বিদেশে থাকা দুই অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টের প্ররোচনায় আমি গ্রেপ্তার: আনিস আলমগীর

বিদেশে থাকা দুজন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টের প্ররোচনায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে রিমান্ড শুনানিকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এদিন তাকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক মুনিরুজ্জামান।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকার মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। আসামিপক্ষে আইনজীবী কামরুন্নাহার দীপুসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিলসহ জামিন আবেদনের শুনানি করেন।

শুনানির একপর্যায়ে সাংবাদিক আনিস আলমগীর আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি একজন সাংবাদিক। আমি আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধে সেই দেশে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করেছি। তালেবানরা আমাকে অ্যারেস্ট করে। আমি সেখান থেকে বেঁচে এসেছি। আমি মৃত্যুকে কাছে থেকে দেখে এসেছি, মৃত্যুকে আর ভয় করি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি একজন সাংবাদিক। আমি বিগত দুই দশক ক্ষমতাকে প্রশ্ন করেছি। আমি খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার সমালোচনা করেছি। আমি ইউনূস সরকারেরও সমালোচনা করি এবং ভবিষ্যতে যারা সরকারে আসবে তাদেরও সমালোচনা করব। আমার জীবনে নতজানু হওয়ার ইতিহাস নাই। আমি কোনো সুবিধা গ্রহণ করিনি। তারা আমাকে সরকারের গোলাম বানাতে চায়। আমি টকশোগুলোয় যা বলেছি, প্রকাশ্যেই বলেছি। এখানে অপ্রকাশিত কিছু নেই।’

গ্রামীণ ব্যাংক ও জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে হামলা হতে পারে এমন বক্তব্যের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমি একটা প্রেক্ষাপটে একথা বলেছি, যখন ৩২ নম্বর ভেঙে দেওয়া হয়। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে চলে গেছি। আমি জুলাইয়ে শেখ হাসিনার পদত্যাগ চেয়েছিলাম। এখন আমার জুলাইয়ের চেতনা শুনতে হয়। গত ১৩ নভেম্বর অবরোধে আওয়ামী লীগের জ্বালাও পোড়াওয়ের পরিপ্রেক্ষিতে এসব কথা বলেছি। তারা এটা করতে পারলে পরে আরও কত কি করতে পারে! তারা পলাতক নেতাদের কথায় করেছে। তারা তো পলাতক হিসেবে করেছে। আমার এসব বক্তব্যের সাথে কারও যোগসূত্র নাই। আসামিদের মধ্যে শাওন ছাড়া কাউকে চিনি না। এখন ড. ইউনূস যদি দেশকে কারাগার বা দোজখ বানাতে চান, বানাতে পারেন।’

গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে আনিস আলমগীর বলেন, ‘এসব বক্তব্য আসলে কিছু না। দেশের বাইরে থেকে দুজন ইউটিউবার বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল ও নির্বাচনকে বানচালের জন্য কাজ করছে। আমি একমাত্র ব্যক্তি যে টকশোয় এসব বলেছি। আসল বিষয় হলো, এই দুই ব্যক্তি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে প্রভাবিত করেছে, আর সেই দল প্রধান উপদেষ্টাকে প্রভাবিত করেছে। তাদের প্ররোচনায় আজ আমি গ্রেপ্তার হয়েছি।’

এরপর আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

এর আগে রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডির ২ নম্বরের একটি জিম থেকে বের হওয়ার পর আনিস আলমগীরকে হেফাজতে নেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবির কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

রাতেই আনিস আলমগীর, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ চারজনের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করেন জুলাই রেভ্যুলেশনারি অ্যালায়েন্সের কেন্দ্রীয় সংগঠক আরিয়ান আহমেদ। মামলার অপর আসামিরা হলেন- মডেল মারিয়া কিসপট্টা (ফ্যাশন মডেল) ও ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজ (উপস্থাপক)।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাবেক  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও তার অনুসারীরা বিভিন্ন কৌশলে ঘাপটি মেরে দেশে অবস্থান করে দেশকে অস্থিতিশীল ও অবকাঠামোকে ধ্বংস করার লক্ষে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র করে আসছে।

আসামিরা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন টেলিভিশনের টকশোগুলোয় বসে নিষিদ্ধ সংগঠনকে ফিরিয়ে আনার গুজব (প্রোপাগান্ডা) চালিয়ে আসছে। এর মাধ্যমে তারা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের পাঁয়তারা করছে।

এসব বিভিন্ন পোস্টের ফলে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা অনুপ্রাণিত হয়ে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও অবকাঠামোকে ধ্বংস করার লক্ষে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছেন।




সুপ্রিম কোর্টের ক্যান্টিনে আগুন

রাজধানীর রমনায় সুপ্রিম কোর্টের ক্যান্টিনে আগুন লেগেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। পরে রাত ১১টা ৫৬ মিনিটের দিকে আগুন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাকিবুল হাসান জানান, সুপ্রিম কোর্টের ক্যান্টিনে থাকা একটি ফটোকপির মেশিনে আগুনের সূত্রপাত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।

তিনি আরও জানান, আগুনে কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা সে বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।




ওসমান হাদিকে নিয়ে সিঙ্গাপুরে যাত্রা করল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স

দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার দিকে তাকে বহনকারী গালফস্ট্রিম জি-১০০ সিরিজের একটি প্রাইভেট জেট (এয়ার অ্যাম্বুলেন্স) হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়ে গেছে।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানায়, সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি বিভাগে হাদির চিকিৎসার সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তার উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যে সরকার টানা দুদিন ধরে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

এর আগে রোববার এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের পরামর্শ এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার পর বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করা হয়। পরবর্তীতে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়–বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জাফর এবং হাদির ভাই ওমর বিন হাদির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।




মহান বিজয় দিবস আজ

আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। এ বিজয় দিবস বাঙালি জাতির আত্মগৌরবের একটি দিন। এ বছর এ দিনটিতে বাঙালি জাতির বিজয়ের ৫৪ বছর পূর্ণ হলো।

১৯৭১ সালের এদিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব-মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন ও সার্বভৌম হানাদার মুক্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্রের। ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম ও ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং কোটি বাঙালির আত্মনিবেদন ও গৌরবগাঁথা গণবীরত্বে পরাধীনতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পায় বাঙালি জাতি।

বাঙালি জাতি তার অধিকার আদায়ে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় উজ্জীবিত হয়ে উঠে। ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্য দিয়েই স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের পথে এগিয়ে নিয়ে যায় জাতি। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ স্বাধীনতা লাভ করলেও ভ্রান্ত দ্বিজাতির তত্ত্বের ভিত্তিতে যে অসম পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয় তার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয় বাঙালি জাতিকে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের শুরু থেকে বাঙালি জাতির ওপর শুরু হয় বৈষম্য, শোষণ, অত্যাচার নির্যাতন। অর্থনৈতিক, সরকারি চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য সব দিক থেকে বঞ্চিত হতে থাকে বাঙালি তথা এ ভূখণ্ডের মানুষ।

পাকিস্তানের এই শোষণ বঞ্চনা আর অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাঙালি সোচ্চার হতে থাকে এবং ধাপে ধাপে পাকিস্তানের অত্যাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে উঠতে থাকে। বাঙালির এই আন্দোলনের এক পর্যায়ে নেতৃত্বে আসেন শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালির এই আন্দোলনকে তিনি নেতৃত্ব দিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে পরিণত করেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চ লাইট নামে বাঙালিদের হত্যা যজ্ঞে মেতে উঠে। এরপর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন শেখ মুজিবুর রহমান। ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতার ঘোষণায় সারা দিয়ে সর্বস্তরের বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। কৃষক, শ্রমিক, চাকরিজীবী ছাত্র, শিক্ষক, যুবক, নারী, সাংস্কৃতিক কর্মী, পেশাজীবী মানুষ অস্ত্র হাতে তুলে নেয়। আধুনিক অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে নামে এবং জীবন দেয়। জীবনের নিশ্চিত ঝুঁকি নিয়ে বাংলার দামাল ছেলে, মুক্তিযোদ্ধারা অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের পাশে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে এগিয়ে আসে প্রতিবেশী দেশ ভারত। সরাসরি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ এবং কোটি বাঙালিকে আশ্রয় দিয়ে ভারত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। ওই সময় পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়নও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থন দিয়ে সরাসরি বাংলাদেশের পক্ষ নেয়। বিশ্ব জনমতও গড়ে উঠতে থাকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে।

দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বাঙালির সাহসিকতার কাছে পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া যৌথবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। এর মধ্য দিয়ে পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামে নতুন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। ১৬ ডিসেম্বর বীর বাঙালির বিজয় দিবস হিসেবে ঘোষিত হয়। প্রতি বছর বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে বিজয় দিবস উদযাপন করেন।




রাজধানীর দক্ষিণখানে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা

রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় শাজাহান (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয় জানার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে দক্ষিণখানের নর্দ্দাপাড়ার তালতলায় এ ঘটনা ঘটে।

দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, শাজাহান নামে ওই ব্যক্তিকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। নিহতের বিস্তারিত পরিচয় জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে তিনি ফোর্স নিয়ে অবস্থান করছেন।

তিনি আরও বলেন, নিহত শাজাহান স্থানীয় ডিস ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ী, প্রকাশ্যে সড়কে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ হত্যাকাণ্ডে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা বিষয়টি এখনো জানা যায়নি। এ ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।




জনসাধারণের চাপের ফলে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্লগারের গ্রেপ্তারের ঘোষণা

নাজিয়া জাহান অনি, যার ব্লগিং দিন দিন অস্থিরতার জন্ম দিয়েছিল, তাকে এখন একজন ওয়ান্টেড ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

ব্লগার তার ওয়েবসাইট www.dailyvision.net-এ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং পণ্ডিতদের বিরুদ্ধে ব্যাপক শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনে এবং খোলাখুলিভাবে ইসলামিক শিক্ষার সমালোচনা করার পর থেকে এই অস্থিরতা শুরু হয়। এই পোস্টগুলির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি বিক্ষোভকে উস্কে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

গতকাল, ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়ায়, আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা ঘোষণা করেছেন যে তারা সক্রিয়ভাবে বিষয়টি তদন্ত করছেন এবং নাজিয়া জাহান অনিকে শনাক্ত করেছেন, যিনি বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন। তারা জনসাধারণকে আশ্বস্ত করেছেন যে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী বিষয়বস্তু সহ গুরুতর গ্রেপ্তারযোগ্য অপরাধের জন্য ব্লগারকে বাংলাদেশে ফিরে আসার পর গ্রেপ্তার করা হবে।

এই ঘোষণা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধিকে চিহ্নিত করে, যা চলমান বিক্ষোভের প্রভাব এবং ধর্মীয় সংবেদনশীলতা বৃদ্ধির প্রতিফলন ঘটায়।




যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম অধিকার সংগঠনকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম অধিকার সংগঠন সিএআইআর’কে (দ্য কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস) ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করেছেন ফ্লোরিডা সরকার। একই সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডকেও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় সোমবার (৮ ডিসেম্বর) এক্স-এ এক পোস্টে নির্বাহী আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেস্যান্টিস। গত মাসে এমন সিদ্ধান্ত নেয় টেক্সাস অঙ্গরাজ্যও। খবর এপি’র

তবে ফ্লোরিডার এমন ঘোষণায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সিএআইআর। তারা সিদ্ধান্তটিকে অসাংবিধানিক ও মানহানিকর আখ্যা দিয়ে আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। যদিও মার্কিন ফেডারেল সরকার এখনও সিএআইআর কিংবা মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করেনি।




পানিতে ডুবে মামা-ভাগ্নের মর্মান্তিক মৃত্যু

কুড়িগ্রামে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মৃত দুই শিশু সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল ৯টার দিকে রৌমারী উপজেলার জাদুরচর ইউনিয়নের কর্তিমারী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো- কর্তিমারী এলাকার শাহজাহানের ছেলে শাহবাব মণ্ডল (২) ও দিগলাপাড়া এলাকার আবু তালেবের ছেলে আবু তোহা মণ্ডল (৩)। তারা সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে। নিহত তোহা মন্ডল শাহজাহানের বাড়িতে বেড়াতে এসে এ দুর্ঘটনার শিকার হয়।

স্থানীয়রা জানান, সকালে দুই শিশু বাড়ির সামনে খেলাধুলা করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে পুকুর থেকে শিশু দুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত দুই শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।




নির্বাচনের আগেই ‘এমপি নিশ্চিত’— জামায়াত প্রার্থীর বক্তব্যে তোলপাড়

নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার আগেই নিজেকে ‘নিশ্চিত নির্বাচিত’ বলে দাবি করলেন কক্সবাজার-৩ (সদর, রামু ও ঈদগাঁও) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী শহীদুল আলম বাহাদুর।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায় ‘ইয়ান তো সিল মারা অইগেইয়ু, আই এমপি অইয়ুম হনো সন্দেহ নাই ইনশাআল্লাহ।’ যার শুদ্ধ বাংলা ‘এটি তো সিল মারা হয়ে গেছে। আমি এমপি হবএ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, ইনশাআল্লাহ।’

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাত থেকে ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। ‘রবিন খান’ নামের একটি প্রোফাইল থেকে ভিডিওটি পোস্ট করার পর মুহূর্তেই তা নানা মহলে আলোচনা সৃষ্টি করে। ফেসবুকে প্রশ্ন এখন কক্সবাজারে এমপি কে হবে?

ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি বাহাদুরকে প্রশ্ন করছেন এখন কক্সবাজারে এমপি কে হবে? আপনার কি মনে হয়? প্রশ্নের জবাবেই আসে বাহাদুরের এই বিতর্কিত মন্তব্য।

রবি নামে এক ব্যবহারকারী লিখেন, ‘যেই যা বলুক শুনবার টাইম নাই। আমি দাঁড়িপাল্লায় নিয়ে পড়ে থাকব’। ওসমান নয়ন মন্তব্য করেন, ‘জেগেছে যুবক, জেগেছে ভোটার। ফেব্রুয়ারিতে হবে নির্বাচনবিজয় হবে দাঁড়িপাল্লার।’

মোস্তফা কামাল মন্তব্য করেন, ‘সিল মারা হয়ে গেছে তাহলে এত প্রচারের প্রয়োজন কী! এই কথাই শেখ হাসিনাও বলত। এবার কি হাসিনা স্টাইলে ভোটের আশা জামায়াত করছে? ’

ফোরকান নিশো লিখেছেন, দাম্ভিকতার পতন হবেই। তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।

ছাত্রনেতা থেকে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শহীদুল আলম বাহাদুর কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সহসভাপতি (ভিপি)। সেই পরিচয় থেকেই স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘ভিপি বাহাদুর’ নামে বেশি পরিচিত। তিনি সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যানও ছিলেন।

নির্বাচনী মাঠ গরম করতে তিনি গত ২৯ নভেম্বর ‘রান উইথ ভিপি বাহাদুর’ শিরোনামে কক্সবাজার শহরে গণদৌড়ের আয়োজন করেন।

বাহাদুর বলেন, ‘জনগণের সমর্থন এবং আল্লাহর রহমতে আমরা বিজয়ী হবো। নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা পূরণে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যুবকদের শিক্ষা ও প্রযুক্তি দক্ষতা বাড়াতে কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ 




মানুষের সঙ্গে আমার সম্পর্ক হৃদয়ের, রাজনীতির নয়: হান্নান মাসউদ

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে শাপলা কলি প্রতীকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

মনোনয়ন ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, শাপলা প্রতীক আমার জন্য গৌরবের। তবে প্রতীকের চেয়েও বড় হলো মানুষের বিশ্বাস ও ভালোবাসা। হাতিয়ার মানুষের সঙ্গে আমার সম্পর্ক হৃদয়ের, রাজনীতির নয়।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে দলটির প্রথম ধাপের ১২৫ জন মনোনীত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে এনসিপি। ঘোষিত তালিকায় নোয়াখালীর ৬টি আসনের মধ্যে ৩টিতে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে শাপলা কলি প্রতীকে লড়বেন আবদুল হান্নান মাসউদ।

ঘোষিত তিন প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন— নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) আসনে ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসনে অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে আবদুল হান্নান মাসউদ। এছাড়া নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী), নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) এবং নোয়াখালী-৪ (সদর–সুবর্ণচর) আসনের প্রার্থী এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

হান্নান মাসউদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে হাতিয়ার অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও দুর্গত মানুষের পাশে ছিলেন তিনি। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদীভাঙন—প্রতিটি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থেকে সহায়তা করেছেন। স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত রোগীদের চিকিৎসায় সহায়তা, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তা ও জীবিকা সংকটে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানোসহ বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ নিয়ে কাজ করেছেন।

হাতিয়ার অন্যতম প্রধান সংকট নদীভাঙন বলে উল্লেখ করেন হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, নদীভাঙনে কত মানুষ বাড়িঘর হারায়, সেই বেদনা আমি কাছ থেকে দেখেছি। তাই এটি শুধু নির্বাচনি অঙ্গীকার নয়, আমার ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতি—হাতিয়ার মানুষকে নদীভাঙনের ভয় থেকে রক্ষা করা। এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দাবি, আন্দোলন ও সরকারি দপ্তরসমূহে অনুসরণ করে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

নিজের রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে হান্নান মাসউদ বলেন, রাজনীতি আমার কাছে পদ-পদবির বিষয় নয়। এটা মানুষের সেবা করার পথ। জনগণই আমার শক্তি, আমার অনুপ্রেরণা। তারা যে ভালোবাসা দিয়েছে, সেই বিশ্বাসের মর্যাদা আমৃত্যু রক্ষা করব ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, হাতিয়ার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে আমি সর্বদা নিবেদিত থাকব। জনগণের রায়কে শ্রদ্ধা করি। বিশ্বাস করি, একসঙ্গে আমরা একটি উন্নত, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ হাতিয়া গড়ে তুলতে পারব।