বিজয় দিবসে রামগঞ্জে বিএনপির দুই গ্রুপের উদ্যোগে র‍্যালী ও পুষ্পস্তবক অর্পণ

আবু তাহের,রামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

আজ মহান বিজয় দিবস। দিবসটিকে ঘিরে রামগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির দুই গ্রুপের উদ্যোগে র‍্যালী ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে রামগঞ্জ হাজীগঞ্জ সড়কে র‍্যালী শেষে সোনাপুর চৌরাস্তা সংলগ্ন বিজয় স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তারা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বাহার, যুগ্ন আহবায়ক জিএস মনোয়ার হোসেন, পৌর বিএনপির আহবায়ক শেখ কামরুল, পৌর বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক তোফায়েল আহমেদ, এ্যাড তোফাজ্জল হোসেন বাচ্চু, আওরঙ্গজেব বাবলু, সাবেক উপজেলা যুবদলের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন পলাশ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন কানন, পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছাত্তার মজুমদার, যুবদল নেতা আঃ আজীজ, আঃ রহমান, মিজান,কাউছার মাল,জামিল চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক দুলাল হোসেন, যুগ্ন আহবায়ক খোরশেদ রাব্বানী, পৌর শ্রমিকদলের আহবায়ক মোঃ আলম মিয়া,উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক জহির রায়হান বাবু, সদস্য সচিব রাকিব হোসেন।
অপরদিকে উপজেলা বিএনপির অব্যাহতি পাওয়া বিএনপির নেতা শাহবুদ্দিন তুর্কি, ভিপি আবদুর রহিম, পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক জাকির হোসেন মোল্লা, যুগ্ন-আহবায়ক তোফাজ্জল হোসেন বাচ্চু, সদস্য সচিব মিয়া আলমগীর হোসেনেনর নেতৃত্বে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাকিব হাসান, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক শাহিন আলম মুন্না, সদস্য সচিব হুমায়ুন কবির সাদ্দাম,পৌর যুবদল নেতা সুমন চৌধুরী, শেখ পিন্টু, রাসেল ভূইয়া, উপজেলা ও পৌর বিএনপির আলাদা গ্রুপের নেতাকর্মরা নেতা-কর্মীরা বিজয় স্তম্বে পুস্পস্তবক অর্পন করেন।




লক্ষ্মীপুর জেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম

আবু তাহের, রামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী সেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা ও রামগঞ্জ উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম আহবায়ক সায়েম হোসাইন।

লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি বেলায়েত হোসেন বেলাল ও সাধারণ মাহাবুব ইমতিয়াজ এ অনুমোদন দেন।
লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী সেচ্ছাসেবকলীগের কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এছাড়া ও লক্ষ্মীপুর জেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি বেলায়েত হোসেন বেলাল ও সাধারণ মাহাবুব ইমতিয়াজ এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এই সময় সায়েম হোসাইন বলেন, আমি আমার উপর অর্পিত দ্বায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করব। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন সাবেক ছাত্রলীগ ও উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম আহবায়ক ছিলাম । আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে কাজ করে যেতে চাই। জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে দিন রাত নিরলস ভাবে কাজ করে যাবো।




রাজশাহীতে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ, দুই পুলিশ সদস্য আহত

রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহীতে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। মিছিল থেকে ছোড়া ইটের আঘাতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার বেলা দুইটার দিকে নগরের নিউমার্কেটের পাশ থেকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমিরের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ মিছিল বের করে রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নেতাকর্মীরা। মিছিল নিয়ে দড়িখরবোনা মোড়ে গেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, রাজশাহী নগরের বোয়ালিয়া থানার এসআই আবু হায়দার ও কনস্টেবল আহাদ। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে আবু হায়দারের চোখে নিচে ও উপরে আঘাত লেগেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা দুইটার দিকে রাজশাহী নগরের নিউমার্কেটের উত্তর পাশ থেকে রাজশাহী মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরের কাদিরগঞ্জ মোড় হয়ে রেলক্রসিং পার হয়ে উপশহর নিউমার্কেটের দিকে যায়। উপশহর নিউমার্কেটের দিকে যাওয়ার জন্য মিছিলটি মোড় ঘুরে পশ্চিম দিকে যেতে থাকলে পুলিশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য ধাওয়া দেয়। এ সময় মিছিল থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন।

মিছিলে নেতৃত্ব দেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি এমাজ উদ্দিন মণ্ডল। মিছিলে জামায়াত ও তাদের ছাত্র সংগঠন শিবিরের দুই শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। এ ব্যাপারে জানতে সন্ধ্যায় এমাজ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে এর আগে তিনি একটি গণমাধ্যমে বলেন, সোমবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কোনোরকম উসকানি ছাড়া সরকার অন্যায়ভাবে তাকে গ্রেপ্তার করেছে। এর প্রতিবাদে তারা মিছিল বের করে করে। তবে মিছিল থেকে পুলিশের উপর হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তিনি।

নগরের বোয়ালিয়া থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, মিছিল করার কোনো অনুমতি ছিল না। ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। এ সময় পুলিশ মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে গেলে তারা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুড়ে পালিয়ে যান। তাদের ছোঁড়া ইটের আঘাতে দুই পুলিশ আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হবে।




কমলনগরে আ’লীগ কার্যালয় ভাঙ্চুরে বিএনপি’র ২১৫ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা ও টেবিল-চেয়ার ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপি’র ২১৫ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। সোমবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের দায়ী করে রাতেই মামলা দায়ের করা হয়।

আওয়ামী লীগের অভিযোগ সোমবার রাতে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। অপরদিকে, বিএনপির দাবি হামলা ভাঙচুরের নাটক সাজিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাজানো মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। মামলার বাদি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ উল্ল্যা। তিনি ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে এ মামলা দায়ের করেন।

মামলার বাদি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ উল্ল্যা বলেন, রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চর ফলকন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইব্রাহিমের নেতৃত্বে ১৫০ থেকে ২০০ জন বিএনপি’র নেতাকর্মীরা হাজিরহাট বাজারে অবস্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় তিনি বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।

এজাহারে উল্লেখিত মামলার অন্য আসামীরা হলেন, সাজ্জাদ হোসেন সাজু, রাহাত, জাহের, হেলাল, রাসেল, রাকিব, দোলন, দেলোয়ার, মোরশেদ, দেলোয়ার হোসেন মানিক, , মাইন উদ্দিন, ইব্রাহিম খলিল, নাজিম মেম্বার ও বেলাল।

কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নিজাম উদ্দিন বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালায়। এসময় তাদের চারজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কমলনগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব নুরুল হুদা চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে রাতের আধাঁরে তারাই তাদের দলীয় কার্যালয়ের দু’চারটি চেয়ার টেবিল ভাঙচুরের নাটক সাজিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।

কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা, লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান।

কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলাইমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি তদন্ত কর জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




বিএনপির ১০ দফা দাবিতে সমর্থন দিয়েছে যেসব দল

ঢাকার গণসমাবেশে ঘোষিত বিএনপির ১০ দফার দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে ২০ দলীয় জোটের বিভিন্ন শরিক ১১ দল এবং গণতন্ত্র মঞ্চসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল।

শনিবার (১০ ডিসেম্বর) ২০ দলীয় জোটের ১১ দলের শীর্ষ নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, বর্তমান সরকারের পতন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ১০ দফা মুক্তির সনদ ঘোষিত হয়েছে। অবিলম্বে এসব দাবি মেনে নিয়ে দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নেতারা।

তারা আরও বলেন, আগামীতে বিএনপির যে কোনো কর্মসূচিকে বাস্তবায়ন করতে যুগপৎ ধারায় এবং যৌথভাবে তারা রাজপথে থাকবেন।

এই ১০ দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ২০ দলীয় জোটের বিভিন্ন শরিক দল এবং গণতন্ত্র মঞ্চসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল। তারা বিএনপির ১০ দফা দাবিকে জাতির মুক্তির সনদ হিসাবে অখ্যায়িত করে এর প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। ২০ দলীয় জোটের ১১ দলের শীর্ষ নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, বিএনপির ঘোষিত ১০ দফা গ্রহণযোগ্য এবং এটা জাতির মুক্তির সনদ। দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এ সনদকে তারা সাধুবাদ জানিয়েছেন।

১০ দফার প্রতি সমর্থন জানিয়ে যারা বিবৃতি দিয়েছেন তারা হলেন- বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বীরপ্রতীক, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, জাগপা সভাপতি খন্দকার লুৎফুর রহমান, এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, ইসলামী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুর রকিব, এনডিপি চেয়ারম্যান ক্বারী মোহাম্মদ আবু তাহের, ন্যাপ-ভাসানীর চেয়ারম্যান এডভোকেট আজহারুল ইসলাম, মুসলিম লীগের মহাসচিব এডভোকেট শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, জমিয়াতে ওলামা ইসলামের মহাসচিব মহিউদ্দিন একরাম ও সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নুরুল ইসলাম।

এ ছাড়া পৃথক বিবৃতি প্রদান করেন ডিএলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুউদ্দিন আহমদ মনি, বাংলাদেশ ন্যাপের এম এন শাওন সাদেকী।

বিএনপির ১০ দফার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে সাত দলের সমন্বয়ে গঠিত গণতন্ত্র মঞ্চ। জাসদ সভাপতি ও মঞ্চের অন্যতম শীর্ষ নেতা আ স ম আবদুর রব বলেন, এই ১০ দফার প্রতি আমাদের সমর্থন রয়েছে। এবার এই ১০ দফার উপর ভিত্তি করে আমাদের যুগপৎ আন্দোলন শুরু হবে। এছাড়া বিএনপির ১০ দফাকে স্বাগত ও সংহতি জানিয়ে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।




হঠাৎ খালেদা জিয়ার বাসার সামনে নিরাপত্তা জোরদার

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনে হঠাৎ করেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

আজ শনিবার সকাল থেকেই গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’র সামনের রাস্তার দুই দিকেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার বলেন, হঠাৎ করে সকাল থেকেই বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের ৭৯ নম্বর রোডের ১নং বাসভবনে (ফিরোজায়) অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া বাসার কাছাকাছি স্থানে অতিরিক্ত ডিবি পুলিশও অবস্থান করছে।

এর আগে গত শনিবার (৩ ডিসেম্বর) বাসভবনের সামনে (ফিরোজায়) অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং এই রোডের দুই পাশেই চেকপোস্ট বসানো হয়েছিল।

এদিকে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ঢাকায় বিএনপির গণসমাবেশ করেছে বিএনপি।

শনিবার (১০ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হয়।




বিএনপির এমপিদের পদত্যাগের ঘোষণা

বিএনপি দলীয় সাত সংসদ সদস্য (এমপি) পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশে এই কথা জানানো হয়।

বিএনপির সংসদ সদস্যরা হলেন— বগুড়া-৬ আসনের এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৪ আসনের এমপি মোশারফ হোসেন, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের এমপি জাহিদুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের এমপি আমিনুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের এমপি হারুনুর রশীদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের এমপি আবদুস সাত্তার ভূঞা এবং সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি রুমিন ফারহানা।

গণসমাবেশে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, আমরা পদত্যাগ করে এখানে এসেছি। রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে বলেন, আমরা দলীয় সিদ্ধান্তে গিয়েছিলাম। সংসদে জনগণের দুর্ভোগের কথা বলা যায় না। এই পরিস্থিতিতে সংসদে থাকা না থাকা সমান কথা। আমরা ই-মেইলে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।




মির্জা ফখরুলের পরিবর্তে গণসমাবেশে প্রধান অতিথি যিনি

বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশগুলোতে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তবে এবার ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশে মির্জা ফখরুলের জায়গায় প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। গণসমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান।

আজ গোলাপবাগে ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশে সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা ঘোষণা করবে দলটি। যার ভিত্তিতেই আগামী দিনে যুগপৎ আন্দোলন হবে। গত বৃহস্পতিবার রাতে স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে এই দফা চূড়ান্ত করা হয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই দশ দফা ও নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর হাইকমান্ডের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন আজ গণসমাবেশে কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। এ ছাড়া ঘোষণা করা হবে নতুন কর্মসূচিও। তবে হরতাল বা অবরোধের মতো কোনো কর্মসূচি দেওয়া হবে না। লংমার্চ, রোডমার্চ, মানবঢাল, অবস্থান, ইস্যুভিত্তিক প্রতিবাদ বা বিক্ষোভের মতো কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে। দলটির একাধিক নীতিনির্ধারকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, আগামী দিনে এই সরকারের বিদায়ের জন্য কতগুলো চাটার অব ডিমান্ড বা দফা আমরা ঘোষণা করব। যারা যুগপৎ আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত ইতোমধ্যে তাদের সঙ্গে বিএনপির আলোচনা হয়েছে। আমরা আশা করি, যুগপৎভাবে আমরা যে ১০ দফা প্রণয়ন করেছি, তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঘোষণা করবেন। যার যার অবস্থান থেকে তারা ভবিষ্যতে এই দফাগুলোর দাবিতে আন্দোলনকে শাণিত করে যুগপৎভাবে আন্দোলনে আসবেন।




নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বিএনপির সমাবেশ শুরু

বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ নির্দিষ্ট সময়ের আগেই শুরু হয়েছে।

শনিবার (১০ ডিসেম্বর) দশটা বিশ মিনিটে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশ শুরু হয়।

এর আগে সকাল থেকে বিএনপির জেলা, মহানগর ও কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ সভা মঞ্চে উপস্থিত হন। ঢাকা বিভাগের জেলা কমিটির সভাপতি প্রথমে বক্তব্য রাখবেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

একই সঙ্গে সমাবেশ থেকে দশ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।




বিএনপি পরিদর্শনে আসার খবরে উত্তেজনা সরকারি বাঙলা কলেজে

আগামী ১০ ডিসেম্বর সমাবেশ উপলক্ষে রাজধানীর মিরপুরের সরকারি বাঙলা কলেজের মাঠ পরিদর্শনে যাচ্ছে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। তাদের একটি প্রতিনিধি দল আসছে—এই খবরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে বাঙলা কলেজে। বিক্ষোভ করছেন কলেজটির ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) রাত ১০টা নাগাদ সরকারি বাঙলা কলেজ ছাত্রলীগ খবর পায় বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল কলেজ পরিদর্শনে আসছে। এ খবর পাওয়ামাত্রই কলেজের সামনে বিক্ষোভ ও টেকনিক্যাল এলাকায় প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেন তারা। এ সময় তারা সরকারের পক্ষে ও বিএনপি বিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঙলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এইচএম সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এই কলেজে কোনোভাবেই জঙ্গি, সন্ত্রাসী ও স্বাধীনতা বিরোধীদের পৃষ্ঠপোষক বিএনপিকে সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না। আমাদের জীবন থাকতে আমরা সেটা হতে দেবো না।’