নির্বাচনের আগেই ‘এমপি নিশ্চিত’— জামায়াত প্রার্থীর বক্তব্যে তোলপাড়

নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার আগেই নিজেকে ‘নিশ্চিত নির্বাচিত’ বলে দাবি করলেন কক্সবাজার-৩ (সদর, রামু ও ঈদগাঁও) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী শহীদুল আলম বাহাদুর।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায় ‘ইয়ান তো সিল মারা অইগেইয়ু, আই এমপি অইয়ুম হনো সন্দেহ নাই ইনশাআল্লাহ।’ যার শুদ্ধ বাংলা ‘এটি তো সিল মারা হয়ে গেছে। আমি এমপি হবএ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, ইনশাআল্লাহ।’

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাত থেকে ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। ‘রবিন খান’ নামের একটি প্রোফাইল থেকে ভিডিওটি পোস্ট করার পর মুহূর্তেই তা নানা মহলে আলোচনা সৃষ্টি করে। ফেসবুকে প্রশ্ন এখন কক্সবাজারে এমপি কে হবে?

ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি বাহাদুরকে প্রশ্ন করছেন এখন কক্সবাজারে এমপি কে হবে? আপনার কি মনে হয়? প্রশ্নের জবাবেই আসে বাহাদুরের এই বিতর্কিত মন্তব্য।

রবি নামে এক ব্যবহারকারী লিখেন, ‘যেই যা বলুক শুনবার টাইম নাই। আমি দাঁড়িপাল্লায় নিয়ে পড়ে থাকব’। ওসমান নয়ন মন্তব্য করেন, ‘জেগেছে যুবক, জেগেছে ভোটার। ফেব্রুয়ারিতে হবে নির্বাচনবিজয় হবে দাঁড়িপাল্লার।’

মোস্তফা কামাল মন্তব্য করেন, ‘সিল মারা হয়ে গেছে তাহলে এত প্রচারের প্রয়োজন কী! এই কথাই শেখ হাসিনাও বলত। এবার কি হাসিনা স্টাইলে ভোটের আশা জামায়াত করছে? ’

ফোরকান নিশো লিখেছেন, দাম্ভিকতার পতন হবেই। তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।

ছাত্রনেতা থেকে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শহীদুল আলম বাহাদুর কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সহসভাপতি (ভিপি)। সেই পরিচয় থেকেই স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘ভিপি বাহাদুর’ নামে বেশি পরিচিত। তিনি সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যানও ছিলেন।

নির্বাচনী মাঠ গরম করতে তিনি গত ২৯ নভেম্বর ‘রান উইথ ভিপি বাহাদুর’ শিরোনামে কক্সবাজার শহরে গণদৌড়ের আয়োজন করেন।

বাহাদুর বলেন, ‘জনগণের সমর্থন এবং আল্লাহর রহমতে আমরা বিজয়ী হবো। নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা পূরণে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যুবকদের শিক্ষা ও প্রযুক্তি দক্ষতা বাড়াতে কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ 




মানুষের সঙ্গে আমার সম্পর্ক হৃদয়ের, রাজনীতির নয়: হান্নান মাসউদ

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে শাপলা কলি প্রতীকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

মনোনয়ন ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, শাপলা প্রতীক আমার জন্য গৌরবের। তবে প্রতীকের চেয়েও বড় হলো মানুষের বিশ্বাস ও ভালোবাসা। হাতিয়ার মানুষের সঙ্গে আমার সম্পর্ক হৃদয়ের, রাজনীতির নয়।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে দলটির প্রথম ধাপের ১২৫ জন মনোনীত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে এনসিপি। ঘোষিত তালিকায় নোয়াখালীর ৬টি আসনের মধ্যে ৩টিতে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে শাপলা কলি প্রতীকে লড়বেন আবদুল হান্নান মাসউদ।

ঘোষিত তিন প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন— নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) আসনে ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসনে অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে আবদুল হান্নান মাসউদ। এছাড়া নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী), নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) এবং নোয়াখালী-৪ (সদর–সুবর্ণচর) আসনের প্রার্থী এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

হান্নান মাসউদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে হাতিয়ার অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও দুর্গত মানুষের পাশে ছিলেন তিনি। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদীভাঙন—প্রতিটি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থেকে সহায়তা করেছেন। স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত রোগীদের চিকিৎসায় সহায়তা, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তা ও জীবিকা সংকটে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানোসহ বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ নিয়ে কাজ করেছেন।

হাতিয়ার অন্যতম প্রধান সংকট নদীভাঙন বলে উল্লেখ করেন হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, নদীভাঙনে কত মানুষ বাড়িঘর হারায়, সেই বেদনা আমি কাছ থেকে দেখেছি। তাই এটি শুধু নির্বাচনি অঙ্গীকার নয়, আমার ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতি—হাতিয়ার মানুষকে নদীভাঙনের ভয় থেকে রক্ষা করা। এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দাবি, আন্দোলন ও সরকারি দপ্তরসমূহে অনুসরণ করে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

নিজের রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে হান্নান মাসউদ বলেন, রাজনীতি আমার কাছে পদ-পদবির বিষয় নয়। এটা মানুষের সেবা করার পথ। জনগণই আমার শক্তি, আমার অনুপ্রেরণা। তারা যে ভালোবাসা দিয়েছে, সেই বিশ্বাসের মর্যাদা আমৃত্যু রক্ষা করব ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, হাতিয়ার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে আমি সর্বদা নিবেদিত থাকব। জনগণের রায়কে শ্রদ্ধা করি। বিশ্বাস করি, একসঙ্গে আমরা একটি উন্নত, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ হাতিয়া গড়ে তুলতে পারব।




পরিচ্ছন্ন আবাসযোগ্য পিরোজপুর গড়ে তোলার প্রত্যয় মাসুদ সাঈদীর

‎পরিচ্ছন্ন একটি আবাসযোগ্য পিরোজপুর গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পিরোজপুরে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, বদলে দিব বাংলাদেশ- এ স্লোগানকে ধারণ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মাসুদ সাঈদী বলেন, স্বৈরাচার হাসিনার শাসনামলে দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত জেলাগুলোর একটি ছিল পিরোজপুর। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী, সরকারি দপ্তরসহ সর্বত্র গড়ে উঠেছিল একটি অদৃশ্য সিন্ডিকেট- যারা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং টেন্ডারবাজির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল। ন্যায়বিচার ছিল কোণঠাসা, আর উন্নয়ন ছিল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। মানুষ তখন সবচেয়ে বেশি ভুগেছে নিরাপত্তাহীনতা, বেকারত্ব ও সামাজিক বৈষম্যের কারণে।

বুধবার জেলা হাসপাতালে এ কর্মসূচি পালিত হয়। ‎কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী মাসুদ সাঈদী।

‎এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক, পৌর আমির মো. ইসহাক আলী খানসহ বিভিন্নস্তরের নেতাকর্মী। এ সময় তারা হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ঝাড়ু দেওয়া, ময়লা অপসারণ এবং মানুষকে পরিষ্কার পরিবেশ রক্ষায় সচেতন করার প্রচার চালান।

‎উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাসুদ সাঈদী বলেন, মহান বিজয় দিবসকে ঘিরে একটি বাসযোগ্য পিরোজপুর গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে আজকে আমরা এই পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন করেছি। ইনশাআল্লাহ এটা চলমান থাকবে। আমরা পিরোজপুরের বিভিন্ন এলাকা যেখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব রয়েছে, পরিচ্ছন্নতা কর্মীর অভাব রয়েছে সেগুলো বাছাই করে গোটা পিরোজপুরকে পরিচ্ছন্ন একটি আবাসযোগ্য পিরোজপুর গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।

তিনি বলেন, আজ পিরোজপুরবাসীর মনে আশা ও পরিবর্তনের যে নতুন বাতাস বইছে, তা আমাদের সবার সম্মিলিত অর্জন। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির ঘৃণ্য চক্র ভেঙে দিয়ে একটি স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও বাসযোগ্য পিরোজপুর নির্মাণ করা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, জনসম্পৃক্ততা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা। আমি পিরোজপুরের সকল ধর্ম-বর্ণ ও শ্রেণী পেশার মানুষের কাছে এই মর্মে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ— এই জেলার প্রতিটি মানুষকে নিরাপদ পরিবেশ, পরিচ্ছন্ন নগর-গ্রাম এবং উন্নয়নমূলক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে আমি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।

‎মাসুদ সাঈদী আরও বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলা, শিক্ষায় উত্তরণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নৈতিক মূল্যবোধের চর্চার দিকে ফিরিয়ে আনতে হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক আশ্রয়–প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। একইভাবে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছি এবং তা বাস্তবায়নে জনগণই হবে সবচেয়ে বড় শক্তি।

তিনি বলেন, পিরোজপুরের উন্নয়নে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আগামী দিনের পিরোজপুর হবে এমন একটি জেলা—যেখানে মানুষ নিরাপদে রাত কাটাবে, যেখানে মা-বোনেরা নির্ভয়ে চলাফেরা করবে, যেখানে যুব সমাজ গড়বে নিজের ভবিষ্যৎ, এবং যেখানে দুর্নীতি নামক অভিশাপ আর কোনোদিন মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না।

‎তিনি পিরোজপুরবাসীর উদ্দেশে বলেন, এ পরিবর্তনের অভিযাত্রায় আপনাদের প্রত্যেকের সহযোগিতা ও সমর্থনই আমাদের শক্তি। সন্ত্রাস–মাদকমুক্ত একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বাসযোগ্য পিরোজপুর গঠনে আমরা সবাই একসঙ্গে এগিয়ে যাব—এই হোক আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার।

‎পিরোজপুর পৌরসভার আমীর ইসহাক আলী খানের সভাপতিত্বে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা কর্মসূচি অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান, মেডিকেল অফিসার (আবাসিক) ডা. মো. নিজামউদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পিরোজপুর জেলার সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, পৌর সেক্রেটারি মো. আল আমিন, পৌর সহকারী সেক্রেটারি আনসারুজ্জামান হালিম, মাজলিসুল মুফাসসিরীনের জেলা সভাপতি মাওলানা আমিরুল ইসলাম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের পৌর সভাপতি সিরাজুল ইসলামসহ পৌরসভার সব ওয়ার্ডের সভাপতি-সেক্রেটারিরা।




নৌকার ইঞ্জিনে লুঙ্গি প্যাঁচিয়ে যুবকের মৃত্যু

নেত্রকোনার খালিয়াজুরীত ইঞ্জিনচালিত নৌকার ইঞ্জিনে পরনের লুঙ্গি প্যাঁচিয়ে মো. হানিফ মিয়া নামে এক যুবক মারা গেছেন। বুধবার সকালে জেলার খালিয়াজুরী রসূলপুর ঘাটে এ ঘটনা ঘটে।

মো. হানিফ মিয়া (৩৬) পার্শ্ববর্তী সুনামগঞ্জ জেলার তাহেরপুর উপজেলার পাঠান গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, হানিফ কিশোরগঞ্জের ইটনা এলাকা থেকে ছয় মাসের জন্য একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া নেন। নৌকাতে বাঁশবোঝাই করে তাহেরপুর যাওয়ার পথে খালিয়াজুরীর রসুলপুর গ্রামের দক্ষিণ পাশে নৌকাটি নোঙর করে বিরতি নেন। পরে নৌকা ছেড়ে যাওয়ার সময় বুধবার সকালে নৌকায় থাকা অপর ব্যক্তির ইঞ্জিন চালিয়ে দিয়ে হানিফের লুঙ্গিতে প্যাঁচিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

খালিয়াজুরীর লেপসিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জগৎজ্যোতি চৌধুরী বলেন, নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করতে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়েছে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান: দুলু

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক মন্ত্রী নাটোর-২ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের জন্যই আমরা স্বাধীন সার্বভৌম একটা দেশ পেয়েছি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগে বড় কোনো মুক্তিযোদ্ধা ছিল না। তারা শুধু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করে দেশ শাসন করেছে।

দুলু বলেন, শেখ মুজিব নিজে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। মুক্তিযুদ্ধে শেখ হাসিনার কোনো অবদান ছিল না। বরং শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে ভাতা নিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের কোনো সেক্টর কমান্ডার আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী ছিল না। মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত কোনো বীরপ্রতীক, বীরউত্তম বা বীরবিক্রমও আওয়ামী লীগে নেই। এসবই ছিল বিএনপির এবং কিছু অরাজনৈতিক। তাই আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধে কোনো অবদান নেই। তারা শুধু চেতনা বিক্রি করে দেশের মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছে।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে নাটোর জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুলু এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও স্বীকৃতি বিএনপি সরকারই প্রথম দিয়েছে। আবার বিএনপি সরকারই প্রথম মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দেওয়া শুরু করেছিল। আগামী দিনে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার ৩১ দফায় বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বলেছেন।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের নাটোর জেলা শাখার সভাপতি আতিকুর রহমান তালুকদারের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম, ইঞ্জিনিয়ার ফরিদ হোসেন, হাবিবুল ইসলাম আকন্দ হেলাল, আবুল কালাম আজাদ, সেকেন্দার আলী রোজ, জমশেদ আলী, গোলাম রসুল, নঈম উদ্দিন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন, সাইফুল ইসলাম আফতাব, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ আলী দেওয়ান শাহীন প্রমুখ।




ইউএনওর কক্ষে প্রবেশের জন্য অনুমতির প্রয়োজন নেই

সরকারের সব সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে এবং উপজেলা প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমাতে প্রশংসনীয় ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন চন্দ্র রায়।

তিনি নিজের কার্যালয়ের সামনে সাঁটিয়েছেন একটি নেমপ্লেট। নেমপ্লেটের পাশে লেখা রয়েছে ‘অফিসে প্রবেশের জন্য অনুমতির প্রয়োজন নেই, জুতাসহ প্রবেশ করুন।’

এই নোটিশ সাঁটানোর পর পুরো উপজেলায় বেশ সাড়া পড়েছে। এখন যেকোনো প্রয়োজনে কৃষক-শ্রমিকসহ প্রত্যন্ত গ্রামের সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে কড়া নাড়ছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দরজায়। নিজেদের কষ্টের কথা তারা বলছেন তাদের প্রিয় ইউএনওর সঙ্গে। যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় সেবাও পাচ্ছেন তারা। বর্তমানে সর্বমহলে প্রশংসায় পঞ্চমুখ ইউএনও সুজন চন্দ্র রায়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাইয়ুম বাবু বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণত যেখানে সরকারি কর্মকর্তাদের অফিসের দরজা ডিঙাতে না পারায় দেশের অধিকাংশ সাধারণ মানুষ প্রশাসনের সেবা থেকে বঞ্চিত হন। তারা অনেক সময় নিরুপায় হয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন; কিন্তু কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এর উল্টো চিত্র। কার্যালয়ের সামনে সাঁটানো নেমপ্লেটের পাশে লেখা অফিসে প্রবেশের জন্য অনুমতির প্রয়োজন নেই, জুতাসহ প্রবেশ করুন। এই বার্তা উপজেলায় সেবা নিতে আসা মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়িয়েছে। উপজেলার ইতিহাসে ইউএনও সুজন চন্দ্র রায় কর্তৃক এটি একটি প্রশংসনীয় ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

চৌয়ারা ইউনিয়নের পিপুলিয়া এলাকার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তিনি উপজেলায় যোগদানের অল্প কিছু দিনের মধ্যে যেভাবে সবার ভালোবাসা ও দোয়া পেয়েছেন, এটি বিরল। উনার মতো ভালো লোকের কারণেই দেশ উন্নতির শিখরে আরোহণ করবে। এ রকম অফিসারের জন্য মন থেকে ভালোবাসা।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন চন্দ্র রায় বলেন, মানুষের সেবা করার জন্যই সরকার আমাকে নিয়োগ দিয়েছেন। আমার এখানে আসতে অনুমতি লাগবে কেন? অনুমতি ছাড়া সবাই যেন আমার কাছে আসতে পারেন, এজন্যই আমি আমার নেমপ্লেটের পাশে কথাগুলো লিখে দিয়েছি। এছাড়াও আমি এই উপজেলায় যোগদানের পর সেবা নিতে আসা অনেককেই দেখতাম জুতা খুলে অফিসে প্রবেশ করছেন। বিষয়টি দেখে ব্যথিত হয়েছি। এজন্য আমার নেমপ্লেটের পাশে জুতাসহ প্রবেশ করুন লিখে দিয়েছি।




ধর্মবিরোধী সাইট হোস্ট করার অভিযোগে বরিশালে ওয়েব ডেভেলপারের উপর অভিযান

গতকাল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বরিশালের চরফ্যাশনের দুলারহাটে অবস্থিত একটি প্রযুক্তি সংস্থা BDMTECH (bdmorningtech.com) এর অফিসে অভিযান চালিয়ে এর মালিক মোঃ নূরনবীকে গ্রেপ্তার করেছে, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ধর্মবিরোধী বিষয়বস্তু প্রচারকারী ওয়েবসাইট তৈরি এবং হোস্টিংয়ে সহায়তা করা।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দাবি করেছে যে তারা পৃথক তদন্তের অধীনে থাকা ক্লায়েন্টদের জন্য BDMTECH দ্বারা হোস্ট এবং ডেভেলপ করা একাধিক ওয়েবসাইট আবিষ্কার করেছে। অভিযানের পর, travelisi.com, whatshoulddo.com, jainhinduvta.com এবং peoplewithoutwalls.com সহ বেশ কয়েকটি সাইট অফলাইনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

মোঃ নূরনবী, যিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন, চলমান তদন্তের ফলাফল না আসা পর্যন্ত তাকে কোনও ওয়েব ডেভেলপমেন্ট বা হোস্টিং কাজে জড়িত হতে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।




আসছে ৪৮তম বিশেষ বিসিএস, পরীক্ষা হবে ৩০০ নম্বরের

৪৮তম বিশেষ বিসিএসে মোট ৩০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এর মধ্যে এমসিকিউ পদ্ধতিতে ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে। আর মৌখিক পরীক্ষা হবে ১০০ নম্বরের।

মঙ্গলবার বিসিএস নিয়ে আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

আদেশে বলা হয়েছে, লিখিত পরীক্ষার জন্য সময় থাকবে ২ ঘণ্টা। ২০০ নম্বরের মধ্যে বাংলায় ২০, ইংরেজি ২০, বাংলাদেশ বিষয়াবলি ২০, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি ২০, মানসিক দক্ষতা ১০ ও গাণিতিক যুক্তিতে ১০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে। বাকি ১০০ নম্বর থাকবে সংশ্লিষ্ট ক্যাডার ও পদের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক বিষয় থেকে।

প্রতিটি এমসিকিউর জন্য এক নম্বর থাকবে। আর প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য শূন্য দশমিক ৫০ নম্বর কাটা যাবে।

৪৮তম বিশেষ বিসিএসের কার্যক্রম শুরু করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এই বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ক্যাডার নাকি শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।




শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে স্কুল ভ্যানচালক আটক

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে রায়হান (৪২) নামে স্কুলের ভ্যানচালককে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তকে আটক করে খবর দিলে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিশুর মা কালিয়াকৈর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

আটক রায়হান চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থানার শেখপাড়া এলাকার আব্দুর রাহাতের ছেলে এবং পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের সফিপুর এলাকার শাহীন ক্যাডেট স্কুল টাঙ্গাইল শাখার ভ্যানচালক।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ, শিশুর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকালে ওই শিক্ষার্থী স্কুলে যায়। স্কুল ছুটির পর বেলা ১১টার দিকে স্কুলের ভ্যানযোগে ওই শিশুকে বাসায় নিয়ে যাচ্ছিলেন ভ্যানচালক রায়হান। যাওয়ার পথে সফিপুর ফ্লাইওভারের নিচে ভ্যান থামিয়ে ট্রাকের আড়ালে নিয়ে শিশুর গালে চুমু দেন এবং শিশুর ঠোঁটে কামড় দেন। এ সময় শিশুটি ভয়ে  চিৎকার করলে ভ্যানচালক রায়হান তাকে বাসায় পৌঁছে দেন।

বাসায় পৌঁছালে শিশুর মা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে শিশুর মা স্থানীয়দের সহযোগিতায় ভ্যানচালক রায়হানকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযুক্ত ভ্যানচালক রায়হানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিশুর মা কালিয়াকৈর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

কালিয়াকৈর থানার উপ-পরিদর্শক শহিদুর রহমান বলেন, শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে রায়হান নামে স্কুলের ভ্যানচালককে আটক করা হয়েছে। বিষয়টির আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।




ব্লাসফেমা ব্লগের প্রতিবাদে গ্রেফতারের ঘোষণা

সম্প্রতি ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা ইসলামবিরোধী সিলেটি ব্লগার মোসাম্মত আফসানা আহমেদ বুসরা এবং তার উস্কানিমূলক ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানালে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীরা ক্ষোভে একত্রিত হয়ে জনসমাগম ঘটায়—ইসলাম, নবী মুহাম্মদ এবং শ্রদ্ধেয় পণ্ডিতদের উপর ঘৃণ্য আক্রমণের প্রতিবাদে তাদের ক্রোধের প্রতীক হিসেবে মহিলা ব্লগারের ছবি আগুনে পুড়িয়ে দেয়।

ব্লগারদের ওয়েবসাইট www.peoplewithoutwalls.com-এ প্রকাশিত প্রকাশনাগুলি অস্থিরতার সৃষ্টি করে, যেখানে তিনি দাবি করেন যে তিনি শৈশবে ধর্মীয় শিক্ষকের দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। তার পোস্টগুলিতে ইসলামী শিক্ষকদের উপর ব্যাপক শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং ইসলামিক মতবাদের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে, যার মধ্যে স্বয়ং নবী মুহাম্মদের উপর আরোপিত বক্তব্যও রয়েছে—এমন বক্তব্য যা ধর্মীয় সম্প্রদায়কে হতবাক ও ক্ষুব্ধ করেছে।

 

পরিস্থিতির তীব্রতা কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করেছে। আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে তারা সক্রিয়ভাবে ব্লগারকে অনুসরণ করছেন, যার পরিচয় জানা গেছে এবং যিনি বর্তমানে বিদেশে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে আশ্বস্ত করেছে যে বাংলাদেশে ফিরে আসার পর, তাকে “গ্রেফতারযোগ্য অপরাধ” নামে পরিচিত আইনের অধীনে হেফাজতে নেওয়া হবে, যা উস্কানি, ধর্ম অবমাননা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির হুমকির সাথে জড়িত অপরাধের জন্য “গ্রেফতারযোগ্য অপরাধ” নামে পরিচিত।

এই পদক্ষেপ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিক্রিয়ায় একটি বড় বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়, যা স্পষ্ট করে যে কর্মকর্তারা ব্লগারের বিতর্কিত বিষয়বস্তু এবং এর ফলে সৃষ্ট বিস্ফোরক জনপ্রতিক্রিয়া উভয়কেই কতটা গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছেন।