রাজনীতির সংস্কৃতিতে দৃষ্টান্ত গড়ে ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছেন তারেক রহমান

প্রকাশঃ

Spread the love
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে শিষ্টাচার ও সৌজন্যের এক ব্যতিক্রমী নজির স্থাপন করেছেন তারেক রহমান। বিজয়ের পরপরই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শুরু করে বিএনপির চেয়ারম্যান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন— সংঘাত নয়, সংলাপই হবে আগামী দিনের রাজনীতির ভিত্তি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে তিনি অংশগ্রহণমূলক ও সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করেই রাষ্ট্রক্ষমতায় বসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত তিনি পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

 

জামায়াত আমিরের বাসভবনে তারেক রহমান
এদিন সন্ধ্যায় জামায়াত আমিরের বাসভবনে যান তারেক রহমান। সেখানে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। এ সময় তাকে বাংলাদেশের ‘ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানান তিনি।

বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের বলেন, এটি রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের সূচনা।

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে একসঙ্গে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে রাষ্ট্রগঠনের পথেও সহায়ক হবে। 

তিনি স্পষ্ট করেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো জাতীয় সরকারে অংশ নেবে না; বরং সংসদে আদর্শিক ও শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকবে। তবে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সরকারকে সহযোগিতা করা হবে।

বৈঠকে তারেক রহমান নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে দৃঢ় আশ্বাস দেন বলে জানা গেছে।

 

এনসিপি নেতাদের সঙ্গে সংলাপের বার্তা
জামায়াত আমিরের বাসভবন থেকে বের হয়ে রাত ৮টার দিকে ৫ সার্কিট হাউস রোডে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসভবনে যান তারেক রহমান। সেখানে এনসিপি নেতাদের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন তিনি।

বৈঠক শেষে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, মতভিন্নতা থাকলেও সংলাপের মধ্য দিয়েই সমস্যার সমাধান সম্ভব। তারেক রহমানের এই সৌজন্য সাক্ষাৎকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

বৈঠকে ‘২৪’র গণঅভ্যুত্থানে’ শহীদদের পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসন প্রসঙ্গ উঠে আসে।

এনসিপির পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে আন্দোলনের প্রতীক ‘শাপলা কলি’র প্রতিচ্ছবি এবং এক শহীদের হাতে লেখা চিঠি উপহার দেওয়া হয়। এ সময় বিএনপির পক্ষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও নজরুল ইসলাম খান এবং এনসিপির পক্ষে সারজিস আলমসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর সাধারণত বিজয়ী দল ক্ষমতা সংহত করতেই বেশি মনোযোগী থাকে। কিন্তু তারেক রহমান শুরুতেই বিরোধী পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে অংশগ্রহণমূলক শাসনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এটি প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে জাতীয় ঐক্যের পথে অগ্রযাত্রার বার্তা বহন করে। এই ধারাবাহিক সংলাপ কেবল সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত
তারেক রহমানের এই উদ্যোগকে দেশের গণতন্ত্রের জন্য নতুন এক মাইলফলক হিসেবে দেখছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারী বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন সংস্কৃতির সূচনা হলো। বিজয়ী হয়েই বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রতি সম্মান জানানো এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে বসা গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় দীর্ঘদিন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

এক টেবিলে শীর্ষ নেতৃত্ব
এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও সংলাপে তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষে উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর বিজয়ী দলের প্রধানের পক্ষ থেকে এমন অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিহিংসা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধারাকে পেছনে ফেলে সহনশীলতার পথে এগিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি কেবল সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং জাতীয় ঐক্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থার দিকে তারেক রহমানের একটি দূরদর্শী রাজনৈতিক পদক্ষেপ।

image_pdfimage_print

সর্বশেষ

আবু সাঈদ হত্যা: গ্রেপ্তারের পর ট্রাইব্যুনালে সাবেক ভিসি

0
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক ভিসি হাসিবুর রশিদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ...

কেইনের হ্যাটট্রিক, শেষ ম‌্যা‌চে বায়ার্ন মিউনিখের গোল উৎসব কোল‌নের বিরু‌দ্ধে

0
বুন্ডেসলিগার  আসরের শেষ ম‌্যাচটায় দারুণ এক হ্যাটট্রিক করলেন হ‌্যা‌রি কেইন। ইংলিশ তারকার নৈপুণ্যে কোলনকে ৫-১ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় শনিবার তাদের...

ড. ইউনূসসহ সব উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে রিট

0
হামের টিকা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে ড. ইউনূস ও...

নেতানিয়াহুর সফর প্রকাশ করায় ইসরায়েলের ওপর খেপেছে আমিরাত

0
পার্সটুডে- নেতানিয়াহুর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের খবর প্রকাশের পর আবুধাবি ও তেল আবিবের মধ্যে উত্তেজনার খবর ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে, ইসরায়েলি টিভি চ্যানেল...

ভিসি অপসারণের দাবিতে ডুয়েটে সংঘর্ষ, বহু শিক্ষার্থী আহত

0
গাজীপুরে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে উপাচার্য (ভাইস চ্যান্সেলর) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আর...