ডিপিডিসির রাজস্ব চুরির মহাকাব্য

• প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকির চাঞ্চল্যকর নথিপত্র ফাঁস

• গ্রাহক থেকে সংগ্রহ করলেও জমা হয়নি এনবিআরের কোষাগারে

• সুশাসনের অভাব ও নৈতিক অবক্ষয়ের এক করুণ দলিল

• আর্থিক অসংগতি ও জবাবদিহিহীনতার এক নির্লজ্জ বহিঃপ্রকাশ

হাসান মাহমুদ রিপন :

আলোর ফেরিওয়ালা হিসেবে পরিচিত রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)। রাজধানী ও তৎসংলগ্ন জনপদের অলিগলি আলোকিত করার গুরুদায়িত্ব যাদের কাঁধে, সেই প্রতিষ্ঠানের অন্ধকার গলিতেই এখন ধরা পড়েছে রাষ্ট্রীয় কোষাগার লুন্ঠনের চাঞ্চল্যকর সব আখ্যান। সাধারণ গ্রাহকের পকেট থেকে বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে আদায় করা ভ্যাট সরকারি তহবিলে জমা না দিয়ে রীতিমতো তেলেসমাতি কারবার চালিয়েছে সংস্থাটি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) নিখুঁত অনুসন্ধান ও নিবিড় পর্যবেক্ষণে উন্মোচিত হয়েছে প্রায় ৪১ কোটি ২৬ লাখ টাকার ভ্যাট জালিয়াতির এক বিষ্ময়কর চিত্র। এটি কেবল সংখ্যার হিসাব নয়, বরং দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের চরমতম আর্থিক অসংগতি ও জবাবদিহিহীনতার এক নির্লজ্জ বহিঃপ্রকাশ।

তদন্তের আড়ালে লুকানো অসংগতি:

২০২৫ সালের এপ্রিলের শেষভাগে এলটিইউ-এর অভিজ্ঞ নিরীক্ষাদল ডিপিডিসির ২০২২-২৩ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত দীর্ঘ তিন বছরের আয়-ব্যয়ের খতিয়ান তল্লাশি শুরু করে। সিএ রিপোর্ট, মাসিক ভ্যাট রিটার্ন এবং অভ্যন্তরীণ দালিলিক প্রমাণাদি খুঁটিয়ে দেখতে গিয়েই বেরিয়ে আসে প্রকৃত সত্য। নিরীক্ষক দল অবাক বিস্ময়ে লক্ষ করেন, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বার্ষিক প্রতিবেদন এবং ভ্যাট রিটার্নের তথ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। ক্যাশ ফ্লো স্টেটমেন্টে গ্রাহকের কাছ থেকে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের কথা উল্লেখ রয়েছে, সরকারি খাতায় তার প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে। প্রায় ৭৩০ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিক্রির তথ্য সরাসরি গোপন করা হয়েছে, যা ভ্যাট আইনের চরম লঙ্ঘন।

জালিয়াতির আদ্যোপান্ত:

তদন্তের সূত্রপাত হয় ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল। এলটিইউ কর্তৃক গঠিত একটি বিশেষ নিরীক্ষাদল ডিপিডিসির ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত প্রতিটি নথিপত্র তন্ন তন্ন করে তল্লাশি চালায়। অডিট দল যখন বার্ষিক প্রতিবেদন (সিএ রিপোর্ট), মাসিক দাখিলপত্র (ভ্যাট রিটার্ন) এবং ভ্যাট সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক তথ্যাদি একে অপরের সঙ্গে মেলাতে শুরু করে, তখনই বেরিয়ে আসে শুভঙ্করের ফাঁকি।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, সিএ রিপোর্টে বর্ণিত ‘ক্যাশ কালেকশন ফ্রম কনজ্যুমার’ বা গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত প্রকৃত অর্থের অংক এবং ভ্যাট রিটার্নে প্রদর্শিত বিক্রয়মূল্যের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য বিদ্যমান।

২০২২-২৩ অর্থবছর: বিক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে ৮ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা, যেখানে সিএ রিপোর্টে সংগৃহীত অর্থ ৮ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা।

    ২০২৩-২৪ অর্থবছর: ১০ হাজার ৩২০ কোটি টাকা বিক্রয়মূল্য হিসেবে প্রদর্শিত হলেও সিএ রিপোর্ট বলছে ১০ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা।

  ২০২৪-২৫ অর্থবছর: চিত্রটি বিপরীতমুখী; এখানে বিক্রয়মূল্যের তুলনায় সিএ রিপোর্টে অধিক সংগৃহীত অর্থ (১১ হাজার ২২৭ কোটি টাকা) দেখা গেছে।

এই গরমিল থেকেই স্পষ্ট হয় যে, ডিপিডিসি সুপরিকল্পিতভাবে বিক্রয় তথ্যে কারসাজি করেছে। অডিট দল নিশ্চিত হয়েছে যে, তিন বছরে প্রায় ৭৩০ কোটি ১১ লাখ ৩৯ হাজার ৭২৯ টাকা বিদ্যুৎ বিক্রির তথ্য রিটার্নে গোপন করা হয়েছে। এই লুকানো বিক্রয়মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ হারে ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ৫৬ হাজার ৯৮৬ টাকা ভ্যাট রাষ্ট্রের প্রাপ্য, যা কখনোই সরকারি ভাণ্ডারে পৌঁছায়নি।

অপারেটিং ইনকামেও কারচুপির খেলা

বিদ্যুৎ বিক্রির পাশাপাশি ‘আদার অপারেটিং ইনকাম’ খাতেও চলেছে চরম অনিয়ম। সিএ রিপোর্ট ও দাখিলপত্রের অসংগতি বলছে, এই খাতে ১৫ কোটি ৫১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৬১ টাকা কম দেখানো হয়েছে। এর ওপর ১৫ শতাংশ হারে ২ কোটি ৩২ লাখ ৭৪ হাজার ৮৬৪ টাকা ভ্যাট পরিশোধ না করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি এক নতুন কৌশল অবলম্বন করেছে। ভ্যাট আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বা কেনাকাটার ওপর যে ‘উৎসে মূসক’ বা ‘উইথহোল্ডিং ভ্যাট’ কর্তন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেখানেও ঘটেছে ব্যর্থতা। মোট ২৬২ কোটি ৪৪ লাখ ৪৯ হাজার ৫৯৯ টাকা উৎসে কর প্রযোজ্য হলেও, ডিপিডিসি ২ কোটি ৪২ লাখ ৮২ হাজার ৪৪৪ টাকা সরকারি তহবিলে জমা দিতে অবহেলা করেছে।

ভ্যাট ফাঁকির অশুভ প্রবণতা

বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডিপিডিসিকে তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় ও সেবাপ্রাপ্তির বিপরীতে উৎসে ভ্যাট বা মুসক কর্তন করতে হয়। কিন্তু আইনের অনুশাসন মেনে চলার পরিবর্তে তারা বেছে নিয়েছে দায়সারা গোছের পথ। বিগত তিন বছরে ২৬২ কোটি ৪৪ লাখ টাকার উৎসে ভ্যাট প্রযোজ্য থাকলেও, সেখানে প্রায় ২ কোটি ৪২ লাখ টাকার কোনো হদিস মিলছে না। অর্থাৎ, সরকারি অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরিবর্তে নিজেদের তহবিল সমৃদ্ধ করার এই প্রচেষ্টায় ডিপিডিসির নৈতিক স্খলন স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

ডিপিডিসির এই ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অনিয়ম নয়, বরং দেশের বিদ্যুৎ খাতে সুশাসনের অভাবের এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত যখন ভর্তুকির ভারে নুইয়ে পড়ছে, তখন রাজস্ব আদায়ের এমন বেপরোয়া জালিয়াতি দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে বাধাগ্রস্ত করবে।

অডিট বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন:

১. ডিপিডিসির প্রতিটি আর্থিক লেনদেনে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা।

২. অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

৩. প্রতি তিন মাস অন্তর এলটিইউ কর্তৃক নিরপেক্ষ তদারকি নিশ্চিত করা।

স্বচ্ছতার অভাব ও নীতিনির্ধারকদের নীরবতা

সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিবুন নাহার কিংবা নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) মোহাম্মদ হায়দার আলীর মতো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক প্রচেষ্টা চালানো হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপের ডিজিটাল মেসেজগুলো তাদের মোবাইল স্ক্রিনে উজ্জ্বল হলেও, জবাবদিহিতার আলো সেখানে পৌঁছায়নি। নীরবতা কি অপরাধ স্বীকারোক্তি? নাকি ক্ষমতার দাপটে তথ্য লুকানোর এক চিরাচরিত সংস্কৃতি? এ প্রশ্ন আজ জনমনে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি কেবল সাধারণ অনিয়ম নয়, বরং গ্রাহক-প্রতারণা। ভ্যাট আইন অনুযায়ী, ফাঁকি প্রমাণিত হলে দাবিনামার অতিরিক্ত হিসেবে বিশাল অংকের জরিমানা আরোপের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা ও জনদাবি

বিদ্যুৎ এমন একটি পরিষেবা, যার প্রতিটি ইউনিটের বিপরীতে গ্রাহক নির্দিষ্ট হারে ভ্যাট পরিশোধ করেন। অর্থাৎ, ডিপিডিসি কেবল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এনবিআর ও ভোক্তার মাঝে সেতুবন্ধন তৈরির কথা ছিল। কিন্তু সেই বিশ্বাস ভেঙে যখন অর্থ তসরুফ হয়, তখন তা সমগ্র কর কাঠামোকেই প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেয়। এলটিইউ কর্তৃক জারি করা কারণ দর্শানো নোটিশ এখন ডিপিডিসির জন্য অগ্নিপরীক্ষার সমান। প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হলে কেবল বকেয়া ভ্যাটই নয়, গুনতে হবে দণ্ড।

আইনি জটিলতা ও ভবিষ্যতের শঙ্কা

এনবিআরের এলটিইউ ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছে। আইন অনুযায়ী, এই নোটিশের জবাব দিয়ে ডিপিডিসিকে তাদের দাবিনামাকৃত ভ্যাটের স্বপক্ষে প্রমাণ হাজির করতে হবে। যদি তারা তা দেখাতে ব্যর্থ হয়, তবে কেবল মূল ভ্যাটই নয়, বরং আইন অনুযায়ী বিশাল অংকের জরিমানার কবলে পড়তে হবে এই সরকারি কোম্পানিকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিদ্যুৎ খাতের মতো অপরিহার্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান যখন রাজস্ব ফাঁকিতে জড়িয়ে পড়ে, তখন তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। এটি কেবল নিয়ম লঙ্ঘন নয়, এটি রাষ্ট্রীয় আস্থার চরম অবমাননা।”

বিশেষজ্ঞ মতামত 

অর্থনীতিবিদদের মতে, ডিপিডিসির মতো একটি জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এমন জালিয়াতি রাষ্ট্রীয় অডিট প্রক্রিয়ার দুর্বলতাকে প্রকট করে তোলে। সরকারি প্রকল্পের হাজারো কোটি টাকা ব্যয় করার সময় যদি ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা না থাকে, তবে জনস্বার্থ ব্যাহত হওয়াটাই স্বাভাবিক। বর্তমান সময়ে যখন জাতীয় অর্থনীতি নানাবিধ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন খোদ সরকারি প্রতিষ্ঠানের এহেন আচরণ রীতিমতো অপ্রত্যাশিত। এই ঘটনাটি বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান বিশৃঙ্খলার একটি লক্ষণ মাত্র। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সংস্থাগুলো অভ্যন্তরীণ অডিট কিংবা জবাবদিহিতার আওতার বাইরে থেকে এভাবে দুর্নীতির সুযোগ নিচ্ছে। ডিপিডিসি—এর বিরুদ্ধে এমন এক চাঞ্চল্যকর অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, যা কেবল প্রশাসনিক গাফিলতি নয়, বরং রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের শামিল। যদি অবিলম্বে এ ধরনের জালিয়াতি রোধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের বড় অংশই গুটিকতক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার পকেটে চলে যাবে। এনবিআরের কঠোর অবস্থান প্রশংসার দাবি রাখে, তবে দাবি এখন কেবল ৪১ কোটি টাকা আদায় নয়; বরং এ ধরনের জালিয়াতি যেন ভবিষ্যতে আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা।

আলোর উৎস যখন অন্ধকারের আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়, তখন তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিতেই হবে। ডিপিডিসির এই ভ্যাট ফাঁকির আখ্যান কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি সুশাসনের অভাব ও নৈতিক অবক্ষয়ের এক করুণ দলিল। সামগ্রিকভাবে, বিদ্যুতের বিল থেকে ভ্যাট কেটে রাখা এবং তা সরকারি তহবিলে না জমা দেওয়া—একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য চরম লজ্জার বিষয়। সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা যখন লুটপাটের অলিগলিতে হারিয়ে যায়, তখন উন্নয়নের স্বপ্ন ফিকে হয়ে আসে। দেশের সাধারণ করদাতারা আশা করেন, আইন সবার জন্য সমান এবং যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচিত হবে। সরকারি অর্থের প্রতিটি পয়সা জনগণের আমানত, আর সেই আমানতের খেয়ানতকারীর ক্ষমা পাওয়ার কোনো অধিকার নেই। এখন দেখার বিষয়, এনবিআর শেষ পর্যন্ত কতটা দৃঢ়তার সঙ্গে এই জটিল অংকের ফয়সালা করতে পারে। ডিপিডিসি কি পারবে এই কালিমালিপ্ত অধ্যায় থেকে মুক্তি পেতে, নাকি তাদের ভাগ্যে নেমে আসবে কঠোর আইনি শাস্তি? এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।




সেই ব্লকবাস্টার ব্রাজিল কোথায়?

ব্রাজিলের ফুটবল মানেই আনন্দের ছটা। দলবেঁধে একঝাঁক হলুদ প্রজাপতির নাচন। সেই ছন্দের তালে নেচে ওঠে ধমনি, রক্তকোষ! এবারের বিশ্বকাপে প্রথম দুই ম্যাচের ক্যানভাসে চিরপরিচিত লাতিন ফুটবলের সেই বোল্ড, বিউটিফুল ফুটবলের ব্রাজিলকে যে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না!
বিশ্বকাপে ব্রাজিল মানেই সাম্বার নাচ। তারা চায় বলের সঙ্গে ছন্দ, গতির সঙ্গে সৌন্দর্য, আক্রমণের সঙ্গে শিল্প। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিলকে দেখে মনে হচ্ছে, তারা নাচছে যন্ত্রসংগীত ছাড়া। গাইছে তাল-লয়-সুরহীন কোনো গান। সেই নাচ তাই খ্যামটার মতো, সেই গান কেবলই বেসুরো।
হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় স্কোরবোর্ডে নিঃসন্দেহে স্বস্তির। কিন্তু মাঠের ফুটবল? সেখানে সন্তুষ্ট হওয়ার মতো খুব কমই আছে। রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিধ্বস্ত, ফিফা র‌্যাংকিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকা, অখ্যাত ফুটবলারদের নিয়ে গড়া একটি দলের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয় হওয়ারই কথা ছিল। প্রশ্ন হলো, এই জয় কি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঘোষণা দেওয়া একটি দলের মতো ছিল? উত্তরটা স্পষ্ট—না।
দুই ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের ঝুলিতে মাত্র চার পয়েন্ট। একটি ড্র, একটি জয়। ফলাফলের হিসেবে বিপদে নয়, কিন্তু পারফরম্যান্সের হিসেবে এখনো নিজেদের পরিচয়ই খুঁজে বেড়াচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
হাইতির বিপক্ষে প্রথমার্ধে তিন গোল করেই ম্যাচ শেষ করে দেয় ব্রাজিল। মাথেউস কুনিয়া দুটি এবং ভিনিসিয়াস জুনিয়র একটি গোল করেন। কিন্তু বিরতির পর যেন পুরো দলই গতি হারিয়ে ফেলে। আক্রমণে ধার নেই, বলের গতি নেই, প্রতিপক্ষকে চেপে ধরার মানসিকতা নেই। বরং হাইতির মতো সীমিত সামর্থ্যের দলও দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকটি বিপজ্জনক আক্রমণ গড়ে তোলে। আরো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হলে সেই ভুলগুলোর মূল্য হয়তো অনেক বড়ই হতো।
এই ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অতিরিক্ত ভিনিনির্ভরতা। দুই ম্যাচেই দলের একমাত্র ধারালো অস্ত্র ছিলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তার গতি, ড্রিবলিং এবং ওয়ান টু ওয়ান পজিশন থেকেই এসেছে বেশির ভাগ বিপজ্জনক মুহূর্ত। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোনো ম্যাচে যদি ভিনি নিজের সেরা খেলাটা খেলতে না পারেন? যদি প্রতিপক্ষ তাকে ডাবল মার্কিংয়ে আটকে ফেলে? তাহলে ব্রাজিলের আক্রমণ কে টানবে?
রাফিনিয়া এখনো বার্সেলোনার সেই বিধ্বংসী উইঙ্গারের ছায়াও নন। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ধীর, শেষ পাসে ভুল, সহজ গোল মিস, আর চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার আগে পর্যন্ত ম্যাচে তার প্রভাব ছিল খুবই সীমিত। রদ্রিগোও নিজের মানের ধারেকাছেও নেই। মাঝমাঠে ব্রুনো গিমারায়েস, ক্যাসিমিরো কেউই খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। একজন বল ধরে রাখছেন, অন্যজন পাস দিচ্ছেন, কিন্তু মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে সেই সৃজনশীল সংযোগটা তৈরি হচ্ছে না। ফলে আক্রমণের পুরো ভার এসে পড়ছে উইংয়ে, বিশেষ করে ভিনিসিয়াসের ওপর। তার সঙ্গে শেষ ম্যাচে লুকাস পাকেতো অবশ্য সমান তালে পারফরম্যান্স দেখান।
ট্যাকটিক্যাল দিক থেকেও আনচেলত্তির দল এখনো অগোছালো। বল হারানোর পর দ্রুত প্রেসিং নেই। ফুলব্যাকরা ওপরে উঠে গেলেও তাদের পেছনের জায়গা বারবার ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। দুই সেন্টারব্যাকের মধ্যকার দূরত্বও অনেক সময় বেড়ে যাচ্ছে, যার সুযোগ নিচ্ছে প্রতিপক্ষ। মিডফিল্ডে ‘ডাবল পিভট’ ঠিকমতো রক্ষণকে সুরক্ষা দিতে পারছে না, আবার আক্রমণেও সংখ্যাগত সুবিধা তৈরি করতে পারছে না। ফলে দলটি একদিকে রক্ষণে ভঙ্গুর, অন্যদিকে আক্রমণে শুধু ভিনির ওপর অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভরশীল।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এই ব্রাজিলে এখনো সেই পুরোনো ‘জোগো বনিতো’র কোনো ছাপ নেই। নেই ওয়ান-টাচ ফুটবল, নেই অফ দ্য বল মুভমেন্ট, নেই আক্রমণে স্বতঃস্ফূর্ততা। খেলোয়াড়রা যেন নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবল খেলছেন না; চিরজীবন উপভোগের মন্ত্রে ফুটবল খেলে আসা সেই ব্রাজিল কই?
মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর হাইতিকে হারিয়ে ব্রাজিল স্বস্তি পেয়েছে ঠিকই। কিন্তু বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখানো দলের কাছে স্বস্তি যথেষ্ট নয়। তাদের দরকার আধিপত্য, ছন্দ, আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিপক্ষকে ভয় ধরিয়ে দেওয়ার মতো ফুটবল।
এখন পর্যন্ত সেই ব্রাজিলকে দেখা যায়নি।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে পরের ম্যাচটি তাই শুধু তিন পয়েন্টের নয়, নিজেদের সত্যিকারের পরিচয় ফিরে পাওয়ারও পরীক্ষা। কারণ বিশ্বকাপের নকআউটে প্রতিপক্ষ আর হাইতি হবে না। সেখানে ভিনিসিয়াস একা ম্যাচ জেতাতে পারবেন না। পুরো দলকে জেগে উঠতে হবে। নইলে পাঁচ তারকার জার্সি গায়ে রেখেও এই ব্রাজিলের বিশ্বকাপ যাত্রা ১৯ জুলাইয়ের অনেক আগেই থেমে যেতে পারে।
১৯ জুলাই বিশ্বকাপ ফাইনাল।




আবু সাঈদ হত্যা: গ্রেপ্তারের পর ট্রাইব্যুনালে সাবেক ভিসি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক ভিসি হাসিবুর রশিদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

রোববার (১৭ মে) দুপুর ১২টা ২৪ মিনিটে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। গতকাল (শনিবার) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডের একটি বাসা থেকে হাসিবুর রশিদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এদিন বেরোবির সাবেক এই ভিসিকে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে হাজির করা হবে। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করবে প্রসিকিউশন।

এর আগে, ৯ এপ্রিল শহীদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় ২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর মধ্যে প্রধান আসামি হিসেবে হাসিবুর রশিদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।

শনিবার (১৬ মে) রাতে মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডে তাকে আটকে রাখেন স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।




বিভিন্ন উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হয়েছে

মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের শেখ রুস্তম আলীর ধান ক্ষেতে গিয়ে এমন দৃশ্যই দেখা যায়।


হতদরিদ্র এই কৃষক এবার দুই একর ৫০ শতক জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলেন। ভারি বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে তার ক্ষেতের অন্তত দুই একর জমির ধান নুয়ে পড়েছে। আর নুয়ে পড়া সব ধানেই চারা গজিয়েছে। শুধু রুস্তম নয়, পুরো জেলাজুড়ে বেশিরভাগ ধানচাষির ক্ষেতের একই অবস্থা।


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬৮ হাজার ১৭১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে অন্তত এক হাজার ৬৩০ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শেখ রুস্তম আলী বলেন, আড়াই একর জমি করতে এক লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টি ছাড়া স্বাভাবিকভাবে এই ধান কেটে মাড়াই করতে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা লাগত। কিন্তু এখন এই ধান ঘরে তুলতে অন্তত ৮০ হাজার টাকা লাগবে। এবার যে কি হবে জানি না, গরুর জন্য খড় না লাগলে ধানই কাটতাম না বলে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়েন মাঝ বয়সী এই কৃষক।


একই গ্রামের কৃষক মোজাফফের মোল্লা বলেন, ‘নিজের তো জমি নেই। ২০ হাজার টাকায় লিজ নিয়ে এক বিঘা জমি করেছিলাম। বৃষ্টিতে নুয়ে পড়া সব ধানেই চারা হইছে। এলাকার সবার ধানেরই একই অবস্থা, দিনে এক হাজার টাকা দিয়েও কোনো শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। মাদ্রাসায় পড়া ছেলেকে নিয়ে ধান কাটতে নেমেছি।’

দেড় বিঘার মাছের ঘেরে বোরো ধান রোপণ করেন বাগেরহাট সদর উপজেলার উৎকুল গ্রামের চাষি হুমায়ুন কবির। শ্রমিকের অভাবে পানির নিচে থাকা ধান তো উঠাতেই পারেননি, অন্যদিকে ধান ও পচা পানিতে ঘেরের মাছ মরে যাচ্ছে বলেও জানান এই কৃষক।

হুমায়ুন কবির আরও বলেন, ‘ধান তো গেছেই। খড়ও ঘরে যাবে না। আর ঘেরে থাকা চিংড়ি ও সাদা মাছ মরা শুরু করেছে। জাল টেনে কিছু বিক্রি করেছি। এবারের বৃষ্টি আসলে আমাদের সব শেষ করে দিয়েছে।’

এ দিকে যেসব কৃষক অনেক কষ্ট করে ধান ঘরে তুলেছেন, তাদের বিক্রি করতে হচ্ছে অনেক কম দামে। গেল বছর যেখানে খোলা বাজারে ধানের মণ ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে, এবার সেই ধান বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮৫০ টাকা মণে।

এ নিয়ে চাষি আমির হাওলাদার বলেন, ‘এবার ধান অনেক ভালো হয়েছিল। বৃষ্টি ও বাতাসে ধান ঝড়ে যাওয়ার পরেও দুই বিঘা জমিতে ৮০ মণ ধান পেয়েছি। তবে ধান ভিজা থাকায় দাম একদম নেই বললেই চলে। ৭৫০ টাকা মনে বিক্রি করেছি। খরচের টাকাও ওঠা দায় হবে। জেলার অন্তত অর্ধ লাখ বোরো চাষির অবস্থা রুস্তম, হুমায়ুন, আমির ও মোজাফফরের মত। প্রত্যেকেরই এবার লোকসান গুণতে হবে।

কৃষি বিভাগ জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে। সরকার যদি কখনও কোনো প্রণোদনা দেয়, তাহলে এই কৃষকদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের বাগেরহাটের উপ-পরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টির পরে আমরা মাঠ পরিদর্শন করেছি। অনেক কৃষকের ধান নষ্ট হয়ে গেছে। পর্যাপ্ত শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না, মজুরিও অনেক বেশি। আর খোলা বাজারে ধানের দামও বেশ কম। তবে আর বৃষ্টিপাত না হলে, চাষিরা কিছুটা ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।’

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি প্রণোদনা বা সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা দেয়ার সুযোগ হয়, তাহলে এসব চাষিদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।



স্পিকারের সঙ্গে ইইউর প্রধান নির্বাচন পর্যবেক্ষকের সাক্ষাৎ

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রধান নির্বাচন পর্যবেক্ষক ইভার্স আইজাবস।

 

এ সময় হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নে এই সংসদ অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শ থাকতে পারে, কিন্তু দেশের যেকোনো সংকট উত্তরণে সরকারি দল, বিরোধী দল ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো একত্রে সমাধানের প্রয়াস নেয়। এটি সংসদীয় গণতন্ত্রের খুবই ইতিবাচক দিক।’

সাক্ষাৎকালে তারা বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণ পরবর্তী ইউরোপীয় দেশগুলোর শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন। এর পাশাপাশি সংসদে রাজনৈতিক দলগুলোর নারী প্রতিনিধিত্বের অবস্থান এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে মতবিনিময় করেন।




জ্বালানি সংকট নিরসনে ‘বিশেষ কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব সংসদে পাস

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার প্রভাবে দেশে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি ‘বিশেষ কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এই কমিটির মেয়াদ হবে প্রজ্ঞাপন বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ দিন।

আজ রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে কমিটি গঠনের প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম।

প্রস্তাব উত্থাপনকালে চিফ হুইপ বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল নিয়ে বৈশ্বিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।




জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে পুরোপুরি নির্মূলে কাজ করতে হবে : মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘জামায়াতের অতীত ইতিহাস, আমরা সবাই জানি। দেশবাসী সচেতনভাবে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। আগামীতে যেন রাজনৈতিকভাবে তাদের পুরোপুরি নির্মূল করা যায়, সেভাবে আমাদের কাজ করতে হবে।এ ছাড়া জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের ‘বিএনপি ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছে’—বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। ‘জামায়াত আমিরের এই বক্তব্য বিভেদ ও ধূম্রজাল তৈরির প্রচেষ্টা’ মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনমত প্রতিফলিত হয়েছে। জনগণ ও বিশ্ববাসীর কাছে এই নির্বাচন স্বীকৃত। দীর্ঘ ১৮ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।




জরুরি সেবায় নিয়োজিতদের জ্বালানি তেলের রেশনিং তুলে নেওয়া হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

পুলিশসহ জরুরি সেবায় নিয়োজিত বাহিনীর ওপর আরোপিত জ্বালানি তেলের সীমাবদ্ধতা বা রেশনিং ইতোমধ্যে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনগণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দুই দিন আগেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয় বলে সংসদকে জানান তিনি।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর পয়েন্ট অব অর্ডারের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।তারেক রহমান বলেন, ‘সংসদ সদস্য যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, বিষয়টি আমরা এরই মধ্যে অ্যাড্রেস করেছি। পুলিশসহ ইমার্জেন্সি বাহিনী যারা আছে, পুলিশ, অ্যাম্বুল্যান্স বা ফায়ার ব্রিগেড, তাদের ওপর থেকে যে এমবার্গো (নিষেধাজ্ঞা) ছিল, তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুই দিন আগেই এই সিদ্ধান্ত আমরা গ্রহণ করেছি এবং বিষয়টি ক্লিয়ার করে দেওয়া হয়েছে। আশা করি, এই সমস্যা আর হবে না।




শ্যামলীতে ৬০ হাসপাতালের মাসিক চাঁদা অর্ধকোটি!

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সরকারি হাসপাতালগুলোকে কেন্দ্র করে আশপাশে ৬০টিরও বেশি ছোট বড় বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ওষুধ, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি ও খাবার সরবরাহের কাজ ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় স্থানীয় গ্রুপগুলো মাসিক চাঁদাবাজির বিনিময়ে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রতিটি হাসপাতাল থেকে মাসে গড়ে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা চাঁদাবাজি হয়। ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর এই চাঁদাবাজির সিন্ডিকেটের হাত বদল হয়। আগে মোহাম্মদপুর ও শেরেবাংলা নগর থানা এলাকার যুবলীগের সিন্ডিকেট এই চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করত।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় অর্থপেডিক্স ও পুনর্বাসন ইনস্টিটিউট, জাতীয় হূদেরাগ হাসপাতাল, জাতীয় কিডনি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতাল, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, জাতীয় টিবি হাসপাতাল, জাতীয় নিউরোসায়েন্স মেডিক্যাল ও ইনস্টিটিউট ও জাতীয় শিশু হাসপাতালকে কেন্দ্র করে আশপাশে গড়ে ওঠা অর্ধশতাধিক বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অবস্থান শেরেবাংলা নগর, মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানা এলাকায়।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চাঁদাবাজির লিখিত কোনো অভিযোগ থানায় কেউ করেনি। তবে এসকেডি ইউরোলজি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে চাঁদাবাজির মামলা দায়েরের পর থেকে এই এলাকার অনেক বেসরকারি হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ মুখ খুলতে শুরু করেছে। এই এলাকায় মঈনের নেতৃত্বে একটি অলিখিত চাঁদাবাজ গ্রুপ তৈরি হয়েছে। ৫ আগস্টের পর জেল থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়া ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর অন্যতম এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর শেল্টারে মঈন বাহিনী দোর্দণ্ড প্রতাপশালী এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়ায়। এর পাশাপাশি মিরপুর ও পল্লবী এলাকার একটি চাঁদাবাজ গ্রুপের গডফাদারের সরাসরি মঈন বাহিনীর ওপর আশীর্বাদ রয়েছে।




নৌকায় বসা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মারামারি, ঘুষিতে একজনের মৃত্যু

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নবীনগর উপজেলার সদর বাজারের মনোবাবু নৌকা ঘাট এলাকায় নৌকায় বসা নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এসময় ঘুষির আঘাতে গুরুতর আহত হন হানিফ মিয়া। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে বলে জানা গেছে।