়ে যাতে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য সার্বিক প্রস্তুতিও নেয়া হয়।

 




সমমনা পেশাজীবি গণতান্ত্রিক জোটের প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা- সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আ’লীগ ১০টি আসনও পাবে না

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে বাকশালি চেতনাধারী আওয়ামী লীগ ১০টি আসনও পাবে না বলে মন্তব্য করেছেন সমমনা পেশাজীবি গণতান্ত্রিক জোট নেতারা।

শনিবার (১৮ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা এসব এসব কথা বলেন।

সংসদ ভেঙে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, বেগম খালেদা জিয়াকে স্থায়ী জামিন ও সকল রাজবন্দীর মুক্তি এবং ১০দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে সমমনা পেশাজীবি গনতান্ত্রিক জোটের প্রধান সমন্বয়কারী ও বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মুহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, এই অবৈধ সংসদ ভেঙে একটি নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনে দেশব্যাপী দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে এই বাকশালি চেতনাধারী আওয়ামী লীগ ১০টি আসনও পাবে না। জনগণ নৌকাকে চিরতরে ডুবিয়ে দিবে।

সমাবেশে জোটের সহকারী সমন্বয়কারী এডভোকেট মাইনুদ্দিন মজুমদার বলেন, এই নিশিরাতের বাকশালী সরকারের পতনের ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট বার ও ঢাকা বারের নির্বাচনে তাদের নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি প্রমাণ করেছে যে, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনও এই অবৈধ সরকারের অধীনে সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করা সম্ভবপর নয়।

সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী নাগরিক দলের সভাপতি শাহজাদা সৈয়দ মোহাম্মদ ওমর ফারুক পীরসাহেব, সংবিধান সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, জাতীয়তাবাদী আইন শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু হানিফ, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধ-৭১ এর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আনসার রহমান সিকদার, বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক কাউন্সিলের সভাপতি শেখ আলিম উল্লাহ আলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ তোফায়েল আহমেদ মজুমদার, জিয়া নাগরিক সংসদের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল হক অহিদুল, বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শরীফসহ জোটের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।




সরকার পতনে এক দফা আন্দোলনের বিকল্প নেই: ১২ দলীয় জোট

আওয়ামী সন্ত্রাস, সরকারের দমন-পীড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে, অবৈধ সরকারের পদত্যাগ, বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীর মুক্তি এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম কমানো সহ ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে যুগপৎ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ঢাকায় মানববন্ধন পালন করেছে ১২ দলীয় জোট। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংক সংলগ্ন রাস্তায় মানববন্ধনে জোটের শীর্ষ নেতারা বলেন, দেশবাসীর সামনে একদফা সরকার পতনের আন্দোলনের বিকল্প নেই। গণআন্দোলনের মাধ্যমে এই অবৈধ সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের ভোটের অধিকার পুন:প্রতিষ্ঠা করা হবে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল হাসান সাকিবের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব;) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বীরপ্রতীক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, বাংলাদেশ এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) চেয়ারম্যান ক্বারী মুহাম্মদ আবু তাহের, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মুফতি গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল ) চেয়ারম্যান এডভোকেট শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, ন্যাপ- ভাসানী চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির মহাসচিব আবুল কাশেম, ইসলামী ঐক্য জোটের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল করিম সহ ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধনে ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বলেন, সারাদেশে বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নানাভাবে বাধাসৃষ্টি ও হয়রানি করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে শুরু হয়েছে গণগ্রেফতার অভিযান। নির্বিচারে বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।
তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সোল এজেন্ট আওয়ামী সরকারের গণতন্ত্র আজ যুদ্ধতন্ত্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিপক্ষকে গণতান্ত্রিকভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে হামলা মামলা গ্রেফতার ও নানাভাবে কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে নিজেদের জনসমর্থনহীনতার অসহায়ত্ব প্রকাশ করছে।
বক্তারা বলেন, এতো উন্নয়ন করেছেন তাহলে জনগণের ভোট না পাওয়ার আতঙ্কে ভোগেন কেনো? কেনো নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে ভয় পান? কেনো জনগণের উপর আস্থা হারিয়ে প্রশাসন ও পেশীশক্তি ব্যবহার করে বিনা ভোটে জয়লাভের হ্যাট্রিক করার চেষ্টা করছেন?

তারা আরও বলেন, দেশের অবস্থা ভীষণ খারাপ। একদল গডফাদার দস্যু দেশটাকে লুটপাট করে ফোকলা বানিয়ে বিদেশে টাকা পাচার করেছে। সরকারি দলের ব্যবসাযীরা সিন্ডিকেট বানিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে চাল ডাল আটা তেল লবণ মাছ মাংস ডিম এমনকি গরিবের প্রোটিন ফার্মের মুরগীর দাম ১৩০/১৪০ থেকে ২৫০ টাকায় তুলেছে। দেশে নিরব দূর্ভিক্ষ শুরু হয়েছে। এই অবস্থার মধ্যে গণবিরোধী অবৈধ সরকার দফায় দফায় জ্বালানি গ্যাস বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েই চলেছে!!

তারা বলেন, অবৈধ অনির্বাচিত সেবা দাস সরকারের অসম গোপন বিদ্যুৎ চুক্তির মাধ্যমে দেশকে দেউলিয়া বানানোর পথে নিয়ে গেছে। অবিলম্বে আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি বাতিল করতে হবে। বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিসহ ১০ দফা দাবীর পক্ষে জনজোয়ার অবৈধ সরকারকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। সংসদ ভেঙে দিয়ে সরকারের পদত্যাগ দেশ ও জনগণের একমাত্র দাবি হয়ে উঠেছে।




সংসদ ভবন থেকে ২ সঙ্গীসহ ‘ভুয়া এমপি’ গ্রেপ্তা

‘এমপি মিজানুর’ পরিচয়ে বিদেশে লোক পাঠানোর নামে প্রতারণার অভিযোগে দুই সহযোগীসহ এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত শনিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে প্রতারক চক্রের তিনজনকে আটক করেন সংসদের নিরাপত্তাকর্মীরা। তারা রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের হাতে তিন দিনের রিমান্ডে আছে।

ইউরোপের দেশ কসোভো পাঠানোর কথা বলে অন্তত ৪০ জনের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্র। ভুয়া এমপি শামীমুর রহমান ওরফে আতিক ওরফে এমপি মিজানুরের এই কাজে সহযোগিতা করেছেন সংসদ সচিবালয়ের মাস্টাররোলে নিয়োগ পাওয়া কম্পিউটার অপারেটর রাহুল হোসেন। তাঁর মাধ্যমে সংসদে প্রবেশের পাস সংগ্রহ করে কথিত এমপি সংসদে নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন। পাশাপাশি বিদেশ যেতে ইচ্ছুক অসংখ্য মানুষকে সংসদের গেট পাস দিয়ে ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দিয়ে ধোঁকা দেওয়া হয়েছে।

প্রতারণার শিকার বরগুনার মেহেদী হাসান, নাটোরের নাহিদুল ইসলাম ও হবিগঞ্জের আমিনুল হক বাদী হয়ে শামীমুর রহমান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেন খান বুধবার রাতে সমকালকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার আসামিদের তিন দিনের রিমান্ড শেষ হবে। এমপি পরিচয় দেওয়া এবং প্রতারণা করে ১৬ লাখ ৯২ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ নিয়ে তদন্ত চলছে।

মামলার বাদী মেহেদী হাসান জানান, শামীমুর রহমান ওরফে মিজানুরের বাড়ি কুমিল্লার তিতাস উপজেলার জগৎপুরে। ঢাকায় তিনি মোহাম্মদপুর হাউজিং সোসাইটিতে বাস করেন। প্রতারণায় তিনি স্ত্রী মৌটুসি রহমানকেও জড়িত করেছেন। মিজানুরের অন্যতম সহযোগী হিসেবে ছিলেন সংসদ সচিবালয়ের মাস্টাররোলে নিয়োগ পাওয়া কম্পিউটার অপারেটর রাহুল হোসেন। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইনের কমালপুরে। ঢাকায় তিনি মোহাম্মদপুরের সাতমসজিদ হাউজিংয়ে বাস করেন।

মেহেদী হাসানের অভিযোগ, শামীমুর রহমান নিজেকে এমপি মিজানুর হিসেবে পরিচয় দিয়ে সরকারিভাবে চাকরি দিয়ে কসোভো পাঠাবেন বলে সংসদ ভবনের কম্পিউটার অপারেটর রাহুলের মাধ্যমে পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাবের কম্পিউটার কক্ষে নিয়ে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেন। মিজানুর বিভিন্ন সময় মেডিকেল ফি বাবদ ৫ লাখ ৯৪ হাজার টাকা নেন। সর্বশেষ ২৯ ফেব্রুয়ারি সংসদ ভবনের ভেতরে পার্লামেন্ট ক্লাবের নিচতলায় ৬৬ হাজার টাকা নেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, মিজানুর ৪০ জনের কাছ থেকে মেডিকেল ফি বাবদ ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়েছেন এবং ২৩ জনের জরুরি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বাবদ ৯২ হাজার করে টাকা নিয়েছেন। কসোভো দূতাবাস থেকে একটি টিম বিদেশ যেতে আগ্রহীদের সাক্ষাৎকার নিতে আসবে বলে গত শুক্রবার পার্লামেন্ট ক্লাবের দ্বিতীয়তলায় মেটসেফ রেস্টুরেন্টে বসে ১৫ জনের কাছ থেকে ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়েছেন।

সাক্ষাৎকারের সময় দূতাবাসের কোনো টিম না থাকায় লোকজন মিজানুরকে সন্দেহ করতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা জানতে পারেন, মিজানুর ভুয়া এমপি এবং সাক্ষাৎকার বোর্ডে কসোভো দূতাবাসের প্রতিনিধি পরিচয়ে থাকা নারী তার স্ত্রী মৌটুসি রহমান।




এক দফা আন্দোলনে নিহত রশীদের পরিবারের পাশে বিএনপি

বিএনপির সরকারবিরোধী এক দফা আন্দোলনে নিহত আব্দুর রশীদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে দলটি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আজ মঙ্গলবার আব্দুর রশীদের পরিবারের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেওয়া হয়।

গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে এই অনুদান তুলে দেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক। এছাড়া রশীদের সন্তানদের লেখাপড়ার দায়িত্বও নেন।

গত বছরের ২৯ অক্টোবর রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ছাদ থেকে ফেলে রশীদকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি দলটির। তিনি আদাবর থানার সাবেক যুবদল নেতা এবং আদাবর থানা ৩০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। ওইদিন হরতালের সমর্থনে মিছিল শেষে ফেরার সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পিটিয়ে একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে ফেলে তাঁকে হত্যা করেছে বলে জানান আমিনুল হক।

তিনি জানান, আব্দুর রশীদের দুই শিশু সন্তান। এদের মধ্যে একজন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। আরেকজন দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। তাদের পুরো লেখাপড়ার পাশাপাশি অন্যান্য খরচও দল থেকে বহন করা হবে।

আমিনুল হক জানান, আন্দোলনের মধ্যে সারাদেশে একটি ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করতেই আব্দুর রশীদকে পরিকল্পিতভাবে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে।

আর্থিক সহায়তা অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, মহানগর উত্তর বিএনপির নেতা আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, ফেরদৌসী রহমান মিষ্টি, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, আতাউর রহমান চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।




বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদু কারামুক্ত

জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। আজ মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৬টায় তিনি কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।

২৮ অক্টোবর প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলাসহ আটটি মামলা হয় বিএনপি এ নেতার বিরুদ্ধে। এর মধ্যে ১৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ মামলা ও ২০ ফেব্রুয়ারি তিন মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

৫ নভেম্বর রাত ১২টার পরপর গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে একটি দল বড় বোনের ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে শামসুজ্জামানকে তুলে নিয়ে যায়। পরদিন প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা, পুলিশের ওপর হামলা ও পুলিশ সদস্য হত্যার অভিযোগের মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। রিমান্ড শেষে ৯ নভেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন।




গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা যারা নষ্ট করতে চায় তাদের বিপক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: নাছিম

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ চাই। উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের দেশকে সাম্প্রদায়িক শক্তির হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। যারা গণতান্ত্রিক চর্চা ও ধারাবাহিকতাকে নষ্ট করতে চায় তাদের বিপক্ষে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই অশুভ শক্তির হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হবে।’

বুধবার (৬ মার্চ) সকালে রাজধানীর মতিঝিল ‘সাউথ পয়েন্ট নগর ব্যায়ামাগার’ উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাকে এগিয়ে নিয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, জাগ্রত বাংলাদেশ এবং বীরের জাতি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলব। যে সোনার বাংলাদেশ হবে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, সে সোনার বাংলাদেশ হবে ধনী-গরিবের বৈষম্যহীন একটি দেশ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি আধুনিক আত্মমর্যাদাশীল এবং সুন্দর শান্তিময় বাংলাদেশ আমরা প্রতিষ্ঠা করব, এই হলো আমাদের লক্ষ্য।’

নাছিম বলেন, ‘আমাদের দেশকে এগিয়ে নিতে হলে মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হবে। মাদক নির্মূল করা গেলে তরুণ প্রজন্ম সুস্থভাবে বেড়ে উঠবে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজের হাত থেকে বাংলাদেশ মুক্তি পাবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার অন্যতম লক্ষ্য হলো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়া।’

তিনি বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে তা অব্যাহত থাকবে। এর পাশাপাশি আমাদেরকেও মাদকের বিরুদ্ধে তৈরি থাকতে হবে। আমাদের তরুণ প্রজন্মকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সফল হতে এই ব্যায়ামাগারগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ব্যায়াম করলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে। তাদেরকে মাদক কখনোই আসক্ত করতে পারে না। মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়া প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় অঙ্গীকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘এক সময় সুঠাম দেহের অধিকারী বডি বিল্ডারদের প্রাণকেন্দ্র ছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পুরান ঢাকা। ঢাকাকে সেই পুরোনো ধারায় সারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরার জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন উদ্যোগ নিয়েছে। তারা আগামী দিনে এমন আরও ব্যায়ামাগার নির্মাণ করে ঢাকা শহরকে মাদকমুক্ত করতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফিসহ স্থানীয় কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।




ডেমোক্রেসিটুডে ওয়েবসাইটের মালিকের সত্যিকারের পরিচয় উন্মোচিত হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ শান্ত থাকার জন্য বলছে

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের উন্মুক্ত আহ্বানের জবাবে এবং জনশৃঙ্খলার স্বার্থে, পুলিশ গতকাল নিশ্চিত করেছে যে তারা www.democracytoday.net এর প্রকৃত মালিককে শনাক্ত করেছে।

কর্তৃপক্ষের মতে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সদস্যদের একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সাদা পোশাকের পুলিশ কর্মকর্তারা সাইটের সাথে যুক্ত একটি ঠিকানা পরিদর্শন করেন। অনুসন্ধানের ফলে ওয়েবসাইটের মালিকের বর্তমান ঠিকানা প্রকাশ করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে সন্দেহভাজন ব্যক্তি সিলেট এলাকার মোহাম্মদ জুনেদ আহমেদ নামে একজন বাংলাদেশি নাগরিক। সংগৃহীত প্রমাণ এবং অনুসন্ধানের ভিত্তিতে, তারা নিশ্চিত করেছে যে সন্দেহভাজন বর্তমানে বিদেশে রয়েছে। তবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গুরুতর অপরাধের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হবে বলে তারা দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছে। এই অপরাধগুলি পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেফতারযোগ্য বলে গণ্য করা হয়।

কর্তৃপক্ষ বিক্ষুব্ধ জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং আশ্বাস দিয়েছে যে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে খুব শীঘ্রই আদালতে হাজির করা হবে।




কোন পথে সিপিবি

সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) জন্ম। দলটি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকেন্দ্রিক দ্বিদলীয় বৃত্তের বাইরে বিকল্প শক্তি গড়ার চেষ্টা করে আসছে। ২০২২ সালের দ্বাদশ কংগ্রেসেও বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে নেতারা তারুণ্যনির্ভর নেতৃত্ব ঘোষণা দেন।

এরই মধ্যে কমিটি দুই বছর পার করেছে। তাদের নেতৃত্বে লক্ষ্য পূরণে কতটুকু এগিয়েছে সিপিবি, কতটা জনসমর্থন পেয়েছে তাদের আদর্শ ও লড়াই-সংগ্রাম– এমন প্রশ্নে দলটির নেতাকর্মীই বলছেন, বাস্তবতা অস্বীকারের উপায় নেই। সাম্যবাদ ও বিকল্প গড়ার লড়াই-সংগ্রামের সফলতা সুদূর পরাহত। উল্টো অভ্যন্তরীণ মতভেদ বেড়েছে। বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে ‘দল কুক্ষিগত’ করার। এরই জেরে সম্প্রতি প্রবীণ নেতা ও সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান খানকে উপদেষ্টা পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এমন অবস্থায় আজ বুধবার সিপিবি ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করবে। কেন্দ্রীয়ভাবে সকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় মুক্তি ভবনে দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বিকেল ৪টায় সমাবেশ ও লাল পতাকা মিছিল করবেন নেতাকর্মীরা। দেশজুড়ে একই কর্মসূচি পালন করা হবে।

১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর ১৯৪৮ সালের ৬ মার্চ কলকাতা সম্মেলনে গঠিত হয় পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি। একই সম্মেলনে খোকা রায়কে সম্পাদক করে কমিউনিস্ট পার্টির পূর্ববাংলা আঞ্চলিক কমিটি বা পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক কমিটি গঠন করা হয়। স্বাধীনতার পর এটিই বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নাম নেয়।
অবশ্য এ দেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনে যাত্রা সিপিবি প্রতিষ্ঠারও প্রায় তিন দশক আগে, ১৯২০ সালে। তবে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী দলটির কর্মীদের ওপর হত্যা-নির্যাতন ও হুলিয়ার খড়্গ চালায়। হাজারো নেতাকর্মী দেশত্যাগে বাধ্য হন। ১৯৫০ সালের ২৪ এপ্রিল রাজশাহীর খাপড়া জেলে কমিউনিস্ট রাজবন্দিদের ওপর পুলিশ গুলি চালিয়ে সাত কমরেডকে শহীদ করে, যা এ ভূখণ্ডের প্রথম জেলহত্যা। প্রতিবাদে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্টরা গণআন্দোলন গড়ে তোলেন। তারা তেভাগা, নানকার, টংকসহ নানা কৃষক-শ্রমিক আন্দোলনের পাশাপাশি ছাত্র ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন সংঘটিত করেন। ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াই, জাতীয় সম্পদ রক্ষা, যুদ্ধাপরাধী ও যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবিসহ সব আন্দোলনেই সিপিবি অনন্য ভূমিকা রেখেছে।

কিংবদন্তি কমিউনিস্ট নেতা সিপিবির সাবেক সভাপতি কমরেড মণি সিংহ ছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য। নিয়মিত বাহিনীর বাইরেও ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি, ছাত্র ইউনিয়নের সমন্বয়ে যৌথ গেরিলা বাহিনী গঠন করে সিপিবি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর সিপিবি রাজপথে প্রতিবাদ করে। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়। সিপিবিকেও বেআইনি ঘোষণা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রায় অর্ধেক সময় দলটি বেআইনি ছিল। এমনকি স্বাধীন দেশেও সিপিবিকে একাধিকবার বেআইনি হতে হয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে সিপিবির অসংখ্য নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন। সর্বশেষ ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে সিপিবির মহাসমাবেশে বোমা হামলা হলে পাঁচ নেতাকর্মী শহীদ হন।
দীর্ঘ যাত্রাপথে সিপিবি কয়েক দফা ভাঙনের কবলে পড়েছে। দলটির অসংখ্য নেতা বিভিন্ন দলে যোগ দিয়েছেন। স্বাধীনতার আগে ও পরে ১৯৯১ সালের নির্বাচন পর্যন্ত সিপিবি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটে ছিল। পরে বিভিন্ন সময়ে বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট, ১১ দলসহ নানা গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল জোটে শামিল হয়। বর্তমানে বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প বলয় গড়ে তোলার লক্ষ্যে সিপিবি বাম গণতান্ত্রিক জোটের শরিক হিসেবে কাজ করছে।

এদিকে স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় সব নির্বাচনে অংশ নিলেও সিপিবিসহ অন্যান্য বামপন্থি দলের সমন্বয়ে গঠিত বাম গণতান্ত্রিক জোট ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি এবং সর্বশেষ গত ৭ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচন বর্জন করে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার সিপিবির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স এক বিবৃতিতে নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীসহ দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।




বাইকে মহড়া দিয়ে চাঁদা তোলে ছাত্রলীগ নেতারা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ দোকানদারদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলে ছাত্রলীগ নেতারা। ভর্তি পরীক্ষার সময় বিপুল জনসমাগমের সুবাদে দোকান বেড়ে যায়। এতে রমরমা চাঁদাবাজিও হয় ক্ষমতাসীন দলের এই ছাত্র সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীর। দোকানভেদে দৈনিক ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে তারা। কেউ টাকা দিতে না চাইলে তাঁকে নানা হুমকি-ধমকিসহ ব্যবসা করতে বাধা দেওয়া হয়।

মঙ্গলবারও পাওয়া যায় অনুরূপ অভিযোগ। আট থেকে ১০ জন করে নেতাকর্মী মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দিতে দিতে সব দোকানির কাছে টাকা তোলে। তবে নেতাদের দাবি, তারা ওই সব হকারের কাছে গিয়েছিলেন তাদের কাউকে অর্থ দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করতে।

হকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে ভর্তি পরীক্ষা ছিল। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মমতাজ উদ্দিন আহমদ একাডেমিক ভবন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ একাডেমিক ভবন, পুরোনো শেখ রাসেল স্কুলমাঠ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ বিভিন্ন এলাকায় বিরিয়ানি, ডাব, শরবত, চটপটির দোকানসহ বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ দোকান বসেছিল। এসব দোকান থেকে ৫০০ টাকা থেকে এক হাজার পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়েছে। এদিন বিকেলে পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেউ কেউ বাইকে করে শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছে দিলেও এর পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দোকানদারদের থেকে টাকা তুলেছে।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতারা হলেন– বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদেকুল ইসলাম সাদিক, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবিদ আল হাসান লাবণ, নবাব আবদুল লতিফ হল ছাত্রলীগের সহসভাপতি তাশফিক আল তৌহিদ এবং মাদার বখ্শ হলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তামিম খান। তাদের মধ্যে লাবণ ও তৌহিদ রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর অনুসারী। অন্যদিকে সাদিক ও তামিম শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল-গালিবের অনুসারী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ডাব বিক্রেতা অভিযোগ করেন, চার-পাঁচজন লোক এসে তাঁর কাছে এক হাজার টাকা দাবি করেন। কিন্তু তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। তখন ছাত্রলীগ নেতারা বলেন, এখানে ব্যবসা করতে হলে টাকা দিতে হবে। পরে তিনি বাধ্য হয়ে এক হাজার টাকা দেন।

এক ফুচকা বিক্রেতা বলেন, ‘ছাত্রলীগের কয়েকজন এসে আমার কাছে টাকা দাবি করেন। তাদের সবাই আমার পরিচিত। তাদের মধ্যে ছিলেন লাবণ ভাই, সাদিক ভাই, তৌহিদ ও তামিম। আমার কাছ থেকে ৫০০ টাকা নিয়েছে। গতকাল এসেছে আজকেও মনে হয় আসবে। ব্যবসা করতে হলে তাদের টাকা দিতে হবে। খুব চাপ।’

এক শরবত বিক্রেতা জানান, পাঁচ-ছয়টা বাইক নিয়ে ৭-৮ জন লোক এসে তার কাছে চাঁদা দাবি করে। আশপাশের আরও অনেক দোকান থেকেও টাকা নিয়েছে তারা। যাদের কাছে টাকা নিতে পারেনি, তাদের থেকে খাবার নিয়ে গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ নেতা সাদিক বলেন, ‘এই রকম কোনো ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। বরং আমি আর লাবণ দোকানে দোকানে গিয়ে বলে এসেছি, আমার নামে কেউ চাঁদাবাজি করতে এলে যেন আমাকে কল দেন।’

আরেক নেতা তামিম বলেন, ‘গতকাল সারাদিন আমি জয় বাংলা বাইক সার্ভিস (ভর্তিচ্ছুদের আনা-নেওয়ার কাজ) নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। আমার নাম করে অন্য কেউ এ কাজ করতে পারে। এ জন্য আমি দোকানিদের সতর্ক করে এসেছিলাম। কেউ আমার নাম করে টাকা চাইতে এলে তাকে বেঁধে রেখে আমাকে কল দেবেন।’

লাবণ বলেন, ‘আমি কয়েক দিন ধরে সারাদিন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে ছিলাম। এর আগেও শুনেছি, আমার নাম করে কেউ কেউ টাকা আদায় করেছে। তাই কয়েকজন দোকানিকে বলেছি, যারা আমার নাম করে চাঁদা নিতে আসে, তাদের আটকে রেখে আমাকে কল দিতে।’

আরেক ছাত্রলীগ নেতা তৌহিদ বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। আমি গতকাল সারাদিন সভাপতির সঙ্গে ছিলাম। জীবনেও আমি চাঁদাবাজি করি নাই। কিয়ামতের দিন হলেও প্রমাণ হবে আমি এক পয়সাও কোথাও থেকে চাঁদা নিইনি।’

রাবি ছাত্রলীগ সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবু বলেন, ‘সাদিক, লাবণ ও তৌহিদের মধ্যে কেউ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নন। তবে তামিম গেছে কিনা আমি জানি না। যদি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে কালকের মধ্যে তাদের বহিষ্কার করা হবে।’

তবে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গালিবের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।