রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত তিনি পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
জামায়াত আমিরের বাসভবনে তারেক রহমান
এদিন সন্ধ্যায় জামায়াত আমিরের বাসভবনে যান তারেক রহমান। সেখানে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। এ সময় তাকে বাংলাদেশের ‘ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানান তিনি।
বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের বলেন, এটি রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের সূচনা।
তিনি স্পষ্ট করেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো জাতীয় সরকারে অংশ নেবে না; বরং সংসদে আদর্শিক ও শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকবে। তবে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সরকারকে সহযোগিতা করা হবে।
বৈঠকে তারেক রহমান নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে দৃঢ় আশ্বাস দেন বলে জানা গেছে।
এনসিপি নেতাদের সঙ্গে সংলাপের বার্তা
জামায়াত আমিরের বাসভবন থেকে বের হয়ে রাত ৮টার দিকে ৫ সার্কিট হাউস রোডে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসভবনে যান তারেক রহমান। সেখানে এনসিপি নেতাদের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন তিনি।
বৈঠক শেষে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, মতভিন্নতা থাকলেও সংলাপের মধ্য দিয়েই সমস্যার সমাধান সম্ভব। তারেক রহমানের এই সৌজন্য সাক্ষাৎকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
বৈঠকে ‘২৪’র গণঅভ্যুত্থানে’ শহীদদের পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসন প্রসঙ্গ উঠে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর সাধারণত বিজয়ী দল ক্ষমতা সংহত করতেই বেশি মনোযোগী থাকে। কিন্তু তারেক রহমান শুরুতেই বিরোধী পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে অংশগ্রহণমূলক শাসনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এটি প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে জাতীয় ঐক্যের পথে অগ্রযাত্রার বার্তা বহন করে। এই ধারাবাহিক সংলাপ কেবল সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত
তারেক রহমানের এই উদ্যোগকে দেশের গণতন্ত্রের জন্য নতুন এক মাইলফলক হিসেবে দেখছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারী বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন সংস্কৃতির সূচনা হলো। বিজয়ী হয়েই বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রতি সম্মান জানানো এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে বসা গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় দীর্ঘদিন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
এক টেবিলে শীর্ষ নেতৃত্ব
এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও সংলাপে তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষে উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর বিজয়ী দলের প্রধানের পক্ষ থেকে এমন অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিহিংসা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধারাকে পেছনে ফেলে সহনশীলতার পথে এগিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি কেবল সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং জাতীয় ঐক্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থার দিকে তারেক রহমানের একটি দূরদর্শী রাজনৈতিক পদক্ষেপ।








