হামাসের অস্ত্র ত্যাগের ঘোষণায় বিপাকে নেতানিয়াহু

গাজায় হামাসের অস্ত্র ত্যাগের ঐতিহাসিক ঘোষণা ইসরায়েলি রাজনীতি ও কূটনীতিতে এক বিরাট চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। জুলাইয়ের শেষভাগে হামাসসহ সাতটি ফিলিস্তিনি দল আকস্মিকভাবে ঘোষণা দেয়, ইসরায়েলি বাহিনীর গাজা থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের শর্ত সাপেক্ষে তারা তাদের অস্ত্র সমর্পণ করতে প্রস্তুত। এতদিন ধরে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক মহলে দাবি করে আসছিল, কেবল হামাস অস্ত্র ত্যাগ করলেই যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে। কিন্তু ফিলিস্তিনি পক্ষ যখন ঠিক এই শর্তেই রাজি হয়ে গেল, তখন নেতানিয়াহু সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি ও বিস্ময় প্রকাশ করা হয়। এমনকি ফিলিস্তিনিদের এই সিদ্ধান্তকে নেতানিয়াহুর অতি-ডানপন্থি সরকার কূটনৈতিক ৭ অক্টোবর হিসেবে অভিহিত করেছে।

মূলত গাজার বর্তমান স্থবিরতা ও ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রাখাটাই নেতানিয়াহু সরকারের রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি। আরব মধ্যস্থতাকারীদের মতে, হামাস মূলত নেতানিয়াহুর চালাকি ধরে ফেলতেই এই রোডম্যাপে সম্মতি দিয়েছিল, কারণ তারা জানত যে নেতানিয়াহু বাস্তবে শান্তিচুক্তিতে রাজি হবেন না। বিশ্লেষকদের মতে, গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ ভূখণ্ড দখল করে রাখা এবং সেখানে অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের খাবার ও আশ্রয়ের দায়িত্ব না নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখাই তেল আবিবের প্রধান কৌশল। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী এবং গাজা প্রশাসনের জাতীয় কমিটি গাজায় প্রবেশ করলে ইসরায়েলের সামরিক স্বাধীন কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত হবে, যা দেশটির বর্তমান উগ্র ডানপন্থি জোট কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না।