কেরালায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮ শিক্ষার্থী

ভারতের কেরালার ত্রিশূর জেলায় মহাসড়কের পাশে ‘অবৈধভাবে’ পার্ক করে রাখা একটি লরির পেছনে গাড়ির ধাক্কায় তামিলনাড়ুর দিন্দিগুলের আট প্রকৌশল শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। শনিবার ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান হয়।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে কাইপামঙ্গলামের পানাম্বিকুন্নু এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের বহনকারী গাড়িটি গুরুভায়ুর থেকে কোডুঙ্গালুরের দিকে যাওয়ার সময় মহারাষ্ট্রের নিবন্ধিত একটি লরির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়।
প্রাথমিক তদন্ত ও এফআইআরের তথ্য অনুযায়ী, নির্মাণকাজ চলায় মহাসড়কের একটি অংশে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ওই এলাকায় মহাসড়কের ডান পাশে লরিটি অবৈধভাবে পার্ক করা ছিল।
পুলিশের ধারণা, গাড়িটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল এবং চালক ব্যারিকেড দেখে যান চলাচলের পরিবর্তিত পথ বুঝতে পারেননি। পরে গাড়িটি সরাসরি লরির পেছনে গিয়ে ধাক্কা দেয়।
দুর্ঘটনায় ছয় শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত আরও দুজনকে কাছের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতরা দিন্দিগুলের একটি প্রকৌশল কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তারা সবাই এনএইচ-৬৬ মহাসড়ক দিয়ে কোডুঙ্গালুরের দিকে যাচ্ছিলেন।
পুলিশ ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তারা হলেন- সূর্য, যুবাসাঞ্জিত, বিশ্ব, জোহুয়া, সন্তোষ ও প্রসন্ন। প্রথম চারজন দিন্দিগুলের এবং সন্তোষ ও প্রসন্ন মাদুরাইয়ের বাসিন্দা। নিহত অপর দুজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, দমকল ও উদ্ধারকর্মী এবং পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়ি থেকে শিক্ষার্থীদের মরদেহ বের করে আনে। পরে মরদেহগুলো ত্রিশূর মেডিকেল কলেজের মর্গে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় কাইপামঙ্গলম থানায় লরিচালকের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকেই লরিচালক পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতদের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষার্থী পরিচয়পত্রের মাধ্যমে পুলিশ তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকটি পরিবার জানতই না যে তাদের সন্তানরা কেরালায় গিয়েছিলেন।
নিহতদের পরিবারের সদস্যরা ত্রিশূর মেডিকেল কলেজে পৌঁছানোর পর মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।