খেজুরের কাঁচা রস খেয়ে ঢাকার হাসপাতালে একজনের মৃত্যু

 

খেজুরের কাঁচা রস খাওয়ায় নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। আজ রোববার রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরীন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, ওই ব্যক্তি একজন মধ্যবয়সী পুরুষ। রোগ তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তিনি খেজুরের কাঁচা রস খেয়েছিলেন। অধ্যাপক তাহমিনা শিরীন আরও জানান, নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এটা এ বছর প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। মারা যাওয়া ব্যক্তির বাড়ি মানিকগঞ্জে।

নিপাহ ভাইরাসের ঝুঁকি নিয়ে গত ১০ ডিসেম্বর আইইডিসিআর আয়োজিত এক সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশে ২০০১ সাল থেকে ওই সময় (গত ১০ ডিসেম্বর) পর্যন্ত ৩৩৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২৪০ জন রোগী মারা গেছেন। দেশে ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। সাধারণত খেজুরের কাঁচা রস পানের মাধ্যমে এই ভাইরাস সংক্রমিত হয়।
আইইডিসিআরের ওই সভায় আরও জানানো হয়, ২০২৩ সালে (১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসাব) নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ জন এবং তার মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ১০ জন। রোগী অনুপাতে মৃত্যুহার ৭১ দশমিক ৪২ শতাংশ। আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরীন সভাটিতে নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার এবং ঝুঁকিবিষয়ক একটি তথ্যনির্ভর উপস্থাপনা তুলে ধরেন। উপস্থাপনায় ওই অধ্যাপক জানান, নিপাহ ভাইরাস একটি মারাত্মক রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস। এ ভাইরাসের বাহক টেরোপাস (ফল আহারী) গোত্রীয় বাদুড়। বাদুড় থেকে মানুষে এই রোগের সংক্রমণ হয়। মানুষের মধ্যে এ সংক্রমণ প্রথম শনাক্ত হয় মালয়েশিয়ায় ১৯৯৮ সালে।
তাহমিনা শিরীন বলেন, বাংলাদেশে ২০০১ সালে মেহেরপুর জেলায় নিপাহ ভাইরাসের প্রথম প্রাদুর্ভাব চিহ্নিত হয়। এর পর থেকে প্রায় প্রতিবছরই বাংলাদেশে এই রোগের প্রাদুর্ভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। এই ভাইরাস থেকে দূরে থাকতে হলে খেজুরের কাঁচা রস পান থেকে বিরত থাকতে হবে



হাড় ও জোড়া লেগে যাওয়া রোগ “এ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস”

 

এ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস কী?

এ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস (এএস) হলো এক ধরনের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনক আর্থ্রাইটিস যা প্রাথমিকভাবে মেরুদন্ড এবং স্যাক্রোইলিয়াক (SI) জয়েন্টগুলিকে প্রভাবিত করে। এটি মেরুদন্ড চলমান একীকরন প্রক্রিয়া যার ফলে মেরুদ- শক্ত হয়ে যায় এবং অচলতা দেখা দেয়। এটি মেরুদন্ডকে কুঁজো করে দেয়। পাঁজর আক্রান্ত হলে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতেও অসুবিধা হতে পারে।
কাদের এ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস হতে পারে?
যে কারো এ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস হতে পারে, যদিও এটি মহিলাদের চেয়ে পুরুষদের বেশী হয়ে থাকে। এই রোগের উপসর্গ সাধারণত ১৭ থেকে ৪৫ বছর বয়সের মধ্যে দেখা যায়। এ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস একটি জেনেটিক রোগ যা পারিবারিক ভাবে হতে পারে।
লক্ষণ:
১. পিঠে ব্যথা এবং শক্ত হয়ে যাওয়া, যা সকালে ঘুম থেকে উঠার পর বেশি হয় এবং চলাফেরার সাথে সাথে
কমে আসে।
২. মেরুদ-ের গতিশীলতার প্রগতিশীল ক্ষতি, যার ফলে মেরুদন্ড শক্ত হয়ে যায়।
৩. স্যাক্রোইলিয়াক জয়েন্টের ব্যথা, পিঠের নিচের অংশে এবং নিতম্বে ব্যথা এবং শক্ত হয়ে যায়।
৫. এনথেসাইটিস, যা হাড়ের সাথে টেন্ডন বা লিগামেন্টের সংযুক্ত স্থানে প্রদাহ।
৬. ক্লান্তি এবং শারীরিক কার্যকলাপের মাত্রা হ্রাস।
৭. ইউভাইটিস বা চোখের মাঝখানের স্তরের প্রদাহ।
৮. সোরিয়াসিস
কারণ:
এ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিসের কোনো নির্দিষ্ট কারণ নেই, যদিও জেনেটিক কারণ জড়িত বলে মনে হয়। বিশেষ করে, যাদের HLA-B27 নামক জিন আছে তাদের এ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। যাইহোক, শুধুমাত্র জিনসহ কিছু মানুষের এই রোগের বিকাশ ঘটে।
রোগ নির্ণয়:
১. ইতিহাস
২. শারীরিক পরীক্ষা ইমেজিং স্ক্যান: ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং (এমআরআই) স্ক্যানগুলি সাধারণত এক্স-রের চেয়ে আগে মেরুদন্ড সমস্যা সনাক্ত করতে পারে।
৩. রক্ত পরীক্ষা: রক্ত পরীক্ষা HLA-B27  জিনের উপস্থিতি পরীক্ষা করতে পারে।
জটিলতা:
১. কশেরুকা জোড়া লেগে যাওয়া (এ্যাঙ্কাইলোসিস)।
২. কাইফোসিস (মেরুদ-ের সামনের বক্রতা)।
৩. অস্টিওপোরোসিস (হাড় ছিদ্র রোগ)।
৪. বেদনাদায়ক চোখের প্রদাহ (আইরাইটিস বা ইউভাইটিস) এবং আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা  (ফটোফোবিয়া)।
৫. হৃদরোগ, যার মধ্যে অ্যাওর্টাইটিস, অ্যারিথমিয়া এবং কার্ডিওমায়োপ্যাথি।
৬. বুকে ব্যথা যা শ্বাসকে প্রভাবিত করে।
৭. চোয়ালের প্রদাহ।
৮. কাউডা ইকুইনা সিন্ড্রোম
করনীয়:
চিকিৎসাঃ
*ঔষুধঃ
১. নন স্টেরয়েডাল বিরোধী প্রদাহজনক ওষুধ (NSAIDs)
২. রোগ পরিবর্তনকারী অ্যান্টি-রিউম্যাটিক ড্রাগস (DMRD)
৩. স্টেরয়েডাল থেরাপি।
সার্জারিঃ
এ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিসে আক্রান্ত অল্প সংখ্যক লোকের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। জয়েন্ট
রিপ্লেসমেন্ট সার্জারিতে একটি কৃত্রিম জয়েন্ট ইমপ্লান্ট করা হয়। কাইফোপ্লাস্টি করে বাঁকা মেরুদ- সংশোধন করা
হয়।
*ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন চিকিৎসাঃ
১. স্ট্রেচিং ব্যায়াম: মৃদু প্রসারিত ব্যায়াম মেরুদন্ডের গতিশীলতা বজায় রাখতে এবং শক্ত হওয়া রোধ করতে
সাহায্য করে।
২. শক্তিশালীকরণ (Strenthening) ব্যায়াম: মেরুদ-কে সমর্থনকারী পেশীগুলির জন্য লক্ষ্যযুক্ত
শক্তিশালীকরণ (Strenthening) ব্যায়াম দেহ ভঙ্গি উন্নত করতে এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
৩. অ্যারোবিক ব্যায়াম: সাইক্লিং, সাঁতারের মতো হালকা অ্যারোবিকস ব্যায়াম হার্টের ফিটনেস এবং সামগ্রিক
স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে বেশ কার্যকর।
৪. দেহভঙ্গির উন্নতি: সঠিক দেহভঙ্গি ব্যথা কমাতে সাহায্য করে এবং মেরুদ-ের জোড়া লেগে যাওয়া প্রতিরোধ
করতে পারে। একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক রোগীকে সঠিক দেহভঙ্গি এবং শরীরের মেকানিক্স শেখাতে
পারেন।
৫. চাপ এবং উদ্বেগ কমাতে শ্বাসের ব্যায়াম।
৭. ইলেকট্রোথেরাপি
৮. মেনুয়ালথেরাপি



শীতেও হতে পারে পানির ঘাটতি, দেখা দেয় যেসব লক্ষণ

শীতে পিপাসা কম পাওয়ার কারণে অনেকেই পানি কম খান। কিন্তু এতে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। শীতে শরীরে পানির অভাবে নানা রোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ নিউ হ্যাম্পশায়ারের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, শীতকালে পানিশূন্যতার সম্ভাবনা বেশি বাড়ে । যেহেতু এই মৌসুমি তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ পিপাসা অনুভব করে না, তাই পর্যাপ্ত পানি খেতেও ভুলে যায়। শীতকালে গরম পোশাক পরার কারণে শরীর আরও বেশি গরম হয়ে যায়। ঠান্ডা, শুষ্ক বাতাসে ঘাম আরও দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়, যার ফলে শরীরে পানিশূণ্যতা দেখা দেয়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, শরীরের ৩০ শতাংশ তরল এবং বাকি ৭০ শতাংশ অস্থি ও মজ্জা নিয়ে গঠিত। এই কারণেই বিশেষজ্ঞরা পানিকে জীবনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। মানুষ খাবার ছাড়া কিছু সময় বাঁচতে পারে কিন্তু পানি ছাড়া বেঁচে থাকা অসম্ভব। অর্থাৎ পানি ছাড়া জীবন কল্পনা করা যায় না।

সাধারণত সবাই পানিশূন্যতার সমস্যা খুব হালকাভাবে নেয়। এর ফলে অনেকেই অসুস্থ হয়ে যান। শরীরে পানিশূন্যতা হলে কয়েকটি উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন-

১. শরীরে পানির অভাব হলে ঠোঁট খুব শুষ্ক হয়ে যায় এবং ত্বক ফাটতে শুরু করে। অনেক সময় ঠোঁট থেকেও রক্ত বেরোতে দেখা দেয়।

২. পানির অভাবে গলা ক্রমাগত শুষ্ক থাকে এবং বারবার তৃষ্ণা লাগে । তখন বারবার পানি খেলেও পিপাসা দূর হয় না।

৩. শরীরে পানির অভাবের ফলে বুকে হালকা জ্বালাপোড়া, অ্যাসিডিটি বা পেটে অস্বস্তি পর্যন্ত হতে পারে। এর সঙ্গে সঙ্গে শ্বাসকষ্টে দুর্গন্ধ হয়। এমনকি ব্রাশ করার পরেও নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ অনুভব করতে পারেন।

এছাড়াও পানি কম খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য, অ্যাসিডিটির সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। শীতে ত্বকে শুষ্কতা বাড়তে থাকে এবং ত্বকের সমস্যা বাড়তে থাকে। পানির অভাবে শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের মাত্রা অনেক কমে যায়।




ত্বকে অক্সিজেন সরবরাহ ঠিক রাখবেন যেভাবে

ত্বক সুন্দর রাখতে কে না চায়? কিন্তু ত্বক সুস্থ এবং সুন্দর রাখাটাও বেশ ঝামেলার কাজ। বিশেষ করে যাদের প্রতিদিন বাড়ির বাইরে যেতে হয় বাইরের ধুলা, ধোঁয়া, দূষণে নাজেহাল অবস্থা হয় তাদের ত্বকের। এই পরিস্থিতিতে ত্বক হয়ে ওঠে নিষ্প্রাণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে ত্বকে সঠিকভাবে অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে না। সেজন্য ত্বকে নানা সমস্যা দেখা দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন,, ত্বকে যখনই কোনও সমস্যা দেখা দেবে, তখনই বুঝতে হবে, তাতে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়েছে। কোনও কারণে রোমকূপগুলি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এজন্য ত্বকে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এর জন্য মেনে চলতে হবে বেশ কিছু সহজ উপায়। যেমন-

১. ত্বকে অক্সিজেন সরবরাহ ঠিক রাখতে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে। তাহলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে। ত্বকে যদি প্রতিদিন প্রচুর ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করা হয় তাহলে সাময়িক হয়তো ত্বক হাইড্রেটেড লাগবে। কিন্তু ত্বক ভিতর থেকে জলীয়ভাব বজায় রাখতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেতে হবে।

২. ত্বকে যত কম মেকআপ ব্যবহার করা যায়, তত ভালো। কারণ, বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মেকআপ ব্যবহার করলে রোমকূপের মুখগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এতে ত্বকে অক্সিজেন চলাচল সঠিক থাকে না। আর যদিও মেকআপ করতে হয়, তাহলে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অবশ্যই মেকআপ তুলে ঘুমাতে যেতে হবে।

৩. ত্বক পরিস্কার পরিচ্ছ্বন্ন রাখতে হবে। নিয়মিত ক্লিনজিং, টোনিং, স্ক্রাবিং, ময়শ্চারাইজিং করতে হবে। হয়তো ব্যস্ত সময়ে বেশিক্ষণ পরিচর্যা করতে পারছেন না। কিন্তু অল্প সময় পেলেও ত্বক পরিস্কার রাখতে হবে।

৪. ত্বকে মরা কোষ জমে থেকে অক্সিজেন চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। এজন্য ত্বক পরিস্কার রাখা দরকার। নিয়মিত স্ক্রাবার ব্যবহার করতে হবে। তাহলে ত্বকের উপর জমে থাকা মরা কোষগুলো দূর হয়ে যায়।




শীতে সুস্থ রাখতে উপকারী যেসব ভেষজ চা

শীতে নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। এই সময় সর্দি, কাশি থেকে শুরু করে অনেকেই পেটের সমস্যায় ভোগেন। এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে খেতে পারেন তিন ধরনের ভেষজ চা। এসব চা শরীর ডিটক্স করতে, চুল ও ত্বকের সমস্যা দূর করতে উপকারী।

যেভাবে বানাবেন ভেষজ চা

১. একটি পাত্রে পানি নিন। তাতে আদার টুকরো ও জোয়ান দিয়ে সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে এটি গরম করে নিন। এর সঙ্গে চা পাতা মেশান। এবার ছেঁকে নিয়ে তাতে ভালোভাবে লেবুর রস মেশান। এই চা গরম গরম পান করলে উপকার মিলবে।

২. দারুচিনি, লবঙ্গ ও গ্রিন টি দিয়ে বানিয়ে নিন চা। একটি পাত্রে পানি নিন। এবার তা ফুটতে শুরু করলে দারুচিনি ও লবঙ্গ দিন। ফুটে গেলে তা ছেঁকে নামিয়ে নিন। এবার তাতে গ্রিন টি-র ব্যাগ ডুবিয়ে দিন। প্রতিদিন এই চা খেলে মিলবে উপকার।

৩. আমলকী ও আদার চা বানাতে পারেন। এর জন্য আদার গুঁড়া (১ চা চামচ), আমলকীর গুঁড়া (১ চা চামচ), লবণ পরিমাণ মতো, মধু (১ চা চামচ) লাগবে। পাত্রে পানি নিন। পানি গরম হলে তাতে আদা ও আমলকীর গুঁড়া দিন। সামান্য লবণ দিন। ভালো করে ফুটিয়ে নিন। এবার তা নামিয়ে মধু মিশিয়ে নিন। প্রতিদিন খেতে পারেন এই চা।




শীতে আলসেমি ছাড়ছে না? শক্তি বাড়াতে খাবেন যেসব খাবার

শীতে কমবেশি সবারই বিছানা ছাড়তে আলসেমি লাগে। কারও কারও গোসল করা থেকে শুরু করে অন্যান্য কাজেও আলসেমিতে পেয়ে বসে। এই পরিস্থিতি থেকে রেহাই দিতে পারে কিছু খাবার।

কিছু খাবার রয়েছে যা খেলে শীতকালে তাৎক্ষণিক শক্তি পাওয়া যায়। এসব খাবার পুরো শীতকালে শক্তি বাড়াতে কাজ করে। যেমন-

বাদাম : শীতে বাদাম খুব ভালো বিকল্প হতে পারে। ক্ষুধার্ত থাকলে এবং শক্তির প্রয়োজন হলে বাদাম খেতে পারেন। বাদাম, আখরোট এবং পেস্তা সাধারণত সব বাড়িতে সহজেই পাওয়া যায়। এর মধ্যে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড এবং প্রোটিন শক্তি বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

খেজুর মিল্কশেক : খেজুরে থাকা ভিটামিন, প্রাকৃতিক শর্করা যেমন গ্লুকোজ, সুক্রোজ এবং ফ্রুক্টোজ শক্তি যোগাতে সাহায্য করে।

মৌসুমি ফল : শীতকালে সবুজ শাকসবজির পাশাপাশি এমন অনেক ফলও পাওয়া যায় যেগুলো খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এর মধ্যে কমলা, স্ট্রবেরি, পেয়ারা, আঙুর উল্লেখযোগ্য।

ডিম : শীতকালে প্রতিদিন একটি করে ডিম খাওয়া উপকারী হতে পারে। ডিমে প্রোটিনের পাশাপাশি ভিটামিন ডি-ও থাকে। এসব উপাদান তাৎক্ষণিক শক্তি দিতে পারে।

মিষ্টি আলু : মিষ্টি আলু পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি খাবার। ১০০ গ্রাম মিষ্টি আলুতে ৯০ ক্যালোরি এবং ২৪ গ্রাম স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট রয়েছে।

মেথি : শীতে মেথি খাওয়া খুবই উপকারী। মেথি বীজ, ময়দা, বাদাম এবং কিছু মসলা দিয়ে মেথি বেক তৈরি করতে পারেন। এই মিশ্রণ শক্তি বাড়াতে সাহায্য করবে।




দেহের টক্সিন দূর করবে ৩ ‘ডিটক্স’

সৌন্দর্য ধরে রাখতে ও ওজন কমাতে ব্যায়াম ও পুষ্টিকর ডায়েটের তুলনা নেই। শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য শরীর টক্সিনমুক্ত রাখতে হবে।

প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি ডিটক্স ওয়াটার হজমে সাহায্য করে এবং শরীর থেকে দ্রুত চর্বি দূর করে। এছাড়া শরীর থেকে টক্সিন তথা বিষাক্ত পদার্থ দূর করে। আসুন দেহের ক্ষতিকর টক্সিন দূর করার তিন উপায় জেনে নিন।

লেবু এবং আদা: লেবু এবং আদা দিয়ে তৈরি এই ডিটক্স ওয়াটার পান করতে হবে প্রতিদিন সকালে, খালি পেটে। এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে অর্ধেকটা লেবুর রস এবং ১ ইঞ্চি পরিমাণ আদা কুচি যোগ করুন। এরপর এই পানিটুকু পান করুন। নিয়ম করে ১-২ মাস পান করলে দারুণ ফলাফল পাবেন।

দারুচিনি: দারুচিনির স্বাদ ও সুবাস দিয়ে তৈরি ডিটক্স ওয়াটার যেমন সুস্বাদু, তেমনই উপকার। চর্বি ঝরাতে এবং মেটাবলিজম বাড়াতে তা কার্যকরী। বিশেষ করে মেদহীন পেট পেতে হলে দারুচিনির জুড়ি নেই।

এক লিটার পানিতে এক টেবিলচামচ দারুচিনি গুঁড়ো বা কয়েক টুকরো দারুচিনি দিয়ে রাখুন। যত বেশি সময় রাখবেন, তত ভালো উপকারিতা পাবেন। এর সাথে আপেলের টুকরো, মধু বা গ্রিন টি যোগ করতে পারেন। এই ডিটক্স ওয়াটার অবশ্য সকালে নয়, পান করতে হবে ঘুমানোর আগে।

শসা এবং পুদিনা: এই ডিটক্স ওয়াটার খুবই জনপ্রিয়। তা স্বাস্থ্যকর হবার পাশাপাশি খুবই সুস্বাদুও বটে। একটি পাত্রে পানির সাথে স্লাইস করে দিন একটি শসা এবং এক মুঠো পুদিনাপাতা। ২-৩ ঘণ্টা পর তা পান করুন। দিনে কয়েকবার করে পান করতে পারেন।




করোনায় মৃত্যু নেই: শনাক্ত আরও ১৯ জন

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণে কমার ধারা অব্যাহত আছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৯ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষা বিবেচনায় এদিনে শনাক্তের হার দশমিক ৭৫ শতাংশ। তবে এ সময় নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

আজ মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৮৮৩টি করোনা পরীক্ষাগারে মোট দুই হাজার ৫৩৪টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয় মোট দুই হাজার ৫৩৬টি নমুনা। পরীক্ষায় আরও ১৯ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। ফলে দেশে মোট করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৩৬ হাজার ৯৬৭ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে শতকরা দশমিক ৭৫ ভাগ। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৪৫ ভাগ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৫৪ ভাগ। এছাড়া শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ৪৫ ভাগ।

২০১৯ এর ডিসেম্বরে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস সময়ের ব্যবধানে পৃথিবীজুড়ে মহামারিতে রূপ নেয়। বাংলাদেশে প্রথম করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ। এর ১০ দিনের মাথায় ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে করোনায় প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। গত বছরের ৫ ও ১০ আগস্ট দুদিন সর্বাধিক ২৬৪ জন করে মারা যান।




সকালে খালি পেটে পানি পান করার ৭ উপকারিতা

বলা হয়, পানির অপর নাম জীবন। আর এই কথাটিতেই বোঝা যায় যে, পানি আমাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের শরীরের ৭০ শতাংশই গঠিত হয় পানি দিয়ে। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের স্বাভাবিক ও মসৃণ কার্যকারিতার জন্য পানি অপরিহার্য।

আমাদের সুস্থতার জন্য নিয়মিত অন্তত দুই লিটার পানি পান করা উচিত। এটি আমাদের শরীরে অনেকটা প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে কাজ করে। বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে এবং শরীরকে হাইড্রেট রাখতে পানির গুরুত্ব অতুলনীয়।

জেনে অবাক হবেন, পানির সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায় সকালে খালি পেটে পান করলে। আসুন জেনে নিই সকালে খালি পেটে পানি পান করলে পাওয়া যাবে যে সাত স্বাস্থ্য উপকারিতা—

১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে
শরীরের তরল ভারসাম্য বজায় রাখতে পানি প্রয়োজনীয়। আর নিয়মিত সকালে খালি পেটে পানি পান করলে সেটি আমাদের ইমিউন সিস্টেমের অনেক উপকার করে। এর ফলে বিভিন্ন সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

২. বিপাক ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করে
সকালে খালি পেটে পানি পান করলে সেটি বিপাকীয় হারকে প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে থাকে। এর ফলে খাবার দ্রুত হজমে এবং দীর্ঘমেয়াদে ওজন কমাতে সহায়তা করে।

৩. শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে
সকালে খালি পেটে পানি পানের মাধ্যমে আমাদের শরীর থেকে টক্সিন বের হয়ে যায়। কারণ প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে তরল আকারে বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায়। আর সকালে খালি পেটে পানি পান করলে তা আরও ভালোভাবে হয়ে থাকে।

৪. অন্ত্র পরিষ্কার করতে সহায়তা করে
খালি পেটে পানি পান করলে সেটি আমাদের পরিপাকতন্ত্র নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এ জন্য প্রচুর পরিমাণে পানি পান করলে আমরা মলত্যাগের তাগিদ অনুভব করে খাকি। এর ফলে সকালে খালি পেটে পানি পান করলে তা আমাদের অন্ত্র পরিষ্কার করতে সহায়তা করে।

৫. ওজন কমাতে উপকারী
বেশি বেশি পানি পান করলে সেটি আপনাকে দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে। কারণ এতে কোনো ক্যালোরি নেই, আর ঘন ঘন পানি পান করলে তা পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। আর সকালে খালি পেটে পানি পান করলে সেটি আমাদের বিপাককে দ্রুত করতে সাহায্য করে। এর ফলে ক্যালোরিও দ্রুত বার্ন হয়ে ওজন কমাতে সহায়তা করে।

৬. কোলন পরিষ্কারে সহায়তা করে
সকালে খালি পেটে পানি পান করলে সেটি জমে থাকা স্লাজ থেকে আরও ভালোভাবে মুক্তি দিতে এবং পুষ্টির দ্রুত শোষণকে সক্ষম করতে সহায়তা করে। এর ফলে কোলন স্বাস্থ্য ভালো হয়।

৭. মাইগ্রেনের সমস্যা প্রতিরোধ করে
মাইগ্রেন বা ঘন ঘন মাথাব্যথা সমস্যা প্রাথমিক কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম
হচ্ছে শরীরে তরলের অভাব বা ডিহাইড্রেশন। আর সকালে খালি পেটে পানি পান করলে সেটি প্রাকৃতিকভাবেই এ সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করতে পারে।




ফ্রিজে যেসব খাবার রাখলে দ্রুত নষ্ট হয়

মাছ-মাংস, শাক-সবজি প্রাকৃতিক পরিবেশ রাখলে দ্রুত পচন ধরে। তাই এসব খাবার ফ্রিজে রেখে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু সব খাবার ফ্রিজে রাখা উচিত নয়। কিছু কিছু খাবার আছে যেগুলো ফ্রিজে রাখলে দ্রুত নষ্ট হয়। বরং কক্ষ তাপমাত্রায়ই এগুলো ভালো থাকে। এমনই কয়েকটি খাবার সম্পর্কে জানুন।

কলা

ফ্রিজে রাখার চেয়ে ঘরের তাপমাত্রায় কলা দীর্ঘদিন ভালো থাকে। কারণ ঘরের তাপমাত্রায় কলা পাকে ভালো। পচন ধরে দেরিতে।

কফি ফ্রিজে রাখলে তার মধ্যে আপনি অন্যান্য দ্রব্যের গন্ধ পেতে পারেন। তাই কফি সূর্যালোক থেকে দূরে একটি সিলড কন্টেনারে রাখা ভালো।

টমেটো

টমেটো ফ্রিজে রাখলে ঠান্ডায় এর স্বাদ নষ্ট হয়। পচনও ধরে তাড়াতাড়ি।

মধু

মধু কখনও ফ্রিজে রাখবেন না। এয়ারটাইট কন্টেনারে বাইরে রাখুন।

পাঁউরুটি

পাঁউরুটিও ফ্রিজের থেকে ঘরের তাপমাত্রায় ভালো থাকে।

তেল

নারকেল, অলিভসহ বিভিন্ন রান্নার তেল ফ্রিজে রাখতে তাড়াতাড়ি তাতে ছত্রাক জন্মায়। তাই বাইরে রাখুন।

পেঁয়াজ

কাটা পেঁয়াজ ফ্রিজে রাখলে তার গন্ধ সবেতে হয়। তাই পেঁয়াজ খোসাসহ বাইরে রাখুন।

আলু

আদা

আলুর মত আদাও বাইরে রাখুন। তাতেই ভালো থাকবে।