নেত্রকোণায় এবার আমন ধানের সাফল্য, কৃষকের মুখে হাসি

প্রকাশঃ

Spread the love

আব্দুর রহমান ঈশান, নেত্রকোণা প্রতিনিধি

নেত্রকোণায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় এবং দাম ভাল পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে।
নেত্রকোণা মূলত খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও ধান উদ্বৃত্ত জেলা। জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আমন ধানের সোনালী শীষে ভরে গেছে কৃষকের খেত। বাতাসে দোল খাচ্ছে সোনালী ধানের শীষ। নতুন ধানের মৌ মৌ গন্ধে চারদিক মুখরিত। কৃষাণ কৃষাণীরা ধান কাটা, মাড়াই, সিদ্ধ দেয়া, শুকানো ও গোলায় তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছে। ধান কাটা ও মাড়াই কাজে কৃষকের পাশাপাশি ব্যস্ততা বেড়েছে দিন মজুরদেরও।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমের শুরুতে অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে আমন চারা লাগাতে দেরি হলেও পরবর্তী সময়ে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে।
সংসারের সারা বছরের খোরাকী, গরুর খাদ্য হিসেবে খড়ের চাহিদা পূরণ ও ধানের দাম ভালো পাওয়ায় চাষীদের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে।
নেত্রকোণা সদরের রাজেন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক বাচ্চু মিয়া জানান, আমন ধান কাটার ধুম পড়েছে। এবার ধানের ফলন ভালো হওয়ায় এবং বাড়ীতেই দাম বেশী পাওয়ায় আমরা আনন্দিত।
কেন্দুয়া উপজেলার দুল্লী গ্রামের কৃষক আবুল মিয়া জানান, আমি এবার ২০ কাটা জমিতে ধান চাষ করেছি। প্রতি কাঠায় ৫ মনের বেশী করে ফলন পেয়েছি। প্রতি মন ধান ১২৫০ থেকে ১৩০০ টাকায় বিক্রি করতে পারছি। এতে আমরা খুশি।
আরো কয়েক জন কৃষকের সাথে কথা বললে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সার ডিজেলের কীটনাশকের দাম বাড়ার পাশাপাশি নিত্য প্রয়োজনীয় সব জিনিসের দাম যে ভাবে বাড়ছে, তাতে কৃষকদের নাভিশ্বাস উঠেছে। সরকার যদি কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ১৫০০ টাকা মন দরে ধান কিনত, তাহলে কৃষকরা আরো বেশী করে ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠতো।
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানান, যারা আগাম জাতের আমন ধান লাগিয়েছিল, তারা প্রায় ১৫/২০ দিন আগেই তাদের ধান কেটে পেলেছে। তারা ওই জমিতে বাড়তি ফসল হিসাবে সরিষা চাষ, আলু, বেগুনসহ শীতকালীন সবজি আবাদ করতে পারবে। যা পরবর্তী সময়ে বোরো ধান চাষের অর্থের জোগান দিবে। কৃষকরা দিন দিন স্বল্পকালীন সময়ে আগাম জাতের আমন ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে।
নেত্রকোণা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে ১ লাখ ৩২ হাজার ৫ শত ৮০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ১ লক্ষ ৩৩
হাজার ৭৫ হেক্টর জমি। চাল উ পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩ লাখ ৬২ হাজার ৫ শত ৯৬ মেট্রিক টন।
নেত্রকোণা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, জেলায় আমন ধানের উ পাদন ভালো হয়েছে। আগাম জাতের ধান কেটে একই জমিতে সরিষা, আলুও শাক সবজি চাষ করায় কৃষকদের জন্য আর্শিবাদ বয়ে নিয়ে আসবে। আবার সরিষা ও শাক-সবজির আবাদ ঘরে উঠিয়ে একই জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ করা যাবে। এ পর্যন্ত ৩০ ভাগ জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।

image_pdfimage_print

সর্বশেষ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল তেলের দাম

0
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে। সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের...

এক দশক পর মিশরে শি জিনপিং

0
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে পর্যালোচনা করছে দেশগুলো। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই এক দশক পর মিশরে সফরে গেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট...

এমপি পদ ছাড়ছেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

0
যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার এমপি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিভিন্ন কাজে মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে...

হামাসের অস্ত্র ত্যাগের ঘোষণায় বিপাকে নেতানিয়াহু

0
গাজায় হামাসের অস্ত্র ত্যাগের ঐতিহাসিক ঘোষণা ইসরায়েলি রাজনীতি ও কূটনীতিতে এক বিরাট চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। জুলাইয়ের শেষভাগে হামাসসহ সাতটি ফিলিস্তিনি দল আকস্মিকভাবে ঘোষণা দেয়,...