কদবেল কেন খাবেন?

বাজারে এখন কদবেল পাওয়া যাচ্ছে। টক স্বাদের ফলটি এমনিতেই আয়েশ করে খাওয়া যায়। আবার কদবেল দিয়ে জ্যাম কিংবা চাটনিও তৈরি করা যায়। সময়টা যখন কদবেলের তখন কেন খাবেন এই মৌসুমী ফল? কারণ কদবেল খেলে একাধিক শারীরিক উপকারিতা মিলবে। চলুন জেনে নেই:




ডেঙ্গু জ্বর : যে লক্ষণ দেখলে দ্রুত হাসপাতালে যাবেন

বর্তমানে ডেঙ্গু প্রোকোপ বেড়েছে। হাসপাতালেও রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ডেঙ্গুর চিকিৎসা বাড়িতেও দেওয়া যায়। অনেকেই টের পান না তারা যে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। আবার ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন কিন্তু এরপরও হাসপাতালে ভর্তি হননি। কারণ লক্ষণ মৃদু। তবে কিছু ক্ষেত্রে বিপদ হয়ে যেতে পারে। তাই কখন হাসপাতালে নিতে হবে সেটি জেনে নিন।

ডেঙ্গুর জ্বরের লক্ষণসমূহ:

১) জ্বর

২) মাথা ব্যথা

৩) হাত-পা সহ সারা শরীরে ব্যথা

৪) চোখের পিছনে ব্যথা, চোখ লাল হয়ে যাওয়া

২) বমি বা বমি ভাব, খাবারে অরুচি

৩) গায়ে লাল র‌্যাশ ওঠা

৪)  চুলকানি বা ডায়েরিয়া শুরু হওয়া

৪) দাঁতের মাড়ি, নাক দিয়ে অথবা মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়া

৫) গলাব্যথা বা ঢোক গিলতে কষ্ট

বিশেষজ্ঞদের মতে এই জ্বরে রোগীকে বাড়িতে রেখে সেবা দেওয়া যেতে পারে। তবে রোগী যেন বেশি বেশি তরল খাবার খায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ডেঙ্গু জ্বরে, জ্বর ছেড়ে যাওয়ার পরের সময়টাই আসল। এই সময় প্লাটিলেট কমতে শুরু করে। তাই ডেঙ্গু ধরা পরার সাথে সাথে রক্তের প্লাটিলেট নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। জ্বর আসলে বেশি দেরি না করে ডেঙ্গু পরীক্ষা করে ফেলা উচিত। অনেক বেশি দেরি করে রোগীকে হাসপাতালে নেবার কারণে রোগী শকে চলে যেতে পারে। এমন কী মৃত্যুর ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

বাড়িতে যদি রোগীকে চিকিৎসা দেন তাহলে, কিছু লক্ষণ দেখা দিলেই রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

১) পেটে ব্যথা।

২) পায়খানা বা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তপাত।

৩) শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তক্ষরণ হলে, যেমন মাড়ি ও নাক থেক রক্তপাত।

৩) প্রস্রাব এর পরিমাণ কমে যাওয়া।

৪) শ্বাসকষ্ট।

৫) ত্বকে লাল লাল র‍্যাশ।

৬) ডেঙ্গু শক সিনড্রোম থেকে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়। পাল্‌স রেট বেড়ে যায় এবং রক্তচাপ খুব কমে যায়। শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়। শ্বাসপ্রশ্বাস খুব দ্রুত চলে। রোগী অস্থির হয়ে ওঠেন। তখন সময় নষ্ট না করে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।




একদিনে মৃত্যু ১১৬০, শনাক্ত ৩ লাখ

মানবজাতিকে হুমকির মুখে ফেলা মহামারি করোনাভাইরাস এখন অনেকটাই কমে এসেছে। বিশ্বজুড়ে এর অস্তিত্ব এখন আর মানুষকে আতঙ্ক তৈরি করছে না।

গত একদিনে বিশ্বে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩ লাখ ৮ হাজার ৩৭ জনের। মৃত্যু হয়েছে ১১৬০ জনের। এই সময়ে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৩ লাখ ৯৪ হাজারের বেশি মানুষ।

করোনাভাইরাসের লাইভ আপডেট দেয়া ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যমতে, শনিবার সকাল পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ৮ হাজারের বেশি মানুষ।

মৃত্যু হয়েছে ৬৫ লাখ ৯২ হাজার ২৪৩ জনের। অদৃশ্য ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়েছেন ৬১ কোটি ৩৯ লাখ ৬৬ হাজার ৭৫২ জন।

২০১৯ সালের শেষ দিকে শুরু হওয়া এই মহামারিতে হতাহতের দিক দিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট ৯ কোটি ৯৩ লাখ ৩১ হাজারের বেশি জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১০ লাখ ৯৫ হাজার ১৬৬ জনের। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারতে এখন পর্যন্ত ৪ কোটি ৪৬ লাখ ৪৯ হাজার ৯৮৩ জনের করোনা শনাক্ত এবং ৫ লাখ ২৮ হাজার ৯৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

তৃতীয় স্থানে থাকা ফ্রান্সে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩ কোটি ৬৭ লাখ ৭০ হাজার ৪৩৮ জনের। মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৩২ জনের। এছাড়া করোনাভাইরাসে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে এমন দেশের তালিকায় চতুর্থ স্থানে ব্রাজিল, পঞ্চম জার্মানি এবং ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।




ঘাড় ব্যথা দূর করবেন যেভাবে

শোভন আজকাল প্রায়ই ঘাড়ের ব্যথায় ভোগেন। চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি জানান, এটা সার্ভিকাল স্পনডাইলোসিসের কারণে হয়।

শোভন চিকিৎষককে জানান, সারাদিন অফিসের বাইরে তিনি কিছুই করেন না। তার এ রোগের কারণ জানা গেলো, একনাগাড়ে অনেক সময় ধরে কম্পিউটারে কাজ করার ফলে তার এ সমস্যা হয়েছে। আমাদের অনেকেই এ সমস্যাতে ভুগছি।

  • সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিস 
    বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঘাড় ব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ হল সার্ভিকাল স্পনডাইলোসিস। মেরুদণ্ডের ক্ষয় রোগ হলো স্পন্ডাইলোসিস আর মেরুদন্ডের ঘাড়ের অংশের ক্ষয়কে বলে সার্ভিকাল স্পন্ডাইলোসিস। আমাদের মেরুদণ্ড গঠিত হয় হাড়, মাংশপেশী, হাড়ের জোড়া ইত্যাদি নিয়ে।
  • সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিসের কারণ
    বয়স বাড়ার রোগ এটি। স্পন্ডাইলোসিসের পরিবর্তন শুরু হয় ৪০ বছর বয়সের পর থেকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর আগেও শুরু হয় হাড়ের ক্ষয়।
    আনুপাতিক হার পুরুষ বা নারী রোগীদের মধ্যে প্রায় সমান সমান।

    যে পেশার মানুষের বেশি হয়
    ঘাড় সামনে ঝুকিয়ে কাজ করতে হয় এমন সব পেশার মানুষদের এ রোগটি বেশি দেখা যায়। যেমন- শুধুমাত্র চেয়ার টেবিলে বসে কাজ করে এমন এক্সিকিউটিভ, কম্পিউটারে একনাগাড়ে কাজ ইত্যাদি।

ঘাড়ের আঘাতের জন্যও অনেক সময় হাড় ক্ষয় দেখা দেয়।

উপসর্গ
ঘাড়ের ব্যথা অনেক সময় কাঁধ থেকে ওপরের পিঠে, বুকে, মাথার পেছনে বা হাত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ঘাড় থেকে হাতে নেমে আসা স্নায়ু বা নার্ভের ওপর চাপ পড়লে পুরো হাতেই ব্যাথা হতে পারে।

হাত পায়ে দুর্বলতা, হাঁটতে অসুবিধা হতে পারে।

ঘাড় নাড়াতে গেলে ব্যথা লাগে। ডানে বায়ে ঘাড় ঘুরাতে সমস্যা হবে। ঘাড়ে স্থবিরতা লাগে বা জ্যাম মেরে ধরে থাকে।

ব্যথার সঙ্গে হাতে, বাহুতে ঝিন ঝ্নি, সির সির্, অবশ ভাব, সূচ ফোটানোর অনুভূতি সঙ্গে হাত দিয়ে কাজ করতে অসুবিধা।

এমন ব্যথা হলে ঘাড়ের এম আর আই, ইলেক্ট্রোমায়োগ্রাফি পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ শনাক্ত করা হয়।

এবার চিকিৎসা
ওষুধের পাশাপাশি এক্ষেত্রে ঘাড়ের বিভিন্ন ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ঘাড় ব্যথা যেন না হয় এজন্য যা করতে হবে:
•    শক্ত সমান বিছানায় এক বালিশে চিত হয়ে ঘুমাতে হবে।
•    ঘুমানোর সময় ঘাড়ের নিচে বালিশ দিতে হবে।
•    দরকার হলে বালিশ নিচে টেনে নামিয়ে ঘাড়ের নিচে নেবেন।
•    ঘাড় সামনে ঝুঁকে বেশিক্ষণ কাজ করা যাবে না।
•    ব্যথা বেশি হলে ঘাড়ে হালকা গরম সেক দিতে পারেন।
•    এ সময় ঘাড়ের ব্যয়াম বেশ আরাম দেবে।
•    সার্ভিক্যাল কলার ব্যবহার করা হবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে।




বিশ্ব করোনা : আক্রান্ত সাড়ে ৩ লাখ, মৃত্যু ১ হাজারের বেশি

বিশ্বে করোনায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৪৪ হাজার ২১৮ জন এবং এ রোগে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ১২৬ জনের। একই সময়ে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৪৮০ জন। করোনায় আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হালনাগাদ সংখ্যা প্রকাশকারী ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার্স থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

শুক্রবার করোনায় দৈনিক আক্রান্ত ও মৃত্যুতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে শীর্ষে ছিল জার্মানি। দেশটিতে এ দিন করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৭৪ হাজার ৮৩১ জন এবং করোনা জনিত অসুস্থতায় মৃত্যু হয়েছে ২০৪ জনের।

জার্মানি ব্যতীত আরও যেসব দেশে শুক্রবার সংক্রমণ-মৃত্যুর উচ্চহার দেখা গেছে, সেসব দেশ হলো— যুক্তরাষ্ট্র (মৃত্যু ১৮০ জন, নতুন আক্রান্ত ১৮ হাজার ৮৫২ জন), রাশিয়া (মৃত্যু ৯৩ জন, নতুন আক্রান্ত ৯ হাজার ৭৬১ জন), ইতালি (মৃত্যু ৯৮ জন, নতুন আক্রান্ত ৩৬ হাজার ১১৪ জন), ফ্রান্স  (মৃত্যু ৮১ জন, নতুন আক্রান্ত ৪৯ হাজার ৮৭ জন),  তাইওয়ান (মৃত্যু ৭৮ জন, নতুন আক্রান্ত ৩৭ হাজার ২৬৫ জন), জাপান (মৃত্যু  ৬৮ জন,নতুন আক্রান্ত ৩১ হাজার ৫৯৩ জন)।বিশ্বে বর্তমানে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৪৬ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫৪ জন। এ রোগীদের মধ্যে করোনার মৃদু উপসর্গ বহন করছেন ১ কোটি ৪৬ লাখ ৫১ হাজার ১৩৯ জন এবং গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন ৩৮ হাজার ৬১৫ জন।




বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণ ছাড়াল ৬৩ কোটি

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বজুড়ে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। তবে একই সময়ে কমেছে নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাবিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন সাত শতাধিক মানুষ। একইসময়ে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্ত হন প্রায় দেড় লাখ মানুষ।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবাল সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭৪৩ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে সাড়ে তিন শর মতো।

এতে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৬৫ লাখ ৭২ হাজার ৫১৫ জনে।একই সময়ে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৩৭ জনের শরীরে। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৭৮ হাজার। নতুনদের নিয়ে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত ভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ কোটি ১ লাখ ১১ হাজার ৪ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটে তাইওয়ানে। দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২৮ হাজার ৮৪৭ জন। এ নিয়ে মহামারির শুরু থেকে এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৭২ লাখ ১২ হাজার ৭৩৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১১ লাখ ৯৬১ জন মারা গেছেন।

দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় শীর্ষ তালিকায় রয়েছে ফ্রান্স। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে ১১২ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯৮০ জনে। এছাড়া নতুন করে ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়েছেন ৯ হাজার ৪২১ জন। তাদের নিয়ে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩ কোটি ৬২ লাখ ৬৮ হাজার ২৮ জন।




পেঁপেঁ খাওয়া বিপজ্জনক যাদের জন্য

দেশি বিভিন্ন ফলের উপকারিতা অনেক। এসব ফলকে পুষ্টির ভাণ্ডারও বলা হয়। পরিচিত ফলগুলোর মধ্যে একটি হলো পেঁপে।

এটি যেমন সুস্বাদু, তেমনই পুষ্টিকর। পেঁপেতে থাকে ভিটামিন, ফাইবার এবং খনিজ। ফলটি প্রায় সারাবছরই পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেঁপে খেলে দূরে থাকে ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, হৃদরোগের মতো রোগ।

এদিকে উপকারী ফল পেঁপে কারও কারও জন্য ক্ষতিকর। না জেনে খেলে হয়তো উপকারের বদলে ক্ষতিই হবে বেশি। তাই পেঁপে খাওয়ার আগে জেনে রাখা জরুরি, কাদের ক্ষেত্রে এটি ক্ষতিকর। চলুন তবে জেনে নিন-

শিশুর জন্য ক্ষতিকর:
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর বয়স যদি এক বছরের কম হয় তাহলে তাকে পেঁপে খেতে দেওয়া যাবে না। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এই বয়সী শিশু সাধারণত কম পানি খায়। তাই পর্যাপ্ত পানি ছাড়া উচ্চ ফাইবারযুক্ত পেঁপে খেতে দিলে শিশুর মলত্যাগে সমস্যা হতে পারে। শিশু ভুগতে পারে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায়। তাই এই বয়সী শিশুকে রান্না করা বা কাঁচা পেঁপে কোনোটাই খেতে দেওয়া উচিত নয়।

গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে:
পুষ্টিকর পেঁপে গর্ভবতী নারীর জন্য ক্ষতিকর। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর বীজ, শেকড় ও পাতা ভ্রূণের ক্ষতি করতে পারে। অপরদিকে কাঁচা পেঁপে জরায়ুর সংকোচনের কারণ হতে পারে। পেঁপেতে থাকা পেপাইন শরীরের ঝিল্লি ক্ষতিগ্রস্থ করে, যা ভ্রূণের বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই ফল শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। যা গর্ভবতী নারীর জন্য উপকারী নয়।

শ্বাসকষ্ট থাকলে:
যাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে তারা পেঁপে খাওয়া এড়িয়ে চলবেন। কারণ এই ফলের মধ্যে অ্যালার্জেন থাকে। পেঁপে খাওয়ার কারণে শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়তে পারে। হাঁপানির রোগীদের ক্ষেত্রে এই ফল বেশি খাওয়া চলবে না। আপনার যদি শ্বাসকষ্ট থাকে তবে পেঁপে খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাবেন।

কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে:
কোষ্ঠকাঠিন্য এখন পরিচিত একটি সমস্যা। খাদ্যাভ্যাসের ভুলের কারণে অনেকেই এই সমস্যায় ভুগে থাকেন। অনেকে মনে করেন, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় পেঁপে খাওয়া উপকারী। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ফলে থাকা ফাইবার হজমে ব্যাঘ্যাত ঘটাতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পেঁপে বেশি খেলে পেট ফোলা, পেট ফাঁপা এবং বমি বমি ভাব হতে পারে। পেঁপের বীজ শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এতে থাকা টক্সিক এনজাইম কারপাইন মস্তিষ্কে অসাড়তা তৈরি করে। ফলে ডিপ্রেশনের মতো সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

স্বাস্থ্য পরামর্শ




করোনায় আরও ১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৩৮৯

করোনাভাইরাসের আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৪০২ জনে। এ সময় আরও ৩৮৯ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়।

সোমবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৮৮২টি করোনা পরীক্ষাগারে মোট পাঁচ হাজার ৬৪১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয় মোট পাঁচ হাজার ৬২৫টি নমুনা। পরীক্ষায় আরও ৩৮৯ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। ফলে দেশে মোট করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৩২ হাজার ৮৩২ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে শতকরা ৬ দশমিক ৯২ ভাগ।

এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৬০ ভাগ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ১৫ ভাগ। এছাড়া শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ৪৫ ভাগ।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হন ৬৪৪ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৯ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫২ জনে।




১ ডিমে রয়েছে ১২ উপকারিতা

স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি একটি খাদ্য ডিম। অনেকে অবশ্য ওজন বেড়ে যাওয়া কিংবা হৃদরোগের আশঙ্কায় রোজ ডিম খেতে ভয় পান। পুষ্টিবিদরা বলেন, প্রতিদিন সকালের নাশতায় একটি করে ডিম খেলে নানা শারীরিক সমস্যার সমাধান হতে পারে। তবে কীভাবে ডিম খাচ্ছেন সেটি গুরুত্বপূর্ণ।

ক্যালোরির হিসাব করে অনেকে ডিমের কুসুম খান না। তবে পুষ্টিবিদরা জানাচ্ছেন, একজন সুস্থ ব্যক্তি দৈনিক দুটি ডিম কুসুমসহ খেতে পারেন। এর বেশি খেলে সাদা অংশ খেতে হবে।

ডিম যত ভাজা হয় তার পুষ্টি তত নষ্ট হয়ে যায়। সবচে ভালো হয় যদি সেদ্ধ করে ডিম খান। পোচ বা হাফ বয়েল খেতে পারেন। সপ্তাহে একদিন ডিমের অমলেট খেতে পারেন।

ডিমের নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। এমন কিছু উপকারিতা সম্পর্কে চলুন জেনে নিই-

শক্তি মেলে 

ডিম খেলে দ্রুত শক্তি পাওয়া যায়। এতে থাকা ভিটামিন বি থেকেই মূলত এই শক্তি মেলে। প্রতিদিন সকালে একটি সেদ্ধ ডিম খেলে সারাদিন ক্লান্তিহীন থাকবেন।

ক্যানসারের সম্ভাবনা কমায় 

ডিমে থাকা ভিটামিন ই কোষ ও ত্বকে থাকা ফ্রি র‍্যাডিকেল ধ্বংস করে। তাই ক্যানসারের ঝুঁকি কমে। পাশাপাশি নতুন কোষ তৈরিতেও সাহায্য করে। নিয়মিত ডিম খেলে ব্রেস্ট ক্যানসারের সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।

পেশী মজবুত করে 

অনেকেই পেশী ব্যথায় ভোগেন। ডিমে থাকা ভিটামিন ডি পেশী মজবুত করে। নিয়মিত যারা ব্যায়াম করেন তাদেরকে বিশেষজ্ঞরা ডিম খেতে বলেন।

দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়

ডিমে রয়েছে ভিটামিন এ। এটি দৃষ্টিশক্তিকে উন্নত করে। এছাড়া ডিমের কেরোটিনয়েড আর ল্যুটেন বয়স্ক ব্যক্তিদের ম্যাকুলার ডিজেনারেশন হওয়ার আশঙ্কা কমায়।

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায় 

সমীক্ষা অনুযায়ী, ডিম খেলে হার্টে রক্ত জমাট বাঁধে না। তাই হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। পাশাপাশি এটি সারা শরীরেই রক্ত চলাচল সচল রাখতে সাহায্য করে

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে 

অনেকের মধ্যেই ভ্রান্ত ধারণা আছে, ডিম কোলেস্টেরল বাড়ায়। এটি একদমই ভুল। বরং ডিম কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ডিমে থাকা ওমেগা ৩ এই কাজটি করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, ডিম এইচডিএল বা ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ায়।

লিভার ও স্নায়ু সুরক্ষিত রাখে 

দেহের সার্বিক সুস্থতায় কোলাইন খুবই প্রয়োজন। কোলাইনের ঘাটতি হলে লিভারের নানা সমস্যা বা নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার হয়। একটি ডিমে প্রায় ৩০০-৩৫০ মাইক্রোগ্রাম কোলাইন থাকে। তাই ডিম খেলে লিভার ও স্নায়ু ভালো থাকে।

প্রোটিনের ঘাটতি মেটায় 

প্রোটিনের মূল উৎস হলো অ্যামিনো অ্যাসিড। প্রোটিন তৈরিতে প্রায় ২১ ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড লাগে। এর ৯টি শরীরে তৈরি হয় না। তাই বাইরে থেকে প্রোটিন গ্রহণ করতে হয়। ডিমে এই অ্যামাইনো অ্যাসিড মেলে।

নখ মজবুত করে

অনেকেই নখ ভেঙ্গে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন। নখ মজবুত করে সালফার। ডিম হলো সালফারের উৎস। নখকে সুন্দর ও সাদা রাখতেও সাহায্য করে এটি।

অ্যানিমিয়া রোধ করে 

নারী ও শিশুরা অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতায় বেশি ভোগে। শরীরে পর্যাপ্ত আয়রন থাকলে অ্যানিমিয়া হয় না। ডিমে রয়েছে আয়রন। তাই নিয়মিত ডিম খেলে রক্তাল্পতার সমস্যার সমাধান হয়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় 

দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ডিম দুর্দান্ত কার্যকরী। ঘন ঘন সর্দি-কাশি বা জ্বরে ভুগলে রোজ ডিম খান। এতে থাকা জিংক দেহের ইমিউনিটি সিস্টেমকে অনেকটাই শক্তিশালী করে।

হাড় ও দাঁতে মজবুত করে 

হাড় মজবুত করে ফসফরাস। এই উপাদানটি আবার দাঁতও মজবুত করতে সাহায্য করে। ডিমে ফসফরাস রয়েছে। তাই হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে ডিম খান প্রতিদিন।

এছাড়ায় ডিম ওজন কমাতে সাহায্য সাহায্য করে। রক্তের লোহিত রক্তকণিকা বৃদ্ধিতেও উপকারি ভূমিকা রাখে। তাই রোজ একটি করে ডিম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।




যে সময় শসা খেলে মারাত্মক ক্ষতি হবে

স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারি শসা। তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ। সেইসঙ্গে পানি পরিমাণও বেশি যা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।  অনেকেই ভুল সময়ে শসা খেয়ে থাকেন। পুষ্টিবিদদের মতে, ভুল সময়ে এটি খেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। প্রশ্ন হচ্ছে, শসা খাওয়ার ভুল সময় কোনটি?

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে উপকারি হলেও রাতের বেলা শসা খাওয়া একদম উচিত নয়। এতে শরীরের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ঘুমে প্রভাব

শসা ঘুম নাশের কারণ হতে পারে। রাতের বেলায় শসা খেলে পেট ভারী হয়ে উঠে। ফলে শুয়ে পড়লেও ঘুম আসে না। অস্বস্তি সৃষ্টি হয়। হজমে সমস্যার কারণে গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়।

হজমে প্রভাবঃ

শসাতে রয়েছে Cucurbitacin নামক উপাদান যা হজমশক্তি শক্তিশালী হলেই কেবল হজম হতে পারে। নাহয় হজমে সমস্যা দেখা দেয়। রাতে শসা খেলে হজম হাওয়ার সুযোগ থাকে না। কারণ খাওয়ার কিছুক্ষণ পর সবাই ঘুমিয়ে পড়েন।

রাতে শসা খেলে পেট ভারী হতে শুরু করে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই রাতে শসা খাবেন না।

এসব কারণে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দিনের বেলায় শসা খাওয়ার পরামর্শ দেন। এর অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। শসা ওজন কমাতে সাহায্য করে। এতে থাকা ৯৫ শতাংশ পানি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, ক্যানসার প্রতিরোধ এবং মজবুত হাড় গঠনেও সাহায্য করে