বালুদস্যুদের হাতে জিম্মি ভূমি কর্মকর্তা, পরে উদ্ধার

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ধুলশুরা ইউনিয়নে পদ্মায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে গিয়ে বালুদস্যুদের হাতে জিম্মি হন হরিরামপুর উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা। পরে দোহার উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে তিনি রক্ষা পান। মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর ও ঢাকার দোহার উপজেলার পদ্মা নদীর সীমানায় এ ঘটনা ঘটে।

হরিরামপুর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়া বলেন, হরিরামপুর উপজেলা ধুলশুরা ইউনিয়নে পদ্মায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে মঙ্গলবার বিকেলে ওই এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য যান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন তিনজন পুলিশ সদস্য ও একজন আনসার সদস্য। ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর অবৈধভাবে পদ্মায় বালু উত্তোলন করায় একটি বাল্কহেড জব্দ করা হয়। এ সময় বালু উত্তোলনকারীরা কৌশলে তাঁর স্পিডবোট বাল্কহেডের সঙ্গে বেঁধে দোহার উপজেলার সীমানায় নিয়ে যায়। এরপর একটি স্পিডবোটে করে বালু উত্তোলনকারীদের পক্ষে প্রথমে ১৫ জনের মতো লোক আসে। এর কিছুক্ষণ পর ট্রলারে করে আরও এক থেকে দেড়শত লোক আসে। তারা তাঁকে বহনকারী স্পিডবোটটি জোর করে দোহারের দিকে নিয়ে যায়। এ সময় তিনি বিষয়টি মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসককে জানান। তাঁর স্পিডবোট যখন দোহার উপজেলার মৈনট ঘাটে আসে, তখন দোহার উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা এসএম মুস্তাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি জব্দ করা বাল্কহেডটি দোহার উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার কাছে বুঝিয়ে দিয়ে নদী পথে হরিরামপুর ফিরে আসেন।

তাপসী রাবেয়া আরও জানান, তিনি গুগল ম্যাপ দেখেই মানিকগঞ্জের সীমানায় পদ্মায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে যান। কিন্তু দোহার এলাকার বালুদস্যুরা মানিকগঞ্জের সীমানায় এসে বালু উত্তোলন করছে। খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, দোহার এলাকার বালুদস্যু মুত্তার ও শহীদের নেতৃত্বে তাঁর স্পিডবোটকে জিম্মি করে দোহার এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া না হলেও তিনি তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন।

দোহার উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা এসএম মুস্তাফিজুর রহমান জানান, তাঁকে দোহারের ইউএনও জানান হরিরামপুর সহকারী ভূমি কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়া পদ্মায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন। ইউএনওর নির্দেশে দোহার উপজেলার মৈনট ঘাটে গিয়ে তাপসী রাবেয়াকে দেখতে পান। এরপর স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে ওই কর্মকর্তাকে তাঁর নিজ উপজেলায় যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। জব্দ বাল্কহেড মৈনট ঘাটে রাখা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




যৌন নির্যাতনে মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগ

পটুয়াখালীর বাউফলে যৌন নির্যাতনে এক মাদ্রাসাছাত্রের (১৩) মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তবে ওই ছাত্রের বাবার ভাষ্য, যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসা পরিচালকের বিচার দাবি করেছেন তিনি।

নিহত শিক্ষার্থী নাজিরপুর তাঁতেরকাঠি ইউনিয়নের বড় ডালিমা মদিনাতুল উলুম কওমিয়া হাফেজিয়া নূরানি কিন্ডারগার্টেন মাদ্রাসা ও এতিমখানার হেফজ বিভাগের ছাত্র ছিল।

ছেলেটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত সেলিম গাজী মাদ্রাসা বন্ধ করে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ছেলেটির পরিবারের ভাষ্য, ভর্তির পরই তাকে বিভিন্ন কৌশলে যৌন নির্যাতন করত মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ সেলিম গাজী। দুই সপ্তাহ আগে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দিয়ে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ছেলেটির বাবা বলেন, তার ছেলে মৃত্যুর আগে তাকে জানায়, ‘হাফেজ সেলিম গাজী ভর্তির পর থেকেই খুব আদর করত তাকে। পরে পরিচালক তার সঙ্গে রেখে প্রায় প্রতিদিনই তাকে যৌন নির্যাতন করত।’ এ বিষয়ে কাউকে কিছু বলতে নিষেধ করে ছেলেকে হত্যার ভয়ভীতি দেখায়। ছেলে বাড়িতে আসতে চাইলে সেলিম তাকে নিয়ে আসত। মা-বাবা ও দাদার সঙ্গে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে আবার সঙ্গে করে নিয়ে আসত। তিনি বলেন, ‘আমরা সরল বিশ্বাসে ছেলেকে হাফেজ তৈরি করার জন্য দিয়েছি। কিন্তু পশুটা মোর বাবাকে মেরে ফেলেছে।’ এর বিচার চাই বলে কেঁদে ফেলেন তিনি।

এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত সেলিম গাজীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। তবে ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিচুল হক বলেন, বিষয়টি জেনে থানায় জিডি করে লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পটুয়াখালীর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে মাদ্রাসা পরিচালক সেলিম প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে পালিয়েছে বলে জানান ওসি।




সরু সেতুর মাঝে গর্ত, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

দেওয়ানগঞ্জ-সানন্দবাড়ী-ডাংধরা সড়কের তারাটিয়া বাজারের দক্ষিণে খালের ওপর নির্মিত সরু সেতুতে গর্ত হয়েছে। বিকল্প সড়ক না থাকায় ওই সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। দ্রুত ভাঙা সেতু অপসারণ করে সড়কের উপযোগী প্রশস্ত একটি সেতু নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর।

দেওয়ানগঞ্জ শহর থেকে উত্তরের ডাংধরা, চরআমখাওয়া, পাররামরামপুর– তিনটি ইউনিয়নসহ রাজীবপুর ও রৌমারী উপজেলার মানুষ প্রতিদিন ভাঙা সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করে থাকে। দেওয়ানগঞ্জ শহরে তাদের চলাচলের একমাত্র সড়কে সেতুটির অবস্থান। জামালপুর জেলা শহরে যাতায়াতের বিকল্প পথ থাকলেও দূরত্ব অধিক। এ কারণে জামালপুর ও দেওয়ানগঞ্জ শহরে যাতায়াতে ভাঙা সেতু দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে।
সানন্দবাড়ী মুগিরচরের আব্দুল হাই সরকার বলেন, উত্তরাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের চলাচলের একমাত্র সড়ক দেওয়ানগঞ্জ-সানন্দবাড়ী-ডাংধরা। এই সড়কে নির্মিত ভাঙা সেতু পার হয়েই প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করছে। একদিকে সেতুটি অপ্রশস্ত, অন্যদিকে মাঝখানে গর্ত। কখন যে দুর্ঘটনা ঘটে, বলা কঠিন।

তারাটিয়া মণ্ডলপাড়ার আবুল কালাম জানান, কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জেনেও সেতুটির ভাঙা অংশ সংস্কার বা নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে না। বিষয়টি দুঃখজনক। ওই স্থানে সড়কের উপযোগী প্রশস্ত সেতু নির্মাণ ও ভাঙা সেতু দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তিনি।

কাঠারবিল সাপমারী গ্রামের নজরুল ইসলামের ভাষ্য, দেওয়ানগঞ্জ-সানন্দবাড়ী-ডাংধরা সড়কে নির্মিত সেতুগুলো অপ্রশস্ত ও পুরোনো। এর আগে সড়কটির কাঠারবিল মহারাণী খালের ওপর নির্মিত সেতু ও পোড়ারভিটার কাছের সেতু দুটির মাঝখানে গর্ত হয়। তবে সেতু দুটির ভাঙা অংশ সিমেন্ট ও বালু দিয়ে সংস্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। তাতেও ঝুঁকির মাত্রা শেষ হয়নি। সেতু দুটি দুর্বল হয়ে পড়েছে বিধায় যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে।

ট্রাকচালক আব্দুস সবুর জানান, অনেক দিন আগে সেতুটির মাঝখানে গর্ত হয়েছে। ভাঙা ওই সেতুতে উঠলে ভয় লাগে। কখন যে সেতু ভেঙে যায়, বলা কঠিন। বিকল্প সড়ক না থাকায় তার ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। বড় যানবাহনের ক্ষেত্রে ঝুঁকির মাত্রা বেশি। মালবোঝাই ট্রাক উঠলে দুমড়েমুচড়ে যাওয়ার মতো হয়ে পড়ে সেতুটি।

দ্রুত সেতুটি সংস্কার বা সড়কের উপযোগী প্রশস্ত সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন পাররামরামপুর ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম মিয়া জেকে।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলডিইডি) প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে। তাঁর ভাষ্য, সেতুতে গর্তের বিষয়টি জানেন তিনি। খুব দ্রুতই সংস্কার করা হবে।




বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের রাজস্ব খাতভুক্ত তত্ত্বাবধায়ক (সম্পত্তি) পদে আবেদনকারী প্রার্থীদের এমসিকিউ, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এমসিকিউ ও লিখিত পরীক্ষা ১৭ ডিসেম্বর এবং মৌখিক পরীক্ষা ১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর খিলক্ষেতে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে তিনটি পরীক্ষাই নেওয়া হবে।




স্থানীয় শিশু ধর্ষকের তথ্য প্রকাশের পর সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে

গতকাল বৃহত্তর সিলেটের গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় শিশু ধর্ষক হিসেবে চিহ্নিত এক ব্যক্তির কঠোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে আসায় ব্যাপক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন যে রাশেল আলী নামে এক ব্যক্তি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে একটি বাংলাদেশী অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাগারে দণ্ডিত হচ্ছেন। —একটি অপরাধ যা তারা বলে যে বাংলাদেশের নৈতিক কাঠামো এবং ইসলামী মূল্যবোধ উভয়ই লঙ্ঘন করে৷

স্থানীয় ইমামরা যারা বিক্ষুব্ধ সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন একটি ফতোয়া জারি করেছেন, অভিযুক্ত অপরাধীকে কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং ঘোষণা করেছেন যে তাকে কখনই সিলেটে ফিরে যেতে দেওয়া হবে না৷ বিক্ষোভকারীরা ক্ষোভে উদ্দীপ্ত হয়ে রাশেল আলীকে তার কর্মের জন্য ফাঁসিতে ঝোলানোর দাবি জানায়। তারা বলে তিনি আবার বাংলাদেশে পা রাখলে “তার যৌন মিলনের ক্ষমতা কেটে ফেলা হবে” এই প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।

 

স্থানীয় জনগণের মধ্যে আবেগ বেশি থাকায় পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ। প্রতিবাদটি অনুভূত অন্যায়ের বিরুদ্ধে সম্প্রদায়ের দৃঢ় অবস্থান এবং আইনি এবং ধর্মীয় উভয় নীতির অধীনে জবাবদিহিতার জন্য তাদের আহ্বানকে তুলে ধরে।

নতুন তথ্য উপলব্ধ হওয়ার সাথে সাথে আমরা আরও আপডেট সরবরাহ করব।




বুটেক্সে প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার জন্য যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

এ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এবার ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৬ জুন (শুক্রবার)। ওই দিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা বুটেক্স ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে।

গত ১২ এপ্রিল অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৩ মে শেষ হয় আবেদন। আবেদন ফি ছিল ২০০ টাকা। এইচএসসিতে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়নবিজ্ঞান ও উচ্চতর গণিতে প্রাপ্ত সর্বোচ্চ নম্বরের ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।




স্বামীকে হত্যা করে পালিয়ে থাকার অভিযোগ, গ্রেপ্তার স্ত্রী

দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মিরসরাই থানার মিঠাছড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার নারীর নাম রুমি আক্তার (২৫)। তিনি কক্সবাজারের পেকুয়া থানার বাজারপাড়া গ্রামের মৃত মো. তাজুর মেয়ে।

র‌্যাব জানায়, দেড়বছর আগে একই এলাকার মো. রিদুয়ানের সঙ্গে রুমির বিয়ে হয়। বিয়ের পর অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন রুমি। এ নিয়ে স্বামীর সঙ্গে তার কলহ লেগে থাকতো। গত ২৮ আগস্ট একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হন রুমি। গত ১৭ অক্টোবর জামিনে বেরিয়ে আসেন। কারাগার থেকে বেরিয়ে আসার পর আবারও বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ হয়। এর জেরে গত ২৭ ডিসেম্বর রাতে স্বামী রিদুয়ানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে কম্বল দিয়ে ঢেকে রেখে ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যান তিনি। পরদিন রিদুয়ানের পরিবারের সদস্যরা থাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় রিদুয়ানের ভাই বাদী হয়ে পেকুয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

র‌্যাব-৭ সিনিয়র সহকারী পরিচালক নূরুল আবছার বলেন, ‘মামলার একমাত্র আসামি রুমি আক্তারকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা ও ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে র‌্যাব। নজরদারির একপর্যায়ে র‌্যাব জানতে পারে আসামি মিঠাছড়া এলাকায় একটা বাসায় অবস্থান করছেন। অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তাকে পেকুয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’




সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি আহত

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বড়ছড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের বুরুংগাছড়া গ্রামের সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তি বুরুংগাছড়া গ্রামের মো. রাশেদ মিয়ার ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন।

জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে তাহিরপুরের উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের বুরুংগাছড়া গ্রামের বাসিন্দা হনুফা বেগম সীমান্তের শূন্যরেখা বরাবর পাহাড়ি ছড়ায় গোসল করতে যান। এ নিয়ে বড়ছড়া বিওপির বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে হনুফা বেগমের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে বিএসএফের টহলরত এক সদস্য এসে উপস্থিত হন এবং তিনি মহিলাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এ ঘটনায় গ্রামের বাসিন্দারা বিএসএফ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। বিএসএফের সদস্যরাও বাংলাদেশি নাগরিকদের ধাওয়া করেন। পরে বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশের ৫০ গজ ভেতরে এসে তিন রাউন্ড ছড়া গুলি ছোড়ে। এতে বুরুংগাছড়া গ্রামের মো. রাশেদ মিয়ার ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেনের শরীরে গুলি লাগে। তাঁকে চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং আহত হনুফা বেগমকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ-২৮ বিজিবির পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান (পিবিজিএম) জানান, গুলিবিদ্ধ আহত ব্যক্তিকে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাঁকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে তাৎক্ষণিক বড়ছড়া শুল্ক্ক স্টেশনের জিরো পয়েন্টে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন টেকেরঘাট কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার জাফর আহমদ ও ভারতের বিএসএফের পক্ষে নেতৃত্ব দেন শিলং ১৯৩ ব্যাটালিয়নের বড়ছড়া বিএসএফের বড়ছড়া কোম্পানি কমান্ডার দিলীপ সিং। দুই দেশের মধ্যে ১৫ মিনিটব্যাপী পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পতাকা বৈঠকে ঘটনার বিষয়টি বিএসএফ প্রথমে অস্বীকার করে। পরে বিজিবির পক্ষ থেকে ঘটনা ও আহতদের ছবি দেখালে বিএসএফের পক্ষে থেকে বলা হয় ঘটনা ঘটতেও পারে। তবে আগামীকাল (শনিবার) ঘটনাস্থল বিএসএফ পরিদর্শন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

অপর দিকে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (তাহিরপুর সার্কেল) মো. সাহিদুর রহমান, তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ ইফতেখার হোসেন প্রমুখ।




কোম্পানীগঞ্জে মোটরসাইকেল চালককে গুলি, আহত ২

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় মোটরসাইকেল চালকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে চালক গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন দুইজন।

আজ মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে কোম্পানীগঞ্জের পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের ঢালারপাড় ও গাছঘর গ্রামের মধ্যবর্তী মুলুক নগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের খায়েরগাঁও গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে মোটরসাইকেল চালক সাদ্দাম হোসেন (৩২) ও একই গ্রামের মৃত মতি মিয়ার ছেলে নজির মিয়া (৩৪)।

আহত সাদ্দাম হোসেনের স্বজন সাদেক মিয়া জানান, আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ও পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

আহত নজির জানান, তারা মোটরসাইকেলে যাত্রী বহন করেন। রাতে বাড়ি ফেরার পথে একদল লোক পথরোধ করে মোটরসাইকেল ডাকাতির চেষ্টা করে। বাধা দিলে তারা গুলি করে ও তাকে ছুরিকাঘাত করে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সুকান্ত চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গেছে। সড়ক ব‍্যবহার নিয়ে চালকদের মধ্যে ঝামেলা রয়েছে। সেই বিরোধ থেকে নাকি অন্য কারণে ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গুলি বর্ষণের সত‍্যতা জানার চেষ্টা চলছে।




সুন্দরবনে বাঘ গুনতে বসছে ক্যামেরা

বাঘ গুনতে সুন্দরবনে বসছে ক্যামেরা। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনে চারটি রেঞ্জের ৬৬৫ পয়েন্টে বসানো হচ্ছে দুটি করে ক্যামেরা। কোনো বাঘ, হরিণ, শূকর বা অন্য কোনো প্রাণী ক্যামেরার সামনে দিয়ে গেলে সেই ছবি ও ১০ সেকেন্ডের ভিডিও ধারণ হবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। বাঘশুমারির সব তথ্য প্রকাশ করা হবে আগামী বছরের জুনে।

সুন্দরবনের কালাবগি এলাকায় রোববার ট্র্যাপিং পদ্ধতিতে বাঘগণনার কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে গিয়ে বলেন, বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বাঘ সংরক্ষণ জরুরি। বাঘের সংখ্যা এবং বর্তমান অবস্থা জানার জন্য শুমারি হচ্ছে।

উদ্বোধনের পর সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের হলদিবুনিয়া এলাকা থেকে ক্যামেরা স্থাপন শুরু হয়। প্রথম ধাপে আগামী এপ্রিল পর্যন্ত সাতক্ষীরা ও শরণখোলা রেঞ্জে শুমারি করা হবে। এরপর নভেম্বর থেকে চার মাস শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে করা হবে শুমারি। মোট ৬৬৫টি গ্রিড বা পয়েন্টে ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। বনের গাছের সঙ্গে মাটি থেকে ৫০ সেন্টিমিটার ওপরে ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি পয়েন্টে দুটি করে ক্যামেরা থাকবে ৪০ দিন। ১৫ দিন পরপর ক্যামেরার ব্যাটারি ও মেমোরি কার্ড পরিবর্তন করা হবে।

বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্প পরিচালক ও সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা আবু নাসের মো. মোহসিন হোসেন জানান, গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে কালাবগি ফরেন ফাউন্ডেশনের আওতাধীন খালগুলোর দুই পাশে জরিপ করে বাঘের গতিবিধি ও পায়ের ছাপ লক্ষ্য করার কাজ চলছে। এই খাল সার্ভের মাধ্যমে বাঘের পাগমার্ক বা পায়ের ছাপ দেখা হবে গোটা সুন্দরবনে। ক্যামেরা ট্র্যাপিং ও খাল সার্ভের কাজ সম্পন্ন হলে সব তথ্য-উপাত্ত ঢাকায় বন বিভাগের রিসোর্স ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ইউনিটে পাঠানো হবে। সেখানে পর্যালোচনার পর ২০২৪ সালের জুনে বাঘশুমারির ফল ঘোষণা করা হবে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাঘের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ ও বাঘ সংরক্ষণের জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয় গত ২৩ মার্চ ‘সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। প্রকল্পের মোট ব্যয় ৩৫ কোটি ৯৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এর মধ্যে শুধু বাঘশুমারি খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ২১ লাখ টাকা। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত। শুমারির জন্য সম্প্রতি দুই কিস্তিতে এক কোটি ২১ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে বন বিভাগ।

প্রকল্প পরিচালক জানান, সুন্দরবনের অভয়ারণ্য ও অভয়ারণ্য এলাকার বাইরে শুমারি করা হবে। বনের কম লবণাক্ত, মধ্যম লবণাক্ত ও বেশি লবণাক্ত সব এলাকাই জরিপের আওতায় আসবে।

শুমারি দলে থাকা বাঘ গবেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এম এ আজিজ বলেন, ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের জন্য বাঘের সংখ্যা জানা খুবই জরুরি। জরিপে যদি দেখা যায় বাঘের সংখ্যা বেড়েছে, তাহলে বোঝা যাবে ব্যবস্থাপনা ভালো আছে। যদি দেখা যায় বাঘের সংখ্যা কমেছে, তাহলে বুঝতে হবে ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি আছে। তখন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তার ধারণা, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা এবার বাড়বে।

ক্যামেরা ট্র্যাপিং পদ্ধতিতে সুন্দরবনে বাঘশুমারি হচ্ছে তৃতীয়বারের মতো। এর আগে ২০১৫ ও ২০১৮ সালে একই পদ্ধতিতে বাঘগণনা করা হয়েছিল। ২০১৫ সালের আগে পায়ের ছাপ দেখে শুমারি করা হতো। ২০১৮ সালের জরিপ অনুযায়ী সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘ ছিল ১১৪টি। ২০১৫ সালে ছিল ১০৬টি।